করিমের ফোনে কে কথা বলে

একটা অ্যাপ যখন ধানের ভবিষ্যৎ বলে

পর্ব ২ · ১২ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-১৮

একটা অ্যাপ যখন ধানের ভবিষ্যৎ বলে

---

করিম সকালে ধানক্ষেতে গিয়ে কথা বলে। ধানের সাথে।

এটা পাগলামি না। এটা অভ্যাস। বায়ান্ন বছর বয়সে একজন মানুষের অনেক অভ্যাস থাকে, তার মধ্যে কিছু অভ্যাস অন্যরা বোঝে, কিছু বোঝে না। করিম ধানগাছের সাথে কথা বলে, এটা তার স্ত্রী হালিমা ছাড়া কেউ জানে না। হালিমাও জানে, কিন্তু কিছু বলে না। তিরিশ বছরের সংসারে হালিমা অনেক কিছু দেখেছে। স্বামী ধানগাছের সাথে কথা বলে, এটা তার কাছে তেমন আশ্চর্যের কিছু না।

"তোরা একটু বেশি পানি খাচ্ছিস," করিম বলে, এক গোছা ধানগাছের দিকে তাকিয়ে। "কাল সেচ দিমু। ধৈর্য ধর।"

ধানগাছ কিছু বলে না। ধানগাছ কখনো কিছু বলে না। তবু করিম প্রতিদিন সকালে আসে, এক কাপ চা খেতে খেতে মাঠের আলের ওপর বসে, আর ধানের সাথে কথা বলে। সেই ছোটবেলা থেকে। তার বাবাও বলত। তার দাদাও বলত, সম্ভবত। এটা পরিবারের একটা রোগ, অথবা ওষুধ, কে জানে।

পীরগঞ্জের এই মাঠটা সমতল। চারদিকে ধান, মাঝে মাঝে একটা তালগাছ, দূরে একটা মসজিদের মিনার। আকাশটা এত বড় যে মাথা ঘোরে। করিমের এক বিঘা দুই কাঠা জমি। এটুকুই তার পৃথিবী। এটুকুই সে বোঝে। এটুকুই তাকে বোঝে।

---

সেদিন বিকালে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ভিড়। একটা এনজিও এসেছে ঢাকা থেকে। "ডিজিটাল কৃষি" নামে একটা প্রকল্প। করিম যেতে চায়নি। হালিমা বলল, "যাও। বেলালের খবরও নিয়ো, ঢাকার লোকজন আসছে তো।"

বেলাল তাদের ছেলে। বাইশ বছর। দেড় বছর আগে ঢাকায় গেছে গার্মেন্টসে কাজ করতে। গাজীপুরের একটা ফ্যাক্টরিতে কাজ করে। মাসে একবার ফোন করে। কখনো দুইবার। টাকা পাঠায় মাসে তিন হাজার, কখনো সাড়ে তিন। করিম টাকাটা নেয়, কিন্তু ভেতরে একটা কাঁটা থাকে। ছেলে মাটি ছেড়ে গেছে। মাটির ছেলে মাটি ছেড়ে গেছে।

করিম জানে না, বেলাল যে ফ্যাক্টরিতে কাজ করে সেখানে এখন নতুন নতুন মেশিন বসেছে। কিছু মেশিন চোখের মতো দেখতে পারে। কিছু মেশিন মানুষের চেয়ে দ্রুত ত্রুটি ধরে। বেলালের সুপারভাইজার রহিমা আপা সেদিন বলেছিল, "এই মেশিন তোদের চাকরি খাবে না, তোদের সাহায্য করবে।" বেলাল বিশ্বাস করেছিল কি না, সেটা আলাদা প্রশ্ন।

কিন্তু সেটা ঢাকার গল্প। এটা পীরগঞ্জের গল্প।

---

ইউনিয়ন পরিষদের সামনে একটা ছাউনি টানানো। তিনজন যুবক, শহরের পোশাক, ল্যাপটপ খোলা। একটা ব্যানারে লেখা: "কৃষকবন্ধু: আপনার হাতের মুঠোয় কৃষি পরামর্শ"। করিম ব্যানারটা পড়ল। পড়তে পারে সে। ক্লাস ফাইভ পাস। হিসাব রাখতে পারে, চিঠি লিখতে পারে, খবরের কাগজের হেডলাইন পড়তে পারে। এটুকু যথেষ্ট, জীবনের জন্য।

"চাচা, আপনি কী চাষ করেন?" একটা যুবক জিজ্ঞেস করল।

"ধান।"

"কোন জাত?"

"বিআর ২৮। আর আমন মৌসুমে বিআর ১১।"

"জমি কত?"

"এক বিঘা দুই কাঠা।"

যুবকটা সব লিখল। তারপর একটা বাক্স থেকে একটা ফোন বের করল। নতুন। চকচকে। করিমের হাতে দিল।

"এটা আপনার। ফ্রি।"

করিম ফোনটার দিকে তাকাল। তার নিজের একটা ফোন আছে। বোতামওয়ালা। শুধু কল করা যায়, আর এসএমএস। তাতেই তার চলে। এই নতুন ফোনটা বড়। পাতলা। পিচ্ছিল। হাত থেকে পড়ে যাবে মনে হয়।

"এটায় একটা অ্যাপ আছে," যুবকটা বলল। "কৃষকবন্ধু। আপনি বাংলায় কথা বলবেন, এটা শুনবে। আপনার ধানের সমস্যা বলবেন, এটা সমাধান দেবে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেবে। কখন সার দিতে হবে, কখন কীটনাশক দিতে হবে, বলে দেবে।"

করিম বলল, "আমি তো এসব জানি।"

"চাচা, এটা আরও ভালো জানে। এটার মধ্যে সারা বাংলাদেশের কৃষি তথ্য আছে। স্যাটেলাইট থেকে আবহাওয়া দেখে। মাটির ধরন বোঝে। আপনার এলাকায় কোন পোকা আসতে পারে, আগে থেকে বলে দেয়।"

করিম চুপ করে থাকল। সে বুঝল না এটা কীভাবে সম্ভব। একটা ফোন কীভাবে জানবে তার মাটির কথা? সে নিজে তিরিশ বছর ধরে এই মাটিতে হাত দিয়েছে, পা দিয়েছে, ঘাম ফেলেছে। একটা ফোন?

কিন্তু ফ্রি। আর হালিমা বলেছে যেতে। করিম ফোনটা নিল।

---

বাড়িতে ফিরে করিম ফোনটা খাটের ওপর রেখে দিল। যেন একটা অচেনা জিনিস, যেটাকে সে এখনো বিশ্বাস করে না। হালিমা জিজ্ঞেস করল, "কী দিল?"

"ফোন।"

"কেন?"

"কৃষি পরামর্শ দেবে।"

হালিমা হাসল। "তোমার ধানগাছ পরামর্শ দেয় না?"

করিম কিছু বলল না।

রাতে, ফাতেমার শ্বশুরবাড়ি থেকে খবর এল, ফাতেমা ভালো আছে। করিমের মেয়ে। আঠারো বছর। গত বছর বিয়ে হয়েছে। পীরগঞ্জেরই, কিন্তু অন্য ইউনিয়ন। দুই ঘণ্টার পথ। করিমের মনে হলো, আগে সবাই কাছে ছিল। এখন ছেলে ঢাকায়, মেয়ে অন্য ইউনিয়নে। শুধু সে আর হালিমা। আর ধান।

সেই রাতে ঘুম আসছিল না। করিম ফোনটা হাতে নিল। চার্জ দেওয়া ছিল, যুবকগুলো দিয়ে দিয়েছে। স্ক্রিনে চাপ দিল। একটা সবুজ আইকন, ভেতরে একটা ধানের শীষ। "কৃষকবন্ধু"। চাপ দিল।

একটা মেয়ের গলা বলল, "আসসালামু আলাইকুম! আমি কৃষকবন্ধু। আপনাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি?"

করিম চমকে উঠল। বাংলায় কথা বলছে। পরিষ্কার বাংলা। করিম ফোনটা কানের কাছ থেকে সরিয়ে দূরে ধরল, যেন ফোনের ভেতরে কেউ আছে, দেখা যাবে।

হালিমা পাশ থেকে বলল, "কার সাথে কথা বলছ?"

করিম বলল, "চুপ কর।"

সে ফোনের দিকে তাকিয়ে, ধীরে ধীরে বলল, "আমার ধানে পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে।"

ফোন বলল, "আপনার ধানের জাত কী?"

"বিআর ২৮।"

"আপনি কি সম্প্রতি ইউরিয়া সার দিয়েছেন?"

"হ্যাঁ। সাত দিন আগে।"

"পাতা হলুদ হওয়ার কারণ সম্ভবত জিংকের ঘাটতি। বিআর ২৮ জাতে এই সমস্যা সাধারণ। জিংক সালফেট স্প্রে করলে সমাধান হতে পারে। প্রতি বিঘায় ৫০০ গ্রাম জিংক সালফেট ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করুন।"

করিম ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল। জিংকের ঘাটতি। সে এটা জানত, আসলে। মোটামুটি জানত। কিন্তু ফোনটা এত স্পষ্ট করে বলল, এত নিশ্চিত করে, যে করিমের ভেতরে একটা অদ্ভুত অনুভূতি হলো। কেউ একজন তার কথা শুনল। কেউ একজন উত্তর দিল। ধানগাছ কখনো উত্তর দেয় না। এটা দিল।

হালিমা আবার বলল, "কে? কার সাথে কথা বলছ এত রাতে?"

করিম একটু থামল। তারপর বলল, "ভবিষ্যৎ।"

হালিমা বুঝল না। বোঝার কথাও না।

---

পরের দিনগুলোতে করিমের একটা নতুন অভ্যাস হলো। সকালে মাঠে যাওয়ার আগে সে ফোনটা দেখে। আবহাওয়া কেমন থাকবে। বৃষ্টি হবে কি না। তাপমাত্রা কত। এগুলো সে আগেও জানত, আকাশ দেখে, বাতাস শুঁকে। কিন্তু ফোনটা সংখ্যা দিয়ে বলে। "আগামী তিন দিনে বৃষ্টির সম্ভাবনা ৭০%।" সংখ্যা। করিম সংখ্যা পছন্দ করে। সংখ্যা মিথ্যা বলে না।

অথবা বলে। কে জানে।

---

দুই সপ্তাহ পর, ফোন বলল, "সতর্কতা: আপনার এলাকায় আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে বাদামি গাছফড়িংয়ের আক্রমণের ঝুঁকি আছে। তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার ধরন অনুযায়ী এই পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে।"

করিম পড়ল। বাদামি গাছফড়িং। এটা সে চেনে। ২০১৯ সালে তার অর্ধেক ফসল খেয়েছিল। সেই বছর ঋণ করতে হয়েছিল মহাজনের কাছে। সুদে সুদে দুই বছর লেগেছিল শোধ করতে। সেই বছর বেলালকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে আনতে হয়েছিল। ক্লাস নাইনে পড়ত। আর পড়া হয়নি।

করিম ফোনের কথা শুনল এবার।

সে পাশের বাড়ির আজিজকে বলল। আজিজ বলল, "ফোন বলছে তাই বিশ্বাস করবি? আমার দাদা ষাট বছর চাষ করেছে, ফোন ছাড়া।"

করিম বলল, "তোর দাদার ষাট বছরে গাছফড়িং আসেনি?"

আজিজ চুপ করে গেল।

করিম ইমিডাক্লোপ্রিড কিনল। ছোট বোতল। দুইশো টাকা। স্প্রে করল। সাবধানে, যেভাবে ফোন বলেছে।

আট দিন পর গাছফড়িং এল। আজিজের ক্ষেতে আগে ধরল। তারপর পুরো এলাকায় ছড়াল। কিন্তু করিমের ক্ষেতে ক্ষতি হলো কম। একদম কম না, কিন্তু অনেক কম।

আজিজ এসে বলল, "তোর ফোনের নম্বর দে।"

করিম বলল, "নম্বর না। অ্যাপ।"

"সেটাই দে।"

"তোর ফোনে চলবে না। স্মার্টফোন লাগবে।"

আজিজ থমকে গেল। তার ফোনটা আরও পুরোনো। বোতামের কিছু অক্ষর মুছে গেছে। আজিজের স্মার্টফোন কেনার সামর্থ্য নেই। এনজিওর ফোন শেষ হয়ে গেছে। আজিজ ঘুরে চলে গেল।

করিম দেখল আজিজের পিঠের দিকে। একটা অস্বস্তি হলো। সে পেয়েছে, আজিজ পায়নি। ভাগ্যের একটা নতুন রূপ। আগে ভাগ্য মানে ছিল বৃষ্টি, রোদ, বন্যা। এখন ভাগ্য মানে একটা ফোন পাওয়া বা না পাওয়া।

---

এক মাস পর, ফোন আবার কথা বলল।

"আপনার ধানের বর্তমান বৃদ্ধির পর্যায় অনুযায়ী, ফলন বাড়ানোর জন্য ন্যানো ইউরিয়া প্লাস প্রয়োগ করা উচিত। প্রতি বিঘায় এক লিটার। পাতায় স্প্রে করুন। এটি সাধারণ ইউরিয়ার তুলনায় ৩০% বেশি কার্যকর এবং পরিবেশবান্ধব।"

করিম পড়ল। তারপর আবার পড়ল। "ন্যানো ইউরিয়া প্লাস।" সে এটার নাম কখনো শোনেনি। সে ফোনকে জিজ্ঞেস করল, "এটার দাম কত?"

ফোন বলল, "প্রতি লিটার ন্যানো ইউরিয়া প্লাসের বাজারমূল্য প্রায় ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকা।"

করিম হিসাব করল। এক বিঘা দুই কাঠা। মোটামুটি দেড় লিটার লাগবে। মানে প্রায় দুই হাজার টাকা। শুধু এই একটা সারের জন্য।

করিমের পুরো মৌসুমের সার বাবদ বাজেট তিন হাজার টাকা। ইউরিয়া, টিএসপি, পটাশ, সব মিলিয়ে। এক মৌসুমে যা আয় হয়, তার হিসাব এরকম: ধান বিক্রি করে পায় পনেরো থেকে আঠারো হাজার টাকা। তার মধ্যে সেচ, সার, কীটনাশক, শ্রমিক, সব বাদ দিলে থাকে পাঁচ থেকে সাত হাজার। এটা দিয়ে সংসার চলে। বেলালের তিন হাজার আসে, সেটা ভরসা। কিন্তু দুই হাজার টাকা শুধু একটা নতুন ধরনের সারের জন্য? এটা সম্ভব না।

করিম ফোনকে বলল, "সস্তা কিছু নেই?"

ফোন বলল, "সাধারণ ইউরিয়া ব্যবহার করতে পারেন, তবে ফলন তুলনামূলক কম হবে। সর্বোত্তম ফলনের জন্য ন্যানো ইউরিয়া প্লাস প্রস্তাবিত।"

সর্বোত্তম। করিম শব্দটা চিবাল। সর্বোত্তম। এটা একটা সুন্দর শব্দ। কিন্তু সর্বোত্তমের একটা দাম আছে, আর সেই দাম করিমের সাধ্যের বাইরে।

সে ফোনটা রেখে দিল। খাটের ওপর। চিত হয়ে শুয়ে ছাদের দিকে তাকাল। টিনের ছাদ। একটা জায়গায় একটু মরচে ধরেছে। বর্ষায় সেখান দিয়ে পানি পড়বে। সেটাও ঠিক করতে হবে। সেটারও টাকা লাগবে।

---

পরদিন সকালে করিম মাঠে গেল। যথারীতি। চায়ের কাপ হাতে, আলের ওপর বসল। ধানগাছগুলো বাতাসে দুলছে। সুন্দর দুলছে। করিম বলল, "তোদের জন্য ন্যানো ইউরিয়া আনতে পারব না। যা আছে তা দিয়েই বেড়ে ওঠ। আমরা সবাই যা আছে তা দিয়েই বেড়ে উঠি।"

ধানগাছ কিছু বলল না। স্বভাবতই।

করিম পকেট থেকে ফোনটা বের করল। স্ক্রিনের দিকে তাকাল। কৃষকবন্ধুর সবুজ আইকন। ধানের শীষ। সুন্দর দেখতে। শহরের কেউ ডিজাইন করেছে, যে হয়তো আসল ধানের শীষ কাছ থেকে দেখেনি কখনো।

করিম ভাবল, এই ফোনটা অনেক কিছু জানে। সত্যিই জানে। গাছফড়িংয়ের কথা জানত। সেটা ঠিক বলেছিল। জিংকের কথাও ঠিক বলেছিল। কিন্তু ফোনটা একটা জিনিস জানে না: করিমের পকেটে কত টাকা আছে।

অথবা জানে। কিন্তু গ্রাহ্য করে না।

কিন্তু ফোনটা তো জানে না করিম কে। ফোনটা জানে "একজন কৃষক, পীরগঞ্জ, বিআর ২৮, এক বিঘা দুই কাঠা।" এটুকুই। ফোনের কাছে করিম একটা সংখ্যা। ফোনের কাছে করিমের ত্রিশ বছরের অভিজ্ঞতা, মাটির গন্ধ চেনা, আকাশ দেখে বৃষ্টি বোঝা, ধানগাছের সাথে কথা বলা, এসব কিছু না।

করিম একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

---

সন্ধ্যায় বেলালের ফোন এল।

"বাবা, কেমন আছেন?"

"ভালো।"

"আম্মা?"

"ভালো।"

"ধান কেমন?"

"ভালো।" করিম থামল। তারপর বলল, "তোকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি। তোদের ফ্যাক্টরিতে নতুন মেশিন বসেছে?"

বেলাল একটু চুপ থাকল। "হ্যাঁ। ক্যামেরাওয়ালা মেশিন। কাপড়ের দোষ ধরে।"

"তোদের চাকরির কোনো সমস্যা হচ্ছে?"

"না, এখনো না। রহিমা আপা বলেছেন সমস্যা হবে না।"

করিম ভাবল, রহিমা আপা কে জানে না, কিন্তু তিনি ঠিকই বলেছেন হয়তো। অথবা বলেননি। কে জানে। কেউ কিছু জানে না। সবাই ভবিষ্যতের কথা বলে, কিন্তু ভবিষ্যৎ কারো কথা শোনে না।

"বাবা, আপনারে একটা স্মার্টফোন পাঠাব ভাবছিলাম..."

"পাঠাতে হবে না। আছে।"

"আছে? কোথায় পেলেন?"

"এনজিও দিয়েছে। কৃষি পরামর্শ দেয়।"

বেলাল হাসল। "বাবা আপনি স্মার্টফোন চালাতে পারেন?"

করিম বলল, "তুই ক্লাস নাইনে পড়তিস, ফ্যাক্টরির মেশিন চালাতে পারিস?"

বেলাল চুপ করে গেল।

---

রাতে হালিমা ঘুমিয়ে গেছে। করিম উঠানে বসে আছে। আকাশে তারা। পীরগঞ্জের আকাশে এখনো তারা দেখা যায়, ঢাকার মতো না। বেলাল বলেছিল, "ঢাকায় তারা দেখা যায় না, বাবা।" করিম ভেবেছিল, তারা না দেখে মানুষ কীভাবে থাকে।

ফোনটা হাতে। স্ক্রিন জ্বলছে। কৃষকবন্ধু।

করিম একটা প্রশ্ন করল, জিজ্ঞেস করার জন্য না, শুধু করল: "আমি কি ভালো কৃষক?"

ফোন বলল, "দুঃখিত, আমি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছি না। আপনি কি ধান চাষ সম্পর্কিত কোনো প্রশ্ন করতে চান?"

করিম হাসল। প্রথমবার। ফোন নিয়ে প্রথমবার হাসল।

সে ফোনটা পকেটে রাখল। উঠে দাঁড়াল। কাল সকালে মাঠে যেতে হবে। ধানের সাথে কথা বলতে হবে।

শুধু একটা মানুষ আর তার মাটি।