ইন্টার্ন জীবন

৩৬ ঘণ্টার শিফট, ৮ হাজার টাকার বেতন, আর একটা আমের দাম

পর্ব ৩৬ · ১০ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-১৯

সুমাইয়ার অ্যালার্ম বাজল সকাল ছয়টায়।

কিন্তু সে জেগে আছে আরো আগে থেকে। ঘুম ভেঙে গেছে পাঁচটায়। কারণটা সোজা, শরীর জানে আজ ৩৬ ঘণ্টার শিফট। শরীর আগে থেকে প্রস্তুতি নেয়। ঘুম কমিয়ে দেয়, এড্রেনালিন বাড়িয়ে দেয়। মানুষের শরীর যুদ্ধের জন্য তৈরি, বিবর্তন সেটা শিখিয়েছে। কিন্তু বিবর্তন এটা শেখায়নি যে যুদ্ধটা একটানা দেড় দিন চলবে।

হোস্টেলের রুম। আটজনের রুমে এখন ছয়জন। দুইজন আগেই চলে গেছে, তাদের শিফট সাতটায়। সুমাইয়ার আটটায়। বাথরুমে গিয়ে আয়নায় তাকাল। চোখের নিচে কালো দাগ। গত দুই বছরে এটা স্থায়ী হয়ে গেছে। মুছে যায় না। ঘুমালেও যায় না, কারণ ঘুমই তো হয় না।

আজ বৃহস্পতিবার। ৩৬ ঘণ্টার শিফট মানে আজ সকাল আটটা থেকে কাল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত। মাঝে ঘুমের কোনো গ্যারান্টি নেই।

সুমাইয়া চুল বাঁধল, অ্যাপ্রোন পরল, স্টেথোস্কোপ গলায় ঝুলাল। পকেটে পেন, ছোট নোটবুক, আর একটা চকলেট বার। চকলেটটা জরুরি। রাত দুইটায় যখন পা কাঁপবে, মাথা ঘুরবে, তখন এই চকলেট পাঁচ মিনিটের শক্তি দেবে।

সকাল আটটা। OPD।

সুমাইয়া পৌঁছাল দেখল লাইন ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সরকারি হাসপাতালের OPD মানে বাংলাদেশের সবচেয়ে সস্তা চিকিৎসা। টিকিট দশ টাকা। তাই লাইন লম্বা। সবসময় লম্বা।

আজ তালিকায় আশিজন পেশেন্ট। কিন্তু বাস্তবে আরো বিশ-পঁচিশজন আসবে যাদের নাম তালিকায় নেই। তারা এসে বলবে, "আপা, একটু দেখেন। অনেক দূর থেকে আসছি।" আর সুমাইয়া দেখবে। তিন ঘণ্টা বাসে চেপে আসা মানুষকে ফেরানো যায় না।

প্রথম পেশেন্ট। বয়স্ক মহিলা। "পেটে ব্যথা, আপা। দুই মাস ধরে।" Palpation করল। লিভারটা বড়। আল্ট্রাসনোগ্রাম লাগবে। সরকারি হাসপাতালে এক সপ্তাহ অপেক্ষা, বাইরে পাঁচশো টাকা। এই পরিবারের কাছে পাঁচশো টাকা অনেক।

পরের পেশেন্ট। তার পরের। কেউ ডায়াবেটিসের ওষুধ কিনতে পারে না। কেউ তিন মাস ধরে জ্বর। কেউ বুকে চাপ অনুভব করে, ভয়ে ঘুমাতে পারে না।

দুপুর দুইটায় OPD শেষ। আশিজন না, একশো তিনজন। ক্যান্টিনে গেল। ভাত, ডাল, সবজি। ত্রিশ টাকা। দুইটা ত্রিশে সার্জারি রোটেশন।

সার্জারি রোটেশন। অপারেশন থিয়েটার।

ইন্টার্নের কাজ সোজা। দাঁড়িয়ে থাকো, দেখো, যখন বলা হবে তখন হাত লাগাও। আজকের অপারেশন appendectomy। বইয়ে যা পড়েছে, সেটা এখন সামনে ঘটছে। রক্ত, টিস্যু, ফোর্সেপস, সুচার। বইয়ে গন্ধ নেই। এখানে আছে।

সুমাইয়া দাঁড়িয়ে আছে তিন ঘণ্টা ধরে। পা ব্যথা করছে। নড়া যাবে না। সার্জন স্যার মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করছেন।

"এই layer-টা কী?"

"External oblique aponeurosis, স্যার।"

"এরপর?"

"Internal oblique, তারপর transversus abdominis।"

"তারপর?"

"Transversalis fascia, তারপর peritoneum।"

স্যার মাথা নাড়লেন। সন্তুষ্ট। সুমাইয়া একটা নিঃশ্বাস ছাড়ল। ভুল উত্তর দিলে সামনে সবার সামনে ধমক খেতে হতো। এটাও সিস্টেমের অংশ। শেখা, ভয় পাওয়া, আবার শেখা।

বিকেল পাঁচটায় সার্জারি শেষ। পা অবশ। বিশ্রামের সময় নেই। সন্ধ্যা ছয়টায় ওয়ার্ড রাউন্ড। রাত আটটায় ইমার্জেন্সি।

রাত আটটা। ইমার্জেন্সি ওয়ার্ড।

এটা হাসপাতালের সবচেয়ে কঠিন জায়গা। দুর্ঘটনা, বিষপান, হার্ট অ্যাটাক, ছুরিকাঘাত। কোনটা আগে, কোনটা পরে, সেটা সেকেন্ডের মধ্যে ঠিক করতে হয়। Triage. বইয়ে পড়া শব্দ। এখানে সেটা জীবন-মৃত্যু।

প্রথম কেস। মোটরসাইকেল অ্যাক্সিডেন্ট। ছেলেটার বয়স বিশ-বাইশ। হেলমেট ছিল না। মাথায় আঘাত। রক্ত। চোখ বন্ধ।

সুমাইয়ার হাত কাঁপল। তারপর থামল। GCS চেক করল। Eye opening: pain-এ response। Verbal: অস্পষ্ট। Motor: localizing। GCS 10। CT লাগবে।

ছেলেটার মা কাঁদছে। "আমার ছেলে বাঁচবে তো?"

"আমরা চেষ্টা করছি, আপা। দোয়া করেন।"

এই বাক্যটা সুমাইয়া গত দুই মাসে কতবার বলেছে, গোনা নেই। ডাক্তারদের সবচেয়ে সৎ বাক্য।

রাত এগারোটা। বিষপানের কেস।

মেয়েটার বয়স ষোলো। হারপিক খেয়েছে। কেন খেয়েছে কেউ বলছে না, কিন্তু সবাই জানে।

Gastric lavage হলো। মেয়েটা কাঁদছে। ব্যথায় না, লজ্জায়। মা পাশে বসে চড় মারতে চাইছে আর জড়িয়ে ধরতে চাইছে, দুটো একসাথে।

সুমাইয়া মেয়েটার হাত ধরল। "ব্যথা কমবে।" মেয়েটা তাকাল। চোখে প্রশ্ন: ঠিক হওয়া কি শুধু শরীরের ব্যাপার? সুমাইয়া জানে, না। কিন্তু সে ডাক্তার। শরীরটুকুই তার এখতিয়ার।

রাত দুইটা।

ইমার্জেন্সি একটু শান্ত। নতুন রোগী আসছে না এই মুহূর্তে। সুমাইয়া ডিউটি রুমের চেয়ারে বসল। চেয়ারটা প্লাস্টিকের, শক্ত, কিন্তু এখন এটাকে পৃথিবীর সবচেয়ে আরামের জায়গা মনে হচ্ছে।

চোখ বন্ধ করল। পুরো শরীর ব্যথা। আঠারো ঘণ্টা হয়ে গেছে। বাকি আঠারো।

ফোনটা বের করল। জাহিদের মেসেজ, রাত বারোটায়।

"ঘুমাইছস?"

সুমাইয়া হাসল। টাইপ করল। "ঘুমের সাথে আমার সম্পর্ক শেষ। তুই কী করছিস?"

জাহিদের রিপ্লাই এল। "একটা ক্লায়েন্টের ওয়েবসাইট শেষ করতেছি। ডেডলাইন কাল সকাল।"

"কত দিবে?"

"150 ডলার।"

150 ডলার। আঠারো হাজার টাকা। দুই-তিন দিনের কাজ। সুমাইয়ার পুরো মাসের বেতনের দ্বিগুণের বেশি।

সে রিপ্লাই দিল না। ফোন পকেটে রাখল। হিংসা না। কিন্তু সিস্টেম ভুল।

পেজার বেজে উঠল। নতুন রোগী। সুমাইয়া উঠে দৌড়াল।

সকাল আটটা। পরের দিন।

চব্বিশ ঘণ্টা হয়ে গেছে। বাকি বারো ঘণ্টা। কিন্তু ঘুম হয়নি। রাত দুইটায় যে ত্রিশ মিনিট চোখ বন্ধ করেছিল, সেটুকুই। তারপর একটার পর একটা রোগী।

রাত তিনটায় cardiac arrest। CPR করেছে সুমাইয়া নিজে। পনেরো মিনিট। রোগী ফেরেনি। মৃত ঘোষণা করতে হয়েছে। পরিবার কেঁদেছে। সুমাইয়া দাঁড়িয়ে ছিল, কিছু বলতে পারেনি।

ভোর পাঁচটায় premature delivery। বাচ্চার ওজন দেড় কেজি। NICU-তে পাঠানো হলো। মা কাঁদছিল। সুমাইয়া সেই একই উত্তর দিয়েছে। "চেষ্টা করছি। দোয়া করেন।"

সকাল আটটা। হ্যান্ডওভার। কতজন এসেছে, কতজন ভর্তি, কতজন মারা গেছে। মানুষ সংখ্যা হয়ে যায় এই রিপোর্টে।

হ্যান্ডওভার শেষ হলো নয়টায়। সুমাইয়া ভাবল, এখন যাওয়া যায়। কিন্তু প্রফেসর ম্যাডাম বললেন, "সুমাইয়া, একটু থাকো। ওয়ার্ডে একটা complicated case আছে।"

থাকতে হলো। প্রফেসর বললে থাকতে হয়। ইন্টার্ন মানে ফ্রি লেবার। ডিউটি শেষ হওয়ার পরেও ডিউটি শেষ হয় না।

সকাল এগারোটায় সুমাইয়া হাসপাতাল থেকে বের হলো।

সাতাশ ঘণ্টা। ঘুম, ত্রিশ মিনিট।

রিকশায় উঠল। বিশ টাকা ভাড়া। রিকশায় বসেই প্রায় ঘুমিয়ে পড়ল। রিকশাওয়ালা বলল, "আপা, আইছেন।"

হোস্টেলে ঢুকে অ্যাপ্রোন পরেই বিছানায় পড়ল। ঘুম এল তিন সেকেন্ডে।

বিকেল ছয়টায় উঠল। সাত ঘণ্টা ঘুম। এটাই বোনাস। অনেক দিন এতটুকুও জোটে না।

ফোন চেক করল। জাহিদের তিনটা মেসেজ।

"উইঠা পড়।"

"তোর জন্য চা রেডি। ভার্চুয়াল চা।"

"যখন উঠবি, কল দিস।"

সুমাইয়া হাসল। ক্লান্ত হাসি। তারপর কল দিল।

"কেমন ছিল শিফট?"

"একজন মারা গেছে। CPR করলাম, হলো না।"

জাহিদ চুপ হয়ে গেল কিছুক্ষণ। তারপর বলল, "তুই ঠিক আছিস?"

"আমি ঠিক আছি। এটা কাজের অংশ।"

"কাজের অংশ হলেই কি কষ্ট পাওয়া বন্ধ হয়?"

সুমাইয়া কিছু বলল না।

জাহিদ বলল, "আমার ক্লায়েন্টের ওয়েবসাইট শেষ হয়ে গেছে। পেমেন্ট পেয়ে গেছি। 150 ডলার।"

"ভালো।"

"এই মাসে মোট হয়ে গেছে 600 ডলার। প্রায় বাহাত্তর হাজার টাকা।"

সুমাইয়া বলল, "তুই ঘরে বসে ল্যাপটপে কাজ করিস। আমি ৩৬ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকি ৮ হাজার টাকায়। কে বেশি বুদ্ধিমান?"

জাহিদ বলল, "তুই। কারণ তুই মানুষ বাঁচাস।"

চুপ। দুইজনেই জানে, কথাটা সত্য। কিন্তু দুইজনেই জানে, হিসাবটা মেলে না। সাত বছরের পড়াশোনা, দেশের সবচেয়ে কঠিন ভর্তি পরীক্ষা, প্রফ পরীক্ষায় বারবার যুদ্ধ, আর শেষে বেতন আট হাজার। জাহিদ YouTube দেখে শিখেছে, ঘরে বসে কাজ করে। বাহাত্তর হাজার।

গণিত নিষ্ঠুর। গণিতের sentiment নেই।

১০

কিন্তু সুমাইয়া জানে, টাকাটা পুরো ছবি না।

গতকাল একটা জিনিস হয়েছে যেটা সে জাহিদকে বলেনি।

OPD-তে একজন বৃদ্ধা এসেছিলেন। হাঁটুতে ব্যথা, বহুদিনের। সুমাইয়া পরীক্ষা করল, ওষুধ লিখে দিল। বৃদ্ধা উঠতে গিয়ে পড়ে যাচ্ছিলেন, সুমাইয়া ধরল।

বৃদ্ধা সুমাইয়ার হাত ধরে বললেন, "তুমি ভালো ডাক্তার, মা।"

তারপর ব্যাগ থেকে একটা আম বের করলেন। পাকা আম। হিমসাগর। বললেন, "বাড়ি থেইকা আনছি। তোমার জন্য।"

সুমাইয়া নিতে চায়নি। কিন্তু বৃদ্ধার চোখে যে কৃতজ্ঞতা ছিল, সেটা দেখে না নেওয়া গেল না। আমটা রাতের শিফটে যাওয়ার আগে কেটে খেয়েছিল। মিষ্টি। খুব মিষ্টি।

বাজারে ত্রিশ-চল্লিশ টাকা। সুমাইয়ার কাছে আট হাজার টাকার চেয়ে বেশি।

১১

জাহিদ বুঝতে পারে এই ফারাকটা।

সে যদি কাল থেকে কাজ বন্ধ করে, কেউ মরবে না। ক্লায়েন্ট অন্য কাউকে খুঁজে নেবে। সুমাইয়া যদি কাজ বন্ধ করে? ওই ছেলেটার GCS কে চেক করবে? ওই মেয়েটার gastric lavage কে করবে?

এটাই status bias-এর সবচেয়ে নোংরা রসিকতা। যে কাজের দাম সবচেয়ে বেশি, সেই কাজের বেতন সবচেয়ে কম। ইন্টার্ন আট হাজার পায়। ফুড ডেলিভারি রাইডার পনেরো-বিশ হাজার পায়। কিন্তু সমাজ ইন্টার্নকে সম্মান দেয়, রাইডারকে দেয় না।

সম্মান দিয়ে ভাড়া দেওয়া যায় না। সম্মান দিয়ে পেট ভরে না।

তবু মানুষ সম্মানের জন্য ছুটে যায়। "আমার মেয়ে ডাক্তার।" এই একটা বাক্য বলতে পারলে বাবা-মায়ের জীবন সার্থক। আর সেই গর্বের জন্য একটা মেয়ে ৩৬ ঘণ্টা না ঘুমিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, CPR করে, হারপিক খাওয়া মেয়ের পেট ধোয়ায়, আর মাস শেষে আট হাজার টাকা নিয়ে বাসায় ফেরে।

১২

সন্ধ্যায় সুমাইয়া ক্যান্টিনে বসে চা খাচ্ছে। পাশে রিমা, সহপাঠী। রিমাও ইন্টার্ন।

রিমা বলল, "শুনলি, তানভীর ইন্টার্নশিপ ছেড়ে দিচ্ছে।"

"কেন?"

"USMLE দেবে। আমেরিকা যাবে। বলেছে, এদেশে ডাক্তারি করে লাভ নেই।"

সুমাইয়া চুপ।

রিমা বলল, "ভুল বলেনি তো। আমরা এখানে ৮ হাজার পাই, ওরা ওখানে residency-তে মাসে ৫-৬ হাজার ডলার পায়। পার্থক্যটা দেখ।"

"পার্থক্য আছে। কিন্তু তানভীরের বাবা-মা USMLE-র কোচিং ফি দিতে পারে। সবার বাবা-মা পারে না।"

রিমা কিছু বলল না।

USMLE-র কোচিং, পরীক্ষা, ভিসা, আমেরিকায় থাকা-খাওয়া, সব মিলিয়ে পনেরো-বিশ লাখ টাকা। সুমাইয়ার বাবা স্কুল শিক্ষক। সারাজীবনের সঞ্চয় ঢেললেও এই টাকা হবে না।

তাই সুমাইয়া এখানে থাকবে। এই দেশে। আট হাজার টাকায়। আর তানভীর চলে যাবে। কারণ তানভীর পারে।

১৩

রাত নয়টায় সুমাইয়া হোস্টেলে ফিরল। আগামীকাল ছুটি। তারপর আবার।

বিছানায় শুয়ে সিলিং-এর দিকে তাকিয়ে আছে। সাত বছর আগে সে ডাক্তার হতে চেয়েছিল। এখন সে প্রায় ডাক্তার। ইন্টার্নশিপ শেষ হলে MBBS। নামের আগে Dr.।

কিন্তু এই মুহূর্তে সে শুধু একটা ক্লান্ত মেয়ে। যে একটা মানুষকে বাঁচাতে পারেনি। যে একটা ষোলো বছরের মেয়ের চোখে দেখেছে এমন কিছু যেটা ভোলা যায় না।

জাহিদ এখন ঘরে বসে নতুন ক্লায়েন্টের প্রপোজাল লিখছে। তার চোখের নিচে কালো দাগ নেই। তার হাত কাঁপে না। কিন্তু জাহিদের কাছে কোনো বৃদ্ধা এসে বলেনি, "তুমি ভালো ডাক্তার, মা।"

ইন্টার্নশিপ আর চার মাস। তারপর কী? BCS? উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স? প্রাইভেট প্র্যাক্টিস? PG admission?

সব পরে। এখন ঘুম।

কাল আবার শুরু হবে। আবার ৮০ পেশেন্ট। আবার সার্জারি। আবার ইমার্জেন্সি। আবার ৮ হাজার টাকা।

আর হয়তো আরেকটা আম।