বাংলাদেশ কী পেলো

পর্ব ৮৮ · ১১ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-১৮

**সিরিজ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বাংলাদেশ | পর্ব ৮৮ | অধ্যায় ৯: হিসাব, ২০৪২**

---

বন্যার পানি আসার আটচল্লিশ ঘণ্টা আগে ফোনগুলো বাজতে শুরু করেছিল।

সিলেটের জকিগঞ্জে, সুরমা নদীর ধার ঘেঁষে যে গ্রামটা, সেখানে মানুষ বন্যায় অভ্যস্ত। জুন মাসে পানি আসবে, এটা সবাই জানে। কিন্তু কখন আসবে, কত উঁচুতে উঠবে, কোনদিকে আগে ঢুকবে, এসব কেউ জানে না। জানত না। আগে গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা নদীর পানি দেখে, আকাশ দেখে, বাতাসের গন্ধ শুঁকে একটা আন্দাজ করত। কখনো মিলত, কখনো মিলত না। ২০৩৪ সালে রাতে পানি ঢুকেছিল, কেউ টের পায়নি, তিনজন মারা গিয়েছিল। একজন বৃদ্ধা, একটা বাচ্চা, আর একটা ছাগল। ছাগলটার কথা কেউ মনে রাখেনি, কিন্তু ছাগলটার মালিক কাদের মিয়া মনে রেখেছিল। সেই ছাগলটাই ছিল তার একমাত্র সম্পদ।

২০৪২ সালের জুনে ফোন বাজল। সিস্টেমটা মেঘালয়ের বৃষ্টিপাতের ডেটা, নদীর পানির উচ্চতা, ভূমির ঢাল, আর গত বিশ বছরের বন্যার প্যাটার্ন মিলিয়ে হিসাব করেছিল। হিসাবটা সহজ ভাষায় এসেছিল ফোনে। বাংলায়। "আগামী দুই দিনের মধ্যে পানি আসবে। আপনার এলাকায় পানি চার ফুট উঠতে পারে। এখনই উঁচু জায়গায় যান।"

কাদের মিয়া ফোনটা পেয়ে প্রথমে বিশ্বাস করেনি। আকাশ পরিষ্কার। নদীতে পানি স্বাভাবিক। সে তার ভাইয়ের ফোনেও একই মেসেজ এসেছে কি না জানতে চাইল। এসেছে। পাশের বাড়ির রহমান চাচার ফোনেও এসেছে। ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের ফোনেও এসেছে। চেয়ারম্যান মাইক দিয়ে ঘোষণা দিল।

দুইশো পরিবার সরে গেল। সাথে নিল ধান, কাপড়, গরু, ছাগল, মুরগি, আর ঘরের টিনের চালা যতটুকু খোলা যায়। কেউ কেউ ফ্রিজ নিয়ে গেল, যদিও আশ্রয়কেন্দ্রে বিদ্যুৎ নেই। কাদের মিয়া তার দুটো ছাগল নিয়ে গেল। এবার কোনো ছাগল হারাবে না।

আটচল্লিশ ঘণ্টার মাথায় পানি এলো। চার ফুট না, সাড়ে চার ফুট উঠল। যারা সরেনি, তাদের ঘরে পানি ঢুকল। কিন্তু যে দুইশো পরিবার সরে গিয়েছিল, তাদের কেউ মারা যায়নি। কেউ আহত হয়নি। কাদের মিয়ার ছাগল দুটো বেঁচে গেল।

পরে কেউ উৎসব করেনি। পানি নামলে সবাই ফিরে গেল, কাদামাটি পরিষ্কার করল, আবার ঘর তুলল। বন্যা তো প্রতিবছরই আসে। এবার শুধু কেউ মরেনি।

---

রাজশাহীতে একটা ছেলে আছে, নাম সুমন। বয়স সতেরো। জন্ম থেকে দেখতে পায় না। দুই চোখেই অন্ধ। রেটিনাল ডিসপ্লেসিয়া, ডাক্তার বলেছিল জন্মের পরে, কিছু করার নেই।

সুমনের বাবা রিকশা চালায়। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে। সুমন সরকারি অন্ধ বিদ্যালয়ে পড়ে। ব্রেইল শিখেছে, কিন্তু বাংলা ব্রেইলের বই খুব কম। স্কুলের লাইব্রেরিতে যা আছে তা পড়া শেষ হয়ে গেছে অনেক আগে। রবীন্দ্রনাথ পড়তে চায় সুমন। গীতাঞ্জলি, গল্পগুচ্ছ, শেষের কবিতা। কিন্তু ব্রেইলে রবীন্দ্রনাথের সমগ্র রচনাবলী কেউ কখনো করেনি। করবেও না সম্ভবত। বাংলা ব্রেইলের বাজার এত ছোট যে কোনো প্রকাশক এতে বিনিয়োগ করবে না।

তানিয়ার টিম একটা অ্যাপ বানিয়েছিল। নাম "পাঠক।" বাংলা টেক্সট-টু-স্পিচ। ব্যাপারটা সহজ শোনায়, কিন্তু বাংলা উচ্চারণ ঠিকমতো করা কঠিন। বাংলায় একই বর্ণের উচ্চারণ শব্দভেদে বদলায়। "ক" কখনো "কো," কখনো "ক।" যুক্তাক্ষরের উচ্চারণ আলাদা। হ্রস্ব-ই আর দীর্ঘ-ঈ এর পার্থক্য, চন্দ্রবিন্দুর অনুনাসিকতা, এসব ঠিকমতো না করলে শুনতে যন্ত্রের মতো লাগে, মানুষের মতো না। তানিয়ার টিম তিন বছর ধরে কাজ করেছিল এই উচ্চারণ মডেলে। বিনামূল্যে।

সুমন "পাঠক" অ্যাপটা পেয়েছিল ২০৩৯ সালে। তার পুরনো একটা ফোন ছিল, বাবা কিনে দিয়েছিল সেকেন্ডহ্যান্ড। অ্যাপটা ইনস্টল করে সে প্রথমেই রবীন্দ্রনাথ খুঁজল। পুরো রচনাবলী আছে। গীতাঞ্জলি আছে। গল্পগুচ্ছ আছে। সব আছে।

সুমনের প্রিয় কবিতা "আমার সোনার বাংলা।" সে এই কবিতাটা চারশো বার শুনেছে অ্যাপে। চারশো বার। প্রতিদিন অন্তত একবার। কখনো দুবার, তিনবার। ঘুমানোর আগে শোনে। সকালে উঠে শোনে। পরীক্ষার আগে শোনে। বৃষ্টি হলে শোনে। কবিতাটা পুরনো হয় না। সে বলে, "প্রতিবার নতুন লাগে।" কেন নতুন লাগে জিজ্ঞেস করলে উত্তর দিতে পারে না। শুধু বলে, "লাগে।"

এখন সুমন রবীন্দ্রনাথ ছাড়াও পড়ে। জীবনানন্দ পড়ে, শরৎচন্দ্র পড়ে, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় পড়ে। তার ক্লাসের দেখতে পাওয়া বন্ধুদের চেয়ে সে বেশি বই পড়ে। শিক্ষক বলেন, "সুমন সবচেয়ে বেশি পড়ুয়া ছাত্র।" সুমন এটা শুনে কিছু বলে না। সে জানে সে পড়ুয়া না। সে শুধু শুনতে পায় এখন যা আগে পারত না।

---

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিওনেটাল ইউনিটে একটা বাচ্চা ছিল। নাম রাখা হয়নি তখনো। ছয় মাসে জন্ম হয়েছিল, ওজন এক কেজি দুইশো গ্রাম। বাচ্চাটার মা ফাতেমা, বয়স বাইশ, প্রথম সন্তান। বাবা জাহিদ, অটো চালায়।

প্রিম্যাচিউর বাচ্চাদের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হার্ট আর ফুসফুস। এত ছোট শরীরে এত কিছু একসাথে কাজ করতে হয়, কোনো একটা যন্ত্র গোলমাল করলে পুরো সিস্টেম ভেঙে পড়ে। আগে ডাক্তাররা চোখে দেখে, কানে শুনে, অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝতেন কখন কিছু একটা ভুল হচ্ছে। কিন্তু সব সময় বোঝা যায় না। কিছু কিছু অনিয়ম এত সূক্ষ্ম যে মানুষের পক্ষে ধরা সম্ভব না।

হাসপাতালে একটা মনিটরিং সিস্টেম বসানো হয়েছিল আট মাস আগে। বাচ্চার হার্টবিট, অক্সিজেন লেভেল, শ্বাসের ধরন, সব কিছু প্রতি সেকেন্ডে রেকর্ড করে বিশ্লেষণ করত। জন্মের তৃতীয় দিনে সিস্টেমটা একটা অ্যালার্ট দিল। বাচ্চার হার্টবিটে একটা প্যাটার্ন আছে যেটা দেখে মনে হচ্ছে পেটেন্ট ডাক্টাস আর্টেরিওসাস বন্ধ হচ্ছে না।

ডিউটি ডাক্তার ছিলেন ডা. রুমানা। তিনি অ্যালার্টটা দেখে ইকোকার্ডিওগ্রাম করালেন। সিস্টেম ঠিকই ধরেছিল। ডাক্টাস বন্ধ হচ্ছে না। এটা না ধরলে আরো দুই-তিন দিন পরে বাচ্চার হার্ট ফেইলিওর হতে পারত। তখন ধরলে হয়তো দেরি হয়ে যেত।

ওষুধ দেওয়া হলো। ডাক্টাস বন্ধ হলো। বাচ্চা বেঁচে গেল।

ফাতেমা এসব জানে না। তাকে কেউ বলেনি কী হয়েছিল। সে শুধু জানে তার বাচ্চা ইনকিউবেটরে আছে, দিন দিন একটু একটু বড় হচ্ছে, ওজন বাড়ছে। সে প্রতিদিন আসে, জানালার ওপাশ থেকে দেখে। জাহিদ অটো চালিয়ে আসে দুপুরে, দশ মিনিট দেখে, আবার চলে যায়। তারা জানে না তাদের বাচ্চা একবার প্রায় মরে গিয়েছিল এবং একটা যন্ত্র সেটা ঠেকিয়েছিল। জানার দরকারও নেই হয়তো।

বাচ্চাটার নাম পরে রাখা হয়েছিল আয়ান। এখন তার ওজন দুই কেজি। সে দুধ খায়, ঘুমায়, কাঁদে। স্বাভাবিক বাচ্চা।

---

যশোরের একটা গ্রামে মোস্তফা শেখ ধান চাষ করে। তার পাঁচ বিঘা জমি। বাপের জমি, বাপের বাপের জমি। কিন্তু ফলন কমছিল বছরের পর বছর। মাটিতে কী হচ্ছে বুঝত না মোস্তফা। সার দিত, কিন্তু কোন সার কতটুকু দিতে হবে সেটা অনুমানে করত। কখনো বেশি দিত, কখনো কম। বেশি দিলে মাটি পুড়ে যেত, কম দিলে ফলন কম হতো।

একটা কোম্পানি মাটি পরীক্ষার সার্ভিস চালু করেছিল। ফোনের ক্যামেরায় মাটির ছবি তোলো, লোকেশন দাও, বর্ষার আগে না পরে সেটা বলো, ফসল কী হবে সেটা বলো। সিস্টেম স্যাটেলাইট ডেটা, আবহাওয়ার ডেটা, আর এলাকার মাটির ঐতিহাসিক ডেটা মিলিয়ে একটা সার্টিফিকেট দিত। কোন সার কত কেজি দিতে হবে, কখন দিতে হবে, পানি কতদিন পরপর দিতে হবে, সব লেখা থাকত।

সাবস্ক্রিপশন মাসে পঞ্চাশ টাকা। মোস্তফা প্রথমে ভেবেছিল ঠকবে। পঞ্চাশ টাকা ফেলা দেওয়া। কিন্তু পাশের গ্রামের হারুন এটা ব্যবহার করছিল, তার ফলন বেড়েছিল। মোস্তফা চেষ্টা করল।

প্রথম মৌসুমে ফলন বাড়ল। অনেকটা বাড়ল। এত বেশি ধান হলো যে মোস্তফা বিশ্বাস করতে পারেনি। সে ভেবেছিল কোনো ভুল হয়েছে, এবার বেশি বৃষ্টি হয়েছে বলে হয়তো। পরের মৌসুমেও বাড়ল। তার পরেও। তিন মৌসুম পরে মোস্তফা বুঝল এটা কাজ করে।

পঞ্চাশ টাকা। মাসে পঞ্চাশ টাকা।

মোস্তফা এখন পঞ্চাশ টাকা দিতে রাজি। সে আরো বেশি দিতে রাজি। কিন্তু পঞ্চাশ টাকাই লাগে। সে কোম্পানিকে ফোন করে জিজ্ঞেস করেছিল, "ভাই, দাম বাড়াবেন না তো?" ওপাশ থেকে বলেছিল, "না।" মোস্তফা পুরোপুরি বিশ্বাস করেনি। দাম সবসময় বাড়ে। কিন্তু এখন পর্যন্ত পঞ্চাশ টাকাই আছে।

---

মিতুর কোম্পানি এখন বারোটা টুল চালায়। সবগুলো বাংলায়। সবগুলো বিনামূল্যে। "পাঠক" তার মধ্যে একটা। বাকিগুলোর মধ্যে আছে ভয়েস-টু-টেক্সট, ডকুমেন্ট স্ক্যানার, কৃষি পরামর্শ, আইনি সহায়তা, স্বাস্থ্য তথ্য, শিশু শিক্ষা, আরো কিছু। বিশ লাখ মানুষ ব্যবহার করে। মিতু এই সংখ্যাটা নিয়ে কোনো প্রেস কনফারেন্স করেনি। ওয়েবসাইটে লেখা আছে, এটুকুই।

কোম্পানি কীভাবে চলে? মিতু সরকারি প্রকল্প, আন্তর্জাতিক অনুদান, আর কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ফান্ড থেকে টাকা আনে। যথেষ্ট না। কখনো যথেষ্ট না। প্রতি কোয়ার্টারে একটা উত্তেজনা থাকে, পরের তিন মাসের বেতন দেওয়া যাবে কি না। মিতুর টিমে বাইশ জন কাজ করে। বাইশ জনের বেতন, অফিস ভাড়া, সার্ভার খরচ। মিতু মাঝে মাঝে নিজের বেতন নেয় না। কেউ জানে না।

সে একবার বলেছিল, "ফ্রি রাখতে হবে। ফ্রি না রাখলে সুমনের কাছে পৌঁছাবে না।" কেউ তাকে জিজ্ঞেস করেনি সুমন কে। সুমনকে মিতু চেনে না। সুমন একটা ধারণা, একটা নির্দিষ্ট ধরনের ব্যবহারকারী যাকে মিতু মাথায় রেখে প্রতিটা সিদ্ধান্ত নেয়। কাকতালীয়ভাবে রাজশাহীতে সত্যিই একটা সুমন আছে যে "পাঠক" ব্যবহার করে। কিন্তু মিতু সেটা জানে না।

---

সেলিনার কথা আলাদাভাবে বলতে হয়।

সেলিনার হাইব্রিড স্বাস্থ্যসেবা মডেল এখন তিনটা জেলায় চলে। এআই প্রাথমিক স্ক্রিনিং করে, মানুষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। এটা শুনতে সহজ, কিন্তু এই ভারসাম্যটা তৈরি করতে সেলিনার ছয় বছর লেগেছে। প্রথম দিকে এআই বেশি ক্ষমতা পেয়ে গিয়েছিল, ডাক্তাররা অভিযোগ করেছিলেন। তারপর এআই-এর ক্ষমতা কমানো হলো, তখন সিস্টেম কাজ করছিল না, কারণ এআই ছাড়া যে সমস্যাগুলো ধরা যাচ্ছিল না সেগুলো আবার ধরা যাচ্ছিল না। ছয় বছর ধরে এদিক-ওদিক করে একটা মাঝামাঝি জায়গা খুঁজে পেয়েছে সেলিনা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটাকে একটা মডেল হিসেবে পড়াশোনা করছে। সেলিনা জেনেভায় গেছে দুবার, প্রেজেন্টেশন দিয়েছে। লোকে প্রশ্ন করেছে, নোট নিয়েছে, ছবি তুলেছে। কিন্তু কেউ এখনো হুবহু কপি করেনি। কারণ মডেলটা বাংলাদেশের জন্য বানানো। এখানকার ডাক্তার-রোগী সম্পর্ক, এখানকার অবকাঠামো, এখানকার আস্থার ধরন বুঝে বানানো। অন্য দেশে হুবহু চলবে না। কিন্তু নীতিটা চলবে: যন্ত্র আর মানুষের মধ্যে একটা সীমারেখা থাকতে হবে, এবং সেই সীমারেখাটা কোথায় সেটা তত্ত্ব দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না, করতে হয় হাতে-কলমে, বছরের পর বছর।

সেলিনা জেনেভা থেকে ফিরে এসে বলেছিল, "ওরা মডেল চায়। আমি বললাম মডেল নেই। প্রসেস আছে।"

---

এগুলো হিসাব। কী পাওয়া গেল, তার হিসাব।

দুইশো পরিবার বেঁচে গেল। একটা অন্ধ ছেলে রবীন্দ্রনাথ পড়তে পারল। একটা বাচ্চার হার্ট সময়মতো ঠিক হলো। একজন কৃষকের ফলন বাড়ল। বিশ লাখ মানুষ বিনামূল্যে কিছু টুল পেল। একটা স্বাস্থ্যসেবা মডেল কাজ করল।

এগুলো একই দেশে ঘটছে যেখানে অন্য জিনিসগুলোও ঘটছে। যেখানে মানুষ চাকরি হারাচ্ছে, যেখানে কারখানা বন্ধ হচ্ছে, যেখানে কেউ কেউ পিছিয়ে পড়ছে। একই গ্রামে, কখনো কখনো একই পরিবারে। মোস্তফা শেখের ফলন বেড়েছে, কিন্তু তার ছেলে যে পাটকলে কাজ করত সেই পাটকল বন্ধ হয়ে গেছে। কাদের মিয়ার পরিবার বন্যায় বেঁচে গেছে, কিন্তু তার মেয়ে যে কম্পিউটারের দোকানে কাজ করত সেই দোকানে এখন আর লোক লাগে না।

লাভ আর ক্ষতি পাশাপাশি থাকে। একটা আরেকটাকে বাতিল করে না। দুটোই সত্য। একই সাথে সত্য।

হিসাব করা যায়। কিন্তু হিসাব মেলানো যায় না।

---

রাজশাহীতে সুমন আজ রাতেও "আমার সোনার বাংলা" শুনবে ঘুমানোর আগে। ফোনের স্ক্রিন কালো, সে তো দেখে না। শুধু কানে একটা কণ্ঠস্বর, যেটা যন্ত্রের তৈরি কিন্তু শোনায় মানুষের মতো, বলছে: "আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।" বালিশে মুখ গুঁজে সুমন শোনে। জানালা দিয়ে বাইরের অন্ধকার ঢুকছে, কিন্তু সুমনের কাছে জানালা আর দেয়ালে কোনো পার্থক্য নেই। তার অন্ধকার সবখানে একই রকম। শুধু কানে একটা কবিতা আসছে, বারবার, এবং সে ঘুমিয়ে পড়ছে।