ফ্যাক্টরির নতুন নিয়ম

স্ক্রিন সব দেখে, স্ক্রিন কিছু ক্ষমা করে না

পর্ব ১৮ · ১০ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-১৮

স্ক্রিন সব দেখে, স্ক্রিন কিছু ক্ষমা করে না

---

ফ্যাক্টরির বিড়ালটা তিন বছর ধরে আসে। কেউ জানে না কোথা থেকে আসে, কোথায় যায়। সকালে গেটের কাছে বসে থাকে, দুপুরে ক্যান্টিনের পেছনে, বিকালে লাইন থ্রির জানালার ধারে। ধূসর রঙ, একটা কান একটু ছেঁড়া, চোখ হলুদ। গত সপ্তাহে কেউ তার গলায় একটা লাল কলার পরিয়ে দিয়েছে। কে পরিয়েছে কেউ জানে না। কেউ জিজ্ঞেসও করেনি। বিড়ালটা কলার নিয়ে ঘুরছে, যেন কিছু হয়নি।

---

নতুন ব্যাজগুলো এলো মঙ্গলবার সকালে। সাদা প্লাস্টিকের কার্ড, একটা ক্লিপ দিয়ে বুকে লাগাতে হয়। কার্ডে নাম, ছবি, আইডি নম্বর। আর ভেতরে একটা চিপ। চিপটা দেখা যায় না, কিন্তু আছে।

রহিমা সুপারভাইজার। তিন বছর হলো। তার কাজ লাইন ম্যানেজ করা, মেয়েদের দেখাশোনা করা, প্রোডাকশন টার্গেট মেটানো। সেদিন সকালে ম্যানেজার সাত্তার সাহেব সবাইকে ডাকলেন।

"এই ব্যাজ সবসময় পরে থাকতে হবে। ফ্যাক্টরিতে ঢোকার সময় স্ক্যান করবে, বের হওয়ার সময় স্ক্যান করবে। বাথরুমে যাওয়ার আগে স্ক্যান করবে, ফেরার সময় স্ক্যান করবে। লাইনে তোমার পজিশনে একটা সেন্সর আছে, সেটা তোমার ব্যাজ পড়ে। তুমি কখন এসেছ, কখন গেছ, কতক্ষণ কাজ করেছ, কতক্ষণ বসে ছিলে, সব রেকর্ড হবে।"

একটা মেয়ে জিজ্ঞেস করল, "কেন?"

সাত্তার সাহেব বললেন, "এফিশিয়েন্সি।"

শব্দটা ইংরেজি। বেশিরভাগ মেয়ে বুঝল না। রহিমা বুঝল। রহিমা তিন বছরে অনেক ইংরেজি শব্দ শিখেছে। এফিশিয়েন্সি মানে কম সময়ে বেশি কাজ। মানে দ্রুত। মানে আরও দ্রুত। মানে থামো না।

---

প্রথম সপ্তাহে কিছু হলো না। ব্যাজ পরে কাজ করল সবাই। স্ক্যান করল। অভ্যাস হলো।

দ্বিতীয় সপ্তাহে সিস্টেম রিপোর্ট আসতে শুরু করল। রহিমার ডেস্কে একটা ছোট মনিটর বসানো হয়েছে। মনিটরে তার লাইনের প্রতিটা মেয়ের নাম, তার পাশে রঙিন বার। সবুজ মানে ভালো। হলুদ মানে গড়পড়তা। লাল মানে সমস্যা।

বেশিরভাগ সবুজ। কিছু হলুদ। একটা লাল।

রোজিনা। বত্রিশ বছর। ছয় বছর ধরে এই ফ্যাক্টরিতে। ভালো কাজ করে। চুপচাপ, মাথা নিচু, হাত চালায়। কোনো ঝামেলা নেই। কিন্তু আজ রোজিনার নামের পাশে লাল।

রহিমা ক্লিক করল। রিপোর্ট খুলল।

"কর্মী: রোজিনা বেগম। আইডি: ৪৪৭২। তারিখ: ১৪/০৩/২০২৬। সতর্কতা: অতিরিক্ত বিরতি। শিফটে বাথরুম ব্রেক: ৪ বার। গড়: ১.৮ বার। বিচ্যুতি: +১২২%। সুপারিশ: কাউন্সেলিং।"

রহিমা মনিটরের দিকে তাকিয়ে রইল।

চারবার বাথরুম। একটা শিফটে। সিস্টেম বলছে এটা সমস্যা। সিস্টেম বলছে গড়ের চেয়ে একশো বাইশ শতাংশ বেশি। সিস্টেম বলছে কাউন্সেলিং করো।

রহিমা রোজিনাকে চেনে। রোজিনা গত তিন দিন ধরে অস্বস্তিতে আছে। বসতে কষ্ট, দাঁড়াতে কষ্ট। মুখ কালো। রহিমা জিজ্ঞেস করেছিল আজ সকালে, "কী হয়েছে?" রোজিনা মুখ নিচু করে বলেছিল, "প্রস্রাবে জ্বালা করে।" রহিমা বুঝেছে। ইউরিনারি ইনফেকশন। এই ফ্যাক্টরিতে মেয়েদের এটা হামেশাই হয়। বাথরুম কম, নোংরা, পানি ঠিকমতো পায় না, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকে। শরীর নষ্ট হয়। এটা ফ্যাক্টরির রোগ।

কিন্তু সিস্টেম এটা জানে না। সিস্টেম জানে: চারবার বাথরুম, গড়ের চেয়ে বেশি, লাল।

---

রহিমা ম্যানেজার সাত্তার সাহেবের কাছে গেল।

"স্যার, রোজিনার ব্যাপারটা..."

"দেখেছি। সিস্টেমে ফ্ল্যাগ হয়েছে।"

"স্যার, তার শারীরিক সমস্যা আছে। ইনফেকশন।"

সাত্তার সাহেব কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে আছেন। রহিমার দিকে তাকালেন না।

"ডাক্তারের কাছে গেছে?"

"না। সে তো ছুটি নিতে ভয় পায়। ছুটি নিলে বেতন কাটে।"

"তাহলে কাউন্সেলিং করো। সিস্টেম বলছে কাউন্সেলিং। ফাইলে রাখো।"

"স্যার, কাউন্সেলিং মানে কী এক্ষেত্রে? মেয়েটার ইনফেকশন আছে। তাকে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।"

সাত্তার সাহেব এবার তাকালেন। "রহিমা, সিস্টেম ফ্ল্যাগ করলে আমাদের অ্যাকশন নিতে হয়। অ্যাকশন না নিলে রিপোর্টে আসে। রিপোর্ট বায়ারের কাছে যায়। বায়ার দেখে আমরা ফ্ল্যাগ ইগনোর করছি। বায়ার খুশি হয় না। বায়ার খুশি না হলে অর্ডার আসে না।"

রহিমা চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।

"কাউন্সেলিং করো," সাত্তার সাহেব বললেন। "ফর্ম ভরো। ফাইলে রাখো। ব্যস।"

---

রহিমা ডেস্কে ফিরে এলো। মনিটরে রোজিনার নাম লাল হয়ে জ্বলছে। রহিমা ফর্ম খুলল। "কাউন্সেলিং রিপোর্ট।" নাম, আইডি, তারিখ, কারণ, পদক্ষেপ, মন্তব্য।

কারণ: অতিরিক্ত বাথরুম ব্রেক।

পদক্ষেপ: কাউন্সেলিং সম্পন্ন।

মন্তব্য:

রহিমা থামল। কী লিখবে? লিখবে "কর্মীর ইউরিনারি ইনফেকশন আছে"? লিখলে সেটা ফাইলে থাকবে। রোজিনার মেডিকেল তথ্য ফ্যাক্টরির ফাইলে। কে দেখবে জানা নেই। লিখবে "কর্মী সমস্যা স্বীকার করেছে, ভবিষ্যতে সচেতন থাকবে"? সেটা মিথ্যা হবে। রোজিনা কোনো সমস্যা করেনি। রোজিনার শরীর অসুস্থ।

রহিমা লিখল: "কর্মীর সাথে আলোচনা হয়েছে।"

এটুকুই। বাকিটা ফাঁকা রাখল। সেভ করল। ফ্ল্যাগ সবুজ হয়ে গেল।

রহিমা চেয়ারে হেলান দিল। ভেতরে একটা ময়লা লেগে গেছে। যেন নিজে নিজেকে ধুয়ে ফেলতে চাইছে, কিন্তু পারছে না। সে জানে, সে সঠিক কাজটা করেনি। সঠিক কাজ ছিল ফ্ল্যাগ ওভাররাইড করা, ম্যানেজমেন্টকে বলা এটা মেডিকেল ইস্যু, রোজিনাকে ছুটি দেওয়া। কিন্তু সেটা করলে রহিমাকে ব্যাখ্যা দিতে হতো। লিখিত ব্যাখ্যা। ব্যাখ্যাটা সিস্টেমে ঢুকত। সিস্টেম থেকে রিপোর্টে যেত। রিপোর্ট বায়ারের কাছে। বায়ারের প্রশ্ন, ম্যানেজমেন্টের প্রশ্ন, তারপর রহিমার ওপর চাপ। রহিমা তিন বছর ধরে সুপারভাইজার। এই তিন বছরে একটাও "ইনসিডেন্ট" নেই তার রেকর্ডে। সেটা তার গর্ব। সেটা তার চাকরির নিরাপত্তা।

রহিমা রোজিনার দিকে তাকাল। রোজিনা কাজ করছে। মাথা নিচু, হাত চালাচ্ছে। মুখ কালো। ব্যথা আছে, কিন্তু কাজ করছে। ফ্যাক্টরির মেয়েরা সবসময় কাজ করে। ব্যথা নিয়ে, জ্বর নিয়ে, পেটে ব্যথা নিয়ে, চোখে পানি নিয়ে।

---

বেলাল লাইন ফোরে কাজ করে। রহিমার লাইন না, পাশের লাইন। কিন্তু ক্যান্টিনে দেখা হয়। বেলাল বাইশ বছর, পীরগঞ্জ থেকে এসেছে। বাবা করিম চাষি। মা হালিমা। বেলালের মুখে বাবার ছায়া, কিন্তু বাবার মতো ধান চাষ করে না, কাপড় সেলাই করে।

বেলাল নতুন সিস্টেমটা দেখছে। দেখছে মানে, বুঝে নিচ্ছে। বেলালের বুদ্ধি আছে। ক্লাস নাইন পর্যন্ত পড়েছিল, তারপর বাবার ঋণের চাপে স্কুল ছাড়তে হলো। কিন্তু বুদ্ধি স্কুলে পড়ে না, বুদ্ধি মাথায় থাকে।

বেলাল দেখেছে: সিস্টেম সব দেখে। কে কখন এসেছে, কে কখন গেছে, কে কতক্ষণ বাথরুমে ছিল, কে কত দ্রুত কাজ করছে। সিস্টেমের চোখ বন্ধ হয় না। সিস্টেম ঘুমায় না। সিস্টেম ভোলে না।

বেলাল তার নিজের নিয়ম তৈরি করেছে। সকালে ঢুকে বের হওয়া পর্যন্ত একবারের বেশি বাথরুমে যায় না। পানি কম খায়, যাতে যেতে না হয়। লাইনে দাঁড়ালে থামে না। হাত চালায়। দ্রুত চালায়। তার হাতে এখন কড়া পড়েছে। আঙুলের ডগায় চামড়া পুরু হয়ে গেছে। বাবার হাতেও এরকম, কিন্তু বাবার হাত মাটি থেকে পুরু হয়েছে, বেলালের হাত কাপড় থেকে।

বেলাল জানে, সবুজ থাকতে হবে। মনিটরে নামের পাশে সবুজ। সবুজ মানে ভালো। সবুজ মানে নিরাপদ। সবুজ মানে চাকরি আছে।

হলুদ হলে কথা হবে। লাল হলে কাউন্সেলিং। কাউন্সেলিং তিনবার হলে "পারফরম্যান্স ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান"। প্ল্যান ফেল করলে ছাঁটাই।

এই নিয়মগুলো কেউ স্পষ্ট করে বলেনি। কিন্তু বেলাল বুঝে গেছে। ফ্যাক্টরিতে অনেক কিছু বলা হয় না, বোঝা হয়।

---

দুপুরে ক্যান্টিনে বেলাল ভাত খাচ্ছে। পাশে ফারুক, একই লাইন। ফারুক বলল, "তুই এত জোরে কাজ করিস ক্যান?"

বেলাল বলল, "করি।"

"সিস্টেমের জন্য?"

বেলাল ভাতে ডাল মেশাল। "সিস্টেম থাকুক না থাকুক, কাজ তো করতেই হবে।"

ফারুক হাসল। "তুই পাগল। আগে তো সিস্টেম ছিল না। আগে তো মানুষ দেখত। মানুষের সাথে কথা বলা যেত। মানুষকে বলা যেত আজ শরীর খারাপ, একটু আস্তে করি। সিস্টেমকে কী বলবি?"

বেলাল কিছু বলল না। ভাত খেল।

ফারুক ঠিকই বলেছে। আগে লাইন সুপারভাইজার দেখত কে কেমন কাজ করছে। সুপারভাইজার মানুষ ছিল। মানুষ বুঝত, আজ ও একটু ক্লান্ত, আজ ওর মেজাজ খারাপ, আজ ওর বাচ্চা অসুস্থ। মানুষ ছাড় দিত। সবসময় না, কিন্তু কখনো কখনো। সিস্টেম ছাড় দেয় না। সিস্টেম সংখ্যা দেখে। সংখ্যায় ক্লান্তি নেই, মেজাজ নেই, অসুস্থ বাচ্চা নেই।

বেলাল প্লেট ধুয়ে উঠে দাঁড়াল। লাইনে ফিরে গেল। হাত চালাতে শুরু করল। দ্রুত।

---

বিকালে রহিমা আবার মনিটরের দিকে তাকাল। সব সবুজ। রোজিনাও সবুজ। রোজিনা বাথরুমে গেছে একবার, পুরো শিফটে। রহিমা জানে, রোজিনা পানি খায়নি সারাদিন। পানি খেলে বাথরুমে যেতে হবে। বাথরুমে গেলে ফ্ল্যাগ হবে। তাই পানি খাচ্ছে না। ইনফেকশন পানি না খেলে আরও খারাপ হবে। রহিমা এটা জানে। রোজিনাও জানে। কিন্তু দুইজনের কেউই কিছু বলছে না।

সিস্টেম বলছে সব ঠিক আছে। সবুজ।

রহিমা মনিটর বন্ধ করল। মিতুর কথা মনে পড়ল। মিতু তার মেয়ে। ল্যাপটপ নিয়ে পড়ে। কোডিং শিখছে। মিতু একদিন বলেছিল, "আম্মা, AI মানুষের চেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নেয়।" রহিমা সেদিন কিছু বলেনি। আজ বলতে চায়: ভালো সিদ্ধান্ত কার জন্য?

কিন্তু মিতু এখানে নেই। মিতু গাজীপুরের টিনের ঘরে, ল্যাপটপ নিয়ে। রহিমা ফ্যাক্টরিতে, মনিটর নিয়ে। দুইজনের স্ক্রিন আলাদা। দুইজনের পৃথিবী আলাদা।

---

সন্ধ্যায় শিফট শেষ। মেয়েরা বের হচ্ছে। গেটে ব্যাজ স্ক্যান করে বের হতে হয়। একটা একটা করে স্ক্যান হচ্ছে। বিপ। বিপ। বিপ। যেন মেয়েগুলো মানুষ না, জিনিস। জিনিস ঢোকে, স্ক্যান হয়। জিনিস বের হয়, স্ক্যান হয়।

বেলাল গেটে দাঁড়িয়ে ব্যাজ স্ক্যান করল। বিপ। বের হলো। বাইরে সন্ধ্যার আকাশ। গাজীপুরের আকাশ ধূসর, ফ্যাক্টরির ধোঁয়া আর ধুলোয় তারা দেখা যায় না। বাবা বলেছিল, "পীরগঞ্জের আকাশে তারা দেখা যায়।" বেলাল তারা দেখে না। বেলাল দেখে রাস্তার আলো, রিকশার আলো, ফোনের আলো।

বেলাল হাতের দিকে তাকাল। কড়া পড়ে গেছে। আঙুলের চামড়া পুরু। বাবার হাতেও এরকম। কিন্তু বাবা মাটি চেনে হাত দিয়ে। বেলাল কাপড় চেনে। বাবার হাত মাটির ভাষা বোঝে। বেলালের হাত সেলাই মেশিনের গতি বোঝে। দুইজনের হাতের গল্প আলাদা, কিন্তু হাতের কড়া একই রকম।

বেলাল ক্যাম্পের দিকে হাঁটতে শুরু করল। পকেটে বাবার দেওয়া পুরোনো বোতামের ফোন। বাবাকে কল করবে আজ।

---

রাতে রহিমা ঘরে ফিরেছে। মিতু পড়ছে। রহিমা রান্নাঘরে ভাত বসাল। চুলার আগুনের দিকে তাকিয়ে রইল।

রোজিনার কথা ভাবল। কাল রোজিনা আবার আসবে। আবার কাজ করবে। ইনফেকশন নিয়ে। পানি না খেয়ে। বাথরুমে না গিয়ে। সবুজ থাকার জন্য।

রহিমা নিজেকে প্রশ্ন করল: তুমি কি ভালো সুপারভাইজার?

উত্তর জানে। সিস্টেমের হিসাবে, হ্যাঁ। তার লাইনে প্রোডাকশন টার্গেট মিট করে। ফ্ল্যাগ কম। ইনসিডেন্ট নেই। সবকিছু সবুজ।

কিন্তু রহিমা জানে, সবুজের নিচে একটা ক্ষত আছে। সেই ক্ষতটা রোজিনার শরীরে, আর রহিমার মনে।

মিতু রান্নাঘরে এলো। "আম্মা, খাবার কখন হবে?"

"একটু পরে।"

মিতু চলে গেল। রহিমা ভাতের হাঁড়ির দিকে তাকাল। ভাত ফুটছে। বুদবুদ উঠছে। ঢাকনা একটু কাঁপছে।

রহিমা ভাবল, কাল সকালে ফ্যাক্টরিতে গিয়ে রোজিনাকে বলবে ডাক্তারের কাছে যেতে। নিজের পকেট থেকে দুইশো টাকা দেবে। ওষুধের জন্য। সিস্টেমে এটা লেখা থাকবে না। কোনো ফর্মে থাকবে না। কোনো রিপোর্টে যাবে না। এটা দুইজন মানুষের মধ্যে। স্ক্রিনের বাইরে।

সেটুকুই রহিমা করতে পারে। এর বেশি কিছু করার সাধ্য তার নেই।

---

ফ্যাক্টরির গেটে, রাতের অন্ধকারে, বিড়ালটা বসে আছে। লাল কলার গলায়। চোখ হলুদ, জ্বলজ্বল করছে। ভেতরে সব লাইন বন্ধ, সব মেশিন বন্ধ, সব মনিটর বন্ধ। শুধু সিস্টেমের সার্ভার চালু, সবুজ আলো জ্বলছে, ডেটা জমা হচ্ছে, জমা হচ্ছে, জমা হচ্ছে।

বিড়ালটার কোনো ব্যাজ নেই। কোনো আইডি নেই। কোনো ফ্ল্যাগ নেই। বিড়ালটা তিন বছর ধরে আসছে, তিন বছর ধরে যাচ্ছে। সিস্টেম তাকে দেখে না। সিস্টেমের কাছে বিড়ালটার কোনো অস্তিত্ব নেই।

বিড়ালটা উঠল। হাই তুলল। ধীরে ধীরে অন্ধকারে হেঁটে চলে গেল।