তিন প্রজন্ম
দাদি হাঁটতে পারেননি। মা দৌড়াতে পারেননি। আমি উড়তে পারি। কিন্তু আকাশটা এখনো অর্ধেক।
১
হালিমা, সত্তর বছর। রাবেয়া, পঞ্চাশ বছর। তাসনিম, পঁচিশ বছর। দাদি, মা, মেয়ে। একই রক্ত, একই বংশ, তিনটে আলাদা পৃথিবী।
হালিমা ১৯৫৫ সালে জন্মেছিল। রাবেয়া ১৯৭৫ সালে। তাসনিম ২০০০ সালে। প্রতিটা জন্মের মাঝে পঁচিশ বছরের ফাঁক। সেই ফাঁকে কী পাল্টেছে? সব। আর কী পাল্টায়নি? অনেক কিছু।
তিনজন একই ঘরে বসে আছে। চৈত্রের দুপুর। বাইরে রোদ। ভেতরে ফ্যান ঘুরছে। হালিমা বিছানায়, কোমরে ব্যথা। রাবেয়া চেয়ারে, হাতে ফোন, ছেলের স্কুলের গ্রুপে মেসেজ দেখছে। তাসনিম মেঝেতে, ল্যাপটপে কাজ করছে, অফিসের ইমেল।
তিনটে জীবন। তিনটে যুগ। একটা ঘর।
২
হালিমা বারো বছরে বিয়ে হয়েছিল।
বিয়ে কী সেটা জানত না। মা বলেছিল, "তোর বিয়ে হবে।" হালিমা ভেবেছিল বিয়ে মানে নতুন শাড়ি পরা আর মিষ্টি খাওয়া। বিয়ের রাতে বুঝেছিল বিয়ে অন্য কিছু। কিন্তু সেই অন্য কিছু সম্পর্কে কেউ কিছু বলেনি। কারণ মেয়েদের শরীর সম্পর্কে কেউ কিছু বলে না। শরীর নিজে শেখে। ব্যথার মধ্য দিয়ে শেখে।
স্বামী দশ বছরের বড়। দিনে মাঠে যেত, রাতে ফিরত। হালিমা রান্না করত, ঘর ঝাড়ু দিত, পানি আনত, গোয়ালে গরু দেখত। তেরো বছরে প্রথম সন্তান। শরীর তৈরি ছিল না। ধাত্রী বলেছিল, "এত ছোট মেয়ে, কী করে সইবে।" সয়েছিল। সইতে হয়েছিল। সওয়া ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না।
হালিমা কোনোদিন স্কুলে যায়নি। নিজের নাম লিখতে পারে না। ভোটের সময় টিপসই দেয়। হিসেব কষে মাথায়, চাল কত কেজি, তেল কত লিটার, সব মাথায়। কিন্তু কাগজে লিখতে পারে না। কাগজ হালিমার জগত নয়। হালিমার জগত মাটির, চুলার, পুকুরের, ধানক্ষেতের।
হালিমা বলে, "আমি হাঁটতে পারতাম না। পথ ছিল না।"
৩
রাবেয়ার বিয়ে হয়েছিল আঠারো বছরে।
হালিমা চেয়েছিল মেয়েকে পড়াতে। স্বামী বলেছিল, "মেয়েকে কেন? মেয়ে তো পরের বাড়ি যাবে।" হালিমা বলেছিল, "তাও পড়াও।" এটুকু হালিমা লড়েছিল। এটুকু জিতেছিল। রাবেয়া স্কুলে গেল।
রাবেয়া ক্লাস টেনে প্রথম হয়েছিল। এসএসসি পাশ করেছিল। ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হতে চেয়েছিল। তখনই বিয়ের প্রস্তাব এলো। ছেলে শহরে চাকরি করে। ভালো পরিবার। হালিমার স্বামী বলল, "এত ভালো সম্বন্ধ আর পাবে না।" রাবেয়া বলেছিল, "আমি আরো পড়তে চাই।" বাবা বলেছিল, "পড়ে কী করবে? চাকরি করবে? মেয়ে মানুষ চাকরি করবে?"
রাবেয়ার পড়া সেখানে শেষ। এসএসসি পাশ। আঠারো বছরে বিয়ে। বিয়ের পরে স্বামী বলেছিল, "তুমি পড়াশোনা করেছ, সেটা ভালো। কিন্তু এখন সংসার দেখো।" রাবেয়া সংসার দেখল। রান্না করল, সন্তান মানুষ করল, শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করল। এসএসসি সার্টিফিকেটটা আলমারিতে রইল, একটা পুরোনো শাড়ির নিচে, ন্যাপথলিনের গন্ধে।
কখনো কখনো রাবেয়া ভাবে, ইন্টারমিডিয়েট পড়লে কী হতো? ডিগ্রি পড়লে কী হতো? শিক্ষক হতে পারত? ডাক্তার? কিছু একটা? সেই "কিছু একটা" একটা ঝাপসা ছবি, যেটা রাবেয়া দেখতে পায় কিন্তু ছুঁতে পারে না।
রাবেয়া কখনো কখনো আলমারি খোলে। এসএসসি সার্টিফিকেটটা বের করে। দেখে। নম্বরগুলো পড়ে। বাংলা ৭৮, ইংরেজি ৬৫, গণিত ৮২। গণিতে সবচেয়ে ভালো ছিল। গণিতের শিক্ষক বলেছিলেন, "এই মেয়ে পারবে।" কী পারবে? সেটা আর জানা হলো না। সার্টিফিকেটটা ভাঁজ করে আবার রেখে দেয়। ন্যাপথলিনের গন্ধ হাতে লেগে থাকে কিছুক্ষণ।
রাবেয়া বলে, "আমি দৌড়াতে পারতাম না। শিকল ছিল।"
৪
তাসনিম চব্বিশ বছরে বিয়ে করেছে।
"করেছে," "হয়েছে" নয়। তাসনিম নিজে ছেলে পছন্দ করেছে। নিজে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় পরিচয়। দুজনে দুজনকে জানত তিন বছর। তারপর পরিবারকে জানাল। রাবেয়া কেঁদেছিল, "মেয়ে নিজে পাত্র ঠিক করেছে, লোকে কী বলবে।" হালিমা বলেছিল, "ছেলে ভালো হলে লোকে যা বলে বলুক।"
হালিমা, যে নিজে বারো বছরে বিয়ে হয়েছিল, যে স্বামীকে বিয়ের আগে দেখেনি, সেই হালিমা নাতনির পছন্দকে মেনে নিয়েছিল। কারণ হালিমা বুঝেছিল, নিজের জীবনের যে পথ তার ছিল না, সেটা নাতনির আছে। সেটা ভালো। সেটা হওয়া উচিত ছিল।
তাসনিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স করেছে। একটা ব্যাংকে কাজ করে। মাসে পঞ্চাশ হাজার টাকা বেতন। নিজের ফোন, নিজের ল্যাপটপ, নিজের ব্যাংক একাউন্ট। ছুটিতে কক্সবাজার যায় স্বামীর সাথে। রেস্তোরাঁয় খায়। সিনেমা দেখে।
তাসনিম বলে, "আমি উড়তে পারি। কিন্তু আকাশটা এখনো অর্ধেক।"
হালিমা শুনে কিছু বোঝে, কিছু বোঝে না। উড়া কী? আকাশ কী? হালিমার জীবনে আকাশ মানে বৃষ্টি হবে কি না, রোদ থাকবে কি না, ফসল হবে কি না। আকাশ অর্ধেক, এই কথা হালিমার কাছে অচেনা। কারণ হালিমার কোনো আকাশই ছিল না। শূন্যের অর্ধেক শূন্য।
৫
অর্ধেক কেন?
তাসনিম বলে, অফিসে বস ছেলে, বসের বস ছেলে, বসের বসের বস ছেলে। তাসনিম একই কাজ করে, একই যোগ্যতা রাখে, কিন্তু প্রমোশনের সময় ছেলেদের আগে বিবেচনা করা হয়। "মেয়ে তো, বিয়ের পরে ছেড়ে দেবে," এটা কেউ মুখে বলে না, কিন্তু সবাই ভাবে।
তাসনিম বলে, অফিসে মিটিংয়ে কথা বলতে গেলে সবাই শোনে, কিন্তু একটু পরে সেই একই কথা একজন ছেলে বললে সবাই মাথা নাড়ে, "হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন।" তাসনিমের কথা শূন্যে মিলিয়ে যায়। ছেলের কথা মিনিটসে লেখা হয়।
তাসনিম বলে, রাতে একটু দেরি হলে স্বামী ফোন করে, "কোথায়?" শ্বশুড়ি বলে, "বউমা, এত রাতে কেন?" রাস্তায় হাঁটলে পুরুষেরা তাকায়। রিকশায় উঠলে রিকশাওয়ালা কথা বলতে চায়। সন্ধ্যার পরে একা চলা যায় না। শহরে, আলোতে, একুশ শতকে, একটা মেয়ে একা হাঁটতে পারে না সন্ধ্যার পরে।
তাসনিম বলে, বাচ্চা হলে ক্যারিয়ার থামবে। দুই বছরের মাতৃত্বকালীন ছুটি নেই। ছয় মাস পেলে ভাগ্য। বাচ্চাকে কে দেখবে? ডে-কেয়ার নেই, থাকলেও ভরসা হয় না। মা দেখবে? মা নিজেই বৃদ্ধ। শাশুড়ি দেখবে? শাশুড়ি দেখে, কিন্তু বিনিময়ে সন্ধ্যায় ঘরে ফিরতে হয়, রান্না করতে হয়, সেবা করতে হয়।
তাসনিম বলে, আমি উড়ি। কিন্তু একটা পায়ে সুতো বাঁধা আছে। সেই সুতো লম্বা, টের পাই না সবসময়। কিন্তু যখন অনেক উঁচুতে উঠতে চাই, সুতো টান দেয়। নামিয়ে আনে।
৬
দুপুরে তিনজন একসাথে ভাত খায়।
হালিমা হাত দিয়ে খায়। রাবেয়াও হাত দিয়ে। তাসনিম চামচ দিয়ে। ছোট বিষয়। কিন্তু এই ছোট বিষয়ে তিন প্রজন্মের পার্থক্য। হালিমা তাসনিমের চামচের দিকে তাকান। কিছু বলেন না। কিন্তু ভাবেন, নাতনি হাত দিয়ে ভাত খেতে পারে না। এটা উন্নতি নাকি ক্ষতি? হালিমা জানেন না।
তিনজন একসাথে বসে আছে। হালিমা বলে, "আমার সময়ে মেয়েরা মানুষ ছিল না। গরু ছিল। কাজের গরু। বাচ্চা বানানোর গরু। রান্নার গরু। এর বেশি কিছু না।"
রাবেয়া বলে, "আমার সময়ে মেয়েরা মানুষ হতে শুরু করেছিল। কিন্তু অর্ধেক মানুষ। পড়তে পারত কিন্তু শেষ করতে পারত না। স্বপ্ন দেখতে পারত কিন্তু পূরণ করতে পারত না।"
তাসনিম বলে, "আমার সময়ে মেয়েরা পুরো মানুষ। কাগজে। আইনে। কিন্তু জীবনে? জীবনে এখনো অর্ধেক।"
হালিমা তাসনিমের দিকে তাকায়। নাতনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, ব্যাংকের চাকরি, নিজের পছন্দের স্বামী। হালিমার চোখে পানি আসে। গর্ব নয়। আফসোস। যদি হালিমাও পড়তে পারত? যদি হালিমারও একটা পছন্দ থাকত? যদি হালিমার জীবনেও একটা "নিজের" কিছু থাকত?
কিন্তু হালিমা হাসে। হাসে কারণ তাসনিম পেরেছে। হালিমা পারেনি, রাবেয়া পুরোটা পারেনি, কিন্তু তাসনিম পেরেছে। এটাই যথেষ্ট। মা আর দাদির কাজ হলো পথ তৈরি করা। হাঁটবে মেয়ে।
৭
কিন্তু পথটা কি তৈরি হয়েছে?
হালিমা থেকে রাবেয়া, বিয়ের বয়স বারো থেকে আঠারো হয়েছে। ছয় বছর। পঁচিশ বছরে ছয় বছরের উন্নতি। রাবেয়া থেকে তাসনিম, বিয়ের বয়স আঠারো থেকে চব্বিশ হয়েছে। আরো ছয় বছর। আরো পঁচিশ বছরে আরো ছয় বছরের উন্নতি।
হালিমার শিক্ষা শূন্য। রাবেয়ার শিক্ষা দশম শ্রেণি। তাসনিমের শিক্ষা মাস্টার্স। এটুকু অগ্রগতি তিন প্রজন্মে হয়েছে।
কিন্তু হালিমা রান্না করত। রাবেয়াও রান্না করে। তাসনিমও রান্না করে। রান্না বদলায়নি।
হালিমা সন্তান মানুষ করত। রাবেয়াও করেছে। তাসনিমকেও করতে হবে। সন্তান পালন বদলায়নি।
হালিমার কণ্ঠস্বর গ্রামে শোনা যেত না। রাবেয়ার কণ্ঠস্বর পরিবারে শোনা যেত, বাইরে না। তাসনিমের কণ্ঠস্বর অফিসে শোনা যায়, কিন্তু সবসময় না, সব জায়গায় না।
উন্নতি হয়েছে। অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু উন্নতির গতি ধীর। এই গতিতে আরো কত প্রজন্ম লাগবে আকাশের পুরোটা পেতে?
৮
তাসনিমের একটা মেয়ে হবে।
পেটে আছে। চার মাস। তাসনিম জানে মেয়ে হবে, আল্ট্রাসনোগ্রামে দেখেছে। স্বামী বলেছে, "মেয়ে হোক, ছেলে হোক, সমান।" তাসনিম বিশ্বাস করে স্বামীকে। কিন্তু জানে সমাজ বিশ্বাস করবে না।
হালিমা যখন শুনেছিল মেয়ে হবে, চুপ করে ছিল। কিছু বলেনি। কিন্তু তাসনিম দেখেছিল দাদির চোখে একটা ছায়া। সেই ছায়া কী? আনন্দ? চিন্তা? দুটোই।
আনন্দ, কারণ আরেকটা মেয়ে আসছে পৃথিবীতে।
চিন্তা, কারণ আরেকটা মেয়ে আসছে পৃথিবীতে।
হালিমা জানে মেয়ে হওয়া মানে কী। সত্তর বছরের অভিজ্ঞতায় জানে। শরীরে জানে। হাড়ে জানে। প্রতিটা ক্ষতে জানে।
তাসনিম দাদির কাছে গিয়ে বসল। দাদির হাত ধরল। বলল, "দাদি, আমার মেয়ে তোমার মতো হবে না। আমার মতোও হবে না। সে নিজের মতো হবে। সে পুরো আকাশ পাবে।"
হালিমা হাসল। পুরোনো হাসি। ক্লান্ত হাসি। বললেন, "ইনশাআল্লাহ।"
তারপর বললেন, আস্তে, যেন নিজেকে বলছেন, "দাদি হাঁটতে পারেনি। মা দৌড়াতে পারেনি। তুই উড়তে পারিস। তোর মেয়ে হয়তো চাঁদে যাবে। কিন্তু আকাশটা..."
থামলেন।
তাসনিম শেষ করল, "আকাশটা এখনো অর্ধেক।"
হালিমা মাথা নাড়লেন। হ্যাঁ। এখনো অর্ধেক। তিন প্রজন্মে অর্ধেক। আরো কত প্রজন্ম লাগবে পুরোটা পেতে?
রাবেয়া ঘর থেকে এসে বলল, "আম্মা, চা খাবে?" হালিমা বললেন, "দে।" রাবেয়া চা বানাতে গেল। তাসনিম দাদির পায়ের কাছে বসে রইল। দাদির পা শুকনো, গোড়ালি ফাটা, পায়ের নখ মোটা হয়ে গেছে। এই পা কখনো জুতো পরেনি। এই পা খালি পায়ে সত্তর বছর হেঁটেছে। তাসনিম নিজের পায়ের দিকে তাকাল। স্যান্ডেল, পরিষ্কার, নখে হালকা রঙ। একই রক্ত, একই বংশ, দুটো আলাদা পা। দুটো আলাদা পৃথিবী।
৯
সন্ধ্যা হলো। আজান ভেসে এলো।
হালিমা নামাজ পড়বে। রাবেয়া রান্নাঘরে যাবে। তাসনিম ল্যাপটপ বন্ধ করবে।
তিনটে মেয়ে। তিনটে যুগ। একটা সত্য: আকাশের অর্ধেক দখল করতে তিন প্রজন্ম লেগেছে। বাকি অর্ধেকের জন্য কত লাগবে?
হালিমা হাঁটতে পারেনি, তাই রাবেয়া হাঁটতে শিখেছে। রাবেয়া দৌড়াতে পারেনি, তাই তাসনিম দৌড়াতে শিখেছে। তাসনিম উড়তে পারে, কিন্তু আকাশের অর্ধেক তার নয়।
এই গল্প শেষ হয় না। এই গল্প প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে। প্রতিটা প্রজন্ম আগের চেয়ে একটু বেশি পায়। প্রতিটা প্রজন্ম আগের চেয়ে একটু বেশি পারে। কিন্তু প্রতিটা প্রজন্ম একই প্রশ্ন রেখে যায়:
পুরো আকাশ কবে?
তাসনিমের মেয়ে হয়তো জানবে। অথবা তার মেয়ে। অথবা তার মেয়ে।
অথবা কেউই জানবে না। এবং প্রশ্নটা থেকে যাবে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে, মা থেকে মেয়ে, মেয়ে থেকে মেয়ে, চিরকালের জন্য অর্ধেক আকাশ।
রাতে তিনজন তিনটে বিছানায় শোয়। হালিমা শোয় মাটিতে পাতা তোশকে, যেভাবে সত্তর বছর ধরে শুয়েছে। রাবেয়া শোয় খাটে, স্বামীর পাশে। তাসনিম শোয় গেস্টরুমে, পেটে হাত রেখে, ভেতরে যে প্রাণ, তাকে অনুভব করে।
তিনজন তিনটে স্বপ্ন দেখে। হালিমা স্বপ্ন দেখে না, বা দেখলেও মনে রাখে না। রাবেয়া স্বপ্ন দেখে এসএসসি সার্টিফিকেটের, যেটা এখনো আলমারিতে। তাসনিম স্বপ্ন দেখে মেয়ের, যে আসছে, যে আসবে এমন একটা পৃথিবীতে যেটা তার দাদির পৃথিবীর চেয়ে ভালো, তার মায়ের পৃথিবীর চেয়ে ভালো, তার নিজের পৃথিবীর চেয়ে ভালো।
ভালো কতটুকু? সেটা কেউ জানে না। কিন্তু ভালো। একটু হলেও ভালো। এটুকুই যথেষ্ট। এটুকুর জন্যই তিন প্রজন্ম লড়েছে।