মানসিক রোগী

আমার মন অসুস্থ। কিন্তু এই দেশে মনের চিকিৎসা নেই।

পর্ব ২৯ · ১০ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-২০

লাবণ্য, ৩০। প্রথম সন্তানের পর ডিপ্রেশন। কেউ বোঝে না। পরিবারের রায়: "পাগল হয়ে গেছে।"

---

ছেলেটার জন্ম হলো ভোর চারটায়। বর্ষার রাত। বাইরে ঝমঝম বৃষ্টি। হাসপাতালের করিডোরে পানি জমেছে। লাবণ্যর স্বামী ফারুক বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। ডাক্তার বের হয়ে বললেন, "ছেলে হয়েছে। মা-ছেলে দুজনই ভালো আছে।"

ফারুক খুশি হলো। ফোন করল বাড়িতে, মাকে, বাবাকে, বন্ধুদের। "ছেলে হইছে!" সবাই খুশি। সবাই অভিনন্দন জানাল।

লাবণ্য ভেতরে শুয়ে ছিল। ছেলেটা বুকের ওপর। ছোট্ট, লাল, কুঁচকানো মুখ। চোখ বন্ধ। লাবণ্যর ভেতরে কিছু একটা হওয়ার কথা ছিল। আনন্দ? ভালোবাসা? মাতৃত্বের সেই পবিত্র অনুভূতি, যেটার কথা সবাই বলে? কিন্তু লাবণ্য কিছু অনুভব করল না। শূন্য। একটা বিশাল, ভারী শূন্যতা। যেন ভেতরে কেউ সব আলো নিভিয়ে দিয়েছে।

লাবণ্য ভাবল, ক্লান্তি। প্রসবের পর ক্লান্তি স্বাভাবিক। কাল ঠিক হয়ে যাবে।

কাল ঠিক হলো না। পরশু হলো না। এক সপ্তাহ। দুই সপ্তাহ। এক মাস। লাবণ্যর ভেতরের অন্ধকার কমল না। বাড়ল।

---

বাড়িতে ফিরে এল। শ্বশুরবাড়ি। গাজীপুরে। ফারুকের বাবা-মা একসাথে থাকেন। যৌথ পরিবার। লাবণ্যর ঘর দোতলায়। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে হয়। ছেলেকে কোলে নিয়ে সিঁড়ি ভাঙতে গেলে মাথা ঘোরে। পা কাঁপে।

ছেলের নাম রাখা হলো আদনান। আদনান কাঁদত। সব বাচ্চা কাঁদে। কিন্তু লাবণ্যর কাছে সেই কান্না ছিল একটা হাতুড়ি। প্রতিটা কান্না তার মাথায় পড়ত। ঠক। ঠক। ঠক। রাতে দুটোয় কান্না। ভোর চারটায় কান্না। সকাল ছয়টায় কান্না। লাবণ্য উঠত। দুধ খাওয়াত। কোলে নিত। হাঁটত। কিন্তু ভেতরে কিছু ছিল না। কোনো অনুভূতি ছিল না। যেন একটা মেশিন কাজ করছে। বোতাম টিপলে চলে। বন্ধ করলে থামে।

একদিন লাবণ্য আদনানকে দুধ খাওয়াচ্ছিল। জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল। আকাশ ধূসর। মেঘলা। লাবণ্যর মনে হলো, সে ওই মেঘের ভেতরে আটকে আছে। মেঘ কালো হচ্ছে, ঘন হচ্ছে, কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছে না। শুধু চাপ। ভারী, দমবন্ধ করা চাপ।

ফারুক সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফিরে দেখল, লাবণ্য বিছানায় শুয়ে আছে। আদনান পাশে কাঁদছে। রান্না হয়নি। ঘর এলোমেলো।

"লাবণ্য? কী হয়েছে?"

"কিছু না।"

"ছেলে কাঁদছে তো।"

"শুনতে পাচ্ছি।"

ফারুক আদনানকে কোলে নিল। লাবণ্যর দিকে তাকাল। বুঝতে পারল না কী হচ্ছে। লাবণ্য সবসময় হাসিখুশি ছিল। বিয়ের আগে। বিয়ের পর। গর্ভবতী থাকতেও। এখন কী হলো? ফারুক ভাবল, ক্লান্তি। বাচ্চার যত্ন করতে করতে ক্লান্ত। ঠিক হয়ে যাবে।

---

ঠিক হলো না।

দুই মাস পর লাবণ্য কাঁদতে শুরু করল। কারণ ছাড়া। হঠাৎ করে। রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। গোসলখানায় কাঁদছে। রাতে বিছানায় কাঁদছে। ফারুক জিজ্ঞেস করে, "কী হয়েছে?" লাবণ্য বলে, "জানি না।" সত্যিই জানে না। কান্নাটা আসে, ভেতর থেকে, একটা ঢেউয়ের মতো, আর সে ডুবে যায়।

শ্বাশুড়ি লক্ষ করলেন। "মেয়ের কী হইছে? সারাদিন কাঁদে। কাজকর্ম করে না। ছেলের দিকে তাকায় না।"

ফারুকের বোন শিল্পী এল। দেখল। বলল, "ভাবি, তুমি কি মন খারাপ? কেন?"

লাবণ্য বলতে চাইল। কিন্তু কী বলবে? "আমার ভেতরে অন্ধকার" বলবে? "আমার কিছু ভালো লাগে না" বলবে? "আমার নিজের ছেলেকে ধরতে ইচ্ছা করে না" বলবে? এটা কি বলা যায়? একজন মা তার নিজের সন্তানকে ধরতে চায় না, এটা কি কেউ বুঝবে? এটা কি কেউ ক্ষমা করবে?

লাবণ্য বলল, "কিছু না। ক্লান্ত।"

---

তিন মাস পর ফারুক তার মাকে বলল, "আম্মা, লাবণ্যকে ডাক্তার দেখাতে হবে।"

শ্বাশুড়ি বললেন, "ডাক্তার কেন? ওর শরীরে কিছু হয়নি। ওর মাথার সমস্যা।"

"মাথার সমস্যা মানে?"

"পাগল হয়ে গেছে।"

পাগল। শব্দটা ফারুকের কানে ঢুকল। পাগল। তার বউ পাগল? না, না, লাবণ্য পাগল না। লাবণ্য অসুস্থ। কিন্তু কোন অসুখ? ফারুক জানে না। ফারুক ইঞ্জিনিয়ার। গার্মেন্টসের ইঞ্জিনিয়ার। সে মেশিন বোঝে। সার্কিট বোঝে। মানুষের মন বোঝে না।

লাবণ্যর মা এলেন। দেখলেন। কাঁদলেন। তারপর বললেন, "আমি একটা তাবিজ নিয়ে আসব। হুজুরের কাছ থেকে।"

তাবিজ। লাবণ্যর মা বিশ্বাস করেন, জিনে ধরেছে। অথবা নজর লেগেছে। অথবা কেউ বান মেরেছে। এই ব্যাখ্যাগুলো সহজ। এই ব্যাখ্যাগুলো পুরোনো। এই ব্যাখ্যাগুলোর একটা সমাধান আছে: তাবিজ, পানি পড়া, ঝাড়ফুঁক। দুইশো টাকা। তিনশো টাকা। সামর্থ্যের মধ্যে।

মা তাবিজ নিয়ে এলেন। একটা কালো সুতোয় বাঁধা। লাবণ্যর বাহুতে বেঁধে দিলেন। বললেন, "এটা পরে থাকো। ইনশাআল্লাহ ভালো হয়ে যাবে।"

লাবণ্য তাবিজটার দিকে তাকাল। কালো সুতো। ভেতরে কী আছে? একটা কাগজ, যেটায় আরবিতে কিছু লেখা, যেটা লাবণ্য পড়তে পারে না। এই কাগজটা কি তার ভেতরের অন্ধকার সরাবে? এই সুতোটা কি তার মাথার চাপ কমাবে?

লাবণ্য জানে, না। কিন্তু মায়ের মনে কষ্ট দিতে চায় না। তাবিজ পরে রইল।

---

একদিন রাতে লাবণ্য বাথরুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করল। বসে রইল। মেঝেতে। ঠান্ডা মেঝে। টাইলসের ওপর। লাবণ্যর মনে হলো, সে একটা গর্তে পড়ে গেছে। গভীর, কালো, শেষ না হওয়া গর্ত। আর সেই গর্ত থেকে ওঠার কোনো উপায় নেই। সিঁড়ি নেই, দড়ি নেই, হাত বাড়ানোর কেউ নেই।

লাবণ্য কাঁপছিল। পুরো শরীর কাঁপছিল। না, ঠান্ডায় না। ভেতরের কিছু একটা কাঁপছিল, যেটার নাম সে জানে না।

ফারুক দরজায় নক করল। "লাবণ্য?"

কোনো উত্তর নেই।

"লাবণ্য, দরজা খোলো!"

লাবণ্য দরজা খুলল। ফারুক দেখল, লাবণ্য মেঝেতে বসে আছে। চোখ লাল। মুখ ফ্যাকাসে। ফারুক ভয় পেল। এই প্রথম ফারুক সত্যিকারের ভয় পেল।

পরদিন সকালে ফারুক অফিসে ছুটি নিল। লাবণ্যকে নিয়ে গেল জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে। শেরেবাংলা নগরে।

ডাক্তার পরীক্ষা করলেন। কথা বললেন। অনেকক্ষণ কথা বললেন। লাবণ্যকে জিজ্ঞেস করলেন, "কখন থেকে এরকম লাগছে?" লাবণ্য বলল, "বাচ্চা হওয়ার পর থেকে।" ডাক্তার মাথা নাড়লেন। বললেন, "পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন। বেশ গুরুতর।"

"চিকিৎসা?"

"ওষুধ আর থেরাপি। দুটোই দরকার। ওষুধ দিচ্ছি। আর সপ্তাহে একবার কাউন্সেলিং করতে হবে।"

"খরচ?"

"কাউন্সেলিং প্রতি সেশন দুই হাজার টাকা।"

দুই হাজার টাকা। সপ্তাহে একবার। মাসে আট হাজার। ফারুকের মাসিক বেতন চল্লিশ হাজার টাকা। ভাড়া, খাবার, বাচ্চার খরচ, বাবা-মায়ের ওষুধ, সব মিলিয়ে হাতে থাকে পাঁচ-ছয় হাজার। আট হাজার কোথায়?

ফারুক বলল, "শুধু ওষুধ দিলে হবে না?"

ডাক্তার বললেন, "ওষুধ লক্ষণ কমাবে। কিন্তু মূল সমস্যার জন্য থেরাপি দরকার। কিছু কথা বলতে হবে, শুনতে হবে, বুঝতে হবে। ওষুধ সব করতে পারে না।"

ফারুক ওষুধের প্রেসক্রিপশন নিল। থেরাপি নিল না। সামর্থ্য নেই।

---

ওষুধ খেতে শুরু করল লাবণ্য। একটু ভালো হলো। কান্না কমল। কিন্তু শূন্যতা রয়ে গেল। ওষুধ কান্না বন্ধ করে, কিন্তু ভালো লাগা দেয় না। লাবণ্যর ভেতরে একটা ধূসর জায়গা তৈরি হলো, যেটা কান্নাও না, হাসিও না। শুধু একটা থাকা। দিনের পর দিন শুধু থাকা।

আদনান বড় হচ্ছে। হামাগুড়ি দিচ্ছে। হাসছে। "মা-মা" বলছে। লাবণ্য শুনতে পায়। দেখতে পায়। কিন্তু সেই শব্দ, সেই হাসি, তার ভেতরে পৌঁছায় না। একটা কাচের দেওয়াল আছে মাঝখানে। সব দেখা যায়, শোনা যায়, কিন্তু ছোঁয়া যায় না।

ফারুক এখন অন্যরকম। আগে বুঝত না, এখন কিছুটা বোঝে। কিন্তু বোঝাটা পুরো না। ফারুক মাঝে মাঝে অধৈর্য হয়ে যায়। "তুমি চেষ্টা করো না। ভালো হতে চেষ্টা করো।" লাবণ্য চেষ্টা করে। কিন্তু ডিপ্রেশন চেষ্টায় সারে না। এটা ফারুক বোঝে না। এটা কেউ বোঝে না, যে নিজে ভোগেনি।

ফারুকের অফিসের এক সহকর্মী একদিন বলল, "ভাবি ভালো না? কী হয়েছে?"

ফারুক বলল, "ডিপ্রেশন।"

"ডিপ্রেশন মানে? মন খারাপ?"

"না, এটা মন খারাপ না। এটা একটা অসুখ।"

সহকর্মী হাসল। "ভাই, সবারই মন খারাপ হয়। নামাজ পড়ো। কোরান পড়ো। ঠিক হয়ে যাবে।"

ফারুক কিছু বলল না। কী বলবে? যে দেশে শরীরের রোগই ঠিকমতো চিকিৎসা পায় না, সেই দেশে মনের রোগ? মনের রোগ কি রোগ? নাকি দুর্বলতা? নাকি পাগলামি? নাকি জিনের আছর?

এই দেশে ১৮ কোটি মানুষ। মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদার আছে ৩০০ জনের কম। পুরো দেশে। একটা জেলায় একজনও নেই কোনো কোনো জায়গায়। থেরাপি? থেরাপি ঢাকায় পাওয়া যায়। মানিকগঞ্জে পাওয়া যায় না। সিরাজগঞ্জে পাওয়া যায় না। রংপুরে পাওয়া যায় না। শুধু ঢাকায়। আর ঢাকাতেও সেশন প্রতি দুই হাজার টাকা।

তাবিজ পাওয়া যায়। সব জায়গায়। দুইশো টাকায়।

---

লাবণ্যর মন অসুস্থ। লাবণ্য জানে। ডাক্তার জানেন। ওষুধের বোতলে লেখা আছে। কিন্তু এই জানাটা কোনো কাজে আসে না, যদি চিকিৎসা না পাওয়া যায়। জানা আর পাওয়ার মধ্যে একটা সমুদ্র। সেই সমুদ্রের নাম দারিদ্র্য। সেই সমুদ্রের নাম অজ্ঞতা। সেই সমুদ্রের নাম কুসংস্কার।

একদিন লাবণ্য আয়নার সামনে দাঁড়াল। নিজেকে দেখল। চোখের নিচে কালো দাগ। চুল এলোমেলো। মুখ ফ্যাকাসে। এটা কি সে? এটা কি সেই লাবণ্য, যে দুই বছর আগে হাসত, গান গাইত, রান্না করত আনন্দে, ফারুকের সাথে রাতে ছাদে বসে তারা দেখত?

সেই লাবণ্য কোথায় গেছে?

"আমি এখানে আছি," লাবণ্য আয়নাকে বলল। "আমি কোথাও যাইনি। আমি শুধু অসুস্থ। আমি ভালো হব।"

আয়না কিছু বলল না। আয়না শুধু দেখাল, যা আছে তা।

---

ছয় মাস পর। ওষুধ চলছে। থেরাপি হচ্ছে না। কিন্তু একটা জিনিস বদলেছে। ফারুক একটা বই কিনেছে। "পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন: একজন স্বামীর গাইড।" ইংরেজি বই। ফারুক ধীরে ধীরে পড়ছে। বুঝছে। বোঝার চেষ্টা করছে।

একদিন রাতে ফারুক বলল, "লাবণ্য, আমি জানি এটা তোমার দোষ না। এটা একটা অসুখ। তুমি ভালো হবে। আমি আছি।"

লাবণ্যর চোখ ভিজে গেল। অনেকদিন পর কেউ বলল, "তোমার দোষ না।" অনেকদিন পর কেউ বলল, "আমি আছি।" এই কথাগুলো ওষুধ না। কিন্তু এই কথাগুলো ওষুধের চেয়ে কম না।

আদনান এখন হাঁটতে শিখেছে। টলমল পায়ে। একদিন সে লাবণ্যর কোলে উঠে এসে গাল ছুঁয়ে দিল। ছোট্ট হাত। নরম। লাবণ্যর ভেতরে কিছু একটা নড়ল। সেই কাচের দেওয়ালে একটা ফাটল ধরল। ছোট্ট ফাটল। কিন্তু ফাটল।

লাবণ্য আদনানকে জড়িয়ে ধরল। প্রথমবার। অনেকদিন পর প্রথমবার নিজে থেকে জড়িয়ে ধরল।

---

লাবণ্য জানে, সে পুরো ভালো হয়নি। হয়তো পুরো ভালো হতে সময় লাগবে। হয়তো পুরো ভালো কোনোদিন হবে না। কিন্তু সে এখন জানে, সে পাগল না। সে অসুস্থ। আর অসুস্থতা আর পাগলামি এক না।

এই দেশে মনের চিকিৎসা নেই। শুধু মন্ত্র আছে। তাবিজ আছে। পানিপড়া আছে। "নামাজ পড়ো" আছে। "ভালো থাকার চেষ্টা করো" আছে। কিন্তু থেরাপি? কাউন্সেলিং? মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদার? সেগুলো ঢাকার বাইরে নেই। ঢাকাতেও সবার সামর্থ্যে নেই।

রাতে লাবণ্য ঘুমানোর আগে ওষুধ খায়। একটা সাদা ট্যাবলেট। পানি দিয়ে গেলে। তারপর আদনানের পাশে শোয়। আদনান ঘুমিয়ে গেছে। ছোট্ট বুক ওঠানামা করছে।

লাবণ্য ভাবে, এই ছেলেটা বড় হবে। স্কুলে যাবে। কলেজে যাবে। একদিন জিজ্ঞেস করবে, "আম্মা, তুমি কেমন ছিলে আমার ছোটবেলায়?"

লাবণ্য কী বলবে? সত্যি বলবে? বলবে, "আমি অসুস্থ ছিলাম। তোকে জড়িয়ে ধরতে পারতাম না। তোর কান্না শুনলে আমার মাথা ফেটে যেত। আমি তোকে ভালোবাসতাম, কিন্তু সেই ভালোবাসা আমার ভেতর থেকে বের হতে পারত না।"

নাকি মিথ্যা বলবে? "সব ঠিক ছিল। তুই বড় হয়েছিস, আমি খুশি ছিলাম।"

লাবণ্য জানে না। সেই দিনটা আসলে দেখা যাবে।

আপাতত, আজকের রাতটা পার করতে হবে। আজকের অন্ধকারটা সহ্য করতে হবে। কালকের সকালটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

আমার মন অসুস্থ। কিন্তু এই দেশে মনের চিকিৎসা নেই। শুধু মন্ত্র আছে।