গৃহবধূ

আমি কাজ করি না? আমি সব কাজ করি। শুধু কেউ 'কাজ' বলে না।

পর্ব ৮ · ১১ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-২০

ভোর পাঁচটায় শিরীনের ঘুম ভাঙে। অ্যালার্ম লাগে না। শরীরই অ্যালার্ম। বিশ বছর ধরে ভোর পাঁচটায় ওঠে, শরীর মনে রেখেছে। শরীর ভোলে না। শরীর ক্ষমাও করে না।

প্রথম কাজ: উঠান ঝাড়ু দেওয়া। ঝাড়ু দিতে দিতে আকাশের দিকে তাকায়। এখনো অন্ধকার। পূবদিকে একটু একটু লাল হচ্ছে। পাখি ডাকছে। শিরীনের দিন পাখির আগে শুরু হয়।

দ্বিতীয় কাজ: চুলা ধরানো। গ্যাসের চুলা। বাটন ঘোরালে টিক টিক করে আগুন ধরে। চা বসানো। নারায়ণগঞ্জের এই বাড়িতে চারজন মানুষ, চারজনের চায়ের রঙ আলাদা। শিরীনের স্বামী ফারুক গাঢ় চা খায়, চিনি কম। বড় ছেলে রাফি দুধ চা খায়, চিনি বেশি। মেয়ে নিশি লিকার চা খায়, লেবু দিয়ে। শিরীন নিজে চা খায় না। চা বানায়, কিন্তু খায় না। সময় নেই। নিজের কাপে চা ঢালার ফুরসত হয় না।

তৃতীয় কাজ: নাশতা। পরোটা। ডিম। আলু ভাজি। ফারুকের টিফিন বক্সে ভাত আর মাছ রাখতে হবে। রাফির স্কুলের টিফিনে স্যান্ডউইচ। নিশির জন্য ফ্রুট।

চতুর্থ কাজ: কাপড় ধোওয়া। ওয়াশিং মেশিন আছে, কিন্তু ফারুকের শার্টের কলার হাতে ঘষতে হয়। নিশির স্কুলের সাদা জামাও হাতে ধুতে হয়। মেশিনে ঠিকমতো পরিষ্কার হয় না। শিরীন জানে কোন কাপড় কতটুকু ঘষলে দাগ ওঠে। এটা কোনো বইতে লেখা নেই। এটা বিশ বছরের অভিজ্ঞতা।

পঞ্চম কাজ: ঘর মোছা। ছয়টা ঘর। একটা বসার ঘর, তিনটা শোবার ঘর, একটা রান্নাঘর, একটা খাবার ঘর। প্রতিদিন ঝাড়ু দেওয়া, মোছা। শুক্রবারে বাড়তি পরিষ্কার। পর্দা ঝাড়া, ফ্যানের ধুলো মোছা, আলমারি গোছানো।

ষষ্ঠ কাজ: বাজারের লিস্ট। ফ্রিজে কী আছে, কী নেই, কী শেষ হতে চলেছে, কী কিনতে হবে। মাসের বাজেট কত, কত খরচ হয়েছে, কত বাকি আছে। ফারুক মাসের শুরুতে পনেরো হাজার টাকা দেয়। এই পনেরো হাজারে চারজনের খাবার, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ওষুধ, ছোটখাটো কেনাকাটা। শিরীন প্রতিটা টাকা হিসেব করে। মাথায়। খাতায় না। মাথার হিসেব খাতার চেয়ে নির্ভুল। কারণ মাথায় টাকার সাথে সাথে চিন্তাও থাকে। খাতায় শুধু সংখ্যা থাকে।

সকাল নয়টা। ফারুক অফিসে গেছে। প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করে। মাসে চল্লিশ হাজার। রাফি স্কুলে গেছে। নিশি স্কুলে গেছে।

বাড়ি খালি। শিরীন একা।

এখন সপ্তম কাজ: দুপুরের রান্না। আজ ভাত, মুরগির ঝোল, আলু দিয়ে শিম, ডাল। মুরগি কাটতে হবে। মশলা বাটতে হবে। পেঁয়াজ কুচি করতে লাগবে তিনটা বড় পেঁয়াজ। রসুন ছয় কোয়া। আদা এক টুকরো। হলুদ, মরিচ, জিরা, ধনে। শিরীন চোখ বন্ধ করেও এই রান্না করতে পারে। হাত নিজে থেকে চলে। বিশ বছর ধরে একই হাত একই কাজ করছে।

রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে শিরীন পেঁয়াজ কাটছে। চোখে পানি আসছে। পেঁয়াজের জন্য। শুধু পেঁয়াজের জন্য।

মাঝে মাঝে শিরীন ভাবে, সে যদি না থাকতো তাহলে এই বাড়ি কেমন হতো? ফারুক কি নিজে রান্না করতো? রাফি কি নিজের জামা ধুতো? নিশি কি নিজের ব্যাগ গুছাতো? উত্তর: না। কেউ কিছু পারতো না। বাড়িটা তিনদিনে জঙ্গল হয়ে যেতো। এক সপ্তাহে ডাস্টবিন।

কিন্তু এটা কেউ বলে না। এটা কেউ ভাবে না। শিরীন আছে, তাই সব হচ্ছে। শিরীন না থাকলে সব বন্ধ হতো। কিন্তু শিরীন আছে বলে শিরীনের কোনো মূল্য নেই। যে জিনিস সবসময় থাকে, মানুষ সেটার দাম বোঝে না। বাতাসের মতো। বাতাস না থাকলে মানুষ মরে যায়। কিন্তু কেউ বাতাসকে ধন্যবাদ দেয় না।

দুপুরে ফারুক ফিরল। খেলো। বলল, "ঝোলে লবণ একটু কম।"

শিরীন বলল না, "আমি ভোর পাঁচটা থেকে কাজ করছি।" বলল না, "আমি সকালে তোমার শার্ট ইস্ত্রি করেছি।" বলল না, "আমি রাফির অঙ্কের খাতা চেক করেছি।" বলল না, "আমি নিশির জন্য হেয়ার ক্লিপ কিনেছি।"

শিরীন বলল, "কাল বেশি দেবো।"

ফারুক হাত ধুয়ে শুয়ে পড়ল। ঘুমাবে। এক ঘণ্টা। অফিসের ক্লান্তি। শিরীন থালা ধুলো। রান্নাঘর পরিষ্কার করল। কাপড় শুকাতে দিল। আবার ঝাড়ু দিল। বাথরুম পরিষ্কার করল।

বিকেলে রাফি ফিরল। "আম্মা, খিদা।"

নাশতা দিল। মুড়ি, চানাচুর, কলা।

নিশি ফিরল। "আম্মা, কাল সায়েন্স প্রজেক্ট জমা দিতে হবে।"

শিরীন নিশির সাথে বসল। সোলার সিস্টেমের মডেল বানাতে হবে। থার্মোকলের বল কিনতে হবে। রঙ করতে হবে। শিরীন SSC পাস। সায়েন্সে পড়েছিল। ভালো রেজাল্ট ছিল। HSC দিতে পারেনি। বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। কুড়ি বছর বয়সে। ফারুকের পরিবার বলেছিল, "পড়াশোনা করতে দেবো।" দেয়নি। রাফি এসেছিল এক বছরের মধ্যে। তারপর নিশি। তারপর পড়াশোনার কথা কেউ তোলেনি। শিরীনও তোলেনি।

নিশির প্রজেক্ট শেষ করে শিরীন রাতের রান্নায় বসল। ভাত, মাছ ভাজা, সবজি, ডাল। আবার পেঁয়াজ কাটা। আবার চোখে পানি।

রাতে সবাই খেলো। ফারুক টিভি দেখল। রাফি ফোনে গেম খেলল। নিশি পড়তে বসল। শিরীন রান্নাঘর গোছাল। পরদিনের জন্য ডাল ভিজিয়ে রাখল। ফ্রিজ চেক করল। দুধ শেষ হতে চলেছে। কাল কিনতে হবে।

রাত দশটায় সবাই ঘুমিয়ে গেল। শিরীন বিছানায় শুয়ে আছে। ফারুক পাশে ঘুমাচ্ছে। নাক ডাকছে।

শিরীন সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে একটা হিসেব করল। এই হিসেবটা সে আগে একবার করেছিল। তিন বছর আগে। টিভিতে একটা অনুষ্ঠানে দেখেছিল, বিদেশে গৃহকর্মীদের বেতন কত। তারপর নিজের হিসেব করেছিল।

রান্না: দিনে তিনবার। বাইরে থেকে রাঁধুনি আনলে মাসে ন্যূনতম আট হাজার টাকা। কাপড় ধোওয়া ও ইস্ত্রি: লন্ড্রি সার্ভিসে মাসে চার হাজার। ঘর পরিষ্কার: কাজের মানুষ রাখলে মাসে তিন হাজার। বাচ্চাদের দেখাশোনা: গৃহশিক্ষক প্লাস বেবিসিটার মাসে আট হাজার। কম করে। হিসেবরক্ষণ: বাজেট ম্যানেজমেন্ট, কেনাকাটার পরিকল্পনা। একজন অ্যাকাউন্ট্যান্ট রাখলে মাসে পাঁচ হাজার। আত্মীয় ম্যানেজমেন্ট: ফারুকের মা আসলে সেবা, বোন আসলে আপ্যায়ন, ঈদে পুরো পরিবার আসলে পাঁচদিনের রান্না-বান্না-বিছানা-পত্র। এটার কোনো বাজারদর নেই। কারণ এটা কেউ কেনে না। এটা শুধু বউরা করে।

মোট: পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা। ন্যূনতম। আসলে আরো বেশি।

শিরীন এই হিসেব কাউকে বলেনি। বলে কী হবে? ফারুক হাসবে। "তুমি তো ঘরে থাকো। কী কাজ করো?" আত্মীয়রা বলবে, "সংসার করাটা কি কাজ? সবাই তো করে।" লোকে বলবে, "খাওয়া-পরার চিন্তা নেই, আবার বেতন চায়!"

কাজ মানে কী? অফিসে গিয়ে চেয়ারে বসলেই কাজ? কম্পিউটারে টাইপ করলেই কাজ? শিরীনও বসে, শিরীনও হাত চালায়। শুধু শিরীনের চেয়ার অফিসে না, রান্নাঘরে। শিরীনের কম্পিউটার কিবোর্ড না, বটি।

একদিন ফারুক বলল কথাটা।

রবিবার সকাল। নাশতার টেবিলে। শিরীন পরোটা ভাজছে। ফারুক চা খাচ্ছে। ফোনে কিছু দেখছে।

"আমার অফিসের রহমান সাহেবের বউ চাকরি করে। সরকারি। দুইজনে মিলে মাসে আশি হাজার কামায়।"

শিরীন চুপ।

"তুমিও তো SSC পাস। কিছু একটা করতে পারতে।"

শিরীন চুপ।

"মানে, তুমি তো কিছু করো না।"

পরোটা ভাজার হাত থামল। একটা মুহূর্ত। একটা সেকেন্ড। শিরীনের ভেতরে কিছু একটা উঠে এলো। বিশ বছরের জমানো কিছু। ভোর পাঁচটার কিছু। পেঁয়াজের পানির কিছু। শার্টের কলার ঘষার কিছু। হিসেবের খাতার কিছু।

কিন্তু শিরীন বলল না। কিছুই বলল না।

পরোটা উল্টাল। ভাজল। প্লেটে তুলল। ফারুকের সামনে রাখল।

কেন বলল না? ভয়ে? না। অভ্যাসে? হয়তো। কিন্তু আসল কারণ অন্য। শিরীন জানে, বলে লাভ নেই। ফারুক বুঝবে না। বোঝার ক্ষমতা নেই বলে না। বোঝার প্রয়োজন মনে করে না বলে। যে কাজের ফল চোখে দেখা যায় কিন্তু কাজটা চোখে দেখা যায় না, সে কাজ কেউ বোঝে না। বাতাস চোখে দেখা যায় না, কিন্তু বাতাস না থাকলে গাছ মরে যায়। শিরীন সেই বাতাস।

ফারুক পরোটা খেলো। "পরোটা ভালো হয়েছে।"

এটুকুই। এটুকুই শিরীনের বেতন। একটা বাক্য। "ভালো হয়েছে।" মাসে একবার। দুইবার। কখনো কখনো শূন্যবার।

শিরীনের মা ফোন করেন মাঝে মাঝে। মা গ্রামে থাকেন। টাঙ্গাইলে। মা নিজেও গৃহবধূ ছিলেন। আজীবন। বাবা মারা যাওয়ার পরে মা একা। এখন বড় ভাইয়ের সংসারে থাকেন। ভাইয়ের বউয়ের সংসারে, আসলে। মায়ের অবস্থান সেখানে অতিথির। আজীবন কাজ করে যে মানুষটা একটা সংসার চালিয়েছে, বার্ধক্যে সে অতিথি।

"মা, কেমন আছো?"

"ভালো, মা।"

এটাও মিথ্যা। মায়েরা সবসময় ভালো আছে। মায়েদের "ভালো" আর সবার "ভালো" একই জিনিস না। মায়েদের "ভালো" মানে: জীবিত আছি, শরীর চলছে, কাউকে বিরক্ত করছি না। এটুকুই।

"তোর শ্বশুরবাড়ির লোকজন কেমন?"

"ভালো, মা।"

"ফারুক ভালো ব্যবহার করে তো?"

"হ্যাঁ, মা।"

ফারুক ভালো মানুষ। মারে না। গালি দেয় না। মদ খায় না। পরকীয়া করে না। এই চারটা "না" দিয়ে বাংলাদেশে একজন স্বামীকে ভালো বলা হয়। ন্যূনতম মানবিকতাকে মহত্ত্ব বলা হয়। না মারাকে ভালোবাসা বলা হয়।

ফারুক ভালো মানুষ। কিন্তু ফারুক দেখে না। শিরীনের হাতে কাটা দাগ দেখে না, বটি থেকে। শিরীনের কোমরের ব্যথা দেখে না, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে রান্না করে। শিরীনের চোখের ক্লান্তি দেখে না, ভোর পাঁচটায় ওঠে বলে। ফারুক ভালো মানুষ। ফারুক শুধু অন্ধ। এমন অন্ধত্ব যেটা চোখের সমস্যা না, মনের সমস্যা।

একদিন নিশি জিজ্ঞেস করল, "আম্মা, তুমি বড় হয়ে কী হতে চেয়েছিলে?"

শিরীন থেমে গেল। হাতে একটা ভেজা কাপড়, শুকাতে দিচ্ছিল।

"শিক্ষক।"

"তাহলে হওনি কেন?"

"বিয়ে হয়ে গেল।"

"বিয়ে হলে কি শিক্ষক হওয়া যায় না?"

শিরীন কাপড়টা দড়িতে টানাল। ক্লিপ লাগাল। পরের কাপড় তুলল।

"যায়। কিন্তু আমার হয়নি।"

নিশি চুপ করে গেল। বারো বছরের মেয়ে। বুঝতে শুরু করেছে। পুরো বোঝে না। কিন্তু অনুভব করতে পারে। কোনো কিছু ঠিক নেই, এটুকু অনুভব করতে পারে।

শিরীন কাপড় শুকাতে শুকাতে ভাবল। সে শিক্ষক হতে চেয়েছিল। হতে পারেনি। কিন্তু সে কি শিক্ষক হয়নি? রাফিকে অঙ্ক শেখায়। নিশিকে বিজ্ঞান শেখায়। দুইটা বাচ্চাকে মানুষ করছে। এটা কি শিক্ষকতা না?

হ্যাঁ, এটা শিক্ষকতা। কিন্তু এই শিক্ষকতার কোনো সার্টিফিকেট নেই। কোনো বেতন নেই। কোনো ছুটি নেই। কোনো অবসর নেই। এই শিক্ষকতা আজীবন। এই শিক্ষকতায় ছাত্র মাত্র দুইজন। কিন্তু এই দুইজনের জীবন তৈরি করছে শিরীন। তার হাতে।

শিরীন কাপড় শুকিয়ে ভেতরে ঢুকল। রান্নাঘরে গেল। চুলা জ্বালাল।

আমি কাজ করি না? আমি সব কাজ করি। শুধু কেউ "কাজ" বলে না।

রাত। বাড়ি নিশ্চুপ। শিরীন রান্নাঘরে একা দাঁড়িয়ে আছে।

কালকের জন্য ডাল ভিজিয়ে রাখছে। চালের কৌটা ভরছে। মশলার বয়াম চেক করছে। হলুদ শেষ হতে চলেছে। মরিচ আছে। জিরা কম। ধনে আছে। এই ছোট ছোট হিসেব, এই ছোট ছোট সিদ্ধান্ত, এগুলো কেউ দেখে না। কিন্তু এগুলো না হলে সংসার চলে না।

শিরীন জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল। পাশের বাড়ির ছাদে কেউ কাপড় শুকাতে ভুলে গেছে। রাতের শিশির পড়বে। কাপড় ভিজে যাবে। শিরীন ভাবল, বলে দেবে কাল সকালে।

পাশের বাড়ির সেই মহিলাটাও গৃহবধূ। তার নাম রেহানা। রেহানাও ভোরে ওঠে। রেহানাও রান্না করে, ধোওয়া করে, মোছে, গোছায়। রেহানার স্বামীও বলে, "তুমি তো কিছু করো না।" হয়তো। শিরীন জানে না। কিন্তু অনুমান করতে পারে। কারণ সব বাড়ি একই। সব রান্নাঘর একই। সব গৃহবধূর জীবন একই। শুধু পেঁয়াজের সাইজ আলাদা।

শিরীন লাইট নেভাল। ঘরে গেল। বিছানায় শুয়ে পড়ল। ফারুক ঘুমাচ্ছে। নাক ডাকছে।

কাল ভোর পাঁচটায় উঠতে হবে। আবার ঝাড়ু। আবার চা। আবার পরোটা। আবার পেঁয়াজ। আবার চোখের পানি।

শিরীন চোখ বন্ধ করল।

ষোলো ঘণ্টা কাজ করেছে আজ। শূন্য টাকা বেতন। কোনো ধন্যবাদ নেই। কোনো ছুটি নেই। কোনো অবসর নেই। কিন্তু কাল আবার উঠবে। আবার করবে। কারণ না করলে সব ভেঙে পড়বে। এই বাড়ি, এই সংসার, এই চারটা মানুষের জীবন, সব ভেঙে পড়বে।

শিরীন সেই স্তম্ভ যার ওপরে ছাদ দাঁড়িয়ে আছে। কেউ স্তম্ভের দিকে তাকায় না। সবাই ছাদের নিচে বসে। কিন্তু স্তম্ভ সরে গেলে ছাদ ভেঙে পড়বে।

শিরীন সরবে না। শিরীন দাঁড়িয়ে থাকবে। কারণ এটাই শিরীনের জীবন। এটাই শিরীনের কাজ। যে কাজের কোনো নাম নেই।