মাদকাসক্তের স্ত্রী
আমার স্বামী ইয়াবা খায়। আমি ভয় খাই। দুটোই নেশা। কিন্তু আমার নেশা বাঁচিয়ে রাখে।
১
পারুল রাতে তালা লাগায়।
দরজায় না। আলমারিতে। ছোট আলমারি, কাঠের, পুরোনো, একটা তালা, চাবি পারুলের ব্লাউজের ভেতরে। আলমারিতে কী আছে? টাকা। তিন হাজার দুইশো টাকা। এক সপ্তাহের সেলাইয়ের আয়। তিনটা থ্রি-পিস, দুটো ব্লাউজ, একটা বাচ্চার ফ্রক। প্রতিটা সেলাই পারুলের হাতে, প্রতিটা সুতো পারুলের চোখে।
তালা লাগানোর পরেও পারুল ঘুমায় না। কান পেতে থাকে। জামাল কখন আসবে। জামাল কোন অবস্থায় আসবে। জামালের চোখ কেমন থাকবে। জামালের চোখ দেখলেই পারুল বোঝে: খেয়েছে কিনা। ইয়াবা খেলে জামালের চোখ বড় হয়, পিউপিল ফুলে যায়, তাকালে মনে হয় চোখের ভেতরে চোখ নেই, শুধু গর্ত।
জামাল আসে। রাত এগারোটা। দরজা ধাক্কায়। পারুল খোলে। জামাল ঢোকে। ঘাম, সিগারেটের গন্ধ, আর অন্য কিছু, মিষ্টি ধরনের, রাসায়নিক, যেটা পারুল প্রথমে চিনত না কিন্তু এখন নাকে লাগলেই বুঝে যায়।
"টাকা আছে?"
প্রতিরাতের প্রথম বাক্য। সালাম নেই, খোঁজ নেই, বাচ্চারা কেমন আছে জিজ্ঞেস নেই। শুধু: টাকা আছে?
"নেই।"
জামাল তাকায়। সেই তাকানো। পারুল চেনে। সেই তাকানোর পরে কখনো চড়, কখনো ধাক্কা, কখনো চুলে ধরে টান। আজ কোনটা হবে বলা যায় না। ইয়াবার ডোজ কত ছিল সেটার ওপর নির্ভর করে।
"তালা খোল।"
"কোন তালা?"
"আলমারির।"
"আলমারিতে কিছু নেই।"
জামাল জানে মিথ্যা। পারুল জানে জামাল জানে। কিন্তু পারুল বলে। প্রতিরাতে বলে। কারণ না বললে তালা খুলতে হবে, আর তালা খুললে তিন হাজার দুইশো টাকা চলে যাবে, আর সেই টাকা গেলে মিতু আর সোহেলের স্কুলের বেতন হবে না, আর বেতন না হলে স্কুল তাদের বের করে দেবে, আর বের হলে তারা জামালের মতো হবে।
পারুল চড় খায়। বাঁ গালে। চামড়া জ্বলে। কিন্তু তালা খোলে না।
২
জামাল সবসময় এমন ছিল না।
বিয়ের সময় জামাল ভালো ছিল। অটোরিকশা চালাত। রোজগার করত। হাসত। পারুলকে শাড়ি কিনে দিত। মিতু হলো, জামাল আনন্দে কেঁদেছিল। সোহেল হলো, জামাল মিষ্টি বিলিয়েছিল।
কখন বদলাল? পারুল ঠিক বলতে পারে না। ধীরে ধীরে। প্রথমে রাতে দেরিতে আসত। তারপর সকালে ঘুম থেকে উঠত না। তারপর অটো চালানো বন্ধ হলো। তারপর বন্ধুরা আসত, ঘরে বসে কী যেন খেত, পারুল দেখত না, দেখতে দিত না। তারপর টাকা চাওয়া শুরু হলো। তারপর জিনিস বেচা শুরু হলো। প্রথমে টিভি গেল। তারপর ফ্যান। তারপর পারুলের স্বর্ণ, বিয়ের স্বর্ণ, মায়ের দেওয়া।
একদিন পারুল জিজ্ঞেস করল, "তুমি কী খাও?"
জামাল বলল, "ইয়াবা।"
সোজাসাপটা। কোনো লজ্জা নেই। কোনো ভয় নেই। যেন বলল, "ভাত খাই।" পারুলের জগৎ সেদিন উলটে গেল। উলটে গেল মানে ভেঙে পড়ল না। উলটে গেল মানে সবকিছু পরিষ্কার হলো। জামালের রাত জাগা, ঘাম, চোখের গর্ত, জিনিস বেচা, টাকা চাওয়া, সব এক সুতোয় বাঁধা পড়ল। ইয়াবা।
সেদিন থেকে পারুল দুটো জীবন যাপন শুরু করল। একটা বাইরের, যেটায় সে জামালের স্ত্রী, সংসারের মানুষ, পাড়ায় সালাম দেয়, হাসে। আরেকটা ভেতরের, যেটায় সে একজন প্রহরী, তালা পাহারা দেয়, টাকা লুকায়, বাচ্চাদের বাঁচায়।
৩
পারুল সেলাই শিখেছে পাশের বাড়ির সুফিয়া আপার কাছে।
সুফিয়া আপা বললেন, "তোমার হাত ভালো। সেলাই করো। টাকা আসবে।" পারুল মেশিন কিনল। কীভাবে? মায়ের কাছ থেকে ধার। মাকে বলল, "ব্যবসা করবো।" মা দিল পাঁচ হাজার। সেকেন্ডহ্যান্ড সেলাই মেশিন, জ্যাক কোম্পানি, পুরোনো কিন্তু চলে।
প্রথম সেলাই: পাশের বাড়ির ভাবির একটা ব্লাউজ। পারুল মাপ নিল, কাপড় কাটল, সেলাই করল। হাত কাঁপছিল। সুতো দুবার ছিঁড়ল। কিন্তু শেষে যখন ব্লাউজটা তৈরি হলো, পারুল হাতে ধরে দেখল, সোজা, সুন্দর, সেলাই দেখা যায় না। ভাবি খুশি হলেন। দিলেন দুইশো টাকা।
দুইশো টাকা। পারুলের প্রথম নিজের আয়। জামালের আয় না। জামালের দয়া না। নিজের। নিজের হাতের।
সেই দুইশো টাকা পারুল কোথায় রাখল? আলমারিতে না। আলমারি তখনো তালা ছাড়া ছিল। পারুল রাখল চালের বস্তার ভেতরে। জামাল চালের বস্তা ঘাঁটবে না। জামাল রান্নাঘরে ঢোকে না। রান্নাঘর পারুলের এলাকা, জামালের নয়।
তারপর থেকে পারুল প্রতিটা আয় লুকায়। চালের বস্তায়, ডালের কৌটায়, মরিচের বয়ামে, শাড়ির ভাঁজে, বালিশের কভারের ভেতরে। প্রতিটা লুকানোর জায়গা পারুলের মাথায় ম্যাপ করা। কতটুকু কোথায় আছে, সব মনে আছে। কাগজে লেখে না। কাগজ পেলে জামাল পড়বে। পারুলের হিসেব পারুলের মাথায়।
পরে তালা কিনল। আলমারিতে লাগাল। চাবি রাখে ব্লাউজের ভেতরে, শরীরের সাথে। শরীর থেকে আলাদা করে না। কারণ শরীর ছাড়া আর কোনো নিরাপদ জায়গা নেই এই ঘরে।
৪
জামাল যখন ভালো থাকে, তখন কাঁদে।
ইয়াবার ঘোর কাটলে, দুই-তিন দিন না খেলে, জামাল মানুষ হয়ে ফেরে। মিতুকে কোলে নেয়। সোহেলের মাথায় হাত রাখে। পারুলের দিকে তাকায়, চোখে পানি, বলে, "পারুল, আমি খারাপ।"
পারুল কিছু বলে না। কী বলবে? হ্যাঁ, তুমি খারাপ? সেটা তো জানেই। না, তুমি ভালো? সেটা মিথ্যা।
জামাল বলে, "ছেড়ে দেবো। এবার পাক্কা। আর খাবো না।"
পারুল গুনে রেখেছে। এটা সতেরোতম বার। সতেরোবার জামাল বলেছে "ছেড়ে দেবো।" সতেরোবার পারুল বিশ্বাস করেনি। প্রথম তিনবার করেছিল। প্রথমবার আনন্দে কেঁদেছিল, দ্বিতীয়বার আশায় হেসেছিল, তৃতীয়বার সন্দেহে চুপ ছিল। চতুর্থবার থেকে কিছুই অনুভব করেনি। অনুভব করা বন্ধ হয়ে গেছে। যেমন পানি জমে বরফ হয়, তেমনি পারুলের বিশ্বাস জমে পাথর হয়ে গেছে। পাথর গলে না।
কিন্তু পারুল থাকে। কেন? বাচ্চাদের জন্য। মিতু আট, সোহেল ছয়। তারা বাবাকে ভালোবাসে। বাবা যখন ভালো থাকে, তখন তাদের নিয়ে খেলে, গল্প বলে, হাসে। বাচ্চারা সেই বাবাকে চেনে। অন্য বাবাকে চেনে না। রাতের বাবা, চোখ-ফোলা বাবা, চড়-মারা বাবা, সেটা তাদের বাবা না। সেটা অন্য কেউ। পারুল চায় বাচ্চারা যেন শুধু ভালো বাবাকে মনে রাখে। তাই থাকে। তাই সহ্য করে। তাই তালা পাহারা দেয়।
৫
পারুলের ভয়ের রং নীল।
রাতে, অন্ধকারে, যখন জামাল বাইরে থাকে, পারুল জানালা দিয়ে আকাশ দেখে। আকাশ গাঢ় নীল, প্রায় কালো, কিন্তু নীল। সেই নীলে পারুল ভয় দেখে। ভয় কোনো শব্দ না, কোনো আঘাত না। ভয় হলো অনিশ্চয়তা। আজ রাতে কী হবে? জামাল আসবে? কোন রূপে আসবে? মারবে? জিনিস ভাঙবে? বাচ্চাদের সামনে চিৎকার করবে?
পারুল প্রতিটা সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুত থাকে। বাচ্চাদের আগেই ঘুমাতে দেয়। মশারি টাঙায়। দরজায় কাছ থাকে। আলমারির চাবি গুনে দেখে। টাকা আছে কিনা মনে করে। পালানোর পথ মাথায় রাখে: পেছনের দরজা, পাশের বাড়ি, সুফিয়া আপা।
আমার স্বামী ইয়াবা খায়। আমি ভয় খাই। দুটোই নেশা। কিন্তু আমার নেশা বাঁচিয়ে রাখে।
পারুল এটা মনে মনে বলে। কাউকে বলে না। কাকে বলবে? মাকে বলেছিল একবার। মা বলেছিল, "সহ্য কর। সংসার এমনই।" বাবা বলেছিল, "তুই আসলে তোকে কে রাখবে?" সুফিয়া আপা শোনেন, কিন্তু কী করবেন? থানায় গেলে পুলিশ বলবে, "ঘরের ব্যাপার।" ঘরের ব্যাপার। যেন ঘরের ভেতরে মানুষ ভাঙলে সেটা ব্যাপার না।
৬
মিতু একদিন জিজ্ঞেস করল, "আম্মা, বাবা কেন এমন করে?"
পারুল চুপ করে রইল। কী বলবে? বাবা অসুস্থ? হ্যাঁ, সেটাই সত্যি। মাদকাসক্তি একটা অসুখ। কিন্তু এই অসুখের ডাক্তার কে? এই অসুখের ওষুধ কে দেবে? এই অসুখের চিকিৎসা তো আগে স্বীকার করতে হয়, আর জামাল কখনো স্বীকার করবে না যে সে অসুস্থ, কারণ ইয়াবা তাকে বলে সে ঠিক আছে, ইয়াবা সবচেয়ে বড় মিথ্যুক।
পারুল বলল, "বাবা অসুস্থ। সুস্থ হবে।"
আরেকটা মিথ্যা। পারুলের মিথ্যার তালিকায় যোগ হলো। এই মিথ্যা মায়ের মিথ্যা। এই মিথ্যা বাচ্চাকে বাঁচানোর মিথ্যা। এই মিথ্যা ছাড়া মিতু রাতে ঘুমাতে পারবে না।
মিতু বলল, "আম্মা, বড় হয়ে আমি তোমাকে নিয়ে যাবো।"
পারুল হাসল। হাসিটা ভেজা ছিল।
"কোথায় নিয়ে যাবি?"
"এমন জায়গায় যেখানে বাবা আসতে পারবে না।"
পারুল মিতুকে জড়িয়ে ধরল। একটা আট বছরের মেয়ে মাকে বাঁচাতে চায়। এটা কোনো রূপকথা না। এটা বাংলাদেশ। এটা প্রতিটা ঘর যেখানে একটা মেয়ে তার মায়ের চোখের কালি দেখে বড় হয়, গালের দাগ দেখে বড় হয়, আর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে: আমি মাকে মুক্ত করবো।
৭
একদিন জামাল সেলাই মেশিনটা বেচে দিতে চাইল।
ডিলার আসল। দাম বলল। সাত হাজার। পারুলের কেনা মেশিন, পারুলের আয়ের উৎস, পারুলের শেষ অস্ত্র। জামাল বলল, "এটা বেচে দিলে সাত হাজার পাবো।" সাত হাজার মানে কয়েকদিনের ইয়াবা। সাত হাজার মানে পারুলের মাসের আয় শেষ।
পারুল দরজায় দাঁড়াল। দুই হাত দুই দিকে ছড়িয়ে। দরজা আটকাল।
"এটা যাবে না।"
জামাল তাকাল। সেই তাকানো। পারুল চেনে। এই তাকানোর পরে চড় আসে, ধাক্কা আসে। আজ কী আসবে?
"সর।"
"সরবো না।"
জামাল এগিয়ে এলো। হাত তুলল। পারুল নড়ল না। চোখ বন্ধ করল। চড় খেল। কিন্তু নড়ল না। দ্বিতীয় চড়। নড়ল না। জামাল ধাক্কা দিল। পারুল পড়ে গেল। কিন্তু উঠে আবার দরজায় দাঁড়াল।
ডিলার চলে গেল। কেউ এত ঝামেলা চায় না। জামাল চিৎকার করল, গালি দিল, ঘরের জিনিস ছুঁড়ল। তারপর বেরিয়ে গেল। পারুল মেঝেতে বসে পড়ল। গাল জ্বলছে। শরীর কাঁপছে। কিন্তু মেশিনটা আছে।
মেশিনটা আছে। এটাই জয়। ছোট জয়। কিন্তু জয়।
পারুল উঠল। মেশিনের সামনে বসল। প্যাডেলে পা রাখল। সুই চলল। সুতো চলল। কাপড় এগোলো। পারুল সেলাই করল। গালে চড়ের দাগ নিয়ে। চোখে পানি নিয়ে। কিন্তু হাতে সুতো নিয়ে।
৮
সোহেল একদিন জিজ্ঞেস করল, "আম্মা, তালাটা কেন?"
ছয় বছরের ছেলে। ছোট, কিন্তু চোখ বড়। সোহেল সব দেখে। দেখে আম্মা রাতে সেলাই করে। দেখে আম্মা টাকা লুকায়। দেখে আম্মা চাবি শরীরে রাখে। দেখে বাবা আসলে আম্মা ভয় পায়। বাচ্চারা সব দেখে। বড়রা ভাবে বাচ্চারা বোঝে না। বাচ্চারা বোঝে। শুধু ভাষায় বলতে পারে না।
পারুল বলল, "তালা দিলে জিনিস নিরাপদ থাকে।"
"কার কাছ থেকে নিরাপদ?"
পারুল চুপ করে রইল। কার কাছ থেকে? বাবার কাছ থেকে? সেটা কি একটা ছয় বছরের ছেলেকে বলা যায়? যে তার বাবাকে ভালোবাসে?
"চোরের কাছ থেকে।"
সোহেল মাথা নাড়ল। বিশ্বাস করল কিনা পারুল জানে না। কিন্তু সোহেল আর জিজ্ঞেস করল না। বাচ্চারা এমনই। যখন বুঝে উত্তরটা সত্যি না, তখন আর চাপায় না। নিজের ভেতরে রেখে দেয়। পরে বড় হলে বোঝে।
৯
পারুল সেলাই করে।
রাত দুইটা। জামাল ঘুমিয়ে পড়েছে। ইয়াবার ঘোর কেটে গেছে, শরীর ক্লান্ত, মেঝেতে পড়ে ঘুমাচ্ছে। পারুল মেশিনের সামনে বসে। মেশিনের আওয়াজ ছোট, ঘরঘর, জামালের ঘুম ভাঙবে না। পারুল প্যাডেল মারে, কাপড় এগোয়, সুই ওঠানামা করে, সুতো চলে।
এই সময়টা পারুলের। শুধু তার। রাত দুইটা থেকে ভোর পাঁচটা। তিন ঘণ্টা। জামাল ঘুমিয়ে, বাচ্চারা ঘুমিয়ে, পাড়া ঘুমিয়ে। পারুল জেগে। পারুলের মেশিন জেগে। দুজনে মিলে কাপড় থেকে জামা বানায়, জামা থেকে টাকা বানায়, টাকা থেকে ভবিষ্যৎ বানায়।
পারুল জানে না ভবিষ্যৎ কেমন হবে। জানে না জামাল সুস্থ হবে কিনা। জানে না মিতু সত্যিই তাকে নিয়ে যেতে পারবে কিনা। জানে না কতদিন এই তালা, এই লুকানো, এই ভয়, এই চড়, এই রাত জাগা চলবে।
কিন্তু একটা জিনিস জানে: সেলাই মেশিনটা তার। তালার চাবিটা তার। আলমারির ভেতরের টাকাটা তার। এই তিনটা জিনিস জামাল নিতে পারবে না। কারণ এই তিনটা জিনিস পারুলের শরীরে লুকানো, পারুলের হাতে গাঁথা, পারুলের মাথায় লেখা।
পারুল সেলাই করে। প্রতিটা সেলাই একটা শব্দ। প্রতিটা সুতো একটা বাক্য। পুরো জামাটা একটা চিঠি। কাকে লেখা? ভবিষ্যতের পারুলকে। যে পারুল হয়তো একদিন তালা খুলবে, কিন্তু আলমারি থেকে না, ঘর থেকে। যে পারুল হয়তো একদিন দরজা বন্ধ করবে, কিন্তু ভেতর থেকে না, বাইর থেকে।
সেদিন আসবে কিনা পারুল জানে না। কিন্তু সেলাই করে। কারণ সেলাই থামলে সব থামবে। আর পারুল থামতে রাজি না। পারুলের নেশা বাঁচিয়ে রাখে।