রাকিব ভাইয়ের ফোন

যে ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হতে পারত, সে গার্মেন্টসে লাইন সুপারভাইজার

পর্ব ৯ · ১০ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-১৯

রাত সাড়ে এগারোটা। বাসায় সবাই ঘুমিয়ে গেছে।

বাবা শোবার ঘরে। মা পাশে। মিম তার ছোট্ট বিছানায় একটা বালিশ জড়িয়ে ধরে ঘুমাচ্ছে। জাহিদ বারান্দায় বসে আছে। মার্চের রাতে হালকা একটু ঠান্ডা বাতাস। পাড়ায় সব বাতি নিভে গেছে। শুধু রাস্তার মোড়ে একটা হলুদ বাল্ব জ্বলছে, তার নিচে দুটো বিড়াল চুপচাপ বসে আছে।

জাহিদের ফোনটা পাশে চার্জে দেওয়া। একটা পুরনো স্যামসাং, স্ক্রিনের কোণায় চিড়। ফোনটা হঠাৎ কেঁপে উঠল।

স্ক্রিনে নাম: রাকিব ভাই।

জাহিদের বুকটা ধক করে উঠল। রাকিব ভাই এত রাতে ফোন করে না। কখনো না। রাকিব ভাই রাত দশটার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে, কারণ সকাল ছয়টায় ফ্যাক্টরিতে ঢুকতে হয়।

ফোনটা হাতে নিয়ে রিসিভ করল।

"ভাই?"

"জাহিদ। ঘুমাস নাই?"

রাকিবের গলা। একটু ক্লান্ত, একটু ভাঙা। পেছনে কোনো শব্দ নেই। গাজীপুরের যে রুমে রাকিব থাকে, সেখানে আরো তিনজন থাকে। এই সময়ে সবাই ঘুমিয়ে গেছে মনে হয়।

"না ভাই, ঘুমাই নাই।"

"রেজাল্ট তোর কত হইছে?"

জাহিদ বলল, "4.17।"

লাইনের ওপাশে একটু চুপ। দুই সেকেন্ড। তিন সেকেন্ড।

তারপর রাকিব বলল, "ভালো।"

শুধু একটা শব্দ। ভালো। কিন্তু শব্দটা বলার সময় রাকিবের গলায় এমন কিছু ছিল যেটা জাহিদ ধরতে পারল। গর্ব না, আনন্দ না। অন্যকিছু। যেটার নাম জাহিদ জানে না।

রাকিব ভাই পাঁচ বছরের বড়।

পাঁচ বছর আগে রাকিবও HSC দিয়েছিল। বিজ্ঞান বিভাগ। GPA 3.90। খারাপ না। মোটেও খারাপ না। কিন্তু সেবার রেজাল্টের দিনে বাসায় যে আলোচনা হয়েছিল, সেটা রেজাল্ট নিয়ে ছিল না।

সেটা ছিল হিসাবের আলোচনা।

বাবা তখন CNG চালাতেন। মায়ের সেলাই তখনো শুরু হয়নি। মাসে আয় বারো-তেরো হাজার। দুই ছেলে, এক মেয়ে। মিম তখন ক্লাস থ্রি।

রাকিবের HSC-র পরে বাবা একদিন রাতে মাকে বলেছিলেন, জাহিদ শুনেছিল দরজার ওপাশ থেকে: "দুইজনরে একসাথে পড়ানো যাবে না। একজনরে কাজে লাগাইতে হইবো।"

মা কিছু বলেননি। চুপ ছিলেন।

রাকিব নিজে শুনেছিল কি না, জাহিদ জানে না। কোনোদিন জিজ্ঞেস করেনি। কিন্তু দুই সপ্তাহের মধ্যে রাকিব একটা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকরি নিয়ে গাজীপুর চলে গেল।

কেউ কাউকে বলেনি যে এটা ত্যাগ। রাকিব বলেছিল, "পড়ালেখায় মন নাই, চাকরি করুম।" বাবা মাথা নেড়েছিলেন। মা চুলার কাছে মুখ ফিরিয়ে ছিলেন।

সেদিনটার কথা জাহিদের পরিষ্কার মনে আছে। রাকিব ভাই একটা কালো ব্যাগে কাপড়চোপড় গুছিয়েছিল। ব্যাগটা ছোট ছিল, কারণ কাপড়ও বেশি ছিল না। একটা প্যান্ট, তিনটা শার্ট, একটা লুঙ্গি, একটা গামছা। আর একটা ক্যালকুলেটর।

ক্যালকুলেটরটা কেন নিল, জাহিদ জিজ্ঞেস করতে চেয়েছিল। করেনি।

"4.17 ভালো," রাকিব আবার বলল। "এবার পড়। ভালো করে পড়।"

"ভাই, ভর্তি পরীক্ষার প্রিপারেশন নিতে হবে। কোচিং--"

"কোচিং লাগবে?"

"সবাই করে।"

"কত?"

জাহিদ থামল। বিকালে শফিকের কাছে শুনেছে, পলাশ স্যারের ব্যাচ পঁয়তাল্লিশ হাজার। মাহবুব স্যারের পঁয়ত্রিশ। কম দামে কিছু কোচিং আছে, কুড়ি-পঁচিশ। কিন্তু যেকোনো সংখ্যাই রাকিব ভাইয়ের কাছে বিশাল।

"অনেক। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার।"

রাকিব চুপ করে রইল।

"ভাই, আমি বাসায় নিজে নিজে পড়ব। কোচিং না করলেও--"

"কোচিংয়ে ভর্তি হ।"

"কিন্তু ভাই, টাকা--"

"টাকার চিন্তা তুই করবি না। আমি আছি।"

এই বাক্যটা। ছোট্ট একটা বাক্য। কিন্তু এর পেছনে যে ওজন, সেটা জাহিদ বুঝতে পারল। আমি আছি মানে রাকিব ভাই আরো বেশি টাকা পাঠাবে। এখন পাঁচ হাজার পাঠায়, হয়তো আট হাজার পাঠাবে। আঠারো হাজার থেকে আট হাজার বাদ দিলে থাকে দশ হাজার। গাজীপুরে দশ হাজারে একা থাকা মানে -- জাহিদ হিসাব করতে লাগল।

রুম ভাড়া তিন হাজার। চারজনে ভাগ করলে সাড়ে সাতশো। খাওয়া, ন্যূনতম, দুই বেলা ভাত দাল, দিনে একশো ধরলে তিন হাজার। যাতায়াত পাঁচশো। ফোনের রিচার্জ দুইশো। সাবান, তেল, বাকি খরচ পাঁচশো। মোট প্রায় পাঁচ হাজার।

বাকি থাকে পাঁচ হাজার। সেটা থেকে যদি আট পাঠায়, তাহলে নিজের জন্য থাকছে -- মাইনাস তিন হাজার?

এটা তো পারবে না।

মানে রাকিব ভাই খাওয়া কমাবে। দুই বেলা থেকে দেড় বেলা। অথবা ভাতের সাথে তরকারি বাদ। অথবা নাস্তা বাদ। কোনো না কোনোভাবে শরীর থেকে কেটে টাকা বের করবে।

জাহিদ বলতে চাইল, "ভাই, দরকার নাই। আমি নিজে নিজে পড়ব।"

কিন্তু বলতে পারল না। কারণ সে জানে, রাকিব ভাইকে না বললে রাকিব ভাই রাগ করবে। রাগ না, আহত হবে। এটা রাকিব ভাইয়ের ইজ্জতের ব্যাপার। ছোট ভাইয়ের পড়ালেখার খরচ জোগানো, এটা রাকিব নিজের দায়িত্ব বলে মনে করে। এই দায়িত্বটা কেড়ে নিলে রাকিবের কাছে কী থাকবে?

একটা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি। দশ-বারো ঘণ্টার শিফট। চারজনের একটা রুম। গাজীপুরের ধুলো।

"ভাই, তুমি নিজে কেমন আছ?"

"ভালো আছি।" উত্তরটা তাড়াতাড়ি এল। যেন এই প্রশ্নের উত্তর আগে থেকেই তৈরি ছিল। "প্রমোশন হইছে। লাইন সুপারভাইজার। আঠারো হাজার এখন।"

"সেটা তো ভালো।"

"হ্যাঁ। ভালো।"

আবার চুপ। ফোনের লাইনে হালকা একটা স্ট্যাটিক শব্দ।

জাহিদ জানে, লাইন সুপারভাইজার মানে আরো বেশি ঝামেলা। অর্ডার সময়মতো শেষ করানো, মেশিন ঠিক রাখা, শ্রমিকদের সামলানো। আঠারো হাজার টাকায় একটা মানুষের সারাটা দিন কিনে নেওয়া হয়।

রাকিব ভাই HSC-তে 3.90 পেয়েছিল। অঙ্কে সবচেয়ে ভালো ছিল। ফিজিক্সে ক্লাসে ফার্স্ট ছিল কয়েকবার। রাকিব ভাই ইঞ্জিনিয়ার হতে চাইত। বুয়েট না হোক, কুয়েটে, রুয়েটে, যেকোনো একটায়। পারত। 3.90 দিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করলে সুযোগ ছিল।

কিন্তু ভর্তি পরীক্ষা দিতে হলেও তো কোচিং লাগে। কোচিংয়ে টাকা লাগে। সেই টাকা ছিল না।

তাই রাকিব "নিজে চাইল" চাকরি করতে।

জাহিদের একটা স্মৃতি আছে। খুব পুরনো না, বছর চারেক আগের।

তখন জাহিদ ক্লাস টেনে। রাকিব ভাই গাজীপুরে চলে গেছে বছরখানেক হলো। ঈদের ছুটিতে বাসায় এসেছিল তিনদিনের জন্য।

রাতে লোডশেডিং হলো। বাসায় তখন ইনভার্টার নেই। মোমবাতি জ্বালানো হলো। মিম ভয়ে মায়ের কোলে। বাবা বারান্দায় গিয়ে বসলেন, গরমে ঘরে থাকা যাচ্ছিল না।

জাহিদ ছাদে উঠল। দেখল রাকিব ভাই ছাদের কোণায় বসে আছে। হাঁটুতে মুখ গুঁজে। হাতে কিছু একটা।

কাছে গিয়ে দেখল, একটা বই। ফিজিক্স ফার্স্ট পেপার। HSC-র বই। পুরনো, মলাটটা ছিঁড়ে গেছে। ভেতরে রাকিব ভাইয়ের হাতে লেখা নোট। মার্জিনে ছোট ছোট হিসাব। পেন্সিলে আঁকা ডায়াগ্রাম।

রাকিব ভাই বইটা পড়ছিল। মোমবাতি নেই, আলো নেই। ফোনের টর্চে। গাজীপুর থেকে ঈদে বাসায় এসে, রাতে ছাদে বসে, পুরনো ফিজিক্স বই পড়ছিল।

জাহিদ কিছু বলেনি। ফিরে গেছিল। ভেবেছিল রাকিব ভাই হয়তো চাইবে না কেউ দেখুক।

সেই রাতের পর জাহিদ আর কখনো রাকিব ভাইকে বই পড়তে দেখেনি। পরের ঈদে যখন এসেছিল, বইটা আলমারিতে ছিল না। হয়তো ফেলে দিয়েছে। হয়তো কাউকে দিয়ে দিয়েছে। হয়তো নিজের কাছেই রেখে দিয়েছে, গাজীপুরের চারজনের ঘরে, বালিশের নিচে।

"তোর জন্য আমি আট হাজার পাঠামু," রাকিব বলল। "প্রতি মাসে। যতদিন লাগে।"

"ভাই, এত টাকা--"

"চুপ কর।"

জাহিদ চুপ করল।

"তুই পড়। ভালো জায়গায় ভর্তি হ। মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং, ভার্সিটি, যেটায় পারিস। পড়ালেখা শেষ কর। একটা ভালো চাকরি কর। তারপর দেখিস।"

"তারপর দেখিস" -- এই কথাটার মানে কী? জাহিদ জানে। তারপর মানে, যখন জাহিদ উপার্জন করবে, তখন রাকিব ভাই হয়তো নিজেও কিছু একটা করতে পারবে। কিন্তু তখন রাকিব ভাইয়ের বয়স কত হবে? আটাশ? ত্রিশ? আটাশ-ত্রিশ বছর বয়সে গার্মেন্টসের লাইন সুপারভাইজার থেকে আর কোথায় যাওয়া যায়?

রাকিব ভাইয়ের জীবনের সবচেয়ে ভালো বছরগুলো কেটে যাচ্ছে গাজীপুরের একটা ফ্যাক্টরিতে। তেইশ থেকে আটাশ। যখন মানুষ পড়ে, শেখে, বড় হয়, সেই সময়টুকু রাকিব ভাই সেলাই মেশিনের সারি গুনছে।

জাহিদ যদি ফেল করে, যদি ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ না পায়, যদি পড়ালেখা শেষ করতে না পারে -- তাহলে রাকিব ভাইয়ের এই পাঁচটা বছর, ছয়টা বছর, সাতটা বছর -- এগুলো কী হবে?

কিছু না। শূন্য। এমন একটা বিনিয়োগ যেটা কোনো রিটার্ন দেয়নি।

এই চিন্তাটা জাহিদের বুকের উপর একটা ইটের মতো চেপে বসল।

"ভাই, তুমি কি কখনো ভাবো যে--"

জাহিদ থামল। বাক্যটা শেষ করতে পারল না।

"কী?"

"না, কিছু না।"

সে জিজ্ঞেস করতে চেয়েছিল, তুমি কি কখনো ভাবো যে তুমি যদি পড়তে পারতে? তুমি কি কখনো রাগ হও, আমার উপর, বাবার উপর, সংসারের উপর? তুমি কি কখনো ভাবো যে তোমার সাথে অন্যায় হয়েছে?

কিন্তু এই প্রশ্নগুলো করা যায় না। কারণ রাকিব ভাই যদি বলে হ্যাঁ, তাহলে দুজনেরই কষ্ট। আর যদি বলে না, তাহলে সেটা মিথ্যা, এবং সেই মিথ্যার ভার আরো বেশি।

কিছু কিছু সত্য চুপচাপ থাকলেই ভালো।

"আচ্ছা ভাই, আমি পড়ব। প্রমিস।"

"প্রমিসের দরকার নাই। পড়লেই হবে।"

রাকিবের গলা হঠাৎ একটু বদলে গেল। একটু নরম। একটু অন্যরকম।

"জাহিদ।"

"বলো ভাই।"

"তুই ভালো রেজাল্ট করছিস। আমি..."

একটু থামল। গলা একবার কেঁপে উঠল। খুব সামান্য। ফোনের স্পিকারে ধরা পড়ল কি পড়ল না বোঝা গেল না।

"...আমি খুশি হইছি।"

তারপর গলা আবার আগের মতো। শক্ত, সোজা, রাকিব ভাইয়ের চেনা গলা।

"ঘুমা এখন। কাল থেকে পড়াশোনা শুরু কর।"

"ভাই--"

"ঘুমা।"

লাইন কেটে গেল।

জাহিদ ফোনটা হাঁটুর উপর রাখল। স্ক্রিনে লেখা: কল শেষ। ১১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড।

এগারো মিনিটে একটা মানুষ তার নিজের ভবিষ্যৎ আরো কিছুটা ছোট করে দিল। আরো তিন হাজার টাকা কম খাবে, কম পরবে, কম বাঁচবে -- যাতে আরেকটা মানুষ বেশি পড়তে পারে, বেশি শিখতে পারে, বেশি বাঁচতে পারে।

এটাকে ভালোবাসা বলে? নাকি বাধ্যবাধকতা? নাকি এমন একটা জিনিস যার বাংলা বা ইংরেজি কোনো ভাষাতেই সঠিক নাম নেই?

জাহিদ জানে না।

সে শুধু জানে, রাকিব ভাইয়ের এই টাকাটা ঋণ না। ঋণ শোধ করা যায়। এটা অন্যকিছু। এটা এমন একটা দায় যেটা শোধ করার কোনো উপায় নেই। শুধু সম্মান করা যায়।

রাকিব ভাই নিজের জীবনের সবচেয়ে ভালো সময়টুকু দিয়ে দিচ্ছে। বিনিময়ে কিছু চায় না। শুধু একটা কথা: "পড়। ভালো করে পড়।"

১০

বারান্দায় বসে জাহিদ আকাশের দিকে তাকাল। তারা দেখা যায় না ঢাকায়। ধোঁয়া, আলো, ধুলো সব মিলে আকাশটা একটা ধূসর কাপড়ের মতো। কিন্তু আজকে একটা-দুইটা তারা দেখা যাচ্ছে। হয়তো বাতাস পরিষ্কার।

জাহিদের চোখ ভিজে গেল। সে চোখ মুছল না। কেউ দেখছে না। অন্ধকারে একটু কাঁদলে দোষ নেই।

সে ভাবল রাকিব ভাইয়ের কথা। তেইশ বছরের একটা ছেলে। যে ফিজিক্স ভালো পারত। যে ক্যালকুলেটর নিয়ে গাজীপুর গেছিল। যে ঈদের রাতে ছাদে বসে ফোনের টর্চে পুরনো বই পড়ত।

সেই ছেলেটা আজকে রাতে ফোন করে বলল, "তোর জন্য আট হাজার পাঠামু।"

জাহিদ বুঝতে পারল, এই 4.17 শুধু তার একার না। এই GPA-টার ভেতরে রাকিব ভাইয়ের ক্যালকুলেটরটাও আছে। বাবার CNG-র স্টিয়ারিংটাও আছে। মায়ের সুই-সুতোটাও আছে।

আর সামনে যা আসবে, সেটাও শুধু তার একার হবে না।

সে উঠে দাঁড়াল। ঘরে গেল। বিছানায় শুয়ে পড়ল। বালিশে মুখ চাপা দিল।

ঘুম এল না।

ফোনের স্ক্রিনটা একবার জ্বলে উঠল। তারপর নিভে গেল। অন্ধকার ঘরে জাহিদ চোখ খোলা রেখে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে রইল।

রাকিব ভাইয়ের ত্যাগ একটা উপহার না। এটা একটা ঋণ যেটা কোনোদিন শোধ হবে না। শুধু সম্মান করা যায়। শুধু যোগ্য হওয়া যায়।

কাল থেকে পড়তে হবে। ভালো করে পড়তে হবে।

রাকিব ভাইয়ের ক্যালকুলেটরের ঋণ আছে।