তানিয়ার স্বপ্নের নাম এনএলপি

বাংলা ভাষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, একটি মেয়ের লড়াই

পর্ব ৩ · ১০ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-১৮

*বাংলা ভাষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, একটি মেয়ের লড়াই*

---

টোস্ট পুড়ে গেছে। আবারও।

তানিয়া ধোঁয়া ওঠা রুটির দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ, যেন সে একটা ব্যর্থ এক্সপেরিমেন্টের রেজাল্ট দেখছে। তারপর সেটা সরাসরি ডাস্টবিনে ফেলে দিল। রান্নাঘরে ধোঁয়ার গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। পেছন থেকে আব্বার গলা শোনা গেল।

"কয়টা টোস্ট আজকে?"

"দুইটা। মানে, দুইটাই পুড়ে গেছে।"

"তুই যদি টোস্টারের টাইমার ঠিক করতিস..."

"টাইমার ঠিক আছে, আব্বা। আমি ভুলে যাই। ভাবতে থাকি।"

আব্বা কিছু বললেন না। তিনি জানেন মেয়ে কী ভাবে। মেয়ে সারাদিন ভাবে। সারারাত ভাবে। ভাবনা ছাড়া মেয়ের আর কোনো কাজ নেই, এটা অবশ্য তিনি বিশ্বাস করেন না। কিন্তু বলেন না।

তানিয়া কফি বানাল। আজকের প্রথম কাপ। সে কাপ গোনে। এটা তার অভ্যাস। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলে, "সাতের বেশি হলে বুঝব সমস্যা।" সাত কাপের নিচে থাকলে সব ঠিক আছে, এটা তার থিওরি। আজ পর্যন্ত এই থিওরি ভুল প্রমাণ হয়নি। কারণ সে প্রতিদিন ঠিক সাত কাপ খায়।

আজ তার পিচ। গুলশানের একটা কো-ওয়ার্কিং স্পেসে। "ঢাকা টেক সামিট ২০২৬।" নামটা বড় বড় করে লেখা আছে ব্যানারে। সিঙ্গাপুর, সান ফ্রান্সিসকো, লন্ডন থেকে ইনভেস্টররা আসবেন। তানিয়ার কোম্পানির নাম "ভাষামন।" বাংলা ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং। বাংলা ভাষা বোঝার মেশিন।

সে আয়নার সামনে দাঁড়াল। শাড়ি পরবে না জিন্স পরবে, এই নিয়ে পাঁচ মিনিট ভাবল। শেষে জিন্স আর একটা নীল কুর্তা পরল। স্টার্টআপ ফাউন্ডার। শাড়ি পরলে ইনভেস্টররা ভাববে এনজিও।

---

বানানী থেকে গুলশান। রিকশায়। ঢাকার ট্রাফিক আজ মোটামুটি। মানে, মাত্র চল্লিশ মিনিট লাগল বিশ মিনিটের রাস্তায়। রিকশায় বসে তানিয়া তার স্লাইড রিভিউ করল। বারোটা স্লাইড। প্রতিটা স্লাইডে একটা করে কী পয়েন্ট।

স্লাইড ওয়ান: "৩০ কোটি মানুষ বাংলায় কথা বলে। অথচ AI বাংলা বোঝে না।"

এটা পুরোপুরি সত্য না। বোঝে কিছুটা। গুগল ট্রান্সলেট বাংলা পারে। কিন্তু পারে মানে কী? "আমার মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে" ট্রান্সলেট করলে বলে "My head is going bad।" এটাকে কি বোঝা বলে?

তানিয়া চায় মেশিন বাংলা বুঝুক যেভাবে একটা মা তার বাচ্চার কথা বোঝে। বাচ্চা বলে "মাম্মা, ওটা দাও," মা বোঝে কোনটা। কনটেক্সট বোঝে। ইমোশন বোঝে। "আমার মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে" মানে যে আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি, রাগ হচ্ছে, হতাশ হচ্ছি, সেটা একটা বাংলাদেশি মানুষ এক সেকেন্ডে বোঝে। মেশিনকেও বোঝাতে হবে।

এটা তার স্বপ্ন। ছোটবেলা থেকে। বুয়েটে সিএস পড়ার সময় থেকে। থিসিস লিখেছিল বাংলা সেন্টিমেন্ট অ্যানালাইসিস নিয়ে। সুপারভাইজার বলেছিলেন, "ইন্টারেস্টিং, বাট নট প্র্যাক্টিক্যাল।" তানিয়া ভেবেছিল, দেখাব একদিন।

---

কো-ওয়ার্কিং স্পেসের ভেতরে ঢুকে তানিয়া দেখল সব ঝকঝকে। এসি ফুল ব্লাস্ট। দেয়ালে নিয়ন লাইটে লেখা "INNOVATE. DISRUPT. SCALE." মানুষজন ইংরেজিতে কথা বলছে। ল্যাপটপে স্টিকার, কফি কাপে স্টার্টআপের নাম। তানিয়া ভেতরে ভেতরে একটু হাসল। সে নিজেও এই দুনিয়ার মানুষ। কিন্তু মাঝে মাঝে এই দুনিয়াটাকে একটু সিনেমার সেটের মতো লাগে।

তার আগে তিনজন পিচ করল। একজন এডটেক, একজন ফিনটেক, একজন হেলথটেক। সবার স্লাইডে হকি স্টিক গ্রোথ কার্ভ। সবাই বলল "আনট্যাপড মার্কেট।" সবাই বলল "ফার্স্ট মুভার অ্যাডভান্টেজ।" তানিয়া গুনে দেখল, "আনট্যাপড" শব্দটা মোট এগারো বার ব্যবহৃত হলো।

তারপর তার নম্বর।

সে মঞ্চে উঠল। মাইক্রোফোনটা একটু নিচু, সে টেনে ওপরে করল। সামনে বসে আছে চারজন ইনভেস্টর। দুজন সিঙ্গাপুরের, একজন লন্ডনের, একজন ঢাকার। ঢাকারজন চেনা, ফারুক ভাই, সবার চেনা। বাকি তিনজনের মুখে ভদ্র কৌতূহল।

"থার্টি কোটি পিপল স্পিক বাংলা," তানিয়া শুরু করল। "ইটস দ্য সেভেন্থ মোস্ট স্পোকেন ল্যাঙ্গুয়েজ ইন দ্য ওয়ার্ল্ড। অ্যান্ড ইয়েট, দেয়ার ইজ নো প্রোডাকশন-গ্রেড এনএলপি সিস্টেম দ্যাট ট্রুলি আন্ডারস্ট্যান্ডস বাংলা।"

সে থামল। ইনভেস্টরদের চোখে আগ্রহ দেখা গেল। এমার্জিং মার্কেট। ত্রিশ কোটি মানুষ। সংখ্যাটা বড়। বড় সংখ্যা ইনভেস্টরদের ভালো লাগে।

তানিয়া তার ডেমো দেখাল। একটা চ্যাটবট। বাংলায় কথা বলা যায়। শুধু কথা বলা না, বোঝে। কেউ লিখলে "ভাই, আমার তো মাথা নষ্ট," বট বোঝে যে এটা হতাশা, রাগ, বা অবসাদ হতে পারে। কনটেক্সট অনুযায়ী রেসপন্স দেয়। কেউ লিখলে "একটু দেখেন তো," বট বোঝে এটা রিকোয়েস্ট, কমান্ড না।

"উই হ্যাভ ফাইন-টিউনড আওয়ার মডেল অন ফোর্টি থাউজ্যান্ড বাংলা কনভার্সেশনস," তানিয়া বলল। "ম্যানুয়ালি লেবেলড। বাই নেটিভ স্পিকার্স ফ্রম ডিফারেন্ট রিজিওনস। চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, ঢাকা। উই ক্যাপচার ডায়ালেক্ট ভেরিয়েশন।"

সিঙ্গাপুরের ইনভেস্টর একজন সামনে ঝুঁকে বসল। "হোয়াট অ্যাবাউট স্কেলেবিলিটি? ক্যান ইউ এক্সটেন্ড দিস টু আদার সাউথ এশিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজেস?"

তানিয়া একটু থামল। এই প্রশ্নটা সে জানত আসবে। "ইয়েস। দ্য আর্কিটেকচার ইজ ল্যাঙ্গুয়েজ-অ্যাগনস্টিক। বাট আওয়ার ফোকাস ইজ বাংলা ফার্স্ট।"

"বাট দ্য রিয়েল মানি ইজ ইন মাল্টি-ল্যাঙ্গুয়েজ, রাইট?" লন্ডনের ইনভেস্টর বলল। হাসিমুখে।

তানিয়া হাসল। "মে বি। বাট আই ওয়ান্ট টু গেট বাংলা রাইট ফার্স্ট।"

পিচ শেষ হলো। করতালি হলো। ফারুক ভাই এসে বললেন, "গুড জব, তানিয়া। ভেরি ইম্প্রেসিভ।" সিঙ্গাপুরের দুজন বিজনেস কার্ড দিল। লন্ডনেরজন বলল, "লেটস সেট আপ আ কল নেক্সট উইক।"

তানিয়ার বুকের ভেতরে কিছু একটা নাচছিল। সে বাইরে এসে দাঁড়াল। গুলশানের রাস্তায় গাড়ির হর্ন বাজছে। একটা চায়ের দোকান থেকে চা কিনল। কাপ নম্বর তিন। কফি না, চা। কিন্তু গোনায় ধরল।

---

বাসায় ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। আব্বা বসে আছেন বারান্দায়। অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার। সারাদিন পত্রিকা পড়েন, বিকেলে হাঁটতে যান, রাতে বিটিভিতে খবর দেখেন। মেয়ের স্টার্টআপ নিয়ে তাঁর মতামত পরিষ্কার না। তিনি বোঝেন না জিনিসটা ঠিক কী। বোঝার চেষ্টা করেন। কিন্তু বোঝেন না।

"কেমন হলো?" আব্বা জিজ্ঞেস করলেন।

"ভালো। মনে হচ্ছে ফান্ডিং পাব।"

"কত?"

"হয়তো ফিফটি থাউজ্যান্ড ডলার। সিড রাউন্ড।"

আব্বা হিসেব করলেন মনে মনে। ষাট লাখ টাকা। খারাপ না। কিন্তু ব্যাংকে চাকরি করলে রিস্ক নেই। পেনশন আছে। তিনি এটা বললেন না। অন্যভাবে বললেন।

"তানিয়া, একটা কথা জিজ্ঞেস করি?"

"বলো, আব্বা।"

"এটা দিয়ে কী হবে?"

তানিয়া তাকাল আব্বার দিকে। প্রশ্নটা সিম্পল। উত্তরটা সিম্পল হওয়া উচিত। কিন্তু সে যখন উত্তর দিতে গেল, দেখল সিম্পল উত্তর নেই।

"মানে... বাংলা ভাষা... কম্পিউটার বুঝবে... মানে, মেশিন লার্নিং দিয়ে..."

আব্বা ধৈর্য ধরে শুনলেন। তারপর বললেন, "না, আমি জিজ্ঞেস করছি, এটা দিয়ে সাধারণ মানুষের কী হবে? তোর আম্মার বান্ধবী হাসিনা আন্টি, উনি কি এটা ব্যবহার করবেন? পাশের বাসার রিকশাওয়ালা, তার কি কোনো লাভ হবে?"

তানিয়া চুপ করে রইল।

আব্বা উঠে দাঁড়ালেন। "চা খাবি? আমি বানাই।"

"আমি বানাব, আব্বা।"

"তুই বানালে চায়ে লবণ পড়বে। বস, আমি দিচ্ছি।"

---

রাতে তানিয়া তার ঘরে বসে ল্যাপটপ খুলল। ইনবক্সে দুটো ইমেইল। সিঙ্গাপুরের ইনভেস্টরের। সাবজেক্ট লাইন: "Exciting Opportunity - BhashaMon." ইমেইলে লেখা, তারা ইন্টারেস্টেড। কিন্তু কয়েকটা শর্ত। মডেলটাকে মাল্টি-ল্যাঙ্গুয়েজ করতে হবে। শুধু বাংলায় থাকলে মার্কেট ছোট। হিন্দি, উর্দু, তামিল যোগ করতে হবে। "সাউথ এশিয়ান এআই প্ল্যাটফর্ম।" তাহলে ভ্যালুয়েশন অনেক বেশি হবে।

তানিয়া ইমেইলটা পড়ল। আবার পড়ল। তৃতীয়বার পড়ল।

তারা বাংলা চায় না। তারা চায় "ইমার্জিং মার্কেট।" তারা চায় সংখ্যা। ত্রিশ কোটি না, দেড়শো কোটি। বাংলা একটা ফিচার হয়ে যাবে, কোর প্রোডাক্ট থাকবে না।

সে জানালার দিকে তাকাল। বানানীর রাস্তায় এখনো গাড়ি চলছে। দূরে কোথাও মসজিদের আজান শোনা যাচ্ছে। কোনো একটা বাসা থেকে টিভির আওয়াজ আসছে। বাংলায়। সব বাংলায়।

চল্লিশ হাজার কনভার্সেশন সে লেবেল করিয়েছে। ঢাকার মেয়েরা, চট্টগ্রামের ছেলেরা, বরিশালের বৃদ্ধরা, তারা কথা বলেছে, সেই কথাগুলো ডেটায় পরিণত হয়েছে। একটা একটা করে। হাতে হাতে। তানিয়ার ছোট টিম, মাত্র চারজন, তারা মাসের পর মাস কাজ করেছে। ঢাকার পুরান ঢাকার ভাষা আর উত্তরার ভাষা আলাদা, সেটাও তারা ক্যাপচার করেছে। "খাইছো?" আর "খেয়েছ?" একই প্রশ্ন, কিন্তু মডেলকে শেখাতে হয়েছে যে দুটোর পেছনে একই মানুষ, একই যত্ন।

আর এখন কেউ বলছে, বাংলা ছোট। বাংলাকে বড় করো। হিন্দি যোগ করো। উর্দু যোগ করো।

তানিয়া কফি বানাতে গেল। কাপ নম্বর চার।

---

রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে কফি বানাতে বানাতে সে ভাবল আব্বার কথা। "এটা দিয়ে কী হবে?" প্রশ্নটা এখনো কানে বাজছে।

সে ভাবল, হাসিনা আন্টি ফোনে ভয়েস মেসেজ পাঠান। টাইপ করতে পারেন না ভালো। যদি ভয়েস মেসেজটা মেশিন ঠিকমতো বুঝতে পারত? শুধু শব্দ না, মানে? "একটু আসো তো" বললে বুঝত যে ডাকছেন, আবদার করছেন, একটু কষ্ট পাচ্ছেন হয়তো?

সে ভাবল, পাশের বাসার রিকশাওয়ালা ছেলেটা, রাজু, সে যদি সরকারি ওয়েবসাইটে কিছু খুঁজতে চায়? বাংলায় লিখবে, ভুল বানানে লিখবে, তবু মেশিন বুঝবে সে কী চায়?

সে ভাবল, কোনো একদিন ঢাকার বাইরে, মফস্বলে, গ্রামে, কোনো মেয়ে ফোনে বাংলায় কথা বলবে আর মেশিন তাকে ঠিক ততটুকু বুঝবে যতটুকু ঢাকার একটা ইংরেজি-বলা ছেলেকে বোঝে। কোনো ভাষা ছোট না। কোনো ভাষা বড় না।

কিন্তু ইনভেস্টর চায় বড়। ইনভেস্টর চায় স্কেল।

তানিয়া কফি নিয়ে ঘরে ফিরে এল। ল্যাপটপের স্ক্রিনে সিঙ্গাপুরের ইমেইল জ্বলজ্বল করছে। সে ইমেইলটা মিনিমাইজ করল। তার নিজের কোডবেস খুলল। ভাষামনের রিপোজিটরি। গতকাল একটা বাগ ফিক্স করতে গিয়ে নতুন একটা আইডিয়া মাথায় এসেছিল। বাংলা সারকাজম ডিটেকশন। বাঙালি যখন বলে "বাহ, চমৎকার," সেটা আসলে চমৎকার কি না, সেটা বোঝা।

সে কোড লিখতে শুরু করল।

আব্বার প্রশ্নের উত্তর সে এখনো জানে না। ইনভেস্টরদের শর্তে রাজি হবে কি না, সেটাও জানে না। কাল সকালে আবার টোস্ট পোড়াবে, সেটা জানে।

কিন্তু এই মুহূর্তে, রাত এগারোটায়, বানানীর একটা ফ্ল্যাটের তিনতলায়, একটা মেয়ে বাংলা ভাষাকে মেশিনে ভরার চেষ্টা করছে। একটা একটা শব্দ। একটা একটা বাক্য। একটা একটা অনুভূতি।

কফির কাপটা খালি হয়ে গেছে। কাপ নম্বর চার শেষ।

সে আরেকটা বানাবে। পাঁচ নম্বর। কিন্তু এখন না। এখন কোড।

স্ক্রিনের আলোতে তানিয়ার মুখটা নীলচে দেখাচ্ছে। সে জানে না, এই চল্লিশ হাজার কনভার্সেশনের ডেটা লেবেল করতে যে মেয়েরা কাজ করেছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ মিরপুরের গলির ভেতরে থাকে। ঘিঞ্জি ঘরে। একটা ল্যাপটপ ভাগাভাগি করে। তানিয়া তাদের পে করেছে ঘণ্টায় দুইশো টাকা। ফেয়ার রেট, সে মনে করে। হয়তো। হয়তো না। সে জানে না।

সে অনেক কিছু জানে না।

কিন্তু একটা জিনিস জানে। বাংলা ভাষাটা সুন্দর। এই ভাষায় মানুষ ভালোবাসে, ঝগড়া করে, কবিতা লেখে, গালি দেয়, দোয়া করে। এই ভাষাটা একটা মেশিনের বুঝতে পারা উচিত। ঠিক যেভাবে একটা মা বোঝে।

সে কোড লিখছে। বাইরে ঢাকা ঘুমাচ্ছে। ঘুমাচ্ছে না আসলে, ঢাকা কখনো ঘুমায় না। কিন্তু একটু চুপ করেছে। সেই চুপের মধ্যে তানিয়ার কিবোর্ডের টকটক আওয়াজ।

কাল সকালে সে উঠবে। টোস্ট পোড়াবে। আব্বা মাথা নাড়বেন। কফি কাপ নম্বর ওয়ান থেকে আবার শুরু।

এবং সিঙ্গাপুরের ইমেইলের উত্তর দিতে হবে।

কিন্তু সেটা কাল। আপাতত, কোড।

---

*পরের পর্বে: ঢাকার ফ্রিল্যান্সাররা এবং এআই-এর নতুন শ্রমবাজার।*

*[পরবর্তী গল্পে তানিয়ার ডেটা লেবেলিং টিমের বিস্তার ঘটবে রাহিমার পাড়ায়। রাহিমার মেয়ে মিতু যোগ দেবে তানিয়ার বুটক্যাম্পে।]*