ফেসবুকে ডিপফেক

পর্ব ৪৯ · ১০ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-১৮

প্রথম ফোনটা এলো সকাল নয়টায়।

করিম তখন চায়ের দোকানে বসা। গাজীপুরের ছোট একটা দোকান, রাস্তার ধারে, টিনের চাল, তিনটা বেঞ্চ। করিম প্রতিদিন সকালে এখানে আসে। রাতের সিকিউরিটি শিফট শেষে ঘরে গিয়ে দুই ঘণ্টা ঘুমায়, তারপর চায়ের দোকানে। চা খায়। বসে থাকে। কারো সাথে কথা বলে, কারো সাথে বলে না। এটা তার দিনের একমাত্র সময় যখন সে কিছু না করে বসে থাকতে পারে।

ফোনটা বাজল। অচেনা নম্বর।

"হ্যালো?"

"তুই করিম? ধানক্ষেতের করিম?"

করিম চিনতে পারল না গলা। "কে বলছেন?"

"তোর ভিডিওটা দেখলাম। তুই এসব কী বলছিস? তোর এত সাহস?"

"কোন ভিডিও?"

লোকটা ফোন কেটে দিল।

করিম ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল। চায়ের কাপ হাতে। চা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। করিম "ভিডিও" শব্দটা ভাবল। তার একটাই ভিডিও। সেই ধানক্ষেতের ভিডিও। দুই বছর আগে। বেলাল ফোনে তুলেছিল। করিম মাটিতে দাঁড়িয়ে ছিল, পেছনে কোল্ড স্টোরেজের ভিত্তিপ্রস্তর, আর করিম বলেছিল, "এই মাটি আমার ছিল।" এটুকুই। এর বেশি কিছু বলেনি। রাজনীতির কথা বলেনি। কারো নাম বলেনি। শুধু মাটির কথা বলেছিল।

দশ মিনিট পর আরেকটা ফোন।

"করিম মিয়া, আপনি কি জানেন আপনার ভিডিওটা কোথায় কোথায় ছড়াচ্ছে?"

"কোন ভিডিও? আমি তো কিছু করিনি।"

"ভাই, আপনি যা বলেছেন সেটা তো ভয়ংকর কথা। সরকারের বিরুদ্ধে, মন্ত্রীর বিরুদ্ধে..."

"আমি সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি। আমি শুধু মাটির কথা বলেছি।"

"ভিডিওতে তো অনেক কিছু বলেছেন।"

করিম বুঝতে পারল না। ফোন কেটে দিল।

তৃতীয় ফোন। চতুর্থ ফোন। পঞ্চম ফোন। প্রতিটাতে একই কথা। "তুই এসব কী বলছিস?" "আপনার সাহস তো কম না।" "ভাই, সাবধানে থাকবেন।" শেষেরটা ছিল হুমকি। স্পষ্ট হুমকি। "তোকে দেখে নেওয়া হবে।"

করিম চায়ের দোকানে বসে আছে। হাত কাঁপছে। কাপটা নামিয়ে রাখল। চা ঠান্ডা। পান করেনি। চায়ের দোকানের মালিক, মোস্তফা, বলল, "ভাই, আপনার কি শরীর খারাপ? মুখ সাদা হয়ে গেছে।"

"না। কিছু না।"

করিম উঠে গেল। ঘরে ফিরে গেল। দরজা বন্ধ করল। খাটে বসল। ফোন আবার বাজল। রিসিভ করল না। আবার বাজল। আবার। আবার।

বেলাল এলো দুপুরে।

বেলাল এখন গাজীপুরেই থাকে। একটা মোবাইল ফোনের দোকানে কাজ করে। ফোন মেরামত, স্ক্রিন বদলানো, সফটওয়্যার দেওয়া। বেতন কম, কিন্তু কাজ আছে। বেলাল সন্তুষ্ট নয়, কিন্তু অসন্তুষ্ট হওয়ার সময় নেই।

দোকানে একজন খদ্দের এসে বলল, "এই ভিডিওটা দেখেছ? ধানক্ষেতের বুড়ো? জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিচ্ছে।"

বেলাল ফোনটা নিয়ে দেখল।

করিম চাচা। মাঠে দাঁড়িয়ে আছেন। পেছনে কোল্ড স্টোরেজের ভিত্তিপ্রস্তর। এটা সেই ভিডিও। সেই মাঠ। সেই কোণ থেকে তোলা। কিন্তু করিম চাচা যা বলছেন, সেটা বেলাল কোনোদিন শোনেনি। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। মন্ত্রীর নাম ধরে গালি দিচ্ছেন। দলের নাম বলছেন। আন্দোলনের ডাক দিচ্ছেন। "আমরা রাস্তায় নামব, সব ভেঙে দেব।"

বেলাল ভিডিওটা থামাল। আবার চালাল। করিম চাচার মুখ। করিম চাচার গলা। সেই কাঁপা কাঁপা গলা, যেটা বেলাল চেনে। কিন্তু কথাগুলো চেনে না। এই কথাগুলো করিম চাচা বলেননি। বেলাল নিজে ভিডিওটা তুলেছিল। সে জানে করিম চাচা কী বলেছিলেন। "এই মাটি আমার ছিল।" এটুকুই। দুই মিনিট সতেরো সেকেন্ডের ভিডিও। এই নতুন ভিডিওটা সাত মিনিট। পাঁচ মিনিট বাড়তি। পাঁচ মিনিট মিথ্যা।

বেলাল দোকান ফেলে ছুটল করিম চাচার ঘরে।

দরজা বন্ধ। ধাক্কা দিল। "চাচা? চাচা, দরজা খুলেন।"

করিম দরজা খুলল। চোখ লাল। ঘুমের অভাবে না। অন্য কিছু। করিম বেলালকে দেখে কিছু বলল না। ঘরে ঢুকতে দিল। দরজা আবার বন্ধ করল।

"চাচা, আমি ভিডিওটা দেখেছি।"

করিম খাটে বসল। "কোন ভিডিও?"

"ফেসবুকে একটা ভিডিও ছড়াচ্ছে। আপনাকে দিয়ে।"

"আমাকে দিয়ে? আমি তো কিছু করিনি। আমি শুধু মাটির কথা বলেছিলাম।"

"হ্যাঁ, চাচা। আপনি শুধু মাটির কথা বলেছিলেন। কিন্তু কেউ সেই ভিডিও নিয়ে নতুন ভিডিও বানিয়েছে। আপনার মুখ আছে। আপনার গলা আছে। কিন্তু কথাগুলো আপনার না।"

করিম তাকাল। "মানে?"

"মানে... তোমাকে দিয়ে ভিডিও বানিয়েছে, কিন্তু তুমি বলোনি।"

করিম বসে রইল। মুখে কোনো ভাব নেই। চোখ কুঁচকে গেল। তারপর বলল, "আমাকে দিয়ে বানিয়েছে? আমার মুখ, আমার গলা, কিন্তু আমি না?"

"হ্যাঁ, চাচা। এটাকে বলে ডিপফেক। কম্পিউটার দিয়ে বানানো।"

করিম চুপ করে রইল। অনেকক্ষণ চুপ করে রইল। বেলাল বসে আছে, কিছু বলছে না, কারণ করিম চাচার চুপ থাকার একটা ওজন আছে, সেটা ভাঙার অধিকার বেলালের নেই।

তারপর করিম বলল, "কম্পিউটার আমার মুখ দিয়ে কথা বলায়?"

"হ্যাঁ।"

"আমি না বলেও আমি বলেছি?"

"হ্যাঁ।"

করিম উঠে দাঁড়াল। জানালার কাছে গেল। বাইরে তাকাল। বাইরে গাজীপুরের রাস্তা। ট্রাক যাচ্ছে। রিকশা যাচ্ছে। মানুষ হাঁটছে। কেউ করিমের দিকে তাকাচ্ছে না। কেউ জানে না এই জানালার পেছনে একটা মানুষ দাঁড়িয়ে আছে, যার মুখ আর তার নিজের নেই।

বেলাল বোঝানোর চেষ্টা করল।

"চাচা, এটা টেকনোলজি। আপনার আসল ভিডিও থেকে আপনার চেহারা নিয়েছে। গলার আওয়াজ নিয়েছে। তারপর নতুন কথা বসিয়ে দিয়েছে। দেখতে মনে হয় আপনি বলছেন। কিন্তু আপনি বলেননি।"

করিম বলল, "কে করেছে?"

"জানি না। যে কেউ করতে পারে। একটা কম্পিউটার আর কিছু সফটওয়্যার হলেই হয়।"

"কেন করেছে?"

"সেটাও জানি না। হয়তো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। আপনার ভিডিওটা ভাইরাল হয়েছিল। অনেক মানুষ দেখেছিল। আপনার মুখটা মানুষ চেনে। সেই মুখ দিয়ে যদি রাজনৈতিক কথা বলানো যায়, তাহলে..."

"তাহলে মানুষ বিশ্বাস করবে।"

"হ্যাঁ।"

করিম আবার চুপ।

ফোন বাজল। করিম ফোনের দিকে তাকাল। বাজতে দিল। বাজতে দিল। বাজতে দিল। তারপর ফোনটা হাতে নিল। বন্ধ করল। পুরো ফোন বন্ধ। স্ক্রিন কালো হয়ে গেল।

"চাচা, পুলিশে যেতে হবে। অভিযোগ করতে হবে। না হলে..."

"পুলিশ কী করবে? পুলিশ কি কম্পিউটারের কথা বোঝে?"

বেলাল চুপ করে গেল। করিম ঠিক বলেছে। থানায় গিয়ে কী বলবে? আমার মুখ দিয়ে ভিডিও বানিয়েছে? ভিডিওতে আমি আছি কিন্তু আমি নেই? দারোগা কি বুঝবে? বুঝলেও কী করবে?

"বেলাল।"

"জি, চাচা।"

"আমার সেই আসল ভিডিওটা কোথায়? যেটা তুই তুলেছিলি?"

"আমার ফোনে আছে। ইউটিউবেও আছে।"

"কেউ কি বুঝবে কোনটা আসল, কোনটা নকল?"

বেলাল কিছু বলতে পারল না।

করিম জানালা থেকে সরে এলো। চেয়ারে বসল। চেয়ারটা কাঠের, পুরনো, একটা পা ছোট, তাই একটু কাত হয়ে থাকে। করিম বসল। কাত হলো।

"আমি কিছু বলিনি, বেলাল। আমি শুধু বলেছিলাম মাটি আমার ছিল। এটুকুই। কারো বিরুদ্ধে কিছু বলিনি। কারো নাম নিইনি। আমি তো রাজনীতি বুঝি না। আমি ধান বুঝি। মাটি বুঝি। সেটাও কেড়ে নিয়েছে। এখন মুখটাও কেড়ে নিল।"

বাইরে একটা সাইরেন বাজল। অ্যাম্বুলেন্স হবে। গাজীপুরে অ্যাম্বুলেন্স অনেক যায়। ফ্যাক্টরির এলাকা। দুর্ঘটনা হয়। সাইরেনটা কাছে এলো, তারপর দূরে চলে গেল।

করিম বলল, "আমি একটু বাইরে যাব।"

বেলাল বলল, "কোথায়?"

"মাঠে।"

বেলাল বুঝল কোন মাঠ। সেই মাঠ। যেটা আর করিম চাচার নেই। যেখানে কোল্ড স্টোরেজ উঠছে। কিন্তু বেলাল কিছু বলল না। করিম চাচা গেলেন, বেলাল পেছনে পেছনে গেল।

বিকেলের রোদ তির্যক। রাস্তায় ধুলো উড়ছে। একটা রিকশায় দুইজন মেয়ে বসে আছে, স্কুলের পোশাক পরা, হাতে বই। রিকশাওয়ালা পা চালাচ্ছে। মেয়ে দুটো হাসছে কিছু একটা নিয়ে। করিম তাদের দিকে তাকাল না। সোজা হাঁটছে।

পনেরো মিনিট হাঁটার পর মাঠ। মাঠ বলা ভুল। এটা এখন নির্মাণস্থল। কোল্ড স্টোরেজের ভিত্তিপ্রস্তর বসেছে। ইটের স্তূপ। বালির স্তূপ। সিমেন্টের বস্তা। একটা মিক্সার মেশিন, এখন বন্ধ। শ্রমিকরা চলে গেছে। সন্ধ্যার আগে কাজ শেষ।

করিম ভেতরে ঢুকল। কেউ আটকাল না। আটকানোর কেউ নেই।

ভিত্তিপ্রস্তরের কাছে গিয়ে দাঁড়াল। এখানেই দাঁড়িয়েছিল সেদিন। এখানেই বেলাল ভিডিও করেছিল। এই জায়গায়। এই মাটিতে।

মাটি। কোল্ড স্টোরেজের ফাউন্ডেশনের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি হয়েছে। মাটি উলটে গেছে। ওপরের মাটি নিচে, নিচের মাটি ওপরে। করিম একসময় এই মাটি চিনত। কোন জায়গায় কী ধান হবে, কোথায় পানি জমে, কোথায় বেলে মাটি, কোথায় এঁটেল। সব জানত। এখন মাটি চেনা যাচ্ছে না। মাটি নিজেই নিজেকে চিনতে পারছে না।

করিম বসে পড়ল। মাটিতে। ভিজে মাটি। কিছু যায় আসে না।

বেলাল দূরে দাঁড়িয়ে আছে। কাছে আসেনি। জানে, এই মুহূর্তে করিম চাচা একা থাকতে চান।

একটা কাক এসে বসল কোল্ড স্টোরেজের ভিত্তিপ্রস্তরের ওপর। কালো কাক। বড়। ডানা একবার ঝাপটাল, তারপর স্থির হয়ে বসল। এদিক ওদিক তাকাল। করিমের দিকে তাকাল। করিম কাকটার দিকে তাকাল। কাকটার কোনো ভাবান্তর নেই। এই জমি কার ছিল, কার হয়েছে, কাকের কিছু আসে যায় না। কাক বসে। কাক ওড়ে। জমির মালিকানা কাকের বিষয় না।

করিম কাকটার দিকে তাকিয়ে রইল। কাকটা তিন-চার সেকেন্ড বসে থাকল। তারপর ডানা মেলে উড়ে গেল। পশ্চিম দিকে। যেখানে সূর্য নামছে।

করিম মাটির দিকে তাকাল। হাত দিয়ে মাটি ছুঁলো। ঠান্ডা। ভেজা। মাটির গন্ধ। এই গন্ধটা একই আছে। মাটি যার কাছেই থাকুক, গন্ধ বদলায় না।

করিম মাটির সাথে কথা বলল। আস্তে। ফিসফিস করে। বেলাল শুনতে পেল না। কেউ শুনতে পেল না।

"তোমাকে নিয়ে গেছে। সেটা তো জানতাম। কিন্তু এখন তো নিজের মুখও নিজের না।"

মাটি কিছু বলল না। মাটি কোনোদিন কিছু বলে না। মাটি শুধু শোনে। ধান শোনে, বৃষ্টি শোনে, পায়ের চাপ শোনে, কান্না শোনে। মাটির ধৈর্য অসীম।

সন্ধ্যায় বেলাল করিমকে ঘরে ফিরিয়ে আনল।

করিমের লুঙ্গিতে মাটি লেগেছে। হাতে মাটি। পায়ে মাটি। করিম ধুল না। বসে রইল।

বেলাল বলল, "চাচা, আমি ভিডিওটা রিপোর্ট করেছি। ফেসবুকে। বলেছি এটা ভুয়া।"

"তাতে কী হবে?"

"হয়তো সরিয়ে দেবে।"

"যারা দেখে ফেলেছে?"

বেলাল চুপ।

"যারা বিশ্বাস করে ফেলেছে?"

বেলাল আরো চুপ।

করিম বলল, "বেলাল, আমি একটা জিনিস বুঝি না। মানুষ আমাকে চেনে না। আমি কেউ না। আমি একটা কৃষক। ছিলাম কৃষক। এখন গার্ড। আমাকে দিয়ে ভিডিও বানিয়ে কী লাভ?"

"আপনার আগের ভিডিওটা ভাইরাল হয়েছিল, চাচা। অনেক মানুষ দেখেছিল। আপনার মুখ মানুষ চেনে। আপনি কেউ না হলেও আপনার মুখটা এখন কেউ।"

করিম ভাবল। "আমার মুখটা কেউ, কিন্তু আমি কেউ না।"

"হ্যাঁ।"

"তাহলে আমার মুখটা আমার থেকে আলাদা হয়ে গেছে।"

বেলাল কিছু বলতে পারল না। কারণ এটা সত্য। আর সত্যের কোনো উত্তর নেই।

রাতে করিম ফোন চালু করল না। বেলাল বলেছিল, "চাচা, সিম বদলান। নম্বর বদলান।" করিম বলেছিল, "এই নম্বর হালিমার কাছে আছে। বাচ্চাদের কাছে আছে। নম্বর বদলালে ওরা আমাকে পাবে না।" বেলাল বলেছিল, "নতুন নম্বর দিয়ে দেবেন।" করিম বলেছিল, "আর কত বদলাব?"

ঘরে অন্ধকার। করিম শুয়ে আছে। ছাদের দিকে তাকিয়ে। এই ছাদ সিমেন্টের। মসৃণ। ধূসর। কোনো ফাটল নেই। আজ সেটা ভালোই লাগছে। কোনো ফাটল নেই, কোনো চিহ্ন নেই, কোনো পরিচয় নেই।

করিম চোখ বন্ধ করল।

তার মুখ এখন ফেসবুকে ঘুরছে। তার গলা এখন কিছু বলছে যা সে বলেনি। মানুষ দেখছে, মানুষ বিশ্বাস করছে, মানুষ রাগ হচ্ছে, মানুষ ফোন করছে। করিমের মুখ, করিমের গলা, করিমের চোয়ালের কম্পন, করিমের চোখের কোণের ভাঁজ, সবকিছু করিমের। শুধু কথাগুলো করিমের না।

আর কথাই তো আসল জিনিস। মানুষ মুখ দেখে না। মানুষ কথা শোনে।

করিম পাশ ফিরল। দেয়ালের দিকে তাকাল। দেয়ালে একটা পেরেক। পেরেকে কিছু ঝুলছে না।

বাইরে গাজীপুরের রাস্তায় ট্রাক যাচ্ছে। রাতের শিফট। কাপড়ের ট্রাক। পৃথিবীর কোথাও কেউ একটা সোয়েটার পরবে, জানবে না এই ট্রাকের কথা, এই রাস্তার কথা, এই ঘরের কথা, যেখানে একটা মানুষ শুয়ে আছে, যার মুখ আর তার নিজের নেই।