নজরদারির মূল্য

পর্ব ৬৯ · ১০ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-১৮

ক্যামেরাটা বসেছিল গত বছর।

ফার্মগেট মোড়ে, ট্রাফিক সিগনালের খুঁটির মাথায়। কালো রঙের ছোট একটা বাক্স। তার সাথে একটা ছোট বাতি, যেটা রাতেও জ্বলে। একটানা। ক্লান্তিহীন। বাতিটা লাল না, সাদা না, একটু নীলচে। সেই নীলচে আলো রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকে। দিনে তাকায়। রাতে তাকায়। বৃষ্টিতে তাকায়। ভোরের কুয়াশায় তাকায়।

মানুষের চোখ ক্লান্ত হয়। এই চোখ হয় না।

শুরুতে মানুষ খেয়াল করেনি। ঢাকার রাস্তায় কত কিছু বসে, কত তার ঝোলে, কত বাক্স দেয়ালে আটকানো থাকে। আরেকটা বাক্স। কে ভাবে এত? কিন্তু তারপর খবরের কাগজে বেরুলো। টেলিভিশনে দেখালো। সরকারি প্রেস কনফারেন্সে একজন মন্ত্রী বললেন, "ঢাকার প্রধান চৌরাস্তাগুলোতে এআই-সমৃদ্ধ নজরদারি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। অপরাধ কমেছে।"

অপরাধ কমেছে। কথাটা সত্যি কিনা কেউ যাচাই করেনি। কিন্তু কথাটা বাতাসে ভাসতে লাগলো। অপরাধ কমেছে। ক্যামেরার জন্য কমেছে। ক্যামেরা ভালো।

---

নাহিদা প্রতিদিন সকালে বাসায় বের হয় সাতটায়। ফার্মগেট থেকে মতিঝিল। রুটটা সোজা। ফার্মগেট মোড়ে এসে ডানে মোড়, তারপর সোজা। বছরের পর বছর এই পথে হেঁটেছে, বাসে উঠেছে, ঠেলাঠেলি করেছে। পথটা তার শরীরে ঢুকে গেছে। চোখ বন্ধ করলেও হাঁটতে পারবে।

কিন্তু গত তিন মাস ধরে নাহিদা ফার্মগেট মোড়ে যায় না।

সে একটু আগেই বাঁয়ে ঘুরে যায়। একটা সরু গলি ধরে। গলিটা নোংরা। দুই পাশে দেয়াল, মাঝখানে পানি জমে থাকে। দুর্গন্ধ আছে। কিন্তু ক্যামেরা নেই।

কেন?

নাহিদা নিজেও ঠিক জানে না। সে কিছু করেনি। কোনো অপরাধ করেনি। চুরি করেনি, ছিনতাই করেনি, কাউকে মারেনি। সে একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে হিসাবরক্ষক। মাসে বেতন পায়, ট্যাক্স দেয়, বাসা ভাড়া দেয়, বাকিটুকু দিয়ে চলে। একদম সাধারণ জীবন।

কিন্তু ক্যামেরাটা তাকে দেখে। সে জানে ক্যামেরাটা তাকে দেখে। আর জানার পরে সেই মোড়টা আর আগের মতো নেই। মোড়টা বদলে গেছে। একই ফুটপাত, একই দোকান, একই চায়ের স্টল। কিন্তু কিছু একটা আলাদা। বাতাসে কিছু একটা ভারী।

নাহিদার একটা সহকর্মী আছে, মুনিরা। একদিন মুনিরা জিজ্ঞেস করেছিল, "তুই আজকাল অন্য রাস্তা দিয়ে আসিস নাকি? দেরি হচ্ছে তো।"

নাহিদা বলেছিল, "হ্যাঁ, একটু ঘুরপথ।"

"কেন?"

নাহিদা উত্তর দিতে পারেনি। কী বলবে? ক্যামেরা এড়াচ্ছি? সে তো কিছু করেনি। তাহলে এড়াচ্ছে কেন? নিজেকে জিজ্ঞেস করলে উত্তর পায় না। শুধু জানে, ক্যামেরার নিচ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তার কাঁধ শক্ত হয়ে যায়। চোয়াল চেপে ধরে। শ্বাসটা একটু ছোট হয়। যেন পরীক্ষার হলে বসে আছে। যেন কেউ তাকে মূল্যায়ন করছে। প্রতিটা পদক্ষেপ, প্রতিটা তাকানো, সব কিছু রেকর্ড হচ্ছে।

নাহিদা গলিটা দিয়ে হাঁটে। জুতোয় কাদা লাগে। সে জুতো মুছে অফিসে ঢোকে।

কেউ জিজ্ঞেস করে না কেন দেরি হলো।

---

জালাল মিয়া ফুচকার ঠেলা চালায়। পনেরো বছর ধরে। ফার্মগেট মোড়ের ঠিক কোণায়, যেখানে ফুটপাতটা একটু চওড়া হয়ে গেছে, সেখানে তার জায়গা। এই জায়গাটা সে জিতেছে। কেউ দেয়নি। প্রথম প্রথম বড় ঠেলাওয়ালারা তাকে তাড়িয়ে দিতো। সে আবার আসতো। তাড়াতো। আবার আসতো। এক সময় তারা হাল ছেড়ে দিলো। জায়গাটা জালাল মিয়ার হয়ে গেলো।

কিন্তু এখন জালাল মিয়া সেখানে নেই।

সে ঠেলা সরিয়ে নিয়ে গেছে। একটু পেছনে। একটা বিল্ডিংয়ের ছায়ায়, যেখান থেকে ক্যামেরা দেখা যায় না। অন্তত সে মনে করে দেখা যায় না। ক্যামেরা কতদূর দেখতে পায় সে জানে না। কেউ জানে না। কেউ বলেনি।

ঠেলা সরানোর পর খদ্দের কমে গেছে। আগে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকলে হাঁটতে থাকা মানুষ দেখে থামতো। এখন এই গলির ভেতরে কে আসবে ফুচকা খেতে? কিন্তু জালাল মিয়া ফিরে যায় না। ফিরে যেতে ভয় পায়। ঠিক ভয় না। অস্বস্তি। ক্যামেরার নিচে দাঁড়িয়ে ফুচকা বিক্রি করতে তার গায়ে কাঁটা দেয়। যেন কেউ কাঁধের উপর দিয়ে তাকিয়ে আছে।

জালাল মিয়ার ফুচকার লাইসেন্স নেই। ঢাকায় বেশিরভাগ ঠেলাওয়ালারই নেই। কখনো কেউ জিজ্ঞেস করেনি। কিন্তু এখন? ক্যামেরা যদি দেখে? ক্যামেরা যদি কাউকে বলে? জালাল মিয়া জানে না ক্যামেরা কিভাবে কাজ করে। সে জানে না এআই কী। সে শুধু জানে, কিছু একটা তাকে দেখছে, এবং যা দেখে তা কোথাও যায়। কোথায় যায় সে জানে না। কে দেখে সে জানে না। কিন্তু কেউ দেখে। নিশ্চয়ই কেউ দেখে। নইলে ক্যামেরা বসানো হলো কেন?

জালাল মিয়ার বউ জিজ্ঞেস করে, "ঠেলা সরালে কেন?"

জালাল মিয়া বলে, "জায়গা ভালো না।"

"পনেরো বছর ভালো ছিল, এখন ভালো না?"

জালাল মিয়া কিছু বলে না। বউকে কী বলবে? ক্যামেরা দেখছে বলে ভয় লাগে? সে তো চোর না। ফুচকা বিক্রি করে। টাকা দিয়ে তেল কেনে, আটা কেনে, আলু কেনে। এটা তার জীবিকা। কিন্তু লাইসেন্স নেই। আর লাইসেন্স নেই মানে সে অদৃশ্য ছিল। এতদিন অদৃশ্য থাকাটাই তার রক্ষাকবচ ছিল। এখন ক্যামেরা তাকে দৃশ্যমান করে দিয়েছে।

জালাল মিয়া গলির ভেতরে বসে ফুচকা বানায়। খদ্দের আসে দুই-তিনজন। আগে আসতো বিশ-পঁচিশজন।

---

তানভীর দেয়ালে আঁকতো।

রাত দুইটায়, তিনটায়, যখন ঢাকা ঘুমায়, তানভীর বের হতো। পিঠে একটা ব্যাগ, তার ভেতরে স্প্রে ক্যান। সে ছবি আঁকতো না। সে লিখতো। বড় বড় করে বাংলায় লিখতো। কখনো "জনগণের রাস্তা", কখনো "ভাত দাও নইলে ভোট দেব না", কখনো শুধু একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন, পুরো দেয়াল জুড়ে।

পুলিশ তাকে খুঁজতো। কখনো পায়নি। তানভীর ধরা পড়ে না। সে জানে কোন গলিতে ঢুকলে হারিয়ে যাওয়া যায়, কোন দেয়ালের পেছনে উঠলে কেউ দেখে না। ঢাকা তার মানচিত্র। প্রতিটা সরু রাস্তা, প্রতিটা ভাঙা দেয়াল, প্রতিটা অন্ধকার কোণা সে চেনে।

কিন্তু ক্যামেরা আসার পর তানভীর আর আঁকে না।

সে চেষ্টা করেছিল। একবার। ক্যামেরা বসার দুই সপ্তাহ পর। সেই রাতে সে শাহবাগের একটা দেয়ালে গিয়েছিল। স্প্রে ক্যান বের করেছিল। তারপর উপরে তাকিয়ে দেখলো, রাস্তার ওপাশে খুঁটির মাথায় সেই নীলচে আলো জ্বলছে। ক্যামেরাটা তার দিকে তাকিয়ে আছে কিনা সে জানে না। হয়তো তাকিয়ে আছে। হয়তো নেই। কিন্তু "হয়তো" যথেষ্ট।

তানভীর স্প্রে ক্যান ব্যাগে রাখলো। বাসায় ফিরে গেলো।

সে তো অপরাধী না। গ্রাফিতি আইনত নিষিদ্ধ হতে পারে, কিন্তু সে তো রাষ্ট্রদ্রোহী না। সে শুধু দেয়ালে কথা লিখতো। যে কথা মানুষ মুখে বলতে পারে না, সে কথা দেয়ালে লিখতো। কিন্তু এখন দেয়ালও চুপ। ঢাকার দেয়ালগুলো আগে কথা বলতো। এখন সাদা। পরিষ্কার। নিরব।

তানভীরের বন্ধু সাকিব বলে, "তুই আর লেখিস না কেন?"

তানভীর বলে, "ইচ্ছা নেই।"

মিথ্যা কথা। ইচ্ছা আছে। প্রচণ্ড ইচ্ছা আছে। গত মাসে সরকার নতুন একটা আইন পাস করেছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের সমালোচনা করলে জরিমানা। তানভীর সেটা পড়ে সারারাত ঘুমাতে পারেনি। সে জানে ঠিক কোন দেয়ালে কী লিখবে। শব্দগুলো মাথায় প্রস্তুত। হাত নিশপিশ করে। কিন্তু সে বের হয় না। ক্যামেরা আছে।

তানভীরের স্প্রে ক্যানগুলো আলমারির পেছনে পড়ে আছে। ধুলো জমছে।

---

রোকেয়া তার মেয়ে তিশাকে স্কুলে নিয়ে যায়। প্রতিদিন সকালে। হাত ধরে হাঁটে। তিশার বয়স ছয়। সবকিছু নিয়ে তার কৌতূহল। গাছ দেখলে জিজ্ঞেস করে কেন পাতা সবুজ। কুকুর দেখলে জিজ্ঞেস করে কুকুরেরও কি আম্মু আছে। আকাশে বিমান দেখলে জিজ্ঞেস করে বিমান কোথায় যায়।

আজ সকালে মোড়ে এসে তিশা ক্যামেরাটা দেখলো। সে আঙুল তুলে দেখাতে চাইলো।

"আম্মু, ওটা কী?"

রোকেয়া তিশার হাত টেনে নামালো। দ্রুত বললো, "ওদিকে তাকিও না, ক্যামেরা আছে।"

তিশা বুঝলো না। "ক্যামেরা কী করে?"

"দেখে।"

"কাকে দেখে?"

"সবাইকে।"

তিশা একটু ভাবলো। তারপর বললো, "আমাকেও?"

রোকেয়া উত্তর দিলো না। তিশার হাত ধরে জোরে হাঁটতে লাগলো। তিশা পেছনে ফিরে তাকালো। ক্যামেরার নীলচে আলোটা এখনো জ্বলছে।

একটা ছয় বছরের মেয়ে আজ শিখলো, কিছু কিছু জিনিসের দিকে তাকাতে নেই।

---

সাংবাদিক ফারজানা একটা রিপোর্ট করছে। বিষয়: ঢাকার নজরদারি ক্যামেরা। সে রাস্তায় নেমে মানুষের সাথে কথা বলছে। বেশিরভাগ মানুষ কিছু বলতে চায় না। কেউ হাত নাড়ে, কেউ মুখ ফিরিয়ে নেয়, কেউ বলে "ভালোই তো"। একজন বলে "আমি কিছু জানি না"। আরেকজন বলে "সরকার যা করে ভালোর জন্যই করে"। তারপর দ্রুত হেঁটে চলে যায়।

ফারজানা একজন রিকশাওয়ালাকে থামায়। লোকটার বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। মুখে গামছা, মাথায় টুপি। রিকশার পেছনে একটা পুরনো সিনেমার পোস্টার আটকানো। রঙ উড়ে গেছে।

"ভাই, ক্যামেরা কি ভালো?"

লোকটা একটু ভাবে। রিকশার হ্যান্ডেল ধরে দাঁড়িয়ে আছে। চোখ কুঁচকে রোদের দিকে তাকায়।

"চোরের জন্য ভালো। আমাদের জন্য... জানি না।"

ফারজানা অপেক্ষা করে। লোকটা আরো কিছু বলবে মনে হচ্ছে।

লোকটা বলে, "আমি তো চোর না। তাহলে ক্যামেরা আমাকে দেখে কেন?"

ফারজানা কিছু বলে না। লোকটা রিকশায় উঠে প্যাডেল মারে। চলে যায়। ফারজানা তার নোটবুকে লেখে: "রিকশাওয়ালা, নাম দিতে রাজি নয়।" তারপর কলমটা থামে। সে ভাবে, লোকটা নাম দিতে রাজি হয়নি কেন? আগে তো মানুষ নাম বলতো। মুখ দেখাতো। টেলিভিশনে আসতে চাইতো। এখন কেউ নাম বলতে চায় না।

ফারজানা খাতা বন্ধ করে। রিপোর্টটা সে শেষ করবে কিনা জানে না। রিপোর্ট করলে কে দেখবে? ক্যামেরা?

---

সন্ধ্যার পর ফার্মগেট মোড় ফাঁকা হয়ে আসে। দোকানপাট বন্ধ হয়। বাস কমে যায়। রাস্তায় মানুষ কমে, কুকুর বাড়ে। রাস্তার আলোগুলো জ্বলে ওঠে, কিছু জ্বলে না, কিছু জ্বলে আবার নেভে।

ক্যামেরাটা জ্বলে। একটানা।

আর ক্যামেরার ঠিক উপরে, খুঁটির মাথায় যেখানে ক্যামেরার বাক্সটা বসানো, সেখানে একটা পাখি বাসা বেঁধেছে। ছোট একটা বাসা। খড়কুটো, সুতো, পলিথিনের টুকরো দিয়ে তৈরি। বাসার ভেতরে তিনটা ছোট ডিম। পাখিটা বসে আছে ডিমের উপর। চোখ বন্ধ। উষ্ণ। নিরুদ্বিগ্ন।

পাখিটা জানে না তার নিচে কী আছে। জানলেও কিছু আসতো-যেতো না। পাখির কোনো লাইসেন্স নেই, কোনো পরিচয়পত্র নেই, কোনো ঠিকানা নেই। সে কারো নজরদারির আওতায় পড়ে না। সে শুধু একটা খুঁটি খুঁজেছিল বাসা বাঁধার জন্য। পেয়ে গেছে। বাসা বেঁধেছে। ডিম দিয়েছে। এখন অপেক্ষা করছে।

নিচে ক্যামেরা ঢাকা দেখছে। উপরে পাখি ডিমে তা দিচ্ছে।

ক্যামেরার কোনো ক্লান্তি নেই। পাখির কোনো ভয় নেই।

---

রাত গভীর হয়। ঢাকা ঘুমায়। কিন্তু ক্যামেরা ঘুমায় না। সে দেখতে থাকে। ফাঁকা রাস্তা দেখে। বন্ধ দোকান দেখে। ঘুমন্ত কুকুর দেখে। মাঝে মাঝে একটা রিকশা যায়, সেটা দেখে। একটা পুলিশের গাড়ি যায়, সেটা দেখে। কিছু না হলেও দেখে। দেখাটাই তার কাজ।

আর ঢাকার মানুষ ঘুমের মধ্যেও জানে, কেউ দেখছে।

এটুকুই যথেষ্ট। শাস্তি দেওয়ার দরকার নেই। গ্রেপ্তার করার দরকার নেই। ক্যামেরাকে কিছু করতে হয় না। শুধু থাকলেই চলে। শুধু দেখলেই চলে। মানুষ বাকিটা নিজেই করে নেয়। নিজের পথ বদলায়। নিজের ঠেলা সরায়। নিজের স্প্রে ক্যান রেখে দেয়। নিজের মেয়েকে বলে, তাকিও না।

কেউ কাউকে বলেনি থামতে। কেউ কাউকে বলেনি পথ বদলাতে। কেউ কাউকে বলেনি চুপ করতে।

কিন্তু সবাই থেমেছে। সবাই পথ বদলেছে। সবাই চুপ করেছে।

ফার্মগেট মোড়ে রাতের বাতাস বয়। ক্যামেরার উপরে পাখিটা ডানা গুটিয়ে ঘুমায়। তার ডিমগুলো উষ্ণ। কিছুদিনের মধ্যে ডিম ফুটবে। ছানা বের হবে। ছানাগুলো চিৎকার করবে, খাবার চাইবে, ডানা মেলবে। তারপর একদিন উড়ে যাবে। ক্যামেরার উপর থেকে, খুঁটির মাথা থেকে, ফার্মগেটের আকাশে।

তারা উড়বে। কারণ তারা পারে। কারণ আকাশে কোনো ক্যামেরা নেই।

নিচে ঢাকা পড়ে থাকে। দেখা হতে থাকে। চুপচাপ।