তানিয়ার প্রথম কোটি টাকা

যখন এক কোটি বিশ লক্ষ টাকার দাম ১.৮০ টাকা

পর্ব ১৩ · ১০ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-১৮

তানিয়ার অফিসের চেয়ারটার একটা চাকা কিচকিচ করে।

পুরো ফ্লোরে সবাই জানে চেয়ারটা কার। তানিয়া উঠে গেলে কেউ ওই চেয়ারে বসে না। তানিয়া বলেছিল বদলে দিতে, কিন্তু অফিস ম্যানেজার ভুলে গেছে, তানিয়াও ভুলে গেছে। এখন চেয়ারটা তার পরিচয়ের অংশ হয়ে গেছে। দোতলায় করিডর দিয়ে সেই কিচকিচ শব্দ আসলে লোকে বলে, "তানিয়া আপু আসতেছে।"

আজ সকালে তানিয়া চেয়ারে বসে নেই। দাঁড়িয়ে আছে। জানালার কাছে। হাতে ফোন। ফোনের স্ক্রিনে একটা মেইল। মেইলটা তিনবার পড়েছে। চারবার পড়ল।

"তানিয়া, পড়, জোরে পড়।" পেছন থেকে সোহেল বলল।

তানিয়া ঘুরে তাকাল। পুরো টিম দাঁড়িয়ে আছে। সোহেল, প্রীতি, ফাহিম, আর ইন্টার্ন নাফি। চারজন। এই চারজন নিয়ে তানিয়া গত দেড় বছর কাটিয়েছে। গুলশানের এই ছোট অফিসে। তিনটা ঘর, একটা বাথরুম, একটা ক্ষুদে রান্নাঘর যেখানে শুধু কেটলি আর কফির জার ধরে।

"কনফার্ম হয়ে গেছে," তানিয়া বলল। "সিঙ্গাপুর থেকে। এক কোটি বিশ লক্ষ টাকা।"

একটু চুপচাপ। তারপর সোহেল চিৎকার করল। প্রীতি হাততালি দিল। ফাহিম কিছু বলতে গিয়ে থেমে গেল, তারপর হাসল। নাফি বুঝতে পারল না কী হচ্ছে, কিন্তু সবাই খুশি দেখে সেও হাসল।

তানিয়া ফোনটা পকেটে রাখল। তার হাত কাঁপছে। আনন্দে না ভয়ে, সে নিজেও ঠিক বুঝতে পারছে না।

এক কোটি বিশ লক্ষ টাকা।

তানিয়ার বয়স সাতাশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে পাশ করেছে। তারপর একটা সফটওয়্যার কোম্পানিতে দুই বছর চাকরি। তারপর নিজের কোম্পানি। "ভাষামন" নাম দিয়েছে। বাংলা ভাষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরি করে। বাংলায় কথা বুঝবে, বাংলায় উত্তর দেবে, বাংলায় লিখবে। এটাই স্বপ্ন।

স্বপ্নটা এখন পর্যন্ত চলেছে বাবার টাকায়, মায়ের গয়না বিক্রির টাকায়, আর সোহেলের জমানো টাকায়। সোহেল তানিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু। সোহেল বলেছিল, "আমি চাকরি ছাড়ব না, কিন্তু সন্ধ্যার পর তোর হয়ে কাজ করব।" সোহেল কথা রেখেছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত বারোটা।

আজ সেই স্বপ্নে টাকা এসেছে। আসল টাকা। সিঙ্গাপুরের একটা ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম থেকে। তারা তানিয়ার ডেমো দেখেছে, দলের সাথে কথা বলেছে, মডেলের আর্কিটেকচার পরীক্ষা করেছে। তারপর বলেছে, "হ্যাঁ।"

হ্যাঁ।

ছোট একটা শব্দ। কিন্তু এই শব্দটার জন্য তানিয়া চোদ্দ মাস ধরে দৌড়েছে। এগারোটা জায়গায় পিচ করেছে। সাতবার "না" শুনেছে। তিনবার কেউ উত্তরই দেয়নি। একবার একজন বলেছিল, "বাংলা ভাষার বাজার কত বড়? ইংরেজিতে করলে বরং ভালো হতো।" তানিয়া বলেছিল, "ইংরেজিতে অনেকে করছে। বাংলায় কেউ করছে না।" লোকটা হেসেছিল। সেই হাসিটা তানিয়া ভোলেনি।

বিকেলে তানিয়া বাসায় গেল। ধানমন্ডির পুরনো বাড়ি। তিনতলায় তানিয়াদের ফ্ল্যাট। সিঁড়িতে পাটি বিছিয়ে বাড়িওয়ালার বিড়াল ঘুমাচ্ছে। তানিয়া বিড়ালটাকে ডিঙিয়ে উঠল।

বাবা বারান্দায় বসে কাগজ পড়ছে। বাবা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক। গণিতের। পঁয়ত্রিশ বছর পড়িয়েছে। পেনশন পায় মাসে এগারো হাজার টাকা। বাবা পেনশনের টাকা নিয়ে কোনোদিন অভিযোগ করে না। বাবা বলে, "আমার কী দরকার বেশি? চা খাই, কাগজ পড়ি, নামাজ পড়ি। ব্যস।"

"বাবা।"

"বল।"

"ফান্ডিং পেয়ে গেছি। সিঙ্গাপুর থেকে। এক কোটি বিশ লক্ষ।"

বাবা কাগজ থেকে চোখ তুলল। চশমার ওপর দিয়ে তাকাল। বাবার চশমাটা পুরনো, একটা কান ভাঙা, সেলোটেপ দিয়ে জোড়া লাগানো।

"কত বললি?"

"এক কোটি বিশ লক্ষ।"

বাবা কাগজটা ভাঁজ করে কোলে রাখল। চুপচাপ বসে রইল। তারপর বলল, "তোর দাদা সারাজীবনে এত টাকা দেখেনি।"

তানিয়ার দাদা ফরিদপুরে ছিল। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিল। ১৯৯২ সালে মারা গেছে। তানিয়া দাদাকে দেখেনি। শুধু একটা সাদাকালো ছবিতে দেখেছে। ছবিতে দাদা হাসছে। দাঁত দেখা যাচ্ছে না, ঠোঁট বন্ধ, কিন্তু চোখ হাসছে।

"বাবা, এটা বিনিয়োগ। দান না। ফেরত দিতে হবে। তার ওপর লাভ দিতে হবে।"

"জানি। তবু। এক কোটি বিশ লক্ষ।" বাবা মাথা নাড়ল। "কী যুগ এসেছে।"

মা ভেতর থেকে চা নিয়ে এলো। মা কিছু বলল না। মা সবসময় চা দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করে। তানিয়ার জন্য আলাদা কাপে, একটু বেশি চিনি দিয়ে। তানিয়া বড় হয়ে গেছে, নিজের কোম্পানি চালায়, কিন্তু মায়ের কাছে সে এখনো সেই মেয়ে যে চায়ে বেশি চিনি চায়।

তানিয়া চা খেতে খেতে ভাবল, দাদা সারাজীবনে এত টাকা দেখেনি। কথাটা মাথায় ঘুরতে লাগল।

পরদিন থেকে কাজ শুরু হলো।

সিঙ্গাপুরের ফান্ডের সাথে একটা মিটিং হলো। ভিডিও কলে। ওপাশে দুজন বসে আছে। একজন চায়নিজ, একজন ভারতীয়। দুজনেই ইংরেজিতে কথা বলে। তানিয়াও ইংরেজিতে বলে। বাংলা ভাষার মডেল তৈরির কথা ইংরেজিতে বলতে হয়, এটা নিয়ে তানিয়া আগে ভাবত। এখন আর ভাবে না।

"তানিয়া, তোমার মডেলের ডেমো চমৎকার ছিল। কিন্তু ডেমো আর প্রোডাক্ট এক জিনিস না। তোমাকে স্কেল করতে হবে।"

"আমি জানি।"

"ট্রেনিং ডেটা কত আছে?"

"এখন বিশ লক্ষ স্যাম্পল।"

"দুই কোটি লাগবে। কমপক্ষে। ছয় মাসের মধ্যে।"

তানিয়া কিছু বলল না। বিশ লক্ষ থেকে দুই কোটি। দশগুণ। ছয় মাস।

"কোয়ার্টারলি রিপোর্ট দিতে হবে। গ্রোথ মেট্রিক্স, ইউজার অ্যাকুইজিশন, ডেটা পাইপলাইন, সব।"

"বুঝেছি।"

"এবং তানিয়া, ছয় মাস পর আরেক রাউন্ড ফান্ডিংয়ের জন্য আমরা তোমাকে সাপোর্ট করব। কিন্তু সেটা নির্ভর করবে এই ছয় মাসে তুমি কতটা এগোলে।"

কল শেষ হলো। তানিয়া চেয়ারে হেলান দিল। চেয়ারটা কিচকিচ করল।

দুই কোটি স্যাম্পল। এর মানে বিশাল পরিমাণ বাংলা টেক্সট সংগ্রহ করতে হবে, পরিষ্কার করতে হবে, লেবেল করতে হবে। লেবেলিং মানে মানুষকে দিয়ে ডেটা চিহ্নিত করানো। এই বাক্যটা প্রশ্ন না বিবৃতি? এই শব্দটা ইতিবাচক না নেতিবাচক? এই অনুচ্ছেদের সারসংক্ষেপ কী? মানুষ পড়বে, বুঝবে, চিহ্নিত করবে। তারপর সেই চিহ্নিত ডেটা দিয়ে মডেল শিখবে।

মানুষ ছাড়া মডেল শেখে না। এটা কেউ বলে না, কিন্তু এটাই সত্য।

সোহেল বলল, "ক্রাউডসোর্সিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করো। ঢাকায় একটা আছে, 'টাস্কবাজার'। ওরা ডেটা লেবেলিংয়ের জন্য লোক সাপ্লাই করে।"

তানিয়া টাস্কবাজারের ওয়েবসাইট খুলল। সুন্দর ডিজাইন। "আমরা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মাইক্রোটাস্ক প্ল্যাটফর্ম। ২০,০০০+ লেবেলার। দ্রুত, নির্ভুল, সাশ্রয়ী।"

সাশ্রয়ী।

তানিয়া কল করল। ওপাশে একজন ছেলে। নাম তুষার।

"ভাষামন? শুনেছি শুনেছি। আপনারা তো ফান্ডিং পেলেন। অভিনন্দন।"

"ধন্যবাদ। আমাদের বাংলা টেক্সট লেবেলিং দরকার। বড় স্কেলে। দুইশো লেবেলার চাই।"

"দুইশো? হ্যাঁ, দেওয়া যাবে। কবে থেকে?"

"যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। রেট কত?"

"আমাদের স্ট্যান্ডার্ড রেট প্রতি টাস্কে তিন টাকা। এর মধ্যে লেবেলারকে দেওয়া হয় ১.৮০ টাকা, বাকিটা প্ল্যাটফর্ম কমিশন।"

"১.৮০ টাকা? প্রতি টাস্কে?"

"হ্যাঁ। একটা টাস্ক মানে একটা বাক্য বা অনুচ্ছেদ লেবেল করা। গড়ে ত্রিশ-চল্লিশ সেকেন্ড লাগে।"

তানিয়া হিসেব করল। ত্রিশ সেকেন্ডে ১.৮০ টাকা। ঘণ্টায় ১২০ টাস্ক। ঘণ্টায় ২১৬ টাকা। দিনে আট ঘণ্টা করলে ১,৭২৮ টাকা। মাসে ছাব্বিশ দিন কাজ করলে ৪৪,৯২৮ টাকা।

খারাপ না। চার হাজার ডলারের দেশে পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকা মাসে।

কিন্তু ত্রিশ সেকেন্ড একটা আদর্শ হিসেব। বাস্তবে কিছু টাস্ক জটিল। কিছু বাক্য দীর্ঘ। কিছু সিদ্ধান্ত কঠিন। এবং মানুষ ক্লান্ত হয়। সকালে যে গতিতে কাজ করে, বিকেলে সেই গতি থাকে না।

তানিয়া তুষারকে বলল, "ঠিক আছে। শুরু করো।"

দুই সপ্তাহের মধ্যে দুইশো লেবেলার কাজ শুরু করল।

তানিয়া তাদের দেখতে পায় না। তারা প্ল্যাটফর্মে ইউজার আইডি। কেউ ঢাকায়, কেউ চট্টগ্রামে, কেউ রাজশাহীতে। কেউ হয়তো ছাত্র, রাতে পড়ে দিনে টাস্ক করে। কেউ হয়তো গৃহিণী, বাচ্চা ঘুমালে ল্যাপটপ খোলে। কেউ হয়তো বেকার, সারাদিন শুধু এটাই করে।

তানিয়া শুধু ড্যাশবোর্ড দেখে। কত টাস্ক হলো। কত বাকি। কোয়ালিটি স্কোর কত। গড় সময় কত। সংখ্যা।

প্রথম সপ্তাহে এক লক্ষ টাস্ক হলো। তানিয়া খুশি হলো। সোহেল বলল, "এই গতিতে চললে চার মাসে দুই কোটি হয়ে যাবে।"

কিন্তু দ্বিতীয় সপ্তাহে গতি কমে গেল। কোয়ালিটি স্কোরও কমল। কিছু লেবেলার না বুঝে যেনতেনভাবে চিহ্নিত করছে। তানিয়া কোয়ালিটি ফিল্টার বসাল। খারাপ লেবেল বাদ দিল। কিন্তু বাদ দিলে ডেটা কমে। ডেটা কমলে সময় বাড়ে।

ফাহিম বলল, "কিছু লেবেলারের প্রোফাইল দেখলাম। একজন দিনে বারো ঘণ্টা কাজ করছে। বোধহয় ক্লান্তির কারণে কোয়ালিটি কমছে।"

তানিয়া বলল, "ওকে বলো কম কাজ করতে।"

"ওকে বললে ওর আয় কমবে। ও হয়তো এটার ওপর নির্ভর করে।"

তানিয়া কিছু বলল না। ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকিয়ে রইল। ড্যাশবোর্ডে সংখ্যাগুলো। প্রতিটা সংখ্যার পেছনে একজন মানুষ বসে আছে। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে। পড়ছে। ভাবছে। ক্লিক করছে। ১.৮০ টাকা।

তানিয়া তুষারকে ফোন করল।

"রেট বাড়ানো যায়?"

"আপনাদের তো বাজেট ফিক্সড। রেট বাড়ালে কম টাস্ক কিনতে পারবেন।"

"আমি জানি। কিন্তু ১.৮০ টাকা..."

"এটা মার্কেট রেট, তানিয়া আপা। অন্য ক্লায়েন্টরাও এই রেটেই নেয়। কিছু কিছু আরো কম নেয়। ভারতের প্ল্যাটফর্মে ১.২০ টাকায়ও হয়।"

তানিয়া ফোন রাখল। মনে মনে বলল, পরে বাড়াব। মডেল যখন কাজ করবে, রেভিনিউ আসবে, তখন বাড়াব। এখন সম্ভব না।

পরে।

কফি কাপটা ঠান্ডা হয়ে গেছে। আজকের পঞ্চম কাপ। তানিয়া কাপটা তুলে এক চুমুকে অর্ধেক খেয়ে ফেলল। ঠান্ডা কফি তিতকুটে লাগে। তানিয়া মুখ বিকৃত করল না। খেলো।

এক মাস পরে প্রথম কোয়ার্টারলি রিপোর্ট।

তানিয়া স্লাইড তৈরি করল। ডেটা পাইপলাইন: চালু। লেবেলার: ১৮৭ জন সক্রিয়। টাস্ক সম্পন্ন: ৩.৪ লক্ষ। কোয়ালিটি স্কোর: ৮৭ শতাংশ। বার্ন রেট: মাসে ১৮ লক্ষ টাকা।

সিঙ্গাপুরের লোকজন সন্তুষ্ট হলো। "গুড প্রগ্রেস, তানিয়া। কিন্তু গতি আরেকটু বাড়াও। ছয় মাসে দুই কোটির টার্গেট ভুলো না।"

রাতে তানিয়া অফিসে একা বসে আছে। সবাই চলে গেছে। পাশের বিল্ডিংয়ে কেউ গান গাইছে। পুরনো গান। "আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি..." গলাটা ভালো না। সুর কাটছে। কিন্তু গানটা চেনা, তাই শুনতে ভালো লাগছে।

তানিয়া ড্যাশবোর্ড খুলল। আজকের ডেটা। ৪,২০০ টাস্ক হয়েছে আজ। মানে ৪,২০০ বার কেউ একটা বাক্য পড়েছে, বুঝেছে, চিহ্নিত করেছে। ৪,২০০ বার ১.৮০ টাকা। মোট ৭,৫৬০ টাকা। দুইশো জনের মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে।

তানিয়ার কফির দাম সত্তর টাকা। দিনে পাঁচ কাপ। ৩৫০ টাকা। একজন লেবেলারের দিনের আয়ের চেয়ে কম, বেশি, না সমান, তানিয়া হিসেব করল না। করতে চাইল না।

তানিয়া ল্যাপটপ বন্ধ করল। ব্যাগ তুলল। অফিসের আলো নিভাল। দরজা বন্ধ করতে গিয়ে থামল।

পরে বাড়াব।

কথাটা মাথায় ঘুরছে। পরে। পরে কখন? মডেল তৈরি হলে? রেভিনিউ আসলে? পরের রাউন্ড ফান্ডিং হলে? পরে মানে কবে?

তানিয়া দরজা বন্ধ করে নামতে লাগল। সিঁড়িতে পায়ের শব্দ। কিচকিচ শব্দ নেই। চেয়ার ওপরে রয়ে গেছে।

বাইরে ঢাকার রাত। গরম, ভ্যাপসা, গাড়ির হর্ন। তানিয়া রাস্তায় দাঁড়িয়ে রিকশা খুঁজল। একটা পেল। বলল, "ধানমন্ডি।"

রিকশায় বসে তানিয়া ফোনটা বের করল। মেইল খুলল। সিঙ্গাপুরের সেই মেইলটা এখনো আছে। "কনগ্র্যাচুলেশনস, তানিয়া। উই আর এক্সসাইটেড টু পার্টনার উইথ ভাষামন..."

এক কোটি বিশ লক্ষ টাকা। তানিয়ার দাদা সারাজীবনে এত টাকা দেখেনি।

রিকশাওয়ালা সামনে তাকিয়ে প্যাডেল মারছে। তানিয়া তার পিঠের দিকে তাকাল। গেঞ্জি ঘামে ভিজে গেছে। কত বয়স হবে? পঞ্চাশ? পঞ্চান্ন? তার দাদাও কি সারাজীবনে এত টাকা দেখেনি?

তানিয়া ফোনটা পকেটে রাখল।

রিকশার চাকার শব্দ। ঢাকার রাস্তায় রিকশার চাকা একরকম শব্দ করে। ঘড়ঘড়। ঘড়ঘড়। একঘেয়ে, কিন্তু চেনা।

তানিয়া চোখ বন্ধ করল।

১.৮০ টাকা।

কথাটা রিকশার চাকার তালে তালে ঘুরছে। ঘড়ঘড়। ১.৮০। ঘড়ঘড়। ১.৮০।

পরে বাড়াব।

রিকশা চলছে। ঢাকা চলছে। গরম বাতাসে কোথাকার রজনীগন্ধার গন্ধ ভেসে আসছে। তানিয়া চোখ খুলল না।