মিতু ২০৪৫

পর্ব ৯৬ · ১০ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-১৮

নীলা মেঝেতে বসে একটা প্লাস্টিকের হাতি নিয়ে খেলছে।

হাতিটার একটা পা ভাঙা। তিন পায়ে দাঁড়ায়। নীলা ভাঙা পায়ের জায়গায় একটা লেগোর টুকরো বসিয়ে দিয়েছে। টুকরোটা ফিট হয়নি, কিন্তু নীলা মনে করে হয়েছে। তিন বছরের বাচ্চার কাছে ইচ্ছাই ইঞ্জিনিয়ারিং।

মিতু ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকিয়ে আছে। স্ক্রিনে কোড। অনেক কোড। কিন্তু মিতু কোড দেখছে না, ভাবছে। ভাবনার সাথে কোডের সম্পর্ক আছে, কিন্তু ভাবনাটা কোডের চেয়ে বড়। কোড একটা ভাষা। ভাবনাটা একটা দেশ।

বিকেল চারটা বাজে। গুলশানের অফিসে এখন শুধু মিতু আর নীলা। বাকি সবাই চলে গেছে। শুক্রবার। অফিস আধবেলা। কিন্তু মিতু থেকে গেছে। নীলাকে নিয়ে। স্বামী ফয়সাল বলেছিল, "আমি রাখি।" মিতু বলেছিল, "না, ও আমার সাথে থাকবে। আমি কাজ করতে করতে ওকে দেখব।" ফয়সাল আর কিছু বলেনি। সে জানে, মিতুর সাথে তর্কে লাভ নেই।

মিতুর ডেস্কে একটা বোতাম রাখা আছে। প্লাস্টিকের। সাদা। পুরোনো। একটা শার্টের বোতাম, কিন্তু কোনো শার্টে লাগানো নেই। শুধু বোতাম। ডেস্কের ডান কোণে, মনিটরের পাশে, একটা ছোট কাচের বাটিতে রাখা। বাটিতে আর কিছু নেই, শুধু এই একটা বোতাম।

অফিসের ছেলেমেয়েরা মনে করে এটা একটা ডিজাইন এলিমেন্ট। মিনিমালিস্ট ইন্টেরিয়র ডিজাইনের অংশ। শুভ, ইউআই ডিজাইনার, একদিন বলেছিল, "ম্যাম, এই বোতামটা কিন্তু অসাধারণ মেটাফর। সিম্পলিসিটি, রিডাকশন, কোর ফাংশনালিটি।" মিতু হেসেছিল। বলেছিল, "হুম।"

শুধু মিতু আর রহিমা জানে ওটা কী।

গাজীপুরের ফ্যাক্টরি থেকে। ২০২৫ সালে। যেদিন এআই ক্যামেরা এসেছিল, সেদিন সন্ধ্যায় রহিমা ফ্যাক্টরি থেকে একটা বোতাম নিয়ে এসেছিল। কেন? রহিমা নিজেও জানত না। পকেটে ছিল। বোতাম গোনার সময় একটা আলাদা রেখে দিয়েছিল। অভ্যাস। জিনিস গুনতে গুনতে একটা আলাদা করে রাখা, সেটাও রহিমার অভ্যাস।

বোতামটা বিশ বছর ধরে আছে। রহিমার ঘরে ছিল, তারপর মিতুর হোস্টেলে, তারপর মিতুর প্রথম ভাড়া বাসায়, এখন এই অফিসে। মিতু কখনো ফেলে দেয়নি। ফেলার প্রশ্নই আসে না।

নীলা হাতিটা মেঝেতে রেখে উঠে দাঁড়াল। মিতুর চেয়ারের কাছে এল। মিতুর হাতা ধরল।

"আম্মু।"

"হুম।"

"খেলো।"

"একটু পরে, মা।"

নীলা হাতা ছাড়ল না। টানল।

মিতু স্ক্রিনের দিকে তাকাল। স্ক্রিনে একটা ট্রান্সফরমার মডেলের আর্কিটেকচার ডায়াগ্রাম। অ্যাটেনশন লেয়ার, এমবেডিং, ডিকোডার। সে এই মডেলটা গত দুই বছর ধরে বানাচ্ছে। তার কোম্পানি, "ভাষামন ল্যাবস," এই একটা জিনিসের জন্যই আছে।

বাংলা বোঝার মেশিন।

শুধু শব্দ না। কনটেক্সট। কালচার। ইমোশন। যখন কেউ বলে "কিছু হয়নি," মেশিন বুঝবে যে অনেক কিছু হয়েছে। যখন কেউ বলে "দেখা যাবে," মেশিন বুঝবে যে হবে না। যখন কোনো মা বলে "ধুলা পড়েছে," মেশিন বুঝবে যে মা কাঁদছে।

তানিয়া এটা স্বপ্ন দেখেছিল। ছাব্বিশ বছর বয়সে। গুলশানের কো-ওয়ার্কিং স্পেসে পিচ দিয়েছিল। ভাষামন। বাংলা এনএলপি। ইনভেস্টররা বলেছিল, "মাল্টি-ল্যাঙ্গুয়েজ করো।" তানিয়া করেনি। কোম্পানি বিক্রি হয়ে গেছে। তানিয়ার নাম কোথাও নেই। তানিয়া এখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ায়। ছাত্রদের বলে, "তুমি বলো।"

মিতু তানিয়ার কাজ দেখেছিল। ভাষামনের পুরোনো কোডবেস, ওপেন সোর্স হয়ে গেছে বিক্রির পর। মিতু সেই কোড পড়েছিল। চল্লিশ হাজার কনভার্সেশনের ডেটাসেট। ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট। "খাইছো?" আর "খেয়েছ?" একই প্রশ্ন, একই যত্ন। তানিয়া এটা বুঝেছিল। মিতু এটা বুঝেছে। পার্থক্য হলো, তানিয়ার সময় ছিল না, টাকা ছিল না, সাপোর্ট ছিল না। মিতুর আছে। বিশ বছর পরে দুনিয়াটা বদলেছে।

"আম্মু, খেলো।"

নীলা আবার টানছে।

মিতু ল্যাপটপ বন্ধ করল।

বন্ধ করার আগে সে একটা ফাইল সেভ করল। ফাইলের নাম: context_layer_v47.py। সাতচল্লিশতম ভার্সন। ছেচল্লিশটা কাজ করেনি। এটাও হয়তো করবে না। কিন্তু মিতু জানে, সাতচল্লিশতম ভার্সনের মধ্যে ছেচল্লিশটা ভুলের শিক্ষা আছে। প্রতিটা ভুল একটা পদক্ষেপ। YouTube-র সেই ভাইয়ার কথা মনে পড়ল। পনেরো বছর বয়সে, কম্বলের নিচে, ভাঙা ফোনে। "ভুল তোমার শত্রু না, বন্ধু।"

ল্যাপটপ বন্ধ। স্ক্রিন কালো। মিতু চেয়ার ঘোরাল। নীলার দিকে তাকাল।

নীলা মেঝেতে বসে আছে। হাতিটা পাশে। লেগোর টুকরোটা খুলে গেছে, হাতি আবার তিন পায়ে। নীলা এখন লেগোর টুকরোটা মুখে দিতে যাচ্ছে।

"মুখে দিবি না।"

নীলা থামল। মিতুর দিকে তাকাল। তিন বছরের বাচ্চার চোখে একটা হিসাব: আম্মু কতটা সিরিয়াস? যদি একটু কম সিরিয়াস হয়, তাহলে মুখে দেওয়া যায়। নীলা হিসাব করল। আম্মু সিরিয়াস। লেগো নামিয়ে রাখল।

মিতু মেঝেতে বসল। অফিসের মেঝে। কার্পেট। ধূসর। পরিষ্কার। মিতু নীলার সামনে বসল।

"কী খেলবি?"

নীলা হাতিটা তুলে দিল। "এটা।"

মিতু হাতিটা নিল। তিন পায়ের হাতি। ভাঙা পা। ছোটবেলায় মিতুরও একটা পুতুল ছিল। কাপড়ের। আম্মু ফ্যাক্টরি থেকে বাতিল কাপড়ের টুকরো নিয়ে এসে বানিয়ে দিয়েছিল। সেটার মুখ ছিল না। রহিমা বলেছিল, "মুখ বানাতে পারি না, তুই নিজে কল্পনা কর।" মিতু কল্পনা করেছিল। সেই মুখহীন পুতুল তার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর পুতুল ছিল।

"হাতি কোথায় যাবে?" মিতু জিজ্ঞেস করল।

"বাজারে।"

"বাজারে কী কিনবে?"

"কলা।"

"হাতি কলা খায়?"

নীলা ভাবল। "খায়।"

"আর কী খায়?"

"ভাত।"

মিতু হাসল। বাঙালি হাতি। ভাত খায়। নীলার এই উত্তর শুনে মিতুর মনে হলো, আম্মুও এভাবে হাসত। রাসেল ছোটবেলায় একবার বলেছিল, "আম্মু, ভাত কেন খাই?" রহিমা বলেছিল, "পেটে খিদা লাগে বলে।" রাসেল বলেছিল, "খিদা কেন লাগে?" রহিমা বলেছিল, "এত প্রশ্ন করলে খিদা আরো বাড়ে। বস, খা।" সেই রাতে রহিমা হেসেছিল। নিজে নিজে। ছেলের প্রশ্নে না, ছেলের চোখের দিকে তাকিয়ে। রাসেলের চোখে আলমের ছায়া। মিতুর চোখে রহিমার।

নীলা হাতিটা মিতুর হাত থেকে নিয়ে মেঝেতে হাঁটাতে শুরু করল। টপ টপ টপ। তিন পায়ে হাঁটে, একটু কাত হয়ে যায়, তবু হাঁটে। নীলা মুখে শব্দ করছে। হাতির পায়ের আওয়াজ। টপ টপ। হাতি কার্পেটের এক কোণা থেকে আরেক কোণায় গেল। নীলা বলল, "বাজারে গেছে।" তারপর হাতিকে ফিরিয়ে আনল। "কলা কিনে এসেছে।" কিন্তু হাতির হাতে কিছু নেই। অদৃশ্য কলা। তিন বছরের বাচ্চা অদৃশ্য জিনিস দেখতে পায়। বড়রা পায় না। এটাও একটা হারিয়ে যাওয়া দক্ষতা।

মিতু দেখছে।

মিতুর মাথায় কোড ঘুরছে। context_layer_v47। সমস্যাটা কোথায় জানে সে। বাংলার কনটেক্সট শুধু শব্দে নেই, শব্দের ফাঁকে আছে। যা বলা হয়নি, সেটাও বলা। "ভালো আছি" মানে হয়তো ভালো নেই। "কিছু না" মানে সব কিছু। মেশিনকে শেখাতে হবে চুপ থাকার অর্থ কী। শব্দহীনতার ভাষা কী।

নীলা হাতি নিয়ে মিতুর কোলে এসে বসল। মিতুর জামার বোতাম ধরে টানল।

"আম্মু, হাতির পা ভাঙা।"

"জানি, মা।"

"ঠিক করো।"

"ঠিক হবে না। তিন পায়েই চলবে।"

নীলা ভাবল। তারপর বলল, "তিন পায়ে চললে পড়ে যাবে না?"

"পড়ে যেতে পারে। আবার উঠবে।"

নীলা হাতিটা মেঝেতে দাঁড় করাল। হাতি কাত হলো। পড়ে গেল। নীলা আবার দাঁড় করাল। আবার পড়ল। আবার দাঁড় করাল।

মিতু দেখছে।

সন্ধ্যা নামছে। অফিসের জানালা দিয়ে গুলশানের আকাশ দেখা যাচ্ছে। কমলা হয়ে আসছে। ঢাকার আকাশে সূর্যাস্ত দেখা কঠিন, বিল্ডিং ঢেকে রাখে। কিন্তু রঙটা দেখা যায়। কমলা, তারপর গোলাপি, তারপর ধূসর।

মিতু নীলাকে কোলে নিয়ে জানালার কাছে গেল।

"আকাশ দেখ।"

নীলা তাকাল। "লাল।"

"কমলা।"

"কমলা," নীলা বলল। তারপর বলল, "কমলা খাব।"

মিতু হাসল। তিন বছরের বাচ্চা। রঙ আর ফল একসাথে। এটাও একটা কনটেক্সট। মেশিন কি এটা বুঝবে? "কমলা" শব্দটা কখন রঙ, কখন ফল, কখন নাম? একটা তিন বছরের বাচ্চা বুঝতে পারে। মেশিনকেও পারতে হবে।

মিতু জানালার ধারে দাঁড়িয়ে নীলাকে ধরে আছে। নীলার মাথা মিতুর কাঁধে।

এই মুহূর্তে মিতুর মনে পড়ল একটা রাত। গাজীপুরের এক কামরার ভাড়া ঘর। কম্বলের নিচে ফোনের আলো। ভাঙা স্ক্রিন, লম্বা চিড়, নদীর মতো। ব্রাইটনেস একদম কম। ভলিউম একদম কম। সব কম। শুধু শেখার ইচ্ছাটা বেশি।

print("আমি মিতু")

সেই রাতে মিতু প্রথম কোড লিখেছিল। ফোনে। YouTube দেখে দেখে। পাশে আম্মু ঘুমাচ্ছিল। নাক ডাকছিল। মৃদু। শ্বাস ভেতরে টানে, একটু থামে, তারপর ছেড়ে দেয়।

তারপর বোতাম গোনার প্রোগ্রাম। আম্মুর শিফটের ঘড়ি।

বোতাম = ["সাদা", "কালো", "নীল", "লাল"]

সেই রাতে আম্মুকে দেখিয়েছিল। আম্মু স্ক্রিনে তাকিয়ে ছিল। "শিফট শেষ। বাড়ি যাও।" পড়ে চোখ থেকে পানি পড়েছিল।

"ধুলা পড়েছে।"

মিতু জানালা থেকে সরে এল। নীলাকে কোলে নিয়ে নিজের চেয়ারে বসল। ডেস্কের ওপর বোতামটা। কাচের বাটিতে। সাদা। পুরোনো। বিশ বছরের।

মিতু বোতামটার দিকে তাকাল। বোতাম চুপ করে আছে। বোতাম কথা বলে না। কিন্তু বোতামের ভেতরে আঠারো বছরের ফ্যাক্টরি আছে। বারো ঘণ্টার শিফট আছে। ফোলা পা আছে। টিউবলাইটের সাদা আলো আছে। সেলাই মেশিনের ঝিঁঝিঁ আওয়াজ আছে। আর আছে একটা মায়ের হাত, যে হাত সারাদিন বোতাম গুনত, রাতে সেই হাত দিয়ে মেয়ের চুল বেঁধে দিত।

নীলা ঘুমিয়ে পড়েছে। মিতুর কোলে। মাথা মিতুর বুকে। ছোট্ট শ্বাস। ভেতরে টানে, একটু থামে, তারপর ছেড়ে দেয়।

মিতু নড়ল না।

ল্যাপটপ বন্ধ। কোড বন্ধ। context_layer_v47 অপেক্ষা করছে। কাল দেখা যাবে। পরশুও দেখা যাবে। সাতচল্লিশতম ভার্সন কাজ না করলে আটচল্লিশতম হবে। নিরানব্বইতম হবে। একশোতম হবে। যতক্ষণ না কাজ করে।

মিতু জানে, সে হয়তো পারবে। সত্যি সত্যি পারবে। বাংলা ভাষার এমন একটা মডেল বানাবে যেটা শুধু শব্দ বুঝবে না, মানুষ বুঝবে। কনটেক্সট বুঝবে। "ধুলা পড়েছে" মানে কী, সেটা বুঝবে।

তানিয়া স্বপ্ন দেখেছিল। মিতু বানাচ্ছে। এতটুকুই পার্থক্য। স্বপ্ন আর বানানোর মধ্যে যে ফাঁক, সেই ফাঁকে বিশটা বছর আছে, একটা গোটা প্রজন্মের ঘাম আছে, লক্ষ লক্ষ মানুষের কাজ আর কষ্ট আছে। তানিয়া একা ছিল। মিতু একা নয়। মিতুর পেছনে ভাষামন ল্যাবসের আটাশজন ইঞ্জিনিয়ার আছে, চল্লিশটা দেশের ডেটা পার্টনার আছে, সাত কোটি ডলারের ফান্ডিং আছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা আছে, সেটা হলো একটা ভাঙা ফোনের স্মৃতি। কম্বলের নিচের গুহা। নীলচে আলো। "আমি পারবো," দশবার।

কিন্তু এখন কোড না।

এখন নীলা।

নীলা ঘুমাচ্ছে। তিন বছরের শরীর। হালকা। উষ্ণ। ছোট ছোট আঙুল মিতুর জামার বোতাম ধরে আছে। ধরে ঘুমিয়ে পড়েছে।

মিতু ভাবল, আম্মুও কি এমন করে ধরে থাকত? গাজীপুরের সেই ঘরে, রাতে, যখন মিতু ফোনে কোড শিখত, আম্মু কি জানত? হয়তো জানত। হয়তো একদিন চোখ খুলে দেখেছিল কম্বলের ফাঁক দিয়ে আলো আসছে। কিন্তু কিছু বলেনি। রহিমা অনেক কিছু দেখে কিছু বলে না। বলার দরকার হয় না। দেখাটাই যথেষ্ট।

অফিস ফাঁকা। বাইরে অন্ধকার হয়ে আসছে। গুলশানের রাস্তায় গাড়ির হেডলাইট জ্বলছে, একটার পর একটা, নদীর মতো বয়ে যাচ্ছে। ফোন বাজল। ফয়সাল। মিতু ফোন তুলল না। পরে করবে। এখন নীলা ঘুমাচ্ছে।

মিতু চেয়ারে বসে আছে। কোলে নীলা। পাশে বন্ধ ল্যাপটপ। ডেস্কে একটা সাদা বোতাম। জানালায় অন্ধকার।

ল্যাপটপ অপেক্ষা করতে পারে। কোড অপেক্ষা করতে পারে। context_layer_v47 অপেক্ষা করতে পারে। বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করতে পারে।

এটা পারে না।

নীলা একটু নড়ল ঘুমের মধ্যে। মিতুর জামার বোতাম আরেকটু শক্ত করে ধরল।

মিতু চোখ বন্ধ করল।

অফিসের এসি চলছে। মৃদু একটা গুনগুন। বাইরে ঢাকা। ভেতরে দুজন। একজন ঘুমাচ্ছে, আরেকজন চোখ বন্ধ করে বসে আছে। দুজনের শ্বাসের ছন্দ আস্তে আস্তে মিলে যাচ্ছে। ভেতরে টানে, একটু থামে, তারপর ছেড়ে দেয়।

ডেস্কের ওপর বোতামটা পড়ে আছে। কাচের বাটিতে। চুপচাপ। কুড়ি বছর আগে এই বোতাম গাজীপুরের একটা ফ্যাক্টরিতে ছিল। রহিমার আঙুলের ছোঁয়া এখনো আছে এতে, হয়তো। নেইও হয়তো। কে জানে। বোতাম কথা বলে না।

কিন্তু বোতাম থাকে।