মিতু আর রহিমা

পর্ব ৮৬ · ১১ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-১৮

হাসপাতালের লিফটে একটা গন্ধ আছে। ফিনাইল আর পুরনো লোহার মিশ্রণ। রহিমা গন্ধটা চেনে। বছরে দুই-তিনবার এই গন্ধ পেয়েছে। রাজু যখন ডেঙ্গু হলো, তখন। আলমের হাঁটুর অপারেশনে, তখন। নিজের পিত্তথলির পাথরে, তখন। হাসপাতালের গন্ধ মানে খারাপ কিছু। সবসময়।

আজ ছাড়া।

আজ মিতু বাচ্চা হবে বলে এসেছে। মিতুর বয়স বত্রিশ। রহিমার বয়স চুয়ান্ন। রহিমা নানী হবে।

লিফটের দরজা খুলল। চতুর্থ তলা। মেটারনিটি ওয়ার্ড। রহিমা বের হলো। করিডোরে সাদা আলো। মেঝেতে নীলচে টাইলস। একটা ছেলে মপ দিয়ে মেঝে মুছছে। ছেলেটার কানে তার ঝুলছে, কানে কিছু একটা গুঁজে রেখেছে, গান শুনছে হয়তো। মুছতে মুছতে মাথা দোলাচ্ছে।

রহিমা ঘর খুঁজে বের করল। ৪১৭।

দরজা খুলে ঢুকল।

মিতু বিছানায় শুয়ে আছে। গায়ে হাসপাতালের নীল গাউন। চুল খোলা, বালিশে ছড়িয়ে আছে। মুখটা ফ্যাকাশে, কিন্তু চোখ খোলা। মিতুর স্বামী তানভীর জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছে। কাউকে জানাচ্ছে। "হ্যাঁ, এডমিট হয়ে গেছে। ডাক্তার বলেছে আজ রাতে বা কাল সকালে।"

"আম্মু।"

মিতুর গলায় স্বস্তি। রহিমা বিছানার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। মিতুর মাথায় হাত রাখল। চুলগুলো একটু গুছিয়ে দিল।

"কেমন লাগছে?"

"ব্যথা হচ্ছে। আসছে, যাচ্ছে।"

"এমনই হয়।"

রহিমার দুইবার হয়েছে। মিতু, তারপর রাজু। দুইবারই গাজীপুরের সরকারি হাসপাতালে। ওয়ার্ডে আরো বিশজন মহিলা। পর্দা নেই। পাখা একটা, সেটাও কাজ করে না। ডাক্তার আসেন, দুই মিনিট দেখেন, চলে যান। নার্স বলে, "ধৈর্য ধরেন, আম্মা।" ব্যস।

এই ঘরটা আলাদা। মিতুর শ্বশুরবাড়ির খরচে প্রাইভেট ঘর। এয়ার কন্ডিশন আছে। টিভি আছে, যদিও কেউ দেখছে না। বাথরুম আলাদা। আর বিছানার পাশে একটা মেশিন।

রহিমা মেশিনটার দিকে তাকাল।

একটা বড় স্ক্রিন। স্ক্রিনে রঙিন লাইন ওঠানামা করছে। একটা সবুজ, একটা নীল, একটা হলুদ। লাইনের পাশে সংখ্যা। ইংরেজিতে কিছু লেখা। একটা লাইন হঠাৎ ওপরে উঠে যায়, তারপর আবার নেমে আসে। আরেকটা লাইন প্রায় সমান থাকে, মাঝে মাঝে একটু কেঁপে ওঠে।

মিতুর পেটে একটা বেল্ট বাঁধা। সেখান থেকে তার গেছে এই মেশিনে। মেশিন দেখছে। সবকিছু।

রহিমা চেয়ার টেনে বসল। মিতুর হাত ধরল।

"এই মেশিন কী করে?" রহিমা জিজ্ঞেস করল।

মিতু একটু হাসল। ব্যথার ভেতরেও হাসল। "কনট্রাকশন ট্র্যাক করে। বাচ্চার হার্টবিট দেখে। আমার ব্লাড প্রেশার দেখে। সব দেখে।"

"সব?"

"হ্যাঁ, আম্মু। এআই আছে এতে। কিছু অস্বাভাবিক হলে আগেই বলে দেয়। ডাক্তারকে অ্যালার্ট পাঠায়।"

রহিমা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল। সবুজ লাইনটা ওঠানামা করছে। ছন্দ আছে এতে। শ্বাস নেওয়ার মতো। ওপরে, নিচে। ওপরে, নিচে।

সংখ্যাগুলো বদলাচ্ছে। ১৩৮। ১৪২। ১৩৫। ১৪০। রহিমা বুঝল না এগুলো কিসের সংখ্যা। ভালো না খারাপ, বেশি না কম। কিন্তু দেখতে পায়, সংখ্যাগুলো একটা জায়গার আশেপাশে ঘুরছে। বেশি দূরে যাচ্ছে না। এটুকু বুঝল।

তানভীর ফোন রেখে এলো। "আম্মা, আপনি চা খাবেন? নিচে ক্যান্টিন আছে।"

"না। এখানে আছি।"

রাত বাড়ছে। মিতুর ব্যথা বাড়ছে।

ব্যথা আসে ঢেউয়ের মতো। কিছুক্ষণ শান্ত, তারপর একটা ঢেউ আসে। মিতু দাঁত চেপে ধরে। চোখ বন্ধ করে। রহিমার হাত চেপে ধরে। রহিমা চুপচাপ বসে থাকে। কিছু বলে না। শুধু হাত ধরে রাখে।

মেশিনের স্ক্রিনে ঢেউটা দেখা যায়। একটা লাইন হঠাৎ খাড়া উঠে যায়, চূড়ায় কিছুক্ষণ থাকে, তারপর নামে। ঠিক যখন মিতু চোখ বন্ধ করে, ঠিক তখন লাইনটা ওপরে ওঠে। মেশিন আর মিতু একসাথে কথা বলছে, শুধু ভাষা আলাদা।

একজন নার্স এলো। স্ক্রিন দেখল। কিছু একটা লিখল ট্যাবলেটে। তারপর মিতুর দিকে তাকিয়ে হাসল।

"সব ঠিক আছে, মেশিন বলছে।"

রহিমা বলল, "আমিও বলছি।"

নার্স একটু অবাক হলো। তারপর হাসল। "আপনি ডাক্তার?"

"না। আম্মা।"

নার্স আর কিছু বলল না। চলে গেল।

রহিমা মিতুর কপালে হাত রাখল। ঘাম হচ্ছে। রহিমা তোয়ালে ভিজিয়ে কপাল মুছে দিল। মিতু চোখ খুলে তাকাল।

"আম্মু, তুমি ক্লান্ত না? বসে আছো কতক্ষণ ধরে।"

"ক্লান্ত হওয়ার সময় হয়নি।"

রহিমা ক্লান্ত। পায়ে ব্যথা, কোমরে ব্যথা। চুয়ান্ন বছরের শরীর। আঠারো বছর ফ্যাক্টরিতে দাঁড়িয়ে কাজ করেছে, শরীর তার হিসাব রাখছে। কিন্তু এখন এসব কথা নয়।

মেশিনের স্ক্রিনে একটা নতুন সংখ্যা দেখা দিল। রহিমা পড়তে পারল না। ইংরেজিতে ছোট করে কিছু লেখা, তার পাশে একটা সংখ্যা সবুজ রঙে জ্বলছে। সবুজ মানে ভালো, এটুকু রহিমা জানে। ফ্যাক্টরিতে কোয়ালিটি ক্যামেরার স্ক্রিনেও সবুজ মানে ভালো ছিল, লাল মানে খারাপ। সেই ক্যামেরা রহিমার কাজ নিয়ে নিয়েছিল। এই মেশিন মিতুকে দেখছে। একই প্রযুক্তি। একটা কাজ কেড়ে নেয়, আরেকটা প্রাণ দেখে রাখে।

রহিমা এসব ভাবল না। রহিমা ভাবনার মানুষ নয়। রহিমা দেখার মানুষ। সে দেখছে মিতুর মুখ। ব্যথায় ভ্রু কুঁচকে যাচ্ছে। ঠোঁট শক্ত হচ্ছে। চোয়াল শক্ত হচ্ছে। সেই একই চোয়াল। রহিমার চোয়াল।

তানভীর ঘুমিয়ে পড়েছে। সোফায়। ফোনটা বুকের ওপর। রহিমা কিছু বলল না। ছেলেমানুষ, ঘুমের দরকার আছে। মেয়ে মানুষের ঘুমের দরকার নেই, এমন কথা নয়। কিন্তু মেয়ে মানুষ ঘুমায় না। এটা সিদ্ধান্ত, দরকারের হিসাব নয়।

ঘরের জানালাটা পূর্বদিকে।

রাত কাটছে। মিতু মাঝে মাঝে ঘুমাচ্ছে, মাঝে মাঝে জেগে উঠছে ব্যথায়। রহিমা বসে আছে। মেশিনের স্ক্রিন জ্বলছে। সবুজ লাইন চলছে। সংখ্যা বদলাচ্ছে। রহিমা মাঝে মাঝে স্ক্রিনের দিকে তাকাচ্ছে, মাঝে মাঝে মিতুর দিকে। স্ক্রিন আর মিতু একই কথা বলছে, শুধু রহিমা মিতুর ভাষা বোঝে।

ভোর হলো।

ছয়টা তেতাল্লিশে জানালা দিয়ে রোদ ঢুকল। তির্যক আলো। ঘরের সবকিছু সোনালি হয়ে গেল। মিতুর মুখ, বিছানার চাদর, মেশিনের স্ক্রিন, রহিমার হাত, সব। সাত মিনিট। ঠিক সাত মিনিট এই আলো থাকল। তারপর সূর্য উঠে গেল, কোণ বদলে গেল, আলো সাধারণ হয়ে গেল। কেউ এই আলোর পরিকল্পনা করেনি। স্থপতি ভাবেননি জানালাটা পূর্বে দিলে মার্চ মাসে সকাল ছয়টা তেতাল্লিশে ঠিক এইভাবে আলো আসবে। কেউ ভাবেনি। এমনি হয়েছে।

সাতটার দিকে ডাক্তার এলেন। একজন মহিলা। চশমা পরা, চুল বাঁধা। স্ক্রিন দেখলেন। ট্যাবলেটে কিছু দেখলেন। মিতুকে পরীক্ষা করলেন।

"রেডি। আর বেশিক্ষণ না।"

মিতু রহিমার দিকে তাকাল। চোখে ভয়। রহিমা চেনে এই চোখ। নিজেরও ছিল। বত্রিশ বছর আগে। গাজীপুরের সেই হাসপাতালে। পাশে কেউ ছিল না। আলম বাইরে বসে ছিল। মা মারা গেছে তিন বছর আগে। একা ছিল রহিমা। একা ভয় পেয়েছিল। একা সামলেছিল।

মিতু একা নয়। রহিমা আছে।

"আম্মু, ভয় লাগছে।"

"ভয় লাগবে। লাগুক। ভয় থাকতে থাকতেই হয়ে যাবে।"

এটা সান্ত্বনা নয়। এটা সত্য। রহিমা সান্ত্বনা দিতে জানে না। সত্য বলতে জানে।

মিতুকে নিয়ে গেল ডেলিভারি রুমে।

রহিমাকে বাইরে থাকতে বলল। রহিমা করিডোরে দাঁড়িয়ে রইল। তানভীর পাশে পায়চারি করছে। ফোনে তার মাকে আপডেট দিচ্ছে।

রহিমা দাঁড়িয়ে আছে। দেয়ালে হেলান দিয়ে। চোখ বন্ধ।

ভেতর থেকে কোনো আওয়াজ পাচ্ছে না। দরজা বন্ধ। ভারী দরজা। শব্দ আটকায়।

রহিমা গুনছে। অভ্যাস। কী গুনছে জানে না। সময় হয়তো। এক, দুই, তিন, চার। অথবা শ্বাস। অথবা হৃদপিণ্ডের তাল। কিছু একটা গুনছে। গুনলে ভয় কমে। গুনলে সময় কাটে। গুনলে মনে হয় কিছু একটা নিয়ন্ত্রণে আছে, যদিও কিছুই নেই।

একশো সাতাশে দরজা খুলল।

নার্স বের হলো। হাসছে।

"মেয়ে হয়েছে।"

রহিমার বুকের ভেতর কিছু একটা ভেঙে গেল। না, ভেঙে গেল না। খুলে গেল। যেভাবে খুব শক্ত করে মুঠো বন্ধ করে রাখলে হাত ব্যথা করে, তারপর মুঠো খুললে একটা স্বস্তি আসে। সেরকম।

তানভীর ফোনে বলছে, "মেয়ে হয়েছে! মেয়ে!" তার গলা কাঁপছে।

রহিমা কিছু বলল না। ভেতরে গেল।

মিতু বিছানায়। ক্লান্ত। চোখ অর্ধেক বন্ধ। কিন্তু হাসছে। একটা ক্ষীণ, গভীর হাসি। যে হাসি শুধু মায়েদের মুখে আসে। রহিমা চেনে এই হাসি। নিজের মুখেও এসেছিল।

বাচ্চাটা মিতুর বুকের ওপর। ছোট্ট। লাল। কুঁচকানো। চোখ বন্ধ। মুঠো বন্ধ। মুখ একটু খোলা। শ্বাস নিচ্ছে। ছোট ছোট শ্বাস।

রহিমা কাছে গেল। বিছানার পাশে দাঁড়াল। তাকিয়ে রইল।

"আম্মু, ধরো।"

মিতু বাচ্চাটা তুলে দিল। রহিমা হাত বাড়াল। বাচ্চাটা হাতে নিল। হালকা। এত হালকা। এক মুঠো তুলোর মতো। রহিমার রুক্ষ হাত, ফ্যাক্টরিতে সোয়েটার ধরতে ধরতে চামড়া শক্ত হয়ে গেছে, সেই হাতে এই নরম জিনিস। রহিমা সাবধানে ধরল। যেভাবে কোনো ভাঙা জিনিস ধরে, না, যেভাবে কোনো জিনিস ধরলে সেটা ভাঙবে না কিন্তু একটু জোরে ধরলেও ভেঙে যেতে পারে।

বাচ্চাটা চোখ খুলল না। শুধু মুখ একটু নড়ল। একটা শব্দ করল। শব্দ বলা যায় না, শ্বাসের চেয়ে একটু বেশি কিছু।

রহিমা বাচ্চার হাত ধরল। ডান হাত। ছোট্ট আঙুল। গুনল।

এক। দুই। তিন। চার। পাঁচ।

বাঁ হাত ধরল।

এক। দুই। তিন। চার। পাঁচ।

ডান পা।

এক। দুই। তিন। চার। পাঁচ।

বাঁ পা।

এক। দুই। তিন। চার। পাঁচ।

বিশ। সব আছে।

মেশিন আগেই বলে দিয়েছে সব ঠিক আছে। আলট্রাসাউন্ড দেখিয়েছে। রিপোর্ট বলেছে। ডাক্তার বলেছে। এআই বলেছে। কিন্তু রহিমা নিজে গুনল। নিজের আঙুল দিয়ে ছুঁয়ে গুনল। কারণ মেশিন সংখ্যা জানে। রহিমা ছোঁয়া জানে।

মিতু দেখছে। চোখে পানি।

"আম্মু, নাম কী রাখবো?"

রহিমা বাচ্চার দিকে তাকাল। মুখটা দেখল। ছোট্ট নাক। ছোট্ট ঠোঁট। কপালে একটু চুল, ভেজা, কালো। কার মতো দেখতে? এখনো বোঝা যাচ্ছে না। সব বাচ্চাই প্রথমে একরকম দেখতে। পরে বদলায়। পরে নিজের মতো হয়ে যায়।

"যা ইচ্ছা রাখো," রহিমা বলল। "শুধু গুনতে শেখাও।"

মিতু একটু হাসল। "গুনতে? তুমি তো সবসময় সব গুনো, আম্মু। বোতাম গুনো, চাল গুনো, টাকা গুনো।"

"হ্যাঁ।"

রহিমা আর কিছু বলল না। বলল না যে গোনাটা তার কাছে কী। বলল না যে গোনা মানে হারিয়ে যেতে না দেওয়া। বলল না যে গোনা মানে জানা, কী আছে আর কী নেই। বলল না যে পৃথিবীতে যত মেশিন আসুক, যত স্ক্রিন জ্বলুক, যত সংখ্যা ওঠানামা করুক, কিছু জিনিস আছে যেগুলো নিজে ছুঁয়ে গুনতে হয়। নিজে দেখতে হয়। নিজে বুঝতে হয়।

বাচ্চার আঙুল রহিমার আঙুল ধরল। রিফ্লেক্স। নবজাতকের সহজাত প্রবৃত্তি। ডাক্তার বলবে এটা গ্র্যাসপিং রিফ্লেক্স, স্নায়ুতন্ত্রের স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়া। মেশিন বলবে এটা একটা প্যারামিটার, স্বাভাবিক সীমার মধ্যে। রহিমা কিছু বলবে না। রহিমা শুধু অনুভব করবে। একটা ছোট্ট হাত তার আঙুল ধরে আছে। এটুকুই।

বাইরে সকাল হয়ে গেছে। হাসপাতালের করিডোরে মানুষ বাড়ছে। জুতার শব্দ। কথার গুঞ্জন। কোথাও একটা ফোন বাজছে।

ঘরের ভেতরে মিতু ঘুমিয়ে পড়েছে। ক্লান্তিতে। বাচ্চাটা পাশে। বাচ্চাও ঘুমাচ্ছে। তানভীর নিচে গেছে, নাশতা আনতে।

রহিমা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে।

বাইরে ঢাকা শহর জেগে উঠছে। রিকশার ঘণ্টি। বাসের হর্ন। কোথাও আজান শেষ হচ্ছে। একটা কাক ডাকছে। পরিচিত শব্দ। চেনা শহর। কিন্তু আজ সবকিছু একটু অন্যরকম লাগছে। কেন, রহিমা জানে না। হয়তো ঘুম হয়নি বলে। হয়তো নাতনি হয়েছে বলে। হয়তো দুটোই।

মেশিনের স্ক্রিন এখনো জ্বলছে। সবুজ। সব ঠিক আছে। মেশিন দেখছে। মেশিন গুনছে। মেশিন হিসাব রাখছে।

রহিমাও রাখছে।

বাচ্চার ডান হাতে পাঁচটা আঙুল। বাঁ হাতে পাঁচটা। ডান পায়ে পাঁচটা। বাঁ পায়ে পাঁচটা। বিশ। সব আছে। কিছু হারায়নি। কিছু বাদ পড়েনি।

রহিমা জানালা থেকে ফিরে এলো। চেয়ারে বসল। মিতুর বিছানার পাশে।

বাচ্চাটা ঘুমাচ্ছে। মিতু ঘুমাচ্ছে। মেশিন জেগে আছে। রহিমা জেগে আছে।

রহিমা গুনছে না। এই মুহূর্তে কিছু গোনার নেই। সব গোনা হয়ে গেছে। সব আছে।

পাশের বিছানায় তার মেয়ে। মেয়ের বুকের কাছে তার মেয়ের মেয়ে। স্ক্রিনে সবুজ আলো। জানালায় সকালের আলো।

রহিমা চোখ বন্ধ করল। ঘুমাল না। শুধু চোখ বন্ধ করল। আর শুনল। বাচ্চার শ্বাস। মিতুর শ্বাস। মেশিনের ক্ষীণ গুঞ্জন। তিনটা আলাদা শব্দ। তিনটা আলাদা ছন্দ। কোনোটা কোনোটার সাথে মেলে না। কিন্তু একসাথে আছে। এই ঘরে। এই সকালে।

রহিমা গুনছে না।

রহিমা শুনছে।