মধ্যবিত্তের শেষ রাত

পর্ব ৭০ · ১০ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-১৮

শুমন আলমারির তাকে রাখা ফাইলগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। পনেরো বছরের হিসাবের কাগজ। ব্যালান্স শিট, ট্রায়াল ব্যালান্স, অডিট রিপোর্ট। কিছু কাগজ হলুদ হয়ে গেছে। কিছু কাগজে পিঁপড়া ধরেছে। কিন্তু সব কাগজে শুমনের হাতের লেখা, শুমনের হিসাব, শুমনের স্বাক্ষর।

আজ বিকেলে অফিসের এইচআর ম্যানেজার তাকে একটা চিঠি দিয়েছে। সাদা খাম। ভেতরে একটা কাগজ। কাগজে লেখা: "আপনার চাকরি ৩১ মার্চ তারিখে সমাপ্ত হবে। তিন মাসের বেতন গ্র্যাচুইটি হিসেবে প্রদান করা হবে। আপনার দীর্ঘদিনের সেবার জন্য ধন্যবাদ।"

ধন্যবাদ। শব্দটা শুমনের জিভে তেতো লাগল।

বারোজন হিসাবরক্ষক। বারোজনকে একসাথে চিঠি দিয়েছে। বারোজনের বদলে একটা সফটওয়্যার। কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার গতমাসে মিটিংয়ে বলেছিল, "কস্ট অপ্টিমাইজেশন।" শুমন সেদিন বুঝেছিল কথাটার মানে। বুঝেও বোঝেনি। ভেবেছিল, আমাকে রাখবে। আমি সিনিয়র। আমার এমবিএ আছে। বাকিদের হয়তো ছাঁটবে, আমাকে না।

সবাইকে ছেঁটেছে। সিনিয়র, জুনিয়র, এমবিএ, বিকম, সবাইকে। সফটওয়্যারটার সিনিয়রিটি লাগে না। ডিগ্রি লাগে না। ঘুম লাগে না। ছুটি লাগে না। অসুখ হয় না। বেতন দাবি করে না।

শুমন আলমারি বন্ধ করল। ঘরে ফিরে এসে বসল ডাইনিং টেবিলে। টেবিলের উপর একটা ফুলদানি। ফুলদানিতে প্লাস্টিকের ফুল। তার স্ত্রী নাজমা এগুলো কিনেছিল ধানমন্ডির একটা দোকান থেকে, গত ঈদে। সাদা আর হলুদ। ফুলগুলোতে ধুলো জমেছে।

নাজমা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলো। হাতে দুটো কাপ চা। একটা শুমনের সামনে রাখল, একটা নিজের জায়গায়। তারপর বসল।

চুপচাপ চা খেল দুজনে। শুমন চায়ের ভেতর দিয়ে কিছু দেখার চেষ্টা করছিল। কিছু দেখা গেল না। চা-ই দেখা গেল।

নাজমা বলল, "চিঠিটা কী বলে?"

শুমন জানত এই প্রশ্ন আসবে। তবু প্রস্তুত ছিল না।

"চাকরি শেষ। মার্চের পর আর যেতে হবে না।"

নাজমার মুখে কোনো ভাব নেই। যেন একটা আবহাওয়ার খবর শুনল। রোদ উঠবে, বৃষ্টি হবে, চাকরি যাবে। কিন্তু শুমন জানে এই মুখের পেছনে কী চলছে। পনেরো বছরের সংসারে শুমন এটুকু শিখেছে: নাজমা যত শান্ত দেখায়, ভেতরে তত ঝড়।

"কেন?" নাজমা জিজ্ঞেস করল।

"AI। সফটওয়্যার। সব অটোমেটেড হয়ে গেছে।"

"সব?"

"হিসাব, নিরীক্ষা, ট্যাক্স রিটার্ন, পে-রোল। সব।"

নাজমা চায়ে ফুঁ দিল। "শুধু তোমাকে? নাকি সবাইকে?"

"বারোজনকে।"

চুপ। বাইরে রাস্তায় একটা রিকশার ঘণ্টা বাজল। কোথাও একটা বাচ্চা কাঁদছে।

নাজমা বলল, "তুমি কি অন্য জায়গায় চাকরি পাবে?"

শুমন চায়ের কাপ নামিয়ে রাখল। "পাবো।"

কথাটা মুখ থেকে বেরিয়ে গেল। শুমন নিজেই শুনল। কণ্ঠে বিশ্বাস ছিল না। যেমন ফুলদানির প্লাস্টিকের ফুলে গন্ধ নেই, তেমন।

নাজমা আর কিছু জিজ্ঞেস করল না। উঠে গেল রান্নাঘরে। শুমন বসে রইল। প্লাস্টিকের ফুলের দিকে তাকিয়ে রইল। ফুলগুলো চুপ। শুমনও চুপ।

---

রাতের খাবার শেষে মেয়ে তিশা এসে বলল, "আব্বা, আমার ম্যাথ বুঝাও।"

তিশা ক্লাস থ্রিতে পড়ে। আট বছর বয়স। চুলে দুটো কালো ক্লিপ। স্কুলের খাতায় গুণ আর ভাগ। সংখ্যাগুলো ছোট ছোট। সাত গুণ আট, ছিয়ান্ন ভাগ সাত, এরকম।

শুমন মেয়ের পাশে বসল। খাতাটা টানল। পেন্সিলটা হাতে নিল। তিশা তার বাবার কাঁধে মাথা রাখল। শুমন একটা একটা করে অঙ্ক বোঝাতে লাগল।

"দেখো, ছিয়ান্ন ভাগ সাত মানে কী? মানে ছিয়ান্নটা জিনিস সাতজনকে সমান ভাগ করে দিতে হবে। প্রত্যেকে কয়টা পাবে?"

তিশা আঙুল দিয়ে গুনল। "আট?"

"হ্যাঁ। ঠিক।"

তিশা হাসল। শুমনও হাসল। ত্রিশ মিনিট ধরে বাবা-মেয়ে অঙ্ক করল। সাত গুণ আট, ছিয়ান্ন ভাগ সাত, নয় গুণ ছয়। সংখ্যাগুলো ছোট। উত্তরগুলো সহজ। শুমন প্রতিটা উত্তর জানে। শুমনকে কোনো সফটওয়্যার লাগে না এই অঙ্ক করতে। শুমন নিজেই পারে। ত্রিশ মিনিট শুমন দরকারি ছিল। ত্রিশ মিনিট শুমন কাজে লাগল।

তিশা খাতা গুছিয়ে চলে গেল ঘুমাতে। শুমন টেবিলে বসে রইল।

---

রাত এগারোটা। নাজমা ঘুমিয়ে গেছে। তিশা ঘুমিয়ে গেছে। ফ্ল্যাটের বাইরে ঢাকা ঘুমাচ্ছে, যতটুকু ঢাকা কখনো ঘুমায়।

শুমন বিছানায় শুয়ে ফোন হাতে নিল। চাকরির ওয়েবসাইট খুলল।

সার্চ করল: accountant, dhaka।

তেরোটা ফলাফল। প্রথমটা খুলল। "Required: 3+ years experience in AI-assisted accounting platforms. Proficiency in automated reconciliation tools." শুমন স্ক্রল করল। দ্বিতীয়টা: "Must have hands-on experience with AI-driven ERP systems." তৃতীয়টা: "Seeking accounts professional with strong AI and machine learning integration skills."

শুমন বারোটা ফলাফল দেখল। বারোটার মধ্যে এগারোটায় AI শব্দটা আছে। এগারোটাতে "AI experience" চায়। একটাতে AI নেই, কিন্তু সেটা একটা ছোট দোকানের হিসাবরক্ষকের পদ, বেতন বারো হাজার টাকা। শুমনের ফ্ল্যাটের ভাড়াই পঁচিশ হাজার।

শুমন ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল। পনেরো বছরের অভিজ্ঞতা। এমবিএ। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের সাথে কাজ করেছে। মাল্টিন্যাশনালের অডিট সামলেছে। কিন্তু AI? শুমন কখনো AI শেখেনি। শুমনের কখনো মনে হয়নি AI শিখতে হবে। AI তো ফ্যাক্টরির জিনিস। AI তো গার্মেন্টসের জিনিস। AI তো কৃষকের জিনিস, শ্রমিকের জিনিস, যাদের কাজ "সহজ" তাদের জিনিস। হিসাব তো সহজ না। হিসাবে বুদ্ধি লাগে, বিচার লাগে, অভিজ্ঞতা লাগে।

লাগত। আর লাগে না।

শুমন ফোন নামিয়ে ছাদের দিকে তাকাল। সিলিংয়ে একটা গিরগিটি বসে আছে। নড়ছে না। গিরগিটিটা কী ভাবছে কে জানে। হয়তো কিছুই ভাবছে না। গিরগিটির ভাবনার দরকার নেই। গিরগিটি পোকা খায়, দেয়ালে বসে থাকে, বেঁচে থাকে। গিরগিটির চাকরি যায় না।

শুমনের মাথায় একটা কথা ঘুরছে। কথাটা তার নিজের না, টিভিতে শুনেছিল বছর সাতেক আগে। কোনো একটা টকশো। কেউ একজন বলেছিল, "AI প্রথমে নিচের দিকের কাজগুলো নেবে। কারখানার কাজ, পরিবহনের কাজ, সেলাইয়ের কাজ। মধ্যবিত্তের চিন্তার কিছু নেই।" শুমন সেদিন মাথা নেড়েছিল। মনে মনে ভেবেছিল, হ্যাঁ, ঠিক তো। আমি তো হিসাবরক্ষক। আমার কাজে মাথা খাটাতে হয়। মেশিন কি মাথা খাটাতে পারে?

পারে। মেশিন পারে। মেশিন শুমনের চেয়ে ভালো পারে। মেশিন ভুল করে না। মেশিন ক্লান্ত হয় না। মেশিন ছুটি চায় না। মেশিন বোনাস চায় না। মেশিন ঈদে বাড়ি যায় না।

শুমন করবদল করে শুয়ে পড়ল। চোখ বন্ধ করল। ঘুম এলো না।

সাত বছর আগে গাজীপুরের গার্মেন্টসে রহিমা নামে একটা মেয়ের চাকরি গেছিল। শুমন খবরটা পড়েছিল পত্রিকায়। রোবট এসেছে, শ্রমিক ছাঁটাই। শুমন সেদিন পত্রিকাটা ভাঁজ করে রেখে দিয়ে চা খেয়েছিল। কোনো কষ্ট লাগেনি। কোনো ভয় লাগেনি। মনে হয়েছিল, ওটা ওদের সমস্যা। গরিব মানুষের সমস্যা। যাদের শুধু হাত আছে, মাথা নেই। শুমনের মাথা আছে। শুমনের ডিগ্রি আছে। শুমনের টাই আছে, এসি অফিস আছে, সুইভেল চেয়ার আছে।

ছিল। সব ছিল।

এখন শুমন আর রহিমা একই জায়গায় দাঁড়িয়ে। রহিমা সাত বছর আগে যেখানে দাঁড়িয়েছিল, শুমন এখন সেখানে। পার্থক্য শুধু এটুকু: রহিমা জানত সে দুর্বল। রহিমা কোনোদিন ভাবেনি সে নিরাপদ। শুমন ভেবেছিল। শুমনের মধ্যবিত্ত জীবন তাকে একটা মিথ্যা দিয়েছিল: তুমি আলাদা। তুমি উপরে। তোমাকে কেউ সরাতে পারবে না।

পারে। সবাইকে সরাতে পারে।

শুমন চোখ খুলল। অন্ধকারে সিলিংয়ের দিকে তাকাল। গিরগিটিটা সরে গেছে। কোথায় গেছে কে জানে।

শুমনের রাগ হচ্ছে। কার উপর রাগ? কোম্পানির উপর? যারা সফটওয়্যার বানিয়েছে তাদের উপর? সরকারের উপর? না। শুমনের রাগ নিজের উপর। নিজের সেই আত্মবিশ্বাসের উপর যেটা কোনো ভিত্তি ছাড়াই দাঁড়িয়ে ছিল। পনেরো বছর ধরে শুমন একই কাজ করেছে। একই সফটওয়্যার ব্যবহার করেছে। একই ফর্ম পূরণ করেছে। কখনো জিজ্ঞেস করেনি, এই কাজটা কি আর পাঁচ বছর থাকবে? কখনো ভাবেনি, আমি কি নিজেকে বদলাচ্ছি? বদলায়নি। পৃথিবী বদলে গেছে, শুমন বদলায়নি। এখন পৃথিবী বলছে, তোমাকে আর দরকার নেই। শুমন বলছে, কিন্তু আমার তো এমবিএ আছে। পৃথিবী শুনছে না।

মধ্যবিত্ত। শব্দটা শুমনের মুখে তিতকুটে লাগছে। মধ্যবিত্ত মানে কী? মধ্যবিত্ত মানে না গরিব, না ধনী। মধ্যবিত্ত মানে একটা ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকা, একটা চাকরি করা, মাসশেষে হিসাব মেলানো, ছেলেমেয়েকে স্কুলে পাঠানো, বছরে একবার কক্সবাজার যাওয়া। মধ্যবিত্ত মানে একটা ভ্রম: আমরা নিরাপদ। আমরা শিক্ষিত। আমরা চিন্তা করি। মেশিন আমাদের বদলাতে পারবে না।

মেশিন পারে। মেশিন চিন্তা করতে পারে। মেশিন হিসাব করতে পারে। মেশিন লিখতে পারে। মেশিন আঁকতে পারে। মেশিন গান বানাতে পারে। মেশিন আইন পড়তে পারে। মেশিন ডায়াগনোসিস করতে পারে। মধ্যবিত্ত যা যা পারে বলে গর্ব করত, মেশিন তার বেশিরভাগটাই পারে। শুমন এটা আগে জানত না। জানলেও বিশ্বাস করত না। এখন বিশ্বাস করতে হচ্ছে। চিঠি পকেটে আছে।

গরিবরা এটা আগেই বুঝেছিল। রহিমা বুঝেছিল। জাহিদ বুঝেছিল। করিম বুঝেছিল। তারা জানত তারা দুর্বল। তারা জানত তাদের কোনো ঢাল নেই। শুমন ভেবেছিল তার ঢাল আছে। ডিগ্রির ঢাল, অফিসের ঢাল, টাইয়ের ঢাল। কিন্তু ঢাল কাগজের ছিল। প্রথম ধাক্কায় ভেঙে গেছে।

শুমন উঠে বসল। ফোন আবার হাতে নিল। এবার চাকরির সাইট না, ফেসবুক খুলল। তার ব্যাচমেটদের গ্রুপ। কেউ সেলফি দিয়েছে, কেউ বাচ্চার জন্মদিনের ছবি, কেউ "ব্লেসড" লিখেছে। শুমন স্ক্রল করল। থামল একটা পোস্টে। তার বন্ধু শফিক লিখেছে: "Proud to announce that I have completed my certification in AI-powered financial analytics!" নিচে পঁয়তাল্লিশটা লাইক, বারোটা "কংগ্র্যাটস"।

শুমন ফোন বন্ধ করে দিল। বালিশের নিচে রাখল।

পাশে নাজমা ঘুমাচ্ছে। শান্ত মুখ। নাজমা জানে না রাতের অন্ধকারে শুমনের মাথায় কী চলছে। অথবা জানে। নাজমা অনেক কিছু জানে যেটা সে বলে না।

শুমন ভাবল, কাল সকালে তিশাকে স্কুলে দিতে হবে। তিশার টিফিন বক্সে কী দেবে? গতকাল পরোটা দিয়েছিল। আজ হয়তো ভাত, ডিম ভাজি। তিশা ডিম ভাজি পছন্দ করে, কিন্তু শুধু কুসুমটা খায়, সাদা অংশটা ফেলে দেয়। কতবার বলেছে সাদা অংশটাও খা, শোনে না।

শুমন হিসাব করল। তিন মাসের গ্র্যাচুইটি পাবে। সেভিংসে কিছু আছে। মোট মিলিয়ে পাঁচ মাস চলবে। পাঁচ মাসের মধ্যে চাকরি না পেলে? ফ্ল্যাট ছাড়তে হবে। তিশাকে অন্য স্কুলে দিতে হবে। নাজমার গয়নাগুলো... না। সেখানে শুমন যেতে চায় না মাথায়।

কিন্তু মাথা তো শোনে না। মাথা নিজের মতো চলে। হিসাবরক্ষকের মাথা হিসাবই করে, এমনকি যখন হিসাব করতে চায় না তখনও।

শুমন উঠে জানালার কাছে গেল। পর্দা সরাল। বাইরে ঢাকা। আলো কম। রাত গভীর। রাস্তায় একটা কুকুর হাঁটছে। ধীরে ধীরে, কোনো তাড়া নেই। কুকুরটা কোথায় যাচ্ছে কে জানে। কুকুরটা নিজেও হয়তো জানে না। শুধু হাঁটছে।

শুমন ভাবল, মধ্যবিত্তের শেষ কোথায়? মধ্যবিত্ত কি এক রাতে শেষ হয়? নাকি আস্তে আস্তে, টুকরো টুকরো করে? প্রথমে চাকরি যায়, তারপর সেভিংস যায়, তারপর ফ্ল্যাট যায়, তারপর সম্মান যায়। নাকি সম্মান আগেই যায়? চিঠি পাওয়ার মুহূর্তেই?

জানালা বন্ধ করল শুমন। পর্দা টানল। বিছানায় ফিরে এলো।

পাশের ঘর থেকে তিশার ঘুমের শব্দ আসছে। হালকা নাক ডাকা। তিশা জানে না তার বাবার চাকরি গেছে। তিশা জানে না AI কী। তিশা জানে সাত গুণ আট ছাপান্ন। তিশা জানে তার আব্বা অঙ্ক পারে।

শুমন চোখ বন্ধ করল।

ঘুম এলো না। রাত গভীর হলো। ঢাকা একটু একটু করে চুপ হলো। দূরে কোথাও একটা মসজিদের ঘড়ি বাজল। কয়টা বাজল শুমন গুনল না।

শুমন শুয়ে আছে। চোখ বন্ধ। কিন্তু অন্ধকারে দেখছে: একটা অফিস, একটা ডেস্ক, একটা সুইভেল চেয়ার, একটা কম্পিউটার স্ক্রিন, স্ক্রিনে সংখ্যার সারি। পনেরো বছর ধরে এই ছবিটা শুমনের ছিল। এখন এই ছবিটা একটা সফটওয়্যারের। সফটওয়্যারের কোনো চোখ নেই এই ছবি দেখার। কিন্তু ছবিটা তার।

ভোর হতে এখনো অনেক দেরি।

বাইরে সেই কুকুরটা আবার ডাকল। একবার। তারপর চুপ।