শিক্ষিকা

আমি হাজার মোমবাতি জ্বালিয়েছি। কিন্তু কেউ আমার মতো মোমবাতি হতে চায় না।

পর্ব ১৬ · ১০ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-২০

ঘণ্টা বাজল।

নাসিমা উঠে দাঁড়াল। শরীরের বাম পাশে একটা টান। কোমরে। গত পাঁচ বছর ধরে এটা আছে। ডাক্তার বলেছে, "দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন বলে।" নাসিমা বলেছিল, "আমি শিক্ষিকা। দাঁড়িয়ে না থাকলে কী করব? শুয়ে পড়াব?" ডাক্তার হেসেছিল। নাসিমা হাসেনি।

তিরিশ বছর।

তিরিশ বছর ধরে নাসিমা এই স্কুলে পড়াচ্ছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নওগাঁ জেলা, মান্দা উপজেলা। স্কুলঘরের দেয়াল একসময় সাদা ছিল, এখন ধূসর। ব্ল্যাকবোর্ড একসময় কালো ছিল, এখন ধূসর। নাসিমার চুল একসময় কালো ছিল, এখন ধূসর। সব কিছু একই রঙে মিশে যাচ্ছে। শুধু বাচ্চাদের চোখ একই আছে। প্রতিবছর নতুন বাচ্চা আসে, প্রতিবছর একই চোখ। কৌতূহলী, ভয়মিশ্রিত, বিস্ময়ে ভরা। এই চোখগুলোর জন্যই নাসিমা প্রতিদিন আসে।

"ম্যাডাম, আমি পারি না।"

ছোট ছেলে। ক্লাস থ্রি। গণিত। ভাগ করতে পারছে না। ৩৬ ভাগ ৪। নাসিমা তার পাশে বসল। হাঁটুতে ব্যথা করল। বসল তবু।

"দেখ। ৩৬টা আম আছে। ৪ জন বন্ধু। সবাই সমান পাবে। কয়টা করে পাবে?"

"নয়টা?"

"দেখ, নিজেই পারলি।"

ছেলেটার মুখে হাসি। এই হাসি। তিরিশ বছর ধরে নাসিমা এই হাসি দেখছে। এই হাসিটাই তার বেতন। আসল বেতন। কাগজের বেতন আলাদা। কাগজের বেতন ১৬ হাজার টাকা। তিরিশ বছরের অভিজ্ঞতা, বিএড ডিগ্রি, দুটো ট্রেনিং, একটা জাতীয় পুরস্কারের সার্টিফিকেট, সব মিলিয়ে ১৬ হাজার টাকা। পেনশন হবে ১২ হাজার।

ক্লাসে ফিরে নাসিমা ব্ল্যাকবোর্ডে লিখল: "বাংলাদেশ।" চক ধরতে হাত কাঁপে এখন। আগে কাঁপত না। আগে হাতের লেখা সুন্দর ছিল। এখন হাতের লেখা বড় বড় হয়ে গেছে। চশমা ছাড়া বোর্ড দেখতে পায় না। চশমাটাও পুরোনো। পাওয়ার বেড়ে গেছে, কিন্তু নতুন চশমা করানোর সামর্থ্য নেই।

"ম্যাডাম, বাংলাদেশ কত বছরের?"

"পঞ্চান্ন বছর।"

"ম্যাডাম আর বাংলাদেশ কে বড়?"

নাসিমা হাসল। "বাংলাদেশ বড়। ম্যাডাম ছোট।"

কিন্তু নাসিমা ভাবল, সে কি সত্যিই ছোট? পঞ্চান্ন বছরের দেশ, আটচল্লিশ বছরের শিক্ষিকা। দেশ বড় হয়েছে, শিক্ষিকা বুড়ো হয়েছে। দেশের জিডিপি বেড়েছে, শিক্ষিকার বেতন বাড়েনি। দেশের রাস্তা চওড়া হয়েছে, শিক্ষিকার ঘর সেই টিনের ঘরই আছে।

টিফিনের ঘণ্টা বাজল। বাচ্চারা দৌড়ে বেরিয়ে গেল। নাসিমা স্টাফরুমে গেল। স্টাফরুমে আরো তিনজন শিক্ষক। দুইজন তরুণ, সরকারি নিয়োগ। একজন এমপিওভুক্ত। তরুণ দুইজন ফোনে ব্যস্ত। ফেসবুক। এমপিওভুক্ত শিক্ষক, মজিবুর ভাই, চা খাচ্ছেন।

"নাসিমা আপা, চা খাবেন?"

"দাও।"

চা খেতে খেতে মজিবুর ভাই বললেন, "শুনলেন? সরকার নতুন শিক্ষানীতি আনতেছে। ডিজিটাল ক্লাসরুম হবে।"

"ডিজিটাল ক্লাসরুম? আমাদের ক্লাসে তো বৈদ্যুতিক পাখাই চলে না ঠিকমতো।"

মজিবুর ভাই হাসলেন। দুজনেই জানেন, নীতি কাগজে থাকে, বাস্তবে আসে না। তিরিশ বছরে নাসিমা অনেক নীতি দেখেছে। প্রতিটা সরকার নতুন নীতি আনে। কাগজে সুন্দর। বাস্তবে সেই চক, সেই ব্ল্যাকবোর্ড, সেই ভাঙা বেঞ্চ।

আঠারো বছর বয়সে নাসিমা এই স্কুলে যোগ দিয়েছিল।

তখন সে ছিল মান্দার প্রথম নারী শিক্ষিকা। পুরো উপজেলায় প্রথম। মানুষ দেখতে আসত। যেন চিড়িয়াখানায় নতুন প্রাণী এসেছে। "মেয়ে পড়ায়? মেয়ে কী পড়াবে?" নাসিমা পড়িয়েছে। প্রমাণ করেনি। পড়িয়ে দেখিয়েছে।

তখন হেডমাস্টার ছিলেন আনোয়ার সাহেব। পঞ্চাশোর্ধ্ব। ভারী গলা। স্কুলে তাঁর কথাই আইন। প্রথম বছর কিছু হয়নি। দ্বিতীয় বছর শুরু হলো।

হাত রাখা। কাঁধে। কোমরে। "এটা তো স্নেহ।" নাসিমা সরে যেত। আনোয়ার সাহেব হাসতেন। "এত লজ্জা কেন? আমি তোমার বাবার বয়সী।"

তৃতীয় বছরে একদিন স্টাফরুমে দরজা বন্ধ করে দিলেন। নাসিমা চেয়ার তুলে তাঁর দিকে ধরল। "হাত দিলে এই চেয়ার দিয়ে মারব। তারপর থানায় যাব।"

আনোয়ার সাহেব হাসলেন। "কে বিশ্বাস করবে? আমি ত্রিশ বছরের শিক্ষক। তুমি তিন বছরের।"

নাসিমা পরদিন উপজেলা শিক্ষা অফিসে গেল। লিখিত অভিযোগ দিল। তদন্ত হলো। আনোয়ার সাহেব বদলি হলেন। সত্যি বদলি হলেন। অনেকে বলেছিল হবে না, কিন্তু হলো।

কিন্তু তারপর শুরু হলো আসল শাস্তি।

"ওই মেয়ে হেডমাস্টারের বিরুদ্ধে গেছে।" এটাই ছিল নাসিমার নতুন পরিচয়। সহকর্মীরা দূরত্ব বজায় রাখল। অভিভাবকেরা ফিসফিস করল। গ্রামের মানুষ বলল, "মেয়েটার এত সাহস? নিশ্চয়ই নিজে কিছু করেছে।" নাসিমার বাবা বলল, "চাকরি ছেড়ে দে।" মা কাঁদল।

নাসিমা চাকরি ছাড়েনি। স্কুলে গেছে। পড়িয়েছে। একা বসেছে। একা খেয়েছে। একা হেঁটে বাড়ি ফিরেছে। পাঁচ বছর লেগেছে মানুষের ভুলে যেতে। পাঁচটা বছর।

নাসিমা ভোলেনি।

সেই পাঁচ বছরে নাসিমা একটা জিনিস শিখেছিল। এই সমাজে একটা মেয়ে যদি সত্য বলে, মেয়েটাই শাস্তি পায়। অপরাধী বদলি হয়, শাস্তি পায় না। যে অভিযোগ করে, সে একঘরে হয়। এটা শুধু স্কুলের গল্প নয়। এটা বাংলাদেশের গল্প। প্রতিটা অফিসে, প্রতিটা কারখানায়, প্রতিটা হাসপাতালে এই গল্প চলছে। মেয়ে চুপ থাকলে ভালো মেয়ে। মেয়ে কথা বললে খারাপ মেয়ে। নাসিমা খারাপ মেয়ে হয়েছিল। সেই "খারাপ" শব্দটা তার পিঠে সেঁটে ছিল বহু বছর।

আনোয়ার সাহেব বদলি হয়ে অন্য স্কুলে গেলেন। সেখানে কী করেছেন, নাসিমা জানে না। হয়তো একই কাজ। হয়তো অন্য কোনো আঠারো বছরের মেয়ের কাঁধে হাত রেখেছেন। হয়তো সেই মেয়ে চেয়ার তোলেনি। হয়তো সেই মেয়ে সহ্য করেছে। নাসিমা এটা ভাবলে রাতে ঘুমাতে পারে না।

দশ হাজার।

নাসিমা একদিন হিসেব করেছিল। প্রতিবছর গড়ে দুই শিফটে তিনশো ছাত্রছাত্রী। তিরিশ বছরে প্রায় দশ হাজার। কমবেশি হতে পারে, কিন্তু দশ হাজারের কাছাকাছি। দশ হাজার শিশু নাসিমার ক্লাসে বসেছে। নাসিমার মুখ থেকে অ, আ, ই, ঈ শিখেছে। ১+১=২ শিখেছে। "আমার সোনার বাংলা" শিখেছে।

তাদের অনেকে এখন ডাক্তার। ইঞ্জিনিয়ার। ব্যাংকার। শিক্ষক কেউ হয়নি। একজনও না।

গত বছর নাসিমার এক প্রাক্তন ছাত্র এসেছিল। রাশেদ। এখন ঢাকায় ডাক্তার। গাড়ি নিয়ে এসেছে। স্কুলে এসে নাসিমাকে দেখে পা ছুঁয়ে সালাম করল। নাসিমার চোখ ভিজে গেল।

"ম্যাডাম, আপনি না থাকলে আমি কিছুই হতাম না।"

"তুই কেন শিক্ষক হলি না?"

রাশেদ হেসেছিল। বিব্রত হাসি। "শিক্ষকতায় কী আছে, ম্যাডাম? ১৫-১৬ হাজার বেতন, কোনো সম্মান নেই, কোনো ভবিষ্যৎ নেই।"

নাসিমাও হেসেছিল। "ঠিকই বলেছিস।"

রাশেদ চলে যাওয়ার পর নাসিমা স্টাফরুমে বসে চা খেল। ঠান্ডা চা। চুমুক দিতে দিতে ভাবল, রাশেদ ভুল বলেনি। ১৫-১৬ হাজার বেতন। সম্মান? সম্মান মুখে আছে, বাস্তবে নেই। অভিভাবক সভায় অভিভাবকেরা আসেন, শিক্ষকদের দিকে এমনভাবে তাকান যেন চাকর। "আমার ছেলে কেন ফেল করেছে?" এটা প্রশ্ন নয়, অভিযোগ। ছেলে পড়ে না, সেটা শিক্ষকের দোষ। ছেলে পাস করে, সেটা কোচিং স্যারের কৃতিত্ব।

নাসিমা মোমবাতি জ্বালিয়েছে। হাজার মোমবাতি। কিন্তু কেউ মোমবাতি হতে চায় না। সবাই চায় বাতি জ্বলুক, কিন্তু মোম গলুক অন্য কেউ।

একদিন একটা মেয়ে এসেছিল। ক্লাস ফাইভ। নাম শাহানা। পড়াশোনায় খুব ভালো। প্রথম হতো সবসময়। নাসিমা তাকে দেখে নিজেকে দেখত। একই চোখ। একই একগুঁয়েমি। একদিন শাহানা বলল, "ম্যাডাম, আমি বড় হয়ে আপনার মতো টিচার হব।"

নাসিমার বুক ভরে গেল। আনন্দে। তারপর খালি হয়ে গেল। ভয়ে। এই মেয়ে যদি সত্যিই শিক্ষিকা হয়? সেও কি ১৬ হাজার টাকা বেতন পাবে? সেও কি একা বসে ঠান্ডা চা খাবে? সেও কি কোনো আনোয়ার সাহেবের মুখোমুখি হবে?

নাসিমা বলেছিল, "তুই ডাক্তার হ।"

শাহানা অবাক হয়ে তাকিয়েছিল। "কিন্তু আমি তো আপনার মতো হতে চাই।"

"আমার মতো হওয়ার দরকার নেই। আমার চেয়ে বড় হ।"

শাহানা এখন ঢাকা মেডিকেলে পড়ে। ডাক্তার হবে। নাসিমা মাঝে মাঝে ভাবে, একটা শিক্ষিকা যখন তার ছাত্রীকে বলে "শিক্ষিকা হস না," তার চেয়ে দুঃখের কথা আর কী হতে পারে?

সন্ধ্যায় নাসিমা বাড়ি ফিরল।

বাড়ি বলতে একটা পুরোনো টিনের ঘর। স্বামী নেই। বিয়ে হয়েছিল ছাব্বিশ বছর বয়সে। দেরি হয়েছিল কারণ নাসিমা শর্ত দিয়েছিল, "চাকরি ছাড়ব না।" অনেক পাত্রপক্ষ এই শর্তে রাজি হয়নি। শেষে কামাল রাজি হলো। কামাল ভালো মানুষ ছিল। ২০১৫ সালে মারা গেল। হার্ট অ্যাটাক। রাস্তায়। রিকশায় বসে। হঠাৎ। কোনো পূর্বাভাস ছিল না।

একটা মেয়ে আছে। সুমাইয়া। ঢাকায় থাকে। ব্যাংকে চাকরি করে। মাসে একবার ফোন করে। "আম্মা, কেমন আছ?" "ভালো।" এটুকুই। সুমাইয়া ব্যস্ত। নাসিমা বোঝে। ব্যস্ততা এই যুগের ধর্ম।

রান্নাঘরে ঢুকে নাসিমা চুলা ধরাল। একা মানুষের রান্না। অল্প ভাত, একটু ডাল, একটা সবজি। মাছ মাসে দুইবার। মাংস ঈদে।

ভাত ফুটছে। বাষ্প উঠছে। নাসিমা দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কোমরে ব্যথা। পায়ে ব্যথা। চোখে পুরোনো চশমা, লেন্স ঘোলা হয়ে গেছে, নতুন করানোর টাকা নেই। তিরিশ বছর আগে যখন প্রথম ক্লাসে ঢুকেছিল, শরীরে একটা আগুন ছিল। সেই আগুন এখন ছাই। ছাই গরম আছে এখনো, কিন্তু শিখা নেই।

দুই বছর পর অবসর।

অবসর শব্দটা নাসিমার কাছে মৃত্যুর সমার্থক। স্কুল ছাড়া নাসিমা কী? একটা ফাঁকা ঘরে একা বসে থাকা একটা বুড়ি মানুষ। পেনশন ১২ হাজার টাকা। ওষুধের খরচ ৩ হাজার। বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি ২ হাজার। বাকি ৭ হাজারে মাস চালাতে হবে। তিরিশ বছর জ্ঞান দিয়েছে। বিনিময়ে ১২ হাজার টাকার পেনশন।

রাতে নাসিমা বিছানায় শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছে।

ঘুম আসে না। আজকাল ঘুম কম হয়। শরীর ক্লান্ত, কিন্তু মাথা জেগে থাকে। মাথায় মুখগুলো ঘোরে। দশ হাজার মুখ। ছোট ছোট মুখ। কেউ হাসছে, কেউ কাঁদছে, কেউ প্রশ্ন করছে। "ম্যাডাম, চাঁদ কেন আলো দেয়?" "ম্যাডাম, বাংলাদেশ কত বড়?" "ম্যাডাম, আমি বড় হয়ে কী হব?"

নাসিমা বলত, "তুই যা হতে চাস, তাই হবি।"

মিথ্যা কথা। সবাই যা হতে চায় তা হতে পারে না। নাসিমা নিজে কী হতে চেয়েছিল? সে কলেজে পড়াতে চেয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে। গবেষণা করতে চেয়েছিল। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হতে চায়নি। কিন্তু পরিবারের সামর্থ্য ছিল না। এসএসসি পাস করে প্রাইমারি স্কুলে ঢুকেছে। তারপর চাকরি করতে করতে বিএ পাস করেছে, বিএড করেছে। কিন্তু প্রাইমারি স্কুল থেকে আর উঠতে পারেনি। সিস্টেম অনুমতি দেয় না।

জানালা দিয়ে আকাশ দেখা যাচ্ছে। চাঁদ নেই। তারা আছে। নাসিমা তারা গুনতে শুরু করল। অভ্যাস। শিক্ষিকারা সব কিছু গোনে। উপস্থিতি, নম্বর, বই, খাতা, বছর।

তিরিশ বছর।

এই তিরিশ বছরে নাসিমা একটা জিনিস শিখেছে। শেখানো সহজ, কিন্তু শেখানোর মূল্য দেওয়া এই সমাজ শেখেনি। ডাক্তার বড়, কারণ ডাক্তার রোগ সারায়। ইঞ্জিনিয়ার বড়, কারণ ইঞ্জিনিয়ার বিল্ডিং বানায়। শিক্ষক ছোট, কারণ শিক্ষক শুধু মানুষ বানায়। মানুষ বানানোর কোনো বাজারমূল্য নেই।

নাসিমা চোখ বন্ধ করল।

দুই বছর পর সে এই স্কুল থেকে বেরিয়ে যাবে। কেউ কাঁদবে না। হয়তো একটা বিদায় সভা হবে। একটা ফুলের তোড়া। একটা শাড়ি। "ম্যাডাম অনেক করেছেন।" দুই দিন পর সবাই ভুলে যাবে। নতুন শিক্ষিকা আসবে। বাচ্চারা নতুন মুখে অভ্যস্ত হয়ে যাবে।

কিন্তু নাসিমা জানে, প্রতিটা বাচ্চার ভেতরে তার একটু আলো আছে। ক্ষুদ্র। অদৃশ্য। কিন্তু আছে। সেই আলো নিভবে না। মোমবাতি শেষ হয়ে যায়, কিন্তু আলো অন্য মোমবাতিতে চলে যায়।

নাসিমা হাজার মোমবাতি জ্বালিয়েছে। কেউ তার মতো মোমবাতি হতে চায় না। সেটা ঠিক আছে। মোমবাতি হওয়া সবার কাজ নয়। গলতে হয় যে।