রহিমার ফ্ল্যাট

পর্ব ৬৫ · ১০ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-১৮

রহিমার হাঁটু ব্যথা করছে।

সাইকেলটা রাস্তার পাশে রেখে সে একটু দাঁড়াল। গাজীপুরের রাস্তা এখন আগের মতো না। আগে ইটভাটার ধুলো ছিল, রিকশার ঘণ্টি ছিল, ফ্যাক্টরির শিফট বদলের সময় হাজার হাজার মানুষের পায়ের শব্দ ছিল। এখন রাস্তা চওড়া, মসৃণ, দুপাশে সোলার ল্যাম্পপোস্ট। মানুষ কমেছে। মেশিন বেড়েছে। ডেলিভারি রোবটগুলো ফুটপাতের ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে, কোনো শব্দ নেই, শুধু একটা নীল আলো জ্বলছে তাদের মাথায়।

রহিমার বয়স সাতচল্লিশ। শরীরটা আগের মতো সয় না। সকালে উঠলে পিঠে ধরে। সাইকেল চালালে হাঁটুতে টনটন করে। কিন্তু কাজ তো থামানো যায় না। রহিমা এখন গিগ ওয়ার্কার। অ্যাপে অর্ডার আসে, সে সাইকেলে করে ডেলিভারি দেয়। কখনো খাবার, কখনো ওষুধ, কখনো কাপড়ের প্যাকেট। আগে ফ্যাক্টরিতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাজ করত, এখন সাইকেলে বসে বসে কাজ করে। পা দুটো আলাদা ধরনের ব্যথা করে।

ফোনটা বাজল।

মিতু।

"আম্মু, তুমি কোথায়?"

"রাস্তায়। একটা ডেলিভারি শেষ করে আসছি।"

"আম্মু, আজকে আর ডেলিভারি দিও না। আমার সাথে একটা জায়গায় যেতে হবে।"

"কোথায়?"

"বলব। তুমি বাসায় আসো।"

রহিমা ফোন রাখল। মিতু এখন সাতাশ বছরের মেয়ে। ঢাকার একটা টেক কোম্পানিতে কাজ করে। কী কাজ করে রহিমা ঠিক বোঝে না। মিতু বলে "ডেটা সায়েন্স", রহিমা শোনে, মাথা নাড়ে। মেয়ে ভালো আছে, মাসে মাসে টাকা পাঠায়, এটুকু বোঝাই যথেষ্ট।

রহিমা সাইকেলে উঠল। প্যাডেল মারতে গিয়ে ডান হাঁটুটা একটু কড়কড় করল। সে থামল না। থামলে আবার চালু করতে কষ্ট হয়।

মিতু রিকশায় বসে অপেক্ষা করছিল। রহিমা দেখল মেয়ের চোখেমুখে একটা অন্যরকম ভাব। উত্তেজনা না ঠিক, কিন্তু একটা চাপা কিছু। যেন কিছু একটা বলতে চাইছে কিন্তু সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করছে।

"চলো, আম্মু।"

"কোথায় যাচ্ছি?"

"একটু দেখবে।"

রিকশায় বসে রহিমা জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল। গাজীপুর বদলে গেছে। আগে যেখানে টিনের চালার বস্তি ছিল, সেখানে এখন ছয়তলা অ্যাপার্টমেন্ট। আগে যেখানে চায়ের দোকান ছিল, সেখানে এখন অটোমেটেড কনভিনিয়েন্স স্টোর, কোনো দোকানদার নেই, শুধু স্ক্রিন আর সেন্সর। রাস্তার মোড়ে একটা বিলবোর্ড, লেখা "AI-Powered Gazipur: Smart City 2035"। রহিমা পড়তে পারে না ইংরেজিটা, কিন্তু নিচে বাংলায় লেখা "কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় গাজীপুর"।

রিকশা থামল একটা নতুন বিল্ডিংয়ের সামনে। পাঁচতলা। হলুদ রঙ। গেটে একটা ছোট বাগান, দুটো নারিকেল গাছ।

মিতু নামল। রহিমাকে হাত ধরে নামাল।

"এটা কী?"

"আম্মু, ভেতরে চলো।"

সিঁড়ি দিয়ে উঠল তিনতলায়। সিঁড়িতে রহিমার একটু হাঁপ ধরল। আগে পাঁচতলা পর্যন্ত একটানে উঠত। ফ্যাক্টরিতে লিফট ছিল না, সিঁড়ি ছিল। দিনে দশবার ওঠানামা। শরীর সেটা মনে রেখেছে, কিন্তু শরীরের নিজের হিসাবও আছে, সে এখন তিনতলায় থামতে চায়।

মিতু পকেট থেকে একটা চাবি বের করল। নতুন চাবি। চকচক করছে। দরজা খুলল।

খালি ফ্ল্যাট।

দুটো ঘর। একটা রান্নাঘর। একটা বারান্দা।

রহিমা দরজায় দাঁড়িয়ে রইল। দরজার ফ্রেমে হাত রাখল। কাঠের ফ্রেম। শক্ত।

"এটা তোমার, আম্মু।"

রহিমা মিতুর দিকে তাকাল। মিতুর চোখে পানি আসেনি, মিতু সেরকম মেয়ে না। কিন্তু চোয়ালটা একটু শক্ত হয়ে আছে, যেভাবে কেউ কিছু একটা আটকে রাখে।

রহিমা কিছু বলল না। সে ভেতরে ঢুকল। জুতো খুলে ঢুকল, যদিও মেঝেতে কোনো কার্পেট নেই, শুধু সিমেন্টের ওপর সাদা টাইলস। জুতো খোলা অভ্যাস। নিজের বাসায় জুতো পরে ঢোকা যায় না। আর এটা নিজের বাসা। এই কথাটা রহিমার মাথায় এখনো পুরোপুরি ঢোকেনি।

প্রথম ঘরটা বড়। জানালা দুটো। আলো আসছে। দেয়ালের রঙ হালকা নীল। রহিমা দেয়ালে হাত দিল। শীতল। মসৃণ। ভাড়া বাসায় দেয়ালে হাত দিলে চুন উঠে আসত। এখানে কিছু ওঠে না। শুধু ঠান্ডা একটা অনুভূতি।

দ্বিতীয় ঘরটা ছোট। এটা শোবার ঘর হবে। জানালা একটা। পশ্চিমমুখী। বিকেলে রোদ আসবে।

রান্নাঘর। ছোট কিন্তু পরিষ্কার। একটা সিঙ্ক। একটা স্ল্যাব। গ্যাসের সংযোগ দেওয়া আছে। রহিমা কল ঘুরিয়ে দেখল। পানি আসে। ভাড়া বাসায় পানি আসত, কিন্তু ফোঁটায় ফোঁটায়। সকালে এক বালতি ভরতে বিশ মিনিট। এখানে পানি আসছে ঝরঝর করে। রহিমা একটু দেখল, তারপর কলটা বন্ধ করল। পানি নষ্ট করা উচিত না।

মিতু রান্নাঘরের দরজায় ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। "ফ্রিজ আনব পরে। চুলাও। এখন শুধু জায়গাটা দেখো।"

রহিমা মাথা নাড়ল।

বাথরুম।

রহিমা বাথরুমে ঢুকে দাঁড়াল। ছোট, কিন্তু পরিষ্কার। দেয়ালে সাদা টাইলস। মেঝেতে ধূসর টাইলস। একটা কমোড। একটা বেসিন। একটা শাওয়ার। আয়না নেই, পরে লাগাতে হবে।

রহিমা টাইলস গুনতে শুরু করল।

এটা তার অভ্যাস। ছোটবেলা থেকে। সবকিছু গোনে। বোতাম গোনে, সিঁড়ি গোনে, ভাতের থালায় মাছের কাঁটা গোনে। মানুষ হাসে। রহিমা পাত্তা দেয় না। গুনলে জিনিস হারায় না, এটা তার বিশ্বাস।

দেয়ালের টাইলস। এক, দুই, তিন...

মিতু দরজায় দাঁড়িয়ে দেখছে। কিছু বলছে না।

... বারো, তেরো, চৌদ্দ...

রহিমা সিস্টেমেটিক্যালি গুনছে। বাঁ দেয়াল থেকে শুরু। তারপর পেছনের দেয়াল। তারপর ডান দেয়াল। মেঝের টাইলস আলাদা, সেটা পরে গুনবে।

... বিশ, একুশ, বাইশ, তেইশ, চব্বিশ।

চব্বিশটা।

রহিমা বাথরুম থেকে বের হলো।

বারান্দা।

বারান্দাটা ছোট, কিন্তু আছে। এটাই বড় কথা। ভাড়া বাসায় বারান্দা ছিল না। একটা জানালা ছিল, সেটাও পাশের বাড়ির দেয়ালের দিকে মুখ করা। আলো আসত না। বাতাস আসত না। শুধু পাশের বাসার রান্নার গন্ধ আসত।

এই বারান্দায় আলো আছে। বাতাস আছে। তিনতলা থেকে নিচের রাস্তা দেখা যায়। দূরে একটা বড় বিল্ডিং দেখা যায়।

রহিমা চিনতে পারল।

ফ্যাক্টরি।

যে ফ্যাক্টরিতে সে আঠারো বছর কাজ করেছে। সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা। কখনো রাতের শিফট। কখনো ওভারটাইম। কখনো ঈদের আগে টানা ষোলো ঘণ্টা। সেই ফ্যাক্টরি।

বিল্ডিংটা এখন অন্যরকম দেখায়। আগে রাতে সব তলায় আলো জ্বলত। হাজার হাজার টিউবলাইট। দূর থেকে মনে হতো একটা জ্বলন্ত বাক্স। এখন অর্ধেক তলা অন্ধকার। অটোমেশন এসেছে। রোবট সেলাই করে, রোবট কাটে, এআই ক্যামেরা কোয়ালিটি চেক করে। মানুষ কমেছে। আলো কমেছে। বিল্ডিংটা এখন অর্ধেক জ্বলা, অর্ধেক নেভা, যেন একটা চোখ অর্ধেক বোজা।

রহিমা দাঁড়িয়ে দেখল।

কোনো রাগ নেই। কোনো স্মৃতিকাতরতা নেই। কোনো দুঃখ নেই। শুধু দেখছে। যেভাবে মানুষ রাস্তার ওপারে একটা গাছ দেখে। গাছটা আছে, দেখছে, ব্যস।

আঠারো বছর। বিশ থেকে আটত্রিশ। জীবনের সবচেয়ে তাজা বছরগুলো ওই বিল্ডিংয়ের ভেতরে কেটেছে। পেটে মিতু নিয়ে সেলাই মেশিনে বসেছে। মিতুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য মাঝে মাঝে লাইন ছেড়ে টয়লেটে গেছে। আলম যেদিন চলে গেল, সেদিনও ফ্যাক্টরিতে ছিল। ফ্লোর ম্যানেজার জাহিদ বলেছিল, "আপা, আজ যান।" রহিমা বলেছিল, "অর্ডার শেষ করে যাব।" অর্ডার শেষ করে গেছে। বাসায় গিয়ে দেখেছে আলমের জামাকাপড় নেই। একটা চিরকুটও নেই।

সেসব কথা এখন মনে হয় না। মনে হলেও কিছু হয় না। পানি যেমন পাথরের ওপর দিয়ে গড়িয়ে যায়, স্মৃতিও তেমন গড়িয়ে যায়।

রহিমা শুধু দেখছে। ফ্যাক্টরির অন্ধকার তলাগুলো। জ্বলা তলাগুলো। ছাদে একটা লাল আলো জ্বলছে, টেলিকম টাওয়ারের। একটা পাখি উড়ে গেল ফ্যাক্টরির ছাদের ওপর দিয়ে। কী পাখি বোঝা গেল না। দূরে ছিল।

একটা কথা মনে হলো রহিমার। ফ্যাক্টরি থেকে বের হওয়ার দিন সুপারভাইজর বলেছিল, "রহিমা আপা, আপনি চাইলে ট্রেনিং নিতে পারেন। মেশিন অপারেটর হিসেবে।" রহিমা বলেছিল, "কত দিনের ট্রেনিং?" সুপারভাইজর বলেছিল, "ছয় মাস।" ছয় মাস বেতন ছাড়া, মিতুর টিউশন ফি দেবে কে? রহিমা ভাবেনি। সাইকেল কিনেছিল। অ্যাপ ডাউনলোড করেছিল। পরের দিন থেকে ডেলিভারি শুরু।

এখন দাঁড়িয়ে আছে নিজের বারান্দায়। নিজের। শব্দটা অদ্ভুত লাগে।

মিতু পাশে এসে দাঁড়াল।

"আম্মু, কেমন লাগছে?"

রহিমা একটু চুপ করে থাকল। তারপর বলল, "টাইলস চব্বিশটা।"

মিতু হেসে ফেলল। জোরে না, কিন্তু হেসে ফেলল। নাক দিয়ে একটু ফুঁ দিয়ে, তারপর ঠোঁট চেপে, তারপর আর চাপতে না পেরে।

রহিমা মিতুর দিকে তাকাল। মিতু হাসছে। রহিমার ঠোঁটের কোণায় একটু কিছু হলো। তারপর সেটা বাড়ল। তারপর রহিমাও হাসল।

দুজনে হাসল।

বারান্দায় দাঁড়িয়ে, খালি ফ্ল্যাটে, কোনো আসবাবপত্র নেই, কোনো পর্দা নেই, শুধু দেয়াল আর টাইলস আর জানালা দিয়ে আসা বিকেলের আলো, দুজনে হাসল।

রহিমা মনে করতে পারে না শেষ কবে মিতুর সাথে এভাবে হেসেছে। হয়তো কোনোদিন হাসেনি। মিতু ছোটবেলায় গম্ভীর ছিল। পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত ছিল। রহিমা কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিল। দুজনের মধ্যে ভালোবাসা ছিল, কিন্তু সেটা ছিল নীরব, কঠিন, হাড়ের মতো। হাসির জায়গা ছিল না। হাসি একটু বিলাসিতা, আর বিলাসিতার জন্য সময় লাগে, টাকা লাগে, নিশ্চিন্ততা লাগে। সেসব ছিল না।

আজ আছে। একটু হলেও আছে।

মিতু চলে গেল। কাল আবার আসবে, আসবাব আনবে। একটা খাট, একটা চেয়ার, একটা ছোট টেবিল। "বেশি কিছু লাগবে না, আম্মু। আস্তে আস্তে আনব।"

যাওয়ার আগে মিতু একটা কাগজের ব্যাগ দিয়ে গেল। ভেতরে দুটো রুটি, একটু সবজি, একটা পানির বোতল। "রাতে খেয়ো। কাল সকালে আসব।"

রহিমা ব্যাগটা রান্নাঘরের স্ল্যাবে রাখল। রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে একটু ভাবল, এই স্ল্যাবে সে রান্না করবে। ভাত হবে, ডাল হবে, মাঝে মাঝে মাছ হবে। মিতু এলে মুরগি রান্না করবে। মিতু মুরগি পছন্দ করে।

রহিমা একা ফ্ল্যাটে রয়ে গেল। বসার কিছু নেই। সে বড় ঘরের মেঝেতে বসল। ঠান্ডা টাইলস। ভালো লাগল। পিঠটা দেয়ালে ঠেকাল। দেয়াল ঠান্ডা, মসৃণ। চুন ওঠে না।

ঘরে কোনো শব্দ নেই। বাইরে থেকে রাস্তার একটা মৃদু গুনগুন আসছে। কোথাও দূরে আজান হচ্ছে। মাগরিবের সময় হয়ে গেছে বোধহয়।

সে বারান্দায় গেল আবার। বারান্দার এক কোণায় একটু জায়গা আছে। মাটি ফেলা যায়। টব রাখা যায়।

রহিমার মনে পড়ল পুরোনো ভাড়া বাসার কথা। সেখানে জানালার পাশে একটা টবে মরিচ গাছ লাগিয়েছিল। তিন বছর। গাছটা বেঁচে ছিল, পাতা ছিল, কিন্তু কোনোদিন ফল ধরেনি। আলো পেত না। জানালাটা পাশের দেয়ালের দিকে, রোদ আসত না। মরিচ গাছের রোদ লাগে। রোদ ছাড়া ফুল হয় না, ফুল ছাড়া ফল হয় না। রহিমা জানত। তবু গাছটা রেখেছিল। পানি দিত। মাঝে মাঝে চায়ের পাতা দিত গোড়ায়। গাছটা সবুজ থাকত, কিন্তু ফল ধরত না।

এই বারান্দায় রোদ আছে। তিনতলা, ওপরে কিছু নেই, দক্ষিণমুখী। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রোদ পাবে। বারান্দার রেলিংয়ে হাত রেখে রহিমা নিচে তাকাল। গেটের পাশে নারিকেল গাছ দুটো বাতাসে একটু দুলছে। কেউ একজন সাইকেলে করে যাচ্ছে রাস্তা দিয়ে। হয়তো সেও ডেলিভারি দিচ্ছে।

আগামীকাল একটা মরিচের চারা আনবে রহিমা। একটু মাটি, একটু টব। বারান্দার দক্ষিণ কোণে রাখবে, যেখানে সবচেয়ে বেশি রোদ পড়ে। এবার হয়তো ফল ধরবে।

সন্ধ্যা নামল।

রহিমা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। ফ্যাক্টরির বিল্ডিংটা এখন আরো স্পষ্ট। যে তলাগুলোতে আলো আছে সেগুলো উজ্জ্বল, যেগুলোতে নেই সেগুলো কালো। পাশের বিল্ডিংগুলোর জানালায় আলো জ্বলছে। কোথাও টেলিভিশনের নীল আভা। কোথাও হলুদ বাল্ব। রাস্তায় সোলার ল্যাম্পপোস্ট জ্বলে উঠেছে, সাদা আলো, একটু নীলচে।

নিচের রাস্তায় একটা কুকুর হাঁটছে। ধীরে ধীরে। কোথাও যাচ্ছে না, শুধু হাঁটছে। রাস্তার একপাশ থেকে অন্যপাশে। তারপর আবার ফিরে আসছে। কুকুরটার গায়ের রঙ বোঝা যাচ্ছে না, সন্ধ্যার আলোয় সব কিছু ধূসর।

রহিমা দেখছে।

খালি ফ্ল্যাটের বারান্দায় দাঁড়িয়ে, সাতচল্লিশ বছর বয়সী একটা মানুষ, সন্ধ্যার আলোয়, একটা কুকুরকে দেখছে যে কোথাও যাচ্ছে না।