এসিড সারভাইভার

আমার মুখ দেখে ভয় পায়। কিন্তু আমি ভয় পাই না।

পর্ব ১৩ · ১০ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-২০

আয়না ভাঙা না। নাসরিন ভাঙেনি। আয়না এখনো দেয়ালে আছে, পুরো, পরিষ্কার।

নাসরিন প্রতিদিন সকালে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। পুরো মুখ দেখে। ডান দিকটা: যেমন ছিল, তেমন আছে। চোখ, ভ্রু, গাল, ঠোঁটের অর্ধেক। একটা সুন্দর মুখের অর্ধেক। বাঁ দিকটা: নেই। যেটা ছিল সেটা গলে গেছে, পুড়ে গেছে, মিশে গেছে। চামড়া টানটান, লালচে, পুরু, যেন মোমের ওপর আগুন পড়ে মোম গলে একটা নতুন আকার নিয়েছে। কিন্তু মোমকে আবার গড়া যায়। চামড়া আবার গড়া যায় না। বাঁ চোখ আছে, কিন্তু দেখে কম। বাঁ কান আধা গলা। বাঁ ঠোঁটের কোণা ওপরে টানা, যেন হাসছে। কিন্তু হাসি না। ক্ষত।

দুটো অর্ধেক মিলিয়ে একটা মুখ। একটা মুখ যেটা দুটো ভিন্ন পৃথিবীর কথা বলে। ডান দিক বলে: আমি ছিলাম। বাঁ দিক বলে: আমি হয়েছি। মাঝখানে একটা রেখা, যেটা এসিড টেনে দিয়েছে, যেটা আগে আর পরে ভাগ করে দিয়েছে। সেই রেখা পার হয়ে কেউ ফিরে আসতে পারে না।

আঠারোটা সার্জারি। তিন বছর হাসপাতালে। প্রতিটা সার্জারির পর ব্যান্ডেজ খোলা, আয়নায় দেখা, আবার ব্যান্ডেজ বাঁধা। ডাক্তার বলতেন, "আরেকটু ভালো হয়েছে।" আরেকটু। সবসময় আরেকটু। কখনো পুরোটা না। পুরোটা আর হবে না। নাসরিন জানে। ডাক্তারও জানেন। কিন্তু ডাক্তার "আরেকটু" বলেন, কারণ ডাক্তারদেরও একটা পর্দা দরকার, যার আড়ালে তারা সত্যটা লুকিয়ে রাখেন।

বাইশ বছর বয়স। ঘটনার সময় উনিশ ছিল। তিন বছর হাসপাতাল। এখন বাইশ। কিন্তু বাইশ বছরের মুখে উনিশ বছরের ক্ষত। ক্ষতের বয়স হয় না। ক্ষত যেমন ছিল তেমন থাকে। শুধু চারপাশের চামড়া বদলায়, শক্ত হয়, রঙ বদলায়। কিন্তু ক্ষত থাকে।

ছেলেটার নাম সোহেল। পাশের বাড়ির ছেলে। বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। নাসরিন বলেছিল, "না।" সোজা, পরিষ্কার, একটা শব্দ: না। নাসরিন তখন কলেজে পড়ত। প্রথম বর্ষ। হিসাববিজ্ঞান। বিয়ে করার কোনো ইচ্ছে ছিল না। পড়বে, চাকরি করবে, নিজের পায়ে দাঁড়াবে। বাবা বলতেন, "মেয়েকে পড়াব। যত দূর যেতে চায়।"

সোহেল "না" শুনল। সোহেলের পক্ষে "না" শোনা সম্ভব ছিল না। সোহেলের পৃথিবীতে মেয়েরা "না" বলে না। মেয়েরা মাথা নিচু করে, চোখ নামিয়ে, "বাবা-মা যা বলবে" বলে। "না" একটা অপরাধ। "না" একটা অপমান। অপমানের শাস্তি আছে।

রাত দুইটায়। নাসরিন ঘুমাচ্ছিল। দরজা ভেঙে ঢোকেনি, জানালা দিয়ে ছুড়ে দিয়েছে। একটা বোতল। ভেতরে সালফিউরিক এসিড। ব্যাটারির এসিড। ত্রিশ টাকায় পাওয়া যায় যেকোনো মোটরসাইকেলের দোকানে। ত্রিশ টাকায় একটা মুখ।

বোতল ভেঙে পড়ল নাসরিনের মুখের ওপর। তরল আগুন। ত্রিশ টাকার তরল আগুন।

ব্যথার কোনো ভাষা নেই।

নাসরিন চেষ্টা করেছে ব্যথাটা বর্ণনা করতে। পারেনি। আগুন? আগুনের চেয়ে বেশি। আগুন চামড়ায় থাকে, এসিড চামড়া ভেদ করে ভেতরে ঢোকে। ছুরি? ছুরির চেয়ে গভীর। ছুরি একটা জায়গায় কাটে, এসিড সব জায়গায় একসাথে পোড়ায়। প্রতিটা স্তর গলে যায়, একটা একটা করে, আর প্রতিটা স্তরে নতুন ব্যথা। চামড়ার ব্যথা আলাদা, মাংসের ব্যথা আলাদা, হাড়ের কাছে পৌঁছালে ব্যথা আর ব্যথা থাকে না, অন্য কিছু হয়ে যায়, যেটার কোনো শব্দ বাংলায় নেই, ইংরেজিতেও নেই।

নাসরিন চিৎকার করেছিল। সেই চিৎকার শুনে পুরো পাড়া জেগে গিয়েছিল। বাবা দৌড়ে এসেছিল। মা অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল। ছোটভাই রাজু পানি এনেছিল, কিন্তু পানি দেওয়া ঠিক হবে কিনা কেউ জানত না। পানি দিল। পরে ডাক্তার বললেন, পানি দেওয়াটা ঠিক হয়েছিল। সেটুকু ভাগ্য।

ঢাকা মেডিকেল। বার্ন ইউনিট। নাসরিন তিন দিন জ্ঞান ছিল না। যখন জ্ঞান হলো, প্রথম যেটা বুঝল: বাঁ হাত নাড়াতে পারছে না। দ্বিতীয় যেটা বুঝল: মুখে ব্যান্ডেজ। তৃতীয় যেটা বুঝল: মা কাঁদছে। মায়ের কান্না চেনা শব্দ। মা সবসময় কাঁদে। বাবার বেতন কম হলে কাঁদে, ছেলে অসুস্থ হলে কাঁদে, মেয়ের পরীক্ষার ফল ভালো হলেও কাঁদে। কিন্তু এই কান্না আলাদা। এই কান্নায় শব্দ নেই, শুধু শ্বাস আছে, ভেঙে ভেঙে।

"আম্মা, আমার মুখে কী হয়েছে?"

মা উত্তর দিতে পারল না।

নার্স একটা ছোট আয়না এনে দিল। ব্যান্ডেজ খোলার আগেই নাসরিন বুঝে গিয়েছিল। ব্যান্ডেজ খোলার পর দেখল। একবার দেখল। আয়না নামিয়ে রাখল। চোখ বন্ধ করল।

সেদিন নাসরিন কাঁদেনি। কান্না আসেনি। কান্নার বদলে একটা শূন্যতা এসেছিল, যেটা পুরো শরীর ভরিয়ে দিয়েছিল। শূন্যতা ব্যথার চেয়ে ভারী। ব্যথা সহ্য করা যায়, কারণ ব্যথার একটা আকার আছে, একটা সীমানা আছে। শূন্যতা সহ্য করা যায় না, কারণ শূন্যতায় ধরার কিছু নেই, সীমানা নেই, শেষ নেই।

সোহেলকে ধরা হয়েছিল। মামলা হয়েছিল। সোহেল জামিনে বেরিয়েছিল। মামলা চলছে। তিন বছর ধরে চলছে। তারিখের পর তারিখ। সোহেল গ্রামে ঘোরে। মুক্ত। নাসরিন হাসপাতালে শোয়ে। বন্দী। সোহেলের মুখ আগের মতো। নাসরিনের মুখ আগের মতো না। এটাই বিচার। মামলার বিচার হয়নি, কিন্তু মুখের বিচার হয়ে গেছে।

তিন বছর পর নাসরিন হাসপাতাল থেকে বেরোলো।

মুখের বাঁ দিকে আঠারোটা সার্জারির দাগ। ডাক্তার বললেন, "আর কিছু করার নেই। এটাই সেরা ফলাফল।" সেরা ফলাফল। নাসরিন হাসল। হাসি মুখের ডান দিকে দেখা গেল। বাঁ দিকে দেখা গেল না। বাঁ দিক হাসতে পারে না। পেশি গলে গেছে। হাসি একটা অসমাপ্ত বাক্যের মতো: শুরু হয়, কিন্তু শেষ হয় না।

বাড়ি ফিরল। পাড়ায় মানুষ দেখল। কেউ কেউ তাকাল, তারপর চোখ সরিয়ে নিল। কেউ কেউ "ইন্না লিল্লাহ" বলল, যেন নাসরিন মরে গেছে। বাচ্চারা ভয় পেল। একটা ছোট ছেলে কেঁদে ফেলল। মা ছেলেকে টেনে নিয়ে গেল, বলল, "ওদিকে তাকাস না।"

ওদিকে। নাসরিন এখন একটা "ওদিক"। একটা জায়গা যেদিকে তাকানো যায় না। একটা দৃশ্য যেটা চোখে অস্বস্তি দেয়। একটা মুখ যেটা শিশুদের কাঁদায়, বড়দের চোখ সরায়, পুরুষদের মুখ ফেরায়।

প্রথম সপ্তাহে নাসরিন ঘর থেকে বের হয়নি। দ্বিতীয় সপ্তাহে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়েছে। তৃতীয় সপ্তাহে উঠোনে দাঁড়িয়েছে। সূর্যের আলো মুখে পড়েছে, পোড়া চামড়ায়, আর নাসরিন বুঝেছে রোদ ব্যথা করে না। রোদ পক্ষপাত করে না। রোদ সুন্দর আর অসুন্দর দুটোকেই একইভাবে স্পর্শ করে। চতুর্থ সপ্তাহে রাস্তায় বের হয়েছে।

রাস্তায় বের হওয়ার সময় নাসরিন ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকেছিল। অভ্যাস। লুকানোর অভ্যাস। তিন বছর ধরে লুকিয়েছে, ব্যান্ডেজের আড়ালে, হাসপাতালের দেয়ালের আড়ালে। তারপর একটা মুহূর্তে ওড়না নামিয়ে ফেলল। পুরো মুখ খোলা। রোদ পড়ল মুখের ওপর। ডান দিকে মসৃণ চামড়ায়। বাঁ দিকে পোড়া চামড়ায়।

একজন রিকশাওয়ালা তাকাল। চোখ বড় হলো। নাসরিন তাকিয়ে রইল। রিকশাওয়ালা চোখ সরিয়ে নিল।

আমার মুখ দেখে ভয় পায়। কিন্তু আমি ভয় পাই না। ভয় পেলে আমি হারি।

এই বাক্যটা নাসরিন সেদিন বলেনি। এই বাক্যটা ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে, দিনে দিনে, প্রতিটা তাকানোর জবাবে, প্রতিটা চোখ সরিয়ে নেওয়ার প্রতিউত্তরে। একটা একটা শব্দ যোগ হয়েছে, যেভাবে আঠারোটা সার্জারিতে একটা একটা স্তর যোগ হয়েছিল। এই বাক্যটা নাসরিনের বর্ম। এই বাক্যটা নাসরিনের আঠারোটা সার্জারির চেয়ে শক্ত।

একটা এনজিও এগিয়ে এলো। এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন।

প্রশিক্ষণ দিল। সেলাই শেখালো। মেশিন দিল। নাসরিন একটা দোকান খুলল। ছোট। বাড়ির সামনের ঘরে। সাইনবোর্ড লাগালো: "নাসরিন টেইলার্স।" সাইনবোর্ডে নাম, নম্বর। কোনো ছবি নেই। ছবি লাগে না। নাসরিনের মুখটাই সাইনবোর্ড। যে একবার দেখেছে সে ভুলবে না।

প্রথম মাসে দুইজন কাস্টমার এলো। দ্বিতীয় মাসে পাঁচজন। তৃতীয় মাসে আটজন। মানুষ আসতে শুরু করল। প্রথমে কৌতূহলে, তারপর অভ্যাসে, তারপর প্রয়োজনে। নাসরিনের সেলাই ভালো। হাতটা শক্ত, চোখটা তীক্ষ্ণ (ডান চোখ, যেটা ঠিক আছে, যেটা সোহেল নিতে পারেনি)। ব্লাউজ, সালোয়ার-কামিজ, বাচ্চাদের জামা। নাসরিন বানায়, মানুষ নেয়। সেলাইয়ের সুতো সোজা যায়, কোথাও বাঁকে না। নাসরিন সোজা পছন্দ করে।

বাচ্চারা এখনো তাকায়। দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় থামে, মুখ হাঁ করে দেখে। নাসরিন তাকিয়ে থাকে। হাসে (অর্ধেক হাসি)। বলে, "কী দেখছ, বাবা?"

বাচ্চারা পালায়। কিন্তু পরের দিন আবার আসে। তাকায়। নাসরিন আবার হাসে। এভাবে, ধীরে ধীরে, বাচ্চারা অভ্যস্ত হয়। ভয় চলে যায়। অভ্যাস আসে। একদিন একটা ছোট মেয়ে জিজ্ঞেস করল, "আপু, তোমার মুখে কী হয়েছে?"

"আগুন পড়েছিল।"

"ব্যথা পেয়েছিলে?"

"হ্যাঁ।"

"এখন ব্যথা করে?"

"না।"

মেয়েটা একটু ভাবল। তারপর বলল, "তুমি সুন্দর।"

নাসরিন জানে মেয়েটা বুঝে বলেনি। সাত বছরের মেয়ে। সুন্দর কাকে বলে, অসুন্দর কাকে বলে, এই ভেদ মেয়েটা শেখেনি এখনো। মেয়েটা শুধু একটা মানুষকে দেখেছে, যে হাসছে, যে কথা বলছে, যে ভয় পায় না। মেয়েটার কাছে এটাই সুন্দর। কিন্তু শব্দটা শুনে নাসরিনের বুকে কিছু একটা নড়ে উঠল। ছোট, হালকা, কিন্তু শরীরের ভেতরে গিয়ে একটা জায়গায় বসে গেল যেখানে তিন বছর ধরে কিছু ছিল না। সেই জায়গাটা শূন্য ছিল। এখন শূন্য না।

সোহেলের বিচার হলো। পাঁচ বছর পর।

সোহেলের সাত বছরের সাজা হলো। নাসরিন কোর্টে ছিল। সোহেলকে নিয়ে যাওয়ার সময় সোহেল একবার তাকাল নাসরিনের দিকে। নাসরিন তাকিয়ে রইল। চোখ সরালো না। সোহেল চোখ সরালো। আগে সোহেল তাকাত, নাসরিন চোখ নামাত। এখন উল্টো। সময় এটুকু বদলেছে।

সাত বছর। নাসরিনের মুখে আঠারোটা সার্জারির দাগ। তিন বছর হাসপাতাল। সারাজীবনের ক্ষত। সোহেলের সাত বছর। হিসাবটা মেলে না। কিন্তু নাসরিন হিসাব মেলানোর চেষ্টা করে না। হিসাব মেলালে পাগল হয়ে যাবে। কিছু হিসাব মেলানোর জন্য না। কিছু হিসাব শুধু বহন করার জন্য।

এখন নাসরিন দোকানে বসে সেলাই করে। সকাল থেকে সন্ধ্যা। মেশিনের শব্দ ঘরে ভরে থাকে। ঘড়ঘড়ঘড়। সুতো কাপড়ের ভেতর দিয়ে যায়, একটা সরলরেখায়, বিচ্যুতি ছাড়া। নাসরিন সরলরেখা পছন্দ করে। সরলরেখায় কোনো ছলনা নেই। যেখানে শুরু হয়, সেখান থেকে সোজা যায়, কোথাও বাঁকে না। নাসরিনের জীবন সরলরেখা না। নাসরিনের জীবনে একটা ভয়ংকর বাঁক আছে। কিন্তু সেলাইটা সরলরেখা। এটুকু যথেষ্ট।

বিকেলে দোকান বন্ধ করে নাসরিন বাইরে বসে। চেয়ারটা দোকানের সামনে রাখে। চা খায়। রাস্তার দিকে তাকায়। মানুষ যায়, আসে। কেউ তাকায়, কেউ তাকায় না। নাসরিন সবার দিকে তাকায়।

তারা আমার দিকে তাকায় কারণ আমি আলাদা। আমি তাদের দিকে তাকাই কারণ তারা নির্বিকার।

নির্বিকার। এই শব্দটা নাসরিনের। নাসরিন বুঝেছে, পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর জিনিস এসিড নয়। এসিড মুখ পোড়ায়। নির্বিকারতা আত্মা পোড়ায়। যে মানুষগুলো সোহেলকে জানত, যারা জানত সোহেল হুমকি দিয়েছে, যারা দেখেছে সোহেলের চোখে সেই ক্রোধ, কিন্তু কিছু বলেনি, কিছু করেনি, পরদিন সকালে চা খেয়ে বাজারে গেছে। তারা এসিড ছোড়েনি। তারা শুধু নির্বিকার ছিল। সেটাই যথেষ্ট।

নাসরিন চা শেষ করে। কাপ ধুয়ে রাখে। দোকান বন্ধ করে। ঘরে ফেরে। আয়নার সামনে দাঁড়ায়। ডান দিকে তাকায়। বাঁ দিকে তাকায়। দুটো মিলিয়ে একটা মুখ। অসম, অসমাপ্ত, অসুন্দর, কিন্তু জীবিত।

নাসরিন আয়না থেকে চোখ সরায় না। দেখে। পুরোটা দেখে। প্রতিদিন দেখে। কারণ নাসরিন জানে, না দেখলে ভুলে যাবে কে সে। আর ভুলে গেলে সোহেল জিতবে।

সোহেল জিতবে না। এই মুখ, এই অসম মুখ, এটাই প্রমাণ: "না" বলার অধিকার আছে। "না" বলার মূল্য আছে, সেই মূল্য ভয়ংকর, অন্যায়, অসহ্য। কিন্তু "না" বলাটা অপরাধ নয়। কোনোদিন ছিল না।

নাসরিন বাতি নেভায়। অন্ধকারে শুয়ে পড়ে। অন্ধকারে সব মুখ একরকম। অন্ধকার কাউকে আলাদা করে না। অন্ধকারে নাসরিন সবার মতো।

কিন্তু সকালে আবার আলো আসবে। আলোতে আবার মুখ দেখা যাবে। আলোতে আবার মানুষ তাকাবে, চোখ সরাবে, ফিসফিস করবে।

নাসরিন তৈরি। নাসরিন প্রতিদিন তৈরি। কারণ যেদিন নাসরিন তৈরি থাকবে না, সেদিন সোহেল জিতবে। আর সোহেল জিতলে সেই ত্রিশ টাকার এসিড জিতবে। আর সেটা হতে দেওয়া যায় না।