যখন আলো আসে না

একটা রাত, পুরো দেশ

পর্ব ৩০ · ১০ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-১৮

রাত আটটায় বিদ্যুৎ গেল।

কোনো সতর্কতা নেই। কোনো ঘোষণা নেই। ছিল, তারপর নেই। এক মুহূর্তে পুরো দেশ অন্ধকার হয়ে গেল। ঢাকা অন্ধকার। চট্টগ্রাম অন্ধকার। রংপুর অন্ধকার। সুনামগঞ্জ অন্ধকার। গাজীপুর অন্ধকার। সব অন্ধকার।

বনানীতে তানিয়ার অফিসে মনিটর নিভে গেল।

দুটো মনিটর। দুটোই কালো। শিহাবের মনিটরও। তাসনিমের ল্যাপটপ ব্যাটারিতে চলছে, স্ক্রিনের আলো একমাত্র আলো পুরো ফ্লোরে।

ইউপিএস চালু হলো। বিপ বিপ বিপ। সার্ভার রুমে তিনটা সার্ভার চলছে। ইউপিএসের ব্যাটারি কুড়ি মিনিটের। তানিয়া জানে। এই কুড়ি মিনিটের মধ্যে বিদ্যুৎ না আসলে সার্ভার বন্ধ করতে হবে। সার্ভার বন্ধ মানে ক্লায়েন্টদের সেন্টিমেন্ট এপিআই বন্ধ। সেন্টিমেন্ট এপিআই বন্ধ মানে তিনটা ই-কমার্স কোম্পানির রিভিউ অ্যানালাইসিস বন্ধ। তানিয়া গতমাসে এসএলএ সাইন করেছে। নাইনটি নাইন পয়েন্ট নাইন পার্সেন্ট আপটাইম গ্যারান্টি।

তানিয়া ফোন তুলল। জেনারেটর সার্ভিসকে কল দিল। রিং হচ্ছে। কেউ ধরছে না। আবার কল দিল। কেউ ধরছে না।

"শিহাব, জেনারেটর?"

"বিল্ডিংয়ের জেনারেটর ডিজেল শেষ। গতকাল ম্যানেজারকে বলেছিলাম।"

তানিয়া মনিটরের দিকে তাকাল। মনিটর কালো। ইউপিএসের স্ক্রিনে সবুজ বার কমছে। আঠারো মিনিট। সতেরো।

তাসনিম বলল, "ক্লাউডে মাইগ্রেট করলে এই সমস্যা হতো না।"

তানিয়া কিছু বলল না। ক্লাউডে মাইগ্রেট করতে মাসে দুই লাখ টাকা লাগবে। তানিয়ার কাছে নেই। লোকাল সার্ভার সস্তা। কিন্তু লোকাল সার্ভারের জন্য বিদ্যুৎ লাগে। বিদ্যুৎ এখন নেই।

ষোলো মিনিট। পনেরো।

তানিয়া চেয়ারে বসল। অন্ধকারে। তাসনিমের ল্যাপটপের আলো তার মুখে পড়ছে। তানিয়া ভাবল, সে তিন বছর ধরে এই কোম্পানি তৈরি করেছে। কোড লিখেছে, মডেল ট্রেইন করেছে, ক্লায়েন্ট ধরেছে, বেতন দিয়েছে। আর এখন সব নির্ভর করছে একটা জেনারেটরের ডিজেলের ওপর। যেটা অন্য কেউ ভরবে বলে ভরেনি।

চৌদ্দ মিনিট। তেরো।

তানিয়া ল্যাপটপ খুলল। ক্লায়েন্টদের ইমেইল লিখতে শুরু করল। "সাময়িক বিভ্রাটের জন্য দুঃখিত।"

শিহাব বলল, "গ্রেসফুল শাটডাউন দিই?"

তানিয়া মাথা নাড়ল। শিহাব সার্ভারে ঢুকল, তাসনিমের ল্যাপটপ ধার করে। একটা একটা করে সার্ভিস বন্ধ করল। যত্ন করে। যেভাবে ঘুমন্ত বাচ্চাকে বিছানায় শোয়ায়।

দশ মিনিট। ইউপিএস বিপ করল। তানিয়া ইমেইল পাঠাল। তিনটা ক্লায়েন্ট। তিনটা "দুঃখিত।"

রংপুরে করিমের কিছুই বদলাল না।

বিদ্যুৎ যাওয়ার আগেও তার ঘরে আলো ছিল না বলতে গেলে। একটা বাল্ব জ্বলছিল। সেটা নিভে গেল। করিম উঠল। আলমারির ওপর থেকে হারিকেন নামাল। কেরোসিন ঢালল। দেশলাই দিয়ে জ্বালাল। হারিকেনের হলুদ আলো ঘরে ছড়িয়ে পড়ল। দেয়ালে ছায়া পড়ল। করিমের ছায়া বড় দেখাচ্ছে।

হালিমা রান্নাঘর থেকে এলো। "ভাত দিই?"

"দে।"

হালিমা ভাত দিল। ডাল আর আলু ভর্তা। করিম খেতে বসল। হারিকেনের আলোয়।

খাওয়া শেষে করিম বারান্দায় গেল। হালিমা পাশে বসল। আকাশে তারা দেখা যাচ্ছে। বিদ্যুৎ থাকলে তারা এত স্পষ্ট দেখা যায় না। বিদ্যুতের আলো তারা খেয়ে ফেলে।

"আজ আকাশ পরিষ্কার," হালিমা বলল।

"হুম।"

দূরে কেউ গান ধরল। কে গাইছে বোঝা যাচ্ছে না। কোন বাড়ি থেকে আসছে বোঝা যাচ্ছে না। পুরুষের গলা। পুরনো গান। "আমার ভাঙা পথের রাঙা ধুলায়..." বাউল সুর। গলা খারাপ না, ভালোও না। মাঝামাঝি। এমন গলা যেটা সুরে থাকে কিন্তু কেউ মনে রাখে না।

করিম শুনল। হালিমা শুনল। কেউ কিছু বলল না।

গান চলল। হারিকেনের আলো কাঁপল। বাতাস এলো। হালিমা আঁচল ঠিক করল।

"ছেলেটা কেমন পড়ছে?" করিম জিজ্ঞেস করল।

"পড়ছে। অঙ্ক কঠিন লাগে ওর।"

"আমারও লাগত।"

"তুই তো পড়িসনি।"

"তাই তো। কঠিন লাগত বলেই পড়িনি।"

হালিমা একটু হাসল।

তারা বসে রইল। গান চলল। বিদ্যুৎ নেই। কোনো সমস্যা নেই।

সুনামগঞ্জের হাওরে সেলিনার ট্যাবলেট নিভে গেল।

ব্যাটারি এগারো পার্সেন্ট ছিল। সন্ধ্যা থেকে চার্জ দিতে পারেনি। স্ক্রিন কালো হলো। সেলিনা ট্যাবলেটের পাওয়ার বাটন চাপল। কিছু হলো না।

সেলিনা ট্যাবলেটটা টেবিলে রাখল। ড্রয়ার খুলল। ড্রয়ারে একটা টর্চলাইট। ব্যাটারিওয়ালা। পুরনো। কিন্তু চলে। টর্চ জ্বালাল।

ড্রয়ারের পেছনে একটা থার্মোমিটার। কাচের। পারদের। ডিজিটাল না। পুরনো ধরনের। সেলিনা এটা দিয়েই শুরু করেছিল। ট্যাবলেট আসার আগে। তখন সে থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর মাপত, হাতে রক্তচাপ মাপত, চোখ দিয়ে দেখত, কান দিয়ে শুনত, হাত দিয়ে ছুঁয়ে বুঝত। ট্যাবলেট আসার পর সব ট্যাবলেটে। লক্ষণ দাও, উত্তর পাও। ট্যাবলেট বলে দেয় কী হয়েছে, কী করতে হবে, কোথায় রেফার করতে হবে।

এখন ট্যাবলেট বন্ধ।

সেলিনা থার্মোমিটার হাতে নিল। ঝাঁকাল। পারদ নেমে গেল। সে থার্মোমিটারটা রাখল পাশে। এখন কোনো রোগী নেই। কিন্তু রাতে কেউ আসলে?

আসলে সে দেখবে। থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর মাপবে। হাতে নাড়ি দেখবে। জিজ্ঞেস করবে কবে থেকে, কোথায় ব্যথা, কী খেয়েছে। যেভাবে আগে করত। ট্যাবলেটের আগে।

সেলিনা মনে করতে পারে। সব মনে আছে। শরীর মনে রেখেছে।

সে টর্চ বন্ধ করল। অন্ধকারে বসে রইল। জানালা দিয়ে হাওরের পানি দেখা যাচ্ছে। চাঁদের আলোয় পানি চিকচিক করছে। কোথাও একটা মাছ লাফাল। ছপ।

গাজীপুরে মিতু পড়ছিল।

ল্যাপটপের ব্যাটারি ছিল বাইশ পার্সেন্ট। বিদ্যুৎ যাওয়ার সাথে সাথে সে ল্যাপটপ বন্ধ করল। ব্যাটারি বাঁচাতে হবে। কাল বুটক্যাম্পে লাগবে।

ঘরে অন্ধকার। রহিমা মোমবাতি জ্বালাল। মোমবাতির আলোয় রহিমা বসে আছে। রাজু ঘুমিয়ে গেছে। আলম রিকশা নিয়ে বেরিয়ে গেছে।

মিতু ঘরে বসে থাকতে পারল না। ছাদে গেল।

ছাদ বলতে টিনের চাল। চালের একপাশে একটু জায়গা আছে, সিমেন্টের, যেখানে কাপড় শুকানো হয়। মিতু সেখানে বসল।

গাজীপুর অন্ধকার। ফ্যাক্টরিগুলোর আলো নেই। রাস্তার বাতি নেই। দোকানের আলো নেই। শুধু মাঝে মাঝে একটা গাড়ির হেডলাইট যাচ্ছে, অন্ধকারে একটা আলোর রেখা টেনে, তারপর সেটাও মিলিয়ে যাচ্ছে।

মিতু আকাশের দিকে তাকাল।

তারা।

গাজীপুরে তারা দেখা যায় না সাধারণত। ফ্যাক্টরির আলো, রাস্তার আলো, বিল্ডিংয়ের আলো সব মিলে আকাশ ধূসর থাকে। কিন্তু আজ আলো নেই। আজ আকাশ কালো। আর কালো আকাশে তারা।

মিতু তারা দেখল। কতগুলো তারা সে গুনতে পারবে না। রহিমাও পারবে না। কেউ পারবে না। তারা গোনা যায় না।

মিতু ভাবল, এই তারাগুলো প্রতিদিন থাকে। আলোর আড়ালে থাকে। আমরা দেখতে পাই না। আলো আমাদের অন্ধ করে রাখে। অন্ধকার হলে দেখা যায়।

নিচে রহিমা ডাকল, "মিতু, নাম। মশা কামড়াবে।"

মিতু ডাকে সাড়া দিল না। আরো একটু বসল। সে ভাবল, বুটক্যাম্পে কাল নিউরাল নেটওয়ার্ক শেখাবে। নিউরাল নেটওয়ার্ক চালাতে বিদ্যুৎ লাগে। সার্ভার লাগে। ইন্টারনেট লাগে। বিদ্যুৎ না থাকলে কিছুই চলে না। সবচেয়ে বড় মডেল, সবচেয়ে স্মার্ট অ্যালগরিদম, সব অন্ধকারে চুপ করে যায়। একটা বাটন ফোনে *247# ডায়াল করা যায়, কিন্তু কিছু শেখানো যায় না, কিছু দেখানো যায় না, কিছু চালানো যায় না।

মশা কামড়াল। মিতু নিচে নেমে এলো।

জাহিদ আকাশে আছে।

দোহা থেকে ঢাকা। বিমান। জানালার পাশে বসা। রাত। নিচে অন্ধকার। মাঝে মাঝে আলো দেখা যায়। শহর। তারপর আবার অন্ধকার। মরুভূমি। তারপর আবার আলো। আরেকটা শহর।

জাহিদ জানালা দিয়ে নিচে তাকিয়ে আছে। ভারতের ওপর দিয়ে যাচ্ছে বিমান। নিচে আলো আছে। শহরগুলো জ্বলছে। রাস্তাগুলো আলোর রেখা, যেন কেউ অন্ধকারে আলোর সুতা দিয়ে সেলাই করেছে।

তারপর বাংলাদেশ এলো।

জাহিদ চিনল। মানচিত্র চেনার দরকার নেই। সে বুঝতে পারল। নিচে অন্ধকার। আলো আছে, কিন্তু কম। অনেক কম। এইমাত্র যে ভারতের শহরগুলো দেখল, সেগুলো জ্বলছিল। এখানে জ্বলছে না।

জাহিদ দেখল, কিছু জায়গায় আলো আছে। ছোট ছোট আলো। ছড়িয়ে ছিটিয়ে। তারপর আলো নিভে গেল। তারপর আবার জ্বলল। অন্য জায়গায়। আগের জায়গাটা অন্ধকার। এই জায়গাটা আলো।

দেশটা যেন শ্বাস নিচ্ছে। আলো জ্বলে, শ্বাস নেয়। আলো নেভে, শ্বাস ছাড়ে। আলো জ্বলে, আলো নেভে। জ্বলে, নেভে।

জাহিদ জানালায় কপাল ঠেকাল। কাচ ঠান্ডা। নিচে তার দেশ। সে ফিরে যাচ্ছে। দুই বছর পর। দুই বছর সে ইট বহন করেছে, সিমেন্ট মেশিয়েছে, রোদে পুড়েছে, অন্যের দেশ গড়েছে। এখন ফিরে যাচ্ছে নিজের দেশে। যে দেশে আলো জ্বলে আর নেভে। জ্বলে আর নেভে।

পাশের সিটে একজন ঘুমাচ্ছে। বিমানের ভেতরে আলো কম। ইঞ্জিনের গুনগুন শব্দ। জাহিদ ঘুমাতে পারছে না। সে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে।

রশিদা কোথায়? নেত্রকোনায়। নিচের ওই অন্ধকারের কোথাও। ফোন করতে পারবে না, বিমানে ফোন বন্ধ। রশিদা কি ঘুমিয়ে গেছে? বাচ্চারা? শাশুড়ি?

জাহিদ তাকিয়ে রইল। অন্ধকারের দিকে। তার পরিবার ওই অন্ধকারের ভেতর কোথাও আছে। সে দেখতে পাচ্ছে না।

বিমানের স্পিকারে ক্যাপ্টেন বলল, "আমরা শীঘ্রই ঢাকায় অবতরণ করব। বেল্ট বেঁধে নিন।"

জাহিদ বেল্ট বাঁধল। জানালা থেকে চোখ সরাল না। নিচে অন্ধকার। মাঝে মাঝে একটু আলো। আবার অন্ধকার। দেশটা শ্বাস নিচ্ছে। ধীরে ধীরে। ক্লান্ত শ্বাস।

বিমান নামতে শুরু করল। কান ভারী হলো। জাহিদ ঢোঁক গিলল। নিচের আলোগুলো বড় হতে লাগল। ঢাকা কাছে আসছে। ঢাকায় আলো আছে। ঢাকায় সবসময় আলো আছে। ঢাকা ঘুমায় না।

কিন্তু নেত্রকোনা? নেত্রকোনায় কি আলো আছে এখন?

রাত সাড়ে নয়টায় বিদ্যুৎ এলো।

কিন্তু সবখানে একসাথে না।

বনানীতে আগে এলো। তানিয়ার অফিসে মনিটর জ্বলে উঠল। ইউপিএস বন্ধ হলো। সার্ভার চলল। তানিয়া সার্ভিস চেক করল। এপিআই আপ। ডাউনটাইম: সাতচল্লিশ মিনিট। এসএলএ ব্রিচ।

গুলশানে এলো। মিরপুরে এলো। মোহাম্মদপুরে এলো।

গাজীপুরে এলো আরো বিশ মিনিট পরে। মিতু ল্যাপটপ চার্জে দিল। রহিমা মোমবাতি নেভাল। ফ্যাক্টরির আলো জ্বলল।

রংপুরে এলো রাত দশটায়। করিম হারিকেন নেভাল। হালিমা টিভি চালু করল। বাংলা সিরিয়াল শুরু হয়ে গেছে, মাঝখান থেকে দেখবে।

গান বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ আসার সাথে সাথে। কে গাইছিল কেউ জানল না। কেউ জিজ্ঞেসও করল না।

সুনামগঞ্জে এলো রাত সাড়ে দশটায়। সেলিনা ট্যাবলেট চার্জে দিল। স্ক্রিন জ্বলল। নোটিফিকেশন এলো। একটা আপডেট। সফটওয়্যার আপডেট। পরে করবে।

নেত্রকোনায় এলো রাত এগারোটায়। রশিদা তখন ঘুমিয়ে গেছে। শাশুড়িও ঘুমিয়ে গেছে। বাচ্চারাও। ঘরের বাল্ব জ্বলে উঠল। কেউ দেখল না। বাল্বের আলো খালি ঘরে পড়ল। খালি দেয়ালে। খালি মেঝেতে। কোণায় সেলাই মেশিনের ওপর। সেলাই মেশিনটা আলোয় চকচক করল, একটু, তারপর ম্লান হয়ে গেল। বাল্ব দুর্বল।

কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ আসেনি সারারাত। ভোলায়। বরগুনায়। খাগড়াছড়ির দূরের উপজেলায়। সেখানে মানুষ ঘুমিয়ে গেছে অন্ধকারে। তারা অভ্যস্ত। এটা তাদের প্রতি রাত।

জাহিদের বিমান ঢাকায় নামল রাত বারোটায়। শাহজালাল বিমানবন্দরে আলো আছে। জেনারেটর চলছে। জাহিদ বিমান থেকে নামল। গরম বাতাস মুখে লাগল। বাংলাদেশের বাতাস। গরম, ভেজা, চেনা।

সে বাইরে এলো। ট্যাক্সি খুঁজল। ট্যাক্সি পেল। "নেত্রকোনা যাবেন?" ড্রাইভার বলল, "রাতে? পাঁচ হাজার।" জাহিদ বলল, "চলেন।"

গাড়ি ছুটল। ঢাকার রাস্তায় আলো আছে। শহরের বাইরে আলো কমে গেল। হাইওয়েতে শুধু গাড়ির হেডলাইট। দুইপাশে অন্ধকার। গ্রাম ঘুমাচ্ছে। মাঠ ঘুমাচ্ছে। নদী ঘুমাচ্ছে।

জাহিদ জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল। অন্ধকার। ওপরে তারা।

সে ফিরে আসছে। কোনো চাকরি নেই। কোনো প্ল্যান নেই। পকেটে কিছু টাকা আছে, বেশি না। কী করবে জানে না।

কিন্তু সে ফিরে আসছে।

গাড়ি চলছে। অন্ধকার দুইপাশে সরে যাচ্ছে। হেডলাইটের আলো সামনে পড়ছে। এটুকুই দেখা যাচ্ছে। সামনের কয়েক গজ। বাকিটা অন্ধকার।

এটুকুই যথেষ্ট। সামনের কয়েক গজ দেখা গেলে চলা যায়।