যে গ্রামটা বদলে গেলো
পীরগঞ্জে ফেরা হলো না করিমের।
কিন্তু পীরগঞ্জ থেমে থাকেনি। পীরগঞ্জের কোনো কারণ নেই থেমে থাকার। গ্রাম তো মানুষের জন্য অপেক্ষা করে না। মানুষই গ্রামের জন্য অপেক্ষা করে, দূর শহরে বসে, রাতের বেলা, যখন ঘুম আসে না।
---
করিমের জমিটা ছিল তিন বিঘা। বাবার কাছ থেকে পাওয়া। বাবা পেয়েছিলেন তাঁর বাবার কাছ থেকে। জমির ইতিহাস এরকমই, একটা লম্বা হাত বদলের গল্প, যেখানে প্রত্যেকে মনে করে জমিটা তার নিজের, কিন্তু আসলে জমি কারোরই না। জমি জমির।
সেই তিন বিঘায় এখন একটা কোল্ড স্টোরেজ দাঁড়িয়ে আছে। টিনের ছাদ, ইটের দেয়াল, সামনে একটা সাইনবোর্ড। সাইনবোর্ডে লেখা "পীরগঞ্জ কৃষি সংরক্ষণাগার"। নিচে ছোট করে ইংরেজিতে লেখা "AI-Managed Cold Storage"। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ ইংরেজিটা পড়তে পারে না, কিন্তু তারা জানে ভেতরে একটা যন্ত্র আছে যেটা নিজে থেকে তাপমাত্রা ঠিক রাখে। আলু নষ্ট হয় না। পেঁয়াজ পচে না। এটুকু জানলেই চলে।
কোল্ড স্টোরেজে আটজন কাজ করে। আটজন। করিমের সেই তিন বিঘা জমিতে পনেরোটা পরিবারের ভাত জুটতো। ধান লাগাতো, ধান কাটতো, মাড়াই করতো, শুকাতো, বস্তায় ভরতো। পনেরোটা পরিবারের নারী-পুরুষ-শিশু মিলে একটা ঋতুচক্র পার করতো। এখন আটজন বেতনভুক্ত কর্মী। তারা সকালে আসে, বিকালে যায়। কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার একটা ল্যাপটপে তাপমাত্রার গ্রাফ দেখে। সফটওয়্যার বলে দেয় কখন কম্প্রেসার চালু করতে হবে, কখন বন্ধ করতে হবে। ম্যানেজারের নাম আক্তার। আক্তারের বয়স পঁয়ত্রিশ। সে আগে রংপুর শহরে একটা মোবাইল ফোনের দোকানে কাজ করতো। কোল্ড স্টোরেজের চাকরিটা তার কাছে উন্নতি।
আক্তার বলে, "সিস্টেম নিজেই বলে দেয় কী করতে হবে। আমার কাজ শুধু দেখা যে সিস্টেম ঠিকঠাক চলছে কি না।"
এই কথাটা সে গর্ব করে বলে। কারণ সিস্টেম বোঝা মানে এখন একটা দক্ষতা। যে বোঝে সে কাজ পায়। যে বোঝে না সে বসে থাকে।
---
গ্রামে মানুষ কমেছে। এটা চোখে দেখা যায়। রাস্তায় হাঁটলে আগে যেখানে দশজনের সাথে দেখা হতো, এখন তিনজনের সাথে হয়। বাড়িগুলো আছে, কিন্তু অনেক বাড়িতে শুধু বুড়ো মানুষ আর বাচ্চা। মাঝের প্রজন্ম, কাজ করার বয়সের পুরুষেরা, তারা গেছে। ঢাকা গেছে, চট্টগ্রাম গেছে, গাজীপুরের গার্মেন্টসে গেছে। কেউ কেউ মালয়েশিয়া গেছে, সৌদি গেছে। তারা মাসে মাসে টাকা পাঠায়। বিকাশে টাকা আসে। নগদে টাকা আসে। সেই টাকায় বাড়ি চলে।
মেয়েরা বাড়ি সামলায়। এটা নতুন কোনো ঘটনা না। গ্রামের মেয়েরা সবসময়ই বাড়ি সামলিয়েছে। কিন্তু আগে পুরুষেরা থাকতো, সিদ্ধান্ত নিতো, বাজার করতো, বাইরের জগতের সাথে যোগাযোগ রাখতো। এখন মেয়েরা সব করে। বাজারও করে, সিদ্ধান্তও নেয়। না চাইতেই একটা স্বাধীনতা এসে গেছে, যেটার সাথে এসেছে একটা ক্লান্তি।
ফাতেমা পঞ্চাশ বছরের মহিলা। তার স্বামী সৌদিতে, রিয়াদে, একটা নির্মাণ কোম্পানিতে কাজ করে। গত তিন বছরে একবার দেশে এসেছে, দুই সপ্তাহ থেকে আবার চলে গেছে। ছেলে ঢাকায়, একটা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাটিং সেকশনে কাজ করে। ফাতেমা একা বাড়ি চালায়। গরু আছে দুটো, হাঁস আছে কয়েকটা, উঠোনে লাউ গাছ, পেছনে একটুকরো জমিতে সবজি। ফাতেমার দিন শুরু হয় ফজরের আজানের আগে, শেষ হয় এশার পরে।
ফাতেমার পাশের বাড়িতে থাকে রাবেয়া। রাবেয়ার স্বামী মালয়েশিয়ায়। আর তার পাশে জোহরা, জোহরার স্বামী চট্টগ্রাম বন্দরে কাজ করে। তিনজন মিলে মাঝে মাঝে একসাথে বসে। চা খায়। কথা বলে। কথার বিষয় সবসময় একই, বাচ্চাদের পড়ালেখা, গরুর খাবারের দাম, আর কবে মানুষেরা ফিরবে। ফিরবে কি না সেটা কেউ জিজ্ঞেস করে না। ফিরবে, এই ধরে নেওয়াটাই ভরসা।
ফাতেমা বলে, "আগে মাঠে কাজ ছিল। এখন মাঠে কাজ নাই। তো মানুষ যাবে কোথায়? যেখানে কাজ আছে সেখানে যাবে।"
এই কথাটা সে খুব সহজভাবে বলে। যেন আবহাওয়ার কথা বলছে। রোদ উঠেছে, বৃষ্টি হবে, মানুষ চলে গেছে। সব একই রকম স্বাভাবিক। ফাতেমা জীবনে অনেক কিছু মেনে নিয়েছে। এটাও মেনে নিয়েছে।
---
মোবাইল টাওয়ারটা উঠেছে গত বছর। বাজারের পাশে, মসজিদের পেছনে, একটা লম্বা লোহার খুঁটি আকাশের দিকে উঠে গেছে। টাওয়ারটা ওঠার পর গ্রামে ইন্টারনেট ভালো হয়েছে। আগে ফোনে কথা বলতে গেলে বাড়ির পেছনে আমগাছের নিচে দাঁড়াতে হতো, সেখানে একটু নেটওয়ার্ক পাওয়া যেতো। এখন ঘরে বসেই পাওয়া যায়।
ইন্টারনেট ভালো হওয়ার পরে একটা জিনিস হয়েছে। কৃষি অ্যাপ এসেছে। ফোনে একটা অ্যাপ, সেখানে ছবি তুলে দিলে বলে দেয় ফসলের কী রোগ হয়েছে, কী ওষুধ দিতে হবে, কতটুকু দিতে হবে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়। কখন সার দিতে হবে বলে দেয়। যারা ব্যবহার করে তারা বলে ভালো কাজ করে। ফলন বেড়েছে।
কিন্তু একটা সমস্যা আছে। অ্যাপটা চালাতে ইন্টারনেট লাগে। ইন্টারনেটের জন্য প্যাকেজ কিনতে হয়। প্যাকেজ কিনতে টাকা লাগে। যার টাকা আছে সে কেনে, যার নেই সে কেনে না। আবার অ্যাপটা যে ভাষায় কথা বলে সেটা মাঝে মাঝে গ্রামের মানুষের ভাষা না। "নাইট্রোজেন ডেফিসিয়েন্সি" লেখা থাকে। গ্রামের কৃষক বলে, "পাতা হলদে হইছে।" দুটো একই কথা, কিন্তু ভাষা আলাদা।
তবু যারা ব্যবহার করতে পারে তাদের জন্য ভালো। আক্তারের শ্যালক সোহেল, সে এই অ্যাপ দিয়ে গত মৌসুমে আলুর ফলন বাড়িয়েছে। সে বলে, "আগে আন্দাজে সার দিতাম। এখন অ্যাপ বলে দেয় কতটুক দিতে হবে। খরচ কমছে, ফলন বাড়ছে।"
সোহেলের পাশের জমির কৃষক মতিন। মতিনের স্মার্টফোন নেই। একটা বোতামওয়ালা ফোন আছে। মতিন সোহেলের ফলন দেখে, কিন্তু কিছু বলে না। চুপচাপ নিজের জমিতে কাজ করে। আগের মতো আন্দাজে সার দেয়। আগের মতো ফলন পায়। মতিনের জমি আর সোহেলের জমি পাশাপাশি, কিন্তু দুটো যেন দুটো আলাদা সময়ে আছে।
---
আজিজ মারা গেছে গত বর্ষায়। মাঠে কাজ করতে করতে বুকে ব্যথা ওঠে। পাশের লোকজন ধরাধরি করে বাড়িতে আনে। উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই শেষ। হার্ট অ্যাটাক।
আজিজের বয়স হয়েছিল বাষট্টি। সারাজীবন মাঠে কাজ করেছে। শরীর শক্ত ছিল, কিন্তু বুকের ভেতরের জিনিস তো বাইরে থেকে দেখা যায় না। ডাক্তারের কাছে কখনো যায়নি। গ্রামের মানুষ ডাক্তারের কাছে যায় না, যতক্ষণ না শরীর পুরোপুরি অচল হয়ে যায়। আজিজও যায়নি। বুকে মাঝে মাঝে চাপ লাগতো, সে ভাবতো গ্যাস হয়েছে। গ্যাসের ওষুধ খেতো। একদিন গ্যাস আর গ্যাস রইলো না।
গ্রামের মানুষ বলে, "আজিজ ভাই ভালো মানুষ ছিল।" এই কথাটা সবার জন্যই বলা হয় মৃত্যুর পরে, কিন্তু আজিজের বেলায় কথাটা সত্যি ছিল। সে সত্যিই ভালো মানুষ ছিল। প্রতিবেশীর ধানে আগুন লাগলে নিজের পানি দিয়ে নেভাতো। কারো গরু হারিয়ে গেলে খুঁজে দিতো। বর্ষায় কারো বাড়িতে পানি উঠলে নিজের বাড়িতে জায়গা দিতো। এরকম মানুষ। এরকম মানুষ গ্রামে একটাই থাকে। আজিজ চলে যাওয়ার পর সেই জায়গাটা ফাঁকা।
আজিজের ছেলে রফিক। বয়স চব্বিশ। আজিজের যে সামান্য জমি ছিল সেটা আজিজ বেঁচে থাকতেই বিক্রি হয়ে গেছে। ঋণ শোধ করতে হয়েছিল। রফিকের কাছে এখন জমি নেই। একটা ফোন আছে। স্মার্টফোন। স্ক্রিনে একটা চিড় ধরেছে, কিন্তু চলে। রফিক সেই ফোনে ইউটিউব দেখে, ফেসবুক চালায়, মাঝে মাঝে ফ্রিল্যান্সিংয়ের বিজ্ঞাপন দেখে। ফ্রিল্যান্সিং কী জিনিস সেটা সে পুরোপুরি বোঝে না, কিন্তু শুনেছে ঘরে বসে টাকা কামানো যায়।
রফিক দিনের বেশিরভাগ সময় বাজারে বসে থাকে। চায়ের দোকানে। সেখানে আরো কয়েকজন তার বয়সী ছেলে বসে থাকে। তারা সবাই একই রকম। জমি নেই, চাকরি নেই, একটা ফোন আছে, আর একটা অস্পষ্ট ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে। তাদের বাবারা মাটি চিনতো, ঋতু চিনতো, বীজ চিনতো। তারা স্ক্রিন চেনে। স্ক্রিনে দেখে অন্য দেশের মানুষ কীভাবে থাকে, কী খায়, কী পরে। তারপর নিজেদের দিকে তাকায়। তুলনা করে। তুলনাটা সুখকর হয় না।
রফিক একদিন চায়ের দোকানে বসে ফোনে একটা ভিডিও দেখছিল। ভিডিওতে একটা ছেলে, বয়সে রফিকের মতোই, দেখাচ্ছে কীভাবে সে মাসে পঞ্চাশ হাজার টাকা কামায় ফ্রিল্যান্সিং করে। ছেলেটার ঘরে এয়ার কন্ডিশনার চলছে, টেবিলে ল্যাপটপ, পেছনে LED লাইট। রফিক ভিডিওটা দেখে ভাবলো সেও পারবে। কিন্তু ল্যাপটপ কোথায়? ল্যাপটপ কেনার টাকা কোথায়? আর কী শিখবে, কীভাবে শিখবে, কে শেখাবে? ভিডিওটা বলে, "আপনিও পারবেন।" রফিক জানে সে পারবে না। কিন্তু ভিডিও দেখা বন্ধ করে না।
রফিক একদিন আক্তারকে জিজ্ঞেস করেছিল, "কোল্ড স্টোরেজে কাজ পাওয়া যাবে?"
আক্তার বলেছিল, "এখন তো কেউ ছাড়ছে না। কেউ ছাড়লে বলবো।"
রফিক আর জিজ্ঞেস করেনি। সে জানে আক্তার বলবে না। ভুলে যাবে, অথবা আগে অন্য কাউকে বলবে, নিজের আত্মীয়কে, পরিচিত কাউকে। রফিকের মতো ছেলেদের জন্য কাজ থাকে না। কাজ তাদের জন্য যারা কাউকে চেনে, যাদের একটা সংযোগ আছে, একটা সুতো আছে যেটা টানলে একটা দরজা খুলে যায়। রফিকের সেই সুতো নেই।
---
আজিজের ছাগলটা এখনো বেঁচে আছে। সেই ছাগল, যেটা বেড়া খেতো। আজিজ বেঁচে থাকতে সবাই বলতো, "আজিজ ভাই, তোমার ছাগলে আমার বেড়া খাইছে।" আজিজ হাসতো, ছাগল ধরে বেঁধে রাখতো, পরদিন ছাগল আবার বেড়া খেতো। আজিজ মারা যাওয়ার পর ছাগলটা বিক্রি হয়ে গেছে। হালিম মিয়া কিনেছে। হালিম মিয়ার বাড়িতেও ছাগলটা বেড়া খায়। হালিম মিয়া বলে, "এই ছাগলের পেটে আগুন। সারাদিন খায়, তাও পেট ভরে না।" ছাগলের মালিক বদলেছে। ছাগলের স্বভাব বদলায়নি।
---
মসজিদটা আগের মতোই আছে। সেই একই টিনের ছাদ, সেই একই মাইক, সেই একই আজানের সুর। ইমাম সাহেব বুড়ো হয়েছেন, কিন্তু গলার জোর আগের মতোই। ফজরের আজান দেন, মাগরিবের আজান দেন। মসজিদের সামনের পুকুরে এখনো মানুষ অজু করে। পুকুরের পানিতে এখনো শাপলা ফোটে। কিছু কিছু জিনিস বদলায় না। মসজিদ সেরকম একটা জিনিস। গ্রাম ফাঁকা হয়ে গেলেও মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হয়। মানুষ কম, কিন্তু হয়।
নদীটাও আগের মতো। তিস্তা। শুকনো মৌসুমে পানি থাকে না, বর্ষায় দুকূল ভাসিয়ে দেয়। নদীর এই স্বভাব হাজার বছরের পুরোনো। কোল্ড স্টোরেজ আসুক, মোবাইল টাওয়ার আসুক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আসুক, নদী তার নিজের নিয়মে চলে। নদীর কোনো অ্যাপ লাগে না। নদী কারো কাছ থেকে পরামর্শ নেয় না। সে তার পানি নিয়ে আসে, রেখে যায়, চলে যায়। পরের বছর আবার আসে।
---
সন্ধ্যার সময় গ্রামটা চুপ হয়ে যায়। আগে সন্ধ্যায় উঠোনে মানুষজন বসতো। গল্প করতো। বাচ্চারা খেলতো। এখন উঠোনগুলো ফাঁকা। ঘরের ভেতরে ফোনের নীল আলো জ্বলে। ফাতেমা ফোনে ছেলের সাথে কথা বলে। রফিক ফোনে রিলস দেখে। আক্তার ফোনে কোল্ড স্টোরেজের তাপমাত্রা চেক করে। হালিম মিয়া ফোনে ওয়াজ শোনে। সবাই আলাদা আলাদা ঘরে, আলাদা আলাদা পর্দায়, একই গ্রামে থেকেও একা।
কোল্ড স্টোরেজের ভেতরে কম্প্রেসার চলছে। একটানা গুনগুন শব্দ। সফটওয়্যার তাপমাত্রা মাপছে, আর্দ্রতা মাপছে, হিসাব করছে কখন কী করতে হবে। ভেতরে আলু আছে, পেঁয়াজ আছে, আদা আছে। সব ঠান্ডায় ঘুমিয়ে আছে। বাইরে রাতের অন্ধকার। ঝিঁঝিঁ পোকা ডাকছে। একটা কুকুর দূরে কোথাও ডাকছে।
করিমের জমির ওপর দাঁড়ানো কোল্ড স্টোরেজের ছাদে শিশির পড়ছে। সেই শিশির আগেও পড়তো। তখন ধানের পাতায় পড়তো। এখন টিনের ওপর পড়ে। শিশিরের কিছু যায় আসে না। সে তার কাজ করে যায়।
গ্রামটাও তার কাজ করে যায়। কম মানুষ নিয়ে, বদলে যাওয়া চেহারা নিয়ে, নতুন যন্ত্র আর পুরোনো নদী নিয়ে। কেউ জিজ্ঞেস করে না গ্রাম ভালো আছে কি না। গ্রামকে কেউ কোনোদিন জিজ্ঞেস করে না।
---
রাত গভীর হলে কোল্ড স্টোরেজের বাতি নেভে। শুধু ভেতরের যন্ত্র চলতে থাকে, অন্ধকারে, নিজে নিজে। বাইরে, মসজিদের মিনারের ওপরে, একটা সাদা বক এসে বসে। বকটা সারাদিন কোথায় ছিল কেউ জানে না। সে মিনারের চূড়ায় বসে ঘাড় গুঁজে ঘুমায়। তার নিচে ঘুমন্ত গ্রাম, তার ওপরে অসংখ্য তারা।