তানিয়ার ক্লাসরুম
১
ক্লাসরুমটায় এসি কাজ করে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের তৃতীয় তলার এই রুমটায় দুটো সিলিং ফ্যান ঘোরে, একটা ঘড়ির কাঁটার দিকে, আরেকটা উলটো দিকে। কেন উলটো দিকে ঘোরে কেউ জানে না। কেউ জানতেও চায় না। এটা এমন একটা ব্যাপার যেটা সবাই মেনে নিয়েছে, যেভাবে মানুষ বৃষ্টির দিনে ট্রাফিক জ্যাম মেনে নেয়।
তানিয়া ক্লাসে ঢুকল সকাল দশটায়। হাতে একটা ল্যাপটপ, কাঁধে একটা কাপড়ের ব্যাগ, ব্যাগের ভেতরে তিনটা বই আর একটা পানির বোতল। বোতলের পানি সকালে ভরেছে। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে। বাসা বলতে মিরপুরে একটা ছোট ফ্ল্যাট, দুই রুমের, বারান্দায় চারটা টব, টবে তুলসী, পুদিনা, একটা অচেনা লতা যেটা নিজে থেকে উঠেছে, আর একটা গাছ যেটার গল্প পরে বলা যাবে।
তানিয়ার বয়স পঁয়ত্রিশ। চুলে একটা-দুটো পাকা চুল দেখা যাচ্ছে, কিন্তু সে রঙ করে না। চোখের নিচে একটু কালি, কিন্তু সেটা ক্লান্তির না, ওটা জন্মগত। তানিয়ার মা-র চোখের নিচেও কালি ছিল। মা বলত, "আমাদের বংশের মেয়েদের চোখে কাজল লাগাতে হয় না, আল্লাহ নিজে এঁকে দিয়েছেন।"
তানিয়া টেবিলে ল্যাপটপ রাখল। ক্লাসে ত্রিশজন ছাত্রছাত্রী। কম্পিউটার সায়েন্সের চতুর্থ বর্ষ। কোর্সের নাম "এআই এথিকস অ্যান্ড সোসাইটি"। ইলেকটিভ কোর্স। বেশিরভাগ নিয়েছে কারণ ক্রেডিট সহজ মনে করেছে। কয়েকজন সত্যিই আগ্রহী। বাকিরা মাঝামাঝি।
পেছনের সারিতে একটা ছেলে বসে আছে। নাম ইমরান। ইমরান প্রতিটা ক্লাসে পেছনের সারিতে বসে। খাতা খোলে। তারপর আঁকে। লেকচার শোনে কিনা বোঝা যায় না। খাতায় মানুষের মুখ আঁকে, গাছ আঁকে, কখনো কখনো জানালা দিয়ে যেটুকু আকাশ দেখা যায় সেটুকু আঁকে। ছবিগুলো ভালো। তানিয়া একদিন পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখেছিল, ইমরান একটা বুড়ো মানুষের মুখ এঁকেছে, মুখে এত রেখা যে মনে হচ্ছে মানুষটা শুধু বেঁচে থাকতেই ক্লান্ত হয়ে গেছে। তানিয়া কিছু বলেনি। কিছু বলার দরকার নেই। ছেলেটা আঁকুক।
২
"গত ক্লাসে আমরা বায়াস নিয়ে কথা বলেছিলাম," তানিয়া বলল। "আজ একটু অন্য জায়গায় যাব। আজ কথা বলব শ্রম নিয়ে। এআই-এর পেছনে যে শ্রম আছে, সেটা নিয়ে।"
সে ল্যাপটপ খুলল। স্ক্রিনে কিছু দেখালো না। স্লাইড নেই আজ। তানিয়া মাঝে মাঝে স্লাইড ছাড়া পড়ায়। শুধু কথা বলে।
"তোমরা ChatGPT ব্যবহার করো?"
ক্লাসে হাসি। প্রায় সবাই হাত তুলল।
"অ্যাসাইনমেন্টেও?"
আরো হাসি। কিছু হাত নামল। কিছু হাত থেকে গেল। সততার জন্য পয়েন্ট।
"ঠিক আছে। তোমরা যখন ChatGPT-কে কিছু জিজ্ঞেস করো, সে যে উত্তর দেয়, সেটা কোথা থেকে আসে জানো?"
"ট্রেনিং ডেটা থেকে," একটা মেয়ে বলল। সামনের সারি থেকে। নাম তাসনিম। তাসনিম সবসময় উত্তর দেয়। ভালো ছাত্রী।
"হ্যাঁ। কিন্তু ট্রেনিং ডেটাটা কে তৈরি করেছে? মানে, মডেলকে যখন শেখানো হয় এটা ভালো উত্তর, এটা খারাপ উত্তর, সেই লেবেলিংটা কে করে?"
চুপচাপ।
তানিয়া বলল, "মানুষ করে। ডেটা লেবেলার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা গ্লোবাল সাউথের মানুষ। কেনিয়া, ভারত, বাংলাদেশ, ফিলিপাইন। তারা বসে বসে টেক্সট পড়ে, ছবি দেখে, লেবেল লাগায়। প্রতিটা টাস্কের জন্য দুই টাকা।"
"দুই টাকা?" তাসনিম বলল।
"দুই টাকা। কখনো তিন। কখনো দেড়।"
ক্লাস চুপ।
তানিয়া চেয়ারে হেলান দিল। "এটা শুধু ডেটা লেবেলিং-এর কথা। আরো আছে। তোমরা জানো, বাংলাদেশে কৃষিতে এআই-চালিত অ্যাপ আসছে। ফসলের রোগ ধরবে, সার দেওয়ার পরামর্শ দেবে, বাজারদর জানাবে। সুন্দর কথা, তাই না?"
কয়েকজন মাথা নাড়ল।
"সুন্দর কথা। কিন্তু এই অ্যাপগুলোর কিছু কিছু, প্রথম বছর ফ্রি। দ্বিতীয় বছর সাবস্ক্রিপশন। কৃষক অভ্যস্ত হয়ে গেছে, নিজের পুরোনো জ্ঞান ভুলে গেছে, এখন পেওয়াল। মাসে দুইশো টাকা। কৃষকের কাছে দুইশো টাকা অনেক।"
তানিয়া একটু থামল। জানালার দিকে তাকাল। বাইরে একটা কাক ডাকছে। মার্চের রোদ ঝিকমিক করছে পুরনো ভবনের দেয়ালে।
"আর গার্মেন্টস?" সে বলল। "তোমাদের মধ্যে কারো মা কি গার্মেন্টসে কাজ করেন?"
দুটো হাত উঠল। আস্তে আস্তে।
"কোয়ালিটি ইন্সপেকশনে এখন ক্যামেরা বসছে। এআই ক্যামেরা। তিন সেকেন্ডে একটা সোয়েটারের প্রতিটা সেলাই চেক করতে পারে। একজন অভিজ্ঞ ইন্সপেক্টরের লাগে ত্রিশ সেকেন্ড। ক্যামেরা ক্লান্ত হয় না। ক্যামেরা ছুটি চায় না। ক্যামেরার বাচ্চা অসুস্থ হয় না।"
পেছনের সারিতে ইমরান খাতায় কিছু আঁকছে। তানিয়া দেখল, আজ সে একটা হাত আঁকছে। একটা মেয়ের হাত। হাতে সুই আর সুতো।
তানিয়া চোখ ফেরাল।
৩
একটা ছেলে হাত তুলল। নাম রাফি। রাফি স্টার্টআপ করতে চায়। ক্লাসে সবাই জানে। রাফি প্রতিটা কথোপকথনে কোনো না কোনোভাবে "স্কেলেবিলিটি" শব্দটা ঢুকিয়ে দেয়।
"ম্যাম, তাহলে কি AI বানানো উচিত না?"
তানিয়া হাসল। হাসিটা ছোট, কিন্তু আন্তরিক।
"বানাও।"
রাফি একটু কনফিউজড।
"বানাও," তানিয়া আবার বলল। "AI বানাও। অ্যাপ বানাও। স্টার্টআপ করো। ফান্ডিং নাও। স্কেল করো।"
রাফি একটু হাসল। বাকি ক্লাসও।
"কিন্তু," তানিয়া বলল, "জানো কার জন্য বানাচ্ছো।"
ক্লাস চুপ।
"যখন তুমি একটা ফিচার ডিজাইন করবে, তখন ভাববে, এই ফিচারটা কার জীবন সহজ করছে? কার জীবন কঠিন করছে? যখন তুমি ডেটা কালেক্ট করবে, তখন ভাববে, এই ডেটা কে দিচ্ছে? তার কি জানা আছে সে ডেটা দিচ্ছে? সে কি সম্মতি দিয়েছে? সেই সম্মতি কি সত্যিকারের, নাকি সে অন্য কোনো উপায় না পেয়ে 'হ্যাঁ' বলেছে?"
তানিয়া উঠে দাঁড়াল। টেবিলের সামনে এসে দাঁড়াল।
"আমি তোমাদের বলব না AI খারাপ। AI খারাপও না, ভালোও না। AI একটা হাতিয়ার। হাতুড়ি দিয়ে ঘর বানানো যায়, আবার হাতুড়ি দিয়ে ঘর ভাঙাও যায়। পার্থক্যটা হাতুড়িতে না, পার্থক্যটা হাতে।"
তাসনিম জিজ্ঞেস করল, "আপনি কি আগে ইন্ডাস্ট্রিতে ছিলেন?"
তানিয়া বলল, "ছিলাম। স্টার্টআপে। গুলশানে অফিস ছিল। এআই-চালিত একটা হেলথকেয়ার প্ল্যাটফর্ম বানাচ্ছিলাম। ফান্ডিং পেয়েছিলাম। টিম ছিল। সবকিছু ছিল।"
"তারপর?"
"তারপর বুঝলাম, আমরা যে প্ল্যাটফর্ম বানাচ্ছি সেটা শহরের মানুষের জন্য। যাদের স্মার্টফোন আছে, ইন্টারনেট আছে, ইংরেজি পড়তে পারে। গ্রামের যে মানুষটার সত্যিই ডাক্তার দরকার, সে এই অ্যাপ খুলতেই পারবে না। আমি এই কথা বলেছিলাম মিটিংয়ে।"
"কী হলো?"
"কেউ রাগ করেনি। কেউ তর্কও করেনি। শুধু বলল, 'ওটা ফেজ টু-তে দেখা যাবে।' ফেজ টু কখনো আসেনি। আমি ছয় মাস পরে চলে এসেছি।"
৪
ক্লাস শেষ হলো এগারোটা পঁয়তাল্লিশে। ছাত্রছাত্রীরা উঠে গেল। কেউ কেউ তানিয়াকে "থ্যাংক ইউ, ম্যাম" বলল। তাসনিম এসে একটা প্রশ্ন করল থিসিস টপিক নিয়ে। তানিয়া বলল পরে মেইল করতে। রাফি বের হওয়ার সময় বলল, "ম্যাম, আমি কিন্তু স্টার্টআপটা করবই।" তানিয়া বলল, "করো। শুধু মনে রেখো আজকের কথা।" রাফি হাসল। সৎ হাসি।
ইমরান সবার শেষে বের হলো। খাতাটা বন্ধ করে ব্যাগে রাখল। তানিয়ার দিকে তাকাল না। দরজা দিয়ে বের হয়ে গেল।
তানিয়া ল্যাপটপ বন্ধ করল। ব্যাগে রাখল। পানির বোতল বের করে এক চুমুক খেলো। পানি গরম হয়ে গেছে।
সে ক্লাসরুম থেকে বের হলো। করিডোর দিয়ে হাঁটতে লাগল। কলাভবনের করিডোরে সবসময় একটা বিশেষ গন্ধ থাকে, পুরোনো বইয়ের সাথে ধুলোর সাথে চুনকামের সাথে মিশ্রিত একটা গন্ধ, যেটাকে কোনো নাম দেওয়া যায় না। তানিয়া এই গন্ধটা পছন্দ করে। গুলশানের অফিসে এসির ঠান্ডা বাতাসের কোনো গন্ধ ছিল না।
সিঁড়ি দিয়ে নামল। বাইরে বের হলো। ক্যাম্পাসের রাস্তায় হাঁটতে লাগল।
মার্চের রোদ। গরম শুরু হচ্ছে, কিন্তু এখনো সহনীয়। বটগাছের নিচে ছায়া। কয়েকজন ছাত্র বসে আড্ডা দিচ্ছে। একটা মেয়ে বেঞ্চে বসে ল্যাপটপে কিছু করছে। দুটো কাক গাছের ডালে বসে আছে, কিছু বলছে না, শুধু বসে আছে।
তানিয়া হাঁটতে হাঁটতে ভাবল।
সে এখন পার্ট-টাইম শিক্ষক। মাসে যা পায়, সেটা গুলশানের স্টার্টআপে তার সাপ্তাহিক বোনাসের চেয়ে কম ছিল। ছাব্বিশ বছর বয়সে তার বেতন ছিল যা এখন পঁয়ত্রিশে তার বেতনের তিনগুণ। বন্ধুরা জিজ্ঞেস করে, "তুই কেন ছাড়লি?" তানিয়া বলে, "মন চাইল না।" এটা আংশিক সত্য। পুরো সত্য হলো, সে একটু একটু করে শুকিয়ে যাচ্ছিল। ভেতর থেকে। যেভাবে একটা গাছ বাইরে থেকে সবুজ থাকে কিন্তু ভেতরে ফাঁপা হয়ে যায়।
স্টার্টআপে তার একটা অফিস ছিল। ছোট, কিন্তু নিজের। কাচের দেয়াল। সাদা ডেস্ক। ডেস্কের ওপর একটা ছোট গাছ ছিল, টবে। কেউ একজন অফিস ওয়ার্মিং-এ দিয়েছিল। তানিয়া পানি দিত, কিন্তু অফিসে রোদ ঢোকে না। কাচের দেয়াল আছে, কিন্তু কাচে ফিল্ম লাগানো, রোদ ঢোকে না। গাছটা ধীরে ধীরে মরে গেল। পাতা হলুদ হলো, তারপর বাদামি, তারপর ঝরে গেল। তানিয়া ফেলে দেয়নি। মরা গাছটা ডেস্কে রেখে দিয়েছিল। কেন, সে নিজেও জানে না।
চাকরি ছাড়ার দিন তানিয়া অফিস থেকে তিনটে জিনিস নিয়ে এসেছিল। নিজের মগ, একটা বই, আর মরা গাছটা।
৫
ক্যাম্পাসের গেট দিয়ে বের হলো তানিয়া। রিকশায় উঠল। মিরপুরের দিকে। রিকশায় বসে সে ফোন বের করল। একটা মেসেজ এসেছে বন্ধু শিলার কাছ থেকে। "ফিনটেক কোম্পানিতে হেড অফ এথিকস পোজিশন ওপেন। তোর জন্য পারফেক্ট। বেতন ভালো।" তানিয়া মেসেজটা পড়ল। রিপ্লাই করল না। পরে করবে। কী রিপ্লাই করবে সেটাও জানে। "না, থাক।"
রিকশা চলছে। ঢাকার রাস্তা। হর্ন। ধোঁয়া। মানুষ। সবকিছু যেমন ছিল তেমনই আছে। তানিয়ার মনে হলো, সে যদি আজকের ক্লাসে একজনকেও ভাবাতে পেরে থাকে, তাহলে দিনটা সার্থক। হয়তো রাফি ভাববে। হয়তো তাসনিম ভাববে। হয়তো কেউই ভাববে না। সেটাও ঠিক আছে। বীজ ফেলা তার কাজ, গজানো বীজের।
বাসায় পৌঁছল দুপুর একটায়। দরজা খুলে ঢুকল। জুতো খুলল। হাত-মুখ ধুলো।
রান্নাঘরে গিয়ে ভাত বসাল। ফ্রিজ থেকে মাছ বের করল। কাল বাজার থেকে কিনে এনেছে। রুই মাছ। দুই পিস। একটা আজকের, একটা কালকের।
ভাত হতে হতে তানিয়া বারান্দায় গেল।
চারটা টব। তুলসী ভালো আছে। পুদিনা একটু নুয়ে পড়েছে, পানি দিতে হবে। অচেনা লতাটা দেয়াল বেয়ে উঠে গেছে, কোথা থেকে এসেছে কেউ জানে না, একদিন দেখা গেল টবের মাটি ফুঁড়ে বের হয়ে এসেছে। তানিয়া তুলে ফেলেনি। যে নিজে থেকে বাঁচতে চায়, তাকে তুলে ফেলা ঠিক না।
আর চতুর্থ টবটা।
এটা সেই গাছ। অফিসের মরা গাছ। তানিয়া বাসায় এনে বারান্দায় রেখেছিল। রোদ পায় এখানে। সকালের রোদ। তানিয়া পানি দিত। মাটি বদলে দিয়েছিল। কিছু আশা করেনি। মরা গাছ তো মরাই।
কিন্তু তিন মাস পরে একটা কুঁড়ি দেখা গেল। ছোট্ট। সবুজ। মাটির কাছাকাছি। তানিয়া প্রথমে বিশ্বাস করেনি। ভেবেছিল আগাছা। কিন্তু না। কুঁড়িটা বড় হলো। পাতা এলো। আরো পাতা এলো। গাছটা ফিরে এলো।
এখন গাছটা দেড় ফুট লম্বা। পাতাগুলো গাঢ় সবুজ। একটু মোটা, একটু চকচকে। রোদে যখন আলো পড়ে, পাতাগুলো জ্বলজ্বল করে। গাছটার নাম তানিয়া জানে না। জানার দরকারও মনে করে না। গাছটা বেঁচে আছে, এটুকুই যথেষ্ট।
তানিয়া পানি দিল গাছগুলোতে। মরা গাছটায় একটু বেশি দিল। অভ্যাস।
তারপর ভেতরে গেল। ভাত হয়ে গেছে। মাছ ভাজল। একটু ডাল রান্না করল। খেলো। একটু শুয়ে থাকল।
বিকেলে আবার পড়ানোর প্রস্তুতি নিতে হবে। আগামীকালের ক্লাসে সে কথা বলবে অ্যালগরিদমিক ফেয়ারনেস নিয়ে। স্লাইড বানাতে হবে। কিছু কেস স্টাডি খুঁজতে হবে।
তানিয়া ল্যাপটপ খুলল। কাজ শুরু করল।
বারান্দায় রোদ পড়ছে। গাছটার পাতায় আলো।
তানিয়ার ঘুম ভালো হয়। আগে হতো না। গুলশানের অফিসে থাকতে রাত তিনটায় চোখ খুলে যেত। বুকে একটা চাপা ভার। কিসের ভার, বলতে পারত না। এখন সেই ভার নেই। মিরপুরের ছোট ফ্ল্যাটে, দুই রুমে, পার্ট-টাইমের বেতনে, তানিয়া ঘুমায়। গভীর ঘুম। স্বপ্নহীন। শান্ত।
বাইরে বারান্দায় গাছটা দাঁড়িয়ে আছে। রোদ খাচ্ছে। বাড়ছে।