তানিয়ার কর্মীরা
১
বিড়ালটা তিন ঘণ্টা আগে একটা গ্লাস ফেলে দিয়েছে।
গ্লাসটা ভাঙেনি। প্লাস্টিকের। কিন্তু পানি ছড়িয়ে গেছে মেঝেতে, টেবিলের নিচে, চেয়ারের পায়ার কাছে। তানিয়া দেখেছে। মুছবে বলে ভেবেছে। মোছেনি। বিড়ালটা গ্লাসটা ফেলে সোফার নিচে ঢুকে গেছে। এখনো সেখানে আছে। মাঝে মাঝে চোখ জ্বলে, সবুজ, অন্ধকারে।
তানিয়া ল্যাপটপের সামনে বসে আছে। বসার ঘরের সোফায়। অফিসে যায়নি আজ। যাবে না। আজকের কাজ বাসা থেকে।
স্ক্রিনে আটটা নাম। একটা তালিকা। প্রতিটা নামের পাশে একটা ভিডিও কলের লিংক। সময় লেখা। প্রথমটা সকাল এগারোটায়। এখন দশটা পঞ্চান্ন।
আটজন। পনেরোজনের মধ্যে আটজনকে যেতে হবে। মার্কাসের ইমেইল এসেছিলো গতকাল: "বার্ন রেট কমাও। এখনই। সিরিজ-এ আসবে না এই হারে।" শিহাব বলেছিলো, "কত কমাতে হবে?" মার্কাস বলেছিলেন একটা সংখ্যা। সেই সংখ্যা মানে আটজন।
তানিয়া অফিসে যেতে পারতো। মুখোমুখি বলতে পারতো। কিন্তু সে পারবে না। পনেরোজনের সামনে দাঁড়িয়ে আটজনকে বলা, তোমরা যাও, বাকি সাতজন থাকো, এটা সে পারবে না। মুখোমুখি বললে তাদের চোখ দেখতে হবে। চোখে কী থাকবে? অবিশ্বাস? রাগ? ভয়? তানিয়া সেটা সামলাতে পারবে না। ভিডিও কলেও চোখ দেখা যায়, কিন্তু পিক্সেল ঝাপসা করে দেয়। পিক্সেল একটু দূরত্ব দেয়।
তানিয়া তালিকাটা তৈরি করেছে গতরাতে। দুইটার সময়। প্রতিটা নাম লিখতে হাত ভারী হয়েছে। কাকে রাখবে, কাকে ছাড়বে। শিহাবকে রাখতে হবে, সে ছাড়া কোড কে লিখবে? তাসনিমকে রাখতে হবে, সে ছাড়া ক্লায়েন্ট কে সামলাবে? মিতুকে রাখবে, ইন্টার্ন, বেতন কম, কিন্তু কাজ শেখে দ্রুত। আর চারজন রাখবে যারা মডেল ট্রেইনিং করে। বাকি আটজন? বাকি আটজনকে বলতে হবে, "তোমার আর দরকার নেই।"
তানিয়া ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকালো। ঘড়ি দশটা সাতান্ন। তিন মিনিট।
সে উঠলো। রান্নাঘরে গেলো। পানি খেলো। গ্লাসটা সিংকে রাখলো। হাত ধুলো। হাত কাঁপছে। ঠান্ডা পানিতেও কাঁপছে। সে হাতের দিকে তাকালো। পাতলা আঙুল, খাটো নখ, কব্জিতে একটা পুরনো ঘড়ি যেটা চলে না কিন্তু পরে কারণ ওটা মায়ের দেওয়া। হাত কাঁপছে। ভয়ে? রাগে? লজ্জায়? তানিয়া জানে না।
সে ফিরে এলো সোফায়। বসলো। ল্যাপটপ খুললো।
এগারোটা বাজলো।
২
প্রথম কল। ফারহানা।
ফারহানা ডেটা লেবেলিং টিমের সুপারভাইজর। দুই বছর ধরে আছে। ফারহানা ফোনে হাসিমুখে এলো। "গুড মর্নিং, তানিয়া আপু।"
তানিয়া বললো। যা বলার বললো। বাক্যগুলো আগে থেকে তৈরি করা। সে গতরাতে লিখেছিলো। কাগজে না, মাথায়। "কোম্পানিকে খরচ কমাতে হচ্ছে। তোমার পদটা আর রাখা সম্ভব হচ্ছে না। দুই মাসের বেতন দেবো। রেফারেন্স দেবো।"
ফারহানার মুখ থেকে হাসি সরে গেলো। স্ক্রিনে পিক্সেল ঝাপসা, কিন্তু তানিয়া দেখতে পেলো। হাসি ছিলো, তারপর নেই।
"কবে থেকে?" ফারহানা জিজ্ঞেস করলো।
"আজ থেকে।"
চুপ। পাঁচ সেকেন্ড। দশ সেকেন্ড।
"ঠিক আছে।"
কল শেষ।
দ্বিতীয় কল। রাকিব। ব্যাকএন্ড ডেভেলপার। রাকিব শুনে বললো, "বুঝলাম।" কল শেষ।
তৃতীয় কল। নুসরাত। ফ্রন্টএন্ড। নুসরাত কাঁদলো। তানিয়া স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলো। নুসরাত কাঁদছে, পিক্সেল ঝাপসা, কিন্তু কান্নার আওয়াজ পরিষ্কার। নুসরাতের বাচ্চা আছে। ছয় মাসের। তানিয়া জানে।
"আমি রেফারেন্স দেবো, নুসরাত। তোমার কাজ খুব ভালো ছিলো।"
নুসরাত ফোন কেটে দিলো।
চতুর্থ কল। পঞ্চম। ষষ্ঠ। সপ্তম।
প্রতিটা কলে একই বাক্য। "কোম্পানিকে খরচ কমাতে হচ্ছে।" প্রতিবার বলতে গলা ভারী হয়। প্রতিবার বলা হয়ে গেলে একটু থামে তানিয়া। পানি খায়। আবার পরের নাম। পরের লিংক। পরের মুখ। পরের "ঠিক আছে" অথবা চুপ অথবা কান্না।
অষ্টম কল। শামীম। প্রজেক্ট ম্যানেজার। শামীম তানিয়ার প্রথম হায়ার। কোম্পানি যখন তিনজন ছিলো, তানিয়া শিহাব আর শামীম, তখন থেকে আছে। শামীম জিজ্ঞেস করলো, "আমাকেও?"
"হ্যাঁ।"
শামীম কিছু বললো না। তানিয়াও কিছু বললো না। দুজন স্ক্রিনে তাকিয়ে রইলো। ত্রিশ সেকেন্ড। তানিয়া ভাবলো কিছু একটা বলা উচিত। কী বলবে? "আমি দুঃখিত"? বললে কী হবে? দুঃখ কি চাকরি ফেরত দেয়?
শামীম বললো, "তোমার জন্যও কঠিন, জানি।"
তানিয়া মাথা নাড়লো। কল শেষ।
স্ক্রিন কালো। তানিয়া চোখ বন্ধ করলো। আটটা কল শেষ। দেড় ঘণ্টা। দেড় ঘণ্টায় আটটা মানুষের চাকরি শেষ। প্রতিটা কল গড়ে দশ মিনিট। কারো বেশি, কারো কম। রাকিবের কল ছিলো তিন মিনিটের। নুসরাতের কল ছিলো পনেরো মিনিটের। শামীমের কল ছিলো আট মিনিটের, কিন্তু মনে হলো আট ঘণ্টা।
তানিয়া সোফা থেকে উঠলো। পা অবশ। কতক্ষণ একইভাবে বসে ছিলো। পায়ে ঝিমঝিম করছে। সে একটু হাঁটলো ঘরের মধ্যে। বসার ঘর থেকে রান্নাঘর, রান্নাঘর থেকে বেডরুম, বেডরুম থেকে আবার বসার ঘর। বিড়ালটা তাকে দেখছে সোফার নিচ থেকে।
৩
ল্যাপটপ বন্ধ করলো তানিয়া।
স্ক্রিন কালো হলো। তানিয়া স্ক্রিনে নিজের প্রতিবিম্ব দেখলো। চুল ছড়ানো। চোখের নিচে কালো। গতরাতে ঘুমায়নি।
সে উঠলো। বাথরুমে গেলো। দরজা বন্ধ করলো। মেঝেতে বসলো। টাইলস ঠান্ডা। পিঠ দেয়ালে ঠেকালো। হাঁটু ভাঁজ করলো। হাত হাঁটুর ওপর রাখলো। হাত এখনো কাঁপছে।
বাথরুমে কোনো আওয়াজ নেই। অফিসে থাকলে চেয়ারের আওয়াজ থাকতো। তানিয়ার চেয়ার ক্যাঁচ ক্যাঁচ করে। সবাই জানে। শিহাব বলে, "চেয়ারটা বদলাও।" তানিয়া বদলায় না। অভ্যাস। কিন্তু আজ সে অফিসে নেই। চেয়ার নীরব। পুরো ফ্ল্যাট নীরব। শুধু বিড়ালটা মাঝে মাঝে নড়ে সোফার নিচে।
তানিয়া বাথরুমের মেঝেতে বসে আছে। কতক্ষণ বসে আছে জানে না। পাঁচ মিনিট। দশ মিনিট। সে কাঁদছে না। চোখ শুকনো। কিন্তু বুকের ভেতরে কিছু একটা ভারী, পাথরের মতো, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। সে জোর করে শ্বাস নিলো। ছাড়লো। আবার নিলো।
আটটা কল। আটটা মানুষ। আটটা পরিবার। ফারহানার মেয়ে স্কুলে যায়, তানিয়া জানে, ফারহানা ছবি দেখিয়েছিলো একদিন, মেয়ের নাম রাইসা, ক্লাস টু। রাকিবের বিয়ে হবে তিন মাস পরে, তানিয়া নিমন্ত্রণ পেয়েছে। নুসরাতের ছয় মাসের বাচ্চা। শামীম, যে প্রথম দিন থেকে ছিলো।
তানিয়া মাথা নিচু করলো। হাঁটুতে কপাল ঠেকালো। টাইলসের ঠান্ডা পায়ে উঠছে। শরীরে ঠান্ডা ঢুকছে। ভালো লাগছে। গরম মাথায় ঠান্ডা ভালো লাগে।
সে ভাবলো, তিন বছর আগে সে একটা কোম্পানি শুরু করেছিলো। শিহাব আর সে, দুজন। একটা ফ্ল্যাটের বসার ঘরে। দুটো ল্যাপটপ, একটা হোয়াইটবোর্ড, অনেক চা। তখন কোনো কর্মী ছিলো না। কাউকে ছাড়তে হতো না। কাউকে ফোন করে বলতে হতো না, "তোমার আর দরকার নেই।" তখন শুধু কোড ছিলো, স্বপ্ন ছিলো, আর বাংলা ভাষাটাকে মেশিনকে শেখানোর জেদ ছিলো।
এখন? এখন বাংলা ভাষা শেখানোর জন্য যারা কাজ করেছে, তাদের ছেড়ে দিচ্ছে।
৪
ফোন বাজলো।
তানিয়া বাথরুম থেকে বের হলো। ফোন সোফায়। ফোন তুললো। মিতু।
মিতু। আঠারো বছরের ইন্টার্ন। রহিমা আপার মেয়ে। বুটক্যাম্প থেকে শিখে এসেছে, তানিয়ার কোম্পানিতে তিন মাস হলো ইন্টার্নশিপ করছে। তানিয়া ওকে রেখেছে। ওকে ছাড়েনি। মিতুর বেতন কম, কিন্তু সেটাই কারণ না। মিতু শেখে। দ্রুত শেখে। এবং মিতুকে ছাড়লে মিতু কোথায় যাবে? গাজীপুরে? রহিমা আপার সাথে?
তানিয়া ফোন ধরলো।
"আপু?"
মিতুর গলায় আওয়াজ আছে। বাসের আওয়াজ। হর্ন। মানুষের কথা। মিতু বাসে আছে।
তানিয়া কিছু বললো না।
এক সেকেন্ড। দুই সেকেন্ড। তিন। চার। পাঁচ। ছয়। সাত। আট। নয়। দশ।
দশ সেকেন্ড কথা বললো না তানিয়া। ফোন কানে ধরে বসে আছে। মিতু ওপাশে। বাসের শব্দ আসছে।
"আপু, আমি আসছি।"
তানিয়া শুনলো। মিতু বুঝেছে। কীভাবে বুঝেছে তানিয়া জানে না। দশ সেকেন্ডের নীরবতায় কী শোনা যায়? মিতু কি জানতো? কেউ কি বলেছে? নাকি নীরবতাই যথেষ্ট?
"না, কাল এসো।"
তানিয়া ফোন রাখলো। ফোনটা সোফায় পড়লো। স্ক্রিন জ্বলে নিভে গেলো।
মিতু কাল আসবে। অফিসে, না বাসায়? তানিয়া বলেনি। মিতু জিজ্ঞেস করেনি। মিতু বুঝবে। মিতু বুদ্ধিমান মেয়ে। গাজীপুর থেকে এসেছে, বুটক্যাম্প করেছে, কোড শিখেছে, এখন তানিয়ার কোম্পানিতে ইন্টার্ন। আঠারো বছর বয়স। তানিয়ার বয়সে মিতু যা করছে, তানিয়া তা করেনি। তানিয়া আঠারোতে বুয়েটে ছিলো, ক্লাসরুমে বসে ছিলো, নোট নিচ্ছিলো। মিতু আঠারোতে কাজ করছে, টাকা কামাচ্ছে, মা-বাবাকে দিচ্ছে।
মিতুকে ছাড়েনি তানিয়া। সেটা সঠিক সিদ্ধান্ত কিনা সে জানে না। হয়তো ফারহানাকে রাখা উচিত ছিলো, যে দুই বছরের অভিজ্ঞ। হয়তো রাকিবকে, যে ব্যাকএন্ড জানে। কিন্তু তানিয়া মিতুকে রেখেছে। কেন? সে নিজেও ঠিক বলতে পারে না।
৫
সে বসে রইলো সোফায়।
বাইরে বিকেলের আলো। জানালা দিয়ে রোদ আসছে। মেঝেতে পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। বিড়ালের ফেলে দেওয়া গ্লাসের পানি। তিন ঘণ্টায় কিছু শুকিয়েছে, কিছু এখনো আছে। তানিয়া ওটা মুছবে বলে ভেবেছিলো। মোছেনি।
সে উঠলো। রান্নাঘরে গেলো। জানালার ধারে একটা টব আছে। টবে একটা গাছ। মানি প্ল্যান্ট। এটা অফিসেরটা না, এটা বাসার। অফিসেরটা মরে গেছে অনেকদিন আগে। বাসারটাও মরে গেছে। পাতা শুকনো, বাদামি, কিছু কিছু ঝরে পড়ে গেছে টবের মাটিতে। তানিয়া গত কবে পানি দিয়েছিলো মনে নেই। দুই সপ্তাহ? তিন?
সে কলের কাছে গেলো। একটা গ্লাসে পানি নিলো। গাছের গোড়ায় ঢাললো।
পানি মাটিতে পড়লো। মাটি শুকনো, ফাটা। পানি চুষে নিলো মাটি। তানিয়া তাকিয়ে দেখলো। কিছু হলো না। গাছ মরে আছে। পানি দিলেই জীবন ফেরে না। কিন্তু তানিয়া পানি দিলো। অভ্যাস। যে অভ্যাসের কোনো ফল নেই, সেটাও অভ্যাস।
সে গ্লাসটা সিংকে রাখলো। ফিরে এলো বসার ঘরে।
সোফায় বসলো।
ল্যাপটপ বন্ধ। ফোন চুপ। বিড়াল সোফার নিচে। মেঝেতে পানির দাগ।
বাইরে ঢাকা শহর চলছে। গাড়ির হর্ন। রিকশার ঘণ্টি। কোথাও নির্মাণের শব্দ, ড্রিল বা হাতুড়ি। তানিয়া শুনছে। কিন্তু শুনছে না।
সে ভাবছে, আটটা মানুষকে সে আজ বললো, "তোমার আর দরকার নেই।" ঠিক এই কথা বলেনি। কিন্তু মানেটা এটাই। যতই সুন্দর করে বলো, "কোম্পানির পরিস্থিতি," "খরচ কমানো," "তোমার কাজ চমৎকার ছিলো," শেষে কথা একটাই: তোমার আর দরকার নেই।
তানিয়া নিজেও একদিন শুনবে। মার্কাস বলবে, "কোম্পানিটা আর চলবে না।" অথবা বলবে, "নতুন সিইও আনো।" অথবা বলবে না, শুধু টাকা আসা বন্ধ হবে, আর তানিয়া একদিন বুঝবে এটাই শেষ।
সবার শেষ দিন আসে। কারো আসে বাদামি খামে, কারো আসে ভিডিও কলে, কারো আসে ইমেইলে। তানিয়া আজ আটজনের শেষ দিন এনেছে। সে নিজে সেটা বেছে নেয়নি। মার্কাস বেছে নেয়নি। কেউ বেছে নেয়নি। টাকার হিসেব বেছে নিয়েছে। টাকা যখন কম, মানুষও কম। এটা একটা অঙ্ক। কিন্তু অঙ্কটা কেউ পছন্দ করে না।
বিড়ালটা সোফার নিচ থেকে বের হলো। তানিয়ার পায়ে মাথা ঘষলো। তানিয়া নিচে তাকালো। বিড়ালের চোখ সবুজ। বিড়াল কিছু জানে না। বিড়াল জানে না আটটা মানুষ আজ চাকরি হারালো। বিড়াল জানে ক্ষুধা, ঘুম, আর মাথা ঘষা।
তানিয়া বিড়ালের মাথায় হাত রাখলো। বিড়াল গুরগুর করলো। ছোট আওয়াজ। সোফার কুশনে মুখ ঘষলো। তারপর লাফ দিয়ে নেমে রান্নাঘরে চলে গেলো। খাবারের বাটি খালি। তানিয়া ভুলে গেছে খাবার দিতে। সকাল থেকে।
সে উঠলো। বিড়ালের বাটিতে খাবার দিলো। বিড়াল খেতে লাগলো। মচমচ আওয়াজ। তানিয়া পাশে দাঁড়িয়ে দেখলো। বিড়ালের খাওয়া দেখা একটা অদ্ভুত শান্তির কাজ। বিড়ালের কোনো চাকরি নেই। কোনো বিনিয়োগকারী নেই। কোনো বার্ন রেট নেই। বিড়ালের শুধু একটা বাটি আছে, আর একটা মানুষ যে বাটি ভরে দেয়।
মেঝেতে গ্লাসের পানি। এখনো মোছেনি।
বাইরে সন্ধ্যা নামছে। ঘরে আলো জ্বালায়নি তানিয়া। অন্ধকার ধীরে ধীরে আসছে। জানালা দিয়ে শেষ আলো ঢুকছে। রান্নাঘরে, জানালার ধারে, মরা গাছের গোড়ায় পানি চুপচাপ বসে আছে। কিছু হচ্ছে না। কিছু হবে না।