যারা রয়ে গেলো পেছনে

পর্ব ৮৯ · ১১ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-১৮

যোসনা আক্তারের ফোনটা বদলেছে। আগেরটা ভেঙে গিয়েছিল, স্ক্রিনে চিড় ধরেছিল আড়াআড়ি, তারপরও দুই বছর চালিয়েছিল সেই চিড়-ধরা ফোনে। এখন যেটা আছে সেটাও পুরোনো, কিন্তু আগেরটার চেয়ে বড়। চোখের ওপর চাপ একটু কম পড়ে।

২০৪২ সাল। যোসনার বয়স এখন বত্রিশ।

সে এখনো ডেটা লেবেলিং করে। একই কাজ। বাক্য পড়া, ট্যাগ দেওয়া। পজিটিভ, নেগেটিভ, নিরপেক্ষ, প্রশ্ন, অনুরোধ, আবেগ। চৌদ্দ বছর আগে যখন শুরু করেছিল, প্রতি টাস্কে দুই টাকা পেত। এখন পায় তিন টাকা। চৌদ্দ বছরে এক টাকা বেড়েছে। কিন্তু চৌদ্দ বছরে চালের দাম তিনগুণ হয়েছে, ডিমের দাম চারগুণ, বাসভাড়া দ্বিগুণ। তিন টাকা এখন দুই টাকার চেয়েও কম। হিসাবটা যোসনা করেনি, কিন্তু হিসাব ছাড়াই বোঝা যায়। মাস শেষে যা থাকে, তা দিয়ে যা চলত, এখন চলে না।

প্ল্যাটফর্মটা বদলেছে। DataLabel BD এখন DataLabel Global। নাম বদলেছে, লোগো বদলেছে, ইন্টারফেস বদলেছে। কিন্তু কাজ বদলায়নি। বাক্য আসে, ট্যাগ দিতে হয়। আগে বাংলা বাক্য বেশি আসত। এখন বাংলা কমে গেছে। এখন বেশি আসে ইমেজ। ছবি দেখে বলতে হয়, এটা কী। গাড়ি, গাছ, মানুষ, রাস্তা, সিঁড়ি। কখনো মেডিকেল ইমেজ। একটা চামড়ার ছবি, বলতে হয় ক্ষত আছে কি নেই। একটা চোখের ছবি, বলতে হয় স্বাভাবিক কি অস্বাভাবিক। যোসনা ডাক্তার না। সে কী বুঝবে চোখ স্বাভাবিক কি অস্বাভাবিক? কিন্তু প্ল্যাটফর্ম বলে, তোমাকে ডাক্তার হতে হবে না, শুধু দেখো আর বলো।

যোসনা দেখে আর বলে।

রাত দশটায় কাজ শুরু করে। ভোর তিনটায় শেষ করে। প্রতিদিন। সাত দিন সপ্তাহে। চৌদ্দ বছর ধরে।

তার মা আর ফ্যাক্টরিতে কাজ করে না। মা বুড়ো হয়ে গেছে। হাঁটুতে ব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখে। ফ্যাক্টরি তাকে ছাড়িয়ে দিয়েছে পাঁচ বছর আগে। ক্ষতিপূরণ কিছু দিয়েছিল। সেই টাকায় ভাইয়ের পড়ালেখার কিছু খরচ হয়েছিল। ভাই এখন একটা দোকানে কাজ করে। গাজীপুরেই।

যোসনার জীবনে কোনো বড় ঘটনা ঘটেনি। কোনো ভাইরাল মুহূর্ত নেই। কোনো পত্রিকায় তার ছবি ছাপা হয়নি। কেউ তাকে নিয়ে তথ্যচিত্র বানায়নি। সে চৌদ্দ বছর ধরে একই কাজ করে যাচ্ছে, আর কেউ জানে না।

যোসনার ঘরে একটা ম্যাচবাক্স আছে। সেটায় রঙিন সুতো জমানো। মায়ের পুরোনো কাপড়ের টুকরো থেকে সুতো টেনে বের করে, পেঁচিয়ে রাখে ম্যাচবাক্সে। কেন করে, জিজ্ঞেস করলে বলতে পারবে না। এমনি। ছোটবেলা থেকে করে। ম্যাচবাক্সটা ভরে গেছে। দ্বিতীয় একটা শুরু করেছে।

---

আজিজের ছেলে রফিক। রংপুরে থাকে।

আজিজ মারা গেছে আট বছর আগে। কিডনির সমস্যা। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল দুই সপ্তাহ, তারপর চলে গেল। রফিক তখন চব্বিশ।

রফিক কম্পিউটার চালাতে পারে না। ফোন চালায়, ফেসবুক দেখে, ইউটিউবে ভিডিও দেখে। কিন্তু কম্পিউটার? না। কম্পিউটার তার জীবনে আসেনি। স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব ছিল, কিন্তু রফিক ক্লাস সেভেনের পর স্কুলে যায়নি। বাবার সাথে মাঠে কাজ করেছে, তারপর ভ্যান চালিয়েছে।

এখনো ভ্যান চালায়।

একবার একটা এনজিও এসেছিল রংপুরে। "ডিজিটাল সাক্ষরতা" ট্রেনিং। ফ্রি। রফিকের স্ত্রী আমেনা বলেছিল, "যাও না, শিখে আসো।" রফিক গিয়েছিল একদিন। একটা ঘরে বিশজন মানুষ, সামনে একটা প্রজেক্টর, একজন মেয়ে কিছু দেখাচ্ছে স্ক্রিনে। মাউস, কিবোর্ড, ব্রাউজার, ইমেইল। রফিক বসে ছিল দুই ঘণ্টা। কিছু বুঝেছে, বেশিরভাগ বোঝেনি। পরদিন আর যায়নি। ভ্যানের ভাড়া হারাতে হয়, তার চেয়ে কাজে যাওয়া ভালো। এনজিও আরও তিন সপ্তাহ ছিল, তারপর চলে গেল। যেমন আসে, তেমন যায়।

রংপুর শহরে ভ্যান কমে গেছে। আগে যেখানে শ-খানেক ভ্যান দাঁড়াত, এখন বিশ-পঁচিশটা। ইলেকট্রিক রিকশা এসেছে, অ্যাপভিত্তিক বাইক এসেছে, এমনকি ছোট ছোট অটোরিকশা এসেছে যেগুলো কম্পিউটার দিয়ে রুট ঠিক করে চলে। রফিকের ভ্যান সেইসব রুটে আর চলে না। সে এখন শহরের বাইরের দিকে চালায়। গ্রাম থেকে বাজারে মালপত্র আনা-নেওয়া। সবজি, ধান, মাছ। যেখানে এখনো রাস্তা কাঁচা, যেখানে ইলেকট্রিক রিকশার ব্যাটারি যেতে পারে না, সেখানে রফিকের ভ্যান চলে।

রফিক জানে, একদিন সেই রাস্তাও পাকা হবে। তখন তার ভ্যানও চলবে না।

সে এটা নিয়ে ভাবে না। ভাবলে কী হবে? ভাবলে রাস্তা কি কাঁচা থাকবে?

রফিকের স্ত্রী আমেনা। দুটো ছেলে। বড়টার নাম আজিজ, বাবার নাম দিয়েছে। ছোটটার নাম ইমন। আজিজ ক্লাস ফাইভে পড়ে। স্কুলে ট্যাবলেট দিয়েছে সরকার। আজিজ ট্যাবলেটে গেম খেলে। পড়াশোনাও করে, কিন্তু গেম বেশি। রফিক কিছু বলে না। সে নিজে যা পারেনি, ছেলে করুক। ছেলে ট্যাবলেট চালাক, কম্পিউটার চালাক, যা চালাতে চায় চালাক। রফিক শুধু ভ্যান চালায়।

---

সালেহা বেগম এখনো বাজারে বসে।

সেদিন কারখানা থেকে যেদিন চলে গিয়েছিল, সেই বিকেলে রিকশায় বসে কী ভেবেছিল সেটা সালেহা নিজেও মনে করতে পারে না। হয়তো কিছু ভাবেনি। হয়তো শুধু বসে ছিল। রিকশা চলেছিল, সালেহা বসে ছিল, রাস্তা এগিয়েছিল।

কারখানা ছাড়ার পর সে তিন মাস কিছু করেনি। ঘরে বসে ছিল। মেয়েকে স্কুলে পাঠিয়েছে, রান্না করেছে, কাপড় ধুয়েছে। টাকা ফুরিয়ে আসছিল। তখন পাশের বাড়ির শিরিন বলল, "বাজারে একটা জায়গা খালি আছে, সবজি বেচবি?"

সালেহা সবজি বেচতে বসল।

চৌদ্দ বছর ধরে মেশিনে কাপড় সেলাই করেছে। এখন মাটিতে বসে পটল, করলা, লাউ, ঝিঙে সাজিয়ে রাখে। সকাল ছয়টায় বাজারে যায়, দুপুর বারোটায় ফেরে। আয় কম। কারখানায় যা পেত তার অর্ধেকও হয় না। কিন্তু কেউ তাকে মনিটরে দেখে না। কেউ তার বাথরুমের সময় গোনে না। কেউ তাকে সবুজ, হলুদ, লাল রঙে ভাগ করে না।

সালেহা মাঝে মাঝে রহিমার কথা ভাবে। কিন্তু ফোন করে না। কী বলবে? আমি ভালো আছি? ভালো আছে কি? না ভালো, না খারাপ। আছে।

মেয়ে লিপি বড় হয়েছে। লিপি এখন ঢাকায়, একটা গার্মেন্টসে কাজ করে। মায়ের মতোই। সালেহা এটা ভেবে কিছু অনুভব করে না। মানুষ যেখানে কাজ পায়, সেখানে যায়। এটা নিয়তি না, এটা জীবন।

---

রোজিনা।

সেই রোজিনা। যার ইউরিনারি ইনফেকশন হয়েছিল। যাকে সিস্টেম লাল করেছিল কারণ সে চারবার বাথরুমে গিয়েছিল।

রোজিনা কারখানা ছেড়ে দিয়েছিল সেই বছরেই। ইনফেকশন সারেনি ঠিকমতো। সস্তা ওষুধ খেয়েছিল, কিছুদিন ভালো ছিল, আবার হয়েছিল। তিনবার। চতুর্থবার যখন হলো, তখন সে আর পারল না। কাজে যেতে পারল না। কাজে না গেলে বেতন নেই। বেতন না হলে ওষুধ নেই। ওষুধ না হলে সুস্থ হওয়া নেই। সুস্থ না হলে কাজে যাওয়া নেই। একটা চক্র। ভেতরে ঢুকলে বের হওয়া কঠিন।

রোজিনা বের হয়নি।

সে এখন গ্রামে থাকে। ভোলায়। স্বামী মাছ ধরে। রোজিনা ঘরে থাকে। মাঝে মাঝে পাশের বাড়ির মেয়েদের সেলাই শেখায়। হাতে সেলাই, মেশিন না। মেশিনের কাছে যেতে চায় না। কেউ জিজ্ঞেস করে না কেন চায় না। সবাই ধরে নেয়, এমনিই।

রোজিনার দুটো ছেলেমেয়ে। বড় মেয়ে পড়ে, ক্লাস নাইনে। ছেলে ক্লাস সিক্সে। রোজিনা চায় তারা পড়ুক। তার নিজের পড়া হয়নি, সে কারখানায় গেছে, কারখানা তাকে ফেলে দিয়েছে। ছেলেমেয়ে পড়লে হয়তো কারখানায় যেতে হবে না। হয়তো অন্য কিছু হবে। কী হবে রোজিনা জানে না। শুধু জানে, কারখানা না।

মেয়ে একদিন জিজ্ঞেস করেছিল, "আম্মু, তুমি কেন কাজ করো না?"

রোজিনা বলেছিল, "শরীর খারাপ।"

মেয়ে আর জিজ্ঞেস করেনি। ছোট ছেলেমেয়েরা এটুকু বুঝে যায়, কোন প্রশ্নের উত্তর আসবে না। তারা প্রশ্ন করা বন্ধ করে দেয়। রোজিনাও করেছিল, নিজের মায়ের কাছে, অনেক বছর আগে।

---

এদের কেউ সাফল্যের গল্প না।

কেউ "ডিজিটাল বাংলাদেশ"-এর পোস্টারে নেই। কেউ সেমিনারে দাঁড়িয়ে বলে না, "আমি AI শিখে জীবন বদলেছি।" কেউ কোনো ট্রেনিং প্রোগ্রামে যায়নি যেটার সামনে লেখা "স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর দ্য ফিউথার"। কেউ কোনো অ্যাপ বানায়নি, কোনো স্টার্টআপে যোগ দেয়নি, কোনো অনলাইন কোর্স করেনি।

তারা শুধু আছে। যেখানে ছিল সেখানেই আছে, বা সেখান থেকে একটু সরে গেছে। সরে যাওয়াটাও কোনো বড় সরে যাওয়া না। গাজীপুর থেকে গাজীপুরেই। রংপুর থেকে রংপুরেই। ভোলা থেকে ভোলাতেই।

পৃথিবী এগিয়ে গেছে। AI এসেছে, রোবট এসেছে, অটোমেশন এসেছে, স্মার্ট ফ্যাক্টরি এসেছে, স্মার্ট কৃষি এসেছে, স্মার্ট শহর এসেছে। সবকিছু স্মার্ট হয়েছে। যোসনা স্মার্ট হয়নি। রফিক স্মার্ট হয়নি। সালেহা স্মার্ট হয়নি। রোজিনা স্মার্ট হয়নি। তারা শুধু টিকে আছে। চুপচাপ। নিঃশব্দে। কোনো শিরোনাম ছাড়া।

কেউ তাদের গল্প লেখেনি। কারণ গল্প তো তাদের আছে যাদের কিছু ঘটেছে। এদের কিছু ঘটেনি। এদের জীবনে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো কিছু না ঘটা। চৌদ্দ বছরে যোসনার জীবনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো ফোন বদলানো। রফিকের জীবনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো ভ্যানের রুট বদলানো। সালেহার জীবনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো মেশিন থেকে সবজিতে আসা। রোজিনার জীবনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো কাজ না করা।

এগুলো কোনো গল্প না। গল্পে নাটক লাগে, টার্নিং পয়েন্ট লাগে, ক্লাইম্যাক্স লাগে। এদের জীবনে ক্লাইম্যাক্স নেই। শুধু দিন আছে। একটার পর একটা। একই রকম।

---

যোসনা আজ রাতেও কাজ করবে। ফোনের স্ক্রিনে একটা ছবি আসবে। সে বলবে, এটা বিড়াল। আরেকটা আসবে। সে বলবে, এটা কুকুর। আরেকটা আসবে। সে বলবে, এটা গাড়ি। তিন টাকা। তিন টাকা। তিন টাকা।

পাশে ম্যাচবাক্স দুটো রাখা। একটা ভরা, ঢাকনা বন্ধ। দ্বিতীয়টায় সুতো জমছে। লাল, নীল, সবুজ, সাদা, কালো। রঙ মেলানোর কোনো নিয়ম নেই। যেমন পায়, তেমন পেঁচায়। কেন করে? করে।

রফিক কাল ভোরে উঠে ভ্যানে মাল তুলবে। কাঁচা রাস্তায় চালাবে। ঘাম ঝরবে। টাকা পাবে। বাড়ি ফিরবে। ছেলে আজিজ ট্যাবলেটে কিছু একটা দেখাবে। রফিক দেখবে, বুঝবে না, মাথা নাড়বে।

সালেহা কাল সকালে বাজারে যাবে। সবজি সাজাবে। কেউ কিনবে, কেউ দাম কমাবে, কেউ না কিনে চলে যাবে। দুপুরে ফিরবে। ভাত খাবে। বিকেলে বারান্দায় বসবে। কিছু করবে না।

রোজিনা সকালে উঠে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাবে। ঘর ঝাড়ু দেবে। উঠানে রোদ পড়বে। বসবে। বসে থাকবে।

এই মানুষগুলো দৃশ্যমান না। কোনো ডেটাসেটে তাদের নাম নেই। কোনো সার্ভেতে তাদের গল্প নেই। কোনো রিপোর্টে তাদের উল্লেখ নেই। তারা সেই ফাঁকে আছে যেটা সংখ্যায় ধরা যায় না। "কর্মসংস্থান"-এ তারা নেই, "বেকার"-এও তারা নেই। তারা আছে মাঝখানে কোথাও, যেখানে কোনো শব্দ তৈরি হয়নি এখনো।

তারা রয়ে গেছে পেছনে।

পেছনে মানে কোথায়? সামনে কারা গেছে? সামনে তো অনেকে গেছে। মিতু গেছে, কোডিং শিখে। ইমরান গেছে, বিদেশে। তানিয়া গেছে, স্টার্টআপ করে। সবাই গেছে কোথাও না কোথাও। এরা যায়নি। এরা যেখানে ছিল সেখানেই আছে।

কিন্তু "পেছনে" শব্দটা ভুল। পেছনে থাকতে হলে সামনের সাথে একটা সম্পর্ক লাগে। এদের সাথে সামনের কোনো সম্পর্ক নেই। এরা আলাদা একটা জায়গায় আছে, যেটা সামনে না, পেছনে না, পাশে না। যেটা কোথাও না।

---

গাজীপুরে রাত গভীর হচ্ছে। যোসনা ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে আছে। একটা নতুন ব্যাচ এসেছে। পাঁচ হাজার ছবি। প্রতিটা ছবিতে একটা করে মুখ। বলতে হবে, এই মুখে কোন আবেগ। সুখী, দুঃখী, রাগী, ভয়ার্ত, বিস্মিত, নিরপেক্ষ।

যোসনা প্রথম ছবিটা খুলল। একটা মুখ। মধ্যবয়সী মহিলা। চোখে কিছু নেই। মুখে কিছু নেই। কোনো আবেগ পড়া যাচ্ছে না।

যোসনা "নিরপেক্ষ" ট্যাগ দিল।

দ্বিতীয় ছবি। আরেকটা মুখ। একজন তরুণ। চোখ ক্লান্ত। মুখে কিছু নেই।

"নিরপেক্ষ।"

তৃতীয় ছবি। বুড়ো মানুষ। চোখ অর্ধেক বন্ধ। মুখে কিছু নেই।

"নিরপেক্ষ।"

যোসনা ছবি দেখছে, আর ভাবছে, এই মুখগুলো কাদের? কোথাকার মানুষ? তারা কি জানে তাদের মুখ এখন গাজীপুরে একটা মেয়ের ফোনে, আর সেই মেয়ে তাদের আবেগ ঠিক করে দিচ্ছে তিন টাকায়?

জানে না। জানবে না।

যোসনা ছবি ট্যাগ করতে থাকে। একটার পর একটা। নিরপেক্ষ। নিরপেক্ষ। নিরপেক্ষ।

বাইরে গাজীপুরের রাত। ফ্যাক্টরির সাইরেন অনেকক্ষণ আগে থেমেছে। রাস্তায় কুকুর ডাকছে। পাশের ঘরে মা ঘুমাচ্ছে। ভাই ঘুমাচ্ছে। সবাই ঘুমাচ্ছে।

যোসনা জেগে আছে। চৌদ্দ বছর ধরে জেগে আছে। ঘুমায়নি।