রোহিঙ্গা নারী

দেশ ছেড়ে এসেছি। এখানেও দেশ নেই। আমার দেশ কোথায়?

পর্ব ৪৪ · ১০ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-২০

ফাতেমা বেগম রাতে চোখ বন্ধ করলে মায়ানমার দেখে।

এটা স্বপ্ন না। এটা স্মৃতি। স্মৃতি আর স্বপ্নের মধ্যে পার্থক্য হলো, স্বপ্ন থেকে জেগে ওঠা যায়, স্মৃতি থেকে জেগে ওঠা যায় না। ফাতেমা বেগম জেগে থাকলেও মায়ানমার দেখে। রাখাইনের সবুজ পাহাড়, নদীর ধারে ঘর, মসজিদের মিনার, আম গাছের ছায়া। সবকিছু দেখে। সবকিছু শোনে। সবকিছু পায়, নাকে ধানক্ষেতের গন্ধ আসে, কানে আজানের ধ্বনি আসে।

তারপর আগুন দেখে। আগুন সব মুছে দেয়।

ত্রিশ বছর বয়সে ফাতেমা বেগমের জীবন দুই ভাগে ভাগ। ২০১৭-র আগে আর ২০১৭-র পরে। আগে একটা দেশ ছিল, একটা ঘর ছিল, একটা পরিবার ছিল যেখানে স্বামী ছিল। পরে একটা ক্যাম্প আছে, একটা তাঁবু আছে, তিনটা সন্তান আছে, স্বামী নেই।

নুরুল ইসলাম। ফাতেমার স্বামী। মাছ ধরত নদীতে। শান্ত মানুষ। কম কথা বলত। হাসত বেশি। সেই হাসি ফাতেমার মনে আছে, কিন্তু মুখটা ঝাপসা হয়ে আসছে বছরে বছরে। আট বছর হলো। মুখ ভুলে যাচ্ছে। গলার স্বর মনে আছে, কিন্তু কোন কথা বলত, সেটা গুলিয়ে যায়। ফাতেমার কোনো ছবি নেই নুরুলের। পালানোর সময় কিছু আনতে পারেনি। শুধু তিনটা বাচ্চাকে আনতে পেরেছিল। সেটাই যথেষ্ট। সেটাই অলৌকিক।

২০১৭-র আগস্ট। রাখাইনে আগুন জ্বলল।

সেনাবাহিনী এল। গ্রামে ঢুকল। ফাতেমার গ্রাম তুলা তলি। ছোট গ্রাম। পঞ্চাশটা ঘর। মসজিদ একটা। পুকুর একটা। সবাই সবাইকে চেনে। সবাই সবার সুখ-দুঃখ জানে।

সেদিন সকালে গুলির শব্দ পেয়েছিল ফাতেমা। দূরে। পাশের গ্রামে। তারপর কাছে আসতে লাগল। নুরুল বলল, "তুমি বাচ্চাদের নিয়ে পেছনের রাস্তা দিয়ে যাও। আমি আসছি।"

"তুমি কোথায় যাচ্ছ?"

"মসজিদে। অন্যদের বলতে হবে।"

"তুমি আসো আমার সাথে।"

"আমি আসছি, যাও।"

ফাতেমা গেল। বড় ছেলে ইউসুফকে পিঠে বেঁধে নিল, সে তখন পাঁচ। মেয়ে আমিনাকে কোলে নিল, সে তখন তিন। পেটে আরেকটা, সাত মাসের। পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে দৌড়াল। দৌড়ানো বলা ঠিক না, হামাগুড়ি দিয়ে, হেঁটে, পড়ে গিয়ে উঠে, আবার হেঁটে।

পেছনে ধোঁয়া দেখল। নিজের গ্রামের দিক থেকে।

নুরুল আসেনি।

তিন দিন পর, নাফ নদীর ধারে, একটা নৌকায় উঠল ফাতেমা। বাংলাদেশের দিকে। নৌকায় আরও চল্লিশজন মানুষ। সবার চোখে একই গল্প। সবার পেছনে একই আগুন।

নাফ নদী পার হতে দুই ঘণ্টা লেগেছিল। সেই দুই ঘণ্টা ফাতেমা পেছনে তাকিয়ে ছিল। মায়ানমারের দিকে। জানত, এটাই শেষবার। এই মাটি আর পায়ে পড়বে না। এই আকাশ আর মাথার ওপর থাকবে না।

কক্সবাজার। কুতুপালং ক্যাম্প। ব্লক ডি-৭।

একটা তাঁবু। তারপুলিনের। আকারে আট ফুট বাই দশ ফুট। এটাই ঘর। আট বছর ধরে এটাই ঘর।

ভেতরে একটা চাটাই। দুটো কম্বল। একটা প্লাস্টিকের বালতি। একটা হাঁড়ি। তিনটা প্লেট। তিনটা গ্লাস। একটা ছোট আয়না, যেটা ফাটা, কিন্তু ফেলে দেয়নি ফাতেমা। আয়না ফেলে দেওয়া মানে নিজেকে দেখা বন্ধ করে দেওয়া। ফাতেমা নিজেকে দেখতে চায়। নিজেকে মনে রাখতে চায়। কে সে, কোথা থেকে এসেছে, সেটা ভুলে গেলে সে আর কেউ না।

রেশন কার্ড আছে। প্রতি পনেরো দিনে চাল, ডাল, তেল, লবণ পায়। পরিমাণ কম। তিন বাচ্চার জন্য যা দেয়, সেটা দুই বেলা হিসাব করে রান্না করলে চলে। তিন বেলা চলে না। ফাতেমা দুবেলা খায়। বাচ্চাদের তিনবেলা দেয়।

পানি আনতে যেতে হয় ক্যাম্পের টিউবওয়েলে। সারিতে দাঁড়াতে হয়। কখনো এক ঘণ্টা। কখনো দেড় ঘণ্টা। রোদে। গরমে। ফাতেমা মাথায় কলসি নিয়ে দাঁড়ায়। অন্য মেয়েরাও দাঁড়ায়। কেউ কথা বলে, কেউ বলে না। কিছু চোখ এত কথা বলে যে মুখ দিয়ে আর বলার দরকার হয় না।

টয়লেট ভাগাভাগি। একটা ল্যাট্রিনে কুড়িটা পরিবার। রাতে যেতে ভয় লাগে। অন্ধকার। ক্যাম্পে রাতের অন্ধকারে কী হয়, সেটা ফাতেমা জানে। সবাই জানে। কেউ বলে না।

এনজিও আসে। বিভিন্ন এনজিও। বিভিন্ন নাম। বিভিন্ন প্রকল্প।

সেলাই শেখায়। হাতের কাজ শেখায়। হাইজিন ট্রেনিং দেয়। জেন্ডার ট্রেনিং দেয়। ফাতেমা সবকিছুতে যায়। যায় কারণ সেখানে গেলে একটু বিস্কুট পায়, বাচ্চাদের জন্য। যায় কারণ তাঁবুতে বসে থাকলে পাগল হয়ে যাবে। যায় কারণ অন্য মেয়েদের সাথে কথা বলতে পারে। কথা বললে ভারটা একটু হালকা হয়।

সেলাই শিখেছে। সুন্দর সেলাই করতে পারে। কিন্তু সেলাই করে কী হবে? কাপড় বিক্রি করার জায়গা নেই। ক্যাম্পের বাইরে যাওয়ার অনুমতি নেই। কাজ করার অনুমতি নেই। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে কাজ করার আইনি অধিকার নেই।

অধিকার। শব্দটা ফাতেমা শুনেছে অনেকবার। এনজিওর মেয়েরা বলে, "তোমাদের অধিকার আছে।" কীসের অধিকার? দেশে ফেরার অধিকার? সেটা মায়ানমার দেবে না। এখানে থাকার অধিকার? সেটা বাংলাদেশ দেবে না। কাজ করার অধিকার? সেটা কেউ দেবে না। পড়াশোনার অধিকার? ক্যাম্পে স্কুল আছে, কিন্তু সার্টিফিকেট দেয় না। সার্টিফিকেট ছাড়া পড়াশোনার মূল্য কী?

ফাতেমা জানে, তার জীবনে "অধিকার" শব্দটা একটা শব্দই। মুখে বলা যায়, কাগজে লেখা যায়, কিন্তু হাতে ধরা যায় না।

ইউসুফ এখন তেরো। ক্যাম্পের স্কুলে যায়। মায়ানমারের কারিকুলামে পড়ে, বার্মিজ আর ইংরেজি। বাংলাও শিখেছে কিছুটা, ক্যাম্পের বাচ্চাদের কাছ থেকে। ইউসুফ জিজ্ঞেস করে, "আম্মা, আমরা কবে দেশে ফিরব?"

ফাতেমা বলে, "জানি না, বাবা।"

"আমাদের দেশ কোনটা?"

এই প্রশ্নটা ফাতেমার বুকে ছুরির মতো ঢোকে। ইউসুফ পাঁচ বছর বয়সে মায়ানমার ছেড়ে এসেছে। তার কিছু মনে আছে, কিছু নেই। সে মনে করতে পারে একটা নদী, একটা নৌকা, আগুনের গন্ধ। কিন্তু ঘরটা মনে নেই। বাবার মুখটা মনে নেই। মসজিদটা মনে নেই। ইউসুফের দেশ একটা অস্পষ্ট স্মৃতি, একটা ঝাপসা ছবি, যেটা দিনে দিনে আরও ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে।

আমিনা এগারো। সে মায়ানমার একটুও মনে করতে পারে না। সে জানে সে রোহিঙ্গা, মায়ানমার থেকে এসেছে, কিন্তু সেটা তার কাছে একটা তথ্য, একটা অনুভূতি না। আমিনার দেশ এই ক্যাম্প। এই তাঁবু। এই টিউবওয়েলের সারি। এই রেশন কার্ড। আমিনা অন্য কিছু জানে না।

আর ছোটটা। মরিয়ম। আট বছর। মরিয়ম ক্যাম্পে জন্মেছে।

মরিয়মের জন্ম হয়েছিল ক্যাম্পের মেডিকেল সেন্টারে।

ফাতেমা যখন নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে এসেছিল, পেটে সাত মাসের সন্তান। দুই মাস পর মরিয়ম জন্মেছিল। ক্যাম্পে। তাঁবুর পাশের মেডিকেল তাঁবুতে। একজন মিডওয়াইফ ছিল, এনজিওর। সে ধরেছিল। মরিয়ম কেঁদে উঠেছিল, আর ফাতেমাও কেঁদেছিল। কিন্তু আলাদা কান্না। মরিয়মের কান্না জীবনের প্রথম ঘোষণা: আমি এসেছি। ফাতেমার কান্না একটা প্রশ্ন: এই শিশু কোন দেশের?

মরিয়মের জন্ম সনদ নেই। আছে একটা রেজিস্ট্রেশন কার্ড, ইউএনএইচসিআর দেওয়া। সেই কার্ডে লেখা: "Myanmar National, Refugee." মায়ানমারের নাগরিক। কিন্তু মায়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিক মানে না। মায়ানমারের আইনে রোহিঙ্গারা নাগরিক না। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনে রোহিঙ্গারা বাদ। মানে মরিয়ম মায়ানমারের নাগরিক না।

বাংলাদেশের নাগরিক? না। বাংলাদেশে জন্মালেই বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া যায় না। বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনে রক্তের বন্ধন লাগে, মানে বাবা-মা বাংলাদেশি হতে হবে। ফাতেমা বাংলাদেশি না। নুরুল বাংলাদেশি ছিল না।

তাহলে মরিয়ম কোন দেশের?

কোনো দেশের না।

আট বছরের একটা মেয়ে। জন্মের পর থেকে একটাও দেশ তাকে নিজের বলেনি। মায়ানমার তাকে চায় না। বাংলাদেশ তাকে রাখতে চায় না। পৃথিবীর ১৯৫টা দেশের কোনোটাতেই মরিয়মের ঠিকানা নেই।

ফাতেমা মরিয়মের মাথায় হাত বোলায়। মরিয়ম জিজ্ঞেস করে, "আম্মা, আমি কি বাঙালি?"

ফাতেমা বলে, "না, মা। তুই রোহিঙ্গা।"

"রোহিঙ্গা মানে কী?"

কী বলবে ফাতেমা? রোহিঙ্গা মানে একটা জাতি যাদের কোনো দেশ নেই? রোহিঙ্গা মানে পৃথিবীর সবচেয়ে নির্যাতিত সংখ্যালঘু? রোহিঙ্গা মানে শরণার্থী, চিরকাল?

ফাতেমা বলে, "রোহিঙ্গা মানে আমরা।"

ক্যাম্পে দিনগুলো একই রকম।

সকালে উঠে রান্না। বাচ্চাদের খাওয়ানো। ইউসুফকে স্কুলে পাঠানো। আমিনাকে সেলাই ক্লাসে পাঠানো। মরিয়মকে সাথে রাখা। পানি আনা। কাপড় ধোয়া। রেশন সংগ্রহ। বিকেলে আবার রান্না। সন্ধ্যায় তাঁবুতে বসে থাকা। রাতে শোয়া।

পরিবর্তন নেই। আগামীকাল আজকের মতো। পরশু আগামীকালের মতো। সপ্তাহ, মাস, বছর, সব এক। সময় এখানে থেমে গেছে। বাইরের পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু ক্যাম্পের ভেতর সময় একটা বৃত্ত, ঘুরে ঘুরে একই জায়গায় ফিরে আসে।

ফাতেমার বয়স ত্রিশ। আরও ত্রিশ বছর বাঁচলে? আরও ত্রিশ বছর এই তাঁবুতে? এই রেশন কার্ডে? এই টিউবওয়েলের সারিতে? ফাতেমা সেটা ভাবতে পারে না। ভাবলে ভেতরে কিছু ভেঙে যায়। তাই ভাবে না। আজকের দিনটুকু পার করে। কালকের কথা কাল।

রাতে ফাতেমা তাঁবুর দরজা খুলে বাইরে বসে।

ক্যাম্পের রাত। দূরে দূরে আলো জ্বলছে, সোলার ল্যাম্পের আলো, এনজিওগুলো দিয়েছে। কোথাও একটা শিশু কাঁদছে। কোথাও কেউ কথা বলছে, ফিসফিস করে। ক্যাম্পের রাতে সবাই ফিসফিস করে। চিৎকার করলে কী হবে? কে শুনবে?

ফাতেমা আকাশের দিকে তাকায়। তারা দেখা যায়। মায়ানমারেও এই তারা দেখা যেত। একই তারা। একই আকাশ। কিন্তু সেই আকাশের নিচে ফাতেমার একটা ঘর ছিল। একটা দেশ ছিল। এই আকাশের নিচে কিছু নেই। একটা তাঁবু, একটা রেশন কার্ড, আর তিনটা সন্তান।

দেশ ছেড়ে এসেছি। এখানেও দেশ নেই। আমার দেশ কোথায়?

ফাতেমা জানে না। কেউ জানে না। দশ লাখ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আছে, কেউ জানে না তাদের দেশ কোথায়। মায়ানমার বলে, "তোমরা আমাদের না।" বাংলাদেশ বলে, "তোমরা এখানে অস্থায়ী।" জাতিসংঘ বলে, "আমরা কাজ করছি।" কাজ চলছে। বছরের পর বছর। কিন্তু কোনো সমাধান আসে না। রোহিঙ্গারা অপেক্ষা করে। অপেক্ষাই তাদের জীবন।

মরিয়ম আজ ক্যাম্পের একটা অনুষ্ঠানে গান গাইল।

এনজিও আয়োজন করেছিল। শিশুদের জন্য। মরিয়ম রোহিঙ্গা ভাষায় একটা গান গাইল। পুরোনো গান। ফাতেমা শিখিয়েছিল। ফাতেমার মা তাকে শিখিয়েছিল। তার মায়ের মা তাকে।

গানটা একটা লোরি। বাচ্চাকে ঘুম পাড়ানোর গান। "ঘুম আয়, ঘুম আয়, চান্দের কোলে ঘুম আয়।" রোহিঙ্গা ভাষায়। শব্দগুলো অন্য, সুরটা একই, সব মায়ের গলায় একই সুর।

মরিয়ম গাইল। পরিষ্কার গলায়। ছোট মেয়ে। আট বছর। তাঁবুতে জন্ম। কোনো দেশ নেই। কিন্তু গান আছে। ভাষা আছে। মায়ের শেখানো গান আছে।

ফাতেমা শুনল। চোখ ভিজে গেল। এই গানটুকুই সে দিতে পেরেছে মেয়েকে। দেশ দিতে পারেনি। নাগরিকত্ব দিতে পারেনি। ভবিষ্যৎ দিতে পারেনি। কিন্তু গান দিয়েছে। ভাষা দিয়েছে। স্মৃতি দিয়েছে যেটা মরিয়মের নিজের না, ফাতেমার, ফাতেমার মায়ের, তার আগের প্রজন্মের। এই গান যতদিন থাকবে, রোহিঙ্গা ততদিন থাকবে। দেশ না থাকলেও।

১০

ফাতেমা তাঁবুতে ফিরে বাচ্চাদের ঘুম পাড়ায়।

তিনটা শরীর একটা চাটাইয়ে। গায়ে কম্বল। বাইরে বাতাস। তারপুলিন নড়ছে। ক্যাম্পের শব্দ ধীরে ধীরে কমে আসছে।

ফাতেমা মরিয়মের মাথায় হাত রাখে। মেয়ে ঘুমিয়ে গেছে। ছোট মুখ। শান্ত।

সে কোন দেশের? মায়ানমার তাকে চায় না। বাংলাদেশ তাকে রাখতে চায় না। পৃথিবী তাকে দেখে, কিন্তু জায়গা দেয় না।

ফাতেমা চোখ বন্ধ করে। আজ রাতেও মায়ানমার দেখবে। আগুনের আগের মায়ানমার। সবুজ পাহাড়। নদীর ধার। নুরুলের হাসি।

কিন্তু সকালে উঠে আবার ক্যাম্প। আবার রেশন। আবার সারি। আবার অপেক্ষা।

ফাতেমা অপেক্ষা করে। কিসের জন্য? দেশে ফেরার জন্য? সেটা কি হবে? নতুন দেশের জন্য? সেটা কোথায়? ন্যায়বিচারের জন্য? সেটা কে দেবে?

ফাতেমা জানে না। শুধু জানে, কাল সকালে আবার উঠতে হবে। বাচ্চাদের ভাত রান্না করতে হবে। পানি আনতে হবে। বেঁচে থাকতে হবে।

বেঁচে থাকাটাই প্রতিরোধ। এটুকুই ফাতেমার কাছে আছে। এটুকুই সে করে।