নারী ইমাম
আল্লাহর ঘরে আমি অতিথি।
১
মরিয়মের ঘরটা ছোট।
দশ ফুট বাই বারো ফুট। মেঝেতে চাটাই বিছানো, পরিষ্কার, প্রতিদিন ঝাড়ু দেয়। দেয়ালে একটা তাক, তাকে কোরআন শরীফ রাখা, কাপড়ে মোড়ানো, সবুজ কাপড়। পাশে আরো কয়েকটা বই, তাফসির, হাদিসের সংকলন, আরবি ব্যাকরণের বই, সব পুরোনো, হলুদ পাতা, কোনো কোনোটার মলাট ছিঁড়ে গেছে। জানালা একটাই, পূব দিকে, সকালে আলো ঢোকে, দুপুরে ছায়া।
এই ঘরে মরিয়ম কোরআন পড়ায়।
পঞ্চাশ বছর বয়স। পঁচিশ বছর ধরে পড়াচ্ছে। শুরু করেছিল নিজের মেয়েদের পড়ানো দিয়ে। তারপর পাশের বাড়ির মেয়ে এলো, তার পাশের বাড়ির মেয়ে এলো, ধীরে ধীরে ছড়িয়ে গেল। এখন পঞ্চাশজন ছাত্রী। মেয়ে আর নারী। ছোট মেয়ে পাঁচ বছরের, বড় নারী ষাট বছরের। সবাই আসে মরিয়মের কাছে। কোরআন শিখতে, দোয়া শিখতে, নামাজ শিখতে।
মরিয়ম নিজে শিখেছিলেন তার বাবার কাছে। বাবা হাফেজ আবদুর রশিদ। গ্রামের মসজিদের ইমাম ছিলেন তিরিশ বছর। মরিয়ম তার একমাত্র সন্তান। ছেলে নেই। হাফেজ সাহেব মেয়েকে শিখিয়েছিলেন, পুরো কোরআন, তাজবিদ, তাফসির, হাদিস। মেয়ে বলে আটকাননি। "আল্লাহর কালাম মেয়ে-ছেলে ভাগ করেননি। কালাম সবার জন্য।" হাফেজ সাহেব এই কথা বলতেন। মরিয়ম সেই কথা মনে রাখে।
কিন্তু মসজিদে মরিয়মের জায়গা নেই। বাবা মসজিদে ইমামতি করতেন, মরিয়ম বাইরে বসে শুনত। ভেতরে ঢুকতে পারত না। মেয়েদের জন্য আলাদা জায়গা ছিল না সেই মসজিদে। বেশিরভাগ গ্রামের মসজিদে নেই। শহরে কোথাও কোথাও আছে, পর্দার পেছনে, আলাদা, দূরে। কিন্তু গ্রামে? গ্রামে মসজিদ পুরুষের। নারী ঘরে নামাজ পড়বে। এটা নিয়ম। কার নিয়ম? মরিয়ম এই প্রশ্নটা করে না সবার সামনে। নিজের ভেতরে করে।
২
সকাল আটটায় প্রথম ব্যাচ আসে।
ছোট মেয়েরা। পাঁচ থেকে দশ বছর। পনেরোজন। চাটাইয়ে সারি সারি বসে। সামনে রেহাল, তার ওপর কায়দা অথবা আমপারা। মরিয়ম সামনে বসে। "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। পড়ো।"
মেয়েরা পড়ে। একজন একজন করে। মরিয়ম শোনে। উচ্চারণ শুদ্ধ হচ্ছে কিনা, মাখরাজ ঠিক আছে কিনা, মাদ্দ যথেষ্ট লম্বা কিনা। প্রতিটা হরফের উচ্চারণ আলাদা, প্রতিটা হরকতের নিয়ম আলাদা। মরিয়ম ধৈর্য ধরে শোনে, ভুল হলে থামায়, আবার পড়ায়। চিৎকার করে না, বকে না, মারে না। মরিয়মের বাবা মারতেন না। মরিয়মও মারে না।
"আলিফ-লাম-মীম। আবার বলো। আলিফ। জিভের আগা ওপরের দাঁতে ঠেকবে না। আলিফ পেটের ভেতর থেকে আসবে। গভীর থেকে।"
মরিয়মের পড়ানোর ভাষা সহজ। কঠিন আরবি ব্যাকরণ সে বাংলায় ভাঙে, উপমা দেয়, ছবি আঁকে মাটিতে। ছোট মেয়েরা বোঝে। বোঝে কারণ মরিয়ম তাদের ভাষায় বলে। মাদ্রাসায় আরবিতে বলা হয়, মেয়েরা আরবি জানে না, মুখস্ত করে, বোঝে না। মরিয়ম মুখস্ত করায় না প্রথমে। প্রথমে বোঝায়। "এই আয়াতে আল্লাহ কী বলছেন? বলছেন ধৈর্য ধরো। ধৈর্য কী? ধৈর্য মানে অপেক্ষা করা। তোমার আম্মা যখন ভাত রান্না করে, সে কি তাড়াহুড়া করে? না। সে ধৈর্য ধরে। আঁচে রাখে, অপেক্ষা করে। সেটাই ধৈর্য।"
মেয়েরা মাথা নাড়ে। বুঝেছে।
৩
দুপুরে দ্বিতীয় ব্যাচ। বড় মেয়েরা, কিশোরী, ক্লাস সিক্স-সেভেন-এইট। এরা কোরআন পড়া জানে, এখন তাফসির শিখছে, অর্থ শিখছে। মরিয়ম এদের সাথে আলোচনা করে।
"সূরা নিসা কাদের নিয়ে?"
"নারীদের নিয়ে।"
"কী বলা আছে সেখানে?"
"নারীদের অধিকারের কথা। সম্পত্তির অধিকার। মোহরের অধিকার।"
মরিয়ম বলে, "ঠিক। ইসলামে নারীর সম্পত্তির অধিকার আছে। মোহরের অধিকার আছে। কিন্তু বাস্তবে কতজন নারী পায়? তোমাদের আম্মারা কি বাবার সম্পত্তি পেয়েছে?"
মেয়েরা চুপ করে যায়। কেউ কেউ মাথা নাড়ে। বেশিরভাগের আম্মারা পায়নি।
মরিয়ম বলে, "ধর্ম দিয়েছে। সমাজ কেড়ে নিয়েছে। ধর্ম আর সমাজ এক জিনিস না। এটা মনে রাখবে।"
এই কথাটা মরিয়ম বলে সাবধানে। কারণ এই কথায় ঝুঁকি আছে। গ্রামে এই কথা বললে কেউ কেউ বলবে, "মরিয়ম ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলছে।" কিন্তু মরিয়ম ধর্মের বিরুদ্ধে বলছে না। সমাজের বিরুদ্ধে বলছে যেটা ধর্মের নামে নারীর অধিকার কেড়ে নেয়।
এই পার্থক্যটা সূক্ষ্ম। মরিয়ম জানে। মরিয়ম সেই সূক্ষ্ম রেখার ওপর দিয়ে হাঁটে। প্রতিদিন।
৪
বিকেলে তৃতীয় ব্যাচ। নারীরা। বিবাহিত, সংসারী, কাজের ফাঁকে আসে।
এরা কোরআন পড়তে চায়, নামাজ শুদ্ধ করতে চায়, দোয়া শিখতে চায়। অনেকে বিয়ের আগে শিখতে পারেনি, সুযোগ ছিল না, মাদ্রাসায় পাঠানো হয়নি। ছেলেকে পাঠানো হয়েছে, মেয়েকে হয়নি। এখন সংসার সামলে, বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে, ঘরের কাজ করে, বিকেলে একটু সময় বের করে আসে মরিয়মের কাছে।
রেহেনা, পঁয়ত্রিশ, তিন সন্তানের মা। সূরা ফাতিহা শুদ্ধভাবে পড়তে পারে না। শিখতে এসেছে। মরিয়ম ধৈর্য ধরে পড়ায়। "রেহেনা, 'ইয়্যাকা' বলো। 'ইয়া' আগে, তারপর 'কা'। তাড়াহুড়ো করো না।" রেহেনা চেষ্টা করে। ভুল হয়। আবার চেষ্টা করে। মরিয়ম হাসে, "ভুল হবে। ভুল না হলে শেখা হয় না।"
জোবেদা, ষাট, নাতি-নাতনি আছে। সারাজীবন নামাজ পড়েছে, কিন্তু সূরাগুলো সঠিকভাবে পড়ছে কিনা নিশ্চিত নয়। এত বছর পরে লজ্জায় কাউকে জিজ্ঞেস করতে পারেনি। মরিয়ম বলে, "লজ্জা কীসের? আল্লাহর কাছে শেখার কোনো বয়স নেই। জোবেদা আপা, আপনি এসেছেন, এটাই সবচেয়ে বড় কথা।"
মরিয়ম জানে, এই নারীরা মসজিদে গিয়ে শিখতে পারত না। মসজিদে নারীদের জন্য ক্লাস নেই। ইমাম সাহেব পুরুষদের পড়ান, জুমার খুতবা দেন, তারাবির নামাজ পড়ান। নারীরা? নারীরা ঘরে বসে থাকে। নারীদের ধর্মীয় শিক্ষার দায়িত্ব কেউ নেয় না। রাষ্ট্র নেয় না, মসজিদ নেয় না, সমাজ নেয় না। মরিয়ম নিয়েছে। নিজের ছোট ঘরে, নিজের চাটাইতে, নিজের সময়ে।
আমি আল্লাহর কথা শেখাই। কিন্তু মসজিদে আমার জায়গা নেই। আল্লাহর ঘরে আমি অতিথি।
মরিয়ম এই কথাটা ভাবে প্রতি শুক্রবার। জুমার আজানের সময়। পুরুষেরা মসজিদে যায়, পাজামা-পাঞ্জাবি পরে, টুপি মাথায়, একে একে। মরিয়ম ঘরে বসে নামাজ পড়ে। একা। ঘরে একটা জায়নামাজ বিছিয়ে, কেবলামুখী হয়ে, একা। মসজিদের মাইকে খুতবা শোনা যায়। মরিয়ম শোনে। ভেতরে একটা চাপা কষ্ট আছে যেটা সে কাউকে বলে না। সে কোরআন পড়াতে পারে, কিন্তু মসজিদে দাঁড়াতে পারে না। সে হাদিস জানে, কিন্তু মিম্বারে উঠতে পারে না। সে ইমামতি করতে পারে, কিন্তু করার অনুমতি নেই। অনুমতি কার কাছে? সমাজের কাছে। পুরুষের কাছে। ধর্মের কাছে? মরিয়ম নিশ্চিত নয়। ধর্মের নিষেধ আর সমাজের নিষেধ, মরিয়ম এই দুটোর মধ্যে তফাৎ খোঁজে। সবসময় পায় না।
৫
মরিয়মের একটা ছাত্রী আছে, নাম রাবেয়া। চোদ্দো বছর। মেধাবী। কোরআন পড়ে এমনভাবে যেন সুর বাতাসে ভেসে যায়। মরিয়ম রাবেয়ার মধ্যে নিজের ছোটবেলা দেখে। সেই একই আগ্রহ, সেই একই গভীরতা।
রাবেয়ার বাবা একদিন এসে বললেন, "আপা, রাবেয়ার বিয়ে ঠিক হয়েছে। পড়া আর লাগবে না।" মরিয়ম বললেন, "রাবেয়ার বয়স চোদ্দো। বিয়ের বয়স হয়নি।" রাবেয়ার বাবা বললেন, "মেয়ে বড় হয়ে গেছে। আর দেরি করলে ভালো পাত্র পাওয়া যাবে না।"
মরিয়ম বুঝলেন তর্ক করে লাভ নেই। কিন্তু চুপও থাকতে পারলেন না। বললেন, "ইসলামে জ্ঞান অর্জন ফরজ। নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য। রাবেয়া যদি কোরআন শেখা শেষ করতে পারে, তাহলে সে একদিন অন্যদের শেখাতে পারবে। এটা সদকায়ে জারিয়া। আপনার নামেও সওয়াব হবে।"
ধর্মের ভাষায় বললে কাজ হয় কখনো কখনো। রাবেয়ার বাবা ভাবলেন। বিয়ে এক বছর পিছিয়ে গেল। মরিয়ম জানে, এটা সমাধান নয়। এটা সময় কেনা। কিন্তু সময়ও কম নয়। এক বছরে রাবেয়া আরো শিখবে, আরো বড় হবে, হয়তো নিজের কণ্ঠস্বর খুঁজে পাবে।
মরিয়ম এই ধরনের যুদ্ধ লড়ে প্রতিদিন। ধর্মকে হাতিয়ার করে ধর্মের নামে করা অন্যায়ের বিরুদ্ধে। এটা জটিল। এটা ক্লান্তিকর। কিন্তু মরিয়ম ক্লান্ত হয় না। মরিয়ম জানে, এই লড়াইটা তার বাবার শুরু করা। হাফেজ আবদুর রশিদ, যিনি মেয়েকে কোরআন শিখিয়েছিলেন যখন গ্রামের সবাই বলেছিল মেয়েকে শেখানোর দরকার নেই।
৬
সন্ধ্যায় মরিয়ম হিসেব করে।
পঞ্চাশজন ছাত্রী। প্রতিজনের মাসিক ফি চল্লিশ টাকা। সবাই দেয় না। কেউ কেউ দিতে পারে না, মরিয়ম চায় না। "পারবে না তো দিও না। শেখা বন্ধ করো না।" যারা দেয় তাদের থেকে মাসে দুই হাজার টাকার মতো আসে। দুই হাজার। পঁচিশ বছরের অভিজ্ঞতা, পুরো কোরআন হেফজ, তাজবিদ, তাফসির, হাদিস জানা, পঞ্চাশজন ছাত্রী। মাসে দুই হাজার।
মসজিদের ইমাম পান মাসে পনেরো-কুড়ি হাজার। বেতন, ঈদ বোনাস, মিলাদের দান, জানাজার দান। সামাজিক মর্যাদা। সবাই বলে "হুজুর।" সম্মান করে। মরিয়মকে কেউ "হুজুর" বলে না। বলে "মরিয়ম আপা।" অথবা "কোরআনের আপা।" হুজুর পুরুষের শব্দ। নারীর জন্য কোনো শব্দ নেই ধর্মীয় নেতৃত্বে। শব্দ না থাকলে পদ থাকে না। পদ না থাকলে মর্যাদা থাকে না। মর্যাদা না থাকলে পারিশ্রমিক থাকে না।
মরিয়মের স্বামী হাসান আলী চায়ের দোকান চালায়। আয় কম, কিন্তু সংসার চলে। মরিয়মের দুই হাজার টাকা সংসারে যায়। হাসান আলী কোনোদিন বলেনি, "এই পড়ানো বন্ধ করো।" বলেছে, "তোমার কাজ তোমার কাজ। আল্লাহর কাজে বাধা দিতে নেই।" মরিয়ম এই মানুষটার জন্য কৃতজ্ঞ। সব পুরুষ এক রকম নয়। হাসান আলী প্রমাণ।
৭
মরিয়মের দুই মেয়ে। বড় মেয়ে সামিয়া, বিশ বছর, কলেজে পড়ে। ছোট মেয়ে তাহেরা, পনেরো, স্কুলে। দুজনেই কোরআন পারে, মরিয়ম শিখিয়েছে। কিন্তু দুজনের কেউ মায়ের পথে আসতে চায় না। সামিয়া বলে, "আম্মা, আমি কম্পিউটার শিখবো। চাকরি করবো।" মরিয়ম বলে, "করো। কিন্তু কোরআন ভুলো না।"
মরিয়ম জানে তার পরে কে পড়াবে এই গ্রামে। হয়তো কেউ না। হয়তো মরিয়মের ছোট ঘরটা আবার খালি ঘর হয়ে যাবে। চাটাই গোটানো থাকবে, রেহাল ধুলো খাবে, কোরআনের কাপড় কেউ খুলবে না। এই ভাবনাটা মরিয়মকে কষ্ট দেয়। কিন্তু মরিয়ম জানে জোর করা যায় না। ইসলাম জোর করার ধর্ম না। "লা ইকরাহা ফিদ্দিন।" ধর্মে কোনো জবরদস্তি নেই। মরিয়ম এটা মানে। নিজের মেয়েদের ক্ষেত্রেও।
তবে মরিয়ম দেখেছে, তার ছাত্রীদের মধ্যে কেউ কেউ আছে যারা একদিন পড়াবে। রাবেয়া পড়াবে, যদি বিয়ের পরেও সুযোগ পায়। ছোট্ট ফাহমিদা পড়াবে, যে পাঁচ বছর বয়সে এমনভাবে আলিফ বলে যেন আলিফের ভেতরের সুর সে শুনতে পায়। বীজ ছড়ানো হয়েছে। সব বীজ গজাবে না। কিন্তু কোনো কোনোটা গজাবে। মরিয়ম এটুকু বিশ্বাস করে।
৮
রাতে মরিয়ম নিজে কোরআন পড়ে।
এটা তার নিজের সময়। সারাদিন অন্যদের পড়িয়েছে, এখন নিজে পড়ে। তেলাওয়াত। ধীরে ধীরে, সুরে সুরে। ঘরে আর কেউ নেই, হাসান আলী ঘুমিয়ে গেছে, মেয়েরা নিজেদের ঘরে। মরিয়ম একা। কোরআনের সাথে। এই মুহূর্তে মরিয়ম আর আল্লাহর মধ্যে কেউ নেই। কোনো ইমাম নেই, কোনো মসজিদ নেই, কোনো পর্দা নেই, কোনো নিষেধ নেই। শুধু আয়াত আর মরিয়ম।
মরিয়ম পড়ে সূরা মুজাদালা। প্রথম আয়াত। "আল্লাহ শুনেছেন সেই নারীর কথা যে তার স্বামীর বিষয়ে তোমার কাছে অভিযোগ করেছে।" মরিয়ম থামে। এই আয়াত একজন নারীর কারণে নাজিল হয়েছিল। খাওলা বিনতে সালাবা। একজন নারী আল্লাহর কাছে অভিযোগ করেছিলেন, আল্লাহ শুনেছিলেন, আয়াত পাঠিয়েছিলেন। আল্লাহ নারীর কথা শোনেন। মরিয়ম এটা জানে। কিন্তু সমাজ কি শোনে?
মরিয়ম কোরআন বন্ধ করে। কাপড়ে মুড়িয়ে তাকে রাখে।
জানালা দিয়ে আকাশ দেখা যায়। তারা আছে, অনেক। মরিয়ম ভাবে, আল্লাহ সবকিছু সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায়। নারী-পুরুষ, দিন-রাত, আকাশ-জমিন। জোড়ায় মানে সমান। এক ছাড়া আর এক অসম্পূর্ণ। তাহলে মসজিদে কেন এক জোড়ার অর্ধেক নেই?
এই প্রশ্নের উত্তর মরিয়ম পায় না। পায় না বলে প্রশ্নটা রেখে দেয়। আল্লাহর কাছে। আল্লাহ জানেন।
মরিয়ম ঘুমায়। কাল সকালে আবার ছোট মেয়েরা আসবে। আলিফ-বা-তা থেকে শুরু। মরিয়ম শেখাবে। তার ছোট ঘরে, তার চাটাইতে, তার কণ্ঠে। মসজিদ না হোক। মসজিদের চেয়ে ছোট, কিন্তু আল্লাহর কাছে ছোট-বড় নেই। আল্লাহ সব জায়গায় আছেন।
মরিয়ম এটা বিশ্বাস করে। এই বিশ্বাসটুকুই তার শক্তি। এই বিশ্বাসটুকুই তার মসজিদ।