প্রথম প্রশ্ন

পাঁচজন মানুষ, একটি রাত, একটি প্রশ্ন

পর্ব ১০ · ১০ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-১৮

এক. রহিমা

রাত সাড়ে এগারোটা। গাজীপুরের টিনের ঘরে রহিমা থালাবাসন ধুচ্ছে। টিউবওয়েলের পানি ঠান্ডা, আঙুলগুলো অবশ হয়ে আসছে। পাশের ঘরে মিতু ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছে। ল্যাপটপের নীলচে আলো দরজার ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসছে।

রহিমা শেষ থালাটা মাজতে মাজতে বলল, "মিতু।"

"হুম।"

"তোর ওই কম্পিউটারের জিনিসটা, যেটা নিজে নিজে কথা বলে, ছবি আঁকে, সব পারে..."

মিতু দরজায় এসে দাঁড়াল। "AI বলো, আম্মা।"

"যা বলিস। সেইটা।" রহিমা থালাটা উপুড় করে রাখল। হাত মুছল। "আমি একটা কথা জিগাই?"

মিতু চুপ করে তাকিয়ে রইল।

"এই জিনিসটা কি আমাদের বন্ধু না শত্রু?"

প্রশ্নটা ভেজা রান্নাঘরের বাতাসে ভাসতে লাগল। মিতু কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। তারপর বলল, "দুইটাই।"

রহিমা ভ্রু কুঁচকাল। "দুইটাই কেমনে হয়?"

"আম্মা, তুমি যখন প্রথম গার্মেন্টসে ঢুকলা, সেলাই মেশিন তোমার বন্ধু ছিল না শত্রু?"

রহিমা কিছু বলল না।

"সেলাই মেশিন দিয়ে তুমি আমাকে বড় করেছ। সেই একই মেশিন তোমার পিঠ ভেঙে দিয়েছে। দুইটাই সত্য। একটা বললে আরেকটা মিথ্যা হয়ে যায়।"

বাইরে একটা কুকুর ডাকল। দূরে কোথাও একটা ট্রাক গিয়ার বদলাল। রহিমা মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইল। মিতুর চোখে সেই আলো, যেটা রহিমা নিজের মধ্যে কখনো দেখেনি। বইয়ের আলো। জানার আলো।

"তোর কথায় যুক্তি আছে," রহিমা বলল।

মিতু একটু হাসল। সেই হাসিটা বড়দের হাসি। ভারী হাসি।

রহিমা হাত ধুয়ে গামছায় মুছতে মুছতে বলল, "তুই বড় হয়ে গেছিস।"

মিতু কিছু বলল না। ল্যাপটপের কাছে ফিরে গেল। রহিমা দাঁড়িয়ে রইল ভেজা মেঝেতে। থালাবাসন ধোয়া শেষ। প্রশ্নটা শেষ হয়নি।

সেলাই মেশিনের কথা ভাবল রহিমা। পনেরো বছর ধরে মেশিনের সামনে বসে আছে। মেশিন তার বন্ধু ছিল। মেশিন তার শত্রুও ছিল। মিতু ঠিকই বলেছে। কিন্তু মেশিন তো নিজে কিছু চায় না। মেশিনের কোনো ইচ্ছা নেই। এই নতুন জিনিসটার কি ইচ্ছা আছে?

রহিমা বাতি নেভাল। অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকল কিছুক্ষণ।

মেশিনের ইচ্ছা না থাকলেও, মেশিনের মালিকের তো ইচ্ছা আছে।

---

দুই. করিম

রংপুরে রাত গভীর। করিম ধানখেতের আলের উপর দাঁড়িয়ে আছে। খালি পায়ে। লুঙ্গি গোটানো। হাতে ফোন, অ্যাপটা জ্বলছে। সবুজ আলোয় তার মুখটা ভূতের মতো দেখাচ্ছে।

অ্যাপ বলছে আগামীকাল বৃষ্টি হবে না। অ্যাপ বলছে এই মাসে ধানের দাম কুড়ি শতাংশ বাড়বে। অ্যাপ বলছে পোকা আসতে পারে, এখনই স্প্রে করো।

করিম ফোন নামিয়ে খেতের দিকে তাকাল। অন্ধকার। কিছু দেখা যায় না। শুধু ব্যাঙের ডাক। দূরে কোথাও একটা শেয়াল ডাকল।

"তুই কি আমার বন্ধু?"

করিম ফোনকে জিজ্ঞেস করল না। খেতকে জিজ্ঞেস করল। এই মাটি, এই ধান, এই পানি, যা তার বাবার ছিল, বাবার বাবার ছিল। এই খেত কোনোদিন তাকে ঠকায়নি। মাঝে মাঝে কম দিয়েছে, কিন্তু ঠকায়নি। খেতের সাথে করিমের সম্পর্ক পরিষ্কার। করিম খাটবে, খেত দেবে। কম দেবে বা বেশি, সেটা আল্লাহর হাতে।

কিন্তু এই ফোনের জিনিসটা? এটা কার পক্ষে? এটা কি করিমের পক্ষে? নাকি যে কোম্পানি এটা বানিয়েছে তার পক্ষে? নাকি কারোরই পক্ষে না?

ব্যাঙটা আবার ডাকল। করিম বুঝতে পারল ব্যাঙ বৃষ্টির কথা বলছে। ব্যাঙের কথা তার বাবা বুঝত। বাবা বলত, "ব্যাঙ ডাকলে বৃষ্টি আসে।" অ্যাপ বলছে বৃষ্টি আসবে না। কার কথা শুনবে করিম? ব্যাঙ তিন প্রজন্ম ধরে ঠিক বলেছে। অ্যাপ তিন মাস হলো এসেছে। কিন্তু গত মাসে ব্যাঙ ডেকেছিল, বৃষ্টি আসেনি। অ্যাপ বলেছিল পোকা আসবে, পোকা এসেছিল।

করিম খালি পায়ে মাটিতে দাঁড়িয়ে আছে। পায়ের নিচে মাটি ভেজা, ঠান্ডা। এই মাটি তার চেনা। অ্যাপ এই মাটি চেনে না। অ্যাপ উপগ্রহের ছবি দেখে, সংখ্যা দেখে, কিন্তু মাটির গন্ধ পায় না। আবার করিমও উপগ্রহ দেখতে পায় না। করিম দেখে ব্যাঙ, শেয়াল, বাতাস। দুটো আলাদা জ্ঞান। একটা হাজার বছরের, একটা হাজার তারের।

খেত কিছু বলল না। খেত কোনোদিন কিছু বলে না। খেত শুধু থাকে। ধৈর্য ধরে থাকে। বীজ নেয়, ফসল দেয়। মাঝখানে কী হয় সেটা মাটির গোপন।

করিম ফোনের স্ক্রিন বন্ধ করল। অন্ধকার ফিরে এলো। তার চোখ ধীরে ধীরে অন্ধকারে অভ্যস্ত হলো। ধানগাছগুলো দেখা যাচ্ছে, হালকা বাতাসে দুলছে। চাঁদ নেই, তারাগুলো ভালো দেখা যাচ্ছে।

করিম চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। ব্যাঙ ডাকছে। শেয়াল ডাকছে। ধান দুলছে। ফোন পকেটে চুপ করে আছে।

উত্তর কোথাও নেই। না ফোনে, না খেতে, না আকাশে।

---

তিন. তানিয়া

ঢাকা, বনানী। একটা ছোট অফিসের ভেতর। রাত একটা বাজে। তানিয়া আর সাকিব টেবিলের দুইপাশে বসে আছে। দুইজনের সামনে দুই কাপ কফি, দুইটাই ঠান্ডা। সাকিবের চোখ লাল। তানিয়ার চুল এলোমেলো।

স্ক্রিনে একটা ইমেইল খোলা। একটা বড় কোম্পানি থেকে এসেছে। তারা বলছে তানিয়াদের প্রোডাক্ট কিনতে চায়। শর্ত একটাই: ডেটা তাদের সার্ভারে থাকবে। সিঙ্গাপুরে।

"ভালো অফার," সাকিব বলল।

"ডেটা বাংলাদেশের মানুষের," তানিয়া বলল।

"তানিয়া, আমরা ছয় মাস ধরে বেতন নিচ্ছি না।"

"জানি।"

চুপ। এসির শব্দ। দূরে কোথাও একটা অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন।

সাকিব ঠান্ডা কফিতে চুমুক দিল। মুখ কুঁচকাল। "তানিয়া, AI is just a tool। আমরা যা বানাচ্ছি সেটা একটা টুল। টুলের কোনো নৈতিকতা নেই। টুল ভালো না মন্দ না।"

তানিয়া সাকিবের দিকে তাকাল। "হাতুড়িও একটা টুল। তা দিয়ে ঘরও বানানো যায়, মাথাও ফাটানো যায়।"

সাকিব কিছু বলল না।

"সেই হাতুড়ি যদি শুধু একজনের হাতে থাকে," তানিয়া বলল, "তাহলে ঘর বানাবে না মাথা ফাটাবে সেটা সে ঠিক করবে। আমরা যদি ডেটা দিয়ে দিই, হাতুড়ি তাদের হাতে চলে যাবে।"

"তাহলে আমরা কি ডুবে যাব?" সাকিবের গলায় ক্লান্তি।

তানিয়া জানালার দিকে তাকাল। বনানীর রাস্তা প্রায় খালি। একটা রিকশা যাচ্ছে, রিকশাওয়ালার পায়ে জোর নেই। ঢাকা ঘুমাচ্ছে।

"আমি জানি না," তানিয়া বলল। "কিন্তু ডুবলেও নিজেদের মতো ডুবব।"

সাকিব হাসল। ক্লান্ত হাসি। "তুমি পাগল।"

"হতে পারে।"

তানিয়া কফির কাপ তুলে নিল। এক চুমুক খেল। ঠান্ডা, তেতো। তারপর মনে মনে ভাবল, এই প্রশ্নটার কি কোনো উত্তর আছে? বন্ধু না শত্রু? নাকি এটা ভুল প্রশ্ন? আসল প্রশ্ন হয়তো এটা না। আসল প্রশ্ন হয়তো: হাতুড়ি কার হাতে?

কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তরও তো তানিয়ার কাছে নেই। ছয় মাস বেতন নেয়নি। অফিসের ভাড়া বাকি। ইনভেস্টর খুঁজছে, পাচ্ছে না। বাংলাদেশে AI স্টার্টআপে কে টাকা দেয়?

সাকিব উঠে দাঁড়াল। "আমি যাই। কাল কথা বলি।"

তানিয়া মাথা নাড়ল। সাকিব চলে গেল। অফিসে তানিয়া একা। স্ক্রিনে ইমেইলটা জ্বলছে। সিঙ্গাপুরের কোম্পানি উত্তর চায় সাতদিনের মধ্যে।

তানিয়া ইমেইলটা মিনিমাইজ করল। এডিটর খুলল। কোড লিখতে শুরু করল। উত্তর পরে দেবে। এখন কাজ করবে।

---

চার. জাহিদ

রিয়াদ। ফজরের আজান শেষ হয়েছে কিছুক্ষণ আগে। মসজিদের মেঝে ঠান্ডা। জাহিদ সেজদায় আছে। কপাল মেঝেতে ঠেকানো। চোখ বন্ধ।

জাহিদ দোয়া করছে। কিন্তু দোয়ার ভেতরে একটা প্রশ্ন ঢুকে পড়েছে, বের হচ্ছে না।

"ইয়া আল্লাহ, এই জিনিসটা কি তুমি পাঠিয়েছ? নাকি এটা শয়তানের কারসাজি?"

জাহিদ জানে প্রশ্নটা বোকার মতো শোনায়। আল্লাহ তো সবকিছুই পাঠান। বৃষ্টিও তিনি পাঠান, বন্যাও তিনি পাঠান। কিন্তু তবু প্রশ্নটা মাথায় ঘুরছে। ক্রেনটা এখন নিজে চলে। জাহিদকে লাগে না। জাহিদের মতো আরো হাজার হাজার বাংলাদেশি শ্রমিককে লাগে না। ক্রেন চোখ দিয়ে দেখে, মস্তিষ্ক দিয়ে ভাবে, হাত দিয়ে ধরে। জাহিদের চেয়ে নিখুঁত। জাহিদের চেয়ে সস্তা। জাহিদের চেয়ে নিরাপদ।

নামাজ শেষ করল জাহিদ। সালাম ফিরাল। দুই হাত তুলে মুনাজাত করল। কিন্তু কথা এলো না। কী চাইবে আল্লাহর কাছে? চাকরি? চাকরি তো শেষ। দেশে ফেরা? দেশে গিয়ে কী করবে? ক্রেন চালানো ছাড়া কিছু পারে না। ক্রেন এখন নিজেই চলে।

মসজিদ থেকে বের হলো। রিয়াদের আকাশে এখনো তারা আছে। ভোর হচ্ছে, পূবদিকে আকাশ একটু ফর্সা। রাস্তায় কোনো মানুষ নেই। শুধু একটা ড্রাইভারলেস ট্রাক গেল শব্দ করে।

জাহিদ ফোন বের করল। চাকরির ওয়েবসাইট খুলল। সার্চ করল: crane operator, riyadh।

কোনো ফলাফল নেই।

construction worker, riyadh।

কোনো ফলাফল নেই।

labor, any, saudi arabia।

তিনটা ফলাফল। তিনটাই AI technician চায়। যোগ্যতা: ডিপ্লোমা ইন রোবটিক্স। জাহিদ অষ্টম শ্রেণি পাস।

জাহিদ ফোন পকেটে রাখল। হাঁটতে শুরু করল। ক্যাম্পের দিকে। ক্যাম্পে গিয়ে কী করবে জানে না। শুয়ে থাকবে হয়তো। ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে।

আল্লাহ কোনো উত্তর দেননি। আল্লাহ উত্তর দেন, কিন্তু সময় লাগে। ধৈর্য লাগে। জাহিদের ধৈর্য আছে। ধৈর্য ছাড়া তার আর কিছু অবশিষ্ট নেই।

ক্যাম্পের কাছে এসে জাহিদ থামল। ভোরের আলোয় ক্যাম্পটা দেখা যাচ্ছে। টিনের ছাদ, কংক্রিটের দেয়াল, ছোট ছোট জানালা। ভেতরে চারশো বাংলাদেশি শুয়ে আছে। তাদের অনেকের চাকরি নেই। তাদের অনেকের ভিসা শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাদের অনেকে জানে না কাল কী হবে।

জাহিদ আকাশের দিকে তাকাল। তারাগুলো মিলিয়ে যাচ্ছে। ভোর হচ্ছে।

বন্ধু না শত্রু, সেটা হয়তো ভুল প্রশ্ন, জাহিদ ভাবল। আসল প্রশ্ন: আমার কি কোনো দাম আছে এখনো?

---

পাঁচ. সেলিনা

সুনামগঞ্জ। রাত তিনটা। সেলিনা বিছানায় বসে আছে। পাশে স্বামী ঘুমাচ্ছে। ছেলেমেয়েরা ঘুমাচ্ছে। ঘরে শুধু একটা মোমবাতি জ্বলছে। লোডশেডিং।

সেলিনার কোলে তার গোপন খাতা।

এই খাতার কথা কেউ জানে না। স্বামী জানে না। শাশুড়ি জানে না। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কেউ জানে না। এই খাতায় সেলিনা প্রতিদিন লেখে। কী দেখল, কী শিখল, কী বুঝল, কী বুঝল না।

আজ সেলিনা একটা লাইন লিখল:

"এই AI কি আমাদের বন্ধু না শত্রু?"

লাইনটার নিচে দাগ দিল। তারপর আরেকটা দাগ দিল।

তারপর চুপ করে বসে রইল। মোমবাতির আলো কাঁপছে। জানালা দিয়ে হাওরের বাতাস আসছে। পানির গন্ধ। মাছের গন্ধ। কচুরিপানার গন্ধ।

সেলিনা ভাবল। ট্যাবলেটের কথা ভাবল। যেদিন প্রথম ট্যাবলেটটা হাতে পেয়েছিল, সেদিন তার হাত কাঁপছিল। এত দামি জিনিস, ভেঙে ফেললে কী হবে? কিন্তু ট্যাবলেটটা ভাঙেনি। ট্যাবলেট দিয়ে সেলিনা রোগীর ডেটা রাখে, ডাক্তারের সাথে ভিডিওতে কথা বলে, ওষুধের নাম খোঁজে। ট্যাবলেটটা তার হাতের শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছে। একা একটা মেয়ে, হাওরের গ্রামে, তার হাতে এখন ঢাকার ডাক্তারের জ্ঞান।

কিন্তু সেই একই ট্যাবলেট তো ডেটা পাঠাচ্ছে কোথাও। কার কাছে যাচ্ছে এই ডেটা? হাওরের মানুষের স্বাস্থ্যের তথ্য, কে অসুস্থ, কে গর্ভবতী, কার কী রোগ, এসব কে দেখছে? সেলিনা জানে না। জিজ্ঞেস করেছিল একবার, কেউ পরিষ্কার উত্তর দেয়নি।

সেলিনা খাতায় আবার তাকাল। প্রশ্নটা দুইবার আন্ডারলাইন করা। কিন্তু এটাই যথেষ্ট মনে হলো না।

সেলিনা কলম তুলে নিল। পরের পাতা খুলল। পুরো পাতাজুড়ে একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন আঁকল। বিশাল। পাতার উপর থেকে নিচ পর্যন্ত। কলম জোরে জোরে চালাল। দাগটা গাঢ় হলো। মোটা হলো। প্রশ্নবোধক চিহ্নের বিন্দুটা একটা গোল, কালো ফোঁটা হয়ে গেল।

সেলিনা খাতাটা বন্ধ করল। মোমবাতি নিভিয়ে দিল। অন্ধকারে শুয়ে পড়ল।

হাওরের বাতাস আসছে। কোথাও একটা পাখি ডাকল। ভোর হতে এখনো ঘণ্টাখানেক বাকি।

প্রশ্নটা খাতায় আছে। প্রশ্নটা অন্ধকারে আছে। প্রশ্নটা বাতাসে আছে।

উত্তর কোথাও নেই। এখনো নেই।