করিমের অ্যাপ এখন ইংরেজি বলে
--- title: "করিমের অ্যাপ এখন ইংরেজি বলে" subtitle: "তালা দেওয়া জ্ঞান কার কাজে আসে?" series: "কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বাংলাদেশ" chapter: 3 chapter_title: "ফাটল" part: 23 date: "2026-03-18" ---
অ্যাপটা আপডেট হলো মঙ্গলবার রাতে।
করিম জানতো না। সে ঘুমাচ্ছিলো। রংপুরে তখন বিদ্যুৎ ছিলো, ফোন চার্জে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলো। রাত তিনটায় ফোনটা নিজে থেকে অ্যাপ আপডেট করে নিলো। করিমের ফোনে অটো-আপডেট অন ছিলো। সুমন একবার অন করে দিয়েছিলো, বলেছিলো এটা অন রাখলে ভালো। করিম জিজ্ঞেস করেছিলো কেন। সুমন বলেছিলো, "এমনি।"
সকালে করিম ফোন খুললো। চায়ের কাপ হাতে, উঠোনে বসে। পাশের বাড়ির ছাগলটা আবার বেড়ার কাছে এসে দাঁড়িয়ে আছে। ছাগলটার নাম নেই। পাশের বাড়ির রহমান চাচা ছাগলটার নাম রাখেনি কারণ তার মতে ছাগলের নাম রাখা বোকামি। কিন্তু করিম মনে মনে ছাগলটাকে "ওস্তাদ" বলে ডাকে। কারণ ছাগলটা প্রতিদিন করিমের বাঁশের বেড়ার একটু একটু করে খায়। করিম বেড়া ঠিক করে, ছাগল আবার খায়। করিম আবার ঠিক করে, ছাগল আবার খায়। এই যুদ্ধে ছাগল প্রতিবার জেতে। করিম হেরে গেছে এটা স্বীকার করে না, কিন্তু গত সপ্তাহে সে বেড়ায় টিনের টুকরো লাগিয়েছিলো। ছাগল টিনের টুকরো এড়িয়ে পাশ দিয়ে মুখ ঢুকিয়ে বাঁশ ধরেছিলো। করিম দেখে শুধু মাথা নেড়েছিলো।
আজ সকালে ছাগল বেড়ার কাছে দাঁড়িয়ে করিমের দিকে তাকাচ্ছে। করিম চা খাচ্ছে। ছাগল চাইছে বেড়া। দুজনেই জানে কে জিতবে।
করিম ফোনে অ্যাপটা খুললো। সবুজ আইকন, পাতার ছবি। "ফসলবন্ধু।" এই নাম ছিলো। এই নামে সে চিনতো। গত এক বছর এই অ্যাপ তাকে বলেছে কখন কীটনাশক দিতে হবে, কোন পোকা ধানের কোন রোগ আনে, মাটিতে কী সার দিলে ভালো হবে। অ্যাপটা বাংলায় কথা বলতো। সত্যিকারের বাংলায়। "আপনার ধানে মাজরা পোকার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।" কণ্ঠটা একটু মোটা ছিলো, একটু ধীর, যেন কেউ বুঝিয়ে বলছে। গ্রামের মানুষের মতো। করিম একবার হালিমাকে বলেছিলো, "অ্যাপটা আমার চাচার মতো কথা বলে।" হালিমা হেসেছিলো।
আজ সকালে অ্যাপ খুলতেই স্ক্রিনটা বদলে গেলো।
রঙ বদলেছে। সবুজের বদলে নীল আর সাদা। ওপরে একটা নতুন লোগো। ইংরেজি হরফে লেখা। করিম ইংরেজি পড়তে পারে না। সে চিনতে পারলো শুধু একটা শব্দ, কারণ সেটা অনেক বড় করে লেখা আর নিচে ছোট করে বাংলায় লেখা আছে: "অ্যাগ্রোসেন্স।" নামটা বদলে গেছে। ফসলবন্ধু এখন অ্যাগ্রোসেন্স।
করিম মেনু খুললো। আগে মেনুতে পাঁচটা জিনিস ছিলো: "আবহাওয়া," "পোকামাকড়," "মাটি পরীক্ষা," "সার পরামর্শ," "ফসল পঞ্জিকা।" সবকটা বাংলায়। পরিষ্কার। বড় বড় অক্ষরে।
এখন মেনুতে আটটা জিনিস। প্রথম দুটো বাংলায়। বাকি ছয়টায় ইংরেজি মেশানো। "Soil Analysis," "Pest Prediction," "Crop Calendar Pro," "Market Prices," "Weather+" "Satellite View।" করিম এগুলো পড়তে পারে না। সে চেনে শুধু অক্ষরের আকৃতি। বাংলা হরফ সে চেনে। ইংরেজি হরফ সে দেখেছে, কিন্তু অর্থ জানে না।
সে "আবহাওয়া" চাপলো। কাজ করলো। আগামীকাল বৃষ্টি হতে পারে। তাপমাত্রা বত্রিশ ডিগ্রি। এটুকু দেখা গেলো।
সে "পোকামাকড়" চাপলো। স্ক্রিন ঘুরলো। তারপর একটা নতুন পাতা এলো। সেখানে একটা তালার ছবি। হলুদ রঙের তালা। তালার নিচে লেখা, বাংলায়: "এই ফিচারটি এখন প্রিমিয়াম। আনলক করতে সাবস্ক্রাইব করুন।"
করিম তাকিয়ে রইলো।
সে "মাটি পরীক্ষা" চাপলো। একই তালা।
"সার পরামর্শ"। তালা।
"ফসল পঞ্জিকা।" এটা এখন "Crop Calendar Pro" হয়ে গেছে, কিন্তু করিম সেটা চাপতে পারলো না কারণ সেটা কোথায় সেটাই খুঁজে পেলো না।
করিম ফিরে এলো প্রথম পাতায়। সেখানে নিচে ছোট করে লেখা: "ফসলবন্ধু এখন অ্যাগ্রোসেন্সের অংশ। বিনামূল্যে আবহাওয়া তথ্য দেখুন। সম্পূর্ণ সেবা পেতে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন নিন। মাসিক ৫০০ টাকা।"
পাঁচশো টাকা।
করিম হিসেব করলো। পাঁচশো টাকায় সে বাজার থেকে দশ কেজি চাল আনতে পারে। পাঁচশো টাকায় সুমনের স্কুলের খাতা-কলম একমাসের জন্য কেনা যায়। পাঁচশো টাকা মানে দুইদিনের মজুরি।
সে আবার তালার ছবিটার দিকে তাকালো। হলুদ তালা। গোল। ভেতরে একটা চাবির ছবি। চাবিটা ঘোরানো নেই।
সে ভয়েস বাটন চাপলো। আগে ভয়েসে জিজ্ঞেস করলে অ্যাপ বাংলায় উত্তর দিতো। সেই মোটা, ধীর কণ্ঠে। করিম বললো, "আমার ধানে পোকা লাগছে, কী করবো?"
অ্যাপ উত্তর দিলো। বাংলায়। কিন্তু কণ্ঠ বদলে গেছে। এখন কণ্ঠটা পাতলা, দ্রুত, স্পষ্ট। যেন কেউ টিভিতে সংবাদ পড়ছে। "আপনার প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন প্রয়োজন। সাবস্ক্রাইব করতে চান?"
করিম বললো, "না।"
অ্যাপ বললো, "আপনি বিনামূল্যে আবহাওয়া তথ্য দেখতে পারেন। আর কিছু জানতে চান?"
করিম ফোন রেখে দিলো।
চা ঠান্ডা হয়ে গেছে।
হালিমা ঘর থেকে বের হলো। হাতে কাপড় ধোয়ার বালতি। সে উঠোনের কোনায় গিয়ে কাপড় ধুতে বসলো। করিম চুপ করে বসে আছে দেখে বললো, "কী হলো?"
করিম বললো, "অ্যাপটা বদলে গেছে।"
"কোন অ্যাপ?"
"ফসলবন্ধু। যেটায় পোকামাকড়ের কথা বলতো।"
হালিমা কাপড় ভেজাতে ভেজাতে বললো, "কী হয়েছে?"
"এখন টাকা চায়। পাঁচশো টাকা। মাসে মাসে।"
হালিমা থামলো। "পাঁচশো টাকা? অ্যাপের জন্য?"
"হ্যাঁ।"
"আগে তো ফ্রি ছিলো।"
"আগে ফসলবন্ধু ছিলো। এখন অ্যাগ্রোসেন্স হয়ে গেছে। কেউ কিনে নিয়েছে। বিদেশি কোম্পানি।"
হালিমা কাপড়ে সাবান মাখাতে লাগলো। চুপ।
করিম বললো, "আর ইংরেজি হয়ে গেছে। অর্ধেক লেখা বুঝি না। ভয়েসটাও বদলে গেছে। আগে যেরকম কথা বলতো সেরকম আর না। এখন অন্যরকম বলে। পরিষ্কার বলে, কিন্তু চিনি না।"
হালিমা বললো, "তুমি তো আগে ছাড়াই চাষ করতে।"
"করতাম।"
"তখন তো পোকা-মাকড় নিজেই চিনতে।"
করিম ভাবলো। সত্যি। সে আগে নিজেই চিনতো। বাবার কাছ থেকে শিখেছিলো। মাজরা পোকা চেনে। পাতা মোড়ানো পোকা চেনে। গলমাছি চেনে। কিন্তু গত একবছরে সে অ্যাপের উপর ভরসা করতে শিখে গেছে। অ্যাপ বলে দিতো কোন পোকা, কোন সময়ে, কোন কীটনাশক, কতটুকু। করিম অভ্যস্ত হয়ে গেছিলো। নিজে ভাবতো কম। অ্যাপ ভাবতো বেশি।
এখন অ্যাপ তালা দিয়ে দিয়েছে।
করিম উঠে দাঁড়ালো। ফোন পকেটে রাখলো। বললো, "ক্ষেতে যাই।"
হালিমা বললো, "চা আরেক কাপ খেয়ে যাও।"
"না, যাই।"
করিম বেরিয়ে গেলো। মাটির পথ ধরে হাঁটতে লাগলো। দুপাশে ধানক্ষেত। কিছু জমি তার, বেশিরভাগ অন্যের, সে বর্গা চাষ করে। এই পথে সে প্রতিদিন হাঁটে। রোদ উঠছে। বাতাসে ধানের গন্ধ। ক্ষেতে ঢুকলো।
ধান বেড়ে উঠেছে। কোমর সমান। সবুজ। করিম একটা গাছ ধরে দেখলো। পাতার কিনারা একটু বাদামি হয়ে আসছে। পোকা নাকি পানির সমস্যা? আগে হলে সে ফোন বের করতো, ছবি তুলতো, অ্যাপে দিতো, অ্যাপ বলতো। এখন ফোন বের করে লাভ নেই। অ্যাপ বলবে: "সাবস্ক্রাইব করুন।"
করিম পাতাটা নিজে দেখলো। উল্টো করে ধরলো। পাতার নিচে কিছু দেখা যাচ্ছে কিনা খুঁজলো। ছোট ছোট বাদামি দাগ। সে ভাবলো। বাবা কী বলতো? বাবা বলতো বাদামি দাগ মানে ব্লাস্ট হতে পারে, ফাঙ্গাস। নাকি শুধু রোদে পুড়ে গেছে? করিম নিশ্চিত হতে পারলো না।
সে আরো কয়েকটা গাছ দেখলো। কিছু কিছু পাতায় একই দাগ। কিছু পাতা পরিষ্কার।
পাশের জমিতে আজিজ কাজ করছে। আজিজের কাছে অ্যাপ নেই। কখনো ছিলো না। আজিজ পুরনো পদ্ধতিতে চাষ করে। বাবার বাবার শেখানো। করিম আজিজকে ডাকলো।
"আজিজ ভাই, একটু দেখেন।"
আজিজ এলো। পাতাটা ধরলো, দেখলো, চোখ কুঁচকে তাকালো।
"এইটা রোদের জন্য। পোকা না।"
"নিশ্চিত?"
"নিশ্চিত না। কিন্তু মনে হচ্ছে। দু-তিনদিন দেখো। ছড়ালে অন্যকথা।"
করিম মাথা নাড়লো। দু-তিনদিন। দেখবো। অ্যাপ থাকলে এখনই জানতো। অ্যাপ ছবি থেকে বলে দিতো কী রোগ, কত পার্সেন্ট সম্ভাবনা, কী করতে হবে। কিন্তু অ্যাপে তালা।
বিকেলে বাড়ি ফিরে করিম আবার ফোন খুললো। ভাবলো হয়তো অন্য কোনো অ্যাপ আছে। প্লে স্টোরে গিয়ে "ফসল" লিখে সার্চ দিলো। কিছু অ্যাপ আসলো। একটা ইংরেজিতে, বোঝা গেলো না। একটা হিন্দিতে। একটা বাংলায়, কিন্তু খুলতে গিয়ে দেখা গেলো এটাও টাকা চায়। তিনশো টাকা মাসে। আরেকটা ফ্রি, কিন্তু ভেতরে শুধু আবহাওয়া দেখায়, পোকামাকড়ের কিছু নেই।
করিম ফোন রেখে দিলো। স্ক্রিনটা কালো হয়ে গেলো।
সন্ধ্যায় হালিমা ভাত রান্না করছে। সুমন স্কুল থেকে ফিরে বই পড়ছে। করিম উঠোনে বসে আছে। ছাগল বেড়ার কাছে দেখা যাচ্ছে না, সন্ধ্যায় ছাগল ঘরে ফেরে। করিম ভাবছে।
একবছর আগে ফসলবন্ধু যখন এলো, তখন কৃষি অফিসের মহিম স্যার গ্রামে এসে দেখিয়ে দিয়েছিলো। বলেছিলো, "ফ্রি। কোনো টাকা লাগবে না। বাংলায় সব। আপনারা ব্যবহার করেন।" করিম ছাড়াও গ্রামের আরো সাত-আটজন নামিয়েছিলো। জামালের ফোনে জায়গা ছিলো না। খালেক চাচা ফোন চালাতে পারে না, তার ছেলে করে দিতো। রফিক দুদিন ব্যবহার করে ছেড়ে দিয়েছিলো, বলেছিলো ঝামেলা।
কিন্তু করিম ব্যবহার করেছিলো। প্রতিদিন। সে শিখে গেছিলো কীভাবে ছবি তুলতে হয়, কীভাবে ভয়েসে প্রশ্ন করতে হয়। সে অভ্যস্ত হয়ে গেছিলো। আর এখন সেই অভ্যাসটার দাম পাঁচশো টাকা।
রাতে শোয়ার আগে করিম আরেকবার অ্যাপ খুললো। তালার ছবিটা দেখলো। সে নিচে স্ক্রল করলো। সেখানে লেখা: "অ্যাগ্রোসেন্স প্রিমিয়ামের সুবিধা।" নিচে একটা তালিকা। ইংরেজিতে। করিম পড়তে পারলো না।
সে ভয়েস বাটন চাপলো। বললো, "তুমি আগে বাংলায় কথা বলতে। এখন কেন বদলে গেলে?"
অ্যাপ বললো, পাতলা কণ্ঠে: "আমি আপনার প্রশ্ন বুঝতে পারিনি। অনুগ্রহ করে আবার বলুন।"
করিম ফোন রেখে দিলো।
হালিমা পাশে শুয়ে আছে। করিম বললো, "হালিমা।"
"কী?"
"তালা দেওয়া জ্ঞান কার কাজে আসে?"
হালিমা চুপ করে রইলো। তারপর বললো, "ঘুমাও।"
করিম ঘুমালো না। শুয়ে শুয়ে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে রইলো। ফ্যান ঘুরছে। টিনের চালে বাতাসের শব্দ। কোথাও একটা কুকুর ডাকছে।
সকালে করিম আবার ক্ষেতে গেলো। ফোন নিলো না। পকেটে রইলো, কিন্তু বের করলো না। সে ক্ষেতে ঢুকলো, ধানের গাছগুলোর কাছে গেলো, পাতা ধরলো, দেখলো, শুকলো, গন্ধ নিলো। বাবা এইভাবে করতো। বাবার কোনো অ্যাপ ছিলো না। বাবার বাবারও না। তারা জমিনের কথা শুনতো। মাটি শুকলে পানি দিতো। পাতা হলুদ হলে সার দিতো। পোকা দেখলে মারতো। কখনো ভুল করতো, কখনো ঠিক করতো। কিন্তু জমি ছিলো তাদের, জ্ঞান ছিলো তাদের, কোনো তালা ছিলো না।
করিম ধানের একটা গাছের সাথে কথা বললো। আস্তে, যাতে কেউ শুনতে না পায়।
"কী হয়েছে তোমার? পাতা বাদামি কেন?"
গাছ কিছু বললো না। গাছ কখনো কিছু বলে না। কিন্তু গাছ টাকাও চায় না।
করিম হাসলো। একটু। তারপর হাঁটু ভেঙে বসলো ক্ষেতের মধ্যে। মাটি ভেজা। সকালের শিশির এখনো আছে। সে মাটি হাতে তুলে দেখলো। কালচে, নরম। মাটির গন্ধ। এই গন্ধ সে ছোটবেলা থেকে চেনে।
দূরে ধানক্ষেতের উপর দিয়ে একঝাঁক বক উড়ে যাচ্ছে। সাদা, সবুজ আকাশের নিচে। করিম তাকিয়ে দেখলো। বকগুলো পূর্ব দিকে যাচ্ছে। করিমের বাবা বলতো, বক পূর্ব দিকে গেলে বৃষ্টি আসবে। সত্যি কিনা কেউ জানে না। কিন্তু আজ করিমের কাছে আর কোনো তথ্যসূত্র নেই।
সে উঠে দাঁড়ালো। হাত থেকে মাটি ঝেড়ে ফেললো। ধানক্ষেতের ভেতর দিয়ে হাঁটতে লাগলো। ধানের গাছগুলো তার পায়ে ঠেকছে। ভেজা, সবুজ, নরম। এগুলো কিছু জানে না। এগুলো শুধু বাড়ে। এগুলোর কোনো আপডেট নেই, কোনো সাবস্ক্রিপশন নেই, কোনো তালা নেই।
করিম ক্ষেতের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। চারপাশে ধান। মাথার উপরে আকাশ। পকেটে ফোন, যার ভেতরে একটা অ্যাপ, যার ভেতরে একটা তালা, যার পেছনে একটা জ্ঞান, যেটা আগে তার ছিলো, এখন আর নেই।