বীরাঙ্গনা

দেশ স্বাধীন হয়েছে। আমি হইনি।

পর্ব ৩০ · ১০ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-২০

সখিনা, ৭২। একাত্তরের ধর্ষণ সারভাইভার। একটা সন্তান জন্ম দিয়েছিল। কেউ বিয়ে করেনি। একা সন্তান বড় করেছে। এখন বৃদ্ধা। যুদ্ধ শেষ হয়েছে একান্নটা বছর আগে। সখিনার যুদ্ধ শেষ হয়নি।

---

সখিনার বয়স যখন একুশ, তখন দেশে যুদ্ধ শুরু হলো। একাত্তর। মার্চ। পাকিস্তানি সেনারা ঢুকল গ্রামে। সখিনাদের গ্রাম নেত্রকোনার একটা হাওর অঞ্চলে। ধান আর পানি ছাড়া কিছু নেই। মানুষগুলো সাধারণ। মাছ ধরে, ধান কাটে, জীবন কাটায়।

সেই সাধারণ গ্রামে একদিন সন্ধ্যায় জিপ এল। বুটের শব্দ। রাইফেলের ঝনঝন। সখিনার বাবা পালাতে গিয়েছিলেন। গুলি খেলেন। বাড়ির উঠানে। সখিনার চোখের সামনে। মাটিতে পড়ে গেলেন। রক্ত। মাটিতে রক্ত। উঠানের মাটি লাল হয়ে গেল।

তারপর যা হলো, সেটা সখিনা বলতে পারে না। একান্নটা বছর পরেও বলতে পারে না। কিছু কথা মুখে আনা যায় না। কিছু স্মৃতি ভাষার বাইরে। সখিনা শুধু বলে, "ওরা আমাকে ঘরে নিয়ে গিয়েছিল। দুইদিন। তারপর চলে গিয়েছিল।"

দুইদিন।

দুইদিনে একটা মেয়ের সবকিছু শেষ হয়ে গেল। শরীর, সম্মান, ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন, সব। দুইদিন। আটচল্লিশ ঘণ্টা। একটা যুদ্ধের আটচল্লিশ ঘণ্টা।

---

যুদ্ধ শেষ হলো ডিসেম্বরে। দেশ স্বাধীন হলো। সখিনা তখন গর্ভবতী। ঘরে। একা। মা আছেন, কিন্তু মা কথা বলেন না। মায়ের চোখে একটা মরে যাওয়া আছে, যেটা বাবার মৃত্যুর পর থেকে। আর একটা লজ্জা আছে, যেটা মেয়ের "অসম্মান" এর পর থেকে।

গ্রামের লোকেরা জানে। সবাই জানে। ছোট গ্রাম। কিছু লুকানো যায় না। সখিনা বাড়ি থেকে বের হলে মানুষ তাকায়। ফিসফিস করে। "ওই মেয়ে। পাকিস্তানি সৈন্যরা..." বাক্য শেষ করে না। শেষ করতে হয় না। সবাই জানে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বললেন, এদের "বীরাঙ্গনা" বলতে হবে। যুদ্ধের বীর নারী। উনি বললেন, এরা লজ্জিত হবে না, সমাজ লজ্জিত হবে। উনি বললেন, এদের পুনর্বাসন করতে হবে, বিয়ে দিতে হবে, সম্মান দিতে হবে।

বঙ্গবন্ধু বললেন। সরকার শুনল। কিন্তু সমাজ? সমাজ শোনেনি।

সমাজ বলল, "নষ্ট মেয়ে।" সমাজ বলল, "ওকে কে বিয়ে করবে?" সমাজ বলল, "ওর পেটে পাকিস্তানির বাচ্চা।"

সখিনা সব শুনল। একটা একটা শব্দ। একটা একটা ছুরি।

---

সন্তান জন্ম নিল। একটা ছেলে। সখিনা ছেলেটার মুখের দিকে তাকাল। ছোট্ট মুখ। নিষ্পাপ। এই মুখে কার ছায়া? বাবার? কোন বাবার? সখিনা এই প্রশ্ন করল না নিজেকে। এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজেনি কোনোদিন। ছেলেটা তার। এটুকুই।

নাম রাখল মুক্তি। কেন এই নাম? কারণ দেশ মুক্ত হয়েছে। সখিনা হয়নি, কিন্তু দেশ হয়েছে। অন্তত সেটুকু।

মুক্তিকে নিয়ে সখিনার জীবন শুরু হলো। একা। কোনো স্বামী নেই। কোনো সম্পত্তি নেই। বাবা নেই। মা আছেন, কিন্তু মা অসুস্থ, শরীরে এবং মনে। সখিনা কাজ করতে শুরু করল। অন্যের বাড়িতে ধান ভানা। কাপড় কাচা। ঘর ঝাড়ু দেওয়া। যে কাজ পেল, সেটাই করল। মজুরি কম। কিন্তু মুক্তিকে খাওয়াতে হবে।

গ্রামের কেউ কেউ সাহায্য করত। চুপে চুপে। প্রকাশ্যে সাহায্য করলে সমাজ প্রশ্ন করত। "ওই মেয়েকে কেন সাহায্য করছ?" তাই চুপে চুপে। রাতের আঁধারে একটু চাল, একটু ডাল, একটু তেল। যেন দান না, যেন চোরাচালান।

একবার, সরকার থেকে বীরাঙ্গনাদের তালিকা করা হলো। ভাতা দেওয়া হবে। সখিনার নাম উঠল। ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হলো। সখিনা গেল। চেয়ারম্যান বললেন, "আপনাকে কিছু কাগজপত্র দিতে হবে।" সখিনার কোনো কাগজ নেই। জন্মসনদ নেই। বিয়ের সনদ তো নেই-ই। যুদ্ধের সময় কোনো ডকুমেন্ট হয়? ধর্ষণের কোনো রসিদ থাকে?

সখিনা ফিরে এল। ভাতা পেল না। অনেক পরে, বহু বছর পরে, সরকার নিয়ম সরল করল। তখন কিছু টাকা আসত মাসে। সেটুকুই।

---

মুক্তি বড় হলো। স্কুলে গেল। স্কুলে বাচ্চারা বলত, "ওর বাবা কে?" মুক্তি জানে না। মুক্তি মাকে জিজ্ঞেস করেছিল, একবার, ছোটবেলায়। "আম্মা, আমার বাবা কোথায়?"

সখিনা কী বলবে? সত্যি বলবে? একটা সাত বছরের ছেলেকে বলবে, তার জন্ম একটা ধর্ষণ থেকে? বলবে, তার বাবা একটা পাকিস্তানি সৈন্য, যার নাম-ও সখিনা জানে না, মুখ-ও মনে নেই, শুধু বুটের শব্দ মনে আছে, শুধু রাইফেলের গন্ধ মনে আছে?

সখিনা বলল, "তোমার বাবা যুদ্ধে মারা গেছেন।"

এটা মিথ্যা। কিন্তু এটা একটা মায়ের মিথ্যা। এই মিথ্যার চেয়ে পবিত্র আর কোনো মিথ্যা নেই।

মুক্তি বিশ্বাস করল। বড় হলো। পড়াশোনা করল। খুব বেশি পড়তে পারেনি। ক্লাস আট পর্যন্ত। তারপর কাজে লেগে গেল। ঢাকায় গেল। গার্মেন্টসে কাজ। মাসে কিছু টাকা পাঠায়।

মুক্তি কি জানে? সখিনা জানে না। হয়তো জানে। হয়তো কেউ বলে দিয়েছে। গ্রামে মানুষের মুখ আটকানো যায় না। কিন্তু মুক্তি কখনো আর জিজ্ঞেস করেনি। বড় হওয়ার পর কখনো বাবার কথা তোলেনি। এটা কি বোঝাপড়া? নাকি ভয়? নাকি ভালোবাসা? সখিনা জানে না।

---

সখিনার বয়স এখন বাহাত্তর। নেত্রকোনার সেই গ্রামে এখনো থাকে। একটা টিনের ঘর। একটা উঠান। সেই উঠান, যেখানে তার বাবার রক্ত পড়েছিল, সেই উঠান। মাটি বদলায়নি। মাটি কিছু ভোলে না।

সখিনা এখন হাঁটতে পারে কম। হাঁটু ব্যথা। কোমর ব্যথা। চোখে ছানি পড়েছে। শরীর শেষ হয়ে যাচ্ছে, যে শরীর একসময় যুদ্ধক্ষেত্র ছিল।

মাঝে মাঝে সরকারি লোকেরা আসেন। "বীরাঙ্গনা তালিকা হালনাগাদ।" কাগজে সই করতে হয়। ছবি তুলতে হয়। সখিনা সই করে। ছবি দেয়। বছরে একবার। রুটিন।

একবার একটা টিভি চ্যানেলের লোক এসেছিল। ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, লাইট। "আপনার গল্প শুনতে চাই। স্বাধীনতা দিবসে প্রচার হবে।"

সখিনা বলল, "কী বলব?"

"আপনার অভিজ্ঞতা। একাত্তরে কী হয়েছিল।"

সখিনা চুপ করে বসে রইল। অনেকক্ষণ। ক্যামেরা ঘুরছে। তারপর বলল, "আমি যুদ্ধে লড়িনি। যুদ্ধ আমার শরীরে লড়েছে।"

টিভির লোকেরা চলে গেল। প্রচার হলো কি না, সখিনা জানে না। টিভি দেখার সুযোগ নেই। বিদ্যুৎ থাকে না সবসময়।

---

প্রতি ডিসেম্বরে দেশে বিজয় দিবস হয়। পতাকা ওড়ে। র্যালি হয়। গান হয়। "জয় বাংলা" ধ্বনি। সখিনা ঘরে বসে থাকে। শোনে। দূর থেকে মাইকের আওয়াজ আসে। "আজ আমরা বিজয়ী..." "স্বাধীনতার সূর্য..."

সখিনা ভাবে, বিজয়। কার বিজয়? দেশের বিজয়। দেশ স্বাধীন হয়েছে। পতাকা আছে। সংবিধান আছে। সরকার আছে। বিজয় আছে।

কিন্তু সখিনা? সখিনা স্বাধীন হয়েছে? সখিনার যুদ্ধ শেষ হয়েছে?

না।

সখিনার যুদ্ধ প্রতিদিন চলে। প্রতিরাতে। স্বপ্নে বুটের শব্দ আসে। ঘুম ভেঙে যায়। অন্ধকারে তাকায়। কেউ নেই। শুধু পুরোনো স্মৃতি। পুরোনো, পচে যাওয়া, কিন্তু মরে না যাওয়া স্মৃতি।

গ্রামের মানুষের চোখে সখিনা এখনো "সেই মেয়ে।" একান্নটা বছর পরেও। নতুন প্রজন্ম হয়তো জানে না বিস্তারিত। কিন্তু পুরোনো প্রজন্ম মনে রাখে। গ্রাম মনে রাখে। মাটি মনে রাখে।

একবার, বছর দশেক আগে, একটা সংগঠন এসেছিল। "বীরাঙ্গনাদের সম্মাননা।" একটা অনুষ্ঠান। থানা পর্যায়ে। সখিনাকে নিয়ে যাওয়া হলো। মঞ্চে বসানো হলো। ফুল দেওয়া হলো। ক্রেস্ট দেওয়া হলো। ছবি তোলা হলো। একজন বক্তা বললেন, "বীরাঙ্গনারা আমাদের গর্ব। তাঁদের ত্যাগ আমরা ভুলিনি।"

সখিনা মঞ্চে বসে ছিল। ফুল হাতে। ক্রেস্ট কোলে। মানুষ হাততালি দিচ্ছে। সখিনা ভাবল, এরা হাততালি দিচ্ছে। কিন্তু এদের মধ্যে কেউ কি সখিনার পাশের বাড়িতে থাকে? কেউ কি জানে, রাতে সখিনার ঘুম ভেঙে যায়? কেউ কি জানে, সখিনা বাজারে গেলে মানুষ তাকায়? এই হাততালি কি সেই তাকানোর ক্ষতিপূরণ?

ক্রেস্টটা এখনো ঘরে আছে। দেওয়ালে ঝুলছে। ধুলো জমেছে। সখিনা মুছে না। মোছার কিছু নেই। যেমন আছে, তেমন থাকুক। স্মৃতির মতো। ধুলোর মতো।

---

সখিনা জানে, সে একা না। বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ নারী একাত্তরে ধর্ষিত হয়েছে। সংখ্যা নিয়ে তর্ক আছে। দুই লাখ বলা হয়। তিন লাখ বলা হয়। কেউ বলে কম, কেউ বলে বেশি। সংখ্যা নিয়ে তর্ক করে তারা, যারা সংখ্যা মাত্র। সখিনার কাছে সংখ্যা মানে কিছু না। সখিনার কাছে একটাই সংখ্যা: একটা শরীর। তার শরীর। একটা রাত। তার রাত।

এই দেশে একাত্তরের ইতিহাস পড়ানো হয়। স্কুলে। কলেজে। বইয়ে। মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বের কথা বলা হয়। শহীদদের কথা বলা হয়। কিন্তু বীরাঙ্গনাদের কথা? সেটা একটা অস্বস্তিকর অধ্যায়। সেটা মানুষ এড়িয়ে যায়। যেন সেটা হয়নি। যেন সেটা বলতে নেই।

সখিনা ভাবে, দেশ ইতিহাস মনে রাখে, কিন্তু ইতিহাসের সব পাতা পড়ে না। কিছু পাতা বন্ধ থাকে। সেই বন্ধ পাতাগুলোতে সখিনাদের কথা লেখা।

---

সখিনা একদিন উঠানে বসে ছিল। সন্ধ্যা। পশ্চিমে সূর্য ডুবছে। হাওরের পানিতে লাল রঙ। সুন্দর। সখিনা সৌন্দর্য দেখতে পায়। এটুকু তার আছে। যুদ্ধ সব নিয়ে গেছে, কিন্তু চোখ নিয়ে যায়নি। সন্ধ্যার আকাশ দেখার ক্ষমতা নিয়ে যায়নি।

মুক্তি ফোন করল। "আম্মা, কেমন আছ?"

"আছি।"

"কিছু লাগবে?"

"না। তুই ভালো থাক।"

"আম্মা..."

"কী?"

"কিছু না।"

মুক্তি কিছু বলতে চেয়েছিল। বলেনি। হয়তো "আমি জানি" বলতে চেয়েছিল। হয়তো "তুমি সাহসী" বলতে চেয়েছিল। হয়তো শুধু "আম্মা" বলতে চেয়েছিল, আর কিছু না। কিছু কিছু কথা "আম্মা" শব্দের ভেতরেই থাকে।

সখিনা ফোন রাখল। উঠানের দিকে তাকাল। সেই উঠান। সেখানে এখন একটা তুলসী গাছ। সখিনা নিজে লাগিয়েছে। অনেক বছর আগে। যেখানে বাবার রক্ত পড়েছিল, সেখানে। রক্তের ওপরে মাটি। মাটির ওপরে গাছ। গাছের ওপরে পাতা। পাতার ওপরে শিশির। জীবন চলে। রক্তের ওপর দিয়ে জীবন চলে।

সখিনা ভাবে, সে কি ক্ষমা করেছে? কাকে ক্ষমা করবে? যারা ধর্ষণ করেছিল, তাদের? তারা কোথায়? বেঁচে আছে কি না কে জানে। হয়তো পাকিস্তানে কোথাও বৃদ্ধ হয়ে আছে। হয়তো মরে গেছে। সখিনা তাদের মুখ মনে করতে পারে না। শুধু অন্ধকার মনে আছে। শুধু ব্যথা মনে আছে। মুখ মুছে গেছে। সময় কিছু কিছু জিনিস মুছে দেয়। কিন্তু সব মোছে না। ব্যথা মোছে না।

নাকি সমাজকে ক্ষমা করবে? যে সমাজ তাকে "নষ্ট মেয়ে" বলেছে? যে সমাজ তাকে বিয়ে দেয়নি? যে সমাজ তার ছেলেকে "পাকিস্তানির বাচ্চা" বলেছে? সেই সমাজ?

সখিনা ক্ষমা করেনি। ক্ষমা করার শক্তি নেই। ক্ষমা একটা বিলাসিতা। যে নারী একান্নটা বছর ধরে একা লড়েছে, তার কাছে বিলাসিতার সময় নেই।

---

রাতে সখিনা শুয়ে আছে। টিনের চালে বৃষ্টি পড়ছে। সেই একই শব্দ, একান্নটা বছর আগে যেমন ছিল। বৃষ্টি বদলায় না। বৃষ্টি সেই একই বৃষ্টি। শুধু মানুষ বদলায়। শুধু শরীর বদলায়। শুধু সময় বদলায়।

সখিনা চোখ বন্ধ করে। ঘুম আসে ধীরে। কখনো আসে, কখনো আসে না। আজ হয়তো আসবে। আজ হয়তো স্বপ্ন আসবে না। আজ হয়তো বুটের শব্দ আসবে না।

বৃষ্টি থামল। টিনের চালে শেষ কয়েক ফোঁটা পড়ল। টুপ। টুপ। তারপর নীরবতা। নেত্রকোনার রাতের নীরবতা গভীর। ঢাকার মতো না। এখানে রাত মানে রাত। অন্ধকার মানে অন্ধকার। ঝিঁঝিঁ পোকা ডাকে। দূরে শেয়াল ডাকে। হাওরের পানিতে মাছ লাফায়, ছলাৎ শব্দ হয়।

সখিনা এই শব্দগুলো চেনে। একান্নটা বছর ধরে চেনে। এই শব্দগুলো তার সাথে ছিল সেই রাতেও। যখন সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছিল, তখনো ঝিঁঝিঁ পোকা ডাকছিল। তখনো মাছ লাফাচ্ছিল। প্রকৃতি মানুষের কষ্টে থামে না। প্রকৃতি চলতে থাকে। মানুষও চলতে থাকে। সখিনাও চলেছে।

কিন্তু এলেও সখিনা সকালে উঠবে। যেমন উঠেছে একান্নটা বছর ধরে। প্রতিটা সকালে। প্রতিটা রাতের পর।

দেশ স্বাধীন হয়েছে। পতাকা আছে। সংবিধান আছে। সরকার আছে।

সখিনা স্বাধীন হয়নি।

সখিনার যুদ্ধ কখনো শেষ হয়নি।

আমি যুদ্ধে লড়িনি। যুদ্ধ আমার শরীরে লড়েছে। কিন্তু দেশ স্বাধীন হয়েছে। আমি হইনি।