একটা প্রজন্মের গল্প
সন্ধ্যা নামছে। ২০৪২ সালের একটা সাধারণ সন্ধ্যা। কোনো বিশেষ দিন না। কোনো উৎসব না, কোনো ছুটি না, কোনো ঘটনা না। শুধু একটা দিন শেষ হচ্ছে, আরেকটা রাত আসছে।
---
গাজীপুরে রহিমার ফ্ল্যাটের বারান্দায় দুটো টবে দুটো মরিচগাছ।
প্রথমটা পুরোনো। পাঁচ বছর হলো লাগিয়েছে। গাছটা বেঁটে, কিন্তু মরিচ দেয়। ছোট ছোট, সবুজ, ঝাল। রহিমা রান্নায় এই মরিচ দেয়। বাজারের মরিচের চেয়ে ঝাল বেশি। মিতু বলে, "আম্মু, এত ঝাল খাও কেন?" রহিমা বলে, "ঝাল না খেলে খাওয়া হয় না।"
আজ সন্ধ্যায় রহিমা দ্বিতীয় টবে একটা চারা লাগাচ্ছে। ছোট্ট একটা মরিচের চারা। কোথা থেকে এনেছে জিজ্ঞেস করলে বলবে, বাজারে একটা নার্সারি আছে, সেখান থেকে। কার জন্য লাগাচ্ছে সেটা বলবে না। কিন্তু মিতুর মেয়ে রূপা, তিন বছর বয়স, সে বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে দেখছে। রহিমা চারাটা মাটিতে বসাচ্ছে, আঙুল দিয়ে মাটি চেপে দিচ্ছে, পানি দিচ্ছে।
রূপা জিজ্ঞেস করল, "নানু, এটা কী?"
"মরিচ।"
"আমার জন্য?"
রহিমা কিছু বলল না। চারাটায় আরেকটু পানি দিল।
রূপা চলে গেল ঘরে। রহিমা বারান্দায় বসে রইল। হাঁটু ব্যথা করছে। দুটো হাঁটুই। ডাক্তার বলেছে অপারেশন। রহিমা বলেছে না। এই হাঁটু দিয়েই চলবে। যতদিন চলে।
সতেরো বছর আগে এই ফ্যাক্টরিতে AI ক্যামেরা বসেছিল। রহিমা তখন সুপারভাইজার ছিল। এখন সে আর ফ্যাক্টরিতে যায় না। অবসর নিয়েছে দুই বছর হলো। তার জায়গায় এখন একটা সিস্টেম। সুপারভাইজারের দরকার হয় না। সিস্টেমই সব দেখে।
রহিমা মরিচগাছের দিকে তাকাচ্ছে। পুরোনোটায় তিনটা মরিচ ঝুলছে। নতুনটায় কিছু নেই, শুধু একটা ছোট সবুজ চারা, মাটি থেকে তিন ইঞ্চি উঁচু।
---
রংপুরে নদীর ধারে করিম বসে আছে।
করিমের বয়স এখন সত্তরের কাছাকাছি। সঠিক বয়স সে নিজেও জানে না। জন্ম নিবন্ধনে যা আছে, তা ঠিক কি না কে জানে। হালিমা বেঁচে থাকলে বলতে পারত। হালিমা সব মনে রাখত। কার জন্মদিন কবে, কোন বছর বন্যা হয়েছিল, কোন বছর ধান ভালো হয়েছিল। হালিমা চলে গেছে, তার সাথে সেই হিসাবগুলোও চলে গেছে।
বেলাল ফোন করেছিল সকালে। ঢাকা থেকে। "বাবা, কেমন আছো?"
"আছি।"
"কিছু লাগবে?"
"না।"
এটুকুই। বেলাল আর কিছু জিজ্ঞেস করে না। করিমও বলে না। দুজনের মধ্যে কথা কমে গেছে বছরে বছরে। কথা কমে গেলে ভালোবাসা কমে না। শুধু চুপচাপ হয়ে যায়।
করিম নদীর ধারে বসে আছে। এই সেই জায়গা যেখানে গত বছর বেলালকে নিয়ে এসেছিল। মাটির সাথে কথা বলেছিল। এখন একা এসেছে। আজ কারো সাথে কথা বলার দরকার নেই। শুধু বসতে এসেছে।
ঘাসের মধ্যে কিছু একটা চোখে পড়ল।
করিম ঝুঁকে দেখল। একটা দাও। মরচে পড়েছে। হাতলের কাঠ পচে গেছে, কিন্তু ফলাটা আছে। ঘাস আর লতাপাতায় ঢেকে গিয়েছিল, আজ বৃষ্টির পানিতে একটু সরে গেছে মাটি, তাই দেখা যাচ্ছে।
করিম দাওটা তুলল।
সে চিনল। এটা তার দাও। যেটা দিয়ে আগাছা কাটত, বাঁশ ছাঁটত, মাছের আঁশ পরিষ্কার করত। ঢাকায় যাওয়ার সময় নিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু ঢাকায় দাও দিয়ে কী করবে? বেলাল কখন এনে রেখে গেছে এখানে, করিম জানত না। এখন জানল।
দাওটা ভারী লাগল। আগে ভারী লাগত না। হাত দুর্বল হয়ে গেছে, নাকি দাও ভারী হয়ে গেছে? কোনোটাই না। দাও একই আছে। হাত বদলেছে।
করিম দাওটা আস্তে মাটিতে রাখল। এবার ঠিক করে রাখল। ঘাসের ওপরে না, মাটির ওপরে। যেন দাও মাটিতে শুয়ে আছে। ঘুমাচ্ছে।
করিম উঠে দাঁড়াল। নদীর দিকে তাকাল। পানি বয়ে যাচ্ছে। সেই একই পানি। সেই একই নদী। সতেরো বছর আগেও এই পানি ছিল, সতেরো বছর পরেও থাকবে।
করিম হাঁটতে শুরু করল। পেছনে দাও পড়ে আছে। মরচে ধরা, হাতলহীন, কিন্তু মাটির ওপরে। যেখানে তার থাকার কথা, সেখানে।
পথে করিম থামল। পেছনে তাকাল। নদী দেখা যাচ্ছে। দাও দেখা যাচ্ছে না, ঘাসের মধ্যে মিশে গেছে। কিন্তু করিম জানে সেটা সেখানে আছে। এটুকু জানাই যথেষ্ট।
---
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের ট্রেন। তানিয়া জানালার ধারে বসে আছে। সামনে একটা ল্যাপটপ, কিন্তু বন্ধ। হাতে কাগজ। আসল কাগজ, প্রিন্ট করা।
তানিয়া এখন ইউনিভার্সিটিতে পড়ায়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে সহকারী অধ্যাপক। স্টার্টআপ ছেড়ে দিয়েছে অনেক বছর আগে। শিহাবও ছেড়েছে। কোম্পানি বিক্রি হয়ে গেছে, একটা বড় কর্পোরেশন কিনে নিয়েছে। তানিয়ার বানানো বাংলা NLP মডেল এখন সেই কর্পোরেশনের প্রোডাক্টের ভেতরে। তানিয়ার নাম কোথাও নেই।
সে এটা নিয়ে ভাবে না। আগে ভাবত। এখন ভাবে না।
ট্রেনে বসে সে ছাত্রদের পরীক্ষার খাতা দেখছে। এক্সাম নয়, অ্যাসাইনমেন্ট। বিষয়: "Ethical Implications of AI in Developing Economies." তানিয়া এই কোর্সটা নিজে ডিজাইন করেছে। সিলেবাসে যোসনার কথা আছে। নাম নেই, কিন্তু গল্প আছে। "ডেটা লেবেলার যারা AI-এর ভিত্তি তৈরি করে, তারা কি সেই AI-এর সুফল পায়?" এই প্রশ্নটা তানিয়া প্রতি বছর জিজ্ঞেস করে। ছাত্ররা উত্তর লেখে। কেউ ভালো লেখে, কেউ মাঝারি। কিন্তু সবাই লেখে। এটাই তানিয়ার কাছে যথেষ্ট। প্রশ্নটা যেন থাকে।
আগে তানিয়া রিকশায় চলত। এখন ট্রেনে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সপ্তাহে একবার, কখনো দুইবার। ট্রেনে সময় পায়। পড়ে। ভাবে। খাতা দেখে। জানালা দিয়ে বাইরে তাকায়। বাইরে ধানক্ষেত চলে যাচ্ছে। সবুজ। তারপর শহর আসবে। তারপর আবার ক্ষেত। তারপর নদী। তারপর সেতু। তারপর চট্টগ্রাম।
তানিয়া একটা খাতা পড়ল। ছাত্রটা লিখেছে: "AI-এর উন্নয়ন অনিবার্য। কিন্তু যারা এই উন্নয়নের জ্বালানি জোগায়, তাদের কথা কেউ বলে না।"
তানিয়া পেনসিল দিয়ে পাশে লিখল: "ভালো পর্যবেক্ষণ। কিন্তু 'কেউ বলে না' লিখলেই হবে না। তুমি বলো।"
সে পরের খাতা তুলল।
---
সিলেটে জাহিদের বাড়ি। বাড়ি বলতে পুরোনো টিনের ঘর, যেটা বছরে বছরে সারানো হয়েছে। টিনের চাল, মাটির দেয়াল, একটা ছোট উঠান।
উঠানের আমগাছটা এবার আম দেয়নি। গত বছরও কম দিয়েছিল। গাছটা বুড়ো হয়ে যাচ্ছে। জাহিদের মতো।
জাহিদ উঠানে বসে আছে। সেই নড়বড়ে চেয়ারে। চেয়ারের পা এখনো ছোট সেই একদিকে, এখনো কাত হয়। জাহিদ এখনো সেই কাত হওয়াতে অভ্যস্ত।
সামনে মাটিতে ভাত ছড়ানো। মুঠোভর্তি। জাহিদ ভাত ছড়িয়ে দিয়েছে।
একটা শালিক পাখি এসেছে। ভাত খাচ্ছে। এই পাখিটা গত কয়েক মাস ধরে আসে। জাহিদ নাম দেয়নি। নাম দেওয়ার দরকার নেই। পাখি আসে, খায়, যায়। জাহিদ দেখে। এটুকুই।
আজ পাখিটা একা আসেনি। আরেকটা শালিক সাথে এনেছে। দুটো পাখি পাশাপাশি ভাত খাচ্ছে।
জাহিদ দেখছে।
ইমরান মালয়েশিয়া থেকে ফিরে এসেছে দুই বছর আগে। এখন রংপুর শহরে একটা দোকান দিয়েছে। মোবাইল সারাই। ভালো চলছে। জাহিদ ইমরানের কাছে যেতে চায় না। সে এখানেই থাকবে। এই ঘরে, এই উঠানে, এই গাছের নিচে। রশিদা আছে, সেটাই যথেষ্ট।
দুটো পাখি ভাত খেয়ে উড়ে গেল। জাহিদ বসে রইল।
রশিদা ঘরের ভেতর থেকে বলল, "কার সাথে কথা বলতেছো?"
"কারো সাথে না।"
"পাখিদের সাথে?"
জাহিদ কিছু বলল না। রশিদা আর জিজ্ঞেস করল না। দুজনেই জানে। কিছু কিছু কথা বলার দরকার হয় না।
সন্ধ্যা আসছে। আকাশের রঙ বদলাচ্ছে।
---
সুনামগঞ্জের চরে সেলিনা বসে আছে।
সামনে টেবিল। টেবিলে দুটো জিনিস। একটা পুরোনো খাতা, কালো মলাটের, পুরু। আরেকটা নতুন খাতা, একই রকম কালো মলাট, কিন্তু পাতলা, কারণ এটা সবে শুরু।
পুরোনো খাতাটা সেলিনা সতেরো বছর ধরে লিখেছে। প্রতিদিন না, কিন্তু প্রায় প্রতিদিন। কী লিখেছে? রোগীর নাম, তারিখ, সমস্যা, কী করেছে, কী হয়েছে। সিস্টেম কী বলেছে, সেলিনা কী দেখেছে, দুটো মিললে কি না মিললে। কোনোদিন সিস্টেম ভুল বলেছে, সেটাও লেখা আছে। কোনোদিন সেলিনা নিজে ভুল করেছে, সেটাও।
এই খাতা কারো চোখে পড়েনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানে না এমন একটা খাতা আছে। সোহেল জানে, কিন্তু পড়েনি। সেলিনা কাউকে পড়তে দেয়নি। এটা তার নিজের। তার নিজের হিসাব। সিস্টেম তার হিসাব রাখে, সেলিনা নিজের হিসাব রাখে।
পুরোনো খাতাটা ভরে গেছে। শেষ পাতায় গতকালের তারিখ। আজ সেলিনা পুরোনো খাতাটা বন্ধ করল। আস্তে। মলাটের ওপর হাত রাখল। যেন কাউকে বিদায় দিচ্ছে।
নতুন খাতাটা খুলল। প্রথম পাতা। খালি। সাদা।
সেলিনা কলম তুলল। তারিখ লিখল। তারপর থামল।
কী লিখবে? একই জিনিস। রোগীর নাম, সমস্যা, কী করেছে। সতেরো বছর ধরে একই জিনিস লিখেছে। আরও সতেরো বছর লিখবে? জানে না। জানার দরকার নেই। আজকের তারিখটুকু লিখলেই হলো।
সেলিনা একটা নাম লিখল। আজকের প্রথম রোগী। সকালে দেখা। ছোট্ট একটা মেয়ে, জ্বর। সিস্টেম বলেছে ভাইরাল। সেলিনা দেখেছে, সম্ভবত ভাইরাল। কিন্তু মেয়েটার পেটে একটু চাপ দিতেই কেঁদে উঠেছিল। সিস্টেম পেটে চাপ দেয় না। সেলিনা দেয়। সেলিনা লিখল: "পেটে ব্যথা, সিস্টেমে নেই। ফলো-আপ করব।"
সেলিনা কলম রাখল। খাতাটা খোলা রাখল।
সোহেল এখন ঢাকা মেডিকেলে শেষ বর্ষে। ভালো ছাত্র। মা কী করে সেটা সোহেল জানে। কিন্তু সোহেল যেটা জানে না, সেটা হলো মা কেন এই খাতা রাখে। সোহেল ভাবে, ডিজিটাল সিস্টেমে সব রেকর্ড থাকে, আলাদা খাতা কেন? সেলিনা বলতে পারবে না কেন। হয়তো বলবে, অভ্যাস। হয়তো বলবে, সিস্টেম বন্ধ হলে খাতা থাকে। হয়তো কিছুই বলবে না।
বাইরে হাওরের পানিতে আলো পড়ছে। সন্ধ্যার আলো। সোনালি, তারপর কমলা, তারপর ধূসর হবে।
---
পাঁচটা জায়গায় সন্ধ্যা নামছে।
গাজীপুরে রহিমা বারান্দায়। রংপুরে করিম নদীর ধারে। ট্রেনে তানিয়া জানালার পাশে। সিলেটে জাহিদ উঠানে। সুনামগঞ্জে সেলিনা টেবিলে।
পাঁচজন। পাঁচটা জায়গা। কোনো সংযোগ নেই। কেউ কাউকে চেনে না, বা চিনলেও আজ কথা বলেনি, বলার কোনো কারণ নেই। তারা আলাদা আলাদা মানুষ, আলাদা আলাদা জীবন, আলাদা আলাদা গল্প। তাদের মধ্যে শুধু একটাই মিল: তারা সবাই সতেরো বছর আগেও ছিল, আজও আছে।
রহিমা একটা চারা লাগাচ্ছে। সে জানে না এই চারায় মরিচ ধরবে কি না। হয়তো ধরবে, হয়তো ধরবে না। কিন্তু লাগাচ্ছে।
করিম একটা দাও খুঁজে পেয়েছে। মরচে পড়া, অকেজো। কিন্তু মাটিতে রেখে দিয়েছে। ফেলে দেয়নি, নিয়ে যায়নি। রেখে দিয়েছে।
তানিয়া একটা খাতায় লিখেছে, "তুমি বলো।" দুটো শব্দ। ছাত্র পড়বে কি না জানা নেই। পড়লে কিছু বদলাবে কি না জানা নেই। কিন্তু লিখেছে।
জাহিদ দুটো পাখিকে ভাত দিয়েছে। পাখি খেয়ে চলে গেছে। কাল আবার আসবে কি না জানা নেই। কিন্তু ভাত ছড়িয়ে দিয়েছে।
সেলিনা নতুন খাতা খুলেছে। পুরোনো খাতা বন্ধ হয়েছে, সতেরো বছরের সত্য সেই বন্ধ মলাটের মধ্যে। নতুন খাতায় প্রথম লাইন লেখা হয়েছে। বাকি পাতা খালি।
কেউ কারো কথা জানে না। কেউ কাউকে দেখছে না।
পাঁচটা জায়গায় সন্ধ্যার আকাশে একই সময়ে সন্ধ্যাতারা ফুটল। একটা ছোট্ট আলো, পশ্চিম আকাশে, দিগন্তের একটু ওপরে। গাজীপুরে দেখা যাচ্ছে বারান্দা থেকে। রংপুরে দেখা যাচ্ছে নদীর ওপারে। ট্রেনের জানালায় দেখা যাচ্ছে ধানক্ষেতের ওপরে। সিলেটে দেখা যাচ্ছে আমগাছের পাতার ফাঁক দিয়ে। সুনামগঞ্জে দেখা যাচ্ছে হাওরের পানিতে, একটা প্রতিফলন।
কেউ লক্ষ্য করল না।
রহিমা চারায় পানি দিচ্ছে। করিম হাঁটছে বাড়ির দিকে। তানিয়া পরের খাতা তুলছে। জাহিদ চেয়ার থেকে উঠছে। সেলিনা কলম তুলছে।
প্রত্যেকে কিছু একটা করছে। ছোট। সাধারণ। অর্থহীন হতে পারে, অর্থময়ও হতে পারে। কে ঠিক করবে?
অন্ধকার আসছে। আকাশে তারা বাড়ছে। সন্ধ্যাতারাটা এখন একটু উজ্জ্বল হয়েছে।
রহিমা ঘরে ঢুকল। দরজা বন্ধ করল।
করিম বাড়ির উঠানে পা রাখল।
তানিয়া খাতার শেষ পাতা উল্টাল।
জাহিদ ঘরের ভেতর থেকে রশিদাকে ডাকল, "চা দাও।"
সেলিনা খাতাটা বন্ধ করল। আজকের মতো যথেষ্ট।
পাঁচজন মানুষ। পাঁচটা জায়গা। একটা সন্ধ্যা।
কেউ বলেনি, "আমি ছিলাম।" কেউ বলেনি, "আমি আছি।" কেউ বলেনি, "আমি থাকব।"
কিন্তু চারা লাগানো হয়েছে। দাও মাটিতে রাখা হয়েছে। খাতায় লেখা হয়েছে। ভাত ছড়ানো হয়েছে। কলম তোলা হয়েছে।
এটুকুই যথেষ্ট। এটুকুই একটা প্রজন্মের গল্প।