কৃষক নারী
মাটি জানে না কে চাষ করে। মাটি শুধু যত্ন জানে।
১
জয়গুনের স্বামী মরেছে তিন বছর আগে।
সাপের কামড়। ধানক্ষেতে, সন্ধ্যায়, ফসল দেখতে গিয়ে। গোখরা। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শেষ। গ্রামের মানুষ বলেছিল, "কপাল।" জয়গুন কপালে বিশ্বাস করে না। জয়গুন বিশ্বাস করে ওই ধানক্ষেতের আলের ঝোপ কাটা হলে সাপ থাকত না। কিন্তু আল কে কাটবে? কার দায়িত্ব? কেউ জানে না, কেউ করে না। আর মানুষ মরলে বলে "কপাল।"
দুই বিঘা জমি। এটুকুই সম্বল। এটুকুই আছে। স্বামী করিম মিয়া ভালো চাষী ছিলেন। আমন, বোরো, সবজি, সব করতেন। দুই বিঘায় যা হওয়ার তার চেয়ে বেশি ফলাতেন। প্রতিবেশীরা বলত, "করিমের হাতে মাটি সোনা হয়।" জয়গুন পাশে থাকত, সাহায্য করত, কিন্তু প্রধান চাষী ছিলেন করিম।
করিম নেই। জমি আছে। দুটো ছেলে আছে, বড়টা ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করে, ছোটটা মাদ্রাসায় পড়ে। জমি দেখার কেউ নেই।
গ্রামের মানুষ বলেছিল, "জমি বর্গা দিয়ে দাও। কেউ চাষ করবে, আধা আধি ভাগ হবে।" জয়গুন ভেবেছিল। বর্গা দিলে আধা পাবে, নিজে করলে পুরো পাবে। আধা আর পুরোর মধ্যে তার দুই ছেলের ভবিষ্যৎ।
জয়গুন নিজে চাষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
২
করিমকে মনে পড়ে প্রতিদিন।
সকালে উঠে দেখে বিছানার ডান পাশ খালি, তখন মনে পড়ে। দুপুরে ভাত খেতে বসে দেখে থালা একটা, তখন মনে পড়ে। সন্ধ্যায় মাঠ থেকে ফিরে দরজায় দাঁড়ায়, কেউ জিজ্ঞেস করে না "কেমন হলো আজকে?", তখন মনে পড়ে।
করিম ভালো মানুষ ছিলেন। "ভালো" শব্দটা ক্লিশে হয়ে গেছে, কিন্তু করিমের ক্ষেত্রে এটা সত্য। জয়গুনকে মারেননি কোনোদিন, গালি দেননি, অন্য মেয়ের দিকে তাকাননি। গ্রামের মেয়েদের জিজ্ঞেস করলে এটুকুই "ভালো স্বামী" এর সংজ্ঞা। না মারা, না গালি দেওয়া। করিম এর চেয়েও বেশি ছিলেন। জয়গুনের কথা শুনতেন। জয়গুন যখন বলতেন, "এবার সরিষা লাগাও," করিম ভাবতেন, তারপর বলতেন, "তাই করি।" জয়গুনের মতামতের দাম ছিল। এটা বিরল।
করিম নেই। তিন বছর। সাপের কামড়ে মানুষ মরে, এটা গ্রামের বাস্তবতা। সাপের এন্টিভেনম থানা হাসপাতালে আছে, কিন্তু থানা হাসপাতাল বারো কিলোমিটার দূরে। রাস্তা খারাপ, রাতে অটো পাওয়া যায় না। করিমকে গরুর গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পৌঁছাতে পৌঁছাতে দেরি হয়ে গেছে।
জয়গুন কাঁদেনি সবার সামনে। ভেতরে কেঁদেছে। রাতে বালিশে মুখ গুঁজে কেঁদেছে। কিন্তু সকালে উঠে মুখ ধুয়ে জমিতে গেছে। কারণ ক্ষেতে ধান আছে, ধান কারো শোকের অপেক্ষায় থাকে না। ধান পাকলে কাটতে হয়। পাকা ধান ক্ষেতে রেখে দিলে পচে যায়। জয়গুন পচতে দেয়নি।
৩
"মেয়ে চাষ করে?"
এই প্রশ্ন জয়গুন প্রথম শুনেছিল সার কিনতে গিয়ে।
কৃষি উপকরণের দোকানে। দোকানদার ফজলু মিয়া চোখ বড় বড় করে তাকিয়েছিল। "আপনি নিজে চাষ করবেন? লাঙল দিতে পারবেন?"
জয়গুন বলেছিল, "লাঙলের দরকার নাই। পাওয়ার টিলার ভাড়া করব।"
ফজলু মিয়া হেসেছিল। সেই হাসি যেটায় সন্দেহ আছে। "পাওয়ার টিলার চালাতে পারবেন?"
"ভাড়ায় যে আসবে সে চালাবে। আমি বলব কোথায় চালাতে হবে।"
ফজলু মিয়া সার দিয়েছিল। কিন্তু কম দিয়েছিল। জয়গুন টের পেয়েছিল। পঞ্চাশ কেজির বস্তায় পঞ্চাশ কেজি নেই। জয়গুন বস্তা ওজন করিয়েছিল, পাশের হার্ডওয়্যারের দোকানের পাল্লায়। সাতচল্লিশ কেজি। তিন কেজি কম। জয়গুন ফিরে গিয়ে ফজলু মিয়াকে বলেছিল। ফজলু মিয়া বলেছিল, "ভুল হয়ে গেছে।" ভুল হয়নি। করিম বেঁচে থাকলে এই "ভুল" হতো না। মেয়ে বলে ঠকানো যায়, এই ধারণা।
জয়গুন তিন কেজি সার নিয়ে ফিরেছিল। তারপর থেকে প্রতিটা বস্তা ওজন করায়। প্রতিটা।
৪
প্রথম মৌসুম ছিল সবচেয়ে কঠিন।
বোরো ধান। জানুয়ারি থেকে মে। পাঁচ মাস। প্রতিটা দিন একটা যুদ্ধ। জমি তৈরি, চারা রোপণ, সেচ, সার, কীটনাশক, আগাছা পরিষ্কার, ফসল কাটা, মাড়াই, শুকানো, বিক্রি। প্রতিটা ধাপে জয়গুনকে একা সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
চারা রোপণের সময় শ্রমিক ভাড়া করেছিল। ছয়জন মেয়ে। গ্রামের। রোপণ মেয়েরাই করে, এটা চিরকালের নিয়ম। পুরুষরা জমি তৈরি করে, মেয়েরা রোপণ করে। কিন্তু জমি তৈরি, সেচ, সার দেওয়া, এগুলো পুরুষের কাজ বলে ধরা হয়। জয়গুন সেগুলোও করেছে।
সেচের পানি দেওয়ার জন্য শ্যালো মেশিন ভাড়া করতে হয়। মেশিনের মালিক হারুন। হারুন বলেছিল, "ভাবি, আপনি একা পারবেন না। কাউকে দিয়ে করান।" জয়গুন বলেছিল, "করাচ্ছি তো, আপনাকে দিয়ে।" হারুন চুপ হয়ে গিয়েছিল। ঠিকই করেছিল। পানি দিয়েছিল। কিন্তু ভাড়া একটু বেশি চেয়েছিল। জয়গুন জানত। জয়গুন দরদাম করেছিল। করিম যে দাম দিত, সেই দামেই নিয়েছিল।
প্রথম মৌসুমে ফলন হয়েছিল ১৬ মণ। দুই বিঘায়। বিঘাপ্রতি ৮ মণ। গ্রামের গড় ৭ থেকে ৯ মণ। মাঝামাঝি। খারাপ না। ভালোও না। কিন্তু প্রথমবারের জন্য, একা মেয়েমানুষ হিসেবে, এটা যথেষ্ট ছিল।
৫
দ্বিতীয় মৌসুমে জয়গুন একটা কাজ করেছিল যেটা গ্রামে কেউ করে না।
মাটি পরীক্ষা করিয়েছিল।
উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে বলেছিল, "আমার জমির মাটি পরীক্ষা করতে চাই।" অফিসের লোকেরা অবাক হয়েছিল। গ্রামের চাষীরা মাটি পরীক্ষা করায় না। চোখে দেখে, হাতে ধরে, অভিজ্ঞতায় বোঝে। কিন্তু জয়গুনের অভিজ্ঞতা কম। জয়গুন জানে মাটিতে কী দিতে হয় সেটা না জেনে দিলে অপচয় হয়। করিম অভিজ্ঞতায় জানত, জয়গুন বিজ্ঞানে জানতে চায়।
মাটি পরীক্ষার রিপোর্ট এসেছিল। নাইট্রোজেন কম, পটাশিয়াম যথেষ্ট, ফসফরাস মাঝামাঝি। জয়গুন সে অনুযায়ী সার দিয়েছিল। ইউরিয়া একটু বেশি, MoP কম, TSP স্বাভাবিক। ফজলু মিয়া অবাক হয়ে বলেছিল, "ভাবি, আপনি এত জানেন কীভাবে?" জয়গুন বলেছিল, "কৃষি অফিস থেকে জেনেছি।"
দ্বিতীয় মৌসুমে ফলন: ১৯ মণ। দুই বিঘায়। বিঘাপ্রতি সাড়ে ৯ মণ। গ্রামের গড়ের চেয়ে বেশি। প্রতিবেশী আবদুল করে ২ বিঘায় ১৫ মণ পেয়েছিল। জয়গুন পেয়েছিল ১৯।
আবদুল মুখ ভার করেছিল। কিছু বলেনি। বলার কিছু নেই। সংখ্যা কথা বলে।
৬
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আসেন মাঝে মাঝে।
ব্লক সুপারভাইজার। উপজেলা থেকে। গ্রামে আসেন, চাষীদের সাথে কথা বলেন, পরামর্শ দেন। নতুন জাতের বীজের কথা বলেন, আধুনিক পদ্ধতির কথা বলেন। কিন্তু উনি সবসময় পুরুষ চাষীদের কাছে যান প্রথমে। আবদুলের কাছে যান, রহমতের কাছে যান, ইদ্রিসের কাছে যান। জয়গুনের কাছে আসেন না।
একদিন জয়গুন নিজে গিয়েছিল। "স্যার, আমি জয়গুন, ওই দুই বিঘার মালিক। আমার জমিতেও আসবেন?"
ব্লক সুপারভাইজার একটু বিব্রত হয়েছিলেন। "হ্যাঁ, হ্যাঁ, আসব তো। আপনি তো... মানে... আপনি নিজে চাষ করেন?"
"হ্যাঁ।"
"একা?"
"একা।"
তিনি এসেছিলেন। জমি দেখেছিলেন। ফসল দেখেছিলেন। বলেছিলেন, "ভালো করেছেন। সারের মাত্রা ঠিক আছে।" তারপর বলেছিলেন, "আগামী মৌসুমে ব্রি ধান ৮৯ চেষ্টা করতে পারেন, ফলন বেশি।"
জয়গুন করেছিল। তৃতীয় মৌসুমে ব্রি ধান ৮৯ লাগিয়েছিল। ফলন: ২২ মণ। দুই বিঘায়। বিঘাপ্রতি ১১ মণ। গ্রামে সবচেয়ে বেশি।
এবার আবদুল এসেছিল জয়গুনের কাছে। "ভাবি, কী সার দিছেন? কী বীজ?" জয়গুন বলেছিল। সব বলেছিল। লুকায়নি। কারণ জয়গুন জানে জ্ঞান লুকালে জ্ঞান বাড়ে না।
৭
মাটি জানে না কে চাষ করে।
এই কথাটা জয়গুন বলেছিল ইউনিয়ন পরিষদের এক সভায়। কৃষি বিষয়ক আলোচনা। বেশিরভাগ পুরুষ। জয়গুন একমাত্র মহিলা চাষী। চেয়ারম্যান বলেছিলেন, "জয়গুন ভাবি একটু বলুন, মহিলা হিসেবে চাষে কী সমস্যা।"
মহিলা হিসেবে। এই শব্দটা জয়গুনকে খোঁচায়। চাষে সমস্যা আছে, কিন্তু সেটা মহিলা হওয়ার জন্য নয়। সেটা দাম না পাওয়ার জন্য, সেচের পানি না পাওয়ার জন্য, সারের দাম বাড়ার জন্য। এই সমস্যা পুরুষ চাষীরও।
কিন্তু কিছু সমস্যা আলাদা। মেয়ে চাষী হলে ভাড়া শ্রমিক বেশি টাকা চায়। মেয়ে চাষী হলে বাজারে ফসল বিক্রি করতে গেলে দালালরা কম দাম দেয়। মেয়ে চাষী হলে ব্যাংক থেকে কৃষি লোন পেতে বেশি কাগজ লাগে। মেয়ে চাষী হলে সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আসেন সবার শেষে।
জয়গুন বলেছিল, "মাটি জানে না কে চাষ করে। মাটি শুধু যত্ন জানে। আমি যত্ন করি, মাটি ফসল দেয়। মাটির কাছে আমি মেয়ে না পুরুষ, সেটা কোনো বিষয় না। বিষয় হলো মানুষের কাছে। মানুষ দেখে আমি মেয়ে, তাই ঠকায়, তাই এড়িয়ে যায়, তাই কম দাম দেয়। মাটি ঠকায় না। মাটি সৎ।"
সভায় চুপ হয়ে গিয়েছিল।
রাতে জয়গুন বারান্দায় বসে। সামনে ক্ষেত। অন্ধকারে ক্ষেত দেখা যায় না, কিন্তু জয়গুন জানে ক্ষেত আছে। দুই বিঘা। করিমের রেখে যাওয়া জমি। করিম মাটিতে মিশে গেছে, কিন্তু মাটি থেকে ফসল উঠছে। জয়গুনের হাতে।
জয়গুন মনে মনে বলে, "দেখেছ? আমিও পারি।" কাকে বলে? করিমকে? নিজেকে? নাকি সেই সব মানুষকে যারা বলেছিল "মেয়ে চাষ করে?"
জয়গুন হাসে। ক্লান্ত হাসি। গর্বের হাসি। একটু বিষাদের হাসি। কারণ প্রমাণ করতে হয় এটাই তো অন্যায়। পুরুষকে কেউ বলে না "প্রমাণ করো তুমি চাষ করতে পারো।" মেয়েকে বলে। মেয়ে প্রমাণ করে। আবার বলে। আবার প্রমাণ করে। এই বৃত্ত কবে শেষ হবে জয়গুন জানে না।
৮
বড় ছেলে ফারুক ঢাকা থেকে ফোন করে।
"আম্মা, জমি বেচে দেন। এত কষ্ট করে কী হবে? টাকাটা ব্যাংকে রাখেন, সুদে চলবে।"
জয়গুন বলে, "জমি বেচব না।"
"কেন?"
"তোর বাবা এই জমিতে ঘাম ঝরাইছে। আমিও ঝরাইতেছি। এই জমি আমার পরিচয়।"
ফারুক চুপ করে যায়। ফারুক বোঝে না। ফারুক ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করে, দশ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে মেশিনের সামনে। ফারুকের কাছে জমি মানে টাকা। জয়গুনের কাছে জমি মানে অস্তিত্ব।
জমি বেচলে জয়গুন কী হবে? বিধবা, জমিহীন, দুই ছেলের মা, যে অন্যের দয়ায় চলে। না। জয়গুন অন্যের দয়ায় চলবে না। জয়গুন নিজের জমিতে দাঁড়াবে, নিজের ফসল তুলবে, নিজের ভাত খাবে। এটাই মর্যাদা।
ছোট ছেলে রাসেল মাদ্রাসায় পড়ে। রাসেল বলে, "আম্মা, আমি পড়া শেষ করে আসব, তখন চাষ করব।" জয়গুন বলে, "তুই পড়, আমি চাষ করি। তুই শিখবি, আমি শেখাব। কিন্তু তুই শুধু চাষ করবি না, তুই শিক্ষিত চাষী হবি। মাটি পরীক্ষা করা জানবি, বীজ বুঝবি, বাজার বুঝবি।"
রাসেল হাসে। জয়গুনও হাসে। এই হাসি আগের হাসি থেকে আলাদা। এই হাসিতে ভবিষ্যৎ আছে।
রাতে জয়গুন বারান্দায় বসে। সামনে ক্ষেত। অন্ধকারে ক্ষেত দেখা যায় না, কিন্তু জয়গুন জানে ক্ষেত আছে। দুই বিঘা। করিমের রেখে যাওয়া জমি। করিম মাটিতে মিশে গেছে, কিন্তু মাটি থেকে ফসল উঠছে। জয়গুনের হাতে।
দূরে শেয়ালের ডাক। গ্রামের রাত। ঝিঁঝিঁ পোকা। ক্ষেতে বাতাস বইছে, ধানের শিষ দুলছে, সেই শব্দ শুনলে জয়গুনের মনে হয় ক্ষেত কথা বলছে। ক্ষেত বলছে, "আমি আছি। তুমি যত্ন করো, আমি ফসল দেব।"
জয়গুন মনে মনে বলে, "দেখেছ? আমিও পারি।" কাকে বলে? করিমকে? নিজেকে? নাকি সেই সব মানুষকে যারা বলেছিল "মেয়ে চাষ করে?"
কিন্তু মাটি জানে। মাটি শুধু যত্ন জানে।
৯
সকালে জয়গুন ক্ষেতে যায়।
খালি পায়ে। আলপথ দিয়ে। দুই পাশে ধান। বাতাসে ধানের শিষ দোলে। জয়গুন হাত দিয়ে ধানের শিষ ছোঁয়। শিষ ভারী, মানে ফসল ভালো হবে। শিষ হালকা হলে চিন্তা, ভারী হলে আশা।
মাঠে অন্য চাষীরা আছে। রহমত আছে, ইদ্রিস আছে, আবদুল আছে। তারা জয়গুনকে দেখে সালাম দেয়। "ভাবি, ফসল কেমন?" জয়গুন বলে, "ভালো। আল্লাহর রহমত।" তারা মাথা নাড়ে।
তিন বছর আগে এই মানুষগুলো বলেছিল "মেয়ে চাষ করে?" এখন জিজ্ঞেস করে "ফসল কেমন?" এই পরিবর্তনটুকু ছোট, কিন্তু জয়গুনের কাছে বিশাল। "মেয়ে চাষ করে?" থেকে "ফসল কেমন?" পর্যন্ত আসতে তিন বছর লেগেছে, তিনটা মৌসুম লেগেছে, তিনবার প্রমাণ করতে হয়েছে।
জয়গুন ক্ষেতের মাঝখানে দাঁড়ায়। চারদিকে সবুজ। আকাশ নীল। বাতাসে ধানের গন্ধ। এই গন্ধ করিমের গন্ধ। করিম এই ক্ষেতে ঘাম ঝরিয়েছেন, সেই ঘাম মাটিতে মিশেছে, সেই মাটি থেকে ফসল উঠছে। করিম আছেন এই মাটিতে।
জয়গুন মাটিতে হাত রাখে। মাটি ভেজা। মাটি উর্বর। মাটি তৈরি।
মাটি জানে না কে চাষ করে। মাটি শুধু যত্ন জানে।
এটুকুই যথেষ্ট।