প্রাইভেট টিউটর
আমি সিস্টেমের ব্যর্থতার ওপর ব্যবসা করি
১
সুমনের দিন শুরু হয় সকাল ছয়টায়। ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ করে, মুখ ধুয়ে, গেঞ্জির ওপর একটা শার্ট চাপিয়ে বের হয়। চা খায় না। চা খেলে দেরি হবে। প্রথম ব্যাচ সাতটায়।
সাতটার ব্যাচ: অষ্টম শ্রেণি, গণিত। চারজন ছেলেমেয়ে। বাসার ড্রয়িংরুমে, প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে। হোয়াইটবোর্ড নেই। সুমন খাতায় লেখে, দেখায়। বীজগণিত। সরল সমীকরণ। x এর মান বের করো। ছেলেমেয়েরা তাকিয়ে থাকে। স্কুলে এটা পড়ানো হয়েছে। বুঝেনি। সুমন আবার পড়ায়। আস্তে আস্তে, ধাপে ধাপে। স্কুলে যেটা চল্লিশ মিনিটে শেষ হয়, সুমন সেটায় দুই ঘণ্টা দেয়।
আটটা থেকে সাড়ে নয়টা: দ্বিতীয় ব্যাচ। দশম শ্রেণি, পদার্থবিজ্ঞান। পাঁচজন। এসএসসি পরীক্ষার্থী। এদের চোখে ভয়। পরীক্ষা তিন মাস পর। ফেল করলে জীবন শেষ। এটা সত্য না, কিন্তু ওরা বিশ্বাস করে। ওদের মা-বাবা বিশ্বাস করে। সুমনও একসময় বিশ্বাস করত।
সাড়ে নয়টায় সুমন নিজের ক্লাসে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পদার্থবিদ্যা বিভাগ, অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ। ক্লাস দশটায়। সুমন পেছনের বেঞ্চে বসে। কখনো কখনো ঘুমিয়ে পড়ে। রাত দুইটায় শুয়েছে, পরদিনের ব্যাচের প্রিপারেশন নিচ্ছিল।
২
সুমনের বাবা কলেজে পড়ান। সরকারি কলেজ, লেকচারার। পদার্থবিদ্যা। বেতন বাইশ হাজার টাকা। বাড়ি ভাড়া বাদ দিলে হাতে থাকে চৌদ্দ হাজার। চারজনের সংসার: বাবা, মা, সুমন, ছোটো বোন সুমাইয়া।
সুমন মাসে কামায় পঁচিশ হাজার টাকা। সাত ব্যাচ। সকাল, বিকাল, সন্ধ্যা। ব্যাচ প্রতি চার-পাঁচজন। জনপ্রতি দেড় হাজার থেকে দুই হাজার। হিসাবটা সোজা। ক্লাস অষ্টম: দেড় হাজার। নবম-দশম: দুই হাজার। একাদশ-দ্বাদশ: আড়াই হাজার। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং: তিন হাজার।
সুমনের বাবা জানেন ছেলে তাঁর চেয়ে বেশি কামায়। তিনি এটা নিয়ে কিছু বলেন না। কারণ সুমনের আয় দিয়ে সুমাইয়ার স্কুলের বেতন যায়। সুমনের আয় দিয়ে বাড়ির বাজার হয়। সুমনের আয় না থাকলে এই পরিবারটা চলে না।
একজন কলেজ শিক্ষকের পরিবার তাঁর দ্বিতীয় বর্ষের ছেলের টিউশনি আয়ের ওপর নির্ভরশীল। এটাকে কী বলে? সুমন জানে না কী বলে। সে শুধু পড়ায়।
৩
বিকালের ব্যাচ। চারটা থেকে সাড়ে পাঁচটা। নবম শ্রেণি, রসায়ন। সুমন রসায়ন পড়ায়, অথচ তার অনার্স পদার্থবিদ্যায়। কিন্তু অভিভাবকরা চেনেন সুমনকে। "সুমন ভাইয়া ভালো পড়ায়।" ব্যস। বিষয় যাই হোক, সুমন পড়াবে।
সুমন রাত জেগে রসায়ন শেখে। পরদিন পড়ায়। ছাত্রদের চেয়ে একদিন এগিয়ে থাকে। কখনো কখনো একদিনও না। কখনো ক্লাসে একটা প্রশ্নের উত্তর জানে না। তখন বলে, "এটা পরের ক্লাসে দেব।" রাতে খুঁজে বের করে।
সন্ধ্যার ব্যাচ। ছয়টা থেকে সাড়ে সাতটা। একাদশ শ্রেণি, উচ্চতর গণিত। এই ব্যাচে একটা মেয়ে আছে, নাম তাসনিম। ভালো ছাত্রী। প্রশ্ন করে। সুমনকে ভাবায়। সুমন পছন্দ করে এই ব্যাচটা।
রাতের ব্যাচ। আটটা থেকে সাড়ে নয়টা। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং। এইচএসসি পাস ছেলেমেয়েরা। এদের চোখে আতঙ্ক আর স্বপ্ন একসাথে। ঢাবি, বুয়েট, মেডিকেল। সুমন বলে, "আমি শুধু পদার্থ পড়াই। বাকিটা তোমাদের।" ওরা মাথা নাড়ে। ওরা জানে বাকিটা তাদের। পুরোটাই তাদের।
৪
সুমনের নিজের পড়াশোনা? অনার্সে সিজিপিএ ২.৮। ফার্স্ট ক্লাস দূরে থাক, সেকেন্ড ক্লাসও টানাটানি। ক্লাসে অ্যাটেনডেন্স ষাট শতাংশের নিচে। ল্যাব মিস করে। অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে দেরি হয়।
তার এক বন্ধু রিফাত। রিফাত টিউশনি করে না। বাবা ব্যবসায়ী, টাকা পাঠায়। রিফাতের সিজিপিএ ৩.৭। রিফাত লাইব্রেরিতে বসে। রিসার্চ পেপার পড়ে। প্রফেসরের সাথে প্রজেক্ট করে।
সুমন রিফাতকে দেখে কিছু ভাবে না। ভাবার সময় নেই। সন্ধ্যার ব্যাচ আছে। রাতের ব্যাচ আছে। কালকের ব্যাচের জন্য ত্রিকোণমিতি রিভাইজ করতে হবে।
সুমন জানে সে ভালো ছাত্র ছিল। এইচএসসিতে জিপিএ ৫.০০ পেয়েছিল। ঢাবিতে চান্স পেয়েছিল। সে জানে তার মস্তিষ্ক কাজ করে। কিন্তু মস্তিষ্ক দিয়ে সে অন্যদের পরীক্ষার প্রস্তুতি করায়। নিজের পরীক্ষার জন্য যা বাকি থাকে, সেটা ক্লান্ত মস্তিষ্কের ফিল্টার করা অবশিষ্ট।
৫
একটা ব্যাপার সুমনকে খায়।
সে যা পড়ায়, সেটা স্কুলে পড়ানো হয়। একই সিলেবাস। একই বই। একই অধ্যায়। স্কুলে শিক্ষক আছেন, বোর্ড আছে, ক্লাসরুম আছে। তাহলে ছাত্ররা কেন বুঝে না? কেন তাদের আবার সুমনের কাছে আসতে হয়?
সুমন জানে কেন। স্কুলে ক্লাসে ষাটজন ছাত্র। শিক্ষকের সময় পঁয়তাল্লিশ মিনিট। যে বুঝেছে সে বুঝেছে, যে বোঝেনি সে পরের ক্লাসে আরো পেছনে পড়ে। শিক্ষকের দোষ? না। সিস্টেমের দোষ। ষাটজনকে একজন পড়াবে, সবাই বুঝবে, এটা অসম্ভব।
তাই সুমন।
সুমনের ড্রয়িংরুম বাংলাদেশের আসল ক্লাসরুম। স্কুল হলো একটা প্রতিষ্ঠান যেখানে অ্যাটেনডেন্স হয়, পরীক্ষা হয়, সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। শেখানোর কাজটা হয় সুমনের বাসায়। প্লাস্টিকের চেয়ারে। বিদ্যুৎ চলে গেলে মোমবাতিতে।
"স্কুলে যেটা হওয়া উচিত, সেটা আমার ড্রয়িংরুমে হয়," সুমন একদিন রিফাতকে বলেছিল। "আমি সিস্টেমের ব্যর্থতার ওপর ব্যবসা করি।"
রিফাত বলেছিল, "তুই ক্যানিবালাইজ করছিস নিজেকে।"
সুমন হেসেছিল। হাসিটা মজার ছিল না।
৬
পরীক্ষার মৌসুম। এসএসসি দুই সপ্তাহ পর। সুমনের দশম শ্রেণির ব্যাচে পাঁচজন। তাদের মা-বাবারা সুমনকে ফোন করেন। প্রতিদিন।
"সুমন ভাই, আরিফ কেমন করবে?"
"ভালো করবে, ইনশাআল্লাহ।"
"ভালো মানে কত? এ প্লাস পাবে?"
সুমন জানে আরিফ এ প্লাস পাবে না। আরিফ গণিতে দুর্বল। পদার্থবিজ্ঞানে মোটামুটি। বাংলায় মধ্যম। আরিফ পাস করবে, হয়তো এ মাইনাস। কিন্তু সুমন এটা বলে না। বললে মা-বাবা আতঙ্কিত হবেন। আতঙ্কিত মা-বাবা ভয়ঙ্কর।
"চেষ্টা করছি। আরিফও করছে।"
একজন মা ফোন করলেন। কণ্ঠ শক্ত। "সুমন, আমি স্পষ্ট বলছি। আমার মেয়ে ফেল করলে টাকা ফেরত চাইব। আমি মাসে দুই হাজার দিই। দশ মাসে কুড়ি হাজার। এত টাকা দিয়ে ফেল করবে?"
সুমন ফোন রাখল। কিছুক্ষণ বসে রইল। সে একজন দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সে শিক্ষক না। সে সার্টিফাইড না। সে কোনো প্রতিষ্ঠান না। সে একটা ছেলে যে প্লাস্টিকের চেয়ারে বসিয়ে অন্য ছেলেমেয়েদের সমীকরণ শেখায়। আর একজন মা তাকে বলছেন টাকা ফেরত দিতে।
সুমন কী বলবে? সে কি বলবে, "আপনার মেয়ে আট বছর স্কুলে গেছে, স্কুল কি টাকা ফেরত দেবে?"
৭
সুমনের একটা হিসাব আছে। খাতায় লেখা। কোন ব্যাচ, কয়জন, কত টাকা, কবে পেমেন্ট পাওয়া গেছে। তিন মাস বকেয়া আছে একটা ব্যাচে। মা-বাবা বলেন, "আগামী মাসে দেব।" সুমন পড়ায়। বকেয়া বাড়ে।
সে কি পড়ানো বন্ধ করবে? করতে পারে না। বন্ধ করলে ওই ছেলেমেয়ে পরীক্ষায় ফেল করবে। ফেল করলে ওদের মা-বাবা বলবে সুমনের দোষ। সুমনের নাম খারাপ হবে। নাম খারাপ হলে নতুন ব্যাচ পাবে না। নতুন ব্যাচ না পেলে আয় কমবে।
তাই সুমন পড়ায়। বকেয়া থাক।
রাত দশটা। সুমন বাসায় ফেরে। মা ভাত বেড়ে রেখেছে। সুমন খায়। বাবা পাশের ঘরে পরীক্ষার খাতা দেখছেন। কলেজের খাতা। খাতা প্রতি আড়াই টাকা। একশো খাতায় আড়াইশো টাকা। বাবা সারারাত বসে খাতা দেখবেন।
সুমন বাবার দিকে তাকায়। বাবাও পড়ান। বাবাও পরীক্ষার খাতা দেখেন। বাবাও ক্লান্ত। পার্থক্য: বাবার সনদ আছে, এমএসসি ফিজিক্স। সুমনের নেই। বাবার চাকরি সরকারি। সুমনের কিছু না। বাবার পেনশন হবে। সুমনের হবে না।
কিন্তু সুমন বেশি কামায়।
এই বাক্যটা সুমনের মাথায় ঘোরে। সে এটা নিয়ে গর্বিত না। লজ্জিত না। শুধু একটা ভারী তথ্য, যেটা সে প্রতিদিন বহন করে।
৮
সুমনের নিজের পরীক্ষা দুই সপ্তাহ পর। অনার্স সেকেন্ড ইয়ার ফাইনাল। কোয়ান্টাম মেকানিক্স। ইলেক্ট্রোডায়নামিক্স। স্ট্যাটিস্টিক্যাল ফিজিক্স।
সে কবে পড়বে? সকালে ব্যাচ। বিকালে ব্যাচ। সন্ধ্যায় ব্যাচ। রাতে ব্যাচ। ব্যাচের পর ক্লান্তি। ক্লান্তির পর ঘুম। ঘুমের পর আবার ব্যাচ।
সুমন রাত এগারোটায় বই খোলে। শ্রোডিঙ্গার ইকুয়েশন। চোখ জ্বলে। অক্ষর ঝাপসা হয়। মাথায় ঢোকে না। মাথায় এখনো আছে নবম শ্রেণির ত্রিকোণমিতি, দশম শ্রেণির নিউটনের গতিসূত্র, একাদশের ক্যালকুলাস।
সুমন বই বন্ধ করে। শোয়।
পরীক্ষায় সে পাস করবে। কোনোমতে। সিজিপিএ আরো কমবে। ২.৮ থেকে ২.৬ হবে হয়তো। তাতে কী? ডিগ্রি পাবে। ডিগ্রি দিয়ে কী করবে? চাকরি খুঁজবে। বিসিএস দেবে। দুই-তিনবার। না পেলে? আরো টিউশনি।
টিউশনি তার পেশা হয়ে যাবে। এখন সে ছাত্র যে পড়ায়। পাঁচ বছর পর সে হবে একজন লোক যে পড়ায়। দশ বছর পর? একজন মধ্যবয়সী লোক যে এখনো প্লাস্টিকের চেয়ারে বসিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সমীকরণ শেখায়। মাসে পঁচিশ, হয়তো ত্রিশ। পেনশন নেই। ছুটি নেই। অসুস্থ হলে আয় বন্ধ।
৯
রবিবার। সুমনের ছুটি নেই। সাত দিন সাত ব্যাচ। কিন্তু রবিবার সকালের ব্যাচে একজন কম এসেছে। সুমনের হাতে একটু সময়। সে ছাদে গেল। ঢাকার আকাশ ধূসর। ধোঁয়া আর ধুলোর স্তর। দূরে কোথাও মসজিদের মিনার দেখা যায়। কোথাও নির্মাণাধীন ভবন।
সুমন ভাবে। সে কী করছে?
সে স্কুল সিস্টেমের ত্রুটি পূরণ করছে। সে একটা সমান্তরাল শিক্ষাব্যবস্থা চালাচ্ছে। এই ব্যবস্থায় কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, কোনো সিলেবাস কমিটি নেই, কোনো মান নেই। সুমন যা খুশি পড়াতে পারে। সে ভালো পড়ায়, তাই ছাত্র আসে। অন্য কেউ খারাপ পড়ায়, তাতেও ছাত্র আসে, কারণ বিকল্প নেই।
বাংলাদেশে স্কুল আছে। শিক্ষক আছে। বোর্ড আছে। সিলেবাস আছে। পরীক্ষা আছে। কিন্তু শেখা নেই। শেখাটা হয় সুমনের ড্রয়িংরুমে। অথবা করিমের গ্যারেজে। অথবা ফাতেমা আপার বারান্দায়। হাজার হাজার সুমন, করিম, ফাতেমা। ঢাকায়, চট্টগ্রামে, রাজশাহীতে, খুলনায়। প্রতিটা গলিতে একজন প্রাইভেট টিউটর।
সিস্টেম ভেঙে পড়েছে। সুমন সেই ভাঙা জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। সে সিস্টেমকে ঠিক করছে না। সে সিস্টেমের ব্যর্থতা থেকে খাচ্ছে। সে জানে এটা। এই জানাটা তার ভেতরে একটা কাঁটার মতো আছে, যেটা সে দিনে একবার অনুভব করে, তারপর ভুলে যায়।
কারণ বিকালের ব্যাচ আছে।
১০
সুমনের ফোনে একটা নোটিফিকেশন আসে। বিকাশে টাকা ঢুকেছে। একটা ব্যাচের পেমেন্ট। দুই মাস বকেয়া ছিল, এক মাসের দিয়েছে। বাকি এক মাস? "পরে দেব।" সুমন ফোন রাখে।
সে ভাবে, একদিন সে একটা কোচিং সেন্টার খুলবে। ভাড়া নেবে একটা ফ্লোর। বোর্ড লাগাবে। ব্যাচ বাড়াবে। শিক্ষক রাখবে। নিজে ম্যানেজ করবে। আয় লাখ টাকা হবে। কিন্তু তার জন্য পুঁজি লাগে। পুঁজি কোথায়? সে পঁচিশ হাজার কামায়, বিশ হাজার খরচ হয়, পাঁচ হাজার জমে। পাঁচ হাজারে কোচিং সেন্টার হয় না।
তাই সে ড্রয়িংরুমে পড়ায়। প্লাস্টিকের চেয়ারে।
রাত সাড়ে নয়টা। শেষ ব্যাচ শেষ। ছাত্ররা চলে গেছে। ড্রয়িংরুমে প্লাস্টিকের চেয়ারগুলো এলোমেলো। হোয়াইটবোর্ডের মার্কারে গণিতের সূত্র লেখা, অর্ধেক মোছা।
সুমন চেয়ারগুলো গোছায়। মার্কার মোছে। বোর্ড পরিষ্কার করে। ড্রয়িংরুম আবার ড্রয়িংরুম হয়ে যায়। সকালে আবার ক্লাসরুম হবে।
মা ডাকে, "খেতে আয়।"
সুমন খেতে বসে। ভাত, ডাল, মাছের ঝোল। খায়। বাবা পাশে বসে পত্রিকা পড়ছেন। সুমাইয়া পড়ছে, পরীক্ষা আছে। সুমন তাকায় বোনের দিকে। সুমাইয়া নবম শ্রেণি। সুমাইয়ারও প্রাইভেট টিউটর আছে। অন্য কেউ। সুমন নিজের বোনকে পড়ায় না। সময় নেই।
বাইরে ঢাকা শহর গুনগুন করছে। রিকশার ঘণ্টা। দূরে ট্রাকের হর্ন। কোথাও নির্মাণকাজের শব্দ, রাতেও থামে না।
সুমন ভাত খেয়ে ঘরে যায়। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের বই খোলে। পাঁচ মিনিট পড়ে। ঘুমিয়ে পড়ে।
সকাল ছয়টায় অ্যালার্ম বাজবে। প্রথম ব্যাচ সাতটায়। সুমন উঠবে। দাঁত মাজবে। শার্ট পরবে। পড়াবে। যে সিস্টেম তাকে তৈরি করেছে, সেই সিস্টেমের ব্যর্থতা সে প্রতিদিন বিক্রি করে। পঁচিশ হাজার টাকায়।