সেক্স ওয়ার্কারের মেয়ে

আমার জন্ম পাপের না। আমার জন্ম একটা নারীর সাহসের।

পর্ব ৩৭ · ১০ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-২০

জুঁই নাম রাখেনি মা।

মা বলেছিল, "ফুলের নাম দে। যেন কেউ শুকাতে না পারে।" খালাম্মা রেখেছিল জুঁই। ছোট ফুল, সাদা, গন্ধ এত তীব্র যে রাত গভীরেও টের পাওয়া যায়। জুঁই ফুল লুকিয়ে থাকে পাতার আড়ালে, কিন্তু গন্ধ লুকানো যায় না। জুঁইও তাই। সে লুকিয়ে আছে, কিন্তু সে যে আছে, সেটা টের পাওয়া যায়।

ভোরে জুঁই নার্সিং কলেজে যায়। সাদা অ্যাপ্রন, সাদা জুতো, চুল বাঁধা, খাতা-কলম। ক্লাসে সামনের সারিতে বসে। প্রতিটা কথা লেখে। প্রতিটা ছবি আঁকে, শিরা, ধমনী, হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠ, ফুসফুসের বায়ুথলি। শরীরের মানচিত্র আঁকতে জুঁইর ভালো লাগে। শরীর কীভাবে কাজ করে, কীভাবে ভাঙে, কীভাবে সারে। শরীর নিয়ে জুঁই লজ্জিত নয়। শরীর একটা যন্ত্র। যন্ত্র ভালো-খারাপ হয় না। ব্যবহার ভালো-খারাপ হয়। কিন্তু যন্ত্র?

জুঁই ভাবে এসব। অনেক ভাবে। ক্লাস শেষে হোস্টেলে ফিরে বিছানায় শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে ভাবে।

দৌলতদিয়া।

নামটা মুখে আনে না জুঁই। কখনো না। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলে, "রাজবাড়ী।" এটা মিথ্যা না। দৌলতদিয়া রাজবাড়ী জেলায়। কিন্তু রাজবাড়ী বললে কেউ কিছু ভাবে না। দৌলতদিয়া বললে সবাই একটা জিনিসই ভাবে। সেই জিনিস। সেই পেশা। সেই জায়গা যেখানে নদীর পাড়ে মেয়েরা সারি সারি ঘরে বসে থাকে, আর পুরুষেরা আসে, যায়, আসে, যায়, চেনা-অচেনা, নাম জানা-না জানা।

জুঁইর মা সেখানে আছে। এখনো আছে। পঁয়ত্রিশ বছর বয়স, কিন্তু দেখলে মনে হয় পঞ্চাশ। শরীর ক্লান্ত, চোখের নিচে কালো, হাতে আঙুল শুকিয়ে গেছে। জুঁই ছোটবেলায় মাকে দেখেছে। ছয় বছর বয়স পর্যন্ত সেখানেই ছিল। ঘরের ভেতরের ঘরে। একটা পর্দার আড়ালে। মা বলত, "চোখ বন্ধ করে ঘুমা।" জুঁই চোখ বন্ধ করত, কিন্তু কান বন্ধ করতে পারত না।

ছয় বছর বয়সে মা জুঁইকে খালাম্মার কাছে পাঠিয়ে দিল। ফরিদপুরে। খালাম্মা স্কুলের আয়া, স্বামী রিকশাচালক। গরিব, কিন্তু ঘর আছে, ছাদ আছে, পর্দার আড়ালে লুকানোর দরকার নেই।

মা বলেছিল, "এটাকে মানুষ করো। আমি পারবো না।"

খালাম্মা কেঁদেছিল। জুঁইর মাও। জুঁই তখন বুঝত না কেন কাঁদছে। পরে বুঝেছে। একটা মা যখন নিজের সন্তানকে অন্যকে দিয়ে বলে "আমি পারবো না," তখন সেটা ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি না। সেটা সাহসের চূড়া। নিজের কাছে না রেখে দূরে দেওয়া, যেন ভালো থাকে, সেটা মায়ের সবচেয়ে কঠিন কাজ।

খালাম্মার বাড়িতে জুঁই বড় হলো।

খালাম্মার নিজের দুটো ছেলে। তারা জুঁইকে বোন মানে। পাড়ায় কেউ জানে না জুঁই আসলে কার মেয়ে। খালাম্মা বলে, "আমার ভাগ্নি। বোনের মেয়ে। বোন অসুস্থ, তাই আমার কাছে আছে।" অসুস্থ। এটাও এক ধরনের সত্যি। জুঁইর মা অসুস্থ, শুধু রোগটা শরীরের না, রোগটা সমাজের।

জুঁই পড়ালেখায় ভালো। শুধু ভালো না, সেরা। ক্লাসে প্রথম। প্রতি পরীক্ষায়। প্রতি বছর। শিক্ষকরা বলে, "জুঁই, তুই কোথা থেকে এই মেধা পেলি?" জুঁই হাসে। কোথা থেকে? মায়ের কাছ থেকে। মা মেধাবী ছিল। মা পড়তে চেয়েছিল। কিন্তু মায়ের বাবা মারা গেল, মায়ের মা অসুস্থ, টাকা নেই, আর একটা মেয়ের শরীর আছে। শরীর থাকলে বাংলাদেশে শেষ অস্ত্রটা সবসময় প্রস্তুত। কেউ শেখায় না, কিন্তু সবাই জানে।

SSC পরীক্ষা। জুঁই পড়ল দিনরাত। খালাম্মার বাড়িতে লোডশেডিং, মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়ল। চোখ লাল, শরীর ক্লান্ত, কিন্তু থামল না। কারণ জুঁই জানত: এই পরীক্ষাটা শুধু তার না। এই পরীক্ষাটা মায়ের। মা যেটা পারেনি, জুঁই সেটা করবে। মা যে দরজা দিয়ে ঢুকতে পারেনি, জুঁই সেই দরজা ভাঙবে।

রেজাল্ট: GPA 5.

খালাম্মা কাঁদল। ফোনে মাকে জানাল। মা কী বলল জুঁই শুনতে পায়নি। খালাম্মা শুধু বলল, "তোর মা বলেছে, জুঁই, তুই আমার প্রমাণ।"

প্রমাণ। কীসের প্রমাণ? যে একজন নারী যে কোনো অবস্থা থেকে একটা মানুষ তৈরি করতে পারে। যে জন্ম দিয়ে, শরীর দিয়ে, সবকিছু দিয়ে একটা মেয়েকে এতদূর আনা যায়। সেটার প্রমাণ।

জুঁইর একটা খাতা আছে।

সবুজ মলাটের, পুরোনো, খালাম্মা কিনে দিয়েছিল ক্লাস ফাইভে। সেই খাতায় জুঁই লেখে। কবিতা না, গল্প না, ডায়েরিও না ঠিক। লেখে যেটা মুখে বলতে পারে না। মায়ের কথা। দৌলতদিয়ার কথা। পর্দার অপরপাশের কথা।

একটা লেখা: "আম্মা ঘুমায় দুপুরে। কারণ রাতে ঘুমাতে পারে না। দুপুরে যখন ঘুমায়, মুখটা শান্ত থাকে। তখন আম্মাকে দেখলে মনে হয় কোনো সাধারণ মা, যে রান্না করে, বাচ্চাকে স্কুলে পাঠায়, সন্ধ্যায় গল্প বলে। কিন্তু সন্ধ্যা হলে আম্মার চোখ বদলে যায়। সেই চোখ আমি ভুলতে পারি না।"

আরেকটা: "আমি কি আম্মার মতো দেখতে? খালাম্মা বলে, হ্যাঁ। নাক আম্মার, চোখ আম্মার। তাহলে যারা আম্মাকে দেখে, তারা কি আমাকে দেখলে আম্মাকে মনে করবে? আমি কি আম্মার ছায়া? ছায়া হলে ছায়াটাকে কি আলাদা করা যায়?"

জুঁই এই খাতা কাউকে দেখায় না। হোস্টেলে বালিশের নিচে রাখে। রাতে বের করে, পড়ে, কখনো নতুন কিছু লেখে, কখনো পুরোনো লেখা মুছে দেয়। খাতাটা জুঁইর দ্বিতীয় মা। যেটা সব শোনে, কিছু বলে না।

নার্সিং কলেজে ভর্তির দিন খালাম্মা সাথে গেল।

ফর্মে লেখা: পিতার নাম। জুঁই কলম থামাল। পিতা? কে? জুঁই জানে না বাবা কে। মা বলেনি। জুঁই জিজ্ঞেসও করেনি। কিছু প্রশ্ন না করাই উত্তর। কিছু খালি জায়গা খালিই থাকা ভালো।

খালাম্মা বলল, "খালুর নাম লেখ। সমস্যা হবে না।" জুঁই লিখল। মনে একটু খচখচ করল। মিথ্যা লেখা। কিন্তু এটা কোন মিথ্যা? এটা বেঁচে থাকার মিথ্যা। এটা এগিয়ে যাওয়ার মিথ্যা। এই মিথ্যা না লিখলে জুঁই নার্স হতে পারবে না, রোগী দেখতে পারবে না, মায়ের মতো নারীদের সেবা করতে পারবে না। তাহলে এই মিথ্যা কি আসলে সত্যের চেয়ে সৎ?

ক্লাস শুরু হলো। অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, ফার্মাকোলজি, মাইক্রোবায়োলজি। জুঁই প্রতিটা বিষয়ে ডুবে গেল। শরীর বোঝা তার কাছে শুধু পড়াশোনা নয়, এটা মিশন। কারণ জুঁই জানে: মায়ের মতো নারীরা ডাক্তারের কাছে যায় না। লজ্জায়। ভয়ে। অবহেলায়। তাদের শরীরে ক্ষত থাকে যেগুলো কেউ দেখে না। তাদের রোগ থাকে যেগুলো কেউ শোনে না। জুঁই দেখবে। জুঁই শুনবে।

মাসে একবার মায়ের কাছে যায় জুঁই।

ফরিদপুর থেকে বাসে রাজবাড়ী, রাজবাড়ী থেকে দৌলতদিয়া। যাওয়ার সময় বুক ধড়ফড় করে। ফেরার সময় চোখ ভেজা থাকে। মাঝখানে যে কয়ঘণ্টা, সেটা জুঁইর জীবনের সবচেয়ে ভারী সময়।

মায়ের ঘরটা ছোট। একটা খাট, একটা আয়না, একটা পর্দা। জুঁই ঢুকলে মা উঠে দাঁড়ায়। মায়ের মুখে একটা হাসি থাকে যেটা আগে ছিল না। জুঁই আসলে হাসিটা আসে। জুঁই গেলে চলে যায়। হাসিটা ধার করা, কিন্তু আসল।

মা জিজ্ঞেস করে, "খাচ্ছিস?"

"হ্যাঁ, আম্মা।"

"পড়াশোনা?"

"ভালো।"

"কেউ কিছু বলে?"

"কী বলবে?"

"আমার কথা।"

"কেউ জানে না, আম্মা। কেউ জানবে না।"

মা চুপ করে যায়। তারপর বলে, "জানুক। আমি লজ্জিত না।"

জুঁই মায়ের দিকে তাকায়। মায়ের চোখে একটা আগুন আছে যেটা বাইরের মানুষ দেখলে চিনবে না। বাইরের মানুষ দেখে একজন পতিতা। জুঁই দেখে একজন সৈনিক। যে যুদ্ধ করেছে, প্রতিদিন, নিজের শরীর দিয়ে, নিজের মেয়েকে বাঁচানোর জন্য। সেই যুদ্ধে পদক নেই, সম্মান নেই, এমনকি স্বীকৃতিও নেই। কিন্তু জুঁই স্বীকৃতি।

হোস্টেলে রাতে মেয়েরা গল্প করে।

"তোর মা কী করে?"

"আমার মা... অসুস্থ। খালাম্মার কাছে থাকি।"

"বেচারা। মা অসুস্থ মানে তো খুব কষ্ট।"

জুঁই মাথা নাড়ে। হ্যাঁ, কষ্ট। কিন্তু কোন কষ্ট? মা অসুস্থ সেই কষ্ট, নাকি মায়ের পরিচয় লুকানোর কষ্ট? দুটোই। দুটো একসাথে বয়ে বেড়ানো ভারী। কিন্তু জুঁই ভার বইতে জানে। মা শিখিয়েছে।

একদিন ক্লাসে টিচার বললেন, "বাংলাদেশে যৌনকর্মীদের স্বাস্থ্যসেবা একটা অবহেলিত ক্ষেত্র। তাদের STI স্ক্রিনিং, মানসিক স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য, কিছুই ঠিকমতো হয় না।"

জুঁইর হৃদপিণ্ড দ্রুত চলল। এটা তার ক্ষেত্র। এটাই সে করবে। মায়ের মতো নারীদের জন্য। যাদের কেউ দেখে না, যাদের শরীর শুধু অন্যের ব্যবহারের জন্য, কখনো নিজের জন্য না, সেই শরীরগুলোর দেখভাল করবে জুঁই।

ক্লাসের পরে টিচারের কাছে গেল। "স্যার, আমি এই বিষয়ে কাজ করতে চাই। গ্র্যাজুয়েশনের পরে।"

টিচার তাকালেন। "কেন?"

জুঁই বলল, "কারণ... কারণ তারাও মানুষ।"

এটুকুই বলল। বাকিটা গিলে ফেলল।

খালাম্মার ফোন আসে রাতে।

"জুঁই, তোর মা ফোন করেছিল। জ্বর।"

জুঁইর বুক ধড়ফড়। "কত জ্বর?"

"জানি না। বলেছে শরীর কাঁপছে।"

জুঁই জানে: দৌলতদিয়ায় ডাক্তার সেভাবে যায় না। একটা সরকারি ক্লিনিক আছে, সেখানে কেউ যেতে চায় না, কারণ ক্লিনিকের লোকজন তাকায় এমনভাবে যেন রোগী না, অপরাধী। মায়ের মতো নারীরা অসুস্থ হলে নিজেরাই সারে, অথবা সারে না। ওষুধ কেনে ফার্মেসি থেকে, কী ওষুধ দরকার জানে না, ফার্মেসির লোক যা দেয় তা খায়। কখনো কাজ করে, কখনো করে না।

জুঁই ফোনে মাকে ডায়াল করে। মা ধরে।

"আম্মা, কেমন আছো?"

"ভালো।" মায়ের গলা ভাঙা।

"জ্বর কত?"

"মাপিনি।"

"ওষুধ খেয়েছো?"

"প্যারাসিটামল।"

জুঁই চোখ বন্ধ করে। সে এখন নার্সিং পড়ছে। সে জানে প্যারাসিটামল দিয়ে সব জ্বর সারে না। সে জানে পরীক্ষা লাগে, রক্ত পরীক্ষা, ইউরিন পরীক্ষা। কিন্তু মায়ের কাছে গিয়ে সেসব করানো মানে দৌলতদিয়ায় যাওয়া, আর দৌলতদিয়ায় যাওয়া মানে সেই জগতে ফিরে যাওয়া যেখান থেকে জুঁই পালিয়ে এসেছে।

"আম্মা, আমি আসছি।"

"আসিস না। পড়াশোনা করো।"

মায়ের চিরকালের উত্তর। আসিস না। আমি ঠিক আছি। তোর পড়াশোনা নষ্ট করিস না। মা নিজেকে বাঁচানোর চেয়ে মেয়েকে বাঁচানোটাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। সবসময়। জুঁই ফোন রাখে। বালিশে মুখ গোঁজে। কাঁদে না। কাঁদলে রুমমেট জিজ্ঞেস করবে কেন কাঁদছে। তখন কী বলবে? তাই কাঁদে না। ভেতরে ভেতরে পুড়ে যায়।

আম্মা শরীর দিয়ে আমাকে বড় করেছে। আমি জ্ঞান দিয়ে আম্মাকে মুক্ত করবো।

জুঁই এটা ডায়েরিতে লিখেছে। কেউ পড়েনি। কেউ পড়বে না। এটা জুঁইর নিজের সাথে নিজের চুক্তি। একটা মেয়ে আর তার মায়ের মধ্যে যে অদৃশ্য সুতো, সেই সুতোর গিঁটে বাঁধা প্রতিজ্ঞা।

মুক্ত করা মানে কী? দৌলতদিয়া থেকে বের করে আনা? হয়তো। একটা ঘর, একটা ছাদ, যেখানে পর্দার আড়ালে কিছু লুকাতে হয় না। কিন্তু মুক্তি শুধু জায়গা বদল না। মুক্তি হলো মায়ের চোখ থেকে সেই ছায়াটা সরানো, যেটা পনেরো বছর ধরে জমেছে, স্তরে স্তরে, প্রতিটা রাতের, প্রতিটা অচেনা মুখের, প্রতিটা অপমানের ছায়া।

জুঁই জানে সেটা কঠিন। হয়তো অসম্ভব। কিন্তু জুঁই তার মায়ের মেয়ে। আর তার মায়ের কাছে অসম্ভব শব্দটা কোনো অর্থ বহন করে না। কারণ তার মা প্রতিদিন অসম্ভব কাজ করেছে: বেঁচে থেকেছে।

জুঁইর ঘুম আসে না রাতে। সে চোখ খোলা রাখে। ছাদের দিকে তাকায়। ছাদে কিছু নেই। কিন্তু জুঁই দেখে। দেখে একটা ছোট ঘর, একটা পর্দা, একটা মেয়ে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে, আর তার মা পর্দার অপরপাশে আছে, আর পর্দার অপরপাশে একটা জগৎ আছে যেটা জুঁই ভুলতে চায়, কিন্তু পারে না, কারণ ভুলে গেলে মাকেও ভুলে যেতে হবে, আর মাকে ভোলা মানে নিজেকে ভোলা।

আমার জন্ম পাপের না। আমার জন্ম একটা নারীর সাহসের।

জুঁই এটা বিশ্বাস করে। পুরোপুরি। কারণ বিশ্বাস না করলে জুঁই দাঁড়াতে পারবে না। বিশ্বাস না করলে সকালে উঠে সাদা অ্যাপ্রন পরতে পারবে না। বিশ্বাস না করলে ক্লাসে সামনের সারিতে বসতে পারবে না।

জুঁই বিশ্বাস করে। আর বিশ্বাস করে বলেই, একদিন সত্যি হবে।