কন্যাসন্তানের মা
যে বলে ছেলে নেই, তার চোখ নেই
রহিমা, ৪২। তিন মেয়ের মা। কোনো ছেলে নেই।
এই একটা বাক্যে তার পুরো জীবনের বিচার হয়ে যায়। চারপাশের মানুষের চোখে এই একটা বাক্যই যথেষ্ট। বাকি সব, তার ত্রিশ বছরের সংসার, তার হাতের রান্না, তার ঘরের পরিচ্ছন্নতা, তার মেয়েদের লেখাপড়া, কিছুই ধরে না। ধরে শুধু একটা অনুপস্থিতি। ছেলে নেই।
---
প্রথম মেয়ে হলো যখন, রহিমার বয়স বাইশ। বিয়ের দুই বছর পর। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা বলল, "প্রথমবার। আল্লাহর দান। পরেরবার ছেলে হবে।" রহিমা মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল। ছোট্ট মুখ। চোখ বন্ধ। হাত মুঠো করা। রহিমার বুকের ভেতরে একটা জিনিস নড়ে উঠল, যেটার নাম সে তখন জানত না। পরে বুঝেছে, সেটার নাম ভালোবাসা। শর্তহীন, ব্যাখ্যাহীন, অকারণ ভালোবাসা। মেয়ে হোক, ছেলে হোক, এই মুখটা তার।
নাম রাখল ফারিয়া।
ফারিয়া হাঁটতে শিখল। কথা বলতে শিখল। "আম্মা" বলল। রহিমার মনে হলো, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শব্দ এটা। কিন্তু শ্বাশুড়ি বললেন, "পরেরবার ছেলে চাই। নইলে বংশ রাখবে কে?"
বংশ। শব্দটা রহিমার কানে বাজত। বংশ মানে কী? বংশ মানে একটা ছেলে, যে বাবার নাম নেবে, বাবার জমি পাবে, বাবার কবরে মাটি দেবে। মেয়ে এসব করতে পারে না? রহিমা জানত, পারে। কিন্তু সমাজ মানে না। সমাজ মানে শ্বাশুড়ির মুখ, পাড়ার মহিলাদের ফিসফিস, শুক্রবারের নামাজের পর পুরুষদের আলোচনা। "রহিমার আবার মেয়ে হইছে।" এই একটা বাক্য, বারবার, বিভিন্ন মুখে, একই সুরে।
---
দ্বিতীয় মেয়ে হলো তিন বছর পর। নাম তাসনিয়া।
এবার শ্বাশুড়ির মুখ ভার হলো। শ্বশুর কিছু বললেন না, কিন্তু তাঁর চোখে একটা নিভে যাওয়া ছিল, যেন কেউ একটা বাতি ফুঁ দিয়ে নেভাল। রহিমার স্বামী করিম বাইরে থেকে এসে মেয়েকে কোলে নিল। হাসল। কিন্তু রাতে, যখন সবাই ঘুমিয়ে গেছে, রহিমা শুনল করিম একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সেই দীর্ঘশ্বাসটা রহিমার বুকে একটা সুই হয়ে ঢুকল। আজও বের হয়নি।
করিম খারাপ মানুষ না। মারে না। গালি দেয় না। সংসারের খরচ দেয়। কিন্তু সেই দীর্ঘশ্বাস? সেটা কার জন্য? মেয়ের জন্য? নাকি ছেলে না হওয়ার জন্য? রহিমা কখনো জিজ্ঞেস করেনি। কিছু প্রশ্নের উত্তর না জানাই ভালো। উত্তর জানলে সংসার টেকে না।
পাড়ার মহিলারা এবার সরাসরি বলল। হাসিনা বুবু, পাশের বাড়ির, বলল, "রহিমা, একটা আমল আছে। করলে ছেলে হয়।" জরিনা খালা বলল, "মাজারে যাও। মানত করো।" রোকেয়া আপা বলল, "ডাক্তার দেখাও। এখন চিকিৎসা আছে।"
রহিমা শুনল। চুপ করে শুনল। তারপর তাসনিয়াকে বুকে জড়িয়ে ধরল। ছোট্ট মেয়ে ঘুমাচ্ছে। নিঃশ্বাসের শব্দ। হালকা, তুলোর মতো। রহিমা ভাবল, এই নিঃশ্বাসের চেয়ে মূল্যবান কিছু নেই পৃথিবীতে। কিন্তু পৃথিবী ভাবে অন্যরকম।
---
তৃতীয়বার গর্ভবতী হলো রহিমা। শ্বাশুড়ি বললেন, "এইবার ছেলে হবে। আমি স্বপ্ন দেখেছি।" পাড়ার মহিলারা বলল, "পেটের আকৃতি দেখে মনে হচ্ছে ছেলে।" করিম কিছু বলল না। কিন্তু রহিমা দেখল, করিম নামাজের পর একটু বেশি সময় দোয়া করে। কার জন্য দোয়া? রহিমা জানে। জানে কিন্তু বলে না।
মেয়ে হলো। তৃতীয় মেয়ে। নাম রাখল সুমাইয়া।
সেদিন হাসপাতালে রহিমা একা ছিল। করিম বাইরে ছিল, ফোনে কাউকে বলছিল, "মেয়ে হইছে।" এটুকুই। "মেয়ে হইছে।" কোনো আনন্দ নেই গলায়, কোনো দুঃখও নেই। শুধু একটা তথ্য। যেন বলছে, "বৃষ্টি হইছে।" অথবা "বাজার বন্ধ।"
শ্বাশুড়ি হাসপাতালে এলেন না। পরদিন এলেন। মেয়েকে দেখলেন। কিছু বললেন না। শুধু রহিমার দিকে একটা দৃষ্টি দিলেন, যেটার মধ্যে অভিযোগ, হতাশা, আর একটু ঘৃণা মেশানো ছিল। রহিমা সেই দৃষ্টি চিনল। সেই দৃষ্টি সে আগেও দেখেছে। দ্বিতীয়বার। প্রথমবার এটা ক্ষমাপ্রার্থী ছিল, এবার এটা চূড়ান্ত।
করিমের বড় ভাই আসলেন। বললেন, "ভাই, আরেকবার চেষ্টা করো।"
করিমের ফুফু ফোন করলেন। বললেন, "এত মেয়ে দিয়ে কী হবে? যৌতুক দিতে গিয়ে সর্বনাশ হবে।"
করিমের বন্ধু মজিবর বলল, "ভাই, দ্বিতীয় বিয়ে করো। আইনে আছে।"
রহিমা সব শুনল। একটা একটা করে শব্দগুলো তার গায়ে এসে পড়ল, পাথরের মতো। কিন্তু রহিমা দাঁড়িয়ে রইল। পাথরের মতোই।
---
রহিমা একটা সিদ্ধান্ত নিল। চুপচাপ। কাউকে না বলে। সিদ্ধান্তটা এই: তার তিন মেয়েকে সে এমনভাবে মানুষ করবে যে একদিন এই পাড়া, এই শ্বশুরবাড়ি, এই সমাজ, সবাই দেখবে, ছেলে না থাকলে কী হয়, মেয়ে থাকলে কী হয়।
এটা প্রতিশোধ না। রহিমা প্রতিশোধ চায় না। এটা প্রমাণ। নিজেকে দেওয়া প্রমাণ। মেয়েদের দেওয়া প্রমাণ। যে তারা কম না। কোনোদিন কম ছিল না।
ফারিয়া স্কুলে ভর্তি হলো। প্রথম দিন রহিমা ফারিয়ার চুল বেঁধে দিল। নতুন ফিতা। নীল রঙ। ফারিয়া জিজ্ঞেস করল, "আম্মা, স্কুলে কী হয়?"
রহিমা বলল, "স্কুলে মানুষ হয়।"
ফারিয়া বুঝল না। পরে বুঝবে।
রহিমা প্রতিদিন রাতে মেয়েদের পড়াত। সে নিজে ক্লাস এইট পাস। বেশি পড়াশোনা জানে না। কিন্তু সে জানে, পড়াশোনা মেয়েদের একমাত্র অস্ত্র। এই সমাজে, যেখানে মেয়েদের কোনো জমি নেই, কোনো দোকান নেই, কোনো উত্তরাধিকার নেই, সেখানে একটাই জিনিস কেউ কেড়ে নিতে পারে না: মাথার ভেতরের জ্ঞান।
রহিমা রান্না করত, কাপড় কাচত, ঘর ঝাড়ু দিত, গরুকে খাওয়াত, শ্বাশুড়ির ওষুধ দিত, আর রাতে মেয়েদের পাশে বসে বই খুলত। ক্লান্ত শরীর। ঘুম আসত। চোখ বন্ধ হয়ে যেত। কিন্তু মেয়ে যখন বলত, "আম্মা, এটা বুঝতে পারছি না," তখন চোখ খুলে যেত। ক্লান্তি চলে যেত। একটা অদৃশ্য শক্তি আসত, যেটার উৎস রহিমা জানে না। হয়তো সেই দীর্ঘশ্বাস, করিমের সেই রাতের দীর্ঘশ্বাস, সেটাই জ্বালানি।
---
ফারিয়া পড়াশোনায় ভালো। ক্লাস ফাইভে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল। শ্বাশুড়ি বললেন, "মেয়েদের এত পড়ায়ে কী হবে? বিয়ে দিয়ে দাও।"
রহিমা বলল, "পড়বে।"
এক শব্দ। শ্বাশুড়ি চুপ করে গেলেন। রহিমার গলায় এমন কিছু ছিল সেদিন, যেটা শ্বাশুড়ি আগে শোনেননি। দৃঢ়তা না, একগুঁয়েমি না, ওসব নয়। একটা শান্ত নিশ্চয়তা। যেন রহিমা জানে, সে ঠিক কাজ করছে। এবং এই জানাটা কোনো যুক্তি থেকে আসেনি, এটা এসেছে তার হাড়ের ভেতর থেকে।
তাসনিয়াও ভালো পড়ত। গণিতে বিশেষ ভালো। সুমাইয়া ছোট, কিন্তু সে দিদিদের দেখে শিখত। তিন বোন একসাথে পড়ত, একসাথে খেলত, একসাথে ঝগড়া করত। রহিমা দেখত আর ভাবত, এই তিনটা মেয়ে আমার তিনটা রত্ন। কে বলে ছেলে ছাড়া সংসার হয় না? হয়। এই তো হচ্ছে।
কিন্তু সমাজ ক্ষমা করে না। ঈদে যখন পাড়ার সব পরিবার একসাথে বসত, কেউ না কেউ বলত, "করিম ভাই, ছেলে নেই?" করিম হাসত। জোর করে হাসত। রহিমা সেই হাসি চিনত। ভেতরে কষ্ট, বাইরে হাসি। করিমও শিকার এই সমাজের। সেও বন্দি।
একবার, একটা ওয়াজ মাহফিলে হুজুর বললেন, "সন্তান আল্লাহর দান। ছেলে হোক, মেয়ে হোক, সন্তুষ্ট থাকতে হবে।" রহিমা ভাবল, হুজুর ঠিকই বলেছেন। কিন্তু মাহফিল শেষে সেই হুজুরের কাছে একজন গেল, বলল, "হুজুর, আমার তিন মেয়ে, ছেলে নেই, কী আমল করব?" হুজুর একটা আমল বলে দিলেন।
রহিমা দেখল। শুনল। কিছু বলল না।
---
ফারিয়া এসএসসি পরীক্ষা দিল। ফলাফলের দিন রহিমা সারাদিন নামাজ পড়ল। সন্ধ্যায় ফারিয়া ফোন করল স্কুল থেকে।
"আম্মা!"
"কী হইছে?"
"জিপিএ ৫!"
রহিমার হাত থেকে ফোনটা পড়ে গেল। তারপর কুড়িয়ে নিল। হাত কাঁপছে।
"কত?"
"পাঁচ। জিপিএ পাঁচ। সব সাবজেক্টে এ প্লাস।"
রহিমা কাঁদল। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদল। রান্নাঘরে। হাতে হাতা। চুলায় তরকারি। ধোঁয়া উঠছে। রহিমা কাঁদছে। এই কান্না দুঃখের না। এই কান্না বিশ বছরের জমানো কথার কান্না, যেগুলো সে কখনো বলেনি। "আমার মেয়ে পারবে।" এটা সে জানত। কিন্তু জানা আর দেখা এক না।
করিম বাড়িতে এসে শুনল। চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর একটু হাসল। এবার আসল হাসি। জোর করা না। রহিমা সেই হাসি দেখল। বহু বছর পর এই হাসি দেখল। করিমের চোখে একটা ভেজা ভাব। করিম কিছু বলল না। কিন্তু সেই রাতে দীর্ঘশ্বাস ফেলল না।
পাড়ার মহিলারা এল। হাসিনা বুবু বলল, "তোর মেয়ে তো দেখি ভালো পড়ে!" যেন এটা একটা আশ্চর্যের বিষয়। যেন মেয়েদের ভালো পড়া অস্বাভাবিক। রহিমা হাসল। বলল, "মেয়েরা ভালো পড়ে। সুযোগ দিলে।"
---
তাসনিয়া ক্লাস নাইনে। গণিত অলিম্পিয়াডে জেলা পর্যায়ে প্রথম হলো। স্কুলের হেডমাস্টার ফোন করলেন, "আপনার মেয়ে অসাধারণ।" রহিমার ভালো লাগল। কিন্তু ভেতরে একটা ভয়ও কাজ করে সবসময়। মেয়ে বড় হচ্ছে। সুন্দর হচ্ছে। পাড়ায় চোখ আছে। বিয়ের প্রস্তাব আসবে। শ্বাশুড়ি বলবেন, "এত বড় মেয়ে ঘরে বসায়ে রাখলে লোকে কী বলবে?"
রহিমা প্রস্তুত। সে জানে কী বলবে। "পড়বে।" সেই এক শব্দ।
সুমাইয়া ক্লাস সিক্সে। সে আঁকতে ভালোবাসে। খাতার পাতায়, দেওয়ালে, মাটিতে। সুমাইয়া একদিন একটা ছবি আঁকল। তিনটা মেয়ে হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে। ওপরে অর্ধেক আকাশ। রহিমা ছবিটা দেখে জিজ্ঞেস করল, "এটা কী?"
সুমাইয়া বলল, "আমরা তিন বোন। আর ওটা আমাদের আকাশ।"
"অর্ধেক কেন?"
সুমাইয়া ভাবল। "বাকি অর্ধেক আম্মার।"
রহিমা ছবিটা দেওয়ালে লাগিয়ে রাখল। শ্বাশুড়ির ঘরের পাশের দেওয়ালে। শ্বাশুড়ি কিছু বললেন না।
---
একদিন, বাজার থেকে ফেরার পথে, রহিমার সাথে দেখা হলো পাড়ার সালেহা আপার। সালেহা আপার দুই ছেলে। বড় ছেলে ঢাকায়, কোনো খবর রাখে না। ছোট ছেলে মাদকাসক্ত। সংসার ভেঙে গেছে। সালেহা আপা একা থাকেন। চোখ ফোলা, মুখ রোগা।
সালেহা আপা বললেন, "রহিমা, তোর ভাগ্য ভালো। তিনটা মেয়ে। মেয়েরা মায়ের কাছে থাকে।"
রহিমা চুপ করে রইল। সালেহা আপার ছেলে আছে। দুটো। কিন্তু সালেহা আপা একা। রহিমার ছেলে নেই। কিন্তু রহিমা একা না। তিনটা মেয়ে তার চারপাশে। তিনটা ডানা।
রহিমা ভাবল, ছেলে থাকলেই যে সুখ, এটা কে বলেছে? কোন বই? কোন হাদিস? কোন আইন? না, এটা বলেছে অভ্যাস। শত শত বছরের অভ্যাস। অভ্যাস এমন একটা জিনিস, যেটাকে মানুষ সত্য মনে করে। কিন্তু অভ্যাস সত্য না। অভ্যাস শুধু অভ্যাস।
---
ফারিয়া এখন কলেজে। বিজ্ঞান বিভাগ। ডাক্তার হতে চায়। রহিমা জানে, ডাক্তারি পড়ার খরচ অনেক। করিমের আয় কম। কিন্তু রহিমা একটা কাজ শুরু করেছে। সে পাড়ার মহিলাদের সেলাই শেখায়। মাসে দুই-তিন হাজার টাকা আসে। এটুকু ফারিয়ার কোচিংয়ের খরচ।
রহিমার হাত সুই-সুতোয় অভ্যস্ত। ছোটবেলায় তার মা শিখিয়েছিল। মা বলত, "মেয়েদের হাতে একটা হুনর থাকতে হয়। কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।" মা ঠিক বলেছিল।
করিম এখন অন্য মানুষ। আগের করিম না। ফারিয়ার জিপিএ ৫ এর পর করিমের ভেতরে কিছু বদলেছে। সে এখন মেয়েদের নিয়ে কথা বলে বাইরে। গর্ব করে। "আমার বড় মেয়ে জিপিএ ৫ পাইছে।" "আমার মেঝো মেয়ে গণিতে জেলায় ফার্স্ট।" ছেলের কথা কেউ তোলে না আর। তুলতে পারে না। কারণ মেয়েদের কথা তুলতে হয় বেশি।
শ্বাশুড়ি মারা গেছেন গত বছর। মৃত্যুর আগে, হাসপাতালের বিছানায়, শ্বাশুড়ি রহিমার হাত ধরেছিলেন। কিছু বলেননি। শুধু হাত ধরেছিলেন। রহিমা বোঝে, সেটা কী ছিল। ক্ষমা? স্বীকৃতি? নাকি শুধু একটা বৃদ্ধার শেষ স্পর্শ? রহিমা জানে না। জানতেও চায় না। হাত ধরাটাই যথেষ্ট।
---
আজ সন্ধ্যায় রহিমা উঠানে বসে আছে। তিন মেয়ে ভেতরে পড়ছে। বাতাসে ধানের গন্ধ। আকাশে তারা উঠছে। রহিমা ভাবছে।
কে বলে ছেলে না থাকলে জীবন অসম্পূর্ণ? রহিমার জীবন অসম্পূর্ণ? তিনটা মেয়ে, তিনটা স্বপ্ন, তিনটা সম্ভাবনা। ফারিয়া ডাক্তার হবে। তাসনিয়া ইঞ্জিনিয়ার হবে। সুমাইয়া শিল্পী হবে। এরা কম? কার চেয়ে কম?
রহিমা জানে, সবাই বুঝবে না। এই পাড়ার সবাই বুঝবে না। এই দেশের সবাই বুঝবে না। কিন্তু কিছু মানুষ বুঝবে। ফারিয়া বুঝবে, যেদিন সে নিজে মা হবে। তাসনিয়া বুঝবে, যেদিন সে নিজের পায়ে দাঁড়াবে। সুমাইয়া বুঝবে, যেদিন সে তার ছবিতে পুরো আকাশ আঁকবে, অর্ধেক না।
রহিমা উঠে দাঁড়াল। ভেতরে গেল। মেয়েদের পাশে বসল। বই খুলল।
"আম্মা, তুমি ক্লান্ত। শুয়ে পড়ো।" ফারিয়া বলল।
রহিমা বলল, "ক্লান্ত হওয়ার সময় হয়নি।"
ফারিয়া হাসল। তাসনিয়া হাসল। সুমাইয়া আঁকতে আঁকতে মাথা তুলে হাসল।
রহিমার তিন মেয়ে। রহিমার তিন রত্ন।
যে বলে ছেলে নেই, তার চোখ নেই।