দুই বাংলাদেশ

একটি দিন, দুটি দেশ

পর্ব ২০ · ৯ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-১৮

--- title: "দুই বাংলাদেশ" subtitle: "একটি দিন, দুটি দেশ" series: "কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বাংলাদেশ" chapter: 2 chapter_title: "প্রথম আলো" part: 20 date: "2026-03-18" ---

সকাল সাতটা।

তানিয়ার বনানীর অফিসে আলো ঢুকছে। কাচের দেয়াল, সাদা ডেস্ক, স্ট্যান্ডিং ডেস্কের উপর দুটো মনিটর। শিহাব ইতিমধ্যে এসে গেছে, কোল্ড ব্রু কফি হাতে, হেডফোন কানে। অফিসে ওয়াইফাই স্পিড তিনশো এমবিপিএস। দেয়ালে একটা হোয়াইটবোর্ড, তাতে লেখা: "ডেমো: বৃহস্পতিবার ১১টা।" আজ বৃহস্পতিবার।

সকাল সাতটা।

করিমের রংপুরে বিদ্যুৎ নেই। লোডশেডিং শুরু হয়েছে ভোর ছয়টায়। কখন আসবে কেউ জানে না। করিম উঠোনে বসে চা খাচ্ছে। চুলায় কাঠ জ্বলছে, গ্যাস নেই। তার ফোনে চার্জ আছে বারো পার্সেন্ট। সে ফোন খুললো, যে অ্যাপটা তাকে ধানের পোকামাকড় চেনাতো সেটা খুলতে গেলো। স্ক্রিনে ঘুরছে। ঘুরছে। কানেক্ট হচ্ছে না। করিম ফোন বন্ধ করে পকেটে রাখলো। চার্জ বাঁচাতে হবে। সন্ধ্যায় মিসড কল দিতে হবে মেয়েকে।

সকাল আটটা।

তানিয়ার অফিসে ইন্টার্ন এসেছে। মেয়েটার নাম তাসনিম, নর্থ সাউথ থেকে সিএসই করছে। সে ল্যাপটপ খুলে বসলো, ডেমোর স্লাইড চেক করছে। স্লাইডে লেখা: "বাংলা ভাষায় প্রথম সেন্টিমেন্ট অ্যানালাইসিস ইঞ্জিন।" তাসনিম কোল্ড ব্রু নেই বলে ব্ল্যাক কফি বানালো। অফিসের কিচেনে একটা এসপ্রেসো মেশিন আছে। তানিয়ার ফান্ডিং রাউন্ড থেকে কেনা।

কিচেনের কাউন্টারে একটা সিঙারা পড়ে আছে। অর্ধেক খাওয়া। কে রেখেছে কেউ জানে না। তিন দিন হয়ে গেছে। কেউ দাবি করে না। কেউ ফেলেও দেয় না। সিঙারাটা শুকিয়ে গেছে, কিনারা ফাটা, ভেতরের আলু দেখা যাচ্ছে।

সকাল আটটা।

করিমের পাম্প ভাঙা। টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে তার ছেলে সুমন গেছে। সুমনের বয়স তেরো। সে একটা হলুদ জেরিক্যান বহন করে হেঁটে যাচ্ছে কাদার রাস্তা দিয়ে। টিউবওয়েল পাঁচশো গজ দূরে। সুমন মেশিন লার্নিং কথাটা কোনোদিন শোনেনি। সে শুনেছে মেশিনে ধান ভাঙা। সে শুনেছে মেশিনে সেলাই। মেশিন মানে সে বোঝে লোহার জিনিস যেটা চলে। লার্নিং মানে সে বোঝে পড়াশোনা। দুটো একসাথে কী হয় সে জানে না।

সকাল এগারোটা।

তানিয়ার অফিসে ক্লায়েন্ট এসেছে। একটা বাংলাদেশি ই-কমার্স কোম্পানির প্রোডাক্ট ম্যানেজার। তানিয়া ডেমো দিচ্ছে। স্ক্রিনে বাংলা বাক্য যাচ্ছে, পাশে রিয়েল-টাইমে সেন্টিমেন্ট দেখাচ্ছে। সবুজ মানে ইতিবাচক। লাল মানে নেতিবাচক। হলুদ মানে নিরপেক্ষ। ক্লায়েন্ট মুগ্ধ। "এটা আমাদের কাস্টমার রিভিউ অ্যানালাইসিসে লাগবে," বললো সে। তানিয়া হাসলো। শিহাব প্রাইসিং স্লাইড দেখালো।

দুপুর বারোটা।

মিতু গুলশানের একটা বিল্ডিংয়ের ছয় তলায় বুটক্যাম্পে বসে আছে। এসি চলছে। হোয়াইটবোর্ডে ইনস্ট্রাক্টর লিখছে: "লিনিয়ার রিগ্রেশন।" মিতু খাতায় নোট নিচ্ছে। তার পাশে ল্যাপটপ, ধার করা, তার বুটক্যাম্পের সিনিয়রের কাছ থেকে। স্ক্রিনে জুপিটার নোটবুক খোলা। মিতু কোড লিখছে। ভুল হচ্ছে। আবার লিখছে। ইনস্ট্রাক্টর বললো, "মিতু, তোমার ভ্যারিয়েবলের নামটা ভুল।" মিতু ঠিক করলো।

দুপুর বারোটা।

সুমন টিউবওয়েল থেকে পানি ভরে ফিরছে। জেরিক্যান ভারী। সে একবার থামলো, জেরিক্যান মাটিতে নামালো, হাত ঝাড়লো। রোদ তীব্র। সে আকাশের দিকে তাকালো। একটা শকুন উড়ছে। সুমন আবার জেরিক্যান তুললো। হাঁটতে লাগলো।

বিকেল তিনটা।

তানিয়ার ডেমো সফল। ক্লায়েন্ট চলে গেছে। তানিয়া, শিহাব আর তাসনিম অফিসে বসে বিরিয়ানি খাচ্ছে, পাঠাও দিয়ে অর্ডার করা। তানিয়া বললো, "পরের মাসে আরো তিনটা ডেমো আছে।" শিহাব বললো, "মডেলের অ্যাকিউরেসি আর তিন পার্সেন্ট বাড়াতে হবে।" তাসনিম বললো, "আমি ডেটা ক্লিনিং করবো।"

বিকেল তিনটা।

হাওরে সেলিনা একটা বাচ্চাকে দেখছে। বাচ্চার বয়স আড়াই বছর। জ্বর তিন দিন। মা নিয়ে এসেছে হেঁটে, দুই ঘণ্টার পথ। সেলিনা ট্যাবলেটে লক্ষণ দিলো। ট্যাবলেট বললো: সম্ভাব্য ডেঙ্গু, রেফার করুন। সেলিনা মাকে বললো, "উপজেলা হাসপাতালে যেতে হবে।" মা বললো, "কীভাবে যাবো? নৌকা ছাড়া পথ নেই।" সেলিনা তার ফোন থেকে উপজেলা হাসপাতালে কল দিলো। অ্যাম্বুলেন্স বোট পাওয়া গেলো।

বিকেল তিনটা।

অন্য একটা উপজেলায়, অন্য একটা হাওরে, অন্য একজন স্বাস্থ্যকর্মী। তার নাম ফারজানা। তার কোনো ট্যাবলেট নেই। প্রোগ্রামে তার উপজেলা পড়েনি। ফারজানার সামনে একটা বাচ্চা। বয়স তিন বছর। জ্বর চার দিন। একই রকম লক্ষণ। ফারজানা ভাবছে ম্যালেরিয়া হতে পারে। প্যারাসিটামল দিলো। বললো, "জ্বর না কমলে উপজেলায় নিয়ে যাবেন।" মা মাথা নাড়লো। উপজেলা হাসপাতাল তিন ঘণ্টার পথ। নৌকা ভাড়া দুশো টাকা। মা বাচ্চাকে কোলে নিয়ে হেঁটে ফিরে গেলো।

সন্ধ্যা ছয়টা।

মিতু বুটক্যাম্প থেকে বের হলো। গুলশান দুই-এর ফুটওভারব্রিজে দাঁড়িয়ে গাড়ি দেখছে। তার মাথায় লিনিয়ার রিগ্রেশন, গ্র্যাডিয়েন্ট ডিসেন্ট, কস্ট ফাংশন ঘুরছে। সে বাসে উঠলো। গাজীপুর যাবে। বাসে বসে ল্যাপটপ খুলে কোড পড়তে লাগলো।

সন্ধ্যা ছয়টা।

আজিজের রংপুরে বিদ্যুৎ এলো। সারাদিন ছিলো না। আজিজের ছেলে সুমন বাড়ি ফিরেছে। সারাদিন পানি আনা, গরুকে খাওয়ানো, ক্ষেতে যাওয়া। সন্ধ্যায় সে বই খুলে বসবে। ক্লাস সেভেনের বই। অঙ্ক। সে ক্যালকুলেটর কোনোদিন ধরেনি। আঙুলে গুনে।

রাত আটটা।

দোহায় জাহিদ বসে আছে শ্রমিক ক্যাম্পের বাংকে। ফোনে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখছে। একটায় লেখা: "কনস্ট্রাকশন সুপারভাইজার। আবশ্যক: AI টুল ব্যবহারের অভিজ্ঞতা।" আরেকটায়: "সাইট ইঞ্জিনিয়ার। BIM ও AI-ভিত্তিক প্ল্যানিং সফটওয়্যারে দক্ষতা।" জাহিদ স্ক্রল করতে লাগলো। আরেকটা। আরেকটা। সব জায়গায় AI। সে ফোন রেখে দিলো। সিলিংয়ের দিকে তাকালো। ফ্যান ঘুরছে। গরম বাতাস নড়ছে।

রাত আটটা।

নেত্রকোনায় রশিদা বসে আছে ঘরে। বিদ্যুৎ নেই। লোডশেডিং। একটা মোমবাতি জ্বলছে। মোমবাতির আলোয় তার মুখের একপাশ দেখা যাচ্ছে, অন্যপাশ অন্ধকার। তার ফোন বন্ধ। চার্জ শেষ। সকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই, চার্জ দিতে পারেনি। জাহিদ আজ ফোন করবে বলেছিলো। কিন্তু ফোন বন্ধ। রশিদা মোমবাতির আলোয় বসে আছে। কিছু করার নেই। শুধু বসে আছে।

রাত নয়টা।

তানিয়া বাসায় ফিরেছে। ল্যাপটপ খুলে ক্লায়েন্টকে ফলো-আপ ইমেইল লিখছে। "আজকের ডেমোতে আপনাদের আগ্রহের জন্য ধন্যবাদ। আমাদের প্রাইসিং এবং কাস্টম ইন্টিগ্রেশন সম্পর্কে বিস্তারিত অ্যাটাচ করছি।" পাশে চায়ের কাপ। জানালা দিয়ে বনানীর আলো দেখা যাচ্ছে। রাস্তায় গাড়ি যাচ্ছে।

রাত নয়টা।

করিম খাটে বসে আছে। বিদ্যুৎ এসেছে আধঘণ্টা আগে। ফোন চার্জে দিয়েছে। চার্জ হচ্ছে। টিভি চলছে, বাংলা সিরিয়াল। করিমের স্ত্রী দেখছে। করিম দেখছে না। সে ভাবছে কাল ধানক্ষেতে কীটনাশক দিতে হবে। কোন কীটনাশক, কতটুকু, সে আন্দাজে ঠিক করবে। আগে অ্যাপটা বলে দিতো। এখন অ্যাপটা কানেক্ট হয় না।

রাত দশটা।

গাজীপুরে যোসনা ফোন খুললো। আজকের ব্যাচ। আটশো বাক্য।

দোহায় জাহিদ আবার ফোন তুললো। আরেকটা জব সাইট। আরেকটা বিজ্ঞাপন। "ওয়্যারহাউস ম্যানেজার। AI ইনভেন্টরি সিস্টেম পরিচালনা।" জাহিদ ফোন রেখে দিলো। আবার তুললো। আবার রাখলো।

রাত দশটা।

নেত্রকোনায় রশিদার ঘরে মোমবাতি শেষ হয়ে গেছে। সে অন্ধকারে বসে আছে। ফোন বন্ধ। বিদ্যুৎ নেই। চারপাশে শুধু ঝিঁঝিপোকা ডাকছে। রশিদা বিছানায় শুয়ে পড়লো। কাল সকালে বিদ্যুৎ আসবে। তখন ফোন চার্জ দেবে। তখন জাহিদের মিসড কল দেখবে। তখন ফোন করবে। তখন।

রাত এগারোটা।

সেলিনার হাওরে ট্যাবলেটের স্ক্রিনে সবুজ আলো। বাচ্চাটা উপজেলা হাসপাতালে পৌঁছেছে। ডেঙ্গু পজিটিভ। চিকিৎসা শুরু হয়েছে। সেলিনা ট্যাবলেটে আপডেট দেখলো। বাচ্চা স্থিতিশীল। সে একটু হাসলো। তারপর ট্যাবলেট বন্ধ করে ঘুমাতে গেলো।

রাত এগারোটা।

অন্য হাওরে ফারজানা ঘুমাচ্ছে। সে জানে না বাচ্চাটার কী হলো। সে প্যারাসিটামল দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিলো। মা বাচ্চাকে নিয়ে ঘরে ফিরে গেছিলো। জ্বর কমেনি। রাতে বাচ্চার শরীরে র‍্যাশ উঠলো। মা ভাবলো অ্যালার্জি। পানি দিয়ে মুছে দিলো। বাচ্চা কাঁদছে। মা কোলে নিয়ে দুলিয়ে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করছে।

মধ্যরাত।

তানিয়ার বনানীর ফ্ল্যাটে সব লাইট বন্ধ। তানিয়া ঘুমাচ্ছে। কাল আরেকটা ডেমো প্রস্তুত করবে। মডেলের অ্যাকিউরেসি আর একটু বাড়াতে হবে। আরো ডেটা লাগবে।

মধ্যরাত।

গাজীপুরে যোসনা চারশো বাক্য শেষ করেছে। আরো চারশো বাকি। তার চোখ জ্বলছে। পাশের ঘরে মা ঘুমাচ্ছে। একটা দিয়াশলাইয়ের বাক্সে রঙিন সুতা জমা হচ্ছে।

মধ্যরাত।

রংপুরে করিমের বিদ্যুৎ আবার গেছে। অন্ধকার। ফোনের চার্জ বিয়াল্লিশ পার্সেন্ট। আগামীকাল ধানক্ষেতে কীটনাশক দিতে হবে। কোনটা দেবে, কতটুকু দেবে, সে জানে না। আগে অ্যাপ বলতো। এখন অন্ধকার।

মধ্যরাত।

দোহায় জাহিদ বাংকে শুয়ে আছে। পাশের বাংকে একটা ছেলে নাক ডাকছে। জাহিদ সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। রশিদার ফোন বন্ধ ছিলো। কাল আবার চেষ্টা করবে। বিজ্ঞাপনগুলোর কথা ভাবছে। AI। সবখানে AI। জাহিদ ইট বহন করতে পারে, সিমেন্ট মেশাতে পারে, রড বাঁধতে পারে। AI সে পারে না।

মধ্যরাত।

নেত্রকোনায় রশিদা ঘুমাচ্ছে। তার ফোন বন্ধ। তার ঘরে কোনো আলো নেই। তার জানালায় কোনো পর্দা নেই। বাইরে চাঁদ উঠেছে, কিন্তু আজ অমাবস্যা, তাই চাঁদ নেই। শুধু তারা। রশিদা তারা দেখছে না, সে ঘুমাচ্ছে। কিন্তু তারা আছে।

ভোর পাঁচটা।

গাজীপুরে ফ্যাক্টরির সাইরেন বাজলো। যোসনা এইমাত্র ঘুমিয়েছে। রংপুরে করিম উঠে গেছে, অন্ধকারে চা বানাচ্ছে। নেত্রকোনায় রশিদা উঠলো, বিদ্যুৎ এসেছে, ফোন চার্জে দিলো। দোহায় জাহিদের অ্যালার্ম বাজলো, আরেকটা দিন, আরেকটা সাইট। হাওরে সেলিনা উঠে ট্যাবলেট খুললো, বাচ্চার আপডেট দেখলো, ভালো হচ্ছে। অন্য হাওরে ফারজানা উঠে মাঠে গেলো, সে জানে না বাচ্চাটা রাতে কতটা কেঁদেছে।

বনানীতে তানিয়া ঘুমাচ্ছে। তার জেগে ওঠার তাড়া নেই। তার অফিসে এসপ্রেসো মেশিন আছে, স্ট্যান্ডিং ডেস্ক আছে, তিনশো এমবিপিএস ওয়াইফাই আছে। আর কাউন্টারে সেই সিঙারাটা আছে, শুকনো, অর্ধেক খাওয়া, তিন দিনের পুরনো, যেটা কেউ ফেলে না, কেউ খায় না, কেউ দাবি করে না। সেটা শুধু আছে।

গুলশানে মিতু বুটক্যাম্পের জন্য তৈরি হচ্ছে। আজ নিউরাল নেটওয়ার্ক। আজিজের রংপুরে সুমন স্কুলে যাচ্ছে, পিঠে ব্যাগ, পায়ে স্যান্ডেল। সুমন নিউরাল নেটওয়ার্ক কী জানে না। সুমন জানে নিউরন মানে স্নায়ু। ক্লাসে পড়েছে। নেটওয়ার্ক মানে জাল। স্নায়ুর জাল? সুমন ভাবে না এসব। সুমন ভাবছে আজ টিফিনে কী খাবে।

দুটো বাংলাদেশ।

একটায় আলো জ্বলছে, স্ক্রিন জ্বলছে, কোড চলছে, ডেমো হচ্ছে, কফি তৈরি হচ্ছে, ফান্ডিং আসছে, মডেল শিখছে, ক্লায়েন্ট হাসছে।

আরেকটায় বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই, ইন্টারনেট নেই, চার্জ নেই, ট্যাবলেট নেই, মোমবাতি শেষ, ফোন বন্ধ, অ্যাপ কানেক্ট হয় না, অ্যাম্বুলেন্স নেই, পথ নেই।

দুটো দেশ। একটা নাম।

রশিদা ফোন চার্জ হওয়ার জন্য বসে আছে। পনেরো মিনিট হলে জাহিদকে কল করবে। জাহিদ এখন সাইটে যাচ্ছে। সে কল রিসিভ করতে পারবে না। রশিদা আবার অপেক্ষা করবে। সন্ধ্যায় আবার চেষ্টা করবে। সন্ধ্যায় হয়তো বিদ্যুৎ থাকবে। হয়তো