মেয়ের বাবা
বাবা ছেলে চেয়েছিলেন। আমি মেয়ে হয়ে ছেলের চেয়ে বেশি দিয়েছি।
১
বাবা চেয়েছিলেন ছেলে।
এটা আমি জানি। আমাকে কেউ বলেনি, কিন্তু আমি জানি। মানুষ যা বলে না, সেটা ঘরের দেয়ালে লেখা থাকে। চোখের কোণে লেখা থাকে। নীরবতায় লেখা থাকে। বাবার নীরবতা আমি পড়তে শিখেছি, তিন বছর বয়স থেকে।
আমার নাম রুপা। বাবা রাখেননি এই নাম। মা রেখেছিলেন। বাবা নাম রাখার জন্য অপেক্ষা করছিলেন, ছেলে হলে রাখবেন "রাকিব।" মেয়ে হলো। বাবা চুপ করে গেলেন। তিনদিন চুপ ছিলেন। তৃতীয় দিন মা বললেন, "নাম কী রাখবে?" বাবা বললেন, "তুমিই রাখো।" মা রাখলেন রুপা। বাবা সেদিন থেকে আমাকে নাম ধরে ডাকতেন না। "মা" বলতেন। "মা, এদিকে আয়।" "মা, খেয়েছিস?"
"মা" ডাকটা আদর ছিল না। অভ্যাস ছিল। যেন নামটা মুখে আনলে স্বীকার করতে হয় যে এই মেয়েটা আছে, এই মেয়েটা তার, এই মেয়েটা ছেলে নয়।
আমি এটা বুঝতাম। তিন বছর বয়সে বুঝতাম না, পাঁচে বুঝতাম না, কিন্তু সাতে বুঝতে শুরু করেছিলাম। পাশের বাড়ির রনির বাবা রনিকে কাঁধে চড়াতেন। আমার বাবা আমাকে কাঁধে চড়াননি কোনোদিন। রনির বাবা রনিকে ক্রিকেট খেলা দেখাতে নিয়ে যেতেন। আমার বাবা আমাকে কোথাও নিয়ে যেতেন না। রনি ছেলে। আমি মেয়ে। এটুকু পার্থক্যে পৃথিবী আলাদা হয়ে যায়।
বাবার পেশা ভ্যানচালক। সকালে বেরোতেন, সন্ধ্যায় ফিরতেন। দুশো-আড়াইশো টাকা। কখনো তিনশো। ভালো দিনে চারশো। খারাপ দিনে একশো পঞ্চাশ। বৃষ্টির দিনে শূন্য। বাবার হাতের তালু পুরু ছিল, শক্ত, চামড়া ফেটে গিয়েছিল। ভ্যানের হাতল ধরতে ধরতে হাত বদলে গিয়েছিল। আমি ছোটবেলায় বাবার হাত ধরতে গেলে শক্ত লাগত, কর্কশ, যেন হাত নয়, কাঠ।
বাবা আমাকে ভালোবাসতেন কিনা, এই প্রশ্ন আমাকে অনেকদিন তাড়া করেছে।
২
আমাদের ঘর টিনের। একটা ঘর। মাঝখানে পাটি দিয়ে ভাগ করা। একদিকে বাবা-মা, অন্যদিকে আমি। পাটির ওপাশ থেকে সব শোনা যায়। বাবার কাশি, মায়ের শ্বাস, রাতে বাবা যখন পাশ ফেরেন বিছানায় কড়মড় করে।
একরাতে শুনেছিলাম। আমার বয়স তখন নয়। বাবা মাকে বলছিলেন, "আরেকটা হলে ভালো হতো।" মা বলেছিলেন, "রুপা আছে তো।" বাবা বলেছিলেন, "রুপা তো মেয়ে।" মা চুপ করে গিয়েছিলেন।
সেই রাতে আমি কাঁদিনি। কাঁদার বয়স ছিল, কিন্তু কাঁদিনি। পাটির এপাশে চিৎ হয়ে শুয়ে টিনের চালের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। চালে একটা ফুটো ছিল, সেই ফুটো দিয়ে একটুকরো আকাশ দেখা যেত। আমি সেই আকাশের দিকে তাকিয়ে ঠিক করেছিলাম কিছু একটা, যেটা তখন ভাষায় বলতে পারতাম না, কিন্তু শরীরে টের পেয়েছিলাম। সেটা রাগ ছিল না। দুঃখও ছিল না। সেটা ছিল সংকল্প। নয় বছরের মেয়ের সংকল্প। জিদ। একরোখা, নিঃশব্দ জিদ।
আমি প্রমাণ করব।
কী প্রমাণ করব, তখন জানতাম না। কিন্তু জানতাম যে কিছু একটা প্রমাণ করতে হবে। বাবার কাছে। পৃথিবীর কাছে। নিজের কাছে।
৩
স্কুলে আমি প্রথম হতাম।
প্রথম হওয়াটা আমার জন্য সহজ ছিল না। বাড়িতে পড়ার জায়গা ছিল না। টিনের ঘরে একটা টেবিল ছিল, সেটা খাওয়ার টেবিল, পড়ার টেবিল, মায়ের সেলাইয়ের টেবিল, সবকিছুর টেবিল। সন্ধ্যায় কেরোসিনের বাতি জ্বালিয়ে পড়তাম, কারণ বিদ্যুৎ থাকত না। চোখ জ্বলত। ধোঁয়া লাগত। কিন্তু পড়া থামাতাম না।
বাবা আমার পড়া দেখতেন না। কখনো জিজ্ঞেস করতেন না কী পড়ছি, কোন ক্লাসে কত নম্বর পেয়েছি। মা জিজ্ঞেস করতেন। মা নিজে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়েছিলেন, তার বেশি বোঝার ক্ষমতা ছিল না, কিন্তু জিজ্ঞেস করতেন। "কেমন হলো?" "ভালো, মা।" "কত পেলি?" "প্রথম।" মা হাসতেন। বাবা পাশে বসে চা খেতেন, কিছু বলতেন না।
ক্লাস সিক্সে আমার গণিতের স্যার বললেন, "রুপা, তুই SSC-তে ভালো করবি।" আমি ভেতরে ভেতরে জানতাম। কিন্তু ভালো করার অর্থ কী? প্রথম হওয়া? নম্বর পাওয়া? নাকি বাবার চোখ বদলানো?
ক্লাস সেভেনে বৃত্তি পরীক্ষা হলো। আমি পেলাম। মাসে তিনশো টাকা। তিনশো টাকা কম, কিন্তু আমার পড়ার খরচ তো তিনশো টাকার চেয়ে কম। খাতা, কলম, কিছু বই। বৃত্তির টাকায় চলত। বাবার কাছে হাত পাততে হতো না।
বাবা বৃত্তির কথা শুনে বলেছিলেন, "হুঁ।"
একটা শব্দ। "হুঁ।" না প্রশংসা, না অভিনন্দন, না আনন্দ। শুধু "হুঁ।" যেন মেয়ের বৃত্তি পাওয়াটা একটা ঘটনা, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নয়।
আমি সেই "হুঁ" গিলে ফেলেছিলাম। আরো শক্ত হয়েছিলাম।
৪
ক্লাস নাইনে আমার পিরিয়ড শুরু হলো। দেরিতে শুরু হয়েছিল, অন্য মেয়েদের আগেই হয়ে গিয়েছিল। মা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন কী করতে হয়। কাপড় কোথায় রাখতে হয়। কীভাবে ভাঁজ করতে হয়। প্যাড কেনার টাকা ছিল না, কাপড় দিয়ে চলত।
পরীক্ষার সময় পিরিয়ড হলে কী হয়, সেটা কোনো ছেলে জানে না। পেট কামড়ায়, মাথা ঘোরে, কোমর ভাঙে, শরীর ক্লান্ত হয়ে আসে, আর তার ওপরে পরীক্ষার টেনশন। ছেলেরা পরীক্ষার হলে ঢুকে শুধু প্রশ্নের উত্তর লেখে। মেয়েরা প্রশ্নের উত্তর লেখে আর শরীরের সাথে যুদ্ধ করে। দুটো পরীক্ষা একসাথে।
SSC-র আগে মডেল টেস্ট হলো। আমি প্রতিটায় প্রথম। স্যাররা বললেন, "রুপা GPA-5 পাবে।" আমি জানতাম পাব। কিন্তু GPA-5 চাইনি। চেয়েছিলাম আরো বেশি কিছু। চেয়েছিলাম জেলায় প্রথম হতে।
কেন? কারণ জেলায় প্রথম হলে পত্রিকায় নাম আসে। পত্রিকায় নাম আসলে পাড়ার সবাই জানে। পাড়ার সবাই জানলে বাবাও জানেন। বাবা জানলে হয়তো "হুঁ"-র বদলে অন্য কিছু বলবেন।
আমি পড়েছি। ঘুম কমিয়ে পড়েছি। ভোর চারটায় উঠে পড়েছি। রাত বারোটায় পড়েছি। কেরোসিনের বাতি নিভে গেলে মোবাইলের আলোয় পড়েছি। মায়ের পুরোনো নোকিয়া ফোন, তার আলো অল্প, কিন্তু যথেষ্ট। অক্ষর দেখা যায়। অক্ষর দেখা গেলেই পড়া যায়।
SSC পরীক্ষা শুরু হলো। প্রথম দিন বাংলা। আমি লিখেছি। ভেতর থেকে লিখেছি। দ্বিতীয় দিন ইংরেজি। তৃতীয় দিন গণিত, আমার প্রিয়। গণিতে সংখ্যা থাকে, সংখ্যা মিথ্যা বলে না, সংখ্যা লিঙ্গ দেখে না।
৫
রেজাল্টের দিন।
মা ফোন করেছিলেন স্কুলে। স্কুলের স্যার বললেন, "রুপা জেলায় সেকেন্ড।"
সেকেন্ড। প্রথম নয়। আমি একটু থমকে গিয়েছিলাম। তারপর ভেবেছিলাম, জেলায় দ্বিতীয়। একটা ভ্যানচালকের মেয়ে। টিনের ঘরে কেরোসিনের বাতিতে পড়ে। জেলায় দ্বিতীয়।
মা কেঁদেছিলেন। আনন্দের কান্না। মা এমন কাঁদেন যে বোঝা যায় না কাঁদছেন না হাসছেন। মুখ ভেজা, চোখ ভেজা, কিন্তু ঠোঁটে হাসি।
বাবা সন্ধ্যায় ফিরলেন। ভ্যান রেখে উঠানে ঢুকলেন। মা বললেন, "শুনেছো? রুপা জেলায় সেকেন্ড।" বাবা দাঁড়িয়ে গেলেন। গামছা দিয়ে মুখ মুছছিলেন, হাত থেমে গেল।
"সেকেন্ড?"
"হ্যাঁ। জেলায়।"
বাবা আমার দিকে তাকালেন। সেই তাকানো আমি চিনতাম না। আগে যে তাকানো ছিল, সেটা ছিল দূরত্বের তাকানো, যেন দেখছেন কিন্তু দেখছেন না। এই তাকানো আলাদা। এই তাকানোয় কিছু একটা ভেঙেছিল। পুরোনো কিছু একটা ভেঙে পড়েছিল বাবার চোখের ভেতর থেকে, আর তার জায়গায় নতুন কিছু একটা উঠে আসছিল, ধীরে, কাঁপা কাঁপা, যেন বাবা নিজেও চিনতে পারছিলেন না সেটা কী।
বাবা বললেন, "রুপা।"
প্রথমবার। প্রথমবার নাম ধরে ডাকলেন। "মা" নয়। "রুপা।"
আমি বললাম, "জি বাবা।"
বাবা কিছু বললেন না। ভেতরে চলে গেলেন। আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম। মা আমার দিকে তাকিয়ে হাসছিলেন। মা বুঝেছিলেন। মায়েরা সব বোঝেন।
৬
পরের দিন সকালে বাবা বেরোলেন ভ্যান নিয়ে। আমি দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। বাবা গেটের কাছে গিয়ে থামলেন। পেছন ফিরে তাকালেন।
"রুপা।"
"জি?"
"কলেজে ভর্তি হবি তো?"
"জি।"
বাবা মাথা নাড়লেন। তারপর বেরিয়ে গেলেন।
এটুকু। এটুকুই ছিল। কিন্তু এটুকু যথেষ্ট ছিল। "কলেজে ভর্তি হবি তো?" মানে বাবা চান আমি পড়ি। মানে বাবা মেনে নিয়েছেন আমি মেয়ে হলেও পড়তে পারি। মানে বাবার ভেতরে কিছু একটা বদলেছে, আমি সেই বদলের শব্দ শুনতে পাচ্ছি, ভ্যানের চাকার শব্দের পেছনে, সকালের কাকের ডাকের পেছনে।
কলেজে ভর্তি হলাম। সরকারি কলেজ, খরচ কম। বৃত্তি পাচ্ছি এখনো। বাবা প্রতি মাসে পাঁচশো টাকা দেন। পাঁচশো টাকা তার জন্য অনেক। দিনে আড়াইশো টাকা আয়ে পাঁচশো টাকা মেয়ের পড়ার জন্য আলাদা রাখা, সেটা ত্যাগ। সেটা ভালোবাসা। সেটা সেই ভালোবাসা যেটা আগে ছিল কিন্তু "ছেলে চাই" এর পর্দার পেছনে লুকিয়ে ছিল।
বাবা এখন আমার পড়া জিজ্ঞেস করেন। "কী পড়ছিস?" "বায়োলজি।" "ডাক্তার হবি?" "চেষ্টা করব।" বাবা মাথা নাড়েন। সেই মাথা নাড়ানোয় গর্ব আছে। চাপা গর্ব। একজন ভ্যানচালকের গর্ব। যে গর্ব মুখে বলতে পারে না, কিন্তু পাড়ার লোকের সামনে মেয়ের নাম উচ্চারণ করার সময় গলায় ফুটে ওঠে।
৭
পাড়ায় একদিন শুনলাম। চায়ের দোকানে বসে বাবা কাকে বলছিলেন, "আমার মেয়ে জেলায় সেকেন্ড হয়েছে।"
"আমার মেয়ে।"
আমি রাস্তার ওপাশে দাঁড়িয়ে শুনছিলাম। বাবা দেখেননি আমাকে। বাবার গলায় সেই শব্দটা ছিল, যেটা আমি সারাজীবন খুঁজেছি। গর্ব। প্রকাশ্য, জনসমক্ষে, চায়ের দোকানে, পুরুষদের সামনে।
"ডাক্তার হবে।" বাবা যোগ করলেন। আমি এখনো ডাক্তার হইনি, এখনো HSC দিইনি, কিন্তু বাবা বলছেন "ডাক্তার হবে" যেন সেটা ঠিক করা হয়ে গেছে, যেন সংখ্যাটা মিলে গেছে।
আমি সেদিন কাঁদিনি। কিন্তু ভেতরে কিছু একটা ছিল, গলায়, বুকে, যেটা কান্না নয়, হাসি নয়, রাগ নয়, গর্ব নয়। সেটা ক্লান্তি। সেই ক্লান্তি যেটা আসে যখন দীর্ঘ যুদ্ধ শেষ হয়। জয়ের পরেও মানুষ প্রথমে আনন্দ পায় না, প্রথমে ক্লান্তি পায়।
৮
বাবা ছেলে চেয়েছিলেন। আমি মেয়ে হয়ে ছেলের চেয়ে বেশি দিয়েছি।
কিন্তু সেটা আমার কাজ ছিল না।
সেটা ছিল বাবার চোখ বদলানো। আমি আমার পড়া, আমার পরিশ্রম, আমার নির্ঘুম রাত দিয়ে বাবার চোখ বদলেছি। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়: কেন আমাকে এত কিছু করতে হলো শুধু এটা প্রমাণ করতে যে আমি যোগ্য? ছেলে হলে কি এত কিছু করতে হতো? ছেলে হলে কি বাবা প্রথম দিন থেকেই নাম ধরে ডাকতেন? ছেলে হলে কি "হুঁ" না বলে "বাহ" বলতেন?
আমি জানি উত্তর। উত্তর হ্যাঁ। ছেলে হলে সব আগেই পেতাম। ছেলে হলে জন্মের পরে তিনদিন চুপ করে থাকতে হতো না বাবাকে।
কিন্তু আমি মেয়ে। আর মেয়ে হয়ে আমি যা পেয়েছি, সেটা অর্জন করে পেয়েছি। কেউ দেয়নি, নিজে নিয়েছি। বাবার গর্ব আমি কিনেছি, SSC-র নম্বর দিয়ে, বৃত্তির টাকা দিয়ে, নির্ঘুম রাত দিয়ে।
এটা অন্যায়। এটা অন্যায় যে একটা মেয়েকে তার বাবার ভালোবাসা অর্জন করতে হয়, যেখানে ছেলে জন্ম নিয়েই পায়।
কিন্তু এটাই বাস্তব। বাংলাদেশে, জামালপুরে, টিনের ঘরে, ভ্যানচালকের সংসারে, এটাই বাস্তব।
আমি বাবাকে দোষ দিই না। বাবাও এই বাস্তবের শিকার। বাবাকেও কেউ শেখায়নি যে মেয়ে ছেলের চেয়ে কম নয়। বাবার বাবা শেখাননি। বাবার বাবার বাবা শেখাননি। শেকড় গভীরে যায়। শেকড় কাটতে সময় লাগে।
আমার SSC রেজাল্ট সেই কাটার শুরু।
৯
আজ সন্ধ্যায় বাবা ফিরলেন। ক্লান্ত। সারাদিন ভ্যান চালিয়েছেন। গামছায় মুখ মুছলেন। আমি চা বানিয়ে দিলাম। বাবা চা খেতে খেতে বললেন, "পড়াশোনা কেমন চলছে?"
আমি বললাম, "ভালো।"
বাবা বললেন, "ভালো করিস। তোকে দেখে পাড়ার আরো মেয়েরা পড়ছে।"
আমি চুপ করে ছিলাম। বাবা এটা আগে বলতেন না। বাবা এটা ভাবতেনও না। বাবা ভাবতেন মেয়ে মানে বিয়ে, মেয়ে মানে পরের বাড়ি, মেয়ে মানে খরচ। এখন বাবা ভাবেন মেয়ে মানে গর্ব।
এই বদলটা ছোট নয়। এই বদলটা একটা ভ্যানচালকের মাথার ভেতরে ঘটেছে, যেখানে বই পৌঁছায় না, বক্তৃতা পৌঁছায় না, সেমিনার পৌঁছায় না। সেখানে পৌঁছেছে একটা মেয়ের রেজাল্ট কার্ড।
রেজাল্ট কার্ড দিয়ে বিপ্লব হয়। নিঃশব্দে হয়। কেউ জানে না।
আমি জানি।
বাবা চায়ের কাপ রাখলেন। উঠে ভেতরে গেলেন। দরজার কাছে থেমে বললেন, "রুপা।"
"জি?"
"ভালো মেয়ে।"
দুটো শব্দ। "ভালো মেয়ে।" এই দুটো শব্দের জন্য আমি কুড়ি বছর অপেক্ষা করেছি।
অপেক্ষা শেষ।