চেম্বারের স্বপ্ন
সরকারি বেতন ৩৫ হাজার, চেম্বারের আয় লাখ টাকা, কিন্তু সেই চেম্বার পেতে বিশ বছর
১
সুমাইয়া প্রথমবার চেম্বারের কথা শুনেছিল ইন্টার্নশিপে।
তখন সে ঢাকা মেডিকেলে। রাত দুটায় ইমার্জেন্সি ডিউটি শেষ করে ক্যান্টিনে বসেছে। পাশে সিনিয়র এক রেসিডেন্ট, নাম শাহেদ ভাই। তিন বছরের সার্জারি রেসিডেন্সি করছে। মাসিক স্টাইপেন্ড ত্রিশ হাজার টাকা। ঢাকায় একটা মেসের রুম ভাড়া বারো হাজার। বাকি আঠারো হাজারে খাওয়া, যাতায়াত, বইপত্র, আর মাঝে মাঝে বাড়িতে পাঁচ হাজার টাকা পাঠানো।
শাহেদ ভাই বলেছিল, "তুই কি জানিস ডাক্তারদের আসল ক্যারিয়ার কোনটা?"
সুমাইয়া বলেছিল, "হাসপাতাল?"
শাহেদ ভাই হেসেছিল। ক্লান্ত হাসি। চোখের নিচে কালি। তিন দিন ঠিকমতো ঘুমায়নি।
"চেম্বার।"
"মানে প্রাইভেট প্র্যাকটিস?"
"মানে আসল আয়। সরকারি হাসপাতাল হলো তোর পরিচয়। চেম্বার হলো তোর জীবন। সরকারি চাকরি দিয়ে তুই নাম কামাবি। চেম্বার দিয়ে টাকা কামাবি। দুইটা আলাদা দুনিয়া।"
সেই রাতে সুমাইয়া প্রথম বুঝেছিল যে বাংলাদেশে একজন ডাক্তারের দুটো জীবন আছে। একটা সাদা, একটা ধূসর। সাদা জীবনে সে সরকারি কর্মচারী। নবম গ্রেড। বেতন ৩৫-৪০ হাজার। ধূসর জীবনে সে ব্যবসায়ী। চেম্বার তার দোকান। রোগী তার কাস্টমার। প্রেসক্রিপশন তার প্রডাক্ট।
কথাটা কঠিন শোনায়। কিন্তু সত্য।
২
সুনামগঞ্জের উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে পোস্টিং হওয়ার পর সুমাইয়া এই দুই জীবন চোখের সামনে দেখতে শুরু করল।
সকাল আটটায় হাসপাতালে আসে। ওপিডিতে রোগী দেখে। দুপুর দুইটায় ছুটি। এটা সরকারি জীবন। বেতন মাসে ৩৬ হাজার টাকা। বাড়িভাড়া, যাতায়াত, মোবাইল বিল বাদ দিলে হাতে থাকে কুড়ি হাজার। কুড়ি হাজার টাকা। একজন এমবিবিএস ডাক্তারের হাতে। পাঁচ বছর মেডিকেল কলেজ, এক বছর ইন্টার্নশিপ, বিসিএস পরীক্ষা, ট্রেনিং, সব মিলিয়ে সাত বছরের পরিশ্রমের ফলাফল মাসে কুড়ি হাজার টাকা।
জাহিদ তখন মাসে ৭০০ ডলার কামাচ্ছে। বাংলাদেশি টাকায় ৮৫ হাজার। বাড়িতে বসে। কোনো সার্টিফিকেট ছাড়া। কোনো ইউনিফর্ম ছাড়া।
কিন্তু সুমাইয়া জানে, গল্পটা এখানেই শেষ না।
উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. হক সাহেব। বয়স পঞ্চাশ। পঁচিশ বছর চাকরি করছেন। সরকারি বেতন এখন ৬৫ হাজার টাকা। কিন্তু বিকেল পাঁচটার পর তিনি আর সরকারি ডাক্তার নন। বিকেল পাঁচটায় তিনি তাঁর চেম্বারে যান। বাজারের মোড়ে, ফার্মেসির ওপরে, দুই রুমের একটা চেম্বার। ভাড়া মাসে আট হাজার। একজন কম্পাউন্ডার, বেতন বারো হাজার। ওভারহেড মিলিয়ে কুড়ি হাজার।
বিকেল পাঁচটা থেকে রাত নয়টা। চার ঘণ্টা। প্রতিদিন গড়ে পঁচিশ-ত্রিশ জন রোগী আসে। ভিজিট ফি তিনশো টাকা। মানে প্রতিদিন সাড়ে সাত হাজার থেকে নয় হাজার টাকা। মাসে পঁচিশ দিন চেম্বার করলে দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ। ওভারহেড বাদ দিলে হাতে থাকে দেড় লাখের কাছাকাছি।
সরকারি বেতন ৬৫ হাজার। চেম্বার থেকে দেড় লাখ। মোট আড়াই লাখের কাছে।
কিন্তু এটা পঁচিশ বছর পরের ছবি। ডা. হক সাহেব যখন প্রথম চেম্বার খুলেছিলেন, তখন দিনে তিন-চারজন রোগী আসত। মাসে আয় হতো দশ হাজার টাকা। ওভারহেড বাদ দিলে লস।
৩
সুমাইয়া একদিন ডা. হক সাহেবকে জিজ্ঞেস করল।
"স্যার, চেম্বার কখন শুরু করেছিলেন?"
"পোস্টিংয়ের তিন বছর পর।"
"তিন বছর কেন?"
"আগে কে চিনত? নতুন ডাক্তার। কেউ আসত না। তিন বছর হাসপাতালে কাজ করার পর মানুষ নাম জানল। তখন শুরু করলাম।"
"প্রথম দিকে কেমন ছিল?"
ডা. হক সাহেব একটু চুপ করলেন। তারপর বললেন, "প্রথম ছয় মাস ভাড়াটাও উঠত না। বউ বলত, এই চেম্বার বন্ধ করো, টাকা শুধু যাচ্ছে। কিন্তু আমি জানতাম, ধৈর্য ধরতে হবে। ডাক্তারের চেম্বার রেপুটেশনে চলে। রেপুটেশন রাতারাতি হয় না।"
"কত বছর লেগেছিল ভালো চলতে?"
"দশ বছর।"
"দশ বছর?"
"হ্যাঁ। দশ বছর। প্রথম তিন বছর রোগী জমানো। পরের তিন বছর রোগী বাড়ানো। তারপর চার বছর ধরে একটা স্থিতিশীল অবস্থায় আসা। এখন পঁচিশ বছর হয়ে গেছে, রোগী এমনিতেই আসে। মুখে মুখে নাম ছড়িয়েছে। কিন্তু শুরুটা খুব কঠিন ছিল।"
সুমাইয়া হিসাব করল মনে মনে। সে এখন পঁচিশ। চেম্বার খুলতে পারবে তিন বছর পর, আটাশে। ভালো চলতে শুরু করবে আটত্রিশে। আর ডা. হক সাহেবের মতো আড়াই লাখ কামাতে পারবে পঞ্চাশে। তখন তার মাথায় পাকা চুল থাকবে, হাঁটুতে ব্যথা থাকবে, আর ছেলেমেয়েরা কলেজে পড়বে।
পঁচিশ বছরের বিনিয়োগ। আড়াই লাখ টাকার রিটার্ন। মাসে।
জাহিদের কথা মনে এল। পাঁচ বছরের মধ্যে মাসে এক লাখ।
কিন্তু জাহিদের কোনো পেনশন নেই। কোনো সরকারি গ্যারান্টি নেই। ফ্রিল্যান্সিং মানে প্রতিদিন শূন্য থেকে শুরু।
৪
একটা শুক্রবার সুমাইয়া সিলেট শহরে গেল।
কাজিন শাহানার বিয়ে। কিন্তু বিয়ের আগের দিন বিকেলে সুমাইয়া একটা কাজ করল। সে জিন্দাবাজার এলাকায় একজন সিনিয়র মেডিসিন স্পেশালিস্টের চেম্বারে গেল। ডা. কামাল উদ্দিন। বয়স পঁয়তাল্লিশ। সিলেটের সবচেয়ে পরিচিত মেডিসিন বিশেষজ্ঞের একজন।
সুমাইয়া রোগী হিসেবে যায়নি। সে গেছে দেখতে। বুঝতে। একটা সফল চেম্বার কেমন দেখতে, সেটা নিজের চোখে দেখতে।
সন্ধ্যা ছয়টায় চেম্বার খোলে। সুমাইয়া পৌঁছাল পাঁচটায়। তখনই ওয়েটিং রুমে বিশ জন বসে আছে। সিরিয়াল নিয়ে রেখেছে আগে থেকে। চেম্বারের সামনে একটা বোর্ড: ভিজিট ফি ৫০০ টাকা। ফলোআপ ৩০০ টাকা।
সুমাইয়া বসল ওয়েটিং রুমে। পর্যবেক্ষণ করতে লাগল।
ছয়টা থেকে রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত। সাড়ে চার ঘণ্টা। সুমাইয়া গুনে দেখল, বিয়াল্লিশ জন রোগী ঢুকল আর বের হলো। বিয়াল্লিশ জন। প্রতিজনে গড়ে ছয় মিনিট।
বিয়াল্লিশ গুণ পাঁচশো। একুশ হাজার টাকা। এক সন্ধ্যায়। সাড়ে চার ঘণ্টায়।
ফলোআপ রোগীও আছে কিছু, তাদের তিনশো টাকা। ধরা যাক, গড়ে চারশো টাকা প্রতি রোগী। বিয়াল্লিশ গুণ চারশো, সতেরো হাজার। সপ্তাহে পাঁচ দিন চেম্বার। মাসে বিশ দিন। বিশ গুণ সতেরো হাজার, তিন লাখ চল্লিশ হাজার।
ওভারহেড বাদ দিলে? রুম ভাড়া পনেরো হাজার, কম্পাউন্ডার পনেরো হাজার, বিদ্যুৎ-পানি-পরিষ্কার পাঁচ হাজার। মোট পঁয়ত্রিশ হাজার। হাতে থাকে তিন লাখের বেশি।
প্লাস সরকারি বেতন ৬০-৭০ হাজার। মোট মাসিক আয় সাড়ে তিন লাখের ওপর।
সুমাইয়ার মাথা ঘুরল সংখ্যাটা ভেবে।
কিন্তু তারপর সে ডা. কামাল উদ্দিনের দিকে তাকাল। পঁয়তাল্লিশ বছর বয়স। চুলে পাক ধরেছে। চোখে ক্লান্তি। তিনি এমবিবিএস পাশ করেছিলেন তেইশ বছর বয়সে। তারপর এমডি করেছেন, বিসিএস দিয়েছেন, পোস্টিং নিয়েছেন, ট্রান্সফার হয়েছেন, ধীরে ধীরে সিলেটে এসে থিতু হয়েছেন। বিশ বছরের যাত্রা। বিশ বছর ধরে প্রতিটা রোগীকে ভালো করে দেখেছেন, নাম কামিয়েছেন, বিশ্বাস তৈরি করেছেন।
বিশ বছর। তিন লাখ টাকা। মাসে।
জাহিদের পথে পাঁচ বছরে এক লাখ।
সুমাইয়া বুঝতে পারল, দুটো পথই সত্য। কিন্তু সময়ের হিসাব আলাদা।
৫
চেম্বারের স্বপ্নটা শুধু আয়ের স্বপ্ন না। এটা স্ট্যাটাসের স্বপ্ন।
বাংলাদেশে একটা কথা আছে: ডাক্তারের চেম্বার যত ভিড়, ডাক্তার তত ভালো। এটা মিথ্যা। ভিড় মানে ভালো ডাক্তার না, ভিড় মানে পরিচিত ডাক্তার। রেপুটেশন আর কোয়ালিটি সবসময় এক জিনিস না। কিন্তু মানুষ সেটা বোঝে না। মানুষ ভিড় দেখে যায়।
সুমাইয়া যখন সুনামগঞ্জে রোগী দেখে, সে ভালো করেই দেখে। সময় নেয়। প্রতিটা রোগীর কথা শোনে। কিন্তু তার নাম নেই। তাকে কেউ চেনে না। সে একটা মেয়ে ডাক্তার, যে সরকারি হাসপাতালে বসে আছে। রোগীরা আসে কারণ বিকল্প নেই, তাকে খুঁজে আসে না।
চেম্বার মানে মানুষ তোমাকে খুঁজে আসবে। তোমার নাম ধরে আসবে। "ডা. সুমাইয়ার কাছে যাও, ভালো দেখে।" এই একটা বাক্য কামাতে পনেরো বছর লাগে।
আর লোকেশনের হিসাব আলাদা। ঢাকায় একজন স্পেশালিস্টের চেম্বার থেকে মাসে পাঁচ-ছয় লাখ আসে। বিভাগীয় শহরে তিন-চার লাখ। জেলা শহরে দেড়-দুই লাখ। আর উপজেলায়? ত্রিশ-চল্লিশ হাজার। যদি রোগী পাওয়া যায়।
স্পেশালিটির হিসাবও আলাদা। জেনারেল প্র্যাকটিশনার মানে কম ভিজিট ফি, কম রোগী। মেডিসিন স্পেশালিস্ট মানে বেশি। গাইনি, কার্ডিওলজি, নিউরোলজি মানে আরো বেশি। আর প্লাস্টিক সার্জারি, অর্থোপেডিক্স মানে অন্য লেভেল।
সুমাইয়া জেনারেল প্র্যাকটিশনার। কোনো স্পেশালাইজেশন নেই। স্পেশালাইজেশন করতে গেলে আরো চার-পাঁচ বছর। এফসিপিএস বা এমডি। তারপর আবার শুরু।
চেম্বারের স্বপ্ন দেখতে হলে আগে স্পেশালিস্ট হতে হবে। স্পেশালিস্ট হতে হলে আরো পাঁচ বছর পড়তে হবে। মানে আরো পাঁচ বছর কম বেতনে, কম ঘুমে, কম জীবনে।
৬
বিয়ের বাজার এল সুমাইয়ার ঘরে। আসলে বিয়ের বাজার আসে না, আনা হয়।
মা ফোন করল। "সুমু, তোর নানী ফোন করেছে। একটা ছেলের কথা বলেছে।"
"কী করে ছেলেটা?"
"ব্যাংকে চাকরি করে। জনতা ব্যাংক। সিনিয়র অফিসার।"
"আমি তো এখনো সেটেল হইনি, মা।"
"সেটেল হতে আর কত? চাকরি হয়ে গেছে। পোস্টিং হয়ে গেছে। এখন বিয়ের সময়।"
সুমাইয়া চুপ করে রইল। এই কথোপকথন সে আগেও শুনেছে। বান্ধবীদের সাথে, সিনিয়রদের সাথে, এমনকি হাসপাতালের নার্সদের সাথে। বাংলাদেশে একটা মেয়ে ডাক্তার হলে বিয়ের বাজারে তার দাম বাড়ে। কিন্তু সেই দাম তার স্কিলের জন্য না। সেই দাম তার টাইটেলের জন্য।
"ডাক্তারের মেয়ে।" এই তিন শব্দ বিয়ের বাজারে সোনার মতো। কিন্তু কেউ জানতে চায় না সে কোন ডিপার্টমেন্টে আছে। কেউ জানতে চায় না সে কতজন রোগী বাঁচিয়েছে। কেউ জানতে চায় না রাত তিনটায় সে ইমার্জেন্সিতে কতবার দৌড়েছে। তারা শুধু জানতে চায়: মেয়ে ডাক্তার তো? ব্যস।
প্রপোজালগুলো আসতে থাকল। ব্যাংকার। ইঞ্জিনিয়ার। আরেকজন ডাক্তার। সরকারি কর্মকর্তা। প্রতিটা প্রপোজালে একটা কমন থিম: তারা একজন ডাক্তার বউ চায়। ডাক্তার চায় না।
তফাতটা সূক্ষ্ম কিন্তু বিশাল।
ডাক্তার বউ মানে স্ট্যাটাস। পরিচয়। "আমার বউ ডাক্তার" বলতে পারা। আত্মীয়দের সামনে, অফিসের কলিগদের সামনে, পাড়ার লোকজনের সামনে। কিন্তু ডাক্তার বউয়ের ডিউটি নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই। রাতে অন-কল থাকলে সমস্যা। ছুটির দিনে হাসপাতালে গেলে সমস্যা। বাচ্চার পরীক্ষার সময় চেম্বার করলে সমস্যা।
তারা চায় ডাক্তারের সার্টিফিকেট, ডাক্তারের জীবন না।
৭
সুমাইয়া মাকে বলল, "মা, আমি ডাক্তার হয়েছি বিয়ের জন্য না।"
মা চুপ করে রইল কিছুক্ষণ। তারপর বলল, "আমি জানি, মা। কিন্তু দুনিয়া তো জানে না।"
এই একটা বাক্যে পুরো বাংলাদেশের সারাংশ আছে। মা জানে মেয়ে কেন ডাক্তার হয়েছে। কিন্তু সমাজ জানে না। সমাজের কাছে মেয়ে ডাক্তার মানে ভালো পাত্রী। মেয়ে ডাক্তার মানে উচ্চশিক্ষিত, সংসার সামলাতে পারবে, বাচ্চাদের পড়াতে পারবে, আর দরকার হলে চেম্বার করে বাড়তি আয়ও করবে। একটা মাল্টি-পারপাস প্যাকেজ।
সুমাইয়া ফোন রেখে জানালার দিকে তাকাল। সুনামগঞ্জের আকাশে তারা দেখা যায়, ঢাকায় যেটা অসম্ভব। আজ রাতে আকাশ পরিষ্কার। অনেক তারা।
সে ভাবল চেম্বারের কথা। বিশ বছর পরের চেম্বার। যেখানে রোগীরা তার নাম ধরে আসবে। "ডা. সুমাইয়ার কাছে যাও।" সেই একটা বাক্যের জন্য বিশ বছর।
সে ভাবল জাহিদের কথা। জাহিদ এখন মাইমনসিংয়ে বসে ল্যাপটপে কাজ করছে। কোনো চেম্বার নেই, কোনো সাইনবোর্ড নেই, কোনো ওয়েটিং রুম নেই। কিন্তু তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৮৫ হাজার টাকা ঢুকছে। কোনো বিশ বছর অপেক্ষা ছাড়া। কোনো রেপুটেশন তৈরি ছাড়া। শুধু স্কিল আর ইন্টারনেট।
দুটো পথ। দুটো সময়সীমা। দুটো বাস্তবতা।
চেম্বারের স্বপ্ন সত্য। কিন্তু বিশ বছর দূরে। বিশ বছর ধরে হাঁটতে হবে, ঘামতে হবে, নাম কামাতে হবে, আর তারপর একদিন সেই চেম্বারে বসে দেখবে, পঞ্চাশ জন রোগী অপেক্ষা করছে।
আর জাহিদের পথ? পাঁচ বছরে সেই আয়। কোনো সাদা অ্যাপ্রোন ছাড়া। কোনো স্টেথোস্কোপ ছাড়া। কোনো সমাজের সম্মান ছাড়া।
কিন্তু টাকা তো টাকাই।
সুমাইয়া জানালা বন্ধ করল। রাত হয়েছে। কাল সকালে আবার হাসপাতাল। আবার ওপিডি। আবার ৩৬ হাজার টাকার চাকরি। আর বিকেলে, চেম্বারের স্বপ্ন নিয়ে, চুপচাপ বসে থাকা। কারণ চেম্বার খোলার সময় এখনো আসেনি। এখনো পনেরো বছর বাকি।
পনেরো বছর।
জাহিদ হয়তো ততদিনে নিজের কোম্পানি খুলে ফেলবে।