কে মানুষ, কে মেশিন

পর্ব ৮০ · ১০ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-১৮

**সিরিজ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বাংলাদেশ | পর্ব ৮০ | অধ্যায় ৮ সমাপ্তি: দ্বিতীয় ঢেউ, ২০৩৮**

---

এক

মিতুর অফিসে ফোন বাজছিল।

ফোনটা বাজছিল প্রায় মিনিট দুয়েক। কেউ ধরছিল না। কারণ, অফিসে মাত্র চারজন আছে, তিনজন মিটিংয়ে, একজন বাথরুমে। মিতু বাথরুম থেকে বেরিয়ে দৌড়ে গিয়ে ধরল।

"আসসালামু আলাইকুম, টেকব্রিজ সল্যুশনস, মিতু বলছি।"

"ওয়ালাইকুম আসসালাম। আমি সিরাজগঞ্জ থেকে বলছি। মামুন। আমার একটা সমস্যা হচ্ছে।"

সমস্যাটা ছিল সফটওয়্যার আপডেটের। মামুনের কোম্পানি টেকব্রিজের একটা ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে। আপডেটের পর কিছু একটা ভেঙে গেছে। মিতু শুনল, বুঝল, সমাধান দিল। কথা হলো মিনিট দশেক। মামুন সন্তুষ্ট।

তারপর মামুন বলল, "একটা কথা জিজ্ঞেস করি?"

"বলেন।"

"আমি কি মানুষের সাথে কথা বলছি?"

মিতু কিছুক্ষণ চুপ থাকল। প্রশ্নটা বুঝতে সময় লাগল।

"আমি মানুষ," মিতু বলল। "মিতু। মিতু আক্তার।"

"ওহ," মামুন বলল। "না, মানে, কষ্ট পাবেন না। এখন তো বোঝাই যায় না। গতমাসে একটা ব্যাংকে ফোন করেছিলাম, পনেরো মিনিট কথা বললাম, শেষে জানলাম AI ছিল। তো আপনারেও জিজ্ঞেস করলাম।"

"না না, ঠিক আছে," মিতু বলল। "বুঝতে পারছি।"

ফোন রাখার পর মিতু কিছুক্ষণ চেয়ারে বসে রইল। তার মনে হলো একটা অদ্ভুত কথা: মামুন দশ মিনিট কথা বলেছে তার সাথে। তার গলায় হাসি ছিল, বিরক্তি ছিল, স্বস্তি ছিল। সে "আচ্ছা" বলেছে, "হুম" বলেছে, "ধন্যবাদ" বলেছে। দশ মিনিট পর, সে নিশ্চিত হতে পারেনি যে অপর প্রান্তে একজন মানুষ আছে।

মিতু জানালার দিকে তাকাল। বাইরে ঢাকার রাস্তায় গাড়ি যাচ্ছে। কিছু অটোনোমাস, কিছু মানুষচালিত। সেগুলোও দেখে বোঝা যায় না কোনটা কোনটা।

সে ভাবল, আমি যদি আরেকটু ভালো করে কথা বলতাম, আরেকটু মসৃণ, আরেকটু নিখুঁত, তাহলে কি মামুন আরো বেশি সন্দেহ করত?

ভাবনাটা তার ভালো লাগল না।

---

দুই

রহিমার ফোনে নোটিফিকেশন এলো সন্ধ্যা সাড়ে ছটায়।

সে তখন মিরপুরের একটা গলিতে দাঁড়িয়ে ছিল, স্কুটারে বসে, হাঁফাচ্ছিল। আজ সারাদিনে বারোটা ডেলিভারি দিয়েছে। শরীর ভাঙা। পিঠে ব্যথা। পায়ের পাতায় ঝিনঝিন ধরেছে।

ফোনে দেখল: একটা সোনালি রঙের ব্যাজ। নিচে লেখা, "ভালো কাজ করেছো! ৫০টি ডেলিভারি সম্পন্ন!"

রহিমা হাসল। একটু। মুখের কোণে। সারাদিনে কেউ তাকে কিছু বলেনি। কোনো কাস্টমার ধন্যবাদ দেয়নি। রেস্টুরেন্টের লোক তার দিকে তাকায়ওনি। স্কুটার চালাতে চালাতে একটা রিকশা প্রায় ধাক্কা মারছিল, রিকশাওয়ালা গালি দিয়েছে। সারাদিনে কেউ বলেনি, "ভালো কাজ করেছো।"

একটা অ্যাপ বলল।

রহিমা ব্যাজটার দিকে তাকিয়ে রইল। সোনালি রঙের। ঝলমল করছে। অ্যানিমেশনটা সুন্দর, ছোট ছোট তারা ফুটছে ব্যাজের চারপাশে।

তারপর তার মনে হলো, এটা তো কেউ বলেনি। একটা সিস্টেম বলেছে। একটা অ্যালগরিদম। পঞ্চাশ নম্বর ডেলিভারির পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই মেসেজটা আসে। সবাই পায়। রহিমা বিশেষ কেউ না। এটা তার জন্য আলাদা করে লেখা হয়নি। কোনো মানুষ তার কাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে বলেনি, "বাহ, রহিমা, তুমি ভালো কাজ করেছো।"

কিন্তু সে তো ভালো লেগেছিল। সেই এক সেকেন্ডের জন্য ভালো লেগেছিল।

রহিমা ফোনটা পকেটে রাখল। পরের ডেলিভারি ধানমন্ডি। সে স্কুটার স্টার্ট দিল। হেডলাইট জ্বলল। গলিটা আলো হয়ে গেল।

সে ভাবল, ভালো লাগাটা কি আসল ছিল? যদি একটা মেশিন কাউকে ভালো অনুভব করাতে পারে, তাহলে সেই ভালো অনুভবটা কি নকল?

উত্তর পেল না। ডেলিভারি দিতে হবে।

---

তিন

করিমের সাইটে ক্রেনটা ভেঙে গেল বিকেল চারটায়।

নারায়ণগঞ্জের একটা আবাসিক প্রকল্প। বাইশতলা উঠবে। এখন বারোতলা পর্যন্ত হয়েছে। ক্রেনটা জার্মান, অটোমেটেড, তিন বছরের পুরনো। মোটর পুড়ে গেছে। পার্টস আসতে তিন দিন লাগবে, জার্মানি থেকে।

করিম সুপারভাইজার তৌফিককে বলল, "তিন দিন বসে থাকব?"

তৌফিক বলল, "মানুষ দিয়ে কাজ চালাও।"

সন্ধ্যায় আটজন শ্রমিক এলো। পুরনো ধরনের কাজ। হাতে ইট, মাথায় বালি, কাঁধে রড। লিফটিং মেশিন নেই, তাই পুলি আর দড়ি। আলো কম, তাই হেডল্যাম্প।

করিম দাঁড়িয়ে দেখল। ক্রেন যেখানে ঘণ্টায় আড়াই টন তোলে, মানুষ তুলছে ঘণ্টায় দুইশো কেজি। একটা কংক্রিট ব্লক তুলতে চারজন লাগছে। ক্রেন একাই তুলত। একজন শ্রমিকের হাত কেটে গেল রডে, রক্ত পড়ছে, সে কাপড় বেঁধে আবার কাজে লেগে গেল।

রাত নটায় তৌফিক এলো। সাইট ঘুরে দেখল। তারপর বলল, "মানুষ দিয়ে হবে না।"

কথাটা সে এমনভাবে বলল, যেভাবে কেউ আবহাওয়ার কথা বলে। "আজ বৃষ্টি হবে।" সেরকম। কোনো ক্রোধ নেই, কোনো দুঃখ নেই। শুধু একটা তথ্য।

করিম কিছু বলল না। সে জানে তৌফিক ঠিক বলেছে। ক্রেন ছাড়া তিন দিনে যা হবে, ক্রেন দিয়ে তিন ঘণ্টায় হতো। হিসাবটা পরিষ্কার।

কিন্তু রাতে, সাইটের পাশে বসে চা খেতে খেতে, করিম একটা জিনিস দেখল। শ্রমিকরা কাজ করছে। তারা একে অপরকে ডাকছে, "ওই রশিদ, একটু ধর," "বাঁ দিকে সরা," "আস্তে আস্তে।" তাদের গায়ে ঘাম, মুখে ক্লান্তি, কিন্তু তারা কাজ করছে। তারা ধীর, তারা দুর্বল, তারা ক্রেনের ধারেকাছেও না। কিন্তু তারা কাজ করছে।

করিম চায়ের কাপটা নামিয়ে রাখল।

"মানুষ দিয়ে হবে না" কথাটা সত্য। কিন্তু সত্য হলেও কথাটা বলা উচিত হয়নি। কেন উচিত হয়নি, সেটা করিম ঠিক বুঝিয়ে বলতে পারবে না। কিন্তু জানে।

---

চার

সেলিনা চরের বাড়িতে বসে ল্যাপটপ খুলল রাত এগারোটায়।

ভোলার একটা চর। নাম চরকুকরি-মুকরি। নদীর মধ্যে জমি, জমির মধ্যে মানুষ, মানুষের মধ্যে রোগ। সেলিনা এখানকার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তিন বছর আগে পোস্টিং হয়েছে।

ল্যাপটপে একটা সিস্টেম আছে। সরকারি। নাম "স্বাস্থ্যবার্তা"। AI চালিত। স্যাটেলাইট ডেটা, আবহাওয়ার ডেটা, পানির নমুনা, হাসপাতালের ভর্তির হার, এসব কিছু মিলিয়ে এটা রোগের পূর্বাভাস দেয়।

আজ সিস্টেম বলছে: চরকুকরি-মুকরিতে আগামী সাত দিনের মধ্যে কলেরার প্রাদুর্ভাবের সম্ভাবনা। ঝুঁকির মাত্রা: উচ্চ।

সেলিনা জানালার বাইরে তাকাল। অন্ধকার। নদীর শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। বাড়ির পেছনে একটা জোনাকি জ্বলছে, নিভছে, জ্বলছে, নিভছে। সবুজাভ আলো। ছোটবেলায় সে জোনাকি ধরত হাতে, মুঠো ভরে আলো হতো। এই চরে এখনো জোনাকি আছে। শহরে নেই।

সেলিনা সিস্টেমের রিপোর্টটা আবার পড়ল। ডেটা দেখল। পানির pH, গত দুই সপ্তাহের বৃষ্টিপাত, নদীর স্রোতের দিক, তাপমাত্রা। সব মিলিয়ে AI বলছে কলেরা আসবে। কিন্তু এই মুহূর্তে কেউ অসুস্থ না। কোনো উপসর্গ নেই। কোনো রোগী নেই।

সে সিদ্ধান্ত নিল। সরিয়ে নেবে।

পরদিন সকালে সে চরের মানুষদের জড়ো করল। মাইক নিয়ে ঘুরল। বলল, "কলেরা আসতে পারে। সবাইকে সরে যেতে হবে। মূল ভূখণ্ডে। তিন দিনের জন্য।"

মানুষ প্রথমে শুনল না। একজন বলল, "কেউ তো অসুস্থ না।" আরেকজন বলল, "গরু কোথায় রাখব?" একজন মহিলা বলল, "আগেরবারও বলেছিল ঝড় আসবে, কিছু হয়নি।"

সেলিনা বলল, "আমি জানি কেউ অসুস্থ না। কিন্তু সিস্টেম বলছে আসবে। আমি ঝুঁকি নিতে চাই না।"

তিন দিন লাগল। তিনশো মানুষকে সরানো হলো। গরু, ছাগল, মুরগি নিয়ে। নৌকায়, ট্রলারে। মূল ভূখণ্ডে একটা স্কুলে আশ্রয়।

পাঁচ দিন পর কলেরা এলো। ঠিক যেভাবে AI বলেছিল। পানিতে ভিব্রিও কলেরি পাওয়া গেল। চরে যারা থাকত, তাদের কেউ মারা গেল না। কারণ কেউ ছিল না।

সেলিনা হিরো হলো। সংবাদপত্রে নাম এলো। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফোন করে ধন্যবাদ দিলেন।

কিন্তু রাতে, চরের বাড়িতে ফিরে, সেলিনা ল্যাপটপটা বন্ধ করে অন্ধকারে বসে রইল। সে একটা কথা ভাবছিল যেটা কাউকে বলেনি।

যদি AI ভুল বলত?

যদি সে তিনশো মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যেত, আর কলেরা না আসত? তাহলে কী হতো? মানুষ বলত, "সেলিনা পাগল। এত কষ্ট করালো, কিছুই হয়নি।" পরেরবার সে যদি আবার বলত "সরে যান," কেউ শুনত না। একটা AI একবার ভুল বললে, ভুলটা সেলিনার হতো। AI-এর না।

এবার সে সফল। কিন্তু সফলতা আর ব্যর্থতার মাঝখানে পার্থক্যটা সে করেনি। AI করেছে। সেলিনা শুধু বিশ্বাস করেছে। সেই বিশ্বাসটাই তার একমাত্র কাজ ছিল।

বাড়ির পেছনে জোনাকিটা এখনো জ্বলছে, নিভছে।

---

পাঁচ

জাহিদের বয়স সত্তর।

সে রিটায়ার্ড স্কুলশিক্ষক। চল্লিশ বছর বাংলা পড়িয়েছে। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ। হাতে চক, ব্ল্যাকবোর্ডে কবিতা, ক্লাসরুমে ধুলো। সেই জীবন শেষ। এখন মেয়ের বাসায় থাকে, গুলশানে। মেয়ের নাম নাহিদা। নাহিদার ছেলে আরাফ। আরাফের বয়স দুই।

জাহিদ আরাফকে খুব ভালোবাসে। আরাফও দাদুকে ভালোবাসে, যদিও সে "দাদু" বলতে পারে না, "দাউ" বলে।

আজ বিকেলে জাহিদ আরাফকে একটা বই দিল। ছবির বই। পাতায় পাতায় রঙিন ছবি। হাতি, ঘোড়া, মাছ, পাখি। বইটা জাহিদ নিজে কিনেছে, মার্কেটে গিয়ে। বইয়ের গন্ধটা সে পছন্দ করে। কাগজের গন্ধ।

আরাফ বইটা হাতে নিল। তারপর প্রথম পাতায় আঙুল রাখল। আঙুলটা স্ক্রিনের মতো টানল। ডান থেকে বাম। সোয়াইপ করল।

পাতা উল্টালো না।

আরাফ আবার চেষ্টা করল। আবার সোয়াইপ। পাতা নড়ল না। সে বিরক্ত হলো। আবার করল। আবার। তারপর বইটা ফেলে দিল।

জাহিদ বইটা তুলে নিল। সে আরাফকে দেখাল, পাতা কীভাবে ওল্টাতে হয়। আঙুলের ডগা দিয়ে পাতার কোণাটা ধরতে হয়, তারপর তুলতে হয়। সে ধীরে ধীরে দেখাল।

আরাফ দেখল। তারপর ট্যাবলেটের দিকে হাত বাড়াল।

জাহিদ ট্যাবলেট দিল না। বইটা আবার দিল। আরাফ এবার একটু চেষ্টা করল। পাতার কোণা ধরতে পারল না, কিন্তু পুরো পাতাটা কুঁচকে ফেলল। তাতে পাতা উল্টে গেল। আরাফ খুশি হলো।

জাহিদ চেয়ারে বসে রইল। তার মনে হলো, আরাফ বইয়ের পাতা চেনে না। সে চেনে স্ক্রিন। তার কাছে পৃথিবীর সবকিছু স্ক্রিন। বই একটা স্ক্রিন যেটা কাজ করছে না।

এই শিশুটা বড় হবে। সে একদিন বুঝবে বই আর ট্যাবলেটের পার্থক্য। কিন্তু সে কি কখনো বুঝবে যে একটা সময় ছিল যখন পৃথিবীতে স্ক্রিন ছিল না? যখন সবকিছু ছিল পাতা, কাগজ, মাটি, কাঠ? সে কি বুঝবে যে তার দাদু এমন একটা পৃথিবীতে বড় হয়েছে যেখানে "সোয়াইপ" বলে কোনো শব্দই ছিল না?

নাহিদা এসে বলল, "আব্বু, চা খাবে?"

জাহিদ বলল, "হ্যাঁ।"

নাহিদা চলে গেল। আরাফ মেঝেতে বসে বইটা কুঁচকাচ্ছে। প্রতিটা পাতা কুঁচকে কুঁচকে ওল্টাচ্ছে। তার নিজের একটা পদ্ধতি বের করেছে। সোয়াইপ না, কুঁচকানো। কাজ হচ্ছে।

জাহিদ দেখল, আরাফ হাতির ছবিটা পেয়ে গেছে। সে হাতির ছবিতে আঙুল দিয়ে টোকা মারছে। ট্যাপ করছে। সে ভাবছে হাতিটা নড়বে।

হাতি নড়ল না।

---

সন্ধ্যায় নাহিদা আরাফকে ছাদে নিয়ে গেল। গুলশানের ছাদে আকাশ দেখা যায়, যদিও আলোর দূষণে তারা কম। আরাফ ছাদে দৌড়াদৌড়ি করল। তারপর হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেল।

একটা জোনাকি।

কোথা থেকে এসেছে গুলশানে জোনাকি, কেউ জানে না। হয়তো পাশের পার্কের গাছ থেকে। হয়তো কোনো টবের মাটি থেকে। কিন্তু একটা জোনাকি উড়ছে ছাদের কোণায়। জ্বলছে, নিভছে, জ্বলছে, নিভছে।

আরাফ জোনাকিটার দিকে দৌড়ে গেল। হাত বাড়াল। জোনাকি উড়ে গেল। আরাফ আবার দৌড়াল। আবার হাত বাড়াল। জোনাকি আবার উড়ে গেল।

জাহিদ ছাদের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখছিল। তার নাতি একটা জোনাকি ধরার চেষ্টা করছে। জোনাকিটা ছোট, সবুজ, জ্বলে, নেভে। ব্যাটারিতে চলে না। কোনো অ্যাপ নেই। কোনো অ্যালগরিদম নেই। এটা শুধু একটা পোকা। একটা আলো দেয় এমন পোকা।

আরাফ জোনাকিটা ধরতে পারল না। সে হাঁফাতে হাঁফাতে দাদুর কাছে ফিরে এলো। তার চোখ বড় বড়। সে কিছু বলতে চাইছে কিন্তু শব্দ পাচ্ছে না।

জাহিদ নাতিকে কোলে তুলে নিল।

ছাদের কোণায় জোনাকিটা এখনো জ্বলছে। একটা ছোট সবুজ আলো। কোনো তার নেই, কোনো চার্জার নেই, কোনো সার্ভার নেই। শুধু জ্বলছে। তার নিজের কারণে জ্বলছে। কোনো কারণে না জ্বলছে।

আরাফ দাদুর কাঁধে মাথা রাখল।

জোনাকিটা জ্বলছে।