নারী ও আগুন

আমি চুপ ছিলাম। আমার চুপ থাকা তাকে মারার সাথী।

পর্ব ৯৬ · ১০ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-২০

আগুন কুলসুমকে ভয় পায় না।

কুলসুম পঁয়তাল্লিশ বছর ধরে রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে আছে। দশ বছর বয়সে মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে প্রথম চুলা জ্বালাতে শিখেছিল। খড়ের মুঠো, একটু কেরোসিন, একটা দেশলাই। আগুন জ্বলে উঠলে মুখে গরম হাওয়া এসে লাগত, চোখ জ্বালা করত। মা বলত, "মুখ সরা।" কুলসুম সরাত না। আগুনের দিকে তাকিয়ে থাকত। আগুনের ভেতরে একটা রঙ আছে যেটা আর কোথাও নেই। কমলা আর নীলের মাঝখানে, সাদার ঠিক আগে, একটা রঙ যেটার নাম নেই।

পঁয়তাল্লিশ বছরে কুলসুম হাজার হাজারবার আগুন জ্বালিয়েছে। মাটির চুলায়, গ্যাসের চুলায়, কাঠের উনুনে। হাত পুড়েছে অনেকবার। ডান হাতের তর্জনিতে একটা দাগ আছে, বিশ বছর আগের, গরম তেল ছিটকে পড়েছিল। বাম হাতের কবজিতে আরেকটা, চুলার গরম লোহায় ছোঁয়া লেগেছিল। ছোট ছোট দাগ। রান্নাঘরের স্বাক্ষর।

কিন্তু আমিনার শরীরে যে দাগগুলো ছিল, সেগুলো রান্নাঘরের ছিল না।

আমিনা কুলসুমের পাশের বাড়ির বউ।

বিয়ে হয়েছিল ছয় বছর আগে। আমিনার বাবা গরিব মানুষ, রিকশা চালাত। মেয়ের বিয়েতে যা দিতে পেরেছিল, দিয়েছিল। একটা আলমারি, দুটো শাড়ি, একটু সোনা, নগদ কুড়ি হাজার টাকা। শ্বশুরবাড়ি চেয়েছিল দুই লাখ। বিয়ের রাতে বরের বাবা বলেছিল, "বাকিটা পরে আসবে।" আমিনার বাবা মাথা নিচু করে বলেছিল, "আসবে।" দুজনেই জানত আসবে না। কিন্তু বিয়ের রাতে সত্যি বলা যায় না। বিয়ের রাত মিথ্যার রাত।

প্রথম বছর ভালো ছিল। আমিনা হাসত। কুলসুম উঠানে দেখা হলে কথা বলত। আমিনা বলত, "ভাবী, আমার স্বামী ভালো মানুষ।" কুলসুম হাসত। দ্বিতীয় বছর থেকে আমিনার হাসি কমে গেল। তৃতীয় বছরে আমিনার চোখের নিচে কালি দেখা গেল। চতুর্থ বছরে আমিনা ফুলহাতা ব্লাউজ পরতে শুরু করল, গরমকালেও।

কুলসুম দেখেছিল। সবাই দেখেছিল। কেউ কিছু বলেনি।

একদিন পুকুরঘাটে আমিনা কাপড় ধুচ্ছিল। হাতা উঠে গিয়েছিল। কুলসুম দেখেছিল বাহুতে নীল দাগ। আঙুলের ছাপ। পাঁচটা আঙুলের স্পষ্ট ছাপ, যেন কেউ খুব জোরে ধরেছিল, টেনেছিল, ছুড়ে ফেলেছিল। আমিনা তাড়াতাড়ি হাতা নামিয়ে দিয়েছিল। কুলসুমের দিকে তাকিয়েছিল। সেই তাকানোতে কোনো কথা ছিল না। শুধু একটা অনুরোধ ছিল: দেখো না। দেখলেও বলো না। বললেও কেউ শুনবে না।

কুলসুম তাকানোটা বুঝেছিল। নিজেও তাকিয়ে ছিল। তারপর মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল।

পঞ্চম বছরে আমিনার শাশুড়ি প্রকাশ্যে বলতে শুরু করল, "বাপের বাড়ি থেকে কিছু আসে না। খালি মুখে মেয়ে পাঠিয়েছে।" আমিনার বাবা এসেছিল, হাত জোড় করে বলেছিল, "আর কিছু দেওয়ার নেই।" শ্বশুর বলেছিল, "তাহলে মেয়ে নিয়ে যান।" আমিনার বাবা মেয়েকে ফেরত নেওয়ার সামর্থ্য রাখত না। গ্রামে মেয়ে ফেরত আসা মানে পরিবারের কপালে কলঙ্ক। আমিনা থেকে গেল।

ষষ্ঠ বছরে আমিনা মারা গেল।

"রান্নাঘরে আগুন লেগেছে।"

এটাই বলেছিল আমিনার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। রাত দুটোয়। কুলসুম ঘুম থেকে চিৎকারে জেগে উঠেছিল। বাইরে বেরিয়ে দেখেছিল আমিনাদের রান্নাঘরে আগুন। টিনের চালে, বাঁশের বেড়ায়, সব জ্বলছে। আমিনার স্বামী উঠানে দাঁড়িয়ে ছিল। তার শরীরে আগুনের একটা দাগও ছিল না। তার কাপড়ে ধোঁয়ার গন্ধও ছিল না।

আমিনাকে বের করা হলো। শরীরের আশি ভাগ পুড়ে গেছে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেল।

পুলিশ এলো। "দুর্ঘটনা," লিখল। আমিনার বাবা এলো। কাঁদল। কিছু করতে পারল না। গরিব মানুষের মেয়ের মৃত্যু গরিব মানুষের কান্নায় শেষ হয়। আর কোথাও পৌঁছায় না।

কুলসুম জানত।

কুলসুম জানত রাত দুটোয় রান্নাঘরে কেউ রান্না করে না। কুলসুম জানত আমিনার শরীরে আগে থেকেই দাগ ছিল। কুলসুম জানত আমিনার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা দুই লাখ টাকা চেয়ে পায়নি। কুলসুম জানত সেদিন সন্ধ্যায় আমিনার শাশুড়ি চিৎকার করেছিল, "তোর বাপকে বল টাকা পাঠাতে, নইলে দেখাচ্ছি।"

কুলসুম সব জানত। কুলসুম চুপ ছিল।

সেই রাতে আমিনার পোড়া শরীর বের করার সময় কুলসুম দেখেছিল আমিনার হাত। পোড়া হাত। কিন্তু পোড়ার আগের দাগগুলোও ছিল। পুরোনো ক্ষত, নতুন আগুনের নিচে চাপা পড়েছে। এখন কেউ আলাদা করতে পারবে না কোনটা আগের আঘাত, কোনটা শেষ আগুনের। সব মিশে গেছে। সব এক হয়ে গেছে। আমিনার পুরো শরীরটাই এখন একটা দাগ। একটাই বিশাল, কালো, ফোস্কা পড়া দাগ। আর কোনো গল্প নেই সেই শরীরে। শুধু শেষ।

চুপ থাকাটা একটা অভ্যাস।

বাংলাদেশের গ্রামে মেয়েদের চুপ থাকতে শেখানো হয় জন্মের পর থেকে। "চুপ কর" প্রথম বাক্যগুলোর একটা। মেয়ে কাঁদলে চুপ কর। মেয়ে প্রতিবাদ করলে চুপ কর। মেয়ে সত্যি বললে চুপ কর। চুপ থাকা মেয়েদের গুণ। চুপ থাকা মেয়েদের সৌন্দর্য। চুপ থাকা মেয়েদের বেঁচে থাকার কৌশল।

কুলসুম চুপ ছিল কারণ কুলসুমকে চুপ থাকতে শেখানো হয়েছিল।

কিন্তু আমিনার মৃত্যুর পরে কুলসুমের ভেতরে কিছু ভেঙে গেল। সেটা চুপ থাকার অভ্যাস ছিল না। সেটা আরো গভীর কিছু। সেটা ছিল নিজেকে নির্দোষ মনে করার ক্ষমতা। সেটা ভেঙে গেল।

রাতে ঘুম আসত না। চোখ বন্ধ করলে আমিনার মুখ দেখত। পোড়া মুখ নয়। আগের মুখ। সেই মুখ যেটা হাসত, যেটা বলত "ভাবী।" সেই মুখ কুলসুমের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করত, "আপনি জানতেন। আপনি কেন কিছু বলেননি?"

কুলসুম উত্তর দিতে পারত না। কারণ উত্তর ছিল না।

কী বলত? পুলিশকে বলত? পুলিশ শুনত? চেয়ারম্যানকে বলত? চেয়ারম্যান আমিনার শ্বশুরের বন্ধু। ইউনিয়ন পরিষদে বলত? সেখানে সব পুরুষ। কাকে বলত? কে শুনত?

কিন্তু এই প্রশ্নগুলো অজুহাত। কুলসুম জানে। বলার জায়গা না থাকা আর না বলা, দুটো এক জিনিস নয়। বলার জায়গা না থাকলে জায়গা তৈরি করতে হয়। কুলসুম সেটা করেনি। কুলসুম চুপ ছিল। কুলসুমের চুপ থাকা আমিনাকে মারার সাথী।

আমিনার মৃত্যুর একমাস পরে আমিনার স্বামী আবার বিয়ে করল।

নতুন বউ। নতুন যৌতুক। এবার পেয়েছিল দেড় লাখ টাকা। মেয়েটার বয়স আঠারো। চোখে ভয়। কুলসুম দেখেছিল নতুন বউকে। নতুন বউ উঠানে দাঁড়িয়ে ছিল, ওড়নায় মুখ ঢেকে। কুলসুম তাকিয়ে দেখেছিল আর ভেবেছিল, "এই মেয়েটাও কি..."

সেই ভাবনাটা শেষ করতে পারেনি।

কুলসুম সেদিন প্রথমবার কথা বলল।

নতুন বউয়ের কাছে গিয়ে বলল, "আমি পাশের বাড়ির কুলসুম। কিছু হলে আমাকে বলবে।" মেয়েটা কিছু বুঝল না। কিন্তু কুলসুম বুঝেছিল। এই একটা বাক্য বলতে তার পঁয়তাল্লিশ বছর লেগেছে।

নতুন বউটার নাম রুমা। আঠারো বছর। ময়মনসিংহের কোনো গ্রাম থেকে এসেছে। কুলসুম দেখত রুমাকে। উঠানে জল ভরতে আসে, মুখ নিচু, চোখে একটা সতর্কতা, যেন সবসময় কিছু ঘটার অপেক্ষায় আছে। আমিনাও এমন ছিল শেষ দিকে। সেই একই ভয়, সেই একই চাহনি, সেই একই মাথা নিচু করে হাঁটা।

কুলসুম ঠিক করল, এবার চুপ থাকবে না।

এরপর কুলসুম থামেনি।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ে গেল। প্রথমবার একা। ভয়ে হাত কাঁপছিল। দরজায় দাঁড়িয়ে তিনবার ফিরে যেতে চেয়েছিল। চতুর্থবার ঢুকেছিল। ভেতরে একজন মহিলা কর্মকর্তা। কুলসুম বলল, "আমাদের পাড়ায় একটা মেয়ে মারা গেছে। আগুনে পুড়ে। কিন্তু সেটা দুর্ঘটনা ছিল না।"

কর্মকর্তা তাকাল। দীর্ঘশ্বাস ফেলল। বলল, "প্রমাণ আছে?"

প্রমাণ। আমিনার শরীরের পুরোনো দাগ প্রমাণ ছিল না? আমিনার চোখের নিচের কালি প্রমাণ ছিল না? রাত দুটোয় রান্নাঘরে আগুন লাগা প্রমাণ ছিল না? আমিনার স্বামীর শরীরে কোনো পোড়া দাগ না থাকা প্রমাণ ছিল না?

কুলসুম বলল, "আমি সাক্ষী। আমি দেখেছি। আমি শুনেছি।"

কর্মকর্তা বলল, "একজনের সাক্ষ্যে কিছু হয় না।"

কুলসুম বাড়ি ফিরে গেল। কিন্তু হাল ছাড়ল না।

পাড়ায় পাড়ায় গেল। মেয়েদের সাথে কথা বলল। প্রথমে কেউ শোনেনি। "পরের সংসারে নাক গলাও কেন?" বলেছিল একজন। "ওরা কী করবে সেটা ওদের ব্যাপার," বলেছিল আরেকজন। কুলসুম শুনেছিল। ক্লান্ত হয়নি। কারণ এই কথাগুলো কুলসুম নিজেও বলত একসময়। এই কথাগুলো চুপ থাকার আরেকটা সংস্করণ।

ধীরে ধীরে কেউ কেউ শুনতে শুরু করল।

রহিমা বলল, "আমার বোনের সাথেও এমন হতো। আমরা কিছু বলিনি।" সখিনা বলল, "আমার শাশুড়ি আমাকে গরম ভাতের হাঁড়ি দিয়ে মেরেছিল, পিঠে দাগ আছে।" জরিনা বলল, "আমার মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে, যৌতুক কম বলে। মেয়ে এখন আমার ঘরে বসে আছে, লজ্জায় বাইরে বের হয় না।"

একেকটা গল্প বেরিয়ে এলো। একেকটা নীরবতা ভাঙল। যেন বাঁধ ভেঙেছে। কুলসুম বুঝল, চুপ থাকাটা একার রোগ নয়। এটা সবার রোগ। এটা মহামারী।

আর বুঝল, প্রতিটা চুপ থাকা মেয়ের পেছনে একটা গল্প আছে। প্রতিটা গল্পে একটা আগুন আছে। কখনো সত্যিকারের আগুন, কখনো রূপক। কিন্তু পোড়াটা সত্যি। সবসময় সত্যি।

কুলসুম এখন জানে কোথায় যেতে হয়।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নম্বর মুখস্থ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ জানে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ঠিকানা জানে। এনজিওদের সাথে যোগাযোগ আছে। একটা আইনজীবীর নম্বর আছে যে বিনা পারিশ্রমিকে কেস নেয়।

তিন বছরে কুলসুম সাতটা অভিযোগ দায়ের করতে সাহায্য করেছে। দুটো মামলা চলছে। একটায় রায় হয়েছে। আমিনার মামলা নয়। আমিনার জন্য অনেক দেরি হয়ে গেছে। কিন্তু অন্য মেয়েদের জন্য।

প্রতিটা অভিযোগের আগে কুলসুম পুরো রাত জেগে থাকে। ভয় পায়। যে পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা হুমকি দেয়। "তোর সংসার ভাঙব।" "তোর ছেলেকে দেখে নেব।" কুলসুমের স্বামী বলে, "ঝামেলায় জড়াও কেন?" কুলসুম বলে, "ঝামেলায় জড়ানো না। ঝামেলা থেকে বের করা।"

কুলসুমের স্বামী বোঝে না। বোঝার কথাও না। কারণ কুলসুমের স্বামী কখনো রাত দুটোয় জেগে উঠে পাশের বাড়ি থেকে একটা পুড়ে যাওয়া মেয়ের লাশ বের হতে দেখেনি। কুলসুম দেখেছে। দেখা জিনিস ভোলা যায় না। দেখা জিনিস ভেতরে বসে থাকে, প্রতিদিন নতুন করে পোড়ায়।

বাংলাদেশে প্রতিবছর শত শত মেয়ে "রান্নাঘরে আগুনে পুড়ে" মারা যায়।

রান্নাঘর। সবচেয়ে পরিচিত জায়গা। সবচেয়ে নিরাপদ হওয়া উচিত ছিল। সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়ে গেছে। কারণ রান্নাঘরে মেয়ে একা থাকে। রান্নাঘরে কেউ দেখে না। রান্নাঘরে আগুন আছে, কেরোসিন আছে, গ্যাস আছে। আর রান্নাঘরে "দুর্ঘটনা" বলা সহজ।

কুলসুম ভাবে, কতগুলো "দুর্ঘটনা" আসলে দুর্ঘটনা? কতগুলো "আগুন" আসলে দেশলাই ছিল কারো হাতে? কতগুলো "মৃত্যু" আসলে হত্যা?

কেউ গোনে না। কেউ জানে না। কারণ মৃতরা কথা বলে না। আর জীবিতরা চুপ থাকে।

১০

কুলসুম এখন পঁয়তাল্লিশ। চুলে পাক ধরেছে। হাতে এখনো রান্নাঘরের পুরোনো দাগ। কিন্তু গলায় একটা নতুন জিনিস আছে। আওয়াজ। যে আওয়াজ পঁয়তাল্লিশ বছর ঘুমিয়ে ছিল, সেটা এখন জেগে উঠেছে।

কুলসুম জানে একটা মেয়ের জন্য দেরি হয়ে গেছে। আমিনা ফিরবে না। পুড়ে যাওয়া শরীর জোড়া লাগে না। কিন্তু বাকিদের জন্য দেরি করবে না। একটাও না।

প্রতিদিন সকালে কুলসুম রান্নাঘরে ঢোকে। চুলা জ্বালায়। আগুনের দিকে তাকায়। সেই আগুন এখন অন্য রকম দেখায়। আগে আগুন ছিল রান্নার। এখন আগুন হলো স্মৃতির। প্রতিটা শিখায় আমিনার মুখ। প্রতিটা ধোঁয়ায় কুলসুমের অপরাধবোধ। প্রতিটা তাপে একটা প্রতিজ্ঞা।

আগুন ধ্বংস করে। আগুন গিলে খায়। আগুন ছাই করে দেয়। কিন্তু আগুন আলোও দেয়। আগুন পথ দেখায়। আগুন ভেতরের অন্ধকার তাড়ায়।

কুলসুম সেই আলো নিয়ে হাঁটে। অন্ধকার গ্রামে, চুপ থাকা পাড়ায়, ভয়ে ভরা ঘরে। দরজায় দরজায়। একটা একটা করে।

"কিছু হলে আমাকে বলো।"

এই একটা বাক্য। এই একটা বাক্য দিয়ে কুলসুম আমিনার ঋণ শোধ করতে চায়। জানে শোধ হবে না। কোনোদিন হবে না। কিন্তু চেষ্টা করা ছাড়া আর কী আছে?

আমি চুপ ছিলাম। আমার চুপ থাকা তাকে মারার সাথী। কিন্তু এখন আমি কথা বলি। প্রতিটা কথা একটা প্রায়শ্চিত্ত। প্রতিটা অভিযোগ একটা ফুল আমিনার কবরে।

একটা মেয়ের জন্য দেরি হয়ে গেছে। বাকিদের জন্য দেরি করবো না।