ডিভোর্সের পর উদ্যোক্তা

আগুনে পুড়ে ফুলেছি

পর্ব ৬২ · ১০ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-২০

তালাকনামায় শামসুন্নাহারের নাম ছিল।

নামের পাশে স্বাক্ষর। স্বামীর স্বাক্ষর, কাজীর স্বাক্ষর, সাক্ষীদের স্বাক্ষর। কাগজে কালির গন্ধ। শামসুন্নাহার সেই গন্ধটা মনে রেখেছে। বিয়ের কাবিননামায়ও কালির গন্ধ ছিল, একই ধরনের কালি, একই ধরনের কাগজ। শুরু আর শেষ একই কালিতে লেখা হয়। পার্থক্য শুধু মানুষের চোখে, কাগজ বোঝে না।

তেত্রিশ বছর বয়সে শামসুন্নাহার দুটো জিনিস নিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিল। দুটো বাচ্চা। রাফি, আট বছর। মারিয়া, পাঁচ বছর। আর একটা ব্যাগ, যেটায় কিছু কাপড় ছিল, বাচ্চাদের স্কুলের বই ছিল, আর একটা ছবি ছিল, তার মায়ের।

টাকা ছিল না। চাকরি ছিল না। দক্ষতা ছিল না, অন্তত এমন কোনো দক্ষতা যেটা দিয়ে টাকা আয় করা যায়। শামসুন্নাহার বিএ পাস। বিএ পাস মানে কী? মানে কিছু না। মানে একটা কাগজ যেটা দিয়ে চাকরি পাওয়া যায় না, ব্যবসা করা যায় না, কিছুই করা যায় না। শুধু দেয়ালে ঝোলানো যায়।

বাবার বাড়িতে ফিরে এসেছিল। বাবা অবসরপ্রাপ্ত, পেনশন সামান্য। মা অসুস্থ, ডায়াবেটিস। ছোট ভাই নিজেই সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। শামসুন্নাহার বুঝতে পারল: এই ছাদ সাময়িক। এই ছাদের নিচে চিরদিন থাকা যাবে না।

রাতে শুয়ে ভাবত: আমার কী আছে?

কিছু নেই।

কিন্তু "কিছু নেই" থেকেও শুরু করা যায়। শামসুন্নাহার এটা তখনো জানত না। পরে জেনেছে।

ইউটিউব।

শামসুন্নাহারের জীবন বদলে দিয়েছে একটা ইউটিউব ভিডিও। "বাটার কেক রেসিপি, সহজে বানান বাসায়।" ভিউ ছিল তিন লাখ। শামসুন্নাহার সেটা দেখেছিল একটা ঘুমহীন রাতে, রাফি আর মারিয়া ঘুমিয়ে যাওয়ার পরে, বাবার পুরনো ফোনে।

ভিডিওটা দেখে মনে হলো: এটা তো আমিও পারি।

পরের দিন সকালে মায়ের কাছ থেকে পাঁচশো টাকা ধার নিয়ে ময়দা, চিনি, ডিম, মাখন কিনে এনেছিল। বাবার বাড়ির পুরনো চুলায়, পুরনো কড়াইতে, প্রথম কেক বানানোর চেষ্টা করেছিল।

পুড়ে গিয়েছিল।

কালো, শক্ত, খাওয়ার অযোগ্য। রাফি একটুখানি খেয়ে বলেছিল, "আম্মু, এটা কেক না।" মারিয়া মুখ বিকৃত করেছিল।

শামসুন্নাহার কেকটা ফেলে দেয়নি। রাতে একা বসে সেটার দিকে তাকিয়ে ছিল। কী ভুল হয়েছে ভাবছিল। আঁচ বেশি ছিল? সময় বেশি দিয়েছিল? ময়দার পরিমাণ ঠিক ছিল না?

পরের দিন আবার বানাল। এবারও ভালো হলো না। তৃতীয় দিনও না। চতুর্থ দিনও না।

পঞ্চম দিনে কেকটা ফুলল।

সোনালি, নরম, মিষ্টি গন্ধ। রাফি খেয়ে বলল, "আম্মু, এটা কেক!" মারিয়া আরেকটুখানি চাইল।

শামসুন্নাহার সেই মুহূর্তে কেঁদে ফেলেছিল। পাঁচটা ব্যর্থতার পরে একটা সফলতা। জীবনের মতো। বিয়ের দশ বছর ব্যর্থতা ছিল, এখন সফলতার পালা।

প্রথম অর্ডার এসেছিল পাশের বাড়ির ভাবি থেকে।

"শামসুন, তুই তো কেক বানাস। আমার ছেলের জন্মদিনে একটা বানিয়ে দে তো। কত নিবি?"

শামসুন্নাহার জানত না কত নেবে। ইউটিউবে রেসিপি আছে, কিন্তু দাম নির্ধারণের ভিডিও নেই। উপকরণের খরচ হিসেব করল, তার ওপরে কিছু যোগ করল, এবং বলল, "পাঁচশো টাকা।"

পাঁচশো টাকা। প্রথম আয়।

সেই পাঁচশো টাকা শামসুন্নাহার একটা খামে রেখেছিল। খামের ওপরে লিখেছিল তারিখ। সেই খামটা এখনো আছে। ড্রয়ারের ভেতরে। খালি, টাকা অনেকদিন আগে খরচ হয়ে গেছে, কিন্তু খামটা আছে। কিছু জিনিস রাখতে হয়। কিছু জিনিস প্রমাণ।

দ্বিতীয় অর্ডার এসেছিল সেই ভাবির বোনের কাছ থেকে। তৃতীয় অর্ডার তার বান্ধবীর কাছ থেকে। মুখে মুখে ছড়াচ্ছিল। শামসুন্নাহারের কেক ভালো। দাম কম। ডেলিভারি দেয়।

ডেলিভারি দিত নিজে। রিকশায়। কেকের বাক্স কোলে রেখে। গরমে মাখন গলে যাবে ভেবে ভয় পেত। বৃষ্টিতে ভিজে যাবে ভেবে পলিথিন দিয়ে ঢাকত। প্রতিটা কেক তার কাছে সন্তানের মতো। বানাতে সময় লাগে, যত্ন লাগে, আর পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত নিশ্বাস আটকে থাকে।

ছয় মাসে শামসুন্নাহার শিখে গেল।

ইউটিউব ছিল তার বিশ্ববিদ্যালয়। একটা ভিডিও দেখত, প্র্যাকটিস করত, ব্যর্থ হতো, আবার দেখত, আবার প্র্যাকটিস করত। বাটার কেক থেকে চকোলেট কেক। চকোলেট কেক থেকে রেড ভেলভেট। রেড ভেলভেট থেকে কাস্টমাইজড কেক, নাম লেখা, ছবি আঁকা, ফুল বানানো।

ক্রিম পাইপিং শিখতে দুই সপ্তাহ লেগেছিল। হাত কাঁপত। লাইন সোজা হতো না। প্রথমদিকের কেকগুলো দেখলে এখন হাসি পায়। কিন্তু তখন হাসির কিছু ছিল না। তখন প্রতিটা বাঁকা লাইন মানে একটা সম্ভাব্য কাস্টমার হারানো।

রাতে বাচ্চারা ঘুমিয়ে গেলে প্র্যাকটিস করত। ক্রিম কিনতে পারত না বেশি, তাই টুথপেস্ট দিয়ে প্র্যাকটিস করত প্লেটের ওপর। রেখা টানত, ফুল আঁকত, নাম লিখত। টুথপেস্টের ওপর "শামসুন্নাহার" লিখে প্র্যাকটিস করত। কখনো "রাফি" লিখত, কখনো "মারিয়া"।

একদিন মারিয়া জেগে গিয়ে দেখেছিল মাকে রাতে একটা প্লেটে টুথপেস্ট দিয়ে ফুল আঁকতে। জিজ্ঞেস করেছিল, "আম্মু, কী করো?" শামসুন্নাহার বলেছিল, "স্বপ্ন বানাচ্ছি।"

মারিয়া বুঝত না। পাঁচ বছরের বাচ্চা কী বুঝবে। কিন্তু শামসুন্নাহার সত্যি বলেছিল। প্রতিটা ক্রিমের রেখা একটা স্বপ্নের রেখা।

এক বছর পরে ফেসবুক পেজ খুলল।

"শামসুন্নাহার'স কেক।"

নামটা নিয়ে অনেক ভেবেছিল। ফ্যান্সি ইংরেজি নাম দেবে? "সুইট ড্রিমস বেকারি"? "কেক ক্রাফট"? শেষে নিজের নামটাই রাখল। কারণ এই কেক তার। এই ব্যবসা তার। এই শ্রম তার। নিজের নাম লুকানোর কোনো কারণ নেই।

প্রথম পোস্ট ছিল একটা চকোলেট কেকের ছবি। ফোনের ক্যামেরায় তোলা, আলো ভালো না, ব্যাকগ্রাউন্ডে রান্নাঘরের তাক দেখা যাচ্ছে। তেরোটা লাইক পেয়েছিল। তেরোটা। শামসুন্নাহার গুনে গুনে দেখেছিল কারা লাইক দিয়েছে। বাবা, মা, ভাই, ভাইয়ের বউ, পাশের বাড়ির ভাবি, তার কয়েকজন বান্ধবী।

তেরোটা লাইক থেকে শুরু।

ছয় মাসে ফলোয়ার হলো পাঁচশো। এক বছরে দুই হাজার। অর্ডার বাড়তে লাগল। দিনে দুটো, তিনটা। সপ্তাহে বিশটা।

শামসুন্নাহার ঘুম কমিয়ে দিল। রাত দুটায় ঘুমায়, ভোর পাঁচটায় ওঠে। চুলায় কেক ঢোকায়, বাচ্চাদের স্কুলে পাঠায়, কেক ডেকোরেট করে, ডেলিভারি দেয়, বিকেলে বাচ্চাদের পড়ায়, রাতে আবার কেক বানায়।

ক্লান্তি? আছে। সবসময় আছে। কিন্তু ক্লান্তির রঙ বদলে গেছে। আগে ক্লান্তি ছিল অপমানের, অসহায়ত্বের, নিজেকে অপ্রয়োজনীয় মনে হওয়ার। এখন ক্লান্তি কাজের। এই ক্লান্তি সম্মানের।

দুই বছর পরে বাবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে আলাদা একটা ঘর ভাড়া নিল।

দুই রুমের ফ্ল্যাট। মিরপুরে। ভাড়া আট হাজার। একটা রুম বাচ্চাদের, একটা শামসুন্নাহারের। আর রান্নাঘর, সেটাই তার কারখানা। ওভেন কিনেছিল একটা, কিস্তিতে। মিক্সার কিনেছিল। ঘরের অর্ধেক জায়গা কেকের সরঞ্জামে ভরা।

রাফি বলত, "আম্মু, আমাদের ঘর কেকের দোকান।"

শামসুন্নাহার হাসত। হ্যাঁ, ঘর আর দোকান একই। জীবন আর কাজ একই। সবকিছু একই জায়গায়, কারণ আলাদা করার সামর্থ্য নেই, আলাদা করার দরকারও নেই।

মাসে আয় হচ্ছিল পনেরো হাজার। তারপর বিশ হাজার। তারপর পঁচিশ। তারপর ত্রিশ।

প্রতিটা অঙ্ক একটা যুদ্ধজয়। প্রতিটা হাজার একটা উত্তর। যারা বলেছিল "তালাকপ্রাপ্তা মেয়ে কী করবে," তাদের উত্তর। যারা বলেছিল "দুটো বাচ্চা নিয়ে একা মেয়ে টিকবে না," তাদের উত্তর।

শামসুন্নাহার উত্তর দেয় কেক দিয়ে। প্রতিটা কেক একটা উত্তর।

তিন বছর পরে।

মাসিক আয়: চল্লিশ হাজার টাকা। কখনো পঁয়তাল্লিশ। বিশেষ মাসে, যেমন ভালোবাসা দিবস, নববর্ষ, ঈদ, পঞ্চাশ হাজারও ছাড়িয়ে যায়।

একটা মেয়ে কাজ করে এখন শামসুন্নাহারের সাথে। লিপি, বাইশ বছর, কলেজ পড়ুয়া। বিকেলে আসে, ডেকোরেশনে সাহায্য করে, ডেলিভারি দেয়। শামসুন্নাহার তাকে মাসে পাঁচ হাজার দেয়।

লিপিকে শেখাচ্ছে। যেমন ইউটিউব শামসুন্নাহারকে শিখিয়েছিল, তেমন করে শামসুন্নাহার লিপিকে শেখাচ্ছে। পাইপিং, লেভেলিং, ফন্ড্যান্ট, গ্যানাশ। লিপি বলে, "আপু, আপনি কোথা থেকে শিখলেন?" শামসুন্নাহার বলে, "পুড়ে পুড়ে।"

এটা রূপক না। আক্ষরিক। প্রথম দিনে কেক পুড়িয়েছিল। হাত পুড়িয়েছিল ওভেনে। চোখ পুড়িয়েছিল কান্নায়। জীবন পুড়িয়েছিল তালাকে।

কিন্তু কেকও আগুনে পোড়ে। এবং পুড়ে ফোলে।

রাফি এখন এগারো। মারিয়া আট।

রাফি স্কুলে বলেছিল, "আমার মা কেক বানায়।" বন্ধুরা জিজ্ঞেস করেছিল, "তোর বাবা কোথায়?" রাফি বলেছিল, "বাবা নেই। মা আছে।"

শামসুন্নাহার এটা শুনে চুপ করে ছিল। রাফি লজ্জা পায়নি। রাগ করেনি। সাধারণভাবে বলেছে, যেমন কেউ বলে "আমার বাড়ি মিরপুরে" বা "আমি ক্লাস ফাইভে পড়ি।" বাবা নেই, এটা একটা তথ্য, লজ্জার বিষয় না।

শামসুন্নাহার ভেবেছিল: আমি ঠিক পথে আছি। আমার ছেলে লজ্জা পাচ্ছে না। আমার ছেলে তার মায়ের পরিচয় বলতে পারছে। এটাই সাফল্য।

মারিয়া কেক বানাতে সাহায্য করে। ডিম ভাঙে, ময়দা ছাঁকে, ক্রিম নাড়ে। তার ছোট হাতে ক্রিমের দাগ লেগে থাকে। শামসুন্নাহার সেই হাত ধুয়ে দেয়, আর ভাবে: এই হাত একদিন ডাক্তার হবে, অথবা ইঞ্জিনিয়ার হবে, অথবা যা ইচ্ছে তাই হবে। কেক বানাতে হবে না। কিন্তু কেক বানানো জানলে ক্ষতি নেই। কেক বানানো মানে শূন্য থেকে কিছু তৈরি করা জানা। সেই জ্ঞান সবখানে কাজে আসে।

শামসুন্নাহারের প্রাক্তন স্বামীর নাম ফারুক।

ফারুক একবার ফোন করেছিল। তালাকের দেড় বছর পরে। "বাচ্চাদের সাথে দেখা করতে চাই।"

শামসুন্নাহার বলেছিল, "এসো।"

ফারুক এসেছিল। বাচ্চাদের সাথে একটু সময় কাটিয়েছিল। যাওয়ার সময় রান্নাঘরের দিকে তাকিয়ে দেখেছিল ওভেন, মিক্সার, কেকের বাক্স। জিজ্ঞেস করেছিল, "এসব কী?"

"আমার ব্যবসা।"

ফারুক কিছু বলেনি। কিন্তু তার চোখে কিছু ছিল। অবাক? অবিশ্বাস? সম্মান? শামসুন্নাহার পড়তে পারেনি। পড়ার চেষ্টাও করেনি। ফারুকের চোখ পড়ার দিন শেষ হয়ে গেছে।

ফারুক চলে গেলে মারিয়া জিজ্ঞেস করেছিল, "আম্মু, বাবা আবার আসবে?"

"জানি না, মা।"

"আসলে কি তুমি কেক দেবে?"

শামসুন্নাহার হেসেছিল। "দেব। সবাইকে দেই।"

এটাই শামসুন্নাহারের উত্তর। সবাইকে দেই। যারা ছিল, যারা চলে গেছে, যারা ভেঙে দিয়েছে। সবাইকে কেক দেই। কারণ কেক বানানো আমার কাজ। কাজ ব্যক্তিগত ক্ষোভের ওপরে।

১০

রাতে, বাচ্চারা ঘুমিয়ে গেলে, শামসুন্নাহার একা বসে থাকে।

কখনো কখনো ক্লান্তি এত বেশি হয় যে চোখ বন্ধ হয়ে আসে কিন্তু ঘুম আসে না। শরীর ক্লান্ত, মন জাগা। সেই সময়ে শামসুন্নাহার ভাবে।

তালাকের দিনটা মনে পড়ে। সেদিন মনে হয়েছিল জীবন শেষ। আক্ষরিক অর্থে শেষ। কোথায় যাবে, কী করবে, বাচ্চাদের কী হবে। রাতে বালিশ ভিজিয়ে কেঁদেছিল, নিঃশব্দে, যাতে রাফি আর মারিয়া না শোনে।

সেই রাত থেকে এই রাত। দুই বছর। কী বদলেছে?

সবকিছু। এবং কিছুই না।

এখনো একা। এখনো রাতে কান্না আসে, কখনো কখনো। এখনো ভয় লাগে, ভবিষ্যত নিয়ে। এখনো কেউ নেই পাশে যাকে বলবে "আজকে খুব ক্লান্ত।"

কিন্তু এখন একটা পরিচয় আছে। শামসুন্নাহার'স কেক। একটা আয় আছে। দুটো বাচ্চা স্কুলে যাচ্ছে। একটা মেয়ে কাজ শিখছে। এবং সবচেয়ে বড়: শামসুন্নাহার নিজেকে চেনে।

তালাকের আগে চিনত না। তালাকের আগে সে ছিল ফারুকের বউ। শ্বশুরবাড়ির বৌমা। বাচ্চাদের মা। নিজে কে, সেটা জানত না। জানার দরকারও হয়নি। সংসারে নিজের পরিচয় লাগে না, অন্যের পরিচয়ে বেঁচে থাকা যায়।

তালাক সেই পরিচয় কেড়ে নিয়েছিল। ফারুকের বউ আর নেই। শ্বশুরবাড়ির বৌমা আর নেই। শুধু আছে শামসুন্নাহার। খালি নাম। খালি শরীর। খালি হাত।

সেই খালি হাত দিয়ে কেক বানিয়েছে। সেই খালি নাম দিয়ে ব্র্যান্ড বানিয়েছে। সেই খালি শরীর দিয়ে দুটো বাচ্চা বড় করছে।

তালাক আমাকে ভেঙে দিয়েছিল। আমি নিজেকে নতুন করে গড়েছি। কেকের মতো। আগুনে পুড়ে ফুলেছি।

শামসুন্নাহার চোখ বন্ধ করে। কালকে সকালে আবার উঠতে হবে। ভোর পাঁচটায়। চুলায় আগুন জ্বালাতে হবে। ময়দা মাখতে হবে। ডিম ভাঙতে হবে।

আগুনে পুড়ে ফুলতে হবে। প্রতিদিন। প্রতিটা কেকে। প্রতিটা সকালে।