লিখিত পরীক্ষার ৯০০ নম্বর

ছয়টা পেপার, দুই সপ্তাহ, নয়শো নম্বর, আর হাতের ক্র্যাম্প

পর্ব ৬৪ · ১১ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-১৯

প্রিলিমিনারি পাস করল রাশেদ।

তিন লক্ষ থেকে পঞ্চাশ হাজার। প্রথম ছাঁকনি পার। ফোনে যখন বলল, গলায় খুশির চেয়ে ক্লান্তি বেশি ছিল। "পাস করেছি। কিন্তু আসল পরীক্ষা এখন শুরু।"

জাহিদ বুঝল না প্রথমে। "প্রিলিমিনারিই তো আসল ছিল না?"

"না। প্রিলিমিনারি হলো ছাঁকনি। MCQ, দুইশো নম্বর। ওটা কোয়ালিফাইং, মানে পাস করলেই হলো, নম্বর ফাইনাল মেধাতালিকায় যোগ হয় না।" রাশেদ একটু থামল। "আসল যুদ্ধ হলো রিটেন। নয়শো নম্বর। এই নয়শো নম্বরই ঠিক করবে আমি কোথায় দাঁড়াব।"

"নয়শো?"

"ছয়টা পেপার। প্রতিটা ১৫০ নম্বর, কিছু ২০০। মোট ৯০০। দুই সপ্তাহ ধরে পরীক্ষা। প্রতিদিন চার ঘণ্টা করে। হাতে লিখতে হবে। সব।"

জাহিদ একটু চুপ করে থাকল। সে চার বছরে হাতে কিছু লেখেনি বলতে গেলে। সবকিছু কিবোর্ডে। ল্যাপটপে। ইমেইল, প্রপোজাল, ইনভয়েস, সব টাইপ। শেষ কবে কলম ধরেছে মনে নেই।

"হাতে?" বলল জাহিদ। "২০২৬ সালে?"

"হ্যাঁ। এটা বাংলাদেশ। BCS-এর লিখিত পরীক্ষা হাতে লেখা। চার ঘণ্টায় বিশ-পঁচিশ পৃষ্ঠা লিখতে হয়। পরিষ্কার হাতের লেখায়। ভালো উপস্থাপনায়। একটা কলম, একটা খাতা, আর তোমার মাথা। ব্যস।"

ছয়টা পেপার। জাহিদ লিস্টটা টুকে নিল।

পেপার ১: বাংলা। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য। ভাব-সম্প্রসারণ, সারমর্ম, অনুবাদ, রচনা। একটা রচনা লিখতে হয় আট-দশ পৃষ্ঠা। শুধু একটা রচনা। তথ্য দিতে হয়, উদ্ধৃতি দিতে হয়, বিশ্লেষণ করতে হয়, উপসংহার টানতে হয়। রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সাহিত্য পর্যন্ত রেফারেন্স।

পেপার ২: ইংরেজি। Essay, comprehension, translation, letter writing, summary। Essay-টা হতে হবে ফ্লুয়েন্ট, গ্রামাটিক্যালি পারফেক্ট। ঢাকার ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়া ছেলেমেয়েরা যেটা স্বাভাবিকভাবে পারে, রাশেদকে সেটা শিখতে হয়েছে নিজের চেষ্টায়।

পেপার ৩: বাংলাদেশ বিষয়াবলি। সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধ, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি। প্রশ্ন আসে: "বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামো তত্ত্ব ব্যাখ্যা কর।" অথবা: "বাংলাদেশের RMG খাতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা আলোচনা কর।" চার ঘণ্টায় পাঁচ-ছয়টা প্রশ্নের উত্তর। প্রতিটা তিন-চার পৃষ্ঠা।

পেপার ৪: আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি। জাতিসংঘ, WTO, ভূরাজনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট। "রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ কর।" এই ধরনের প্রশ্ন। তোমাকে একজন ডিপ্লোম্যাটের মতো লিখতে হবে, কিন্তু তুমি একটা জেলা শহরে বসে একা পড়ে শিখেছ।

পেপার ৫: গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা। গণিত, লজিক, অ্যানালিটিক্যাল রিজনিং। এটা তুলনামূলক সোজা, কিন্তু সময় কম। ভুল হলে নম্বর কাটা যায়।

পেপার ৬: সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা, কম্পিউটার। বিজ্ঞানের ছাত্র না হলে এটা কঠিন। রাশেদ আর্টসের ছাত্র। তাকে নিউটনের সূত্র থেকে শুরু করে DNA রেপ্লিকেশন পর্যন্ত শিখতে হয়েছে নিজে নিজে।

পরীক্ষার আগের রাত। জাহিদ ফোন করল।

"কেমন আছিস?"

"ভালো।" রাশেদের গলা শান্ত। অস্বাভাবিক রকম শান্ত। যেমন ঝড়ের আগে বাতাস থেমে যায়।

"প্রস্তুতি?"

"যা হওয়ার হয়েছে। এখন আর নতুন কিছু পড়ার সময় নেই। মাথায় যা ঢুকেছে, সেটা দিয়েই যুদ্ধ করতে হবে।"

"কতক্ষণ পড়েছিস আজ?"

"পড়িনি। আজ পুরো দিন কিছু করিনি। সকালে একটু হাঁটতে গেছি। দুপুরে ঘুমিয়েছি। বিকালে বারান্দায় বসে পেয়ারা খেয়েছি।"

জাহিদ অবাক হলো। রাশেদ, যে দুই বছর প্রতিদিন চৌদ্দ ঘণ্টা পড়েছে, পরীক্ষার আগের দিন কিছু পড়ল না?

"পড়ে কী হবে?" রাশেদ বলল, যেন জাহিদের মনের কথা পড়ে ফেলেছে। "দুই বছরে যা পড়েছি, সেটা হয় মাথায় আছে, নয়তো নেই। আজ আরো দশ ঘণ্টা পড়লে কিছু বদলাবে না। বরং ক্লান্ত হয়ে যাব। কাল সকালে মাথা পরিষ্কার থাকা দরকার।"

বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত। জাহিদ ভাবল, ফ্রিল্যান্সিংয়ে সে এটা শিখেছে। বড় ডেলিভারির আগের রাতে কাজ করো না। মাথা ঠান্ডা রাখো। ভুল কম হবে। রাশেদ একই জিনিস বুঝেছে পরীক্ষার ক্ষেত্রে।

প্রথম পেপার। বাংলা। সকাল দশটা থেকে দুপুর দুইটা।

রাশেদ পরে জানাল কেমন হয়েছে। "রচনা পড়েছে 'বাংলাদেশের নগরায়ণ: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ।' আমি নয় পৃষ্ঠা লিখেছি। তথ্য দিয়েছি, পরিসংখ্যান দিয়েছি, উদ্ধৃতি দিয়েছি। লেখা শেষে হাত কাঁপছিল।"

"হাত কাঁপছিল?"

"চার ঘণ্টা টানা লেখা। কলম ধরে, চাপ দিয়ে, পরিষ্কার অক্ষরে। প্রথম দুই ঘণ্টা ঠিক আছে। তৃতীয় ঘণ্টায় আঙুল ব্যথা করতে শুরু করে। চতুর্থ ঘণ্টায় হাত অবশ হয়ে আসে। কিন্তু থামার উপায় নেই। লিখতে হবে। সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে।"

জাহিদ ভাবল, ডিজিটাল যুগে, যেখানে Grammarly টাইপ করলে বানান ঠিক করে দেয়, সেখানে একটা দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাকরির পরীক্ষা কলমে লেখা হয়। কোনো কিবোর্ড নেই, কোনো স্পেলচেক নেই, কোনো ব্যাকস্পেস নেই। ভুল লিখলে কেটে দিতে হয়। কাটাকাটি বেশি হলে দেখতে খারাপ লাগে। দেখতে খারাপ লাগলে নম্বর কমে। তাই প্রথমবারেই ঠিক লিখতে হয়।

প্রোগ্রামিংয়ে একটা কনসেপ্ট আছে: write once, no debugging। BCS-এর লিখিত পরীক্ষা সেরকম। কোনো সেকেন্ড চান্স নেই।

দ্বিতীয় দিন। ইংরেজি।

তৃতীয় দিন। বাংলাদেশ বিষয়াবলি।

চতুর্থ দিন। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি।

প্রতিদিন একই রুটিন। সকাল সাতটায় ওঠা। হালকা নাশতা। মুখ ধোয়া। দুটো কলম পকেটে। একটা বলপয়েন্ট, একটা ব্যাকআপ। অ্যাডমিট কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র। পরীক্ষার হলে পৌঁছানো ন'টায়। দশটা থেকে দুইটা, চার ঘণ্টা। বের হয়ে রিকশায় বাসায়। ভাত খাওয়া। দুই ঘণ্টা ঘুম। উঠে পরের দিনের পেপার রিভাইজ।

রাশেদ ফোনে বলল, "তৃতীয় পেপারের পর থেকে হাতে ক্র্যাম্প শুরু হয়েছে।"

"ক্র্যাম্প?"

"হ্যাঁ। তৃতীয় পেপার লেখার পর রাতে ডান হাতের আঙুলগুলো সোজা করতে পারিনি। এত জোরে কলম চেপে ধরে লিখি যে পেশি আটকে যায়। মা বরফের প্যাকেট বানিয়ে দিয়েছেন। একটা পাতলা কাপড়ে বরফ পেঁচিয়ে হাতে ধরে রাখি। পনেরো মিনিট। তারপর ছেড়ে দিই। আবার পনেরো মিনিট। এভাবে এক ঘণ্টা।"

"আর পরের দিন?"

"পরের দিন আবার চার ঘণ্টা লিখতে হয়। ক্র্যাম্প থাকুক বা না থাকুক।"

জাহিদ নিজের ডান হাতের দিকে তাকাল। এই হাত কিবোর্ডে চাপ দেয়। মাউস ধরে। ট্র্যাকপ্যাড স্ক্রল করে। কখনো ক্র্যাম্প হয় না। কারণ কিবোর্ডে চাপ লাগে না। কলমে লাগে।

পঞ্চম পেপার। গণিত। এটা তুলনামূলক ছোট সময়ে শেষ হলো। রাশেদ বলল, "গণিতে হাতে কম লিখতে হয়। সমাধান দেখালেই হয়। রচনা লিখতে হয় না। হাত একটু বিশ্রাম পেয়েছে।"

ষষ্ঠ পেপার। সাধারণ বিজ্ঞান। শেষ দিন।

রাশেদ ফোনে বলল সেদিন রাতে। গলা ভাঙা। ঘুমে চোখ বুজে আসছে। কিন্তু ফোন ধরেছে কারণ জাহিদ করেছে।

"শেষ?"

"শেষ।"

"কেমন হয়েছে?"

একটু চুপ। তারপর: "জানি না। ছয়টা পেপারে কী লিখেছি সব মনে নেই। এত কিছু লিখেছি দুই সপ্তাহে যে সব গুলিয়ে গেছে। বাংলায় কী লিখেছি, ইংরেজিতে কী লিখেছি, আন্তর্জাতিকে কী লিখেছি, সব মিশে গেছে মাথায়।"

"তোর কী মনে হয়? পাস করবি?"

"সৎ উত্তর? জানি না। আমি যতটুকু পারি লিখেছি। কিন্তু আমি জানি না অন্যরা কতটুকু লিখেছে। পরীক্ষার হলে পাশের জন আমার চেয়ে ভালো লিখেছে কিনা, সেটা আমি জানি না। আর BCS-এ তুমি কতটুকু ভালো করলে সেটা গুরুত্বপূর্ণ না, তুমি অন্যদের চেয়ে কতটুকু ভালো করলে সেটা গুরুত্বপূর্ণ।"

"এখন?"

"এখন ঘুমাব। কাল ঘুমাব। পরশু ঘুমাব। এই মুহূর্তে আমার শরীর আর মাথা দুটোই ফাঁকা।"

রাশেদ ঘুমাল।

কতক্ষণ ঘুমাল সেটা পরে শুনে জাহিদ অবাক হয়ে গেল। পরীক্ষা শেষ হলো বিকাল তিনটায়। বাসায় ফিরে গোসল করে ভাত খেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল সন্ধ্যা ছটায়। উঠল পরের দিন দুপুর দুইটায়।

বিশ ঘণ্টা।

টানা বিশ ঘণ্টা ঘুম। মাঝে একবারও জাগেনি। মা এসে দেখে গেছেন, শ্বাস ফেলছে কিনা চেক করেছেন। নাক দিয়ে শব্দ হচ্ছে, বুক ওঠানামা করছে, বেঁচে আছে। ছেড়ে দিয়েছেন।

"বিশ ঘণ্টা ঘুমালি?" জাহিদ বলল ফোনে।

"শরীরের দেনা ছিল। দুই বছরের দেনা। প্রতিদিন চার-পাঁচ ঘণ্টা ঘুমিয়েছি। বাকি সময় পড়েছি। শরীর হিসাব রাখে। যখন সুযোগ পেল, নিয়ে নিল।"

জাহিদ ভাবল, এটা কি স্বাভাবিক? একটা পরীক্ষার জন্য মানুষ নিজেকে এতটা নিংড়ে দেয়? দুই বছর চৌদ্দ ঘণ্টা পড়াশোনা, দুই সপ্তাহ প্রতিদিন চার ঘণ্টা হাতে লেখা, তারপর বিশ ঘণ্টা অচেতন ঘুম। এটা কোনো পরীক্ষা না, এটা শারীরিক পরীক্ষা।

এরপর শুরু হলো অপেক্ষা।

BCS-এর রিটেন পরীক্ষার ফলাফল আসতে কত সময় লাগে? দুই মাস? তিন মাস? না। ছয় মাস। কখনো আরো বেশি।

ছয় মাস। ১৮০ দিন। প্রতিটা দিন একই প্রশ্ন নিয়ে ঘুম ভাঙে: পাস করব তো?

রাশেদ এই ছয় মাসে কী করল? কিছু না। কিছু করার ছিল না। BCS প্রিপারেশন আবার শুরু করা যায়, কিন্তু কোনটার? পরের BCS-এর? এই BCS-এর ফলাফল না জেনে পরেরটার প্রিপারেশন কীভাবে নেবে? আর চাকরি? কোথাও অ্যাপ্লাই করে যদি এই BCS পাস করে, তাহলে চাকরি ছেড়ে দিতে হবে। তাই চাকরিও করেনি।

একটা মানুষ ছয় মাস ধরে শূন্যতায় ভেসে বেড়াল। না এগিয়ে, না পিছিয়ে। শুধু অপেক্ষায়।

জাহিদ মাঝে মাঝে ফোন করত। "কী করছিস?"

"কিছু না।"

"বই পড়ছিস?"

"না।"

"বাইরে যাচ্ছিস?"

"মাঝে মাঝে। বিকালে একটু হাঁটি।"

"মন কেমন?"

একটু চুপ। তারপর: "তুই কি জানিস limbo কী? না এদিকে, না ওদিকে। মাঝখানে ঝুলে থাকা। আমি এখন সেখানে আছি। ফলাফল আসলে জানব আমি কোথায় দাঁড়িয়ে আছি। ততক্ষণ কিছু করার নেই।"

জাহিদ ফোন রেখে ভাবল, ফ্রিল্যান্সিংয়ে সে কখনো ছয় মাস অপেক্ষা করেনি কোনো কিছুর জন্য। প্রজেক্ট জমা দাও, দুই দিনে ফিডব্যাক পাও, এক সপ্তাহে পেমেন্ট পাও। BCS আলাদা জগত। এখানে সময়ের কোনো দাম নেই সরকারের কাছে। পঞ্চাশ হাজার মানুষ ছয় মাস ধরে অপেক্ষা করুক, কারো কিছু আসে যায় না।

ফলাফল এলো একদিন।

জাহিদ জানল রাশেদের আগে। ফেসবুকে দেখল কেউ একজন পোস্ট করেছে: "BCS রিটেনের রেজাল্ট বের হয়েছে।" PSC-এর ওয়েবসাইটের লিঙ্ক। জাহিদ ক্লিক করল। সাইট লোড হচ্ছে না। ক্র্যাশ করেছে। পঞ্চাশ হাজার মানুষ একসাথে ঢুকেছে।

পাঁচ মিনিট চেষ্টা করল। দশ মিনিট। পনেরো মিনিট পর লোড হলো। PDF ফাইল। রোল নম্বর দিয়ে সার্চ।

রাশেদের রোল নম্বর মনে আছে। রাশেদ নিজে বলেছিল, "মনে রাখিস, দরকার হতে পারে।" দরকার হলো।

সার্চ করল। পেল।

রাশেদের নাম আছে।

পাস।

জাহিদ ফোন করল। রাশেদ ধরল প্রথম রিংয়ে। গলায় কাঁপুনি। "দেখেছি।"

"পাস করেছিস।"

"হ্যাঁ।"

চুপ। দুজনেই। কয়েক সেকেন্ড। তারপর রাশেদ বলল, খুব নিচু গলায়: "পঞ্চাশ হাজার থেকে পাঁচ হাজার। টপ টেন পার্সেন্ট।"

জাহিদ একটু হাসল। "ক্যালকুলেশন শুরু করে দিয়েছিস?"

"অভ্যাস। তোর কাছ থেকে শিখেছি। সবকিছুতে নম্বর খুঁজি এখন।"

১০

কিন্তু শেষ হয়নি।

পাঁচ হাজার থেকে দুই হাজার নিতে হবে। সেটা ভাইভা। মুখোমুখি। একটা বোর্ডের সামনে বসে পনেরো মিনিট কথা বলা। তোমার চেহারা, তোমার পোশাক, তোমার কথা বলার ভঙ্গি, তোমার আত্মবিশ্বাস, সব বিচার হবে।

দুইশো নম্বর। পনেরো মিনিটে।

জাহিদ হিসাব করল। রিটেনে প্রতি নম্বরের জন্য রাশেদ গড়ে ৯.৬ মিনিট সময় পেয়েছে (৯০০ নম্বর, ৮৬৪০ মিনিট)। ভাইভায় প্রতি নম্বরের জন্য পাবে ৪.৫ সেকেন্ড (২০০ নম্বর, ১৫ মিনিট)।

৪.৫ সেকেন্ডে এক নম্বর। একটা ভুল উত্তর, একটা দ্বিধা, একটু হোঁচট খেলে, পাঁচ-দশ নম্বর চলে যায়। পাঁচ-দশ নম্বরে র্যাংকিং বদলে যায়। র্যাংকিং বদলালে ক্যাডার বদলে যায়। ক্যাডার বদলালে জীবন বদলে যায়।

রাশেদ ফোনে বলল, "শুধু ভাইভা। শেষ ধাপ। পনেরো মিনিটে জীবন বদলাবে।"

জাহিদ কিছু বলল না। কী বলবে? তিন বছরের পরিশ্রম, পরিবারের ত্যাগ, বাবার পেনশনের টাকা, রাতের পর রাত জেগে পড়া, হাতের ক্র্যাম্প, বিশ ঘণ্টার ঘুম, ছয় মাসের অপেক্ষা, সব এসে ঠেকেছে একটা পনেরো মিনিটের কথোপকথনে।

BCS। বাংলাদেশের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। কারণ এটা শুধু মেধার পরীক্ষা না, ধৈর্যের পরীক্ষা, শরীরের পরীক্ষা, পরিবারের পরীক্ষা, আর সময়ের পরীক্ষা।

পনেরো মিনিট। তারপর জানবে, এই তিন বছর কিছু হয়েছিল, নাকি কিছুই হয়নি।