দুই মেয়ের গল্প

মিতু আর ফাতেমা, একই বয়স, দুই জগৎ

পর্ব ৬১ · ১০ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-১৮

সকাল ছয়টায় মিতুর অ্যালার্ম বাজে।

ফোনের স্ক্রিনে একটা নোটিফিকেশন: "স্ট্যান্ডআপ মিটিং ৯:৩০।" মিতু অ্যালার্ম বন্ধ করে আরো পাঁচ মিনিট চোখ বন্ধ করে থাকে। বিছানাটা নরম। এসি চলছে। জানালায় পর্দা টানা, বাইরের আলো ঢুকতে পারছে না। ঢাকার গুলশানের এই ফ্ল্যাটে সকাল আসে ধীরে, যখন মিতু অনুমতি দেয়।

পঁচিশ বছর বয়স মিতুর।

---

সকাল ছয়টায় ফাতেমার ঘুম ভাঙে মোরগের ডাকে।

মোরগটা উঠানের কোণে, বাঁশের খোঁয়াড়ে। সকাল হলেই চেঁচায়। ফাতেমা খাটিয়া থেকে উঠে বসে। পাশে ছোট মেয়ে রুবি ঘুমাচ্ছে। বড় মেয়ে নাজমা মাটিতে কাঁথা বিছিয়ে শুয়ে। ফাতেমা পা মেঝেতে রাখে। মাটির মেঝে ঠান্ডা।

পঁচিশ বছর বয়স ফাতেমার।

---

মিতু বাথরুমে ঢুকে গিজার চালু করে। গরম পানি আসতে একটু সময় লাগে। সেই ফাঁকে সে দাঁত মাজে। আয়নায় নিজেকে দেখে। চোখের নিচে একটু কালি পড়েছে, কাল রাতে দেরি করে ঘুমিয়েছিল। একটা বাগ ধরতে পারছিল না, বাংলা টোকেনাইজারে। "যুক্তবর্ণ" ভাঙলে ভুল টোকেন তৈরি হচ্ছিল। রাত দুইটায় সমাধান পেয়েছে। ঘুমানোর আগে গিটহাবে পুশ করেছে।

মিতু শাওয়ারের নিচে দাঁড়ায়। গরম পানি ঘাড়ে পড়ে। চোখ বন্ধ করে। মাথায় এখনো কোড ঘুরছে। ইউনিকোড নরমালাইজেশন ঠিক করতে হবে। "ক্ষ" আর "ক" + "্" + "ষ" আলাদা বাইট সিকোয়েন্স, কিন্তু মানুষের চোখে একই। কম্পিউটার এই তফাৎ বোঝে, মানুষ বোঝে না।

---

ফাতেমা নলকূপে যায়।

বাড়ি থেকে নলকূপ তিন মিনিটের হাঁটা পথ। কলসি কোমরে। পায়ে চটি, ডান পায়েরটার ফিতা ছেঁড়া, তার দিয়ে বেঁধেছে। নলকূপের হাতলটা ভারী। উপর নিচ, উপর নিচ। পানি আসতে একটু সময় লাগে, মাটির নিচ থেকে টেনে আনতে হয়। তারপর ঠান্ডা পানি ঝরঝর করে বেরোয়।

কলসি ভরে। ফাতেমা মাথায় তোলে। ফেরার পথে পাশের বাড়ির রহিমা ভাবি ডাকে, "ফাতেমা, তোর মাইয়াডারে স্কুলে দিবি না?"

ফাতেমা থামে না। বলে, "দিমু।"

কিন্তু সে জানে দেবে না। নাজমার বয়স সাত। স্কুল দুই কিলোমিটার দূরে। রিকশা ভাড়া দশ টাকা, আসা যাওয়া বিশ। মাসে ছয়শো। ফাতেমার স্বামী জামাল মাসে কত আনে সেটা ফাতেমা ঠিক জানে না। কখনো তিন হাজার, কখনো পাঁচ, কখনো কিছুই না। রাইস মিলে কাজ করতো। এখন মিলে মেশিন বসেছে। মানুষ লাগে না আগের মতো।

---

মিতু রান্নাঘরে যায়। ফ্রিজ খোলে। দুধ, ডিম, পাউরুটি। কফি মেশিনে ক্যাপসুল ঢুকিয়ে বোতাম চাপে। মেশিন গুনগুন করে, কাপে কফি পড়ে। মিতু ডিম ভাজে। পাউরুটি টোস্ট করে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খায়, ফোনে স্ল্যাক চেক করতে করতে। টিম লিড মেসেজ দিয়েছে: "টোকেনাইজার ফিক্স দেখলাম, চমৎকার। রিভিউ দেবো সকালে।"

মিতু একটু হাসে। তারপর খাবার শেষ করে।

এই ফ্ল্যাটের ভাড়া মাসে পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা। মিতুর বেতন এর অনেক বেশি। সে একটা বাংলাদেশি এআই কোম্পানিতে কাজ করে। লিড ডেভেলপার। বাংলা ভাষার জন্য একটা বড় মডেল তৈরি হচ্ছে, মিতু সেই দলে। দলে বারোজন। মিতু সবার ছোট, কিন্তু কোড সবার চেয়ে ভালো লেখে। এটা মিতু জানে। অহংকার না, তথ্য।

---

ফাতেমা চুলায় আগুন ধরায়।

মাটির চুলা। কাঠ আর শুকনো পাতা। ধোঁয়া ওঠে। ফাতেমার চোখ জ্বালা করে। সে ভাত চড়ায়। ডাল চড়ায়। আলু থাকলে আলু ভাজি হবে, না থাকলে শুধু ডাল ভাত। আজ আলু আছে। তিনটা। ছোট ছোট। একটা কেটে দেখে ভেতরে কালো দাগ। সেটা বাদ দেয়।

নাজমা উঠে এসেছে। চোখ কচলাচ্ছে। "আম্মু, ক্ষিদা লাগছে।"

"বসো। ভাত হচ্ছে।"

রুবি এখনো ঘুমাচ্ছে। রুবির বয়স তিন। ফাতেমার ছোট মেয়ে। ফাতেমা আঠারোতে বিয়ে হয়েছিল। উনিশে নাজমা, বাইশে রুবি। ক্লাস টেনের পরে পড়াশোনা আর হয়নি। বাবা করিম বলেছিল, "মেয়েমানুষের এত পড়ার কী দরকার।" ফাতেমা কিছু বলেনি। বলার কিছু ছিল না। চারপাশের সব মেয়ের একই গল্প।

---

সকাল নয়টায় মিতু অফিসে পৌঁছায়।

অফিসটা বনানীতে। দশতলা বিল্ডিংয়ের ছয়তলায়। লিফটে উঠতে উঠতে মিতু কানে এয়ারপড লাগায়। কিছু শোনে না, শুধু বাইরের শব্দ বন্ধ করে। লিফটের আয়নায় নিজেকে দেখে। জিনস, কালো টি-শার্ট, চুল বেঁধে পেছনে। ল্যাপটপ ব্যাগ কাঁধে।

অফিসে ঢুকলে ঠান্ডা বাতাস গায়ে লাগে। সেন্ট্রাল এসি। মিতু নিজের ডেস্কে বসে। দুটো মনিটর। মেকানিক্যাল কিবোর্ড। একটা ছোট ক্যাকটাস টবে, ডেস্কের কোণে। ক্যাকটাসের নাম "বাগ।" মিতু নিজে নাম দিয়েছে। কেন সেটা কেউ জিজ্ঞেস করেনি।

মিতু ল্যাপটপ খোলে। টার্মিনাল চালু করে। কাল রাতের কোড পুল করে। বাংলা টোকেনাইজারের কোডবেস। লক্ষ লক্ষ লাইন না, কিন্তু জটিল। বাংলা ভাষার নিয়ম অনেক। হসন্ত, যুক্তাক্ষর, কার, ফলা। কম্পিউটারকে শেখাতে হবে "বাংলা" বলতে কী বোঝায়। মিতু সেটাই করছে।

কফি আনতে উঠে যায়। অফিসের প্যান্ট্রিতে মেশিন আছে। ক্যাপুচিনো নেয়। ফিরে এসে কোড রিভিউ শুরু করে। আরেকজন ডেভেলপারের পুল রিকোয়েস্ট। কোড পড়ে। একটা জায়গায় থামে। ভুল আছে। "ং" আর "ঙ" আলাদা করতে পারছে না। কমেন্ট লেখে, ভদ্রভাবে, কিন্তু পরিষ্কার।

---

সকাল নয়টায় ফাতেমা বাসন মাজে।

পুকুরের ধারে বসে ছাই দিয়ে বাসন ঘষে। থালা, বাটি, হাঁড়ি। হাতে ছাই লাগলে চামড়া রুক্ষ হয়ে যায়। ফাতেমার হাত দেখলে বোঝা যায় না বয়স পঁচিশ। হাত দেখলে মনে হয় চল্লিশ।

জামাল সকালে বেরিয়ে গেছে। কাজ খুঁজতে। রাইস মিলে যন্ত্র বসার পর থেকে জামালের কাজ নেই। আগে ধান ঝাড়াই, বস্তা বহন, চালান দেওয়া, এসব করতো। এখন যন্ত্র করে। একটা যন্ত্র দশজন মানুষের কাজ করে। মিলের মালিক সাত্তার সাহেব বলেছিল, "কী করবো ভাই, সময় বদলাইছে। মেশিনে খরচ কম, ভুল কম।"

জামাল তখন জিজ্ঞেস করেছিল, "আমরা কী করবো?"

সাত্তার সাহেব কোনো উত্তর দেয়নি। শুধু কাঁধ ঝাঁকিয়েছিল।

এখন জামাল দিনমজুর। যেদিন কাজ পায়, তিনশো টাকা। যেদিন পায় না, শূন্য। সপ্তাহে তিন দিন পেলে ভালো। দুই দিন পেলে চলে। এক দিন পেলে ডাল ভাত। না পেলে পান্তা।

---

দুপুর বারোটায় মিতু অ্যাপ খুলে খাবার অর্ডার দেয়।

অফিসে ক্যান্টিন আছে, কিন্তু আজ মন চায় না। থাই খাবার খাবে। ফোনে ট্যাপ করে, গ্রিন কারি আর স্টিম রাইস সিলেক্ট করে, পে করে। বিশ মিনিটে আসবে। মিতু আবার কোডে ডুবে যায়।

তার সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন: বাংলা টোকেনাইজারে একটা এজ কেস। কিছু পুরনো বাংলা টেক্সটে "রেফ" সঠিকভাবে পার্স হচ্ছে না। "কর্ম" লিখলে মডেল বিভ্রান্ত হচ্ছে। ছোট সমস্যা, কিন্তু মিতুর কাছে ছোট সমস্যা বলে কিছু নেই। প্রতিটা টোকেন ঠিক না হলে পুরো মডেল ভুল শেখে। একটু ভুল ভিত্তি, আর পুরো ভবন কাত।

খাবার আসে। মিতু খায়। তারপর আবার কোড।

---

দুপুর বারোটায় ফাতেমা রান্না শেষ করে।

ভাত, ডাল, আলু ভাজি। নাজমা আর রুবিকে খাইয়ে নিজে খায়। কম খায়। অভ্যাস। নিজের পেটে কম দিলে ছেলেমেয়ের পেটে বেশি যায়, এই অঙ্ক ফাতেমা ক্লাস টেনের আগেই শিখে ফেলেছিল।

খাওয়ার পর রুবি ঘুমায়। নাজমা উঠানে খেলে। ফাতেমা উঠানের কোণে বসে একটু বিশ্রাম নেয়। বিশ্রাম মানে কিছু না করা। ফাতেমার জীবনে কিছু না করার সময় প্রায় নেই। কিন্তু এই দুপুরের আধঘণ্টা সে চুরি করে। রুবি ঘুমাচ্ছে, নাজমা খেলছে, জামাল বাইরে। এই আধঘণ্টা ফাতেমার।

সে আকাশের দিকে তাকায়। মেঘ নেই আজ। রোদ কড়া। আমগাছের ছায়ায় বসে আছে। গাছে ছোট ছোট আম ধরেছে, কাঁচা, সবুজ। আরো দুই মাস লাগবে পাকতে।

ফাতেমা ভাবে, জামাল আজ কাজ পাবে কি না। গত সপ্তাহে দুই দিন পেয়েছিল। এই সপ্তাহে এখনো একদিনও পায়নি। আজ মঙ্গলবার।

---

বিকেলে মিতুর টিম মিটিং হয়।

কনফারেন্স রুমে সাতজন বসে। বড় স্ক্রিনে স্লাইড। মিতু টোকেনাইজারের প্রোগ্রেস দেখায়। দলে সবাই খুশি। সিটিও বলেন, "ভালো যাচ্ছে। এই গতিতে চললে ডিসেম্বরে বেটা লঞ্চ।"

মিতু মিটিংয়ের পর ডেস্কে ফেরে। ইয়ারপডে গান লাগায়। কোড লেখে। বিকেলের আলো জানালা দিয়ে ঢুকে মনিটরে পড়ে। মিতু পর্দা টানে।

সন্ধ্যা ছয়টায় অফিস থেকে বের হয়। রাইড শেয়ার অ্যাপে গাড়ি ডাকে। গাড়ি আসতে তিন মিনিট। এসি গাড়িতে বসে মিতু ফোন দেখে। ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল করে। একটা রিল দেখে, বিড়াল একটা বাক্সে ঢুকতে চাইছে কিন্তু মোটা হয়ে ঢুকতে পারছে না। মিতু হাসে।

---

বিকেলে ফাতেমা আবার নলকূপে যায়।

বিকেলের পানি। সন্ধ্যার রান্নার জন্য। আবার কলসি, আবার তিন মিনিট হাঁটা, আবার হাতল ওঠানামা। পানি ভারী। মাথায় নিয়ে ফেরার পথে ফাতেমার ঘাড়ে ব্যথা করে। সবসময় করে। সে পাত্তা দেয় না।

বাড়িতে ফিরে দেখে রুবি উঠানে বসে আছে। মাটিতে একটা শুকনো ডাল দিয়ে কিছু আঁকছে। ফাতেমা কলসি নামিয়ে রেখে কাছে যায়। দেখে, রুবি মাটিতে একটা চারকোনা আঁকছে। চারকোনার ভেতরে একটা গোল। তারপর গোলের নিচে একটা লম্বা দাগ।

ফোন।

রুবি ফোন আঁকছে। যেটা সে কখনো ব্যবহার করেনি। পাশের বাড়ির ছেলে সোহেলের হাতে দেখেছে হয়তো, অথবা বাজারে কারো হাতে। তিন বছরের মেয়ে। মাটিতে ডাল দিয়ে ফোন আঁকছে।

ফাতেমা কিছু বলে না। সন্ধ্যার রান্নায় যায়।

---

রাত নয়টায় মিতু বাসায় ফেরে।

ফ্ল্যাটে ঢুকে জুতো খোলে, ব্যাগ রাখে, ফ্রিজ থেকে পানি বের করে খায়। তারপর সোফায় বসে ল্যাপটপ খোলে। অফিসের কাজ না। নিজের একটা সাইড প্রজেক্ট। বাংলায় কবিতা জেনারেট করার একটা ছোট মডেল। শখের জিনিস। কাজের চাপ কম থাকলে ঘণ্টাখানেক এটা নিয়ে খেলে।

মিতু চায়ের পানি চড়ায়। ইলেকট্রিক কেটলে। দুই মিনিটে ফুটে যায়। আদা চা বানায়। চায়ের কাপ হাতে নিয়ে আবার সোফায়। ল্যাপটপের স্ক্রিনে কোড। মিতুর মুখে স্ক্রিনের আলো। নীলচে।

রাত বারোটায় ঘুমায়।

---

রাত নয়টায় ফাতেমা রান্নাঘর গুছিয়ে শেষ করে।

জামাল ফিরেছে সন্ধ্যায়। আজ কাজ পায়নি। কোনো কথা বলেনি ফিরে। চুপচাপ খেয়ে শুয়ে পড়েছে। ফাতেমা বাসন ধুয়ে, চুলার ছাই সরিয়ে, পানির কলসি ভরে রেখে, ঘরে ঢোকে। নাজমা আর রুবি ঘুমিয়ে গেছে। জামালও ঘুমিয়ে গেছে।

ফাতেমা খাটিয়ায় বসে। কেরোসিনের বাতি জ্বলছে ক্ষীণ। বিদ্যুৎ আছে এই এলাকায়, কিন্তু তারের সমস্যা, সন্ধ্যার পর প্রায়ই থাকে না।

ফাতেমা বসে থাকে। কিছু করে না। কিছু ভাবে কি না, সেটা ফাতেমা ছাড়া কেউ জানে না। হয়তো ভাবে। হয়তো ভাবে না। ক্লান্ত মানুষের ভাবনার জন্যও শক্তি লাগে, আর শক্তি ফাতেমার কাছে বিলাসিতা।

সে শুয়ে পড়ে। রুবি ঘুমের মধ্যে ঘেঁষে আসে। ফাতেমা মেয়ের মাথায় হাত রাখে।

বাইরে ঝিঁঝিঁ পোকা ডাকছে। নিস্তব্ধ রাত। দূরে কোনো ব্যাঙ ডাকছে, একটানা, একই সুরে। আমগাছের পাতায় বাতাস লাগে, কিন্তু আওয়াজ প্রায় নেই।

---

দুই হাজার দশ সালে দুটো মেয়ে জন্মেছিল।

একটা ঢাকায়। বাবা গার্মেন্টস শ্রমিক, মা গৃহকর্মী। ছোট ঘর, কিন্তু ঢাকায়। স্কুল কাছে। কম্পিউটার ল্যাব আছে। একজন শিক্ষক পাইথন দেখিয়েছিলেন একদিন। সেই একদিন যথেষ্ট ছিল।

আরেকটা কুড়িগ্রামে। বাবা করিম, দিনমজুর। মা সকিনা, গৃহিণী। স্কুল দুই কিলোমিটার দূরে। ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়েছে। তারপর বিয়ে। তারপর সংসার। তারপর আর কিছু না।

এটুকুই। আর কিছু বলার নেই।

---

রাতে গুলশানের ফ্ল্যাটে মিতু ঘুমায়। এসি চলে। বাইরে ঢাকার যানজটের শেষ শব্দ থেমে গেছে।

কুড়িগ্রামের কাঁচা ঘরে ফাতেমা ঘুমায়। কেরোসিনের বাতি নিভে গেছে।

উঠানের মাটিতে রুবির আঁকা ফোনটা পড়ে আছে। চাঁদের আলোয় দাগগুলো দেখা যায়। চারকোনা। তার ভেতরে গোল। তার নিচে একটা দাগ। কেউ দেখছে না। সকালে নাজমার পায়ে মুছে যাবে, অথবা বৃষ্টিতে ধুয়ে যাবে, অথবা বাতাসে ধুলো এসে ঢেকে দেবে। এটা মাটিতে আঁকা। মাটিতে আঁকা জিনিস থাকে না।