ব্যাংকার নারী

আমিই স্যার।

পর্ব ৬৮ · ১০ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-২০

নীলিমা সকাল সাতটায় অফিসে ঢোকে।

ব্যাংকের দরজা তখনো বন্ধ। গার্ড খুলে দেয়, "গুড মর্নিং ম্যাম।" নীলিমা মাথা নাড়ে। লিফটে ওঠে। তৃতীয় তলা। তার চেম্বার। "নীলিমা আক্তার, ভাইস প্রেসিডেন্ট" লেখা নেমপ্লেটটা দরজায়। নীলিমা প্রতিদিন সেই নেমপ্লেটের দিকে একবার তাকায়। অভ্যাস নয়। মনে করানো। নিজেকে মনে করানো যে সে এখানে পৌঁছেছে। এই ব্রাঞ্চের ইতিহাসে প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট। তেত্রিশ বছর বয়সে।

চেম্বারে ঢুকে ব্যাগ রাখে, কম্পিউটার চালু করে, চা অর্ডার করে। এর মধ্যে ডেস্কে কাল রাতের ইমেইলের প্রিন্ট। এসিস্ট্যান্ট রাখে প্রতিদিন। বিশটা ইমেইল। করপোরেট লোন অ্যাপ্লিকেশন তিনটে, ক্রেডিট রিভিউ দুটো, রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্স আপডেট, হেড অফিসের সার্কুলার, ক্লায়েন্ট কমপ্লেইন্ট একটা। নীলিমা একটা একটা পড়ে। মার্ক করে। নোট লেখে। সাড়ে সাতটার মধ্যে সবটা পড়া শেষ।

বাকি অফিসাররা আসতে শুরু করে আটটায়। নীলিমা তখন এক ঘণ্টা এগিয়ে।

এই এক ঘণ্টা নীলিমার অস্ত্র। এই এক ঘণ্টায় সে পুরো দিনের প্রস্তুতি নেয়। কোন মিটিংয়ে কী বলবে, কোন ক্লায়েন্টকে কী প্রস্তাব দেবে, কোন ফাইলে কী সমস্যা। সব তৈরি। যাতে দিনের বেলায়, যখন সবাই তাকে দেখছে, তাকে মাপছে, তখন সে একবারের জন্যও হোঁচট না খায়। একবারের জন্যও "উনি কি জানেন?" এই প্রশ্ন না ওঠে।

কারণ প্রশ্নটা ওঠে। প্রতিদিন। নীরবে। চোখে চোখে।

ন'টায় মিটিং। ক্রেডিট কমিটি।

টেবিলে ছয়জন। পাঁচজন পুরুষ, একজন নীলিমা। চেয়ারে বসে নীলিমা ফাইল খোলে। একটা বড় করপোরেট লোন, পঁচিশ কোটি টাকা, একটা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির জন্য। নীলিমা ক্রেডিট অ্যানালাইসিস রিপোর্ট পড়ে রেখেছে। ফিনান্সিয়াল স্টেটমেন্ট দেখেছে। ঝুঁকি মূল্যায়ন করেছে। তার মতামত: ঋণ দেওয়া যায়, কিন্তু কোল্যাটারেল আরো দরকার। বর্তমান কোল্যাটারেল-টু-লোন রেশিও ০.৭, হওয়া উচিত ন্যূনতম ১.২।

নীলিমা তার বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে। সংখ্যা দিয়ে, ডেটা দিয়ে, রেশিও দিয়ে। কণ্ঠস্বর সমান, না উচ্চ না নিচু। এটা শিখেছে। নারীর কণ্ঠস্বর বেশি হলে "আবেগপ্রবণ," কম হলে "আত্মবিশ্বাসের অভাব।" মাঝখানের সুতোটা চিকন। নীলিমা সেই সুতোর ওপর দিয়ে হাঁটে প্রতিদিন।

কমিটির একজন সিনিয়র অফিসার, রহমান সাহেব, বলেন, "ম্যাডাম, ক্লায়েন্ট তো পুরোনো। এতদিন তো কোনো সমস্যা হয়নি।" নীলিমা বলে, "পুরোনো ক্লায়েন্ট হওয়া মানে ভবিষ্যতে সমস্যা হবে না, এটা গ্যারান্টি নয়। ফিনান্সিয়ালস বলছে ডেট-টু-ইকুইটি বেড়েছে গত দুই বছরে। ০.৮ থেকে ১.৪। এটা রেড ফ্ল্যাগ।"

রহমান সাহেব চুপ করে যান। কিন্তু তার চোখে নীলিমা পড়তে পারে: "মেয়েমানুষ শেখাবে আমাকে?"

নীলিমা পড়তে পারে। কিন্তু কিছু বলে না। সংখ্যা দিয়ে কথা বলে। সংখ্যা লিঙ্গ মানে না। ০.৭ রেশিও পুরুষ বললেও ০.৭, নারী বললেও ০.৭। নীলিমা সংখ্যার আড়ালে দাঁড়ায়। সংখ্যা তার ঢাল।

এগারোটায় একটা ক্লায়েন্ট আসে। ব্যবসায়ী। মোটা, পাঞ্জাবি পরা, আংটি পরা হাত। বসে নীলিমার সামনে। লোন চায়, ব্যবসা বাড়াবে।

"ম্যাডাম কি কনফার্মেশন নেবেন স্যারের কাছ থেকে?"

নীলিমা ক্লায়েন্টের দিকে তাকায়। শান্ত। "আমিই স্যার।"

ক্লায়েন্ট একটু থতমত খায়। তারপর সামলে নেয়। "মানে, আমি বলতে চাইছিলাম..."

"আমি বুঝেছি আপনি কী বলতে চাইছিলেন। কিন্তু এই ব্রাঞ্চে করপোরেট ক্রেডিটের সিদ্ধান্ত আমার ডেস্ক থেকে যায়। আপনার প্রপোজালটা রাখুন, আমি রিভিউ করে জানাবো।"

ক্লায়েন্ট প্রপোজাল রেখে যায়। নীলিমা জানে, এই ক্লায়েন্ট বাইরে গিয়ে বলবে, "ওই ব্রাঞ্চে একটা মেয়ে বসে আছে, সব সে দেখে।" "মেয়ে বসে আছে।" এভাবে বলবে। "ভিপি আছেন" বলবে না। "অফিসার আছেন" বলবে না। "মেয়ে।" যেন পদবি নয়, লিঙ্গই পরিচয়।

নীলিমা এটা নিয়ে রাগ করত আগে। এখন করে না। রাগ শক্তি খরচ করে। নীলিমার শক্তি সীমিত। সেই শক্তি সে কাজে লাগায়, রাগে নয়।

নীলিমার মনে পড়ে প্রথম দিনের কথা। এই ব্রাঞ্চে জয়েন করেছিল ম্যানেজার হিসেবে, চার বছর আগে। প্রথম দিন চেম্বারে ঢুকে দেখেছিল ডেস্কে একটা ফুলদানি রাখা। আগের ম্যানেজারের রেখে যাওয়া। পুরুষ ম্যানেজার। ফুলদানিতে প্লাস্টিকের ফুল। নীলিমা ফুলদানিটা সরিয়ে রেখেছিল। "আমার ডেস্কে ফাইল থাকবে, ফুল না।" এটা ছিল তার প্রথম সিদ্ধান্ত। ছোট, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। নারী ম্যানেজার মানে ডেস্কে ফুল থাকবে, এই ধারণাটা ভাঙা দরকার ছিল।

প্রথম সপ্তাহে একজন পিয়ন চা এনে দিয়ে বলেছিল, "ম্যাডাম, চিনি কম দিয়েছি, আপনারা তো মেয়েরা কম চিনি খান।" নীলিমা বলেছিল, "আমি দুই চামচ চিনি খাই। মেয়ে না ছেলে সেটা চিনির সাথে সম্পর্কিত না।" পিয়ন অবাক হয়েছিল। নীলিমা অবাক হয়নি। এই ধরনের ছোট ছোট ধারণা প্রতিদিন ভাঙতে হয়। প্রতিটা ভাঙা একটা যুদ্ধ। কিন্তু নীলিমা যুদ্ধ শব্দটা ব্যবহার করে না। বলে "কাজ।" এটা তার কাজের অংশ। নারী হিসেবে কাজ করতে গেলে দুটো কাজ করতে হয়: একটা আসল কাজ, আরেকটা প্রমাণ করা যে সে কাজটা করতে পারে।

দুপুরে লাঞ্চ। নীলিমা ডেস্কে খায়। টিফিন বক্স, বাসা থেকে আনা। ভাত, মাছ, সবজি। মা পাঠিয়ে দেন। নীলিমা একা থাকে, একটা ছোট ফ্ল্যাটে গুলশানে। বিয়ে হয়নি। বিয়ের প্রস্তাব আসে, মা বলেন, "তোর বয়স হয়ে যাচ্ছে।" নীলিমা বলে, "আম্মা, আমি ভিপি হয়েছি তেত্রিশ বছরে। বিয়ে করলে হতে পারতাম?" মা চুপ করে যান।

নীলিমা জানে বিয়ে করলেও ভিপি হতে পারত হয়তো। কিন্তু কত দেরিতে? বিয়ে, সন্তান, শ্বশুরবাড়ি, সংসার। এগুলোর প্রতিটা একটা করে বছর খায়। পুরুষের ক্ষেত্রে খায় না। পুরুষের বিয়ে হয় ক্যারিয়ারের সমান্তরালে। নারীর বিয়ে হয় ক্যারিয়ারের বিকল্পে। "হয় চাকরি, নয় সংসার।" এই বাক্য নীলিমা শুনেছে বহুবার। "দুটোই" বললে মানুষ হাসে। "দুটো কিভাবে সামলাবে?" কারণ পুরুষকে কেউ জিজ্ঞেস করে না সে কিভাবে সামলাবে। পুরুষের কাজ একটাই, উপার্জন। বাকি সব নারীর কাঁধে।

নীলিমা এখন এই সমীকরণ থেকে বেরিয়ে এসেছে। বিয়ে করেনি। সন্তান নেই। তাই "সবকিছু" দিতে পেরেছে ক্যারিয়ারে। কিন্তু এই "সবকিছু" দেওয়ার মূল্য কী? একাকীত্ব। রাতে ফ্ল্যাটে ফিরলে কেউ নেই। কেউ জিজ্ঞেস করে না, "কেমন ছিল আজকে?" কেউ নেই যার জন্য রান্না করবে, যার সাথে কথা বলবে। নীলিমা এটা মেনে নিয়েছে। এটা তার বেছে নেওয়া মূল্য। কিন্তু মেনে নেওয়া মানে ব্যথা নেই, তা নয়।

পুরুষ ভিপি ছটায় চলে যায়। আমি আটটায় যাই। কারণ আমাকে 'prove' করতে হয়।

নীলিমা এটা জানে গভীরভাবে। পুরুষ সহকর্মীরা ছটায় ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে যায়। কেউ প্রশ্ন করে না। কিন্তু নীলিমা যদি ছটায় বেরোয়, মনে হবে "কাজ শেষ করে যাচ্ছে না।" "সে কি সব সামলাতে পারছে?" এই প্রশ্ন নীরবে ঘোরে। তাই নীলিমা আটটায় যায়। সাতটায় এসে আটটায় যায়। তেরো ঘণ্টা। প্রতিদিন। কারণ তাকে শুধু কাজ করলে হবে না, "প্রমাণ" করতে হবে যে সে কাজ করতে পারে। পুরুষের যোগ্যতা ধরে নেওয়া হয়। নারীর যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়। প্রতিদিন। প্রতিটা মিটিংয়ে। প্রতিটা ফাইলে।

বিকেলে আরেকটা মিটিং। হেড অফিস থেকে ভিডিও কনফারেন্স।

জিএম কথা বলছেন। কোয়ার্টারলি রিভিউ। প্রতিটা ব্রাঞ্চের পারফরম্যান্স। নীলিমার ব্রাঞ্চ: ডিপোজিট গ্রোথ ১২%, লোন রিকভারি রেট ৯৪%, এনপিএল রেশিও ৩.৮%। ভালো নম্বর। জিএম বলেন, "গুড ওয়ার্ক।" দুটো শব্দ। নীলিমা জানে এই দুটো শব্দ পেতে কত রাত জাগতে হয়েছে, কতটা ক্লায়েন্টকে ফলো আপ করতে হয়েছে, কতটা ফাইল নিজে হাতে দেখতে হয়েছে।

কনফারেন্সের পরে নীলিমার সাবর্ডিনেট ফারুক এসে বলে, "ম্যাম, আপনি আজ ভালো প্রেজেন্ট করেছেন।" নীলিমা হাসে। ফারুক ভালো ছেলে, কিন্তু "আপনি ভালো প্রেজেন্ট করেছেন" এই কথাটা একজন সাবর্ডিনেট তার পুরুষ বসকে বলত না। পুরুষ বসের ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হয় যে সে ভালোই করবে। নারী বসের ক্ষেত্রে "ভালো করা" একটা চমক, একটা ব্যতিক্রম, যেটার জন্য প্রশংসা করতে হয়।

নীলিমা ভাবে না এসব নিয়ে বেশিক্ষণ। ভাবলে কাজ থেমে যায়। নীলিমা কাজ করে। সংখ্যা দেখে। ফাইল পড়ে। সিদ্ধান্ত নেয়। এটাই তার উত্তর। প্রতিটা সঠিক সিদ্ধান্ত একটা ইট। নীলিমা ইট দিয়ে দেয়াল গাঁথছে। সেই দেয়ালের পেছনে একদিন কেউ তার লিঙ্গ দেখবে না, তার কাজ দেখবে।

হয়তো। অথবা হয়তো না।

নীলিমা মাঝে মাঝে ভাবে তার সহকর্মী মাহমুদের কথা। মাহমুদ একই সময়ে জয়েন করেছিল, একই ব্যাচ। মাহমুদ এখন অন্য ব্রাঞ্চে ভিপি। মাহমুদের বিয়ে আছে, দুটো বাচ্চা আছে, সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে বাচ্চাদের সাথে খেলে, স্ত্রী রান্না করে রাখে, শুক্রবারে পরিবার নিয়ে বেড়াতে যায়। মাহমুদের জীবন "সম্পূর্ণ।" ক্যারিয়ার আছে, পরিবার আছে, ভারসাম্য আছে।

নীলিমার ক্ষেত্রে একই সাফল্য পেতে পরিবারকে ত্যাগ করতে হয়েছে। একই পদ, একই বেতন, কিন্তু ভিন্ন মূল্য। মাহমুদ কিছু ত্যাগ করেনি। মাহমুদের স্ত্রী করেছে হয়তো, নিজের ক্যারিয়ার। কিন্তু মাহমুদ? মাহমুদ সবকিছু পেয়েছে। নীলিমাকে বেছে নিতে হয়েছে। এই "বেছে নেওয়া" শুধু নারীর জন্য। পুরুষের জন্য নয়।

কখনো কখনো অফিসের পার্টিতে কেউ জিজ্ঞেস করে, "নীলিমা আপা, বিয়ে করবেন না?" নীলিমা হাসে। "সময় হলে করবো।" এটা তার স্ট্যান্ডার্ড উত্তর। আসল উত্তর সে দেয় না। আসল উত্তর হলো: বিয়ে করলে কী হবে? স্বামী কি মেনে নেবে নীলিমা রাত আটটায় ফেরে? শ্বশুরবাড়ি কি মেনে নেবে? সন্তান হলে কে দেখবে? নীলিমা জানে, বিয়ে করলে সেই মেনে নেওয়ার যুদ্ধটা ঘরেও লড়তে হবে, অফিসেও লড়তে হবে। দুটো ফ্রন্ট। নীলিমার শক্তি একটা ফ্রন্টে আছে। একটায় সে জিতছে। দুটোয় হারার ঝুঁকি নিতে চায় না।

রাত আটটা। নীলিমা অফিস থেকে বেরোয়।

গার্ড বলে, "ম্যাম, গাড়ি?" নীলিমা বলে, "রিকশায় যাবো।" গুলশানের রাস্তায় রিকশায় বসে নীলিমা ভাবে। তেরো ঘণ্টা। আজ একটা বড় লোন আটকেছে যেটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। একটা ক্লায়েন্টকে শিখিয়েছে যে সিদ্ধান্ত তার ডেস্ক থেকে যায়। একটা কোয়ার্টারলি রিভিউতে "গুড ওয়ার্ক" পেয়েছে। এগুলো ছোট জয়। কিন্তু ছোট জয়ের সমষ্টিতে বড় যুদ্ধ জেতা হয়।

ফ্ল্যাটে ঢুকে লাইট জ্বালায়। ঘর ফাঁকা। পরিষ্কার, গোছানো, নীরব। টিফিন বক্সটা সিঙ্কে রাখে। জামা বদলায়। চুল খোলে। অফিসে চুল সবসময় বাঁধা, টাইট বান, প্রফেশনাল। বাসায় খোলে। এটা তার ছোট্ট মুক্তি।

মা ফোন করেন। "খেয়েছিস?"

"এখনো না।"

"রান্না করবি?"

"ডিম ভাজি করবো।"

"শুধু ডিম? ঠিকমতো খা।"

নীলিমা হাসে। ভিপি, করপোরেট ক্রেডিটের সিদ্ধান্ত নেয়, পঁচিশ কোটি টাকার লোন আটকায়, কিন্তু রাতে ডিম ভাজি খায়। কারণ রান্না করার শক্তি নেই। সময় নেই। আর কার জন্য রান্না করবে?

নীলিমা ডিম ভাজে। ভাত গরম করে। একা খায়। জানালা দিয়ে গুলশানের আলো দেখা যায়। গাড়ির শব্দ। দূরে একটা মসজিদের আজান।

নীলিমা ভাবে, পরের পদোন্নতি সিনিয়র ভিপি। তারপর ইভিপি। তারপর? তারপর কী? ক্যারিয়ারের চূড়ায় কী আছে? একটা বড় চেম্বার, একটা বড় নেমপ্লেট, একটা বড় বেতন। কিন্তু রাতে একই ফাঁকা ফ্ল্যাট। একই ডিম ভাজি। একই নীরবতা।

নীলিমা এটা নিয়ে দুঃখ করে না। সে বেছে নিয়েছে। প্রতিটা পছন্দের একটা মূল্য আছে। নীলিমার পছন্দের মূল্য এই নীরবতা। কিন্তু সে জানে, তার পরে যে মেয়েটা এই ব্রাঞ্চে ভিপি হবে, তাকে হয়তো এত মূল্য দিতে হবে না। নীলিমা পথ তৈরি করছে। পথের প্রথম পথিক সবসময় বেশি কষ্ট পায়। দ্বিতীয় পথিকের জন্য পথ সহজ হয়।

এটা নীলিমার সান্ত্বনা। এটাই যথেষ্ট।