পারিবারিক সহিংসতা থেকে মুক্তি

পালানোর জন্যও সাহস লাগে। সাহস লাগে সেটা বোঝা যে এটা তোমার দোষ না।

পর্ব ৬৯ · ১০ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-২০

শিল্পী মনে রাখে সেই রাতটা।

শেষ রাত। সাত বছরের শেষ রাত। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিল, শ্রাবণ মাস, ভারী বৃষ্টি, টিনের চালে শব্দ। ঘরের ভেতরে ছোট মেয়ে আয়েশা ঘুমাচ্ছে, চার বছর, বুড়ো আঙুল মুখে। বড় ছেলে রাফি জেগে আছে, ছয় বছর, চোখ বড় বড়, বুঝতে পারছে কিছু একটা হচ্ছে কিন্তু কী হচ্ছে ঠিক জানে না। শিল্পীর বাঁ চোখের নিচে ফুলে আছে, নীল হয়ে গেছে, কাল সন্ধ্যার। ডান হাতের কব্জিতে ব্যথা, মোচড় দিয়েছিল, কিছু ভেঙেছে কিনা শিল্পী জানে না। জানার উপায় নেই। ডাক্তারের কাছে যেতে গেলে প্রশ্ন হবে। প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেয়ে ব্যথা সহ্য করা সহজ।

সাত বছর। শিল্পীর বিয়ে হয়েছিল তেইশ বছর বয়সে। স্বামী ফিরোজ। প্রথম বছরটা ভালো ছিল। ফিরোজ হাসত, কথা বলত, বাইরে নিয়ে যেত। দ্বিতীয় বছর থেকে মেজাজ বদলাল। রাফি হওয়ার পরে। ঘুমের অভাব, টাকার চাপ, চাকরির সমস্যা। প্রথম থাপ্পড় পড়ল রাফির ছয় মাস বয়সে। শিল্পী ভেবেছিল ভুল হয়ে গেছে, একবারই, আর হবে না। হলো। আবার হলো। আবার।

শিল্পী গুনেছে প্রথম দিকে। সাতটা, আটটা, বারোটা। তারপর গোনা বন্ধ করেছে। কারণ গোনার কোনো অর্থ নেই যখন থামার কোনো লক্ষণ নেই।

ফিরোজ মারতো কেন? কারণ খাবারে লবণ কম। কারণ জামা ইস্ত্রি হয়নি। কারণ বাচ্চা কাঁদছে। কারণ টিভির রিমোট পাচ্ছে না। কারণ অফিসে বস বকেছে। কারণ রাস্তায় জ্যাম ছিল। কারণ চা ঠান্ডা হয়ে গেছে। শিল্পী বুঝেছে কারণ আসলে কিছুই নয়। কারণ হলো ক্ষমতা। ফিরোজ মারতে পারে, তাই মারে। শিল্পী কিছু করতে পারে না, তাই সহ্য করে।

সেই রাতে শিল্পী সিদ্ধান্ত নিল। বৃষ্টির ভেতর, ফোলা চোখে, ভাঙা কব্জিতে।

পালানো।

শব্দটা ভুল। শিল্পী "পালায়নি।" শিল্পী "বেরিয়ে এসেছে।" পালানো মানে অপরাধী পালায়। শিল্পী অপরাধী নয়। কিন্তু সমাজের ভাষায় সে পালিয়েছে। "স্বামীর ঘর ছেড়ে পালিয়েছে।" "সংসার ফেলে পালিয়েছে।" এই ভাষাটাই সমস্যা। যে নারী নির্যাতন থেকে বেরিয়ে আসে, সে "পালায়।" যে পুরুষ নির্যাতন করে, সে "একটু রেগে যায়।" ভাষা কার পক্ষে, বোঝা যায়।

সেই রাতে শিল্পী একটা ব্যাগে কয়েকটা জিনিস ভরেছিল। দুটো বাচ্চার জামা, নিজের একটা শাড়ি, জাতীয় পরিচয়পত্র, রাফির জন্মনিবন্ধন, আয়েশার ভ্যাক্সিন কার্ড। টাকা ছিল তিনশো টাকা, আলমারির পেছনে রাখা, মাসে মাসে একটু একটু করে জমানো, ফিরোজ জানত না। তিনশো টাকা দিয়ে বাড়ি যাওয়া যায়? শিল্পীর বাবার বাড়ি তিরিশ কিলোমিটার দূরে। যায়। বাসে গেলে যায়। কিন্তু রাতে বাস নেই। শিল্পী সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করল।

ভোর পাঁচটায় ফিরোজ ঘুমাচ্ছিল। গভীর ঘুম। রাতে মদ খেয়ে এসেছিল, সেই নেশাতেই মেরেছিল। শিল্পী রাফিকে জাগাল। "চুপ করে উঠ। কোনো শব্দ করবি না।" ছয় বছরের ছেলে বুঝল। বাচ্চারা বোঝে। যে বাড়িতে মার খায়, সেই বাড়ির বাচ্চারা নীরবতা শেখে আগে। শব্দ কমানো, দৃশ্যমানতা কমানো, নিজেকে ছোট করা। রাফি শিখে গেছে। আয়েশাকে কোলে তুলল শিল্পী। আয়েশা ঘুমের ভেতর মায়ের গলা জড়িয়ে ধরল।

দরজা খুলল। বাইরে বৃষ্টি থেমে গেছে। ভোরের আলো, ভেজা মাটি, পাখির ডাক। শিল্পী বাড়ির উঠান পেরোল। গেট পার হলো। রাস্তায় নামল। পেছনে ফিরে তাকাল না।

পেছনে তাকালে থেমে যেতে হয়। শিল্পী থামতে চায় না।

বাবার বাড়ি। আবদুল করিমের বাড়ি।

শিল্পী যখন দরজায় দাঁড়াল, মা ফাতেমা বেগম দরজা খুলে একটা মুহূর্ত চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন। শিল্পীর মুখ, চোখের নিচে নীল, ঠোঁট ফাটা, চুল এলোমেলো, কোলে ঘুমন্ত আয়েশা, পাশে ভয়ার্ত রাফি। ফাতেমা বেগম সব বুঝলেন। একটা শব্দ না বলে ভেতরে নিয়ে এলেন।

এটা বিরল। বাংলাদেশে বিরল। অনেক বাবার বাড়ি দরজা খোলে না। "ফিরে যা। স্বামীর ঘর তোর ঘর।" "একটু সহ্য কর। সবাই করে।" "সংসার ভাঙলে লোকে কী বলবে?" এই কথাগুলো শোনে বেশিরভাগ মেয়ে। শিল্পী শোনেনি। শিল্পীর বাবা আবদুল করিম বললেন, "থাক। এই বাড়ি তোর বাড়ি।" শিল্পীর মা বললেন, "আর যেতে হবে না।"

শিল্পী কাঁদল। সাত বছরে কাঁদেনি। ফিরোজের সামনে কাঁদলে আরো মারত। "কাঁদিস কেন? কাঁদার কী আছে?" কান্নাও অপরাধ ছিল। শিল্পী শিখেছিল কান্না চেপে রাখতে। বুকের ভেতর একটা বাক্স, সেখানে কান্না জমা হতো, স্তরে স্তরে, সাত বছরের কান্না। সেই বাক্স আজ খুলল। মায়ের কোলে মাথা রেখে শিল্পী কাঁদল। রাফি দেখে ভয় পেল। আয়েশা ঘুমিয়ে রইল।

তারপরের দিনগুলো কঠিন ছিল। ফিরোজ এসেছিল দুবার। প্রথমবার চিৎকার করে। "আমার বউ, আমার বাচ্চা, ফেরত দাও।" আবদুল করিম দরজা খোলেননি। দ্বিতীয়বার মিনতি করে এসেছিল। "ভুল হয়ে গেছে। আর হবে না।" শিল্পী জানে এই বাক্য। এই বাক্য সে শুনেছে সাত বছরে ত্রিশবার। প্রতিবারের পরে। "আর হবে না।" আবার হয়েছে। প্রতিবার।

শিল্পী দরজা খোলেনি। এটা সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল। দরজার ওপাশে একটা পরিচিত কণ্ঠস্বর, সেই কণ্ঠস্বর একসময় ভালোবাসার ছিল, সেই কণ্ঠস্বর মিনতি করছে। দরজা না খোলা মানে সেই ভালোবাসার সম্ভাবনা চিরকালের জন্য বন্ধ করা। কিন্তু শিল্পী জানে, ভালোবাসা আর ভয় একসাথে থাকতে পারে না। যে হাত আদর করে সেই হাত মারে, তখন আদরটাও ভয়ের হয়ে যায়।

বাবার বাড়িতে থাকা সহজ ছিল না।

প্রতিবেশীরা কথা বলত। "স্বামীর ঘর ছেড়ে এসেছে। কিসের জন্য? সব পুরুষই একটু রাগী হয়। সহ্য করতে হয়।" "একটু রাগী।" এই ভাষাটা শিল্পী শুনত দেয়ালের ওপার থেকে, পুকুরঘাটে, হাটে। "একটু রাগী" মানে থাপ্পড়, ঘুষি, লাথি, চুল ধরে টানা, গরম ইস্ত্রির ছ্যাঁকা। এই সবকিছু "একটু রাগী" শব্দের আড়ালে লুকিয়ে যায়। ভাষা কিভাবে সহিংসতাকে ছোট করে, শিল্পী এখন বোঝে।

কেউ কেউ বলত, "ছেলেমেয়েদের বাবা দরকার।" এটা সবচেয়ে কঠিন কথা। কারণ এটায় সত্যের ছোঁয়া আছে। বাচ্চাদের বাবা দরকার। কিন্তু কেমন বাবা? যে বাবা মাকে মারে, সেই বাবা কি বাবা? রাফি তার বাবাকে মারতে দেখেছে মাকে। রাফির চোখে সেই দৃশ্য আছে। সেই দৃশ্য নিয়ে বড় হলে রাফি কী শিখবে? যে মারা স্বাভাবিক? যে নারীকে মারা যায়? শিল্পী রাফিকে সেই শিক্ষা থেকে বাঁচিয়েছে। এটাই সবচেয়ে বড় কারণ বেরিয়ে আসার।

শিল্পীর ভাই ছিল একজন, কামরুল। কামরুল প্রথমে রেগে গিয়েছিল, ফিরোজকে মারতে যেতে চেয়েছিল। শিল্পী বলেছিল, "মারামারি করে কী হবে? আমি আইনের পথে যাবো।" শিল্পী থানায় গিয়েছিল। জিডি করেছিল। থানার ওসি বলেছিলেন, "আপা, সমঝোতা করে নিন। সংসার তো।" শিল্পী বলেছিল, "সংসার মানে নির্যাতন না।" ওসি চুপ করে গিয়েছিলেন। জিডি হয়েছিল। তারপর কিছু হয়নি। থানায় গিয়ে অভিযোগ করা আর অভিযোগের ভিত্তিতে কিছু হওয়া, দুটো আলাদা জিনিস। শিল্পী জানে।

তিন বছর হয়ে গেছে।

শিল্পীর বয়স এখন ত্রিশ। রাফি নয়, আয়েশা সাত। শিল্পী বাবার বাড়িতে থাকে। একটা ছোট ঘর, বাচ্চাদের নিয়ে। বাবা স্কুলশিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত, পেনশন আসে। মা সেলাই করেন, একটু আয় হয়। শিল্পী নিজেও কাজ করে এখন। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের একটা প্রকল্পে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ। সচেতনতা কর্মসূচি। মাসে পাঁচ হাজার টাকা। বেশি নয়। কিন্তু নিজের।

শিল্পী এখন অন্য নারীদের সাথে কথা বলে। গ্রামে গ্রামে যায়। নারীদের দলে বসে। গল্প শোনে। গল্প বলে।

"আমি পালিয়ে এসেছি।" শিল্পী বলে। "কিন্তু সব মেয়ে পালাতে পারে না।"

নারীরা চুপ করে শোনে। তাদের চোখে শিল্পী চেনা কিছু দেখে। সেই চেনা নীরবতা। সেই চেনা ভয়। সেই চেনা লজ্জা যেটা আসলে লজ্জা নয়, অভ্যাস। মার খাওয়াকে স্বাভাবিক ভাবার অভ্যাস।

"পালানোর জন্যও সাহস লাগে।" শিল্পী বলে। "সাহস লাগে সেটা বোঝা যে এটা তোমার দোষ না।"

এই বাক্যটা শিল্পী নিজে বুঝতে তিন বছর লেগেছে। সাত বছর মার খেয়েছে, প্রতিবার ভেবেছে নিশ্চয়ই কিছু একটা ভুল করেছে। লবণ কম দিয়েছে, জামা ইস্ত্রি করেনি, বাচ্চা কাঁদছে থামাতে পারেনি। নিজেকে দোষ দিয়েছে। কারণ দোষ নিজের হলে একটা আশা থাকে, ভুলটা শুধরে নিলে মার বন্ধ হবে। কিন্তু দোষ যদি নিজের না হয়? তাহলে আশা নেই। তাহলে মার বন্ধ হবে না, যতই ভালো রান্না করো, যতই পরিষ্কার থাকো। এই সত্যটা মেনে নেওয়া সবচেয়ে কঠিন। কারণ আশা ছাড়া সংসারে থাকার কোনো কারণ নেই। আশা ছাড়া বেরিয়ে আসা ছাড়া পথ নেই।

শিল্পী এই কথা বলে নারীদের। সবাই শোনে। সবাই বেরিয়ে আসে না। কেউ কেউ আসে। একজন, দুজন। সেটাই যথেষ্ট। প্রতিটা একজন একটা জয়।

রাতে শিল্পী বাচ্চাদের পাশে শোয়।

রাফি এখন ঘুমায় একা, বড় হয়েছে। কিন্তু আয়েশা মায়ের পাশ ছাড়ে না। শিল্পী আয়েশার চুলে হাত বোলায়। আয়েশার কোনো স্মৃতি নেই সেই রাতের। সে তখন চার বছর, ঘুমিয়ে ছিল। রাফির আছে। রাফি কখনো কখনো জিজ্ঞেস করে, "আম্মা, আব্বা কেন মারত?" শিল্পী উত্তর দিতে পারে না। কারণ উত্তর নেই। মারার কোনো "কেন" নেই। মারা একটা পছন্দ। ফিরোজ পছন্দ করেছিল মারতে। এটাই উত্তর। কিন্তু এই উত্তর একটা ছেলেকে কিভাবে দেবে?

শিল্পী বলে, "তোর আব্বা অসুস্থ ছিল। মনের অসুখ।"

এটা কি সত্যি? শিল্পী জানে না। হয়তো সত্যি, হয়তো না। কিন্তু এই ব্যাখ্যাটা রাফির জন্য সহনীয়। বাবা খারাপ ছিল, এটা সহ্য করা কঠিন। বাবা অসুস্থ ছিল, এটা সহ্য করা তুলনামূলক সহজ। শিল্পী রাফিকে এই সহজটুকু দিতে চায়।

শিল্পীর শরীরে দাগ আছে। পিঠে একটা, ধারালো কিছু দিয়ে, কখন কেটেছিল মনে নেই। বাঁ বাহুতে একটা পোড়ার দাগ, গরম ইস্ত্রি, ইচ্ছাকৃত। ডান কাঁধে একটা গভীর ক্ষত, দরজায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিল, কাঁধ লেগেছিল দরজার কোণায়। এই দাগগুলো শিল্পীর শরীরে থাকবে চিরকাল। শরীর মনে রাখে। শরীর ভোলে না।

কিন্তু শিল্পী ভুলতে চায় না। ভুলে গেলে অন্য মেয়েদের কাছে কী বলবে? ভুলে গেলে কিভাবে বোঝাবে যে বেরিয়ে আসা সম্ভব? শিল্পীর দাগ তার প্রমাণ। তার সাক্ষ্য।

শিল্পী আজকাল একটা কথা বলে নারী সমাবেশে।

"আমাকে জিজ্ঞেস করো না কেন সহ্য করেছিলাম সাত বছর। জিজ্ঞেস করো কেন বেরিয়ে এসেছি।"

এই পার্থক্যটা গুরুত্বপূর্ণ। "কেন সহ্য করেছিলে?" এই প্রশ্নটা দোষ চাপায় নারীর ওপর। "কেন বেরিয়ে এসেছ?" এই প্রশ্নটা শক্তি দেয়।

শিল্পী বেরিয়ে এসেছে কারণ এক রাতে বৃষ্টির শব্দের ভেতর সে বুঝতে পেরেছিল, এই বাড়িতে থাকলে একদিন সে মারা যাবে। শারীরিকভাবে অথবা মানসিকভাবে, কোনো একভাবে সে শেষ হয়ে যাবে। আর সে শেষ হলে রাফি আর আয়েশা কোথায় যাবে? শিল্পী নিজের জন্য বেরিয়ে আসেনি। বাচ্চাদের জন্য। কিন্তু পরে বুঝেছে, নিজের জন্যও বেরিয়ে আসা দরকার ছিল। নিজের জীবনও মূল্যবান। এই বোধটা আসতে সময় লেগেছে।

শিল্পী এখন স্বপ্ন দেখে। আগে স্বপ্ন দেখত না। ঘুমের ভেতর শুধু ভয় ছিল। পায়ের শব্দে জেগে উঠত। দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দে কেঁপে উঠত। এখনো মাঝে মাঝে হয়। তিন বছর পরেও। শরীর ভোলে না। কিন্তু ধীরে ধীরে কমছে। ধীরে ধীরে ঘুম আসছে। ধীরে ধীরে স্বপ্ন আসছে।

শিল্পী স্বপ্নে দেখে একটা বাড়ি। ছোট। দুটো ঘর। একটা উঠান। একটা গাছ। বাচ্চারা খেলছে। শিল্পী বারান্দায় বসে আছে। কেউ মারছে না। কেউ চিৎকার করছে না। কেউ ভয় পাচ্ছে না।

এটা স্বপ্ন। কিন্তু শিল্পী জানে স্বপ্ন দেখতে পারাটাও একটা মুক্তি। যে মানুষ ভয়ে ঘুমায়, সে স্বপ্ন দেখতে পারে না। শিল্পী এখন স্বপ্ন দেখে। মানে শিল্পী এখন মুক্ত।

সম্পূর্ণ মুক্ত নয়। সম্পূর্ণ মুক্তি আসে না হয়তো কোনোদিন। কিন্তু যথেষ্ট মুক্ত। বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট। স্বপ্ন দেখার জন্য যথেষ্ট।