নারী ও জমি
১৫ বছর ধরে জমির জন্য লড়েছি। পুরুষ হলে ১৫ মিনিটে পেতাম।
১
আকলিমার জমি তিন বিঘা।
বাবা মারা যাওয়ার পরে ভাই বলেছিল, "তোর ভাগ নেই।" আকলিমা বলেছিল, "আইনে আছে।" ভাই হেসেছিল। সেই হাসি আকলিমা ভোলেনি। সেই হাসিতে কোনো আনন্দ ছিল না। সেই হাসিতে ছিল ক্ষমতা। পুরুষের ক্ষমতা। জমিদারের ক্ষমতা। "তুই মেয়ে, তোর জমি নেই" এই কথাটাকে এতটাই স্বাভাবিক মনে করা যে সেটা নিয়ে হাসা যায়।
আকলিমার বাবার জমি ছিল বারো বিঘা। চার ভাই, দুই বোন। মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে মেয়ে পায় ছেলের অর্ধেক। অর্থাৎ প্রতি ভাইয়ের দুই ভাগের বিপরীতে আকলিমার এক ভাগ। হিসেব করলে আকলিমার পাওনা তিন বিঘা। কাগজে। আইনে। বইয়ে।
কিন্তু বাংলাদেশে জমি কাগজে থাকে না। জমি মাটিতে থাকে। মাটিতে শক্তিশালী জেতে। আকলিমা শক্তিশালী ছিল না। আকলিমা ছিল একজন বিধবা। দুই ছেলে, এক মেয়ে। স্বামী মারা গেছে। শ্বশুরবাড়িতে জায়গা নেই। বাপের বাড়িতে জমি নেই। আকলিমা ছিল শূন্য। আর শূন্য থেকেই লড়াই শুরু করেছিল।
২
আকলিমার বাবা মারা গেল ২০০৫ সালে। হার্ট অ্যাটাক। ষাট বছর বয়স। ধান কাটার মৌসুমে, মাঠে, রোদে দাঁড়িয়ে। যেমন বেঁচেছিল তেমন মরল, মাটির কাছে।
জানাজার পরে ভাইয়েরা জমি ভাগ করল। চার ভাই, বারো বিঘা, তিন বিঘা করে। আকলিমা আর তার বোন রোকেয়ার কোনো ভাগ রাখল না। যেন তারা বাবার সন্তান নয়। যেন তারা এই পরিবারের অংশ নয়। যেন মেয়ে হওয়া মানে জমির অধিকার হারানো।
আকলিমা প্রথমে কিছু বলেনি। স্বামী বলেছিল, "ছাড়। ভাইদের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করিস না।" মা বলেছিল, "মেয়েরা জমি নেয় না। এটাই নিয়ম।" রোকেয়া বলেছিল, "আমি চাই না। ভাইদের দরকার বেশি।"
আকলিমা ভেবেছিল, রোকেয়া ঠিক বলছে। মেয়েরা তো শ্বশুরবাড়ি যায়। মেয়েদের জমি দিয়ে কী হবে? মেয়েরা রান্না করে, সন্তান মানুষ করে, সংসার সামলায়। জমি পুরুষের ব্যাপার।
এই ভাবনা আকলিমার মাথায় তিন বছর ছিল। তিন বছর ধরে আকলিমা নিজেকে বলেছিল, "মেয়ে জমি নেয় না।" তিন বছর ধরে এই বাক্যটা সত্য বলে মেনে নিয়েছিল। কারণ চারপাশে সবাই এটাই বলত। মা বলত, খালা বলত, প্রতিবেশী বলত, মসজিদের ইমাম বলত। সবাই বলত মেয়ে জমি নেয় না। আকলিমাও বলত।
তারপর আকলিমার স্বামী মারা গেল। আর সব বদলে গেল।
৩
তিন বছর পরে আকলিমার স্বামী মারা গেল।
ডায়াবেটিস। কিডনি ফেল। আটচল্লিশ বছর বয়স। দুটো ছেলে, একটা মেয়ে। বড় ছেলে বারো, ছোটটা আট, মেয়ে ছয়। আকলিমার বয়স তখন বিয়াল্লিশ।
স্বামীর সংসারে জমি ছিল সামান্য। এক বিঘার কম। সেটাও দেবর দখল করে নিল। বলল, "ভাবী, আপনি বাপের বাড়ি যান।" বাপের বাড়িতে জমি নেই। শ্বশুরবাড়িতে জমি নেই। আকলিমা শূন্য। তিনটা সন্তান নিয়ে রাস্তায়।
তখন আকলিমা বুঝল জমি কী। জমি শুধু মাটি নয়। জমি হলো দাঁড়ানোর জায়গা। জমি হলো "না" বলার ক্ষমতা। জমি হলো কেউ যখন বলে "বেরিয়ে যাও," তখন বলতে পারা "কোথায় যাবো? আমার তো জায়গা আছে।" জমি না থাকলে মেয়ে পাতার মতো। বাতাস যেদিকে নেয়, সেদিকে যায়।
আকলিমা পাতা হতে রাজি ছিল না।
৪
আকলিমা ভাইদের কাছে গেল। বলল, "বাবার জমিতে আমার ভাগ দাও।"
বড় ভাই বলল, "তুই পাগল হইছিস?"
মেজো ভাই বলল, "বিয়ের সময় তো দিয়েছি। সেটাই তোর ভাগ।"
সেজো ভাই বলল, "জমি দিলে আমরা খাবো কী?"
ছোট ভাই কিছু বলেনি। মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিল।
আকলিমা বলল, "আইনে আমার ভাগ আছে।"
বড় ভাই বলল, "আইন তোর বাড়িতে। জমি আমার বাড়িতে।"
আকলিমা চলে এলো। রাতে ঘুম হলো না। তিনটা বাচ্চা পাশে ঘুমাচ্ছিল। মেয়েটা কুলকুল করে ঘুমায়, যেন পৃথিবীতে কোনো চিন্তা নেই। ছোট ছেলেটা মায়ের হাত ধরে ঘুমায়, অভ্যাস। বড় ছেলে আলাদা, সে এখন "বড়," মায়ের হাত ধরে ঘুমায় না।
আকলিমা ভাবল, এই তিনটা মানুষের জন্য তার কী আছে? চার দেয়াল আছে, টিনের চাল আছে, কিন্তু মাটিটুকু নেই। মাটি না থাকলে চার দেয়ালও একদিন ভেঙে পড়ে। কারণ ঘর বানানো যায়, কিন্তু ঘর বানানোর জন্য মাটি লাগে।
আকলিমা সিদ্ধান্ত নিল। হার মানবে না।
৫
প্রথমে সালিশ হলো। গ্রামের মাতব্বরেরা বসল। সব পুরুষ। আকলিমা একা মেয়ে, সালিশে বসা তার জন্য লজ্জার ব্যাপার বলে মনে করল সবাই। মাতব্বর বলল, "মাইয়া মানুষ জমি নিয়া কী করবে? ভাইদের দরকার বেশি। সম্পর্ক ঠিক রাখ।"
আকলিমা বলল, "আমার তিনটা বাচ্চা আছে। তাদের খাওয়াতে হবে। জমি ছাড়া আমার কিছু নেই।"
মাতব্বর বলল, "ভাইদের কাছে থাক। তারা দেখবে।"
ভাইদের কাছে থাকা। অর্থাৎ ভাইদের করুণায় বেঁচে থাকা। অর্থাৎ নিজের অধিকার ছেড়ে দিয়ে অন্যের দয়ায় খাওয়া। আকলিমা সেটা করবে না। করুণায় বাঁচা মানে মরে থাকা। করুণায় বাঁচা মানে প্রতিদিন ঋণ স্বীকার করা। করুণায় বাঁচা মানে "ধন্যবাদ" বলা প্রতিটা গ্রাসে। আকলিমা ধন্যবাদ বলতে রাজি নয় নিজের ভাতের জন্য। ভাত তার অধিকার। জমি তার অধিকার। অধিকারের জন্য ধন্যবাদ বলতে হয় না।
আকলিমা আদালতে গেল।
৬
আদালত। শব্দটা শুনলেই ভয় লাগে। বড় বড় ভবন, কালো কোটের আইনজীবী, কাঠগড়া, বিচারক। আকলিমা আদালত কখনো দেখেনি আগে।
আদালতের রাস্তা লম্বা। বাংলাদেশে জমির মামলা দশ বছরে শেষ হলে তাড়াতাড়ি হয়েছে বলে ধরা হয়।
আকলিমার টাকা ছিল না আইনজীবী রাখার। একটা এনজিও সাহায্য করল। বিনা পারিশ্রমিকে আইনি সহায়তা। মামলা দায়ের হলো ২০১১ সালে।
এরপর শুরু হলো অপেক্ষা। তারিখের পরে তারিখ। শুনানির পরে শুনানি। প্রতিবার আকলিমাকে উপজেলা থেকে জেলা শহরে যেতে হতো। বাসে দুই ঘণ্টা। রাস্তা ভাঙা। গরমে ঘামে ভিজে যেত, বর্ষায় কাদায় পা ডুবত, শীতে কাঁপত।
প্রতিবার আদালতে গেলে ভাইদের আইনজীবী নতুন কিছু বলত। "জমি আগে থেকেই বিক্রি হয়ে গেছে।" মিথ্যা। "বোনকে জমির বদলে টাকা দেওয়া হয়েছে।" মিথ্যা। "বোন নিজেই অধিকার ছেড়ে দিয়েছে।" মিথ্যা। প্রতিটা মিথ্যার বিরুদ্ধে প্রমাণ দিতে হতো। প্রতিটা প্রমাণ জোগাড় করতে সময় লাগত। সময় মানে টাকা। টাকা মানে ধার।
আকলিমা ধার করল। গয়না বিক্রি করল। শাড়ি কমিয়ে দিল। মাছ কেনা বন্ধ করল। বাচ্চাদের স্কুলের বেতন দিতে পারত না, স্কুল থেকে বের করে দিল বড় ছেলেকে, সে মিস্ত্রির কাজ শিখতে গেল।
ভাইয়েরা চাপ দিল। "মামলা তুলে নে। না হলে দেখব।" গ্রামে আকলিমাকে একঘরে করল। কেউ কথা বলত না। দোকানে জিনিস বেচতে চাইত না। বাচ্চাদের সাথে কেউ খেলত না। আকলিমার মেয়ে একদিন কাঁদতে কাঁদতে বলল, "আম্মা, সবাই বলে আমরা খারাপ। আমরা কি খারাপ?"
আকলিমা মেয়েকে জড়িয়ে ধরল। বলল, "না রে। আমরা শুধু নিজের জিনিস চাইছি। নিজের জিনিস চাওয়া খারাপ না।"
৭
মামলা চলল। বছরের পর বছর।
আকলিমা বৃদ্ধ হলো আদালতের বারান্দায়। চুলে পাক ধরল। চোখে ঝাপসা এলো। হাঁটুতে ব্যথা শুরু হলো। কিন্তু পা থামায়নি। প্রতিটা তারিখে গেছে। প্রতিটা শুনানিতে বসেছে। আইনজীবী যা বলত বুঝত না সবসময়, কিন্তু বসে থাকত। উপস্থিতিটাই গুরুত্বপূর্ণ। দেখানো যে সে হাল ছাড়েনি। দেখানো যে এই জমি তার, এই জমির জন্য সে মরলেও লড়বে।
ভাইদের সাথে সম্পর্ক শেষ হয়ে গেল। বড় ভাই মারা গেল এর মধ্যে। মেজো ভাই অসুস্থ। সেজো ভাই ঢাকায় চলে গেছে। ছোট ভাই এখনো গ্রামে, কিন্তু মুখ ফিরিয়ে থাকে। আকলিমার মা মারা গেছে মামলা চলাকালে। মায়ের শেষ কথা ছিল, "জমি ছাড় রে। ভাইদের সাথে মিল কর।" আকলিমা মায়ের মুখের দিকে তাকিয়েছিল। কিছু বলেনি। কী বলবে? মাকে বলবে যে এই জমি না পেলে আকলিমার মেয়ে আরেকটা আকলিমা হবে? জমি ছাড়া মেয়ে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম?
মাকে সেটা বোঝানো যায় না। কারণ মাও জমি পায়নি। মায়ের মাও পায়নি। জমি না পাওয়াটা এতটাই স্বাভাবিক যে পাওয়ার কথা বলাটাই অস্বাভাবিক মনে হয়।
৮
২০২৩ সালে রায় হলো। পনেরো বছর পরে।
আকলিমা তিন বিঘা জমি পেল।
আইনজীবী ফোন করে বলল, "আকলিমা, জিতেছেন।" আকলিমা ফোনটা কানে ধরে রাখল। কিছু বলতে পারল না। কান্নাও এলো না। আনন্দও এলো না। একটা অদ্ভুত খালি অনুভূতি। যেন পনেরো বছর ধরে একটা পাথর বইছিল মাথায়, সেটা নামানো হলো, কিন্তু মাথাটা এখনো নুয়ে আছে। সোজা হতে সময় লাগবে।
আকলিমা জমিতে গেল। তিন বিঘা। বাবার জমি। বাবা এই মাটিতে ধান লাগাত। এই মাটিতে হাঁটত। এই মাটি থেকে বাবার গন্ধ উঠত, ঘামের গন্ধ, মাটির গন্ধ, পাকা ধানের গন্ধ। আকলিমা মাটিতে বসল। একমুঠো মাটি তুলল। হাতের তালুতে রাখল। মাটি ঠান্ডা ছিল। ভোরবেলা। শিশির ছিল ঘাসে। দূরে একটা শালিক ডাকছিল।
আকলিমা মাটি শুঁকল। বাবার গন্ধ পেল না। পেল নিজের গন্ধ। পনেরো বছরের লড়াইয়ের গন্ধ। ঘামের, কান্নার, রাগের, একগুঁয়েমির।
৯
তিন বিঘা। এটুকুই।
পুরুষ হলে পনেরো মিনিটে পেত। বাবা মারা যেত, ভাইয়েরা ভাগ করত, সবাই নিজের অংশ নিত, কোনো মামলা হতো না, কোনো পনেরো বছর লাগত না, কোনো একঘরে হতে হতো না, কোনো গয়না বিক্রি করতে হতো না, কোনো ছেলেকে স্কুল থেকে বের করতে হতো না।
পুরুষ হলে পনেরো মিনিটে পেত। মেয়ে হওয়ায় পনেরো বছর লেগেছে।
একমুঠো মাটি হাতে নিয়ে আকলিমা কাঁদল। পনেরো বছরে প্রথমবার। এতদিন কাঁদেনি। কাঁদলে দুর্বল দেখায়। দুর্বল দেখালে ভাইয়েরা আরো চাপ দেয়। আদালতে দুর্বল দেখালে বিচারক ভাবেন মেয়ে হেরে যাবে। তাই কাঁদেনি। আজ কাঁদল। কারণ আজ কাঁদার অনুমতি আছে। আজ জিতেছে।
আকলিমা হিসেব করে। পনেরো বছর মানে পাঁচ হাজার চারশো পঁচাত্তর দিন। প্রতিটা দিন জমির চিন্তায় ঘুম হারিয়েছে। প্রতিটা দিন ভাইদের মুখ মনে পড়েছে, সেই হাসি মনে পড়েছে, সেই "তোর ভাগ নেই" মনে পড়েছে। পনেরো বছর ধরে প্রতিদিন একটু একটু করে মরেছে, আর একটু একটু করে লড়েছে।
আইনে আমার ভাগ আছে। কিন্তু আইন কাগজে থাকে। জমি মাটিতে থাকে। মাটিতে শক্তিশালী জেতে। আকলিমা শক্তিশালী ছিল না। আকলিমা একগুঁয়ে ছিল। একগুঁয়ে আর শক্তিশালীর মধ্যে তফাৎ আছে। শক্তিশালী মানুষ জোর দেখায়। একগুঁয়ে মানুষ শুধু যায় না। আকলিমা যায়নি।
১০
আকলিমার মেয়ে এখন বিশ। কলেজে পড়ে। আকলিমা জমি থেকে যে ফসল ওঠে, তার আয় দিয়ে মেয়ের পড়ালেখার খরচ দেয়।
মেয়ে একদিন জিজ্ঞেস করেছিল, "আম্মা, তুমি কি কখনো হাল ছেড়ে দিতে চেয়েছিলে?"
আকলিমা ভেবেছিল। অনেকক্ষণ ভেবেছিল।
"প্রতিদিন," বলেছিল। "প্রতিদিন চেয়েছিলাম। কিন্তু তারপর তোদের মুখ দেখতাম। তোদের মুখ দেখলে হাল ছাড়ার কথা ভুলে যেতাম।"
মেয়ে বলেছিল, "আম্মা, তুমি তিন বিঘা জমি জিতেছ। কিন্তু আসলে তুমি আরো বেশি জিতেছ।"
আকলিমা বুঝেছিল মেয়ে কী বলতে চাইছে। তিন বিঘা জমি শুধু তিন বিঘা মাটি নয়। তিন বিঘা জমি হলো একটা প্রমাণ। প্রমাণ যে মেয়েরা লড়তে পারে। প্রমাণ যে আইন শুধু কাগজে নয়, মাটিতেও আনা যায়। প্রমাণ যে পনেরো বছর লাগলেও, সব হারালেও, একঘরে হলেও, মেয়ে যদি দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে মাটি তার পায়ের নিচে আসে।
রায়ের পরে ভাইদের সাথে একবার দেখা হয়েছিল। ঈদের দিন। আকলিমা গিয়েছিল, না গেলে গ্রামের লোকে বলত "জমি পেয়ে অহংকার হয়েছে।" মেজো ভাই কিছু বলেনি। ছোট ভাই চা এনে দিয়েছিল। চুপচাপ। কেউ জমির কথা বলেনি। কেউ মামলার কথা বলেনি। কেউ পনেরো বছরের কথা বলেনি। যেন কিছু হয়নি। যেন সব স্বাভাবিক। কিন্তু চায়ের কাপে আকলিমা দেখেছিল নিজের প্রতিবিম্ব। পঞ্চাশ বছরের মুখ। ক্লান্ত। কিন্তু পরাজিত নয়।
আকলিমা জমিতে এখন ধান লাগায়। বাবার মতো। বাবা যেভাবে মাটিতে হাত রাখত, আকলিমাও রাখে। একই মাটি। একই রোদ। একই ঘাম। শুধু হাতটা আলাদা। বাবার হাত বড় ছিল, পুরুষের হাত। আকলিমার হাত ছোট, মেয়ের হাত। কিন্তু মাটি ফারাক করে না। মাটি জানে না হাত কার। মাটি শুধু জানে কে তাকে ভালোবাসে।
পনেরো বছর ধরে জমির জন্য লড়েছি। পুরুষ হলে পনেরো মিনিটে পেতাম।
এটাই বাংলাদেশে মেয়ে হওয়ার হিসেব। সময়ের হিসেব। জীবনের হিসেব। ন্যায্যতার হিসেব। সব হিসেবে মেয়ে পিছিয়ে। কিন্তু আকলিমা দেখিয়েছে, পিছিয়ে থাকা মানে হেরে যাওয়া নয়। পিছিয়ে থাকা মানে আরো বেশি পথ হাঁটতে হয়। আকলিমা হেঁটেছে। পনেরো বছর হেঁটেছে। এবং পৌঁছেছে।
আকলিমার মেয়ে বলে, "আম্মা, তুমি শুধু তিন বিঘা জমি জেতোনি। তুমি প্রমাণ করেছ মেয়েরা হাল ছাড়ে না।"
আকলিমা হাসে। ক্লান্ত হাসি। পনেরো বছরের হাসি। বলে, "হাল ছাড়ার সুযোগ ছিল না রে। হাল ছাড়লে তোরা খেতি কী?"