ক্লায়েন্ট ফ্রম হেল

আটশো ডলারের 'সিম্পল' প্রজেক্ট, নব্বই ঘণ্টার খাটুনি, চার তারা রিভিউ, আর ফ্রিল্যান্সিংয়ের সবচেয়ে কঠিন পাঠ

পর্ব ৫৬ · ১১ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-১৯

মেসেজটা এলো রাত এগারোটায়।

Upwork-এ নোটিফিকেশন: "You've been hired for the project: Simple E-commerce Website."

জাহিদ মেসেজটা পড়ে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল। আটশো ডলার। ফিক্সড প্রাইস। দুই সপ্তাহ ডেডলাইন। ক্লায়েন্ট আমেরিকান, টেক্সাসের কেউ একজন, নাম ব্র্যাড। প্রোফাইলে ছবি আছে, সানগ্লাস পরা, পেছনে একটা পিকআপ ট্রাক।

আটশো ডলার মানে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় পঁচানব্বই হাজার। Upwork-এর বিশ পার্সেন্ট কাটলে হাতে আসবে ছয়শো চল্লিশ ডলার। তাও ছিয়াত্তর হাজার টাকা। দুই সপ্তাহে।

বাবা CNG চালিয়ে এই টাকা আয় করতে দুই মাস লাগান।

জাহিদ প্রজেক্টের ডিটেইলস আবার পড়ল। "Simple e-commerce site. Shopify-like. Product listing, cart, checkout. Nothing fancy. Clean design."

Simple। Clean। Nothing fancy।

এই তিনটা শব্দ যে ফ্রিল্যান্সিং জগতের সবচেয়ে বিপজ্জনক শব্দ, সেটা জাহিদ তখনো জানত না।

প্রথম দিনেই ব্র্যাড একটা Zoom কল সেট করল।

জাহিদ কল জয়েন করল রাত দুইটায়। বাংলাদেশ সময়। টেক্সাসে তখন দুপুর। ব্র্যাড একটা কফি শপে বসে আছে, পেছনে লোকজনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

"Hey Zahid, great to meet you. So this is a real simple project, man."

ব্র্যাড বলল সে একটা ছোট ব্যবসা চালায়। কাস্টম লেদার গুডস। ওয়ালেট, বেল্ট, ব্যাগ। এখন Etsy-তে বিক্রি করে, কিন্তু নিজের ওয়েবসাইট চায়। প্রোডাক্ট লিস্টিং, শপিং কার্ট, Stripe পেমেন্ট, আর একটা ক্লিন ডিজাইন।

জাহিদ নোট নিল। Stripe ইন্টিগ্রেশন, প্রোডাক্ট ক্যাটালগ, কার্ট ফাংশনালিটি, রেসপন্সিভ ডিজাইন। React ফ্রন্টেন্ড, Node ব্যাকএন্ড। দুই সপ্তাহে করা যায়।

"Sounds good, Brad. I'll start with wireframes and share them by tomorrow."

"Perfect, man. Keep it simple."

সেই শব্দটা আবার। Simple।

তিন দিনের মধ্যে জাহিদ ওয়্যারফ্রেম তৈরি করে পাঠাল। হোমপেজ, প্রোডাক্ট পেজ, কার্ট, চেকআউট। চারটা স্ক্রিন। ক্লিন, মিনিমাল।

ব্র্যাড রিপ্লাই দিল বারো ঘণ্টা পরে।

"Looks good! But can we also add a blog section? I want to write about leather crafting. Nothing big, just a simple blog."

Simple blog। আরেকটা simple।

জাহিদ ভাবল, ব্লগ সেকশন তো অরিজিনাল স্কোপে ছিল না। এটা আলাদা ফিচার। এর জন্য আলাদা চার্জ হওয়া উচিত। কিন্তু ব্র্যাডের সাথে সম্পর্ক ভালো আছে, রিভিউ ভালো পেলে ভবিষ্যতে কাজ পাওয়া সহজ হবে, আর ব্লগ তো কঠিন কিছু না।

"Sure, Brad. I'll add it."

এই "sure" বলাটাই ছিল প্রথম ভুল।

পঞ্চম দিনে জাহিদ হোমপেজ আর প্রোডাক্ট লিস্টিং পেজের প্রথম ভার্সন দেখাল।

ব্র্যাড বলল, "Hmm, the colors feel off. Can we try something more rustic? Like brown and cream? With a leather texture background?"

জাহিদ বলল, "The original brief said clean and minimal. Brown and cream with texture is a different aesthetic entirely."

"Yeah but I'm looking at some other leather goods sites and they all have this earthy vibe. Can you just try it?"

জাহিদ কালার স্কিম বদলাল। নতুন ফন্ট খুঁজল। টেক্সচার ব্যাকগ্রাউন্ড যোগ করল। চার ঘণ্টার কাজ।

পাঠাল। ব্র্যাড বলল, "Love it! But actually... can we go back to the minimal look? The texture feels too busy."

জাহিদ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল। চার ঘণ্টা। ডাস্টবিনে।

আবার আগের ডিজাইনে ফিরে গেল।

সপ্তম দিন। এক সপ্তাহ শেষ।

জাহিদ হিসাব করল। ষাট ঘণ্টা কাজ করেছে এই সপ্তাহে। ঘণ্টায় তেরো ডলার তিন সেন্ট। টেক্সাসে একজন ওয়েব ডেভেলপার ঘণ্টায় পঞ্চাশ থেকে একশো ডলার চার্জ করে।

আর প্রজেক্ট এখনো অর্ধেক বাকি। কার্ট, Stripe, ব্লগ, অর্ডার ম্যানেজমেন্ট। ব্র্যাড এর মধ্যে আরো দুটো ফিচার যোগ করেছে: সাইজ গাইড পেজ আর কাস্টমার রিভিউ সিস্টেম। কোনোটাই অরিজিনাল স্কোপে ছিল না।

আটশো ডলারের প্রজেক্ট এখন দুই হাজার ডলারের কাজ। বাজেট একই আছে।

এটার নাম scope creep। ধীরে ধীরে, একটু একটু করে, প্রজেক্ট ফুলে ফেঁপে ওঠে। প্রতিটা সংযোজন এতটাই ছোট মনে হয় যে "না" বলাটা অযৌক্তিক লাগে। কিন্তু সব মিলিয়ে প্রজেক্টটা দ্বিগুণ, তিনগুণ হয়ে যায়।

দ্বিতীয় সপ্তাহের প্রথম দিন। সোমবার।

জাহিদ ব্র্যাডকে মেসেজ করল: "Hi Brad, here's the updated progress. Cart is working, Stripe test mode is integrated. Need your input on blog layout and review system."

কোনো উত্তর নেই।

মঙ্গলবার। কোনো উত্তর নেই।

বুধবার। একটা মেসেজ: "Hey man, sorry been slammed. Will check tonight."

বৃহস্পতিবার। কোনো উত্তর নেই।

চার দিন। একটা প্রজেক্ট যেটার ডেডলাইন আর তিন দিন পরে, সেটার ক্লায়েন্ট চার দিন ধরে নিখোঁজ।

জাহিদ এই চার দিনে কাজ চালিয়ে গেছে। নিজের সিদ্ধান্তে ব্লগ সেকশন বানিয়েছে। রিভিউ সিস্টেম করেছে। সাইজ গাইড পেজ করেছে। কিন্তু প্রতিটা ডিজাইন ডিসিশনে ব্র্যাডের অ্যাপ্রুভাল দরকার, আর ব্র্যাড নেই।

শুক্রবার রাত এগারোটায় ব্র্যাড ফিরে এলো। "Hey Zahid! Great progress but I need some changes. The checkout flow needs to be different. And the blog layout isn't what I had in mind. Can you redo those? Deadline is Monday, right?"

দুই দিন। চেকআউট আর ব্লগ পুরো বদলাতে হবে।

জাহিদ জিজ্ঞেস করল কী ধরনের চেঞ্জ চায়। ব্র্যাড পাঠাল তিনটা স্ক্রিনশট। অন্য তিনটা ওয়েবসাইট থেকে। "Something like this." তিনটা স্ক্রিনশট তিনটা সম্পূর্ণ আলাদা স্টাইলের।

শনিবার সকাল আটটা থেকে রাত তিনটা। উনিশ ঘণ্টা টানা। চেকআউট ফ্লো তিনবার বদলাল। ব্র্যাডের তিনটা স্ক্রিনশটের মধ্যে কোনটা সে আসলে চায় বোঝা যাচ্ছে না, তাই একটা হাইব্রিড বানাল।

রবিবার সকাল নয়টায় উঠে আবার শুরু। ব্লগ রিডিজাইন, রেসপন্সিভ টেস্টিং, Stripe ভেরিফিকেশন। রাত দুইটায় সবকিছু রেডি। পাঁচ মিনিটের ডেমো ভিডিও রেকর্ড করে পাঠাল।

সোমবার সকালে ব্র্যাডের রিপ্লাই এলো।

"This isn't what I wanted."

জাহিদ মেসেজটা পড়ে প্রথমে ভাবল ভুল পড়ছে।

"The checkout page looks different from what I showed you. And the blog feels too basic. Also the mobile version has some alignment issues."

তিনটা ভিন্ন স্ক্রিনশটের হাইব্রিড বানিয়েছে, কারণ ব্র্যাড কোনটা চায় বলেনি। ব্লগ "too basic" কারণ ব্লগে কী চায় কখনো স্পষ্ট করেনি। মোবাইলে তিন-চার পিক্সেলের গ্যাপ আছে দুটো জায়গায়। বিশ মিনিটে ঠিক হবে।

জাহিদ রিপ্লাই লিখতে গেল। সত্য কথা লিখল। তারপর মুছে দিল।

কারণ Upwork-এ সত্য বলা আর ক্যারিয়ার শেষ করা কখনো কখনো একই জিনিস। ব্র্যাড চাইলে খারাপ রিভিউ দিতে পারে। একটা তিন-তারা রিভিউ মাসের পর মাস নতুন কাজ পাওয়া কঠিন করে দেয়।

এটা পাওয়ার ডায়নামিক। ক্লায়েন্টের হাতে রিভিউ-র অস্ত্র। ফ্রিল্যান্সারের হাতে কিছুই নেই।

জাহিদ নতুন মেসেজ লিখল।

"Hi Brad, thank you for the feedback. I completely understand your concerns. Let me revise the checkout page to match your vision more closely. Could you point me to the specific screenshot that best represents what you're looking for? I'll also enhance the blog with additional features. The mobile alignment issues will be fixed right away."

পেশাদার। ভদ্র। সমস্যা সমাধানমুখী।

ভেতরে জাহিদ জ্বলছে।

ব্র্যাড রিপ্লাই দিল: "The second screenshot. And for the blog, I want categories, tags, and a search function."

ক্যাটেগরি, ট্যাগ, সার্চ। ব্লগের জন্য। যেটা অরিজিনাল স্কোপে ছিলই না। যেটা ব্র্যাড নিজেই বলেছিল "nothing big, just a simple blog."

জাহিদ চল্লিশ পার্সেন্ট সাইট আবার লিখল। আরো তিন দিন লাগল। মোট সময়: নব্বই ঘণ্টা। আটশো ডলার। ঘণ্টায় আট ডলার আটাশি সেন্ট।

বাবা CNG চালিয়ে ঘণ্টায় যা আয় করেন, ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় সেটা এর চেয়ে বেশি।

১০

ব্র্যাড অবশেষে অ্যাপ্রুভ করল।

"Looks great, man. Nice work."

জাহিদ মাইলস্টোন সাবমিট করল। ব্র্যাড পেমেন্ট রিলিজ করল। Upwork-এর কাট বাদে ছয়শো চল্লিশ ডলার একাউন্টে এলো।

তারপর রিভিউ এলো।

চার তারা। পাঁচের মধ্যে চার।

কমেন্ট: "Good work but communication could be better. Took a bit longer than expected."

জাহিদ রিভিউটা পড়ে বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ল।

Communication could be better। সে প্রতিটা মেসেজের রিপ্লাই দিয়েছে এক ঘণ্টার মধ্যে। ব্র্যাড চার দিন গায়েব ছিল। Took a bit longer than expected। ব্র্যাড নিজে রিকোয়ারমেন্ট তিনবার বদলিয়েছে, চারটা নতুন ফিচার যোগ করেছে, আর চার দিন রিপ্লাই দেয়নি।

কিন্তু রিভিউতে এসব লেখা নেই। রিভিউতে শুধু ক্লায়েন্টের কথা থাকে। ফ্রিল্যান্সারের পক্ষে কথা বলার জায়গা নেই।

Upwork-এ পাঁচ তারা হলো "স্বাভাবিক"। চার তারা মানে "কিছু একটা সমস্যা ছিল"। চার তারা একটা দাগ। ছোট, কিন্তু দাগ।

১১

নাহিদকে ফোন করল জাহিদ।

পুরো ঘটনা বলল। আটশো ডলার, নব্বই ঘণ্টা, scope creep, চার দিনের নিখোঁজ ক্লায়েন্ট, "this isn't what I wanted," আর শেষে চার তারা রিভিউ।

নাহিদ শুনল। তারপর বলল, "ওয়েলকাম টু ফ্রিল্যান্সিং।"

"মানে?"

"এটা তোর প্রথম নরক-ক্লায়েন্ট। শেষ না। প্রতিটা ফ্রিল্যান্সারের জীবনে এরকম ক্লায়েন্ট আসে। আমি তো বলি, দশটা ক্লায়েন্টের মধ্যে তিনটা ভালো, তিনটা ঠিকঠাক, তিনটা খারাপ, আর একটা সরাসরি নরক থেকে আসে।"

"তাহলে করণীয় কী?"

"দুইটা জিনিস শিখতে হবে। এক, স্কোপ লক করা। লিখিত স্কোপ ছাড়া কাজ শুরু করবি না। নতুন ফিচার চাইলে বলবি, এটা আলাদা চার্জ। দুই, ক্লায়েন্ট স্ক্রিনিং। কাজ নেওয়ার আগে ক্লায়েন্টের হিস্ট্রি দেখ। অন্য ফ্রিল্যান্সারদের কী রেটিং দিয়েছে দেখ। যে ক্লায়েন্ট আগের ফ্রিল্যান্সারদের চার-তারার নিচে রেট করেছে, দূরে থাক।"

জাহিদ ভাবল, ব্র্যাডের প্রোফাইল দেখেছিল, কিন্তু শুধু payment verified কি না। হিস্ট্রি দেখেনি।

"আর একটা কথা," নাহিদ বলল। "ক্লায়েন্ট ম্যানেজ করা কোডিংয়ের চেয়ে কঠিন। তোর কাজের অর্ধেক কোড, অর্ধেক মানুষ ম্যানেজ করা। বেশিরভাগ বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সার শুধু কোডে ফোকাস করে। তাই ভালো কোড লেখে, খারাপ রিভিউ পায়।"

১২

নাহিদের কথাটা জাহিদের মাথায় ঘুরতে লাগল।

ফ্রিল্যান্সাররা দুইটা জিনিস বিক্রি করে: কোড আর ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্ট। দুইটাই সমান জরুরি। কোড খারাপ হলে কাজ হয় না, ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্ট খারাপ হলে রিভিউ খারাপ হয়। আর রিভিউ খারাপ হলে ভালো কোড লেখার সুযোগই আসে না।

জাহিদ ব্র্যাডের প্রজেক্ট থেকে একটা গভীর পাঠ শিখল।

প্রেজেন্ট বায়াস।

অর্থনীতিতে একটা কনসেপ্ট আছে: present bias। মানুষ বর্তমানের লাভকে ভবিষ্যতের লাভের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়। একশো টাকা এখন পেলে যে সুখ, দুইশো টাকা এক মাস পরে পেলে সেই সুখ কম মনে হয়।

জাহিদ ব্র্যাডের প্রজেক্ট নিয়েছিল কেন? কারণ আটশো ডলার এখনই দরকার ছিল। পরীক্ষার ফি, মায়ের ওষুধ, ইন্টারনেট বিল। টাকা দরকার ছিল এখন।

এটাই প্রেজেন্ট বায়াসের ফাঁদ। "যদি এটা না নিই, তাহলে কিছুই পাব না" এই ভয়ে খারাপ ডিলও গ্রহণ করে মানুষ। বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের ক্ষেত্রে এটা আরো তীব্র। চাকরি নেই, সেভিংস নেই, বাবা-মায়ের চাপ আছে। যেকোনো কাজ পেলে "হ্যাঁ" বলতে হয়।

কিন্তু স্মার্ট ফ্রিল্যান্সাররা শেখে কখন "না" বলতে হয়। ব্র্যাডের প্রজেক্টে নব্বই ঘণ্টা দেওয়া মানে অন্য কোনো ভালো প্রজেক্টে সেই নব্বই ঘণ্টা না দেওয়া। Opportunity cost।

১৩

সেই রাতে জাহিদ একটা Google Doc খুলল।

টাইটেল দিল: "Client Onboarding Questionnaire."

বিশটা প্রশ্ন লিখল। প্রতিটা প্রশ্ন ব্র্যাডের প্রজেক্ট থেকে শেখা। ফিচার লিস্ট দিন, ওয়্যারফ্রেম আছে কি না, ডেডলাইন কবে, কয়বার রিভিশন হবে, স্কোপ বদলালে কী হবে, মেসেজের রিপ্লাই কত দ্রুত দেবেন। প্রতিটা প্রশ্নের পেছনে একটা দগদগে অভিজ্ঞতা।

এর পর থেকে কোনো প্রজেক্ট শুরু করার আগে ক্লায়েন্টকে এই ফর্ম পূরণ করতে হবে। যে ক্লায়েন্ট ফর্ম পূরণ করতে রাজি না, সে ক্লায়েন্ট হওয়ার যোগ্য না। কঠিন সিদ্ধান্ত। কিছু কাজ হাতছাড়া হবে। কিন্তু সেগুলো সম্ভবত ব্র্যাডের মতো কাজ।

১৪

রাত তিনটায় জাহিদ ল্যাপটপ বন্ধ করতে গিয়ে থামল।

Upwork প্রোফাইলে ব্র্যাডের রিভিউটা দেখল আরেকবার। চার তারা। "Good work but communication could be better."

নব্বই ঘণ্টা। আট ডলার আটাশি সেন্ট প্রতি ঘণ্টা। তিনবার ডিজাইন বদলানো। চার দিন ক্লায়েন্টের গায়েব থাকা। চল্লিশ পার্সেন্ট সাইট আবার লেখা। আর শেষে, "communication could be better।"

জাহিদ মনে মনে বলল, পরের ক্লায়েন্ট "simple" বললে আমি ভয় পাবো।

তারপর ল্যাপটপ বন্ধ করে শুয়ে পড়ল। কাল আবার Upwork খুলতে হবে। নতুন প্রপোজাল লিখতে হবে। কিন্তু এইবার হাতে একটা অস্ত্র আছে যেটা আগে ছিল না।

একটা প্রশ্নপত্র। বিশটা প্রশ্ন। আর "না" বলার সাহস।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে "হ্যাঁ" বলা সহজ। "না" বলা শিল্প। আর সেই শিল্প শিখতে একটা নরক-ক্লায়েন্ট লাগে।

ব্র্যাড সেই ক্লায়েন্ট ছিল।