সেলিনার AI বন্ধু
---
সকালে চরের ঘাটে নৌকা লাগলে সেলিনা দেখলো একটা মেয়ে নামছে। পিঠে ব্যাগ, হাতে একটা ফোল্ডার, পায়ে স্যান্ডেল। স্যান্ডেলটা নতুন, কাদায় হাঁটার জন্য তৈরি না। সেলিনা বুঝলো মেয়েটা শহর থেকে এসেছে।
মেয়েটার নাম নাজমা। সিলেট থেকে এসেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ফিল্ড অফিসার। নতুন পোস্টিং, ধর্মপাশা উপজেলা। এসেছে চরের স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে পরিচিত হতে।
সেলিনা বললো, "চা খাবেন?"
নাজমা বললো, "খাবো।"
দুজনে বসলো সেলিনার ঘরের বারান্দায়। চুলায় পানি চড়ানো ছিলো। সেলিনা চা বানালো। নাজমা ফোল্ডার থেকে কিছু কাগজ বের করলো, কিন্তু সেলিনার দিকে তাকিয়ে কাগজ আবার রেখে দিলো।
"আপনাকে নিয়ে ঢাকায় অনেক কথা হয়," নাজমা বললো।
"কী কথা?"
"আপনার খাতার কথা। ট্যাবলেট আর খাতা দুটো একসাথে ব্যবহার করেন, সেটা নিয়ে একটা রিপোর্ট হয়েছিলো। মন্ত্রণালয়ে অনেকে পড়েছে।"
সেলিনা চায়ে চুমুক দিলো। সেই সাংবাদিকের কথা মনে পড়লো। দুই বছর আগে এক সাংবাদিক এসেছিলো, ঢাকার কোনো একটা অনলাইন পত্রিকার। দুদিন ছিলো চরে। সেলিনার সাথে রোগী দেখতে গেছে, নৌকায় উঠেছে, খাতা পড়েছে। তারপর একটা লম্বা লেখা বের করেছিলো। সেলিনা পড়েনি সেই লেখা, চরে ইন্টারনেট নেই বললেই চলে। কিন্তু ঢাকায় পড়েছে মানুষ, সেটা বোঝা গেলো তার পর থেকে। প্রথমে উপজেলা থেকে ফোন আসলো, তারপর জেলা থেকে। তারপর মন্ত্রণালয় একটা নতুন ট্যাবলেট পাঠালো।
নতুন ট্যাবলেটটা আগেরটার চেয়ে ভালো। ব্যাটারি বেশিক্ষণ থাকে। স্ক্রিন বড়। অ্যাপটাও বদলেছে, এখন আরো বেশি রোগের কথা বলতে পারে, ওষুধের ডোজও হিসেব করে দেয়। সেলিনা দুটো ট্যাবলেটই রেখেছে। পুরোনোটা ব্যাকআপ। নতুনটা কাজের।
কিন্তু খাতা থেকে গেছে।
খাতা এখন চারটা। আগে তিনটা ছিলো। চতুর্থটা সোহেল শুরু করেছিলো, দুই বছর আগে, চরের প্রতিটা পরিবারের একটা সংক্ষিপ্ত স্বাস্থ্য ইতিহাস। কে কবে কী রোগে ভুগেছে, পরিবারে কার ডায়াবেটিস আছে, কার প্রেশার, কার অ্যালার্জি। সোহেল এখন সুনামগঞ্জ শহরে পড়ে, কলেজে। কিন্তু চতুর্থ খাতাটা রেখে গেছে।
---
নাজমা চা শেষ করে বললো, "আপনার কাজ দেখতে চাই।"
সেলিনা বললো, "আজ তিনজন আসবে। দেখবেন।"
প্রথম রোগী আসলো এগারোটার দিকে। ফাতেমা, চল্লিশের কাছাকাছি বয়স, পেটে ব্যথা। সেলিনা ফাতেমাকে শুইয়ে পেট চেপে দেখলো। ডান দিকে নিচে চাপ দিলে ব্যথা বাড়ে না। বাম দিকে একটু অস্বস্তি। সেলিনা খাতা খুললো, ফাতেমার পাতায় দেখলো আগেও পেটের সমস্যা হয়েছিলো, তিন মাস আগে, তখন গ্যাসের ওষুধে সেরে গেছিলো। তারপর ট্যাবলেট খুললো, লক্ষণ লিখলো। ট্যাবলেট বললো সম্ভবত গ্যাস্ট্রিক, কিন্তু যদি তিনদিনে না কমে তাহলে আলসারের পরীক্ষা করাতে হবে।
সেলিনা ফাতেমাকে ওষুধ দিলো। ওষুধ আছে, কারণ গত মাসে উপজেলা থেকে একটা বক্স এসেছে। আগে আসতো না নিয়মিত, এখন আসে। সেই সাংবাদিকের লেখার পর থেকে অনেক কিছু একটু ভালো হয়েছে। অনেক কিছু আগেরই মতো আছে।
নাজমা পাশে বসে সব দেখলো। কিছু লিখলো তার ফোল্ডারে।
দ্বিতীয় রোগী একটা বাচ্চা, সাত বছর, জ্বর তিনদিন। সেলিনা কপালে হাত দিয়ে দেখলো, তারপর ট্যাবলেটের থার্মোমিটারে দেখলো। ১০১। ট্যাবলেট বললো ডেঙ্গুর সম্ভাবনা কম কিন্তু শূন্য না, রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে। সেলিনা জানে চরে রক্ত পরীক্ষা করানোর জায়গা নেই। উপজেলায় যেতে হবে। কিন্তু বাচ্চার মা বললো, "আপা, নৌকার ভাড়া নাই।"
সেলিনা নিজের কাছ থেকে দুইশো টাকা দিলো। এটা প্রথমবার না। প্রতি মাসে দুই তিনবার এরকম হয়। সেলিনার বেতন চৌদ্দ হাজার টাকা। এর থেকে সোহেলের কলেজের খরচ বাদ দিলে যা থাকে তা থেকে কিছু যায় এভাবে।
নাজমা আবার লিখলো।
তৃতীয় রোগী এলো বিকেলে। বৃদ্ধা, সত্তরের কাছে, হাঁটু ব্যথা। এই বৃদ্ধা প্রতি মাসে আসে। সেলিনা জানে হাঁটু ব্যথা সারবে না, বয়সের সমস্যা। কিন্তু গরম সেঁক আর তুলসি পাতার রস দিলে একটু আরাম পায়। ট্যাবলেটে এই বৃদ্ধার জন্য আর কিছু বলার নেই, কারণ ট্যাবলেট জানে না বৃদ্ধার আসল সমস্যা একাকীত্ব। তার ছেলে ঢাকায়, মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে, বৃদ্ধা একা থাকে। সেলিনার কাছে আসলে কেউ তার কথা শোনে।
সেলিনা পনেরো মিনিট বৃদ্ধার সাথে কথা বললো। রোগ নিয়ে না, সংসার নিয়ে, ছেলের নিয়ে, নদীর পানি বাড়ছে কি না সেটা নিয়ে। তারপর গরম সেঁক দিয়ে বিদায় দিলো।
নাজমা এবার লিখলো না। শুধু দেখলো।
---
সন্ধ্যায় দুজনে আবার বারান্দায় বসলো। আকাশ লাল হয়ে আসছে। চরের পশ্চিমে সূর্য ডোবে, নদীর পানিতে রঙ পড়ে। এই দৃশ্য সেলিনা আট বছর ধরে দেখছে, এখনো দেখে।
নাজমা বললো, "আপা, একটা কথা জিজ্ঞেস করি?"
"করেন।"
"তুমি কি AI পছন্দ করো?"
সেলিনা একটু থামলো। প্রশ্নটা অদ্ভুত। কেউ এভাবে জিজ্ঞেস করেনি আগে। মানুষ জিজ্ঞেস করেছে ট্যাবলেট কেমন কাজ করে, নেটওয়ার্ক পায় কি না, অ্যাপে ভুল হয় কি না। কিন্তু পছন্দ করো কি না, এটা কেউ জিজ্ঞেস করেনি।
সেলিনা ভাবলো।
আট বছর আগে যখন প্রথম ট্যাবলেট পেয়েছিলো, তখন ভয় পেয়েছিলো। ভয় না, বিরক্ত হয়েছিলো। সরকারি আরেকটা ঝামেলা মনে হয়েছিলো। তারপর ব্যবহার করতে শিখলো, কাজে লাগলো, অভ্যাস হলো। তারপর এমন দিন এলো যখন ট্যাবলেট ছাড়া অসম্পূর্ণ লাগলো, যেমন খাতা ছাড়া অসম্পূর্ণ লাগে। দুটোই লাগে।
কিন্তু পছন্দ? পছন্দ তো অন্য জিনিস। পছন্দ বলতে মানুষ বোঝায় একটা টান, একটা আবেগ। সেলিনা ট্যাবলেটের প্রতি কোনো টান অনুভব করে না। কাস্তের প্রতি কৃষকের কি টান থাকে? জালের প্রতি জেলের? থাকতেও পারে, না-ও পারে। কিন্তু সেটা মূল কথা না।
সেলিনা বললো, "পছন্দ না অপছন্দ না। এটা একটা হাতিয়ার। ভালো হাতিয়ার। কিন্তু হাতিয়ার শুধু হাত চেনে, মানুষ চেনে না।"
নাজমা চুপ করে শুনলো। তারপর ফোল্ডার খুলে লিখতে শুরু করলো।
সেলিনা দেখলো নাজমা লিখছে। তার কথা লিখছে। হুবহু। সেলিনা বুঝলো এটা কোনো ব্যক্তিগত নোট না, এটা রিপোর্টে যাবে।
"ওটা আমার কথা," সেলিনা বললো। গলায় রাগ নেই, কিন্তু একটা দৃঢ়তা আছে। "তোমার রিপোর্টে দিও না।"
নাজমা কলম থামালো। তাকালো সেলিনার দিকে। বুঝতে পারলো না কেন।
সেলিনা নিজেও পুরোপুরি জানে না কেন। হয়তো কারণ সেই সাংবাদিকের লেখার পর অনেক কিছু বদলেছে, কিছু ভালো, কিছু অস্বস্তিকর। মানুষ তাকে চেনে এখন, সেটা ভালো। কিন্তু মানুষ তাকে "মডেল" বানাতে চায়, সেটা অস্বস্তিকর। সেলিনা মডেল না। সে একজন স্বাস্থ্যকর্মী যে চরে আটকে আছে, চরের মানুষকে দেখে, যা আছে তাই নিয়ে কাজ করে। এটা মডেল না, এটা বাস্তবতা। বাস্তবতাকে রিপোর্টে লিখলে সেটা আর বাস্তবতা থাকে না, সেটা হয়ে যায় "কেস স্টাডি।" সেলিনা কেস স্টাডি হতে চায় না।
নাজমা কলম রাখলো। বললো, "ঠিক আছে, আপা।"
---
রাতে নাজমা চলে গেলো। শেষ নৌকায়। সেলিনা একা বারান্দায় বসে আছে। হারিকেন জ্বলছে। সামনে পুরোনো ট্যাবলেটটা, ব্যাটারি নেই, কিন্তু রেখে দিয়েছে। পাশে নতুন ট্যাবলেট, চার্জ আছে, স্ক্রিনে শেষ রোগীর তথ্য। পাশে চারটা খাতা, স্তূপ করে রাখা। একটা কলম খাতার উপর।
বৃহস্পতিবার আজ।
সেলিনা ফোনটা হাতে নিলো। সন্ধ্যা সাতটা বাজতে তিন মিনিট বাকি। সোহেল প্রতি বৃহস্পতিবার ঠিক সাতটায় ফোন করে। কবে থেকে শুরু হয়েছে এই নিয়ম কেউ জানে না। সোহেল কলেজে যাওয়ার পর থেকে হয়তো, হয়তো তারও আগে থেকে। সাতটায় ফোন। বৃহস্পতিবার সাতটায়। সোহেল কখনো ভোলে না।
সাতটা বাজলো। ফোন বাজলো না।
সেলিনা অপেক্ষা করলো। এক মিনিট। দুই মিনিট।
তিন মিনিটে সে উঠে দাঁড়ালো। বারান্দায় পায়চারি শুরু করলো। ফোনটা হাতে ধরে আছে, স্ক্রিনের দিকে তাকাচ্ছে। নেটওয়ার্ক আছে, একটা বার। থাকে, চলে যায়, আবার আসে। হয়তো সোহেলের দিকে নেটওয়ার্ক নেই। হয়তো ক্লাস বেশি হয়েছে। হয়তো বন্ধুদের সাথে আড্ডায় ভুলে গেছে।
চার মিনিট। পাঁচ মিনিট।
সেলিনার পায়চারি দ্রুত হলো। বারান্দা ছোট, তিন পা এদিক, তিন পা ওদিক। সে জানে এটা অযৌক্তিক। আঠারো বছরের ছেলে পাঁচ মিনিট দেরি করতেই পারে। কিন্তু শরীর যুক্তি মানে না। শরীর জানে প্রতি বৃহস্পতিবার সাতটা মানে সোহেলের গলা, আর সেই গলা পাঁচ মিনিট দেরি হলে বুকের ভেতর কিছু একটা শক্ত হয়ে যায়।
ছয় মিনিটে ফোন বাজলো।
"মা?"
"হুম।"
"দেরি হলো, ক্লাস ছিলো।"
"ঠিক আছে।"
সোহেল তার কলেজের কথা বললো। নতুন একটা বিষয় নিয়েছে, গণিত। শিক্ষক ভালো। হোস্টেলের খাবার আগের চেয়ে ভালো হয়েছে, নতুন বাবুর্চি এসেছে। সোহেল জিজ্ঞেস করলো, "মা, তুমি কেমন?"
"ভালো।"
"আজ কে কে এসেছিলো?"
"ফাতেমা, জ্বরের বাচ্চাটা, হাসিনা বুড়ি। আর মন্ত্রণালয় থেকে একটা মেয়ে এসেছিলো।"
"কী বললো?"
"জিজ্ঞেস করলো AI পছন্দ করি কি না।"
সোহেল হাসলো। "তুমি কী বললে?"
"বললাম হাতিয়ার। ভালো হাতিয়ার।"
সোহেল চুপ করলো একটু। তারপর বললো, "মা, তুমি ঠিকই বলেছো।"
"যা, পড়।"
"ঠিক আছে। আসি।"
ফোন রাখলো দুজনেই।
---
সেলিনা আবার বসলো। হারিকেনের আলোতে খাতা খুললো। আজকের তিন রোগীর নোট লিখলো। ফাতেমার পেটের ব্যথা, গ্যাসের ওষুধ দিয়েছে, তিনদিন পর দেখতে হবে। বাচ্চাটার জ্বর, উপজেলায় পাঠিয়েছে, ফলাফল জানতে হবে। হাসিনা বুড়ির হাঁটু, আগের মতোই। তারপর ট্যাবলেটে একই তথ্য লিখলো। দুটোই। প্রতিদিন দুটোই।
সোহেল যখন ছিলো, সোহেল করতো এই কাজ। এখন সেলিনা একা করে। সময় বেশি লাগে। কিন্তু করে।
ট্যাবলেট বন্ধ করে রাখলো চার্জারে। সোলার ব্যাটারিটা দিনে চার্জ হয়, রাতে ট্যাবলেট চার্জ করে। এটাও নতুন, মন্ত্রণালয় পাঠিয়েছে নতুন ট্যাবলেটের সাথে।
খাতা বন্ধ করে তাকে তুললো। খাটের পাশে একটা কাঠের তাক, সেখানে চারটা খাতা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। প্রথম তিনটা পুরোনো, মলাট ক্ষয়ে গেছে, পাতা হলুদ হয়ে এসেছে। চতুর্থটা সোহেলের, মলাট এখনো শক্ত।
সেলিনা শুতে গেলো। হারিকেন নেভানোর আগে ঘরটা একবার দেখলো। ছোট ঘর। টিনের চাল। একটা খাট, একটা টেবিল, তাকে খাতা আর ট্যাবলেট। দেয়ালে সোহেলের স্কুলের একটা ছবি, ক্লাস এইটের বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিলো, সেই সার্টিফিকেট। পাশে একটা কাচের বয়াম, নুড়িপাথরে ভর্তি, রঙ অনুযায়ী সাজানো। সোহেল রেখে গেছে। নতুন পাথর আর যোগ হয় না, কারণ সোহেল এখন নদীর ধারে যায় না। কিন্তু বয়ামটা আছে।
বাইরে নদীর শব্দ। চরের রাতে অন্য কোনো শব্দ নেই। শহরে গাড়ি থাকে, মানুষের কথা থাকে, টিভির শব্দ থাকে। এখানে শুধু নদী। আর ঝিঁঝিপোকা। আর মাঝে মাঝে দূরে কোথাও একটা শিয়ালের ডাক।
সেলিনা হারিকেন নিভিয়ে দিলো।
অন্ধকারে শুয়ে সে ভাবলো নাজমার প্রশ্নটার কথা। পছন্দ করো কি না। কী অদ্ভুত প্রশ্ন। কেউ কি তার দা-টাকে পছন্দ করে? কেউ কি তার জালকে? এগুলো পছন্দ অপছন্দের জিনিস না। এগুলো আছে, কাজে লাগে, ব্যবহার করে। যেদিন কাজে লাগবে না সেদিন রেখে দেবে।
কিন্তু একটু ভেবে সে বুঝলো ব্যাপারটা এতো সরল না। ট্যাবলেটটা শুধু দা বা জালের মতো না। দা কাটে, জাল ধরে। কিন্তু ট্যাবলেট বলে। ট্যাবলেট বলে এই রোগ হতে পারে, এই ওষুধ দাও, এই বিপদ হতে পারে। মানুষের মতো বলে। মানুষের ভাষায়। তাই মানুষ ভাবে এটা বুঝি মানুষের মতো বোঝেও। কিন্তু বোঝে না। বোঝে না কেন হাসিনা বুড়ি প্রতি মাসে আসে হাঁটু ব্যথা নিয়ে যখন সে জানে ব্যথা সারবে না। বোঝে না কেন সেলিনা নিজের টাকা দিয়ে নৌকার ভাড়া দেয়। বোঝে না কেন সোহেল বৃহস্পতিবার ছাড়া অন্য দিন ফোন করে না।
হাতিয়ার হাত চেনে, মানুষ চেনে না।
সেলিনা চোখ বন্ধ করলো। ঘুম আসতে আসতে শেষ যে ছবিটা মনে রইলো সেটা হলো বয়ামের ভেতর নুড়িপাথরগুলো, হারিকেনের আলোতে যেমন দেখেছিলো একটু আগে, প্রতিটা পাথরের গায়ে একটা ছোট ছায়া, স্থির, নিঃশব্দ, সোহেলের হাতে কুড়ানো।