যে গ্রামে ইন্টারনেট নেই

পঞ্চাশটা ফোন, চারশো পরিবার, একটা ভাঙা কম্পিউটার

পর্ব ১৭ · ১০ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-১৮

পঞ্চাশটা ফোন, চারশো পরিবার, একটা ভাঙা কম্পিউটার

---

আজিজের বাম হাঁটুতে ব্যথা হলে বৃষ্টি আসে। এটা কোনো কুসংস্কার না। এটা তিরিশ বছরের পরীক্ষিত তথ্য। আজিজ হিসাব রাখে না, কিন্তু রাখলে দেখা যেত, বাম হাঁটুর ব্যথা আর বৃষ্টির মধ্যে একটা সম্পর্ক আছে যেটা কোনো আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসের চেয়ে কম নির্ভুল না। কখনো কখনো বেশি নির্ভুল। হাঁটু বলে আজ রাতে বৃষ্টি, আবহাওয়া অফিস বলে কাল সকালে। বৃষ্টি আসে রাতে।

কিন্তু হাঁটুর এই ক্ষমতা নিয়ে কেউ কোনো অ্যাপ বানায়নি। কেউ বানাবেও না।

---

করিমের ধান ভালো হচ্ছে। এটা আজিজ নিজের চোখে দেখছে। দুইজনের জমি পাশাপাশি। একই মাটি, একই পানি, একই আকাশ। কিন্তু করিমের ধান একটু বেশি সবুজ, একটু বেশি ঘন, একটু বেশি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আজিজের ধানও খারাপ না। কিন্তু পাশাপাশি দেখলে বোঝা যায়, একটা ফারাক আছে।

ফারাকটা একটা ফোন।

করিমকে এনজিও একটা ফোন দিয়েছে। স্মার্টফোন। তাতে একটা অ্যাপ আছে। অ্যাপটা বলে কখন সার দিতে হবে, কখন কীটনাশক দিতে হবে, কখন সেচ দিতে হবে। করিম সেই মতো করে। ধান ভালো হয়।

আজিজ সেই মতো করে না। কারণ আজিজের কাছে ফোন নেই।

এনজিও পঞ্চাশটা ফোন এনেছিল। গ্রামে চারশো কৃষক পরিবার। পঞ্চাশটা ফোন। বাকি তিনশো পঞ্চাশ পরিবার কী করবে, সেটা কেউ বলেনি। সেই প্রশ্ন কেউ করেওনি। এনজিওর ছেলেগুলো ছবি তুলেছে, রিপোর্ট লিখেছে, ঢাকায় ফিরে গেছে। তাদের রিপোর্টে লেখা আছে: "পঞ্চাশজন কৃষককে সফলভাবে ডিজিটাল কৃষি প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে।" রিপোর্টটা সত্য। কিন্তু সত্যের একটা অংশ মাত্র।

---

আজিজ ভাবল, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে যাবে। সেখানে একটা কম্পিউটার আছে। কম্পিউটারে হয়তো সেই অ্যাপটা চালানো যায়। আজিজ কম্পিউটার চেনে না, কিন্তু যে অপারেটর বসে থাকে সে হয়তো সাহায্য করবে।

ইউনিয়ন পরিষদ দুই কিলোমিটার দূরে। আজিজ হেঁটে গেল। রোদ প্রচণ্ড। পথে আরেকটা গ্রামের আবদুল মিয়ার সাথে দেখা। আবদুল মিয়া জিজ্ঞেস করল, "কই যাও?"

"ডিজিটাল সেন্টারে।"

আবদুল মিয়া হাসল। অদ্ভুত হাসি। যেন কেউ বলেছে চাঁদে যাচ্ছি।

"সেন্টার বন্ধ," আবদুল মিয়া বলল।

"কেন?"

"কম্পিউটার নষ্ট। আট মাস হলো।"

আজিজ দাঁড়িয়ে পড়ল। "আট মাস?"

"অপারেটর ছেলেটাও নেই। ঢাকায় চলে গেছে। ড্রাইভিং শিখবে বলে গেছে। তার জায়গায় কাউকে দেয়নি। কম্পিউটার ঠিক করতে কেউ আসেনি। চেয়ারম্যান বলেছে বাজেট নেই।"

আজিজ কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। রোদে ঘাম গড়াচ্ছে। দুই কিলোমিটার হেঁটে এসেছে। রাস্তার ধারে একটা কৃষ্ণচূড়া গাছ, ফুল ফুটেছে। আজিজ গাছটার দিকে তাকাল। গাছটার কোনো সমস্যা নেই। গাছের কোনো ফোন লাগে না, কোনো অ্যাপ লাগে না। গাছ নিজের নিয়মে ফুল ফোটায়।

আজিজ ফিরে গেল।

---

বাড়িতে ফিরে আজিজ ছেলেকে ডাকল। রফিক। চৌদ্দ বছর। ক্লাস এইটে পড়ে। স্কুলে যায়, ফিরে আসে, বই নিয়ে বসে, কিন্তু বই পড়ে কি না আজিজ জানে না।

"রফিক।"

"হুম।"

"তুই অ্যাপ চালাতে পারিস?"

রফিক তাকাল। "কোন অ্যাপ?"

"কৃষকবন্ধু। ধানের অ্যাপ।"

"আমি তো কোনোদিন অ্যাপ চালাইনি। ফোন কই?"

"ফোন নেই।"

রফিকের ঘরে কম্পিউটার নেই। ফোন নেই। ট্যাবলেট নেই। স্কুলে একটা কম্পিউটার ল্যাব আছে, তিনটা কম্পিউটার, দুইটা কাজ করে, সেগুলোতে ক্লাস নাইন-টেনের ছেলেমেয়েরা যায়। ক্লাস এইটের পালা আসে মাসে একবার। সেই একবারে রফিক কম্পিউটারের সামনে বসে, মাউস ধরে, কিছু একটা ক্লিক করে, কিছু বোঝে, কিছু বোঝে না। তারপর আবার এক মাস।

রফিক "অ্যাপ" শব্দটা শুনেছে। টিভিতে। বিজ্ঞাপনে। কিন্তু অ্যাপ কী, কীভাবে কাজ করে, কীভাবে নামাতে হয়, এসব সে জানে না। জানার কোনো উপায়ও নেই। জানার জন্য একটা ফোন লাগে। ফোন কেনার জন্য টাকা লাগে। আজিজের কাছে সেই টাকা নেই।

রফিক বলল, "বাবা, করিম চাচার ফোনে দেখলে হয় না?"

আজিজ কিছু বলল না।

---

পরদিন সকালে আজিজ করিমের বাড়িতে গেল। চায়ের দাওয়াত ছিল না, আজিজ নিজেই গেল। করিম উঠানে বসে ফোনের দিকে তাকিয়ে ছিল। অভ্যাস হয়ে গেছে তার।

"করিম।"

"বস।"

আজিজ বসল। করিমের স্ত্রী হালিমা চা দিল। আজিজ চায়ে ফুঁ দিতে দিতে বলল, "তোর অ্যাপটা একটু দেখি।"

করিম ফোনটা এগিয়ে দিল। আজিজ ফোনটা হাতে নিল।

প্রথম সমস্যা: স্ক্রিন। স্ক্রিনটা ছোট। আজিজের বয়স চুয়ান্ন, চোখে পড়তে কষ্ট হয়। অক্ষরগুলো পিঁপড়ার মতো। আজিজ ফোনটা দূরে ধরল, কাছে আনল, আবার দূরে ধরল। কিছুই পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে না।

দ্বিতীয় সমস্যা: আঙুল। আজিজের আঙুলগুলো মোটা। তিরিশ বছর ধরে কোদাল চালিয়েছে, লাঙল ধরেছে, মাটি খুঁড়েছে। তার আঙুলের ডগা চওড়া, চামড়া পুরু, গিঁটগুলো ফোলা। একটা বোতাম টিপতে গেলে তিনটা চেপে যায়। স্ক্রিনে কিছু একটা খুলে যাচ্ছে, সেটা সে চায়নি। বন্ধ করতে গিয়ে আরেকটা খুলে যাচ্ছে।

করিম পাশ থেকে বলল, "ওইখানে চাপ দে, সবুজটায়।"

আজিজ সবুজটায় চাপ দিল। অ্যাপ খুলল। একটা স্ক্রিন এলো। "অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।" নিচে কিছু ঘর। নাম, ফোন নম্বর, পাসওয়ার্ড।

পাসওয়ার্ডের ঘরে ইংরেজিতে লেখা: "Enter password"।

আজিজ ইংরেজি পড়তে পারে না। ক্লাস থ্রি পর্যন্ত পড়েছে। বাংলায় নিজের নাম লিখতে পারে, টাকার হিসাব রাখতে পারে। ইংরেজিতে "A" চেনে, "B" চেনে, বাকিগুলো গুলিয়ে যায়।

কিবোর্ডে ইংরেজি অক্ষর। ছোট ছোট। আজিজ "a" খুঁজল। পেল। চাপ দিল। তারপর কী? পাসওয়ার্ড কী দেবে? পাসওয়ার্ড মানে কী?

করিম বলল, "পাসওয়ার্ড মানে গোপন শব্দ। কিছু একটা লেখ, যেটা শুধু তুই জানবি।"

"ইংরেজিতে?"

"হ্যাঁ।"

আজিজ ফোনটা করিমের দিকে ফিরিয়ে দিল। ধীরে ধীরে। যত্ন করে। যেন একটা ভাঙা জিনিস ফেরত দিচ্ছে।

"তোমারই রাখো," আজিজ বলল।

করিম ফোনটা নিল। কিছু বলল না। কিছু বলার ছিলও না। দুইজনেই জানে সমস্যাটা কী। সমস্যাটা আজিজের বুদ্ধির না। সমস্যাটা আজিজের ইচ্ছার না। সমস্যাটা এমন একটা জায়গায় যেটা কারোর তৈরি করা, কিন্তু আজিজকে মাথায় রেখে তৈরি করা না।

হালিমা আরেক কাপ চা আনল। আজিজ চুপচাপ খেল। করিম চুপচাপ খেল। দুই প্রতিবেশী, দুই বন্ধু, দুই কৃষক। একজনের হাতে ভবিষ্যৎ, আরেকজনের হাতে একই পুরোনো আকাশ।

---

সেই রাতে আজিজ উঠানে বসে আছে। রফিক ঘুমিয়ে গেছে। আজিজের স্ত্রী ঘুমিয়ে গেছে। মশা কামড়াচ্ছে, আজিজ গায়ে একটা গামছা জড়িয়ে নিল।

আজিজ আকাশের দিকে তাকাল। পুরোনো অভ্যাস। আকাশ দেখে আবহাওয়া বোঝা। মেঘ নেই, কিন্তু পশ্চিমে একটু ঘোলাটে। বাতাস দক্ষিণ থেকে আসছে। গরম বাতাস, ভেজা ভেজা। আজিজ বাতাস শুঁকল। পানির গন্ধ আছে। হালকা। কিন্তু আছে।

তারপর পিঁপড়া দেখল। উঠানের এক কোণায়, পিঁপড়ার একটা সারি। ওপরের দিকে যাচ্ছে। দেয়াল বেয়ে উঠছে। খাবার নিয়ে যাচ্ছে, তাড়াহুড়ো করে। আজিজ জানে, পিঁপড়া যখন উঁচুতে যায়, বৃষ্টি আসছে। পিঁপড়া নিচুতে থাকলে রোদ। এটা তার বাবা শিখিয়েছে। তার বাবার বাবা শিখিয়েছে।

কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এটা পড়ানো হয় কি না আজিজ জানে না। কোনো অ্যাপে এটা আছে কি না জানে না। কিন্তু পিঁপড়া মিথ্যা বলে না। পিঁপড়ার কোনো "অ্যাকাউন্ট" লাগে না, কোনো "পাসওয়ার্ড" লাগে না।

আজিজ বাম হাঁটুতে হাত দিল। হাঁটু ব্যথা করছে। হালকা ব্যথা। কাল রাতে বা পরশু বৃষ্টি হবে।

পিঁপড়া বলছে বৃষ্টি। হাঁটু বলছে বৃষ্টি। বাতাস বলছে বৃষ্টি।

আজিজ সিদ্ধান্ত নিল। কাল সকালে আলু বিকালে সেচ দেবে না। বৃষ্টির পানিতে হবে। সেচের ডিজেলের টাকা বাঁচবে।

---

পরদিন বিকালে বৃষ্টি এলো। ভালো বৃষ্টি। ঘণ্টাখানেক ধরে পড়ল। আজিজের জমি ভিজে গেল। সেচ লাগল না।

করিমের ফোনেও কি বৃষ্টির কথা ছিল, আজিজ জানে না। জানতে চায়ও না। করিম করিমের মতো চাষ করুক, আজিজ আজিজের মতো করবে। পিঁপড়া দেখবে, বাতাস শুঁকবে, হাঁটুর কথা শুনবে।

কিন্তু রাতে, বৃষ্টি থামার পর, আজিজ আবার উঠানে বসল। এবার একটা অন্য চিন্তা এলো। করিমের ধান ভালো হচ্ছে। আজিজের ধানও মন্দ না, কিন্তু করিমের ধান আরেকটু ভালো। এই মৌসুমে হয়তো ফারাকটা কম। পরের মৌসুমে আরেকটু বেশি হবে। তারপরের মৌসুমে আরও। পাঁচ বছর পর করিম আর আজিজের মধ্যে যে ফারাক থাকবে, সেটা একটা ফোনের ফারাক না। সেটা হবে একটা জীবনের ফারাক।

আজিজ এটা ভেবে ভয় পেল না। আজিজ ভয় পায় না। বন্যায় ঘর ডুবেছে, মহাজনের কাছে মাথা নত করেছে, ছেলের স্কুলের বেতন দিতে পারেনি, তবু ভয় পায়নি। কিন্তু একটা তিক্ত স্বাদ পেল মুখে। সেই স্বাদটা আগেও পেয়েছে। যখন গরিব মানুষ দেখে অন্যের ছেলে ভালো জামা পরে স্কুলে যায়, সেই স্বাদ। হিংসা না। হিংসার চেয়ে খারাপ কিছু। অসহায়ত্ব।

আজিজ জানে, সে কম চাষি না। তিরিশ বছর ধরে এই মাটি চিনেছে, বুঝেছে, ভালোবেসেছে। মাটি তাকে ফেরত ভালোবেসেছে। কিন্তু এখন মাটি চেনাটা যথেষ্ট না। এখন ফোন চেনা লাগে। অ্যাপ চেনা লাগে। ইংরেজি জানা লাগে। পাসওয়ার্ড জানা লাগে।

আজিজের কাছে এগুলোর কোনোটাই নেই।

---

পরের সপ্তাহে বাজারে গিয়ে আজিজ একটা স্মার্টফোনের দাম জিজ্ঞেস করল। সবচেয়ে সস্তা। দোকানদার বলল, চার হাজার পাঁচশো টাকা। তারপর ইন্টারনেট লাগবে, মাসে একশো পঞ্চাশ থেকে তিনশো টাকা।

আজিজ হিসাব করল। চার হাজার পাঁচশো একবার, তারপর মাসে দেড়শো। বছরে আঠারোশো টাকা। প্রথম বছরে মোট ছয় হাজার তিনশো।

আজিজের এক মৌসুমে ধান বিক্রি করে যা থাকে, সব খরচ বাদে, সেটা দিয়ে সংসার চলে কোনোমতে। ছয় হাজার টাকা বাড়তি নেই। ফোন কিনলে রফিকের স্কুলের খরচ দেওয়া যাবে না। রফিকের পড়া বন্ধ হবে। আরেকটা বেলাল হবে।

আজিজ ফোন কিনল না।

বাজার থেকে ফেরার পথে আজিজ একটা চায়ের দোকানে বসল। চা খেতে খেতে পাশের লোকের কথা শুনল। দুইজন কথা বলছে, একজন বলছে সরকার নাকি সব কৃষককে ফ্রি ফোন দেবে। আরেকজন বলছে, গুজব।

আজিজ চুপচাপ চা শেষ করল। গুজব কি না সেটা আজিজ জানে না। কিন্তু আজিজ জানে, গত তিরিশ বছরে সরকার তাকে ফ্রি কিছু দেয়নি। সরকার সার দিয়েছে, কিন্তু ভর্তুকি কমিয়ে দাম বাড়িয়েছে। সরকার বীজ দিয়েছে, কিন্তু ডিলারদের মাধ্যমে, আর ডিলাররা দাম বাড়িয়ে নিয়েছে। সরকারের ফ্রি জিনিস আজিজের কাছে কখনো ফ্রি হয়ে আসেনি।

আজিজ বাড়ি ফিরল।

---

সেই রাতে আজিজ শুয়ে আছে। টিনের ছাদের দিকে তাকিয়ে। পাশে স্ত্রী ঘুমাচ্ছে। পাশের ঘরে রফিক ঘুমাচ্ছে।

আজিজ ভাবল, করিম তার বন্ধু। তিরিশ বছরের বন্ধু। করিমের সাথে আজিজের কোনো ঝগড়া নেই, কোনো রাগ নেই। কিন্তু করিমের সাথে আজিজের মধ্যে একটা দেয়াল উঠেছে। সেই দেয়ালটা ইটের না, সিমেন্টের না। সেই দেয়ালটা একটা স্ক্রিন। পাঁচ ইঞ্চির একটা স্ক্রিন। সেই স্ক্রিনের এপাশে করিম, ওপাশে আজিজ। করিম ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছে, আজিজ দেখতে পাচ্ছে না।

আজিজ পাশ ফিরল। ঘুম আসছে না।

বাইরে ঝিঁঝিপোকা ডাকছে। ঝিঁঝিপোকা জোরে ডাকলে গরম বাড়বে। ধীরে ডাকলে ঠান্ডা আসবে। আজিজ শুনল। ঝিঁঝিপোকা ধীরে ডাকছে। আবহাওয়া বদলাবে।

আজিজ এটুকু জানে। এটুকুই তার সম্বল।

বাইরে, উঠানের কোণায়, পিঁপড়ার সারি এখনো চলছে। ওপরের দিকে। ধীরে, নিশ্চিতভাবে, কোনো অ্যাকাউন্ট ছাড়া, কোনো পাসওয়ার্ড ছাড়া।