ট্যানারি শ্রমিক

আমার হাত দিয়ে চামড়া তৈরি হয়। চামড়া দিয়ে জুতা হয়। জুতা পরে ধনীরা হাঁটে। আমি খালি পায়ে হাঁটি।

পর্ব ৯৬ · ১১ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-২০

শহীদুলের হাত দেখলে বোঝা যায় সে কী করে।

ডান হাতের তালু নীলচে-কালো। বাঁ হাতের আঙুলগুলো ফোলা, চামড়া জায়গায় জায়গায় উঠে গেছে। নখ নেই দুটো আঙুলে। সালফিউরিক অ্যাসিড খেয়ে ফেলেছে। এই হাত দিয়ে সে প্রতিদিন দশ ঘণ্টা চামড়া প্রসেস করে। আগে হাজারীবাগে। এখন সাভারে। কারখানা সরেছে, কাজ সরেনি। বিষ সরেনি।

শহীদুল ট্যানারি শ্রমিক। বয়স ৩৮। দেখতে ৫৫-র মতো।

সকাল ছটায় কারখানায় ঢোকে। প্রথম কাজ: কাঁচা চামড়া লোড করা। গরু, ছাগলের চামড়া। লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা। গন্ধটা বর্ণনা করার মতো না। পচা মাংসের গন্ধ, লবণের ঝাঁজ, আর তার সাথে মিশে আছে কেমিক্যালের ধোঁয়া। প্রথম দিন যে আসে সে বমি করে। শহীদুল বিশ বছর ধরে এই গন্ধে শ্বাস নেয়। তার নাক আর গন্ধ পায় না। বউ বলে, "তুমি বাসায় আসলে বাচ্চারা মুখ ঢাকে।" শহীদুল জানে। কিন্তু কী করবে। গন্ধ তার শরীরে ঢুকে গেছে। সাবান দিয়ে ঘষলেও যায় না।

প্রসেসিংয়ের ধাপগুলো এরকম।

লাইমিং: চুনের দ্রবণে চামড়া ডোবানো। লোম, মাংস ছাড়ানো। শহীদুলের হাত চুনের পানিতে ডোবা থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। চুন ক্ষার। ত্বক পুড়িয়ে দেয়। গ্লাভস আছে, কিন্তু ছেঁড়া। নতুন গ্লাভস মাসে একবার দেয় কারখানা। এক সপ্তাহে ছিঁড়ে যায়। বাকি তিন সপ্তাহ খালি হাতে।

ক্রোমিয়াম ট্যানিং: এটাই আসল বিষ। ক্রোমিয়াম সালফেট। সবুজ রঙের দ্রবণ। চামড়াকে টেকসই করে। চামড়া পচে না, ছিঁড়ে না। কিন্তু ক্রোমিয়াম মানুষের শরীরেও ঢোকে। ত্বক দিয়ে। শ্বাস দিয়ে। খাবারের সাথে। শহীদুলের হাতের রঙ বদলে গেছে এই ক্রোমিয়ামে। ত্বকের নিচে ঢুকে গেছে। ধুয়ে যায় না। মরলেও যাবে না।

তারপর ডাইং। তারপর ফিনিশিং। প্রতিটা ধাপে আলাদা কেমিক্যাল। ফর্মালডিহাইড। অ্যামোনিয়া। সালফিউরিক অ্যাসিড। শহীদুল এগুলোর নাম জানে না। সে জানে সবুজ পানি, হলুদ পানি, গরম পানি, ঝাঁজালো পানি।

কারখানার মেঝেতে পানি জমে থাকে সারাদিন।

রঙিন পানি। সবুজ, বেগুনি, কালো। শহীদুল এই পানিতে দাঁড়িয়ে কাজ করে। তার পায়ে প্লাস্টিকের স্যান্ডেল। গামবুট দেওয়ার কথা, কিন্তু সাইজ মেলে না। যে সাইজ দেয় সেটা পরলে পা পিছলে যায়। তাই স্যান্ডেল। পায়ের চামড়া ফেটে গেছে। ফাটা চামড়ার ভেতর দিয়ে কেমিক্যাল ঢোকে। পায়ে ঘা হয়। ঘা শুকায় না। শুকালে আবার হয়।

দুপুরে আধঘণ্টা বিশ্রাম। শহীদুল কারখানার বাইরে বসে ভাত খায়। হাত ধোয়, কিন্তু ক্রোমিয়ামের রঙ তো যায় না। সেই হাতেই ভাত মাখে। সেই হাতেই মুখে দেয়। ভাতে কেমিক্যালের স্বাদ লাগে কি না সে আর বোঝে না। বিশ বছরে জিভও অভ্যস্ত হয়ে গেছে।

ছশো টাকা দৈনিক মজুরি। মাসে পঁচিশ-ছাব্বিশ দিন কাজ করে। পনেরো-ষোলো হাজার টাকা। ওভারটাইম নেই। বোনাস নেই। অসুস্থ হলে মজুরি নেই। একদিন না গেলে ছশো টাকা কম। পাঁচদিন না গেলে তিন হাজার। তিন হাজার মানে রাকিবের স্কুলের মাসিক খরচ।

তাই শহীদুল অসুস্থ হলেও যায়। জ্বর হলে যায়। পেট খারাপ হলে যায়। হাতে ঘা হলে যায়। যায়, কারণ না গেলে সন্ধ্যায় ভাতে লবণ থাকবে, তরকারি থাকবে না।

শহীদুলের ছেলে রাকিব। বয়স ১২। রাকিবের গায়ে জন্ম থেকে একটা দাগ আছে। বাঁ কাঁধ থেকে পিঠ পর্যন্ত। ডাক্তার বলেছিল, "ক্রোমিয়ামের প্রভাব হতে পারে।" শহীদুল বুঝতে পারেনি। ডাক্তার বুঝিয়ে বলেছিল: "আপনার শরীরে যে বিষ আছে, সেটা বাচ্চার শরীরেও গেছে।"

শহীদুলের বউ রাবেয়ার দুবার গর্ভপাত হয়েছে। তৃতীয়বার রাকিব হয়েছে, কিন্তু সেই দাগ নিয়ে। চতুর্থবার মেয়ে হয়েছে, মরিয়ম। মরিয়মের শ্বাসকষ্ট আছে জন্ম থেকে।

পাড়ার অন্য ট্যানারি শ্রমিকদের ঘরেও একই গল্প। ফরিদের ছেলে বোবা। আলমগীরের মেয়ের হাতে ছয়টা আঙুল। হারুনের দুই বাচ্চা মরে জন্মেছে।

কারখানার বর্জ্য পানিতে মেশে। সেই পানি মাটিতে যায়। মাটি থেকে টিউবওয়েলে। টিউবওয়েলের পানি খায় পুরো এলাকা। ক্রোমিয়াম শুধু শহীদুলের শরীরে না। পুরো এলাকার মাটিতে, পানিতে, বাতাসে।

শহীদুল যে চামড়া প্রসেস করে, সেটা কোথায় যায়?

রপ্তানি হয়। ইতালিতে। ফ্রান্সে। স্পেনে। সেখানকার কারখানায় আরো প্রসেসিং হয়। তারপর জুতা হয়, ব্যাগ হয়, বেল্ট হয়, জ্যাকেট হয়। প্যারিসের একটা দোকানে একটা চামড়ার ব্যাগের দাম দুই হাজার ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় আড়াই লাখ।

শহীদুলের বার্ষিক আয়: এক লাখ আশি হাজার টাকা।

একটা ব্যাগের দাম তার দেড় বছরের আয়ের চেয়ে বেশি।

শহীদুল জুতা পরে না। প্লাস্টিকের স্যান্ডেল পরে। বাজারে যায়, মসজিদে যায়, সব জায়গায়। ছেলের জন্য স্কুলের জুতা কিনেছে, সিনথেটিক, চারশো টাকা। আসল চামড়ার জুতা কিনতে পারে না। যে চামড়া সে নিজের হাতে তৈরি করে, সেই চামড়ার জুতা তার সাধ্যের বাইরে।

আমার হাত দিয়ে চামড়া তৈরি হয়। চামড়া দিয়ে জুতা হয়। জুতা পরে ধনীরা হাঁটে। আমি খালি পায়ে হাঁটি।

বাংলাদেশ চামড়া রপ্তানিতে বিশ্বে নবম। বছরে প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়। এই এক বিলিয়নের কতটুকু শহীদুলের পকেটে আসে? মাসে ষোলো হাজার। বছরে দুই লাখের কম। এক বিলিয়ন ডলার মানে বাংলাদেশি টাকায় বারো হাজার কোটি। শহীদুলের ভাগ: শূন্য দশমিক শূন্য শূন্য শূন্য। এত ছোট সংখ্যা যে ক্যালকুলেটরেও দেখায় না।

চামড়া শিল্পের সাফল্যের গল্প পত্রিকায় ছাপা হয়। রপ্তানি বাড়ছে, কর্মসংস্থান হচ্ছে, বৈদেশিক মুদ্রা আসছে। শহীদুলের হাতের ছবি কেউ ছাপে না। শহীদুলের ফুসফুসের এক্স-রে কেউ দেখায় না। সাফল্যের গল্পে বিষের কথা থাকে না।

কারখানায় দুইশো শ্রমিক কাজ করে। বেশিরভাগ শহীদুলের মতো। হাজারীবাগ থেকে আসা। কেউ কেউ নতুন। গ্রাম থেকে আসে। কাজ নেই, পেট আছে। ট্যানারি নেয়। ট্যানারি সবাইকে নেয়। কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে না। কোনো অভিজ্ঞতা লাগে না। দুটো হাত থাকলেই হয়।

নতুন কেউ এলে শহীদুল তাকে দেখে। প্রথম দিন সে মুখ কুঁচকায়। দ্বিতীয় দিন বমি করে। তৃতীয় দিন চুপ হয়ে যায়। এক সপ্তাহ পর সে আর কিছু বলে না। এক মাস পর সে শহীদুলের মতো হয়ে যায়। গন্ধ পায় না। রঙ দেখে ভয় পায় না। সবুজ পানিতে হাত ডোবায়, ওঠায়, ডোবায়।

ট্রেড ইউনিয়ন আছে কাগজে। বাস্তবে নেই। কারখানার মালিক ইউনিয়ন পছন্দ করেন না। যে ইউনিয়ন করে তাকে বের করে দেন। বের করা সহজ। দুইশো শ্রমিকের বদলে আরো দুইশো পাওয়া যায়। বাইরে লাইন আছে। কাজ চায়। পেট চায়। বিষ নিতে রাজি। কারণ বিষের বিকল্প ক্ষুধা।

শহীদুল একবার ইউনিয়নের কথা বলেছিল। সুপারভাইজার বলেছিল, "ইউনিয়ন করবে? গেটের বাইরে কতজন দাঁড়িয়ে আছে দেখেছো?" শহীদুল দেখেছে। আর বলেনি।

হাজারীবাগের কথা শহীদুল মনে করে।

সেখানে দুইশো ট্যানারি ছিল। বুড়িগঙ্গার ধারে। সব বর্জ্য সরাসরি নদীতে। পানি কালো ছিল। মাছ ছিল না। গন্ধ ছিল এত তীব্র যে পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে চোখ জ্বালা করত। সরকার বলল সরাও। পরিবেশের জন্য। আন্তর্জাতিক চাপে। ট্যানারি সরল সাভারে। হেমায়েতপুর।

নতুন জায়গায় ইটিপি (Effluent Treatment Plant) বসানোর কথা ছিল। কিছু বসেছে। কিছু চলে না। কিছু কাগজে আছে, মাটিতে নেই। বর্জ্য এখনো পানিতে যায়। ধলেশ্বরী নদীতে। আগে বুড়িগঙ্গা মরেছিল। এখন ধলেশ্বরী মরছে।

শহীদুলের কাছে পার্থক্য শুধু একটা: আগে হাজারীবাগ থেকে কারখানায় যেতে দশ মিনিট লাগত। এখন সাভারে যেতে দেড় ঘণ্টা। বাস ভাড়া ত্রিশ টাকা। যাওয়া-আসা ষাট। মাসে দেড় হাজার টাকা শুধু যাতায়াতে যায়।

বিষ সরেনি। দূরত্ব বেড়েছে।

কারখানায় একটা স্বাস্থ্য ক্যাম্প এসেছিল গত বছর। এনজিওর। ডাক্তাররা এসে শ্রমিকদের পরীক্ষা করলেন। রক্ত নিলেন। প্রস্রাব নিলেন। ফুসফুসের এক্স-রে করলেন।

রিপোর্ট এল দুই মাস পর। শহীদুলের রক্তে ক্রোমিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিকের চার গুণ। কিডনি ফাংশন কমছে। ফুসফুসে ছায়া আছে।

ডাক্তার বললেন, "এই কাজ ছাড়তে হবে। না হলে পাঁচ-সাত বছরের মধ্যে কিডনি অকেজো হবে।"

শহীদুল বলল, "ছেড়ে দিলে খাব কী?"

ডাক্তার চুপ করে গেলেন। এই প্রশ্নের উত্তর তাঁর কাছে নেই। তিনি শরীরের রোগ সারান। জীবনের রোগ সারানোর প্রশিক্ষণ তিনি পাননি।

শহীদুল রিপোর্ট ভাঁজ করে পকেটে রাখল। পরদিন সকালে আবার কারখানায় গেল। সবুজ পানিতে হাত ডোবাল। ক্রোমিয়ামের গন্ধ নাকে এল। বা এল না। সে আর তফাৎ বুঝতে পারে না।

শহীদুলের বাবাও ট্যানারি শ্রমিক ছিল। হাজারীবাগে। তিরিশ বছর কাজ করেছে। মারা গেছে ৫০ বছর বয়সে। কিডনি ফেইলিওর। বাংলাদেশের গড় আয়ু ৭৩। ট্যানারি শ্রমিকের গড় আয়ু ৫০। এটা কোনো গবেষণাপত্রে লেখা আছে কি না শহীদুল জানে না। কিন্তু সে নিজের চোখে দেখেছে। তার বাবা ৫০-তে মারা গেছে। চাচা ৪৮-এ। পাশের বাড়ির কামাল ভাই ৫২-তে। তিনজনই কিডনি।

শহীদুলের বয়স ৩৮। ডাক্তার বলেছে পাঁচ-সাত বছর। তাহলে ৪৩ থেকে ৪৫। বাবার চেয়েও আগে।

সে হিসাব করে না। হিসাব করলে কাজ করা যায় না। হিসাব করলে সকালে উঠে কারখানায় যাওয়া যায় না। ভাত গিলতে গিয়ে ক্রোমিয়ামের কথা মনে পড়ে, তখন গলায় আটকায়। তাই সে ভাবে না।

কারখানা পেট ভরায়। কারখানা প্রাণও নেয়।

দুটো একসাথে। বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই।

১০

কারখানায় একটা নোটিশ টাঙানো আছে দেওয়ালে। ইংরেজিতে। "Safety First." শহীদুল ইংরেজি পড়তে পারে না। সে জিজ্ঞেস করেছিল, কেউ বলেছে "নিরাপত্তা প্রথম।" সে হেসেছিল। নোটিশের পাশে একটা ফায়ার এক্সটিংগুইশার আছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ। পাশে একটা ফার্স্ট এইড বক্স আছে। খালি। বিদেশি ক্রেতারা আসলে এগুলো দেখান মালিক। "দেখুন, আমাদের সেফটি আছে।" ক্রেতারা দেখেন, মাথা নাড়েন, অর্ডার দেন। চলে যান। তারপর সব আগের মতো। সবুজ পানি, খালি হাত, ফাটা গ্লাভস।

কমপ্লায়েন্স। এই শব্দটা শহীদুল শুনেছে। কারখানা কমপ্লায়েন্ট কি না। মানে আন্তর্জাতিক মান মানে কি না। কারখানা বলে মানে। কাগজে মানে। কাগজের বাইরে? কাগজের বাইরে শহীদুলের হাত নীলচে-কালো। কাগজের বাইরে মরিয়মের শ্বাসে সিটি। কাগজের বাইরে ধলেশ্বরী কালো।

১১

সন্ধ্যায় শহীদুল বাসায় ফেরে। রাবেয়া ভাত রান্না করে রেখেছে। ডাল, আলুভর্তা। শহীদুল গোসল করে। সাবান দিয়ে তিনবার হাত ঘষে। রঙ যায় না। সে জানে যাবে না। তবু ঘষে। এটা অভ্যাস, আশা না।

রাকিব পড়ছে। মরিয়ম ঘুমিয়ে গেছে। তার শ্বাসে একটা সিটির শব্দ হয়, ঘুমের মধ্যেও।

রাবেয়া বলে, "রাকিবকে ট্যানারিতে দিও না।"

শহীদুল চুপ করে থাকে। সে জানে এই এলাকায় আর কাজ নেই। দোকানদারি করতে পুঁজি লাগে। রিকশা চালাতে গেলে রিকশা কিনতে হয়। গার্মেন্টসে মেয়েরা যায়, ছেলেরা যায় না। কনস্ট্রাকশনে গেলে ট্যানারির চেয়ে কম পায়।

রাকিব কি ট্যানারিতে যাবে? শহীদুল জানে না। সে চায় না। কিন্তু চাওয়ায় কিছু হয় না। তার বাবাও চায়নি।

রাকিব জিজ্ঞেস করে, "বাবা, তোমার হাত এরকম কালো কেন?"

শহীদুল হাতের দিকে তাকায়। কী বলবে? বলবে এটা ক্রোমিয়াম? বলবে এটা বিষ? বলবে এই বিষ তোমার শরীরেও আছে, তোমার পিঠের দাগে, তোমার বোনের শ্বাসে?

সে বলে, "কাজের রঙ।"

রাকিব আর জিজ্ঞেস করে না। সে ফিরে যায় পড়ায়। শহীদুল তাকায় ছেলের হাতের দিকে। পরিষ্কার হাত। ছোট হাত। এখনো কোনো রঙ ধরেনি। কতদিন পরিষ্কার থাকবে?

রাত হয়। শহীদুল শোয়। তার হাত বালিশের পাশে। নীলচে-কালো হাত। অন্ধকারে দেখা যায় না। কিন্তু আছে। সারারাত আছে। সকালে আবার সেই হাত সবুজ পানিতে যাবে। ক্রোমিয়াম, চুন, অ্যাসিড। চামড়া তৈরি হবে। জুতা হবে। ব্যাগ হবে। ধনীরা পরবে। শহীদুল পরবে না।

শহীদুল ঘুমায়। তার ফুসফুসে ছায়া একটু একটু করে বাড়ে। নীরবে। রাতের অন্ধকারের মতোই নীরবে।

সকালে আবার অ্যালার্ম বাজবে। সকালে আবার বাস। সকালে আবার কারখানা। সকালে আবার সবুজ পানি। ক্রোমিয়াম, চুন, অ্যাসিড। দশ ঘণ্টা। ছশো টাকা। একটা জীবন। প্রতিদিন একটু একটু করে কমছে। কিন্তু চলছে। চামড়ার মতোই, প্রসেস হচ্ছে।