GPA-র গণিত
ছয়দিনের পরীক্ষায় একটা সংখ্যা, সারাজীবনের রায়
১
সকাল আটটায় জাহিদের ঘুম ভাঙল।
কাল রাতে ঘুমাতে পারেনি ভালো করে। ফোনের স্ক্রিনে বারবার রেজাল্ট দেখেছে। 4.17। সংখ্যাটা চোখের সামনে ভাসছিল। মাঝে মাঝে 5.00 হয়ে যাচ্ছিল, তারপর আবার 4.17 হয়ে ফিরে আসছিল। স্বপ্ন না দুঃস্বপ্ন, বুঝতে পারেনি।
বিছানায় শুয়ে শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ।
বাইরে থেকে মায়ের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। কারো সাথে কথা বলছেন। গলার স্বর থেকে বোঝা যাচ্ছে, পাশের বাসার খালাম্মা। মা বলছেন, "হ্যাঁ, সায়েন্সে 4.17 পাওয়া তো সহজ না। ওর বাবাও খুশি।"
জাহিদ উঠে বসল।
মা খুশি। বাবা খুশি। তাহলে সে কেন খুশি না?
উত্তরটা সে জানে। কিন্তু স্বীকার করতে চায় না।
২
বাথরুম থেকে বের হয়ে দেখল মা ভাত বাড়ছেন। সকালে রুটি হয়, সাধারণত। আজ ভাত। ডিমভুনাও আছে।
"এটা কিসের স্পেশাল?" জাহিদ জিজ্ঞেস করল।
"তোর রেজাল্টের।" মা হাসলেন। "পাশের বাসার খালাম্মা শুনে গেলেন। বললেন, সায়েন্সে 4.17 পেয়েছে, মাশাআল্লাহ।"
"মা, 4.17 তো GPA 5 না।"
মা থামলেন। হাতের হাতা দিয়ে কপালের ঘাম মুছলেন। তারপর বললেন, "তোর বাবা HSC দেয়নি। আমি SSC পাস। তোর ভাই রাকিব কোনোমতে GPA 3 পেয়েছিল। তুই 4.17 পেয়েছিস। এটা এই বাড়ির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সংখ্যা।"
জাহিদ কিছু বলল না। ভাত খেতে বসল।
মায়ের কথায় যুক্তি আছে। কিন্তু যুক্তি দিয়ে তো মন ভরে না। রাসেলের 5.00 এর পাশে 4.17 কে রাখলে, সংখ্যাটা কেমন যেন কুঁকড়ে যায়। ছোট হয়ে যায়। অদৃশ্য হয়ে যেতে চায়।
৩
সকাল নয়টার দিকে জাহিদ বের হলো।
শহরটা আজ অন্যরকম। কালকের চেয়ে আরো বেশি গুঞ্জন। কাল ছিল প্রথম ধাক্কা, শক। আজ শক কেটে গেছে, এখন হিসাব শুরু হয়েছে।
রাস্তার মোড়ে রহিম কোচিং সেন্টারের সামনে ভিড়। জাহিদ দাঁড়াল।
বোর্ডে নতুন ব্যানার লাগানো হয়েছে। লাল কাপড়ের ওপর সাদা অক্ষরে লেখা:
"আমাদের গর্ব! রহিম কোচিং সেন্টার থেকে ১৫ জন GPA 5.00 পেয়েছে!"
জাহিদ ব্যানারের দিকে তাকিয়ে রইল।
পনেরো জন। রহিম স্যারের কোচিংয়ে এবার প্রায় দুইশো ছাত্রছাত্রী ছিল। মানে বাকি একশো পঁচাশি জনের কথা কেউ বলবে না। ব্যানারে তাদের নাম নেই। তারা ব্যানারের যোগ্য না।
জাহিদও ব্যানারের যোগ্য না।
সে এই কোচিংয়ে পড়ত। ম্যাথ আর ফিজিক্স নিত। মাসে বারোশো টাকা। বাবা CNG চালিয়ে সেই টাকা দিতেন। কখনো কখনো দেরি হতো। রহিম স্যার একদিন ক্লাসে বলেছিলেন, "যাদের বেতন বাকি, তারা পরের মাসের মধ্যে দিয়ে দাও। নাহলে সিট অন্যকে দিতে হবে।" জাহিদ জানত, কথাটা তার জন্য বলা।
সেই কোচিং সেন্টার আজ পনেরো জনের নাম নিয়ে উদযাপন করছে। বাকিরা? বাকিরা পরিসংখ্যান। ব্যানারের নিচে পড়ে থাকা ধুলো।
৪
চায়ের দোকানে ফারুক বসে আছে।
জাহিদ দেখেই বুঝল, ফারুকের অবস্থা ভালো না। চায়ের কাপ হাতে ধরে বসে আছে, কিন্তু চা খাচ্ছে না। কাপের ভেতরে চা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। ফারুকের চোখ দোকানের টিনের দেয়ালে আটকে আছে, যেন সেখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু লেখা।
"ফারুক।"
ফারুক তাকাল। একটু হাসার চেষ্টা করল। হাসি হলো না।
"বোস।"
জাহিদ পাশে বসল। দোকানদারকে বলল, "এক কাপ।"
কিছুক্ষণ চুপচাপ। চায়ের দোকানের টিভিতে খবর চলছে। HSC রেজাল্ট নিয়ে আলোচনা। কোনো শিক্ষা বিশেষজ্ঞ বলছেন, "এবার পাসের হার বেড়েছে, এটা শুভ লক্ষণ।"
ফারুক বলল, "3.80।"
জাহিদ বলল, "জানি।"
"বাবা কাল রাতে বললেন, পলিটেকনিকে ভর্তি হতে হবে। ডিপ্লোমা করতে হবে। ইউনিভার্সিটির খরচ দেওয়ার ক্ষমতা নেই।"
জাহিদ কিছু বলল না। কী বলবে? ফারুকের বাবা রিকশা চালান। সারাদিন প্যাডেল মেরে মাসে আট-নয় হাজার টাকা আসে। সেই টাকায় পরিবারের চারজনের খাওয়াপরা। ইউনিভার্সিটি? সেটা অন্য জগতের শব্দ।
"পলিটেকনিক খারাপ না।" জাহিদ বলল। জানে, কথাটা ফাঁকা। কিন্তু আর কী বলে?
ফারুক বলল, "জানি। কিন্তু আমি কি চেষ্টাও করতে পারব না? ভর্তি পরীক্ষাটা দিয়ে দেখতে পারতাম তো। 3.80 দিয়ে কোনো ইউনিভার্সিটি পাওয়া যেত না?"
জাহিদ জানে, যেত। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যেত। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্সও পেত হয়তো। কিন্তু সেসব কথা ফারুকের বাবাকে কে বোঝাবে? রিকশার হ্যান্ডেলে যে হাত ফোসকা পড়েছে, সেই হাত দিয়ে চার বছরের ইউনিভার্সিটির খরচ কোত্থেকে আসবে?
"তোর কী হবে?" ফারুক জিজ্ঞেস করল।
"জানি না।" জাহিদ সত্যি কথা বলল।
"তুই তো 4.17 পেয়েছিস। তোর তো অপশন আছে।"
অপশন। শব্দটা শুনতে ভালো। কিন্তু অপশন থাকা আর অপশন কাজে লাগাতে পারা, এক জিনিস না।
৫
চায়ের দোকান থেকে বের হয়ে জাহিদ রাসেলদের বাড়ির দিকে হাঁটল।
দূর থেকে দেখা গেল, বাড়ির সামনে গাড়ি। একটা না, দুইটা। মামা এসেছেন ঢাকা থেকে। চাচা এসেছেন নরসিংদী থেকে। রাসেলের GPA 5.00 উদযাপন করতে।
জাহিদ গেটের কাছে গিয়ে দাঁড়াল।
ভেতর থেকে হইচই শোনা যাচ্ছে। কে যেন বলছে, "BUET হবে ইনশাআল্লাহ। আমাদের রাসেল BUET-এ পড়বে।" হাসির শব্দ। তালি।
জাহিদ ভেতরে ঢুকল না।
ভেতরে ঢুকলে কী হবে? সবাই জানে সে 4.17 পেয়েছে। কেউ কিছু বলবে না, কিন্তু সবার চোখে একটা প্রশ্ন থাকবে যেটা মুখে বলবে না: "তুমি কী পেয়েছ?" সেই প্রশ্নের পর একটা নীরবতা আসবে। সেই নীরবতায় 0.83 পয়েন্টের ব্যবধানটা ঘরের মাঝখানে এসে দাঁড়াবে। বিশাল। অনতিক্রম্য।
ফোন বের করে রাসেলকে SMS করল: "ভাই, অনেক অনেক মোবারকবাদ। পরে দেখা হবে।"
রাসেল সাথে সাথে রিপ্লাই দিল: "ভাই তুই কই? আয় না বাসায়।"
জাহিদ লিখল: "একটু কাজ আছে। বিকালে আসব।"
কাজ নেই। কোনো কাজ নেই। শুধু ঐ বাড়িতে ঢুকে উদযাপনের মাঝখানে নিজের 4.17 নিয়ে বসে থাকার মতো মানসিক শক্তি নেই এই মুহূর্তে।
৬
বাড়ি ফিরে এসে জাহিদ ঘরের দরজা বন্ধ করল।
বিছানায় বসে ফোন বের করল।
Google-এ টাইপ করল: "GPA 4 দিয়ে কোথায় ভর্তি হওয়া যায়"
রেজাল্ট আসতে 0.3 সেকেন্ড লাগল।
প্রথম রেজাল্ট: একটা ফোরাম পোস্ট। "ভাই, আমি GPA 4.08 পেয়েছি, কোথায় চান্স পাব?"
দ্বিতীয় রেজাল্ট: একটা ব্লগ। "GPA 4.00-4.49 দিয়ে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যায়।"
তৃতীয় রেজাল্ট: আরেকটা ফোরাম। "GPA 4 পেয়ে হতাশ, কী করব?"
জাহিদ স্ক্রল করতে থাকল।
লাখ লাখ মানুষ একই প্রশ্ন করেছে। একই ভয়, একই অনিশ্চয়তা, একই রাত জাগা। Google-এর সার্চ বারে "GPA 4 দিয়ে" লিখলে বাকিটা Google নিজেই পূরণ করে দেয়। কারণ এত মানুষ এই প্রশ্ন করেছে যে Google শিখে গেছে।
ফোরামগুলোতে ঢুকল। পড়তে থাকল।
একজন লিখেছে: "ভাই, আমি 2019-এ GPA 4.25 পেয়েছিলাম। সবাই বলেছিল কিছু হবে না। আমি জগন্নাথে ভর্তি হলাম, এখন BCS ক্যাডার।"
আরেকজন: "GPA 5 দিয়ে BUET-এ পড়েছি, এখন বেকার। GPA দিয়ে কিছু হয় না।"
আরেকজন: "GPA 3.50 পেয়ে পলিটেকনিকে গেছি, এখন সিঙ্গাপুরে জব, মাসে দেড় লাখ টাকা পাঠাই।"
আরেকজন: "GPA 5.00 পেয়ে মেডিকেলে চান্স পাইনি। ভর্তি পরীক্ষায় ফেল।"
জাহিদ ফোন রেখে দিল।
মাথা ঘুরছে। খুব বেশি তথ্য, খুব বেশি মত, খুব বেশি গল্প। সবগুলো পরস্পরবিরোধী। কেউ বলছে GPA সব, কেউ বলছে GPA কিছু না। কোনটা সত্যি?
৭
বিকালে বাবা ফিরলেন।
CNG পার্ক করে ঘরে ঢুকলেন। মুখে ক্লান্তি। সারাদিন রোদে CNG চালিয়েছেন। গামছা দিয়ে মুখ মুছলেন। মা চা দিলেন।
"আজিজ ভাই, আজ কেমন ছিল?" মা জিজ্ঞেস করলেন।
"গরম। যাত্রী কম। সবাই রেজাল্ট নিয়ে ব্যস্ত।" বাবা চায়ে চুমুক দিলেন। "স্ট্যান্ডে সবাই জিজ্ঞেস করল, ছেলে কত পেয়েছে। বললাম 4.17। একজন বলল, সায়েন্সে 4.17 ভালো। আরেকজন বলল, আমার ছেলে 4.50 পেয়েছে।"
বাবা থামলেন। চায়ের কাপটা টেবিলে রাখলেন।
"সেই লোকটা, কালু মিয়া, CNG চালায়। তার ছেলে 4.50 পেয়েছে। সে বলল, ছেলেকে ঢাকায় পাঠাবে, ভালো কোচিংয়ে ভর্তি করবে, মেডিকেল কি ইঞ্জিনিয়ারিং দেখবে। আমি শুনলাম। কিছু বললাম না।"
জাহিদ দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে শুনছে।
"আমি কিছু বলতে পারলাম না কারণ আমি জানি না আমার ছেলেকে কোথায় পাঠাব। কত টাকা লাগবে। কোথায় ভর্তি হওয়া যায়। আমি তো পড়াশোনা করিনি। আমি কী জানব?"
মা বললেন, "তুমি চিন্তা কোরো না। জাহিদ নিজেই বের করবে। ছেলেটা বুদ্ধিমান।"
"বুদ্ধিমান হলেই তো হবে না। টাকাও লাগবে।"
চুপ হয়ে গেলেন দুজনেই।
জাহিদ দরজার আড়াল থেকে নিজের ঘরে ফিরে গেল। নিঃশব্দে।
৮
রাতে মিম পড়তে বসেছে। ক্লাস এইটের ম্যাথ। জাহিদের ঘরে এসে বলল, "ভাইয়া, একটা অঙ্ক পারছি না।"
জাহিদ অঙ্কটা দেখল। সহজ। দুই মিনিটে বুঝিয়ে দিল।
মিম বলল, "ভাইয়া, তুমি তো অনেক ভালো পড়াও। তুমি শিক্ষক হলে ভালো হতো।"
"শিক্ষক?" জাহিদ হাসল। তিক্ত একটা হাসি। "শিক্ষক হতে গেলেও তো ইউনিভার্সিটি লাগবে।"
"তুমি তো যাবে ইউনিভার্সিটি?"
"দেখা যাক।"
মিম চলে গেল। জাহিদ ভাবল, মিম ক্লাস এইটে পড়ে। আর চার বছর পর সেও HSC দেবে। তখন সেও একটা GPA পাবে। সেই GPA দিয়ে তার জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের রূপরেখা আঁকা হবে। ঠিক যেমন আজ জাহিদের হচ্ছে।
একটা সংখ্যা। চার অঙ্কের। দশমিকের আগে একটা, পরে দুইটা।
ছয়দিনের পরীক্ষায় ঠিক হয়ে যায় বাকি জীবন কোন দিকে যাবে।
৯
রাত এগারোটায় জাহিদ আবার ফোন হাতে নিল।
Facebook খুলল। নিউজফিডে শুধু রেজাল্ট। GPA 5.00 পাওয়া ছেলেমেয়েদের ছবি। ফুলের তোড়া হাতে। বাবা-মায়ের সাথে। কোচিং সেন্টারের সামনে। স্কুলের সামনে। হাসি। এত হাসি যে স্ক্রিন থেকে উপচে পড়ছে।
কেউ 4.17 নিয়ে পোস্ট দেয়নি। কেউ 3.80 নিয়ে পোস্ট দেয়নি। কেউ 3.00 নিয়ে পোস্ট দেয়নি।
যেন এই দেশে শুধু GPA 5.00 ই একমাত্র রেজাল্ট। বাকিরা রেজাল্ট পায়নি, একটা সংখ্যা পেয়েছে। সেই সংখ্যা উদযাপনের যোগ্য না। সেই সংখ্যা নিয়ে ছবি তোলা যায় না। সেই সংখ্যা নিয়ে বাবা-মা Facebook-এ পোস্ট দেন না।
জাহিদ নিজের প্রোফাইলে গেল। শেষ পোস্ট তিন মাস আগে। একটা মিম শেয়ার করেছিল পরীক্ষা নিয়ে।
সে কিছু লিখবে ভাবল। তারপর ভাবল, কী লিখবে? "আমি GPA 4.17 পেয়েছি"? কে লাইক দেবে? কে কমেন্ট করবে? কী কমেন্ট করবে? "ভালো হয়েছে"? "আরেকটু হলে 5 হতো"? "পরের বার ভালো করবি"? পরের বার নেই। HSC একবারই হয়।
ফোন রেখে দিল।
১০
ঘুমানোর আগে জাহিদ শুয়ে শুয়ে ভাবল।
সুমাইয়া 4.83 পেয়েছে। মেডিকেলের জন্য লড়বে। রাসেল 5.00 পেয়েছে। BUET-এর স্বপ্ন দেখছে। আরিফ 4.50 পেয়েছে। জাপান যাবে বলে ঠিক করেছে। ফারুক 3.80 পেয়েছে। পলিটেকনিকে যাবে, বাবা বলেছেন।
আর জাহিদ? 4.17।
এই সংখ্যা দিয়ে সে কী?
সে সোনালি না। 5.00 সোনালি। সে অদৃশ্যও না। 3.00 এর নিচে যারা পেয়েছে, তারা অদৃশ্য। সে মাঝখানে কোথাও। না এদিকে, না ওদিকে। না উদযাপন, না হতাশা। একটা ধূসর জায়গায়, যেখানে কেউ তাকায় না।
ছয়দিন পরীক্ষা দিয়েছিল। বারোটা বিষয়ে। প্রতিটা পরীক্ষা তিন ঘণ্টা করে। মোট ছত্রিশ ঘণ্টা।
ছত্রিশ ঘণ্টায় তৈরি হয়ে গেল একটা সংখ্যা। সেই সংখ্যা এখন তার পরিচয়। সেই সংখ্যা দিয়ে মানুষ তাকে মাপবে। সেই সংখ্যা দিয়ে দরজা খুলবে, অথবা বন্ধ হবে। সেই সংখ্যা দিয়ে বাবা CNG স্ট্যান্ডে মুখ দেখাবেন, অথবা চুপ থাকবেন।
একটা সংখ্যা।
4.17।
জাহিদ চোখ বন্ধ করল।
ছত্রিশ ঘণ্টার পরীক্ষায় একটা রায় হয়ে গেছে। সেই রায় এখন তার গলায় ঝুলছে। ফলকের মতো। যেদিকে যাবে, লোকে পড়বে।
কিন্তু একটা সংখ্যা কি সত্যিই বলতে পারে একটা মানুষ কী হতে পারবে, আর কী হতে পারবে না?
এই প্রশ্নটা নিয়ে জাহিদ ঘুমিয়ে পড়ল। উত্তর জানে না। হয়তো কেউ জানে না। হয়তো উত্তরটা খুঁজতে খুঁজতেই জীবন কেটে যায়।
বাইরে রাতের নীরবতা। দূরে কোথাও একটা CNG-র আওয়াজ। হয়তো বাবার CNG না। কিন্তু আওয়াজটা একই। সব CNG-র আওয়াজ একই।
সব GPA-ও কি একই?